মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (২৪তম পর্ব)

সংখ্যা: ২৮৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য এবং অশেষ-অসীম সম্মানিত ছলাত ও সালাম মুবারক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ। মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খাছ রহমত, বরকত, সাকীনাহ, দয়া-দান, ইহসান মুবারক উনাদের কারণে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগ উনার তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের অকাট্ট দলীলের আলোকে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩.নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬.মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯.ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গেঁাফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪.প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন উনার শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে র্ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮.নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০.শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা) ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) ২২.হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪.হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)  ২৭. ইসলামের নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি অঁাকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-২৩৭), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২০৩তম সংখ্যা), ৩২. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে “হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়ত উনার নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২১২তম সংখ্যা), ৩৩. “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২২০তম সংখ্যা-চলমান), ৩৪. “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২৩৮-চলমান), ৩৫. “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২৬৪-২৮৬), ৩৬. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২৬৫-চলমান), পেশ করার পাশাপাশি-

 

৩৭তম সম্মানিত ফতওয়া

মুবারক হিসেবে

‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক’ পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

 

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ থেকে দলীল

 

৩ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর বা ব্যাখ্যা:

যিনি খ¦লিক্ব মালিক রব হান  আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اِنَّ الَّذِيْنَ يُـحَآدُّوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ كُبِتُـوْا كَمَا كُبِتَ الَّذِيْنَ مِنْ قَــبْلِهِمْ

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই যারা খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের বিরোধীতা করে, তাদেরকে এমনভাবে ধ্বংস করে দেয়া হবে, যেভাবে তাদের পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিলো।’ সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মুজাদালাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)

কাফির-মুশরিকরা যখন তাদের অবাধ্যতার সীমালঙ্গন করে ফেলেছে, তখনই প্রত্যেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা তাদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বদদো‘আ করেছেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফির-মুশরিকদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন, ধ্বংস করে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার অনেক সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ রয়েছেন। এই বিষয়ে স্বতন্ত্র ও সবিস্তর কিতাব লেখার দাবিদার। কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় নিম্নে নমুনাস্বরূপ কয়েকখানা সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ পেশ করা হলো-

(১)

এ বিষয়টি সকলেরই জানা রয়েছে যে, জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার যামানায় যখন কাফিররা অবাধ্যতার চরম সীমায় অবতীর্ণ হলো, তখন হযরত নূহ আলাইহিস সালাম তিনি কিশতী নির্মাণ করে যারা ঈমানদার উনাদেরকে নিয়ে কিশতীতে আরোহন করলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কাফিরদের বিরুদ্ধে বদদো‘আ করলেন-

وَقَالَ نُـوْحٌ رَّبِّ لَا تَـذَرْ عَلَى الْاَرْضِ مِنَ الْكٰـفِرِيْنَ دَيَّـارًا. اِنَّـكَ اِنْ تَذَرْهُمْ يُضِلُّوْا عِبَادَكَ وَلَا يَـلِدُوْاۤ اِلَّا فَاجِرًا كَفَّارًا

অর্থ: “আর হযরত নূহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আয় বারে এলাহী, মহান আল্লাহ পাক! আপনি পৃথিবীর বুকে কোনো কাফির গৃহবাসীকে রেহাই দিবেন না। (আপনি সবাইকে ধ্বংস করে দিন।) যদি আপনি তাদেরকে রেহাই দেন, তবে তারা আপনার বান্দাদেরকে গোমরাহ্ করে ফেলবে এবং তারা একমাত্র পাপীষ্ঠ কাফির জন্ম দিবে।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূহ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬-২৭)

তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে যেই ৭২ থেকে ৮২ জন ঈমানদার কিশতীতে উঠেছিলেন, উনারা ব্যতীত পৃথিবীর সমস্ত কাফিরদেরকে খোদায়ী গযব বন্যা দ্বারা নিশ্চিহ্ন করে দেন। সুবহানাল্লাহ!

(২)

হযরত হূদ আলাইহিস সালাম উনার যামানায় যখন আদ জাতি অবাধ্যতার চরম সীমায় উপনীত হলো, তখন হযরত হূদ আলাইহিস সালাম তিনি আদ জাতির বিরুদ্ধে বদদো‘আ করলেন,

قَالَ رَبِّ انْصُرْنِــىْ بِـمَا كَذَّبُـوْنِ. قَالَ عَمَّا قَلِـيْلٍ لَّـيُصْبِحُنَّ نٰدِمِيْـنَ. فَاَخَذَتْـهُمُ الصَّـيْحَةُ بِالْـحَقِّ فَجَعَلْـنٰـهُمْ غُـثَـآءً فَــبُـعْدًا لِّـلْـقَوْمِ الظّٰـلِمِيْـنَ

