মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-২১)

সংখ্যা: ২৮৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

(৩৬তম ফতওয়া হিসেবে)

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খেদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার সম্মানিত আদব মুবারক-

২০. নামায পড়ার উদ্দেশ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ চেয়ার-টেবিল প্রবেশ না করানো:

বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে মাযহারী শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

(৯০৬)

يَذْكُرُوْنَ اللهَ قِـيَامًا وَّقُـعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُـوْبـِهِمْ قَالَ الْـبَـغْوِىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَـيْهِ قَالَ اِمَامُ الْاَوَّلِ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَـيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عَلِـىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ) وَسَيِّدُنَا حَضْرَتْ اِبْنُ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ وَحَضْرَتْ اَلنَّخَعِـىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتْ قَـتَادَةُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ هٰذَا فِـى الصَّلٰوةِ يُصَلِّـىْ قَائِمًا فَاِنْ لَّـمْ يَسْتَطِعْ فَـقَاعِدًا فَاِنْ لَّـمْ يَسْتَطِعْ فَـعَلٰى جَنْبٍ وَنَظِيْـرُ هٰذِهِ الْاٰيَةِ فِـىْ سُوْرَةِ النِّسَاءِ فَاِذَا قَضَيْـتُمُ الصَّلٰوةَ فَاذْكُرُوْا اللهَ قِـيَامًا وَّقُـعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُـوْبِكُمْ وَحَدِيْثُ حَضْرَتْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْـنٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ كَانَتْ بِـىْ بَـوَاسِيْـرُ فَسَاَلْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَلـٰوةِ الْمَرِيْضِ فَـقَالَ صَلِّ قَائِمًا فَاِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَـقَاعِدًا فَاِنْ لَّـمْ تَسْتَطِعْ فَـعَلٰى جَنْبٍ اَخْرَجَهُ الْبُخَارِىُّ وَاَصْحَابُ السُّنَنِ الْاَرْبَـعَةِ زَادَ النَّسَائِـىُّ فَاِنْ لَّـمْ يَسْتَطِعْ فَمُسْتَـلْقِيًا لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَـفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا وَعَنْ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُصَلِّـى الْمَرِيْضُ قَائِمًا اِنِ اسْتَطَاعَ فَاِنْ لَّـمْ يَسْتَطِعْ صَلّٰى قَاعِدًا فَاِنْ لَّـمْ يَسْتَطِعْ اَنْ يَّسْجُدَ اَوْمَاَ وَجَعَلَ سُجُوْدَهٗ اَخْفَضَ مِنْ رُكُوْعِهٖ فَاِنْ لَّـمْ يَسْتَطِعْ يُصَلِّىْ عَلٰى جَنْبِهِ الْاَيْـمَنِ مُسْتَـقْبِلَ الْقِبْـلَةَ فَاِنْ لَّـمْ يَسْتَطِعْ اَنْ يُّصَلِّـىَ عَلـٰى جَنْبِهِ الْاَيْـمَنِ صَلّٰى مُسْتَـلْقِيًا رِجْلَاهُ مِـمَّا يَـلِـىَ الْقِبْـلَةَ

অর্থ: “{উনারা দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!} হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, হযরত ইমাম নাখা‘য়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত ক্বতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা বলেছেন, এখানে সম্মানিত নামায উনার অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। একজন ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে। যদি দাঁড়িয়ে সক্ষম না হয়, তাহলে বসে আদায় করবে। যদি বসে সক্ষম না হয়, তাহলে শুয়ে আদায় করবে। এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অনুরূপ সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার (সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ)-

فَاِذَا قَضَيْـتُمُ الصَّلٰوةَ فَاذْكُـرُوْا اللهَ قِـيَامًا وَّقُـعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُـوْبِكُمْ

‘অতঃপর যখন তোমরা সম্মানিত নামায শেষ করো, তখন তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির মুবারক করো- দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে।’

