মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-২৮)

সংখ্যা: ২৯২তম সংখ্যা | বিভাগ:

(৩৬তম ফতওয়া হিসেবে)

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খেদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করা ফরয:

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-

(১০৭৭-১১২১)

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ سَعِـيْدِنِ الْـخُدْرِىِّ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ عَنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ رَاٰى مِنْكُمْ مُنْكَـرًا فَـلْيُـغَـيِّـرْهُ بِـيَدِهٖ فَاِنْ لَّـمْ يَسْتَطِعْ فَـبِـلِسَانِهٖ فَاِنْ لَّـمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهٖ وَذٰلِكَ اَضْعَفُ الْاِيْـمَانِ

অর্থ: “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের কেউ যখন সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার খিলাফ কোনো কাজ দেখবে, তখন সে যেন তা হাত দিয়ে বাধা দেয়। যদি হাত দিয়ে বাধা দিতে সক্ষম না হয়, তাহলে সে যেন তা মুখ দিয়ে বাধা দেয় অর্থাৎ মুখ দিয়ে বলে দেয়। যদি তাতেও সম্ভব না হয়, তাহলে যেন তা অন্তরে বাধা দেয়। অর্থাৎ অন্তরে খারাপ জেনে সেখান থেকে দূরে সড়ে যায়। এটা হচ্ছে সম্মানিত ঈমান মুবারক উনার সর্বনিম্ন স্তর।” (মুসলিম শরীফ, নাসাঈ শরীফ, মুসনাদে আহমদ ৩/৫৪, কান্যুল ‘উম্মাল ৩/৬৬, ছহীহ ইবনে হিব্বান ১/৫৪২, সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৬/৯৪, আল মুসনাদুল মুস্তাখরাজ লি আবী না‘ঈম ১/১৩৬, মাছাবীহুস সুন্নাহ্ লিল বাগবী ৩/৪০৭, আল আহ্কামুশ শর‘ইয়্যাতুল কুবরা লিল ইশবীলী ১/৯৭, আল ঈমান লি ইবনে মুন্দাহ্ ১/৩৪২, আদ্ দুর্রুল মানছূর ৫/৪০০, তাফসীরুল ক্বরতুবী ৪/৪৯, তাফসীরে ইবনে কাছীর ২/৯১, তাফসীরে বাগবী ২/৮৫, আল বাহ্রুল মুহীত্ব ৩/২৯০, আল জাওয়াহিরুল হুস্সান লিছ ছা‘আলাবী ১/২৩৪, তাফসীরুল ঈজী জামি‘উল বায়িন ফী তাফসীরিল কুরআন ১/২৮৭, তাফসীরে খাযিন ১/২৮১, ফাত্হুর রহমান ফী তাফসীরিল কুরআন ২/৮, আল মুহার্রারুল ওয়াজীয্ ১/৪৮৭, ফুতূহুল গাইব ৭/৩০৬, শরহুস সুন্নাহ ১৪/৩৪৯, আল আমরু বিল মা’রূফ ওয়ান নাহ্য়ু ‘আনিল মুন্কার ১/১৯, ফাত্হুল বারী লি ইবনে হাজার ১৩/৫৩, শরহুল বুখারী লি ইবনে বাত্ত্বাল ১৯/৬২, ইকমালুল মু’লিম ১/২০৮, হিলইয়াতুল আউলিয়া ১০/২৭, আদ্ দীবাজ ১/৬৩, জামি‘উল ‘উলূম ওয়াল হিকাম লি ইবনে রজব ১/৩১৯,শরহুল বুলূগ ১/৩০,‘আওনুল মা’বূদ ১২/২৮৩, আল বায়ান ওয়াত্ তা’রীফ ২/২১৭, মিরক্বাতুল মাফাতীহ্ ৮/৩২০৮, নাইলুল আত্বার ৭/২০৬, আত্ তাওদ্বীহ্ লি শরহিল জামি‘ইছ ছহীহ্ ৩২/৩৬৮, যখীরাতুল ‘উক্ববা ১৩/১০৮, আত্ তা‘ঈন ফী শরহিল আরবা‘ঈন ১/২৮৭, আল ফাত্হুল মুবীন বি শরহিল আরবা‘ঈন ১/৫৩৯, তুহ্ফাতুল আশরাফ ৩/৩৫২, রিয়াদ্বুছ ছালিহীন ১/১৪৬, আল আহ্কামুল উসত্বা লিল ইশবীলী ১/৮৭, আত্ তা’দীল ওয়াত্ তাজরীহ্ ১/৮৬, আল আহ্কামুছ ছুগরা লিল ইশবীলী ১/৯১, আল ইলমাম বি আহাদীছিল আহ্কাম ইত্যাদি)

