মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-২৯)

সংখ্যা: ২৯৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

(৩৬তম ফতওয়া হিসেবে)

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খেদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কতিপয় সুওয়াল-জাওয়াব

(পূর্বপ্রকাশিতের পর)

সুওয়াল-১

রাস্তা নির্মাণ করার সময় বা রাস্তা সোজা করতে যেয়ে যদি মাঝে কোনো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পড়ে, তাহলে তা ভাঙতে হবে নাকি রাস্তা বাঁকা করে নিতে হবে?

জওয়াব: রাস্তা করতে যেয়ে বা রাস্তা সোজা করার জন্য কস্মিনকালেও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা যাবে না। বরং রাস্তা নির্মাণ করতে যেয়ে কোনো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক সামনে পড়লে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার সম্মানার্থে রাস্তা বাঁকা করে নিতে হবে। এটাই সম্মানিত ও পবিত্র শরীয়ত উনার ফতওয়া। কেননা সম্মানিত ও পবিত্র শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী রাস্তার অজুহাত দেখিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা সম্পূর্ণরূপে হারাম-নাজায়িয এবং কাট্টা কুফরী ও চির জিহান্নামী হওয়ার কারণ। না‘ঊযুবিল্লাহ! এ সম্পর্কে যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَمَنْ اَظْـلَمُ مِـمَّنْ مَّنَعَ مَسٰجِدَ اللهِ اَنْ يُّذْكَرَ فِـيْـهَا اسْـمُهٗ وَسَعٰى فِـىْ خَرَابِـهَا اُولٰٓئِكَ مَا كَانَ لَـهُمْ اَنْ يَّدْخُلُوْهَا اِلَّا خَآئِفِيْـنَ لَـهُمْ فِـى الدُّنْـيَا خِزْىٌ وَّلَـهُمْ فِـى الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيْمٌ

অর্থ: “ওই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে? যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহে উনার যিকির মুবারক করতে, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় বা বিরান করতে চেষ্টা করে। (অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক বন্ধ করে রাখে, হক্ব আদায় করে না, ভেঙ্গে ফেলে, বিরান করে অর্থাৎ যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করে না,) তাদের জন্য ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় অর্থাৎ খালিছ তওবা-ইস্তিগফার করা ব্যতীত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহে প্রবেশ করা জায়িয নেই। তাদের জন্য রয়েছে ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ১১৪)

এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ‘তাফসীরে জালালাইন শরীফ ও তাফসীরে মাযহারী শরীফ’ উনাদের মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

لَا اَحَدَ اَظْـلَمُ مِـمَّنْ مَّنَعَ مَسٰجِدَ اللهِ اَنْ يُّذْكَرَ فِـيْـهَا اسْـمُهٗ

অর্থ: “ওই ব্যক্তিই সবচেয়ে বড় যালিম, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহে উনার যিকির মুবারক করতে, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক স্মরণ করতে বাধা দেয়।” (অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ বন্ধ করে রাখে, হক্ব আদায় করে না, বিরান করে, ভেঙ্গে ফেলে, যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করে না।) (তাফসীরে জালালাইন ১/২৪, তাফসীরে মাযহারী ১/১১৬, আস সিরাজুল মুনীর ১/৮৭ ইত্যাদি)

‘তাফসীরে সমরকন্দী শরীফ, তাফসীরে খাযিন শরীফ ও তাফসীরে বাগবী শরীফ’ উনাদের মধ্যে وَمَنْ اَظْـلَمُ  ‘ওই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে?’ এই অংশের ব্যাখ্যায় উল্লেখ রয়েছেন, وَمَنْ اَكْفَرُ ‘ওই ব্যক্তির চেয়ে বড় কাফির আর কে? অর্থাৎ ওই ব্যক্তিই সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহে উনার যিকির মুবারক করতে, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় বা বিরান করতে এবং ভাঙ্গতে চেষ্টা করে’।” (অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক বন্ধ করে রাখে, হক্ব আদায় করে না, বিরান করে, ভেঙ্গে ফেলে, যথাযথ তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করে না।) না‘ঊযুবিল্লাহ! (তাফসীরে সমরকন্দী শরীফ ১/৮৬, তাফসীরে খাযিন শরীফ ১/৭২, তাফসীরে বাগবী শরীফ ১/১৫৭ ইত্যাদি)

আল্লামা কাযী ছানাউল্লাহ পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে মাযহারী শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

لَـهُمْ فِـى الدُّنْـيَا خِزْىٌ قَـتْلٌ وَسَبْـىٌ وَّذِلَّـةٌ بِضَرْبِ الْـجِزْيَةِ وَّلَـهُمْ فِـى الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيْمٌ اَلنَّارُ الْـمُؤَبَّدَةُ بِكُفْرِهِمْ وَظُـلْمِهِمْ

