মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে-মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৭)

সংখ্যা: ২৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

(৩৮তম সম্মানিত ফতওয়া মুবারক হিসেবে)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ ও সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া মুবারক পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

পূর্ব প্রকাশিতের পর

মৃত ব্যক্তির ক্বামীছ বা জামায় দিখরীছ ব্যবহার করা নিষেধ

لَيْسَ فِيْـهَا قَمِيْصٌ وَلَا عِمَامَةٌ… وَقَالَ اِبْنُ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ اَلْـمُرَادُ بِقَوْلِهَا  لَيْسَ فِيْـهَا قَمِيْصٌ أَيْ جَدِيْدٌ أَوْ لَهٗ دَخَارِيْصُ أَوِ الَّذِيْ غُسِلَ فِيْهِ بَلْ نُزِعَ عَنْهُ

অর্থ: মহাসম্মানিতা মহাপবিত্রা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ-ছালিছা ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন যে, মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কাফন মুবারক উনার মধ্যে কোন ক্বামীছ মুবারক ছিলনা ও পাগড়ী মুবারকও ছিলনা।

এ প্রসঙ্গে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বলেন, মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কাফন মুবারক উনার মধ্যে কোন ক্বামীছ মুবারক ছিলনা তার অর্থ হলো: নতুন ক্বামীছ বা জামা ছিলনা অথবা উক্ত ক্বামীছ মুবরক উনার মধ্যে কোন “দাখারীছ” ছিলনা তথা পবিত্র ক্বামীছ মুবারক উনার দুই পাশের চার টুকরা লাগানো হয়নি। অথবা যে কমীছ মুবারকে গোসল মুবারক দেয়া হয়েছিল তা খুলে ফেলা হয়েছিল। (আত- তাওদ্বীহু লি শরহি জামিয়িছ ছহীহ- ৯/৪৭১)

وَالْقَمِيْصُ مِنَ الْـمَنْكِبِ إِلَى الْقَدَمِ بِلَا دَخَارِيْصَ لِأَنَّـهَا تُـفْعَلُ فِيْ قَمِيْصِ الْحَيِّ وَلَاجَيْبَ وَلَا كُمَّيْنِ وَلَا يُكَفُّ أَطْرَافُ وَالدَّخَرِيْصُ: اَلشَّقُّ الَّذِيْ يُـفْعَلُ فِيْ قَمِيْصِ الْحَيِّ لِيَـتَّسِعَ فِي الْمَشْيِ

অর্থ: আর মৃত ব্যক্তির জামা দিখরীছ (হাতার নীচের দিকে লম্বালম্বি দুটি করে চারটি কাপড়ের টুকরা) ব্যতিত হবে। কেননা এটা জিবীত ব্যক্তিদের ক্বামীছের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে। আর মৃত ব্যক্তির ক্বামীছের ক্ষেত্রে গলাবন্ধনী, হাতা থাকবেনা এবং পার্শ^সমূহ সেলাই করা যাবেনা। হাটা-চলা করতে যাতে অসুবিধা না হয়, সে কারণে জীবিত ব্যক্তির জামায় দিখরীছ সেলাই করা হয়। (আত-তা’রীফাতুল ফিক্বহিয়্যাহ পৃষ্ঠা-১৭৭)

فَإِنَّ قَمِيْصَ الْكَفْنِ لَيْسَ لَهٗ دَخَارِيْصُ وَلَا كُمَّانُ حَتّٰى لَوْ كُفِنَ فِيْ قَمِيْصِهٖ قُطِعَ جَيْـبُهٗ وَلَبَّـتُهٗ وَكُمَّاهُ قَالَهُ الْكَبِيْرِيْ مِنَ الْحَنَفِيَّةِ

অর্থ: অতপর নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তির কাফনের ক্বামীছে কোন দাখারীজ তথা হাতার নীচের দিকে লম্বালম্বি (চার কোণা বিশিষ্ট) দুটি করে চারটি কাপড় সেলাই করা থাকেনা, এবং হাতাও থাকেনা। এমনকি যদি মৃত ব্যক্তির পরিহিত জামা দ্বারা কাফন করা হয় তাহলেও উক্ত জামার দু‘হাতা, গলাবন্ধনী ও বুকের উপরি ভাগের কেটে দিতে হবে। এটা সম্মানিত হানাফী মাজহাব উনার পূর্ববর্তীগণ উনাদের ফাতওয়া। (মিরয়াতুল মাফাতীহি শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ ৫/৩৪৬)