অপর বর্ণনায় রয়েছেন-

(১১২২-১১৪৫)

وَلَيْسَ وَرَاءَ ذٰلِكَ مِنَ الْاِيْـمَانِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ

অর্থ: “এরপর আর সরিষার দানা পরিমাণও সম্মানিত ঈমান মুবারক অবশিষ্ট থাকবে না।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, ইকমালুল মু’লিম শারহু ছহীহ মুসলিম ১/২১১, আল মুফহিম ১/১৪৭, শারহুন নববী আলা মুসলিম ১/১৩২, আদ দীবাজ আলা মুসলিম লিস সুয়ূত্বী ১/৬৫, ফাইদ্বুল ক্বদীর শারহুল জামি‘য়িছ ছগীর ৬/১৬৯, জামি‘উল ‘উলূম ওয়াল হিকাম ২/৩৬, দালীলুল ফালিহীন ২/১৬২, মিছবাহুত তানভীর ১/২৪৭, শারহুল আরবা‘ঈন ১/৩০, আল ইফ্ছাহ্ ২/৯৮, তুহ্ফাতুল আবরার ১/১৩১, যাখীরাতুল ‘উক্ববা ফী শারহিল মুজত্ববা ৩৭/২৯৪, আল ফাতহুর রব্বানী ১/১৯৫, ফাতহুল মুন‘ইম শারহু ছহীহ মুসলিম ১/১৯০, আত তাহ্বীর ১/৩৩৩, আল মাফাতীহ্ ফী শারহিল মাছাবীহ্ ১/২৬০, আল মু‘ঈন ১/৩৯৭, শারহুল মাছাবীহ্ লিইবনিল মালিক ১/১৬৩, আল কাওকাবুল ওয়াহ্হাজ ২/৪০৪, আত তা’ঈন ১/২৯১, আল ফাত্হুল মুবীন শারহুল আরবা‘ঈন লি ইবনে হাজার হাইতামী ১/৫৪৬ ইত্যাদি)

অতএব, কেউ যদি নিজেকে ঈমানদার দাবি করতে চায়, তার জন্য ফরযে আইন হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ করা এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করা।

 

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করার ফযীলত

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-

(১১৪৬-১১৪৮)

عَنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ ذِى النُّـوْرَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْۢ بَـنٰـى لِلّٰهِ مَسْجِدًا بَـنَـى اللهُ لَهٗ بَـيْـتًا فِـى الْـجَنَّةِ

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য একটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)

অন্য বর্ণনায় রয়েছেন-

(১১৪৯-১১৫০)

عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْۢ بَـنٰـى مَسْجِدًا لِّلّٰهِ كَمَفْحَصِ قَطَاةٍ اَوْ اَصْغَرَ بَــنَـى اللهُ لَهٗ بَـيْـتًا فِـى الْـجَنَّةِ

অর্থ: “হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য কবুতরের বাসার মতো অথবা তার চেয়েও ছোট একটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ নির্মাণ করে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ, কানযুল উম্মাল)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

(১১৫১-১১৫৯)

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْۢ بَـنٰـى لِلّٰهِ مَسْجِدًا صَغِـيْـرًا كانَ اَوْ كَبِـيْـرًا بَـنَـى اللهُ لَهٗ بَـيْـتًا فِـى الْـجَنَّةِ

অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য একটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করে, তা ছোট হোক অথবা বড় হোক, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ একটি সম্মানিত বালাখানা মুবারক নির্মাণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মুস্তাদরাকে হাকিম, আহকামুশ শরী‘য়্যাহ, আল ফাতহুল কাবীর, জামি‘উল আহাদীছ, জামি‘উল উছূল, কাশফুল খফা, আল মাত্বালিবুল আলিয়্যাহ, কানযুল উম্মাল ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

(১১৬০-১১৬১)

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُوْلُ مَنْ زَادَ بَـيْـتًا فِى الْمَسْجِدِ فَـلَهُ الْـجَنَّةُ

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার জায়গা বৃদ্ধি করবে, তার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক ওয়াজিব হয়ে যাবেন।” সুবহানাল্লাহ! (ফাদ্বাইলুছ ছাহাবা ৫/১১৮, কানযুল উম্মাল ৭/৬৫৩)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দলীল ভিত্তিক ধারাবাহিক আলোচনা দ্বারা যে বিষয়গুলো সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তাহলো-

১। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

২। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ইবাদত-বন্দেগী মুবারক করার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্থান মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

৩। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইবাদত-বন্দেগী মুবারক করার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্থান মুবারক হওয়ার কারণেই সেখানে উচ্চ স্বরে কথা বলা ও দুনিয়াবী কথা বলা হারাম। সুবহানাল্লাহ!

৪। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাকে তা’যীম-তাকরীম বা সম্মান করা কুল মাখলুকাতের জন্য ফরয। সুবহানাল্লাহ!

৫। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন এবং অনেক ফাযায়িল-ফযীলত বর্ণনা মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

৬। প্রতিটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করা সরকার এবং জনগণ সকলের জনই ফরযে আইন। সুবহানাল্লাহ!

৭। সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে ওয়াক্বফকৃত স্থানে একবার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মিত হলে তা ক্বিয়ামত পর্যন্ত ভাঙ্গা জায়িয নেই। সুবহানাল্লাহ!

৮। সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে রাস্তা নির্মাণ বা অন্যকোনো অজুহাতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা হারাম এবং কুফরী। সুবহানাল্লাহ!

৯। সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে যে কুফরী করে সে মুরতাদ হয়ে যায়। আর সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে মুরতাদের ফায়ছালা হলো- সে ঈমান হারা হবে, তার সমস্ত নেকী বাতিল হবে, বিয়ে করে থাকলে স্ত্রী তালাক হবে, ওয়ারিছসত্ত্ব বাতিল হবে এই অবস্থায় সে মারা গেলে তার জানাযা পড়া জায়িয হবে না, তাকে সম্মানিত মুসলমান উনাদের কবরস্থানে দাফন করা যাবে না; বরং কুকুর-শৃগালের মত গর্তে পুতে রাখতে হবে। সম্মানিত ইসলামী খিলাফত থাকলে তাকে তওবা করার জন্য ৩ দিন সময় দেয়া হবে এর মধ্যে তওবা না করলে তার একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।

অতএব ৯৮ ভাগ মুসলমান এবং রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম উনার দেশের সরকারের জন্য ফরয হচ্ছেন- রাস্তা করার অজুহাতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত থেকে অতিসত্বর সরে আসা। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক তা’যীম-তাকরীম ও আদবের সাথে সংরক্ষণের সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং প্রত্যেক পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায় এমনকি ঘরে ঘরে অসংখ্য-অগণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করা ও নির্মাণে সার্বিক সহযোগীতা করা। তাহলে অবশ্যই অবশ্যই সবাই ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী নাজাত এবং কামিয়াবী লাভ করতে পারবে; অন্যথায় ইহকাল ও পরকালে কঠিন কাফফারা আদায় করতে হবে।

অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪২তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া    ১৫দ

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৩তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া   ১৬

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৪তম পর্ব