মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

সংখ্যা: ২৮৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৪তম ফতওয়া হিসেবে

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরকী ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের অকাট্ট দলীলের আলোকে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুহব্বত-মা’রিফত, নিসবত-ক্বুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের সর্বোত্তম ওসীলা মুবারক এবং মানুষের সম্মানিত আক্বীদাহ এবং আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক। সুবহানাল্লাহ!

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে সম্মানিত মুসলমান উনাদের সম্মানিত ঈমান এবং সম্মানিত আমল উনাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো “উলামায়ে সূ”। ইহুদীদের এজেন্ট উলামায়ে ‘সূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে সম্মানিত মুসলমান উনাদের বিশেষ বিশেষ ফযীলতযুক্ত আমলের রাত ও দিন মুবারকসমূহ পালন করাকে বিদয়াত, নাজায়িয ও শিরক বলে ফতওয়া দিয়ে সম্মানিত মুসলমান উনাদেরকে অশেষ খায়ের, বরকত, নিয়ামত, নাজাত অর্থাৎ রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক থেকে মাহরূম করছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! যেমন তারা বলে থাকে যে, সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত, শিরক। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ পালন করা বিদয়াত। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! সম্মানিত ও পবিত্র শবে বরাত পালন করা বিদয়াত, নাজায়িয। না‘ঊযুবিল্লাহ! অনুরূপ আরো অনেক বিষয়কেই তারা বিনা দলীলে মনগড়াভাবে নাজায়িয ও বিদয়াত বলে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ!

অপরদিকে বেদ্বীনী-বদদ্বীনী অর্থাৎ কাফির মুশরিক, ইহুদী, নাছারাদের যত পর্ব বা দিবস রয়েছে সেগুলোকে শুধু জায়িযই নয় বরং নি‘য়ামত বলে আখ্যা দিয়ে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! যেমন বাইতুল মুকাররমের সাবেক খতীব ওবায়দুল হক্ব প্রকৃতপক্ষে খবীছ উবাই বলেছিল, “পহেলা বৈশাখ মহান আল্লাহ পাক উনার নি‘য়ামত।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!

তাদের উপরোক্ত বক্তব্য চরম বিভ্রান্তিকর, সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কুফরীমূলক। তাদের এসব বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত এবং আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত শিরক এবং পহেলা বৈশাখ মহান আল্লাহ পাক উনার নি‘য়ামত।” নাউযুল্লিাহ! তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হালাল বা জায়িয বিষয়কে হারাম বা নাজায়িয বলা এবং হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। এ সম্পর্কে কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

اِسْتِحْلَالُ الْـمَعْصِيَةِ كُفْرٌ

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে ‘সূ’দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমান উনাদের সম্মানিত আক্বীদাহ্ মুবারক ও সম্মানিত ঈমান উনাদের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ উলামায়ে ‘সূ’দের এই কুফরীমূলক বক্তব্য সম্মানিত মুসলমান উনাদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা, যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফালইয়াফরহূ শরীফ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা থেকে বিরত থাকবে এবং হারাম পহেলা বৈশাখ পালন করবে” তারা অশেষ খায়ের, বরকত ও নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হওয়ার কারণে কঠিন গুনাহগার অর্থাৎ জাহান্নামী হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ!

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা এবং হক্বপন্থি ও সমঝদার মুসলমানগণ উনারা যেন উনাদের সম্মানিত ঈমান ও সম্মানিত আমল হিফাযত করতে পারেন অর্থাৎ সকল বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ মোতাবেক বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক পোষণ করে এবং সঠিক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী রিযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি” প্রকাশ করা হলো।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন ও সময়ের গুরুত্ব, ফযীলত ও আহকাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফাতাওয়া-

পূর্ব প্রকাশিতের পর

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জুমাদাল ঊলা শরীফ মাসে প্রকাশিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফসমূহ

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ তারীখ মুবারক= ৬টি

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ= ৯টি

৪. গ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ:

সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুন নাস, মালিকু আহলি বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযওয়াজুম মুত্বহ্হারাত আলাইহিন্নাস সালাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম) উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযওয়াজুম মুত্বহ্হারাত (আহলিয়া) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন সর্বমোট ৬ জন। উনাদের মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মোট ১৩ জন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছেলে আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং ৬ জন মেয়ে আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! নিম্নে উনাদের প্রত্যেকের বর্ণনা উল্লেখ করা হলো-

১. সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আমর ইবনে ‘আয়িয আলাইহাস সালাম: উনার ছেলে আওলাদ ছিলেন ৪ জন এবং মেয়ে আওলাদ ছিলেন ৫ জন। ছেলে আওলাদ উনারা হলেন-

১. আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম,

২. সাইয়্যিদুনা হযরত যুবাইর আলাইহিস সালাম,

৩. সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল কা’বাহ্ আলাইহিস সালাম এবং

৪. খাজা আবূ ত্বালিব।

মেয়ে আওলাদ উনারা হলেন-

১. সাইয়্যিদাতুনা হযরত ‘আতিকাহ্ আলাইহাস সালাম,

২. সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমাইমাহ্ আলাইহাস সালাম,

৩. সাইয়্যিদাতুনা হযরত বাইদ্বা’ আলাইহাস সালাম,

৪. সাইয়্যিদাতুনা হযরত র্বারাহ আলাইহাস সালাম এবং

৫. সাইয়্যিদাতুনা হযরত আরওয়া আলাইহাস সালাম।

২. সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছফিয়্যাহ বিনতে জুনদুব আলাইহাস সালাম: উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক সাইয়্যিদাতুনা হযরত ক্বাইলাহ্ আলাইহাস সালাম। উনার ছেলে আওলাদ ২ জন-

১. সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম এবং

২. সাইয়্যিদুনা হযরত কুছাম আলাইহিস সালাম।

৩. সাইয়্যিদাতুনা হযরত হালাহ বিনতে ওয়াহাইব আলাইহাস সালাম। তিনি ছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আপন চাচাতো বোন। উনার ছেলে আওলাদ ছিলেন ৩ জন এবং মেয়ে আওলাদ ছিলেন ১ জন। ছেলে আওলাদ উনারা হলেন-

১. সাইয়্যিদুনা হযরত মুক্বওওইম আলাইহিস সালাম,

২. সাইয়্যিদুনা হযরত হাজ্ল আলাইহিস সালাম এবং

৩. সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদুশ্ শুহাদা আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত হামযাহ্ আলাইহিস সালাম)।

মেয়ে আওলাদ হলেন- ১. সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছফিয়্যাহ আলাইহাস সালাম।

৪. সাইয়্যিদাতুনা হযরত নুতাইলাহ্ বিনতে জানাব আলাইহাস সালাম :

উনার ছেলে আওলাদ ২ জন-

১. সাইয়্যিদুনা হযরত দ্বিরার আলাইহিস সালাম এবং

২. সাইয়্যিদুনা হযরত খ্বাতিমুল মুহাজিরীন আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম)।

৫. সাইয়্যিদাতুনা হযরত লুব্না বিনতে হাজার আলাইহাস সালাম :

উনার ছেলে আওলাদ ১ জন-

১. আবূ লাহাব।

৬. সাইয়্যিদাতুনা হযরত মুমান্না‘আহ্ বিনতে ‘আমর আলাইহাস সালাম:

উনার ছেলে আওলাদ ১ জন-

১. সাইয়্যিদুনা হযরত গাইদাক্ব আলাইহিস সালাম।

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আ’মাম (চাচা) আলাইহিমুস সালাম উনারা ছিলেন মোট ১২ জন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আম্মাত (ফুফু) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন মোট ৬ জন অর্থাৎ আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনিসহ উনারা ছিলেন মোট ১৩ ভাই এবং ৬ বোন। সুবহানাল্লাহ!

সিক্বায়াহ্ ও রিফাদাহ্-এর দায়িত্ব গ্রহণ:

‘সীরাতে ইবনে হিশাম শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

ثُـمَّ وَلِـىَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ جَدُّ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ بْنُ هَاشِمٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ) اَلسِّقَايَةَ وَالرِّفَادَةَ بَعْدَ عَمِّهٖ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْمُطَّلِبِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَاَقَامَهَا لِلنَّاسِ وَاَقَامَ لِقَوْمِهٖ مَا كَانَ اٰبَاؤُهٗ يُقِيْمُوْنَ قَبْلَهٗ لِقَوْمِهِمْ مِنْ اَمْرِهِمْ وَشَرُفَ فِـىْ قَوْمِهٖ شَرَفًا لَّـمْ يَبْلُغْهٗ اَحَدٌ مِّنْ اٰبَائِهٖ

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত চাচা সাইয়্যিদুনা হযরত মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘সিক্বায়াহ্ ও রিফাদাহ্’ তথা হাজীদের পানি পান করানো ও খাদ্য খাওয়ানোর দায়িত্ব মুবারক গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ন্যায় ক্বাওমের যাবতীয় দায়িত্ব সুচারুরূপে আনজাম মুবারক দেন এবং সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তি ও মর্যাদায় তিনি উনার পূর্বসূরী উনাদেরকে ছাড়িয়ে যান।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে হিশাম)

কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় খুছূছিয়াত মুবারক:

হযরত শায়েখ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত ‘মাদারিজুন নুবুওয়াত শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন, “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক) থেকে সবসময় মেশক ও আম্বরের সুগন্ধি মুবারক বের হতেন।” সুবহানাল্লাহ!