আর হযরত ইমরান ইবনে হুছাইন রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার (বর্ণিত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ- তিনি বলেন, আমার অর্শ্ব রোগ হয়েছিলো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি অসুস্থ ব্যক্তির নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি দাঁড়িয়ে সম্মানিত নামায আদায় করুন। যদি দাঁড়িয়ে আদায় করতে সক্ষম না হন, তাহলে বসে আদায় করুন। যদি বসে আদায় করতে সক্ষম না হন, তাহলে শুয়ে সম্মানিত নামায আদায় করুন। উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং ৪ সুনান গ্রন্থকার উনারা বর্ণনা করেছেন। হযরত ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বৃদ্ধি করেছেন- ‘যদি তাতে সক্ষম না হন, তাহলে শায়িত অবস্থায় অর্থাৎ শুয়ে সম্মানিত নামায আদায় করুন। মহান আল্লাহ পাক তিনি কাউকে তার সাধ্যের বাহিরে কষ্ট দেন না।’ আর ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘অসুস্থ ব্যক্তি যদি সক্ষম হয়, তাহলে দাঁড়িয়ে সম্মানিত নামায আদায় করবে। যদি সক্ষম না হয়, তাহলে বসে সম্মানিত নামায আদায় করবে। যদি (বসে) সিজদাহ্ দিতে সক্ষম না হয়, তাহলে ইশারা করে রুকু থেকে সিজদাহ্ বেশি অবনত করে সম্মানিত নামায আদায় করবে। যদি তাতে সক্ষম না হয়, তাহলে ডান পার্শ সম্মানিত ক্বিবলার দিকে করে (শুয়ে) সম্মানিত নামায আদায় করবে। যদি ডান পার্শে সম্মানিত নামায আদায় করতে সক্ষম না হয়, শুয়ে তার উভয় পা সম্মানিত ক্বিবলা উনার দিকে নিচু করে রেখে (পায়ের নীচে বালিশ দিয়ে পা দুখানা একটু বাকা করে) সম্মানিত ছলাত তথা নামায আদায় করবে।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে মাযহারী শরীফ ১/৬৪৩)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছেন-

(৯০৭-৯১৪)

عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَادَ مَرِيْضًا فَـرَاٰهُ يُصَلِّـىْ عَلٰى وِسَادَةٍ فَاَخَذَهَا فَـرَمٰى بِـهَا فَاَخَذَ عُوْدًا لِّـيُصَلِّـىَ عَلَيْهِ فَاَخَذَهٗ فَـرَمٰى بِهٖ فَـقَالَ صَلِّ عَلَى الْاَرْضِ اِنِ اسْتَطَعْتَ وَاِلَّا فَاَوْمِ اِيْـمَاءً وَّاجْعَلْ سُجُوْدَكَ اَخْفَضَ مِنْ رُّكُوْعِكَ

 অর্থ: “হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক অসুস্থ ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে দেখার জন্য উনার বাড়িতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নেন। তখন তিনি দেখতে পান যে, উক্ত হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অসুস্থতার কারণে সম্মানিত নামায উনার মধ্যে একটি বালিশের উপর সিজদাহ্ করছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বালিশটি ধরে দূরে সরিয়ে ফেলেন। তারপর উক্ত হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সিজদাহ্ করার জন্য একটি কাঠ নেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেটাও ধরে দূরে সরিয়ে ফেলেন এবং বলেন, “আপনি যদি সক্ষম হন, তাহলে যমীনের উপর সম্মানিত নামায আদায় করুন। তাতে সক্ষম না হলে, ইশারায় সম্মানিত নামায আদায় করুন এবং আপনার সিজদাহ্কে রুকুর চেয়ে একটু বেশি নিচু করুন।” সুবহানাল্লাহ! (আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ২/৩০৬, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার লিল বাইহাক্বী ৩/২২৫, আস সুনানুছ ছুগরা লিল বাইহাক্বী ১/২২৮, নাইলুল আওত্বার ৩/২৩৬, আশ শাফী ১/৬৩০, মুসনাদে বাযযার, মুসনাদে আবূ ইয়া’লা, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১৭৬ ইত্যাদি)

কাজেই, সম্মানিত নামায পড়ার ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানো, বসা ও শোয়ার যে তরতীব বা নিয়ম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন, সেভাবে দাঁড়িয়ে, বসে অথবা শুয়ে সম্মানিত নামায আদায় করতে হবে। কস্মিনকালেও চেয়ার-টেবিলে সম্মানিত নামায আদায় করা এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ উনার ভিতরে সম্মানিত নামায পড়ার উদ্দেশ্যে চেয়ার, টেবিল, টুল, বেঞ্চ অথবা পা ঝুলে থাকে এমন কোনো আসন ইত্যাদি প্রবেশ করানো জায়েয নেই; বরং সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয।

অতএব, কোনো অবস্থাতেই সম্মানিত নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ভিতর চেয়ার-টেবিল, টুল ইত্যাদি প্রবেশ করানো যাবে না। করালে সেটা বিধর্মীদের সাথে তাশাব্বুহ বা সাদৃশ্য হওয়ার কারণে কুফরী হবে।