وَفِيْ كُتُبِ الْفِقْهِ أَنَّ قَمِيْصَ الْمَيِّتِ كَقَمِيْصِ الْحَيِّ إِلَّا أَنَّهٗ لَا يَكُوْنُ فِيْهِ دِخْرِيْصٌ لِأَنَّ الْمَيِّتَ لَا يَحْتَاجُ إِلَى الْمَشْيِ وَغَيْرِهٖ وَلَمْ يَصْرَحْ وَاحِدٌ مِّنْـهُمْ أَنَّهٗ لَا يُخَاطُ أَيْضًا

অর্থ: ফিক্বহের কিতাব সমূহে বর্ণিত আছে যে, নিশ্চয়ই মৃত ব্যাক্তির ক্বামীছ জীবিত ব্যক্তির অনুরূপ, তবে তাতে দিখরীছ হবেনা। কেননা, মৃত ব্যক্তিদের হাটা-চলা ও অন্যান্য কাজের প্রয়োজন হয়না। কিন্তু একথা কেউই স্পষ্ট করে বলেন নাই যে, নিশ্চয়ই উহা সেলাই করাও হবেনা। (ফয়জুল বারী ৩/১৩)

وَالْقَمِيْصُ مِنَ الْمَنْكِبَيْنِ إلَى الْقَدَمَيْنِ وَهُوَ بِلَا دَخَارِيْصَ وَلَا جَيْبٍ وَلَا كُمَّيْنِ وَلَا يَلُفُّ أَطْرَافَهُ

 অর্থ: মৃত ব্যক্তির ক্বামীছ হলো কাধঁ থেকে নিছফু সাক্ব বা হাটু ও টাখনুর মাঝামাঝি পর্যন্ত। যাতে কোন দাখারীজ তথা হাতার নীচের দিকে লম্বালম্বি (চার কোণা বিশিষ্ট) দুটি করে চারটি কাপড়ের টুকরা থাকবেনা, গলাবন্ধনী থাকবেনা, কোণা সমূহ সেলাই করা থাকবেনা, এবং হাতা থাকবেনা। (দুরারুল হুক্কাম শরহু গুরারিল আহকাম ১/১৬২, মারক্বিঊল ফালাহ শরহু নূরুল ঈদ্বাহ পৃষ্ঠা- ২১৬, আল মাহইয়াউ ফী কাশফিল আসরারিল মুয়াত্বা ২/৯২, আল বিনায়াতু শরহুল হিদায়া ৩/২০০, হাশিয়াত্ব ত্বাহতাভী পৃষ্ঠা- ৫৭৫, বাহরুর রায়িক্ব ২/২৮৯, আন নাহরুল ফায়িক্ব ১/৩৮৬, আল লুবাব ফী শরহিল কিতাব ১/১২৮, দুররুল মুখতার ২/২০২, মাজমাউল আনহার ১/১৮১, তাবয়ীনুল হাক্বায়িক্ব ১/২৩৭, নূরুল ঈদ্বাহ ওয়া নাজাতিল আরওয়াহ পৃঃ -৯২, তুহফাতুল মুহতাজ ৩/১০১)

কোনাফাড়া পাঞ্জাবী বাদশাহ আকবরের সময় হিন্দুদের আবিস্কৃত পোশাক

কোনাফাড়া পাঞ্জাবী বাদশাহ আকবরের সময়ে তখনকার হিন্দুরা মুসলমানগণ উনাদের সুন্নতী গোল ক¦মীছ উনার বিরোধীতা করতে গিয়ে কোনাফাড়া পাঞ্জাবী পরিধান করা শুরু করে। যার কারণে কোনাফাড়া পাঞ্জাবী হলো মুশরিক হিন্দুদের পোশাক।

রুমাল পরিধান করা পবিত্র সুন্নত:

قَالَتْ حَضْرَتْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةُ الصِّدِّيْـقَةُ عَلَيْـهَا السَّلَامُ فَـبَـيْـنَا نَحْنُ جُلُوْسٌ فِىْ بَـيْتِنَا فَى نَحْرِ الظَّهِيْـرَةِ قَالَ قَائِلٌ لِاَبِىْ بَكْرِنِ الصِّدِّيْقِ عَلَيْهِ السَّلَامُ هٰذَا رَسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُقْبِلًا وَ مُتَـقَنِّعًا