‘মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,

وَكَانَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ جَدُّ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفُوْحُ مِنْهُ رَائِحَةَ الْمِسْكِ الْاَذْفَرِ

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক) থেকে মেশকের প্রবল সুগন্ধি মুবারক বিচ্ছুরিত হতেন।” সুবহানাল্লাহ!

‘শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,

وَكَانَتْ قُرَيْشٌ اِذَا اَصَابَهَا قَحْطٌ شَدِيْدٌ تَاْخُذُ بِيَدِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ جَدِّ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَخْرُجُ بِهٖ اِلـٰى جَبَلٍ ثَبِيْرٍ فَيَتَقَرَّبُوْنَ بِهٖ اِلَـى اللهِ وَيَسْاَلُوْنَهٗ اَنْ يَّسْقِيَهُمُ الْغَيْثَ فَكَانَ يُغِيْثُهُمْ وَيَسْقِيْهِمْ بِبَرَكَةِ نُوْرِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيْثًا عَظِيْمًا

অর্থ: “কুরাইশরা যখন কঠিন দুর্ভিক্ষে পড়তো, তখন তারা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক) ধরে (অত্যন্ত সম্মানের সাথে) উনাকে ছাবীর পাহাড়ে নিয়ে যেতো এবং উনার মহাসম্মানিত উসীলা মুবারক দিয়ে তারা মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য কামনা করতো এবং বৃষ্টি প্রার্থনা করতো। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার বরকত মুবারক-এ তাদেরকে প্রচুর বৃষ্টি দান করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব শরীফ)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

وَيَقُوْلُ الشَّهْرَسْتَانِـىُّ ظَهَرَ نُوْرُ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِـىْ اَسَارِيْرِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ جَدِّ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْضَ الظُّهُوْرِ وَبِبَرَكَةِ ذٰلِكَ النُّوْرِ أُلْهِمَ النَّذْرُ فِـىْ ذَبْحِ وَلَدِهٖ وَبِبَرَكَتِهٖ كَانَ يَاْمُرُ وَلَدَهٗ بِتَرْكِ الظُّلْمِ وَالْبَغْىِ وَيَـحُثُّهُمْ عَلـٰى مَكَارِمِ الْاَخْلَاقِ وَيَنْهَاهُمْ عَنْ دُنْيَاتِ الْاُمُوْرِ وَبِبَرَكَةِ ذٰلِكَ النُّوْرِ كَانَ يَقُوْلُ فِـىْ وَصَايَاهُ اِنَّهٗ لَنْ يَّـخْرُجَ مِنَ الدُّنْيَا ظُلُوْمٌ حَتّٰـى يَنْتَقِمَ مِنْهُ

 অর্থ: “হযরত ইমাম শাহরাস্তানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মালাহাত মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কপাল মুবারক-এ) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষভাবে প্রকাশিত হতেন। সুবহানাল্লাহ! এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকত মুবারক-এ সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক করার মান্নত করার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! আর এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকত মুবারকেই সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যুলুম, অন্যায় ও অত্যাচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ মুবারক দিতেন এবং উত্তম চরিত্র মুবারক গ্রহণের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন, উনাদেরকে নিম্নে ও নিকৃষ্ট কাজ থেকে বিরত রাখতেন। এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতেই তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত বা উপদেশ মুবারক-এ বলতেন, দুনিয়ার যমীন থেকে কখনও যুলুম-নির্যাতন, অত্যাচার-অবিচার দূর হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এর জন্য শাস্তি দেয়া না হবে।” (আস সীরাতুন নুবুওওয়াহ)

