মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-২৩)

সংখ্যা: ২৮৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

(৩৬তম ফতওয়া হিসেবে)

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খেদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার সম্মানিত আদব মুবারক

২০. সম্মানিত ছলাত আদায় করার উদ্দেশ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ চেয়ার-টেবিল প্রবেশ না করানো:

অপর বর্ণনায় এসেছেন-

عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَمَرَ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَ الْاَكْبَرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَبَا بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ) اَنْ يُّصَلِّىَ بِالنَّاسِ قَالَتْ وَكَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ يَدَىْ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقِ الْاَكْبَرِ عَلَيْهِ السَّلَامُ يُصَلِّىْ قَاعِدًا وَسَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقُ الْاَكْبَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ يُصَلِّىْ بِالنَّاسِ وَالنَّاسُ خَلْفَ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقِ الْاَكْبَرِ عَلَيْهِ السَّلَامُ

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়িদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে সম্মানিত ছলাত আদায় করার জন্য। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়িদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সামনে যমীনে বসে সম্মানিত ছলাত মুবারক আদায় করছিলেন আর সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে সম্মানিত ছলাত আদায় করছিলেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার পিছনে ছিলেন।” (শরহু মুশকিলিল আছার ১০/৪০৪)

অপর বর্ণনায় এসেছেন,

قَالَتْ فَاَمَرُوْا سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَ الْاَكْبَرِ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَبَا بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ) فَلَمَّا دَخَلَ فِـى الصَّلوةِ وَجَدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ نَفْسِهٖ خِفَّةً قَالَتْ فَقَامَ يُهَادى بَيْنَ رَجُلَيْنِ وَرِجْلَاهُ تَخُطَّانِ فِـى الْاَرْضِ قَالَتْ فَلَمَّا دَخَلَ الْمَسْجِدَ سَمِعَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقُ الْاَكْبَرِ عَلَيْهِ السَّلَامُ حِسَّهُ فَذَهَبَ لِيَتَاَخَّرَ فَاَوْمَاَ اِلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنْ قُمْ كَمَا اَنْتَ قَالَتْ فَجَاءَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتّـى قَامَ عَنْ يَّسَارِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقِ الْاَكْبَرِ عَلَيْهِ السَّلَامُ جَالِسًا فَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّىْ بِالنَّاسِ جَالِسًا وَسَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقُ الْاَكْبَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَائِمًا يَقْتَدِىْ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقُ الْاَكْبَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ يَقْتَدُوْنَ بِسَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقِ الْاَكْبَرِ عَلَيْهِ السَّلَامُ

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত ছলাত পড়ানোর জন্য বললেন। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যখন সম্মানিত ছলাত শুরু করলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিছুটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ইস্তাওয়া মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুস্থতা মুবারক) গ্রহন করেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুইজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমা উনাদের উপর ভর দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক) যমীনে লাগা লাগা অবস্থায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্ষীণ শব্দ মুবারক শুনে পিছনে সরে যেতে চাইলেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত ইশারা মুবারক করেন যে, আপনি যেখানে আছেন, সেখানেই থাকুন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার বাম দিকে বসে সম্মানিত ছলাত মুবারক শুরু করলেন। তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে যমীনে বসে সম্মানিত ছলাত মুবারক আদায় করলেন। আর সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি দাঁড়িয়ে (সম্মানিত ছলাত আদায় করলেন)। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছলাত মুবারক উনার ইক্বতিদা করেছেন আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ছলাত উনার ইক্বতিদা করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (আস সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ১/৪৩৮)

সুতরাং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমানিত হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ইহসান মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মারীদ্বী শান মুবারক) প্রকাশ করা অবস্থায় যমীনে বসে সম্মানিত ছলাত মুবারক আদায় করেছেন। অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারাও যমীনে বসে সম্মানিত ছলাত আদায় করেছেন। যেমন- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ حُمَيْدٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ رَاَيْتُ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَ الْاَكْبَرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَبَا بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ) يُصَلِّىْ مُتَرَبِّعًا وَمُتَّكِئًا

অর্থ: “হযরত ইমাম হুমাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে হেলান দেয়া অবস্থায় চারজানু হয়ে যমীনে বসে সম্মানিত ছলাত আদায় করতে দেখেছি।” (কানযুল উম্মাল ৮/২১৬)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ عَمْرِو الْاَنْصَارِىِّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ رَاَيْتُ حَضْرَتْ اَنَسًا رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ يُصَلِّىْ مُتَرَبِّعًا عَلى طَنْفَسَةٍ

অর্থ: “হযরত আমর আনছারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে উনার কম্বলের উপর চার জানু হয়ে যমীনে বসে সম্মানিত ছলাত আদায় করতে দেখেছি।” (আত্ তালখীছুল হাবীব ২/৬৩৯)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ حُمَيْدٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ رَاَيْتُ حَضْرَتْ اَنَسًا رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ يُصَلِّىْ مُتَرَبِّعًا عَلى فِرَاشِهٖ

অর্থ: “হযরত ইমাম হুমাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) আমি হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে উনার বিছানায় চার জানু হয়ে (বসে) সম্মানিত ছলাত আদায় করতে দেখেছি।” (আত্ তালখীছুল হাবীর ২/৬৩৯)

