মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৭৩

সংখ্যা: ২৯৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৩তম ফতওয়া হিসেবে

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”- পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইজতিহাদের মুলনীতি

আল্লামা আলাউদ্দিন কাসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

انه كان من صيارفة الحديث وكان من مذهبه تقديم الخبر و ان كان في حد الاحاد على القياس بعد ان كان راويه عدلا ظاهر العدالة

অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশেষজ্ঞদের একজন। উনার সম্মানিত মাযহাবের উছূল হলো- ক্বিয়াসের উপর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে প্রাধান্য দেয়া, যদিও পবিত্র হাদীছ শরীফ খবরে ওয়াহিদ হয়; তবে রাবী সৎ ও বিশ্বস্ত হতে হবে, চাই বাহ্যিক বিশ্বস্ত হোক। (বাদায়ে সানায়ে-৫/১৮৮)

ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সর্বদা পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে মাসআলা উদঘাটন করতেন

কিতাবে আরো উল্লেখ আছে-

وحديث صححه ابو حنيفة رحمة الله عليه لم يبق فيه لاحد مطعن

অর্থ: যে পবিত্র হাদীছ শরীফ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি ছহীহ বলেছেন, সে পবিত্র হাদীছ শরীফে অন্য কারো দোষ ধরার অবকাশ থাকে না। (মাকানাতুল ইমাম আবী হানীফা ফিল হাদীছ-৫৮)

তবে এটি সত্য যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনার পরিবর্তে পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে ফিকহী মাসআলা বের করার কাজে বেশি সময় দিতেন ।

হাফিয মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আসসালেহী শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উকুদুল জুমান ফি মানাকিবি ইমাম আযম আবী হানিফা নামক কিতাবে বলেন-

كان ابو حنيفة رحمة الله عليه من كبار حفاظ الحديث واعيانهم ولو لا كثرة اعتنائه بالحديث وما تهيا له استنباط مسائل الفقه وذكره الذهبي في طبقات الحفاظ و لقد اصاب واجاد

অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ হাফিযুল হাদীছ উনাদের অন্যতম। তিনি যদি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের প্রতি খুব বেশি যত্নবান না হতেন তাহলে ফিকহি মাসয়ালা উদ্ভাবন উনার পক্ষে সম্ভব হতো না। ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাযকিরাতুল হুফফায গ্রন্থে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথা আলোচনা করে সঠিক ও উত্তম কাজ করেছেন।

উক্ত গ্রন্থে সালেহী রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন-

انما قلت الرواية عنه وان كان متسع الحفظ لاشتغاله بالاستنباط و كذلك لم يرو عن مالك والشافعى الا قليل بالنسبة والى ما سمعها لسبب نفسه كما قلت رواية امثال حضرت ابى بكر عليه السلام و عمر عليه السلام من كبار الصحابة رضىى الله تعالى عنهم بالنسبة الى كثرة اطلاعهم و قد كثرت رواية من دونهم بالنسبة

অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যদিও হাফিযুল হাদীছ ছিলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ বিষয়ে উনার ছিল ব্যাপক জানা-শোনা তথাপি উনার থেকে হাদীছ শরীফ কম বর্ণিত হওয়ার কারণ হলো, তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনার পরিবর্তে পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে ফিকহী মাসয়ালা উদঘাটনে সবসময় নিয়োজিত থাকতেন। একইভাবে ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা যত হাদীছ শরীফ জানতেন তার সামান্যই বর্ণিত হয়েছে। (্এর কারণ হলো পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করার মত অবসর সময় উনারা পাননি) যেমন বড় বড় ছাহাবী হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ও হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাদের অধিক জানা-শোনা সত্ত্বেও অন্যান্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের তুলনায় রেওয়ায়েত কম করেছেন।

সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাদের সঙ্গে উনার মিল ছিল

ঠিক একই অবস্থা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাদের। অন্যান্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে অনেক বেশি পবিত্র হাদীছ শরীফ জানা থাকা সত্বেও উনারা খুব কমই বর্ণনা করেছেন। (কারণ খিলাফতের দায়িত্বেই উনারা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতেন) অপরদিকে উনাদের বয়োকনিষ্ঠ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম অনেক বেশি পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। জ্ঞানহীন লোক ছাড়া সামান্য বিবেকবান সকলেই বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন।

মিনহাজুন সুন্নাহ ১ম খণ্ড ১৭২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

ومن ظن بابى حنيفة رحمة الله عليه او غيره من ائمة الـمسلمين انهم يتعمدون مـخالفة الحديث الصحيح لقياس او غيرهم فقد اخطأ عليهم وتكلم اما بظن واما بهوى

অর্থ: যারা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি বা অন্যান্য ইমাম সম্পর্কে ধারণা করে যে উনারা কিয়াস বা অন্যকোনো কারণে ইচ্ছাকৃত পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার বিরোধীতা করেছে, তারা এ মহান ইমামগণ উনাদের প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়। হয়তো তারা ধারণা করে অথবা নফসের কুমন্ত্রণায় পড়ে ইমামদের সম্পর্কে এহেন কথা বলে।