‘শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,

وَلَمَّا جَعَلَهُ اللهُ فِيْهِ مِنْ مُـخَالَفَةٍ مَّا كَانَ عَلَيْهِ الْـجَاهِلِيَّةُ بِاِلْـهَامٍ مِّنَ اللهِ وَكَانَ يَاْمُرُ اَوْلَادَهٗ بِتَرْكِ الظُّلْمِ وَالْبَغْىِ وَيَـحُثُّهُمْ عَلـٰى مَكَارِمِ الْاَخْلَاقِ وَيَنْهَاهُمْ عَنْ دُنْيَاتِ الْاُمُوْرِ وَيُؤْثَرُ عَنْهُ سُنَنٌ جَاءَ بِهَا الْقُرْاٰنُ وَالسُّنَّةُ كَالْوَفَاءِ بِالنَّذْرِ وَالْمَنْعِ مِنْ نِّكَاحِ الْمَحَارِمِ وَقَطْعِ يَدِ السَّارِقِ وَالنَّهْىِ عَنْ قَتْلِ الْمَوْءُوْدَةِ وَتَحْرِيْمِ الْخَمْرِ وَالزِّنَا وَاَنْ لَّا يَطُوْفَ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইত্ত্বিলা’ মুবারক তথা কুদরতী ইলিম মুবারক দ্বারা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জাহিলিয়াতের যুগে আলাদাভাবে বেশিষ্ট্য মণ্ডিত করেছেন। তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যুলুম, অন্যায় ও অত্যাচার থেকে বিরত থাকার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিতেন এবং উত্তম চরিত্র মুবারক গ্রহণের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন, উনাদেরকে নিম্নে ও নিকৃষ্ট কাজ থেকে বিরত রাখতেন। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বারা যেই সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাত বা বিধান মুবারকসমূহ শুরু হয়েছেন, তার অধিকাংশগুলো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যে এসেছেন। তারমধ্যে কতিপয় হচ্ছেন, ১. মান্নত পূর্ণ করা, ২. মাহরামদের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ, ৩. চোরের হাত কাটা, ৪. কন্যা সন্তান হত্যা নিষিদ্ধ, ৫-৬. মদ ও ব্যভিচার হারাম করণ, ৭. বিবস্ত্র ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ) তাওয়াফ না করা ইত্যাদি।” সুবহানাল্লাহ! (শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

وَتُؤْثَرُ عَنْهُ سُنَنٌ جَاءَ الْقُرْاٰنُ بِاَكْثَرِهَا وَجَاءَتِ السُّنَّةُ بِهَا مِنْهَا اَلْوَفَاءُ بِالنَّذْرِ وَالْمَنْعُ مِنْ نِّكَاحِ الْمَحَارِمِ وَقَطْعُ يَدِ السَّارِقِ وَالنَّهْىُ عَنْ قَتْلِ الْمَوْءُوْدَةِ وَتَحْرِيْمُ الْخَمْرِ وَالزِّنَا وَاَنْ لَّا يَطُوْفَ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বারা যেই সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাত বা বিধান মুবারকসমূহ শুরু হয়েছেন, তার অধিকাংশগুলোই (পরবর্তীতে) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যে এসেছেন তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে সেগুলো জারী রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! (অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা সাইয়্যিদুনা জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জারীকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাত বা বিধান মুবারকসমূহ অত্যন্ত বেমেছালভাবে ক্ববূল করেছেন। সুবহানাল্লাহ!) তারমধ্যে কতিপয় হচ্ছেন, ১. মান্নত পূর্ণ করা, ২. মাহরামদের (যেমন- বোন, ফুফু, খালা উনাদের) সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ, ৩. চোরের হাত কাটা, ৪. কন্যা সন্তান হত্যা নিষিদ্ধ, ৫-৬. মদ ও ব্যভিচার হারাম করণ, ৭. বিবস্ত্র ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ) তাওয়াফ না করা।” (আস সীরাতুল হালবিয়্যাহ শরীফ ১/৭)

‘আস সীরাতুল হালবিয়্যাহ শরীফ’ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

وَكَانَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ جَدُّ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَاْمُرُ اَوْلَادَهٗ بِتَرْكِ الظُّلْمِ وَالْبَغْىِ وَيَحُثُّهُمْ عَلـٰى مَكَارِمِ الْاَخْلَاقِ وَيَنْهَاهُمْ عَنْ دُنْيَاتِ الْاُمُوْرِ

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যুলুম, অন্যায় ও অত্যাচার থেকে বিরত থাকার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিতেন এবং উত্তম চরিত্র মুবারক গ্রহণের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন, উনাদেরকে নিম্নে ও নিকৃষ্ট কাজ থেকে বিরত রাখতেন।” সুবহানাল্লাহ! (আস সীরাতুল হালবিয়্যাহ শরীফ ১/৭)