উল্লেখ্য, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মধ্যে জামায়াতে সম্মানিত নামায আদায় করার হুকুম ওই ব্যক্তির জন্য যে সুস্থ। আর যে অসুস্থ তার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক এবং জামায়াত কোনোটিরই হুকুম নেই। যেমন ফিক্বাহের কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন- এমন অনেক ওজর রয়েছে, যেসব ওজরের কারণে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ যাওয়া এবং জামায়াতে সম্মানিত নামায পড়া আবশ্যক থাকে না। যেমন- অসুস্থ-রোগী, লুলা-ল্যাংড়া, অচল অথবা ঐ ব্যক্তি, যার ডান হাত কাটা অথবা এর বিপরীত বাম হাত কাটা হয়েছে অথবা শুধু পা কাটা হয়েছে অথবা বাত বা ব্যাধিতে অবশ হয়ে গেছে, চলতে অক্ষম অথবা অনেক বয়স হওয়ার কারণে অক্ষম অথবা অন্ধ হয়ে গেছে, অতি বৃষ্টি, কাদা, অতি মাত্রায় বা অধিক অন্ধকার হলে, অন্ধকার রাতে খুব বেগে বাতাস প্রবাহিত হলে, ছোট ইস্তিঞ্জা বা বড় ইস্তিঞ্জার যে কোনো একটির আবশ্যক হলে, সফরে গমনে ইচ্ছা করেছে এদিকে জামায়াত দাঁড়িয়ে গেছে, যদি জামায়াতে নামায পড়তে যায় তবে কাফেলা তাকে ছেড়ে যাবে অথবা কোনো রোগীর খিদমত করছে অথবা নিজের মালের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, খাবার উপস্থিত হয়েছে এবং জামায়াত দাঁড়িয়ে গেছে আত্মা খাবারের প্রতি আকাঙ্খা করেছে ইত্যাদি অবস্থায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ যাওয়া এবং জামায়াতে সম্মানিত নামায পড়া আবশ্যক থাকে না।

ওজর বা মা’জুরতার অজুহাতে যারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ যেয়ে চেয়ারে সম্মানিত নামায পড়ে থাকে, তাদের উক্ত অজুহাত মহাসম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার আলোকে কস্মিনকালেও গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা তারা দিব্বি বাড়ী-ঘর, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারে চলা-ফেরা করে আর সম্মানিত নামায উনার সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ গিয়ে তারা আর দাঁড়াতে পারে না! তখন তারা চেয়ারে বসে সম্মানিত নামায পড়ে। নাউযুবিল্লাহ! অথচ মহাসম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার মাসয়ালা বা ফতওয়া হচ্ছেন, দাঁড়াতে সক্ষম ব্যক্তি বসে সম্মানিত নামায পড়লে তার সম্মানিত নামায হবে না। কারণ সম্মানিত নামায উনার মধ্যে ক্বিয়াম বা দাঁড়ানো হচ্ছে স্বতন্ত্র একটি ফরয।

‘আল ফিক্বহু আলাল মাযাহিবিল আরবা‘আহ্’ কিতাবের ১ম খণ্ডের ২৫১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছেন,

(৯১৫)

 اِتَّـفَقَتِ الْمَذَاهِبُ عَلٰى اَنَّ الْقِيَامَ فَـرْضٌ عَلَى الْمُصَلِّـىْ فِـىْ جَـمِيْعِ رَكَعَاتِ الْفَرْضِ بِشَرْطِ اَنْ يَّكُوْنَ قَادِرًا عَلَى الْقِيَامِ

অর্থ: “চার মাযহাব তথা সমস্ত ফক্বীহগণ ইজমা করেছেন যে, দাঁড়াতে সক্ষম এরূপ মুছল্লী বা নামাযীর জন্য প্রত্যেক রাকাতে দাঁড়ানো ফরয।”

‘আল মুহীতুল বুরহানী’ কিতাবের ২য় খণ্ডের ১৪১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছেন,

(৯১৬)

وَاِنْ عَجَزَ عَنِ الْقِيَامِ وَقَدَرَ عَلَى الْقُعُوْدِ فَاِنَّهٗ يُصَلِّـى الْمَكْـتُـوْبَةَ قَاعِدًا بِرُكُوْعٍ وَّسُجُوْدٍ وَّلَا يَـجْزِئُهٗ غَيْـرُ ذٰلِكَ

অর্থ: “যে ব্যক্তি দাঁড়াতে অক্ষম কিন্তু বসতে সক্ষম, এরূপ ব্যক্তি বসে রুকূ সিজদাহ্ সহকারে সম্মানিত ফরয নামায আদায় করবে। এর বিপরীত নিয়মে সম্মানিত নামায আদায় করা তার জন্য জায়িয নয়।”

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,

(৯১৭-৯১৯)

عَنْ حَضْرَتْ مَالِكِ بْنِ الْـحُوَيْرِثِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ لَـنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلُّوْا كَمَا رَاَيْـتُمُوْنِــىْ اُصَلِّـىْ

অর্থ: “হযরত মালিক ইবনে হুয়াইরিছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে বলেছেন, তোমরা এমনভাবে সম্মানিত নামায পড়ো, যেভাবে আমাকে সম্মানিত নামায মুবারক পড়তে দেখেছো।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)