উক্ত কিতাবে আরো উল্লেখ আছে-

ائمة اهل الحديث والتفسير والتصوف والفقه مثل الأئمة الأربعة و اتباعهم

অর্থ: পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র তাফসীর শরীফ, পবিত্র তাছাওউফ, ফিকহের ইমাম হলেন আয়িম্মায়ে আরবায়া তথা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি ও উনাদের অনুসারীগণ। (মিনহাজুস সুন্নাহ ১ম খণ্ড, ১৭২ পৃষ্ঠা)

সারকথা হলো- যে মহান ব্যক্তির ইলমী খিদমত পৃথিবীর দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে উনাকে কেউ হিংসা করবে না, এটা কীভাবে সম্ভব! উনাকে হিংসা করার লোক পৃথিবীতে অতীতে ছিলো, বর্তমানে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে শুধু হিংসুকই নয়, কিছু অজ্ঞ লোকও ছিলো যাদের কাছে হিংসুকদের প্রচারণা পৌঁছেছে, বাস্তবতা পৌঁছেনি ।

তাই তো আমর বিন বাহার জাহেয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

الناس في ابي حنيفة رحمة الله عليه رجلان حاسد او جاهل فاما الحاسد فانه لا ياتي بمثل ما اتى به و اما الجاهل فانه لا يدرى ما قال

অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ব্যাপারে দুই শ্রেণীর মানুষ ভুল বুঝেছে; এক হিংসুক, দুই অজ্ঞ। হিংসুকরা তো এ কারণে হিংসা করে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি বিশ্ববাসীকে যে ইলম ও ফিকহ দান করেছেন, তা তারা দিতে অক্ষম। আর অজ্ঞরা তো উনার ইলম-কালাম সম্পর্কে জানেই না। অর্থাৎ তারা উপলব্ধি করতে পারে না উনার ইলমী যোগ্যতা কত উপরে। (ফাযাইলু আবী হানীফা- ৭৮ পৃষ্ঠা, আখবারু আবী হানীফা- ৫৪ পৃষ্ঠা)

انما عرف فضل أبي حنيفة رحمة الله عليه من راه و سمع كلامه

অর্থ: যিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দেখেছেন এবং উনার কথা শুনেছেন তিনিই উনার মর্যাদা বুঝেছেন। (ফাযায়িলে আবী হানীফা)

একটি ঘটনার মাধ্যমে আমর বিন বাহার জাহেয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথার বাস্তবতা আরো ভালোভাবে অনুধাবন করা যায়। ঘটনাটি খতীবে বাগদাদী উনার তারীখে বাগদাদে ১৩/৩৩৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। যেমন-

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘আমি ইমাম আওযায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে দেখা করতে শাম দেশে যাই। শাম দেশের বৈরুত নগরে উনার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। তিনি আমাকে দেখে বলেন,

يا خراساني من هذا الـمبتدع الذى خرج بالكوفة يكنى أبا حنيفة؟

‘হে খুরাসানী! কুফা নগরের এ বিদআতী কে যাকে আবু হানিফা বলা হয়? ইবনুল মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি কোনো উত্তর না দিয়ে বাড়ি ফিরে এসে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাব নিয়ে বসি এবং তিনদিন ধরে উনার কিতাব থেকে মাসআলা লিপিবদ্ধ করি। তৃতীয় দিন আওযায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট যাই। তিনি মসজিদে নিজে আযান দিতেন এবং ইমামতী করতেন। তিনি আমাকে দেখে বলেন, তোমার হাতে এটি কী কিতাব? আমি কিতাবটি উনার হাতে তুলে দিলাম। তিনি ওইসব মাসআলা দেখতে লাগলেন যেগুলোর ক্ষেত্রে আমি লিখেছিলাম, قال النعمان অর্থাৎ নুমান বলেছেন। তিনি আযানের পর থেকে কিতাবটি দেখতে থাকেন। নামাযের সময় হয়ে গেলে কিতাবটি জামার আস্তিনে রেখে নামায আদায় করেন। নামায শেষে আমার নিকট এসে বললেন,

يا خراسانى من النعمان بن الثابت هذا؟

“হে খুরাসানী! এই নুমান বিন সাবিত উনি কে? উত্তরে বললাম,

شيخ لقيته بالعراق

 ইরাকের এক শায়েখ যার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তখন তিনি বলেন,

هذا نبيل من المشايخ اذهب فاستكثر منه

তিনি একজন শ্রেষ্ঠ শায়েখ তুমি উনার নিকট যাও এবং উনার থেকে অধিক পরিমাণে ইলম অর্জন করো। তখন আমি বললাম

هذا ابو حنيفة الذى نهيت عنه

ইনিতো সেই ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি যাঁর ব্যাপারে আপনি নিষেধ করেছেন।

