মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১৯)

সংখ্যা: ২৮৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৬তম ফতওয়া হিসেবে

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ- ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার সম্মানিত আদব মুবারক-

১৮. মহিলাদের জামাতে উপস্থিত না হওয়া :

আর সে তার ‘সিলসিলাতুল আহাদীছিছ ছহীহাহ’-এর মধ্যে বলেছে-

(৮৫৫)

وَهٰذَا اِسْنَادٌ صَحِيْحٌ عَلـٰى شَرْطِ مُسْلِمٍ.

অর্থ: “এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা উনার সনদ ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শর্ত অনুযায়ী ছহীহ।” (সিলসিলাতুল আহাদীছিছ ছহীহাহ ৩/১৪২-১৪৩ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ১১৫২)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৮৫৬-৮৫৭)

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ جَاءَ اَعْرَابـِىٌّ اِلَـى النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلنُّقْبَةُ تَكُوْنُ بِـمِشْفَرِ الْبَعِيْـرِ اَوْ بِعَجْبِهٖ فَتَشْتَمِلُ الْاِبِلَ كُلَّهَا جَرْبًا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا اَعْدَى الْاَوَّلَ لَا عَدْوٰى وَلَا هَامَةَ وَلَا صَفَرَ خَلَقَ اللهُ كُلَّ نَفْسٍ فَكَتَبَ حَيَاتَـهَا وَمُصِيْبَاتِـهَا وَرِزْقَهَا.

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা একজন বেদুঈন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খেদমত মুবারক-এ এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! একটি উটের ঠোঁট বা চোয়ালে অথবা লেজের গোড়ায়  খুঁজলি-পাঁচড়ার সূচনা হলো। তারপর উক্ত উটটি উট পালের সমস্ত উটগুলোকে খুঁজলি-পাঁচড়া যুক্ত করে দিলো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তাহলে প্রথম উটটিকে সংক্রামিত করলো কে? ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলে কিছু নেই, পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণ নেই এবং সম্মানিত ছফর শরীফ মাসে অশুভ বলতে কিছুই নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত প্রাণী সৃষ্টি করেছেন। তারপর তার হায়াত, তার বালা-মুছীবত, বিপদ-আপদ, রোগ-বালাইসমূহ এবং তার রিযিক্ব নির্ধারণ করে দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাহ্যীবুল আছার লিত ত্ববারী ৩/৪৩১, মুসনাদে আহমদ ২/৩২৭)

(৮৫৮)

শু‘আইব আরনাঊত বলেছে, এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছহীহ।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

(৮৫৯-৮৬৮)

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرْبَعٌ فِـىْ اُمَّتِـىْ مِنْ اَمْرِ الْـجَاهِلِيَّةِ لَنْ يَّدَعَهُنَّ النَّاسُ اَلنِّيَاحَةَ وَالطَّعْنَ فِـى الْاَحْسَابِ وَالْعَدْوٰى اَجْرَبَ بَعِيْـرٌ فَاَجْرَبَ مِائَةَ بَعِيْـرٍ مَنْ اَجْرَبَ الْبَعِيْـرَ الْاَوَّلَ وَالْاَنْوَاءَ مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا.‏

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মতের মাঝে জাহিলী যুগের (মুশরিকদের) চারটি বিষয় রয়েছে, যেগুলো মানুষ কখনও সম্পূর্ণরূপে ছাড়তে পারবে না। (অথচ সেগুলো মানুষের জন্য ছেড়ে দেয়া অত্যাবশ্যক)- ১. মৃত ব্যক্তির জন্য (উচ্চ স্বরে) বিলাপ করা, ২. বংশ তুলে গালি দেয়া, ৩. ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাসী হওয়া, যেমন- একটি উট খুঁজলি-পাঁচড়া যুক্ত হলে, সেটি আবার একশত উটকে খুঁজলি-পাঁচড়া যুক্ত করে। এরূপ বিশ্বাস করা। (যারা এরূপ বলে থাকে, তাদের ব্যাপারে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি বলেন,) তাহলে প্রথম উটটিকে খুঁজলি-পাঁচড়া যুক্ত করলো কে? ৪. এবং তারকার (উদয় বা অস্ত যাওয়ার) দ্বারা ভাগ্য নির্ধারণ করা এবং বলা অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি হয়েছে।” না‘উযুবিল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ১০০১, শারহু মা‘আনিয়িল আছার ৪/৩০৯, মুসনাদে আহমদ ২/৪৫৫, মুসনাদে ত্বয়ালাসী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ২৩৯৫, আহকামুশ শার‘ইয়্যাহ্ লিল ইশবিলী ১/১৬৬, ছহীহ ইবনে হিব্বান ৭/৪১২, আল মাত্বালিবুল ‘আলিয়্যাহ্ ৫/৩৭৯, মুসনাদে বায্যার ১৭/১১৯,  তাহযীবুল আছার লিত ত্ববারী ৩/৪৩৪, ফাওয়াইদু আবী মুহম্মদ ফাকিহী ১/৩৫৫ ইত্যাদি)

এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ খানা ছহীহ। এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা উনার প্রত্যেক রাবী ছিক্বাহ। মুসনাদে আহমদের তা’লীক্বে শু‘য়াইব আরনাঊত বলেছে, এটি ছহীহ হাদীছ। ওহাবীদের গুরুও তার আস সিলসিলাতুছ ছহীহার মধ্যে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ করেছে।

‘মুসলিম শরীফ’ উনার বিশ্বখ্যাত শরাহগ্রন্থ ‘আল মু’লিম বিফাওয়াইদিল মুসলিম’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,

(৮৬৯)

قَوْلُهٗ لَا عَدْوٰى تَفْسِيْـرُهٗ اَنَّ الْعَرَبَ كَانَتْ تَعْتَقِدُ اَنَّ الْمَرَضَ يُعْدِىْ وَيَنْتَقِلُ اِلَـى الصَّحِيْحِ فَاَنْكَرَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِعْتِقَادَهُمْ.

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কথা মুবারক ‘ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলে কিছুই নেই’। (এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ) উনার ব্যাখ্যা মুবারক হচ্ছেন, জাহিলী যুগে আরবরা এটা বিশ্বাস করতো যে, রোগ অসুস্থ ব্যক্তির থেকে সুস্থ ব্যক্তির দিকে সংক্রামিত হয়, স্থানান্তরিত হয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের এই বিশ্বাসকে বাতিল বলে ঘোষণা করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’লিম বিফাওয়াইদিল মুসলিম ৩/১৭৭)

কাজেই, এখনও যারা ছোঁয়াচে রোগ বিশ্বাস করে, তারা আইয়্যামে জাহিলয়াত যুগের আরব মুশরিকদের অনুরূপ। ফলে যারা ছোঁয়াচে রোগ বিশ্বাস করবে, বিশ্বাস করে মাস্ক পড়বে, মাস্ক পড়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ প্রবেশ করবে, সম্মানিত নামায আদায় করবে, নামায সংক্ষিপ্ত করবে, নামাযের কাতারে ফাঁক ফাঁক করে দাঁড়াবে, তারাও মুশরিক হিসেবে সাব্যস্ত হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ!

সাধারণভাবে নামাযের সময় মাস্ক ব্যবহার করা মাকরূহ তাহরীমী। কিন্তু বিধর্মীদের অনুসরণ এবং করোনা ভাইরাসকে ছোঁয়াচে বিশ্বাস করে মাস্ক ব্যবