মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৯তম পর্ব)

সংখ্যা: ২৮৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

(৩৪তম ফতওয়া হিসেবে)

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

পূর্ব প্রকাশিতের পর

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জুমাদাল ঊলা শরীফ মাসে প্রকাশিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফসমূহ

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ তারীখ মুবারক- ৬টি, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ- ৯টি।

৪. (ঘ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ:

সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক- সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম। উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান- বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান- সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ ইত্যাদি উনার বিশেষ লক্বব মুবারক উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! তিনি সকলের মাঝে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম হিসিবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত এবং রিসালাত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার ৫ম বছরের কথা। মুশরিকরা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের উপর যুলুমের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাদের অভিপ্রায় ছিলো এর মাধ্যমে সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। না‘ঊযুবিল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিছু সংখ্যক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে হাবশায় (আবিসিনিয়ায়) হিজরত মুবারক করার অনুমতি মুবারক দেন। তখন একদল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা হাবশায় সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

এটি ছিলো সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রথম হিজরত মুবারক। আর সম্মানিত মুসলমান উনাদের মধ্যে প্রথমে যাঁরা সম্মানিত হিজরত মুবারক-এ বের হন, উনারা হলেন বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা। সুবহানাল্লাহ! উনাদের সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম তিনিসহ আরো অনেকেই ছিলেন। তবে ঐ সম্মানিত কাফেলা মুবারক-এ মোট কতজন সদস্য ছিলেন, এই বিষয়ে অনেক ইখতিলাফ রয়েছে। যেমন, ১০ জন, ১২ জন, ১৪ জন, ১৫ জন, ১৬ জন, ১৭ জন এরূপ বিভিন্ন জন বিভিন্ন মত পেশ করেছেন।

মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লøাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত ইখতিলাফ মিটিয়ে দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন- “আসলে উনারা রওয়ানা মুবারক হওয়ার সময় ১০ জনই ছিলেন। পথে আরো অনেকেই সংযুক্ত হয়েছেন। পথে সংযুক্ত হওয়ার পর বর্ণনাকারীগণ যিনি যতজন দেখেছেন, তিনি ততজনের বর্ণনা দিয়েছেন। সর্বশেষ ১৭ জন হয়েছিলেন। অর্থাৎ ১০ জন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ১৭ জন হয়েছিলেন।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ইরাদা (ইচ্ছা) মুবারক অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রিসালাত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার ৫ম বৎসরের সম্মানিত রজবুল হারাম শরীফ মাসে বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা হাবশার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। উনাদের সম্মানিত কাফেলা মুবারক দীর্ঘ এক মাস পর সম্মানিত শা’বান শরীফ মাসে হাবশায় যেয়ে পৌঁছেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা সেখানে যেয়ে নিরাপদে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগী করতে থাকেন এবং তা’লীম-তালক্বীন ও সম্মানিত ছোহবত মুবারক দানের মাধ্যমে লোকদেরকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দিকে আহ্বান করতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! উনাদের আহ্বানে বহু লোক সম্মানিত ঈমান এনে মুসলমান হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ!

এভাবে বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত তা’লীম-তালক্বীন ও সম্মানিত ছোহবত মুবারক উনার মাধ্যমে হাবশার যমীনে অর্থাৎ অনারবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার আলো ছড়িয়ে পড়ে। সুবহানাল্লাহ! আর তার পাশাপাশি হাবশাসহ সমগ্র অনারব রহমত, বরকত, ছাকীনাহ ও নিয়ামত মুবারক লাভে ধন্য হয়। সুবহানাল্লাহ!

হাবশায় অবস্থানকালে ৬ষ্ঠ বৎসরে অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত এবং রিসালত মুবারক প্রকাশের ১১ তম বছর মুবারক পার হয়ে ১২তম বছর মুবারক উনার শুরুতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৫ই রবী‘উছ ছানী শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার) সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম) তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক অনুযায়ী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুনিয়াত মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! তাই সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহপবিত্র কুনিয়াত মুবারক হচ্ছেন ‘সাইয়িদাতুনা হযরত উম্মু আব্দিল্লাহ আলাইহাস সালাম’ আর সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক হচ্ছেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ আব্দিল্লাহ আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! যখন সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ৫১ তম বছর মুবারক পার হয়ে ৫২ তম বছর মুবারক চলাকালীন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি হাবশায় কিছু সময় সম্মানিত অবস্থান মুবারক করার পর, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ-এ আগমন করেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ-এ কিছু সময় সম্মানিত অবস্থান মুবারক করার পর, তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হিজরত মুবারক করেন। ২য় হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৮ই রমাদ্বান শরীফ লাইলাতুস সাবত শরীফ (শনিবার) রাতের শেষার্ধে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। এরপর তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানাজান নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ-এ বেমেছাল আদর-যতœ ও মুহব্বত মুবারক-এ লালিত-পালিত হতে থাকেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দৌহিত্র সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে বেমেছাল মুহব্বত মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,

فَـبَـلَغَ سِتَّ سِنِيْنَ فَـنَـقَرَهٗ دِيْكٌ فِـىْ عَيْـنَـيْهِ فَمَرِضَ فَمَاتَ

অর্থ: “তিনি যখন ছয় বছর বয়স মুবারক-এ উপনীত হন, তখন উনার উভয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুনাওওয়ার মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দু’চোখ মুবারক-এ) একটি মোরগ ঠোকর দেয়। ফলশ্রুতিতে তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুনাওওয়ার মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চোখ মুবারক) উনার মধ্যে প্রচ- আঘাত মুবারক গ্রহণ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ইহ্সান মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মারিদ্বী শান মুবারক) প্রকাশ করেন। আর এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ইহ্সান মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মারিদ্বী শান মুবারক) প্রকাশ করা অবস্থায়ই তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ!

তিনি কোন হিজরীতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, এই সম্পর্কে অনেক বর্ণনা রয়েছে। তবে মশহূর বর্ণনা হচ্ছেন,

قَالَ حَضْرَتْ اِبْنُ جَرِيْرٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَفِـىْ جُمَادَى الْاُوْلـى مِنْ هذِهِ السَّنَةِ) سَنَةِ اَرْبَعٍ مَاتَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ بْنُ ذِى النُّـوْرَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ)

অর্থ: “হযরত ইবনে জারীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি ৪র্থ হিজরী শরীফ উনার জুমাদাল ঊলা শরীফ মাসে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (বিদায়াহ-নিহায়াহ)

তবে তিনি জুমাদাল ঊলা শরীফ মাসের কত তারিখে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন এই বিষয়ে কিতাবে কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা নেই। এই বিষয়ে মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বামিম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বোত্তম ফায়ছালা মুবারক দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ ইয়াওমুল আরবিয়া’ শরীফ (বুধবার) দুনিয়াবী হিসেবে প্রায় ৬ বৎসর বয়স মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ৬ বছর ১ মাস ১৭ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,

فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَـزَلَ فِـىْ حُفْرَتِهٖ وَالِدُهٗ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ ذُو النُّـوْرَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ)

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জানাযা উনার নামায মুবারক পড়ান এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ-এ অবতরণ করেন অর্থাৎ উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার মধ্যে রাখেন।” সুবহানাল্লাহ!

অপর বর্ণনায় রয়েছেন,

وَدَخَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَـبْـرَهٗ

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার ভিতর প্রবেশ করেন।” সুবহানাল্লাহ!

উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জান্নাতুল বাক্বী’ শরীফ উনার মধ্যে অবস্থিত। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,

وَدَفَـنَهٗ اَبُوْهُ بِالْبَقِيْعِ

অর্থ: “উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পিতা আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জান্নাতুল বাক্বী’ শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দাফন মুবারক করেন অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক করার ব্যবস্থা মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য যে, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার আর কোনো সম্মানিত আওলাদ বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেননি।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে উনার হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক জানার, বুঝার, উপলব্ধি করার, উনার আলোচনা মুবারক করার, উনার হাক্বীক্বী তায়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক, মা’রিফাত-মুহব্বত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি হাছিল করার এবং হাক্বীক্বীভাবে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

অসমাপ্ত- (পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

 

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৩)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫৬

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৮তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১১ম পর্ব)