‘আস সীরাতুল হালবিয়্যাহ শরীফ’ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

وَكَانَ يَقُوْلُ لَنْ يَّـخْرُجَ مِنَ الدُّنْيَا ظُلُوْمٌ حَتّٰـى يَنْتَقِمَ مِنْهُ

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলতেন, দুনিয়ার যমীন থেকে কখনও যুলুম-নির্যাতন, অত্যাচার-অবিচার দূর হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এর জন্য শাস্তি দেয়া না হবে।” (আস সীরাতুল হালবিয়্যাহ শরীফ ১/৭)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

وَهُوَ اَوَّلُ مَنْ طَلَى الْكَعْبَةَ بِالذَّهَبِ

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক যিনি সর্বপ্রথম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে স্বর্ণ দ্বারা প্রলেপ দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

اَنَّهٗ كَانَ اَوَّلُ مَنْ سَنَّ دِيَةَ النَّفْسِ مِائَةً مِّنَ الْاِبِلِ

অর্থ: “তিনিই সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক যিনি সর্বপ্রথম একজন মানুষের ‘রক্তপণ একশত উট’ এ বিষয়টি প্রবর্তণ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

وَمِمَّنْ حَرَّمَ الْخَمْرَ عَلـٰى نَفْسِهٖ وَهُوَ اَوَّلُ مَنْ تَحَنَّثَ بِغَارِ حِرَاءٍ

অর্থ: “তিনি সেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের মধ্যে অন্যতম যিনি নিজের উপর মদ হারাম করেছিলেন এবং তিনিই সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক যিনি সর্বপ্রথম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হেরা গুহা মুবারক-এ নির্জনে ইবাদত মুবারক করতেন।” সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

اَوَّلُ مَنْ تَحَنَّثَ بِحِرَاءٍ كَانَ اِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ صَعِدَهٗ وَاَطْعَمَ الْمَسَاكِيْنَ

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হেরা গুহায় নির্জনে ইবাদত-বন্দেগী করার সূচনা করেন। সম্মানিত ও পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস আসলে তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হেরা গুহা মুবারক-এ আরোহণ মুবারক করতেন এবং মিসকীনদেরকে (বিশেষভাবে) খাদ্য খাওয়াতেন।” সুবহানাল্লাহ! (শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব শরীফ)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

وَكَانَ اِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ صَعِدَهٗ وَاَطْعَمَ الْمَسَاكِيْنَ وَكَانَ صُعُوْدُهٗ لِلتَّخَلِّـىْ مِنَ النَّاسِ لِيَتَفَكَّرَ فِـىْ جَلَالِ اللهِ وَعَظْمَتِهٖ

অর্থ: “যখন সম্মানিত ও পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস আসতেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হেরা গুহা মুবারক-এ আরোহণ মুবারক করতেন এবং মিসকীনদেরকে (বিশেষভাবে) খাদ্য খাওয়াতেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি সেখানে আরোহণ মুবারক করতেন লোকজন থেকে আলাদা হয়ে নির্জনে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জালাল ও আযমত মুবারক তথা মহিমা, মহত্ত্ব, সম্মান, মর্যাদা-মর্তবা ও বড়ত্ব মুবারক সম্পর্কে ফিক্বির করার জন্য।” সুবহানাল্লাহ!

অপর বর্ণনায় এসেছেন,

وَكَانَ اِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ صَعِدَ حِرَاءً وَاَطْعَمَ الْمَسَاكِيْنَ جَمِيْعَ الشَّهْرِ وَكَانَ صُعُوْدُهٗ لِلتَّخَلِّـىْ عَنِ النَّاسِ يَتَفَكَّرُ فِـىْ جَلَالِ اللهِ وَعَظْمَتِهٖ

অর্থ: “যখন সম্মানিত ও পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস আসতেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হেরা গুহা মুবারক-এ আরোহণ মুবারক করতেন এবং সারা মাসব্যাপী মিসকীনদেরকে (বিশেষভাবে) খাদ্য খাওয়াতেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি সেখানে আরোহণ মুবারক করতেন লোকজন থেকে আলাদা হয়ে নির্জনে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জালাল ও আযমত মুবারক তথা মহিমা, মহত্ত্ব, সম্মান, মর্যাদা-মর্তবা ও বড়ত্ব মুবারক সম্পর্কে ফিক্বির করার জন্য।” সুবহানাল্লাহ!

অসমাপ্ত

 

(পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৭)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৬০

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১৬)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪২তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১৫ম পর্ব)