হাফেযুদ্দীন আল কারদারী রহমতুল্লাহি আলাইহি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার যে জীবনী মুবারক লিখেছেন সেখানে ইবনুল  মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এ কথাটিও উল্লেখ করেছেন। মুহাদ্দিছ ইবনুল মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পরবর্তীতে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে পবিত্র মক্কা শরীফে আমাদের সাক্ষাৎ হলে ইমাম আওযায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওই মাসয়ালাগুলো নিয়ে উনার সঙ্গে আলোচনা করেন।  তিনি  তখন ইমাম আওযায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট উক্ত মাসয়ালাগুলোর ব্যাখ্যা চমৎকারভাবে তুলে ধরেন। পরে একসময় উনাকে জিজ্ঞাসা করি, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে কেমন দেখলেন? উত্তরে তিনি বলেন-

غبطت الرجل بكثرة علمه ووفور عقله واستغر الله تعالى لقد كنت فى غلط ظاهر الزم الرجل فانه بخلاف ما بلغنى عنه

অর্থ: লোকটির (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার) জ্ঞানের বিশালতা ও সম্মানিত মেধার গভীরতায় আমি ঈর্ষান্বিত। আমার ভুল ধারণার জন্য আমি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সত্যিই আমি বড় ভুলের মধ্যে ছিলাম। আপনি কখনোই উনার সঙ্গ ত্যাগ করবেন না। মূলত উনার সম্পর্কে আমাকে যা জানানো হয়েছে বাস্তবতার নিরীখে তা ছিলো সম্পূর্ণ বিপরীত।

উল্লেখ্য, শুধু সাইয়্যিদুনা ইমাম আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিই নন, বরং উনার সংস্পর্শ ধন্য ছাত্রদের নিকট এসেও অনেকের ভুল ধারণা  দূর হয়েছে। খতীবে বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উল্লেখ করা ঘটনাটি হলো- মুহম্মদ ইবনে সামআ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি যে মসজিদে নামায পড়তেন, সেই মসজিদে আমাদের সঙ্গে ঈসা ইবনে আবানও নামায পড়তেন। আর এই মসজিদে ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফিকহি মজলিস হত। আমি ঈসা ইবনে আবানকে ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মজলিসে বসার আহ্বান করতাম। কিন্তু তিনি উত্তরে বলতেন-

هؤلاء قوم يخالفون الحديث

উনারা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিরোধিতা করেন।

ঈসা ইবনে আবান রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রকৃতই একজন হাফিযুল হাদীছ ছিলেন। একদিনের ঘটনা। তিনি আমাদের সঙ্গে ফজরের নামায আদায় করেন। সেদিন ইমাম মুহাম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফিকহী মজলিস ছিলো। ঈসা ইবনে আবান রহমতুল্লাহি আলাইহিও গিয়ে মজলিসে বসলেন।

মজলিস শেষ হলে আমি ঈসা ইবনে আবান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সঙ্গে নিয়ে ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে গিয়ে বললাম, হযরত! ইনি আপনার ভাই আবানের ছেলে: খুবই মেধাবী ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার হাফিয। আমি উনাকে আপনার মজলিসে বসার আহবান করলে তিনি বলেন, আমরা নাকি পবিত্র হাদীছ শরীফের বিরোধিতা করি। তখন ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘বৎস! তুমি আমাদেরকে পবিত্র হাদীছ শরীফের কী বিরোধিতা করতে দেখছো? তুমি আমাদের নিকট পবিত্র হাদীছ পেশ করে দেখ, আমরা কী বলি? তখন তিনি ইমাম মুহাম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফের পঁচিশটি অধ্যায় থেকে প্রশ্ন করেন। ইমাম মুহাম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি সব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর প্রদান করেন। তিনি ঈসা ইবনে আবান রহমতুল্লাহি আলাইহিকে জানিয়ে দেন পবিত্র হাদীছ শরীফগুলোর মধ্যে কোন কোন পবিত্র হাদীছ শরীফ মানসুখ হয়ে গেছে। (এবং কোন কোন পবিত্র হাদীছ শরীফ আমলযোগ্য)। সঙ্গে এ বিষয়ে অনেক দলীল-প্রমাণ ও দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। সুবহানাল্লাহ!

মুহাম্মদ ইবনে সামাআ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ইমাম মুহাম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছ থেকে আসার পর ঈসা ইবনে আবান রহমতুল্লাহি আলাইহি আমাকে বললেন-

كان بيني و بين النور ستر فارتفع عنى ما ظننت ان في ملك الله مثل هذا الرجل يظهره للناس

আমার ও নূরের মধ্যে পর্দা ছিলো। আমি ভাবতেই পারিনি মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনে মানব জাতিকে (সঠিক পথ দেখাতে) এমন ব্যক্তির আগমন হতে পারে। (আছারুল হাদীছ)

এরপর থেকে ঈসা ইবনে আবান রহমতুল্লাহি আলাইহি ইমাম মুহাম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে আজীবন লেগে থাকেন এবং ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকটে ইলমে ফিকহ শিক্ষা করেন। সুবহানাল্লাহ!

অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৪তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া   (১৭)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- ৪৫তম পরব

হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৮)