অপর বর্ণনায় রয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ نَافِعٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ مَا رَاَيْتُ حَضْرَتْ اِبْنَ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ يُصَلِّىْ جَالِسًا اِلَّا مِنْ مَّرَضٍ

অর্থ: “হযরত ইমাম নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে আমি অসুস্থতা ব্যতীত কখনো বসে সম্মানিত ছলাত আদায় করতে দেখিনি। অর্থাৎ অসুস্থতার সময় উনাকে যমীনে বসে সম্মানিত ছলাত আদায় করতে দেখেছি।” (মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ্ ১/৪০০)

কাজেই, কেউ যদি দাঁড়িয়ে সম্মানিত ছলাত আদায় করতে অক্ষম হয়, তাহলে তাকে যমীনে বসে সম্মানিত ছলাত আদায় করতে হবে। আর স্বাভাবিক তরতীবে যমীনে বসে সম্মানিত ছলাত আদায় করতে অক্ষম হলে চারজানু হয়ে যমীনে বসে সম্মানিত ছলাত আদায় করতে হবে। তারপরেও চেয়ার-টেবিলের সাহায্যে সম্মানিত ছলাত আদায় করা যাবে না। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময়ে বর্তমান যামানার ন্যায় সর্বপ্রকার আসনই ছিল। কিন্তু তিনি তাতে বসে সম্মানিত ছলাত মুবারক আদায় না করে অর্থাৎ তিনি তা ব্যবহার না করে যমীনে বসে সম্মানিত ছলাত মুবারক আদায় করেছেন। আর উনার অনুসরণে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারাও যমীনে বসে সম্মানিত ছলাত আদায় করেছেন।

সুতরাং সম্মানিত ছলাত আদায় করার উদ্দেশ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবত্রি মসজিদ মুবারক উনার মধ্যে চেয়ার-টেবিল প্রবেশ করানো এবং তাতে সম্মানিত ছলাত আদায় করা কোনটিই জায়িয নেই। সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী শরীয়ত অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ্ শরীফ উনাদের খিলাফ বা বিরোধী এবং সুস্পষ্ট বিদআতে সাইয়্যিয়াহ্-এর অন্তর্ভুক্ত। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

كُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِـى النَّارِ

 অর্থ: “প্রতিটি বিদআতে সাইয়্যিয়াহ্-ই গোমরাহী। আর গোমরাহীর অনুসারী প্রত্যেকেই জাহান্নামী।” (আস সিরাজুল মুনীর, নাযমুদ্ দুরার, আল ইত্হাফাত, আত্ তাওদ্বীহ্ লি ইবনে মুলক্বিন, শরহে ইবনে বাত্বাল, আল মাদখাল লি ইবনিল হাজ্জ, যাখাইরুল উক্ববাহ্ ইত্যাদি)

বিশেষ করে সম্মানিত ছলাত উনার উদ্দেশ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মধ্যে চেয়ার প্রবেশ করালে তা খ্রিষ্টানদের গির্জা এবং ইহুদীদের উপাসনালয়ের সাদৃশ্য হয়ে যায়। তারা গির্জায় ও উপাসনালয়ে চেয়ারে ও বেঞ্চে বসে পা নিচুতে রেখে উপাসনা করে।

আর ইহুদী-খ্রিষ্টানসহ তাবৎ বিধর্মীদের অনুসরণ করা মুসলমানদের জন্য জায়িয নেই। কেননা, যিনি খ্বালিকমালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَلَا تُطِعِ الْكفِرِيْنَ وَالْمُنفِقِيْنَ

অর্থ: “তোমরা কাফির এবং মুনাফিক্বদেরকে অনুসরণ করো না।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৮)

আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ

 অর্থ: “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি যেই সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য বা মিল রাখবে, অনুসরণ-অনুকরণ করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত হবে। অর্থাৎ তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ, মুসনাদে বাযযার, আল মু’জামুল আওসাত্ব, মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ اَبِيْهِ عَنْ جَدِّهٖ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا

অর্থ: “হযরত ‘আমর বিন শু‘য়াইব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সম্মানিত পিতা উনার থেকে এবং তিনি উনার সম্মানিত দাদা (হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি বিজাতীয়দের সাথে সাদৃশ্য রাখে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

অতএব, কোন অবস্থাতেই সম্মানিত ছলাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ চেয়ার-টেবিল ইত্যাদি প্রবেশ করানো যাবে না। করালে সেটা বিধর্মীদের সাথে তাশাব্বুহ বা সাদৃশ্য হওয়ার কারণে কুফরী হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ!

এছাড়াও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ব্যতীত অন্য স্থানে চেয়ার-টেবিল বা টুলে বসে সম্মানিত ছলাত আদায় করা জায়িয নেই। তা সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী শরীয়ত অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ বা বিরোধী হওয়ার কারণে তা সুস্পষ্ট বিদআতে সাইয়্যিআহ্-এর অন্তর্ভুক্ত। আর প্রত্যেক বিদয়াতে সাইয়্যিআহ্-ই গুমরাহী এবং এর অনুসরণকারীরা গুমরাহ বা পথভ্রষ্ট এবং জাহান্নামী। না‘ঊযুবিল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি সবাইকে ছহীহ সমঝ দান করুন এবং দায়িমীভাবে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী শরীয়ত অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের উপর আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৩)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫৬

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৮তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১১ম পর্ব)