অর্থ: “তিনি বললেন, আয় বারে এলাহী, মহান আল্লাহ পাক! আপনি আমাকে সাহায্য করুন। কারণ তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, অচিরেই তারা অবশ্যই অনুতপ্ত হবে। অতঃপর সত্যি সত্যিই এক ভয়ঙ্কর শব্দ, এক বিকট আওয়াজ তাদেরকে আঘাত করলো। আর আমি তাদেরকে তরঙ্গ-তাড়িত আবর্জনায় পরিণত করে দিলাম। ফলে যালিম সম্প্রদায় ধ্বংস হয়ে গেলো।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মু’মিনূন শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৯-৪১)

(৩)

হযরত ছালিহ্ আলাইহিস সালাম উনার যামানায় ছামূদ জাতি যখন অবাধ্যতার চরম সীমায় উপনীত হলো, তখন হযরত ছালিহ্ আলাইহিস সালাম তিনিও তাদের বিরুদ্ধে বদদো‘আ করেন। তিনি বলেন,

وَيٰـقَوْمِ هٰذهٖ نَاقَةُ اللهِ لَكُمْ اٰيَـةً فَذَرُوْهَا تَـاْكُلْ فِـىْ اَرْضِ اللهِ وَلَا تَـمَسُّوْهَا بِسُوْءٍ فَــيَاْخُذَكُمْ عَذَابٌ قَرِيْبٌ. فَـعَـقَـرُوْهَا فَـقَالَ تَـمَـتَّـعُوْا فِـىْ دَارِكُمْ ثَـلٰثَةَ اَيَّامٍ ذٰلِكَ وَعْدٌ غَيْـرُ مَكْذُوْبٍ. فَـلَمَّا جَآءَ اَمْرُنَا نَـجَّيْـنَا صٰلِـحًا وَّالَّذِيْنَ اٰمَـنُـوْا مَعَهٗ بِرَحْـمَةٍ مِّـنَّا وَمِنْ خِزْىِ يَـوْمِئِذٍ اِنَّ رَبَّكَ هُوَ الْقَوِىُّ الْعَزِيْـزُ. وَاَخَذَ الَّذِيْنَ ظَـلَمُوْا الصَّـيْحَةُ فَاَصْـبَحُوْا فِـىْ دِيَـارِهِمْ جٰـثِـمِيْـنَ.كَاَنْ لَّـمْ يَـغْـنَـوْا فِـيْـهَا. اَلَاۤ اِنَّ ثَـمُوْدَ كَـفَرُوْا رَبَّـهُمْ اَلَا بُـعْدًا لِّـثَمُوْدَ

অর্থ: “আর হে আমার ক্বওম! মহান আল্লাহ পাক উনার এ উষ্ট্রীটি তোমাদের জন্য নিদর্শন মুবারক স্বরূপ। অতএব তাকে মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনে বিচরণ করে খেতে দাও। আর তাকে খারাপ উদ্দেশ্যে অর্থাৎ ক্ষতি করার জন্য স্পর্শও করবে না। তাহলে অতিসত্বর তোমাদেরকে আযাব-গযব পাকড়াও করবে। তবুও তারা তার পা কেটে দিলো। না‘ঊযুবিল্লাহ! তখন হযরত ছালেহ্ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তোমরা নিজেদের গৃহে তিনটি দিন উপভোগ করে নাও। ইহা এমন ওয়াদা যা অবশ্যই সত্য হবে। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর আমার আযাব যখন উপস্থিত হলো, তখন আমি হযরত ছালেহ্ আলাইহিস সালাম উনাকে এবং উনার সাথে যাঁরা ঈমানদার ছিলেন উনাদেরকে আমার সম্মানিত রহমত মুবারক দ্বারা উদ্ধার করি এবং সেদিনকার অপমান হতে রক্ষা করি। নিশ্চয়ই আপনার রব তা‘য়ালা তিনি সর্বশক্তিমান পরাক্রমশালী। সুবহানাল্লাহ! আর ভয়ঙ্কর গর্জন পাপিষ্ঠদের পাকড়াও করলো, ফলে ভোর হতে না হতেই তারা নিজ নিজ গৃহসমূহে উপুর হয়ে পড়ে রইল। (এমনভাবে ধ্বংস হয়ে গেলো, নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো) যেন তারা কোনোদিনই সেখানে ছিল না। সাবধান! নিশ্চয়ই ছামূদ জাতি তাদের রব তা‘য়ালা উনাকে অস্বীকার করেছিল। সাবধান! ছামূদ জাতির জন্য অভিশাপ রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হূদ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৪-৬৮)

(অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

 

 

 

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৩)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫৬

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৮তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১১ম পর্ব)