অর্থ: হযরত উম্মুল মুমিনীন আছ-ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, একদা দ্বি-প্রহরের সময় আমরা আমাদের হুজরা শরীফে অবস্থান করতে ছিলাম। এমতাবস্থায় একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু তিনি হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে ডেকে বললেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার পাগড়ী মুবারক উনার উপর রুমাল মুবারক পরিধান করে, নূরুল হুদা (মাথা) মুবারক ঢেকে আপনাদের হুজরা শরীফ মুবারকে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করতেছেন। (বুখারী শরীফ ও আবূ দাউদ শরীফ)

عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْـقَةِ عَلَيْـهَا السَّلَامُ قَالَتْ مَا اَتٰى رَسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَحَدًا مِّنْ نِّسَائِهٖ اِلَّا مُتَـقَنِّعًا يَـرْخَى الثَّوْبَ عَلٰى رَأْسِهٖ حَيَاءًا

অর্থ: হযরত উম্মুল মুমিনীন আছ-ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখনই কোন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হুজরা শরীফ মুবারকে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করতেন। তখন তিনি উনার পাগড়ী মুবারক উনার উপর রুমাল মুবারক পরিধান করে, নূরুল হুদা মুবারক ঢেকে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করতেন। (মুসনাদে হযরত আয়িশা, হাশিয়ায়ে আবূ দাউদ শরীফ)

উপরোল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত تَـقَنُّعٌ শব্দের অর্থ প্রসংগে বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল ক্বারী ইত্যাদি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার গ্রন্থ সমূহে উল্লেখ রয়েছে যে,

وَضْعُ شَيْئِ الزَّائِدِ عَلَى الرَّأْسِ فَـوْقَ الْعِمَامَةِ

অর্থ:- মাথায় ব্যবহৃত পাগড়ীর উপর পরিহিত অতিরিক্ত একটি কাপড় অর্থাৎ রুমালকে তাক্বান্নু’ বলা হয়।

 

পাগড়ী পরিধান করা পবিত্র সুন্নত:

সর্বদা পাগড়ী পরিধান করা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। পাগড়ী সূতি কাপড়ের হওয়া, সাদা, কালো, সবূজ রংয়ের হওয়া এবং অবস্থাভেদে তিন হাত, সাত হাত ও বার হাত বিশিষ্ট হওয়াও খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।

عَنْ حَضْرَتْ رُكَانَةَ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبىِّ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا فَـرْقُ بَـيْـنَـنَا وَبَيْنَ الْمُشْرِكِيْنَ الْعَمَائِمُ عَلَى الْقَلَانِسِ

অর্থ: হযরত রুকানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পাগড়ী মুবারক পরিধান করার ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে এবং মুশরিকদের মধ্যে পার্থক্য হলো আমরা টুপির উপর পাগড়ী পরিধান করি আর মুশরিকরা টুপি ছাড়া পাগড়ী পরিধান করে। (তিরমিযী শরীফ)

وَكَانَ عِمَامَتُهٗ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ اَكْثَرِ الْاَحْيَانِ ثَـلَثَةَ اَذْرُعٍ شَرْعِيَّةٍ وَفِى الصَّلٰوةِ الْخَمْسِ سَبْـعَةَ اَذْرُعٍ وَالْـجَمْعِ وَالْاَعْيَادِ وَحِيْنَ الْوُفُـوْدِ اِثْـنَا عَشَرَ ذِرَاعًا ـ

অর্থ: মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অধিকাংশ সময় হুজরা শরীফ মুবারকে অবস্থানকালীন সময়ে তিন হাত বিশিষ্ট পাগড়ী মুবারক পরিধান করতেন। পবিত্র পাঁচ ওয়াক্ত ছলাত উনাতে তিনি সাত হাত বিশিষ্ট পাগড়ী মুবারক পরিধান করতেন। পবিত্র ছলাতুল জুমুয়া’হ, পবিত্র ছলাতুল ঈদাইন উনাতে এবং দূর থেকে কোন প্রতিনিধি আগমন করলে তখন তিনি বার হাত বিশিষ্ট পাগড়ী মুবারক পরিধান করতেন। (উরফুশ শাযী হাশিয়ায়ে তিরমিযী, ত্ববারানী শরীফ, আনওয়ারুল মাহমূদ)

عَنْ سَلْمَانَ بْنِ اَبِىْ عَبْدِ اللّٰهِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ اَدْرَكْتُ الْمُهَاجِرِيْنَ الْاَوَّلِيْنَ يَـعْتَمُّوْنَ بِعَمَائِمَ كَرَابِيْسَ بِيْضٍ وَخُضْرٍ وَسُوْدٍ

অর্থ: হযরত সালমান ইবনে আবূ আব্দূল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি প্রথম হিযরতকারী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মাথা মুবারকে দেখতে পেয়েছি যে, উনারা সাদা, কালো এবং সবূজ রংয়ের পাগড়ী মুবারক পরিধান করেছেন। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮ম খণ্ড)

عَنْ جَعْفَرَ بْنِ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْـبَرِ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ قَدْ أَرْخَى طَرَفَـيْـهَا بَيْنَ كَتِفَيْهِ

অর্থ: হযরত জা’ফর বিন আমর বিন শুয়াইব বিন হুরাইছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু ওয়া আনহুম তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, উনার পিতা বলেন, আমি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত কালো পাগড়ী মুবারক পরিহিত অবস্থায় মিম্বর শরীফে উপবেশন অবস্থায় দেখতে পেয়েছি। যার শিমলা মুবারক ছিল দু’কাধ মুবারক উনার মাঝখানে। (মুসলিম শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, আল-আদাবু লিল-বাইহাক্বী শরীফ পৃ:২০৯)

 

টুপি পরিধান করা পবিত্র সুন্নত:

 

টুপি সাদা হওয়া, গোল হওয়া, চার টুকড়া বিশিষ্ট হওয়া এবং চার টুকড়া বিশিষ্ট টুপির মাথার উপরের দিকে এক টুকড়ার মাধ্যমে মাথার সাথে মিলিত থাকা ও মাথা থেকে উঁচু না হওয়া, এবং সূতি কাপড়ের হওয়া ইত্যাদি খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْهُ اَنَّهٗ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـلْبَسُ الْقَلَانِسَ تَحْتَ الْعَمَائِمِ وَبِغَيْرِ الْعَمَائِمِ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি টুপি মুবারক উনার উপরে পাগড়ী মুবারক পরিধান করেছেন। আবার পাগড়ী মুবারক ব্যতিত শুধু টুপি মুবারকও পরিধান করেছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ ৮ম খণ্ড, আজ ফাজরুস সাত্বি’ তুহফাতুল আহওয়াজী ৫/৪৮৩, আত তাইসীরু বি শরহি জামিয়িছ ছগীর ২/২৮৪)

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْـقَةِ عَلَيْـهَا السَّلَامُ قَالَتْ كَانَتْ لَهٗ كُمَّةٌ بَـيْضَاءُ

অর্থ: হযরত উম্মুল মুমিনীন আছ-ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে টুপি মুবারক পরিধান করতেন তা ছিল গোল এবং সাদা। (আদ-দিমইয়াত্বী, মাওয়াহিবুল্লাদুন্নিয়া লিল ক্বুস্তুলানী, শরহু মাওয়াহিবুল লিয যুরকানী)

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ ابْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُ كُمَّةً بَـيْضَاءَ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে টুপি মুবারক পরিধান করতেন তা ছিল গোল এবং সাদা। (আল মু’জামুল আওসাত্ব ৬/২০০, মাজমাউয যাওয়ায়িদ লিল হাইছামী ৫/১২১)

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْـقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ كَانَ علٰى رَسُوْلِ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُ كُمَّةً بَـيْضَاءَ لَاطِئَةً

অর্থ: হযরত উম্মুল মুমিনীন আছ-ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে টুপি মুবারক পরিধান করতেন তা ছিল গোল, সাদা এবং উপরের দিকে মাথা সংলগ্ন। (আল-জামিউস সগীর লিস-সুয়ূত্বী)

অসমাপ্ত-

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৪তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া   (১৭)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- ৪৫তম পরব

হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৮)