আর যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

(৯২০)

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِـىْ رَسُوْلِ اللهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

অর্থ: “অবশ্যই তোমাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছেন সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২১)

আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,

(৯২১-৯২৫)

عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْـقَةِ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْـهَا السَّلَامُ) قَالَتْ رَاَيْتُ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّىْ مُتَـرَبِّعًا

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চারজানু মুবারক হয়ে সম্মানিত নামায মুবারক আদায় করতে দেখেছি।” সুবহানাল্লাহ! (নাসায়ী শরীফ, ছহীহ ইবনে খুযাইমাহ্, সুনানে দারাকুত্বনী, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী, শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মুয়াত্ত্বা ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

(৯২৬-৯৪৮)

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكِبَ فَـرَسًا فَصُرِعَ عَنْهُ فَجُحِشَ شِقُّهُ الاَيْـمَنُ فَصَلّٰى صَلٰوةً مِنَ الصَّلَوَاتِ وَهُوَ قَاعِدٌ فَصَلَّيْـنَا وَرَاءَهٗ قُـعُوْدًا

অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘোড়ায় আরোহণ মুবারক করেন। একপর্যায়ে তিনি ঘোড়া থেকে পড়ে যমীনে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নেন। তখন উনার ডান পার্শ্ব মুবারক উনার এক অংশ মুবারক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল উন্স মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চামড়া মুবারক) ছিলে যান, ফলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ইহ্সান মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মারীদ্বী শান মুবারক) গ্রহণ করেন। ঐ সময় তিনি কোনো এক ওয়াক্ত সম্মানিত নামায মুবারক বসে আদায় করেন। তখন আমরাও উনার পিছনে বসে সম্মানিত নামায আদায় করেছি।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুয়াত্ত্বা শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ্, মুসনাদে আহমদ, ছহীহ ইবনে খুযাইমাহ্, মুস্তাখরাজে আবী আওয়ানাহ্, আল মু’জামুল আওসাত্ব, শারহুস সুন্নাহ, মুসনাদে বায্যার, মুসনাদে হুমাইদী, মুসনাদে দারিমী, মুসনাদে শাফী, মুসনাদুশ শামিয়্যীন, মুসনাদে ত্বয়ালিসী, মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ্, মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক্ব, ছহীহ ইবনে হিব্বান ৫/৪৬৯, ফাতহুল বারী, উমদাতুল ক্বারী ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

(৯৪৯-৯৫০)

عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ صُرِعَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ ظَهْرِ فَـرَسٍ بِالْمَدِيْـنَةِ عَلٰى جِذْعِ نَـخْلَةٍ فَانْـفَكَّتْ قَدَمُهٗ فَـقَعَدَ فِـىْ بَـيْتٍ لِّاُمِّ الْمُؤْمِنِيْـنَ اَلثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْـقَةِ عَلَيْـهَا السَّلَامُ فَاَتَـيْـنَاهُ نَـعُوْدُهٗ فَـوَجَدْنَاهُ يُصَلِّىْ قَاعِدًا تَطَـوُّعًا فَـقُمْنَا خَلْفَهٗ ثُـمَّ اَتَـيْـنَاهُ يُصَلِّىْ صَلٰوةً مَكْتُـوْبَةً فَـقُمْنَا خَلْفَهٗ

অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে এক খেজুর গাছের (গোড়ার) উপর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নেন। তখন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ডান নূরুদ দারাজাত মুবারক উনার (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ডান ক্বদম মুবারক উনার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুর রিদ্বা মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাড় মুবারক) একটু সড়ে যান, ফলে তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক-এ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ইহ্সান মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মারীদ্বী শান মুবারক) গ্রহণ করেন। তাই তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। এ সময় আমরা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সেবা-শুশ্রুষা মুবারক করার জন্য, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক করার জন্য উনার নিকট যাই। তখন আমরা উনাকে বসে সম্মানিত নফল নামায মুবারক আদায় করা অবস্থায় পেয়ে উনার পিছনে নামাযে দাঁড়িয়ে যাই অর্থাৎ সম্মানিত নামায মুবারক আদায় করি। তারপর আবার আমরা উনার নিকট এসে উনাকে বসে সম্মানিত ফরয নামায মুবারক আদায় করতে (দেখে) আমরাও উনার পিছনে নামাযে দাঁড়িয়ে যাই অর্থাৎ সম্মানিত নামায মুবারক আদায় করি।” সুবহানাল্লাহ! (সুনানুদ দারাকুত্বনী ২/২৯৭, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৩/৭৯)

অসমাপ্ত

(পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

 

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৩)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫৬

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৮তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১১ম পর্ব)