অর্থ: “তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়ার যমীনে লাঞ্ছনা। (অর্থাৎ) কতল (মৃত্যুদণ্ড), বন্দিত্ব (জেল-হাজত) এবং জিযিয়া কর প্রদানের অবমাননা। আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। (অর্থাৎ পরকালে) তাদের জন্য রয়েছে তাদের কুফরী ও যুলুমের কারণে চিরস্থায়ী জাহান্নাম।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (তাফসীরে মাযহারী শরীফ ১/১১৬)

দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত বিশ্বখ্যাত ও সর্বজনমান্য তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে জালালাইন শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

{لَـهُمْ فِـى الدُّنْـيَا خِزْىٌ}هَوَانٌ بِالْقَتْلِ وَالسَّبْـىِ وَالْـجِزْيَةِ {وَّلَـهُمْ فِـى الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيْمٌ} هُوَ النَّارُ

অর্থ: “তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়ার যমীনে লাঞ্ছনা। (অর্থাৎ) ক্বতল (মৃত্যুদণ্ড), বন্দিত্ব (জেল-হাজত) এবং জিযিয়া কর প্রদানের অবমাননা। আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। (অর্থাৎ পরকালে) তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (তাফসীরে জালালাইন শরীফ ১/২৪, আস সিরাজুল মুনীর ১/৮৮ ইত্যাদি)

এখন বলার বিষয় হচ্ছে, যদি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহে মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির মুবারক করতে, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক উচ্চারণ করতে বাধা দেয়ার কারণে এবং সেগুলোকে উজার বা বিরান করে দেয়ার বা ভেঙ্গে ফেলার কোশেশ করার কারণে অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদসমূহ উনাদেরকে হাক্বীক্বীভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ না করার কারণে সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির, চির মাল‘ঊন ও চির জাহান্নামী হতে হয় এবং দুনিয়ার যমীনে অবমাননা, লাঞ্ছনা, জেল-হাজত, গ্রেফতার ও ক্বতল অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের শিকার হতে হয়, তাহলে রাস্তা সোজা করার নামে যারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগীতা করবে এবং সমর্থন করবে তাদের ফায়ছালা কী? মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের সম্মানিত ফতওয়া মুবারক অনুযায়ী- “নিঃসন্দেহে তারা সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির, চির মাল‘ঊন ও চির জাহান্নামী হবে। তাদের প্রত্যেককেই অবশ্যই অবশ্যই গ্রেফতার করে জেল-হাজতে প্রবেশ করাতে হবে। অতঃপর তওবা করার জন্য তিন দিন সময় দিতে হবে। যদি তারা তওবা করে ভালো; অন্যথায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শরীয়ত উনার ফতওয়া মুতাবিক তাদের প্রত্যেককেই শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ عَنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خِصَالٌ لَّا تَـنْۢبَغِـىْ فِـى الْمَسْجِدِ لَا يُـتَّخَذُ طَرِيْـقًا

অর্থ: “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কতগুলো অভ্যাস বা কাজ রয়েছে সেগুলো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদের মধ্যে করা জায়িয নেই। যেমন- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদেরকে (ভেঙ্গে) রাস্তা বানানো জায়েয নেই। বরং উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করার আদেশ মুবারক করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (সুনানে ইবনে মাজাহ্ শরীফ, আল জামিউছ ছগীর ১/৩৬৬, আল ফাতহুল কাবীর ২/৮২, জামিউল আহাদীছ ১২/২৭৫, জামউল জাওয়ামি’ ১/১২১১১, কানযুল উম্মাল ৭/৬৬৭, মিছবাহুয যুজাজাহ ১/৯৫, আত তানভীর শরহু জামি‘য়িছ ছগীর ৫/৪৮২, আল বাদরুল মুনীর ৯/৫১১, আদ দিরায়াহ ১/২৮৮, আল বাহরুল রায়িক্ব ৬/৩১৭, আদ দুররুল মানছূর লিস সুয়ূত্বী ১১/৭৮, তাফসীরে ইবনে কাছীর ৬/৬৩, মুখতাছরু তাফসীরে ইবনে কাছীর ২/৬০৮, আল মুহাররুল ওয়াজীয ৬/৪৩৭, আল মাত্বালিবুল ‘আলিয়াহ্ ৩/৫০৮, ফতহুল বারী লি ইবনে হাজার ১৩/১৫৭, উমদাতুল ক্বারী ৭/৬৫, হাশিয়াতুস সিন্দী ১/২৫৩, আল বাদরুল মুনীর ৯/৫১১, নাছবুর রাইয়াহ্ ২/৪৯৩, তুহ্ফাতুল আশরাফ ৬/৯৬ ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَـتَّخِذُوا الْمَسَاجِدَ طُـرُقًا

অর্থ: “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদেরকে (ভেঙ্গে) রাস্তা হিসেবে গ্রহণ করো না (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভেঙ্গে রাস্তা তৈরী করো না বরং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করো।)।” (আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ১০/৪৫৩, আল মু’জামুল আওসাত্ব ১/১৪, শরহু সুনানি ইবনে মাজাহ লিল মুগলত্বাই ১/১২৪৪, ফাইযুল ক্বদীর ৬/৫০২, আত তাইসীর বিশরহিল জামি‘য়িছ ছগীর ২/৯৪৫, মাছাবীহুত তানভীর ২/২৫, আত তানভীর শরহুল জামি‘য়িছ ছগীর ১১/৮২, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/৩৪, আল জামি‘উছ ছগীর ২/৩৮৮, আল ফাতহুল কাবীর ৩/৩০০, দায়লামী শরীফ ৫/১৫, জামিউল আহাদীছ ১২/২৭৫ ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ وَحَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنَّهٗ نَـهٰى اَنْ تُـتَّخَذَ الْـمَسَاجِدُ طُـرُقًا

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদেরকে রাস্তা বানাতে (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভেঙ্গে রাস্তা নির্মাণ করতে) নিষেধ করেছেন। বরং উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশ মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে ত্বয়ালিসী ১/৩০৯, মু’জামুল কাবীর লিত্ ত্ববারনী ৮/২৩৫, মুসনাদে ইবনে আবী শায়বাহ্ ১/১৯৪, মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ্ ১/৩৩৯, আল বাদরুল মুনীর ৯/৫১১, বায়ানুল ওয়াহাম ২/৫৮৭, আত্ তালখীছুল হাবীর লি ইবনে হাজার ৬/৩১৪৭, মুখতাছারু ইস্তিদরাকিল হাফিয আয যাহাবী ৭/৩২৯৯, শরহু সুনানি ইবনে মাজাহ ১/১২৫০, যাখীরতুল হুফ্ফায ২/৮৮৬ ইত্যাদি)

সুতরাং রাস্তা সোজা করতে যেয়ে কস্মিনকালেও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা যাবে না। বরং রাস্তা নির্মাণ করতে যেয়ে কোনো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক সামনে পড়লে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার সম্মানার্থে রাস্তা বাঁকা করে নিতে হবে। এটাই সম্মানিত ও পবিত্র শরীয়ত উনার ফতওয়া। আর রাস্তার অজুহাত দেখিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা সম্পূর্ণরূপে হারাম-নাজায়িয এবং কাট্টা কুফরী ও চির জিহান্নামী হওয়ার কারণ। না‘ঊযুবিল্লাহ!

(তথ্যসূত্র: ১. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, ২. সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ, ৩. আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী, ৪. আল মু’জামুল আওসাত্ব, ৫. শরহু সুনানি ইবনে মাজাহ লিল মুগলত্বাই, ৬. ফাইযুল ক্বদীর, ৭. আত তাইসীর বিশরহিল জামি‘য়িছ ছগীর, ৮. মাছাবীহুত তানভীর, ৯. আত তানভীর শরহুল জামি‘য়িছ ছগীর, ১০. মাজমাউয যাওয়াইদ, ১১. আল জামি‘উছ ছগীর, ১২. আল ফাতহুল কাবীর, ১৩. দায়লামী শরীফ, ১৪. জামিউল আহাদীছ, ১৫. যাখীরতুল হুফ্ফায, ১৬. মিছবাহুয যুজাজাহ, ১৭. আল বাদরুল মুনীর, ১৮. আদ দিরায়াহ, ১৯. বাহরুর রায়েক্ব, ২০. আদ দুররুল মানছূর লিস সুয়ূত্বী, ২১. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ২২. আল মুহাররুল ওয়াজীয, ২৩. তাফসীরে জালালাইন, ২৪. তাফসীরে সমরকন্দী, ২৫. তাফসীরে খাযিন, ২৬. তাফসীরে বাগবী, ২৬. তাফসীরে মাযহারী, ২৭. আস সিরাজুল মুনীর, ২৮. জামউল জাওয়ামি’, ২৯. কানযুল উম্মাল, ৩০. মুখতাছারু তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৩১.আল মাত্বালিবুল আলিয়াহ্, ৩২. ফতহুল বারী লি ইবনে হাজার, ৩৩. উমদাতুল ক্বারী, ৩৪. হাশিয়াতুস সিন্দী, ৩৫. আত্ তানবীর শরহুল জামি‘য়িছ ছগীর, ৩৬. নাছবুর রাইয়াহ্, ৩৭. তুহ্ফাতুল আশরাফ, ৩৮. মুসনাদে ত্বয়ালিসী, ৩৯. মুসনাদে ইবনে আবী শায়বাহ্, ৪০. মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ্, ৪১. বায়ানুল ওয়াহাম, ৪২. যখীরতুল হুফ্ফায, ৪৩. আত্ তালখীছুল হাবীর লি ইবনে হাজার, ৪৪. মুখতাছারু ইস্তিদরাকিল হাফিয আয যাহাবী ইত্যাদি)

অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৪

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪২তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া    ১৫দ

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৩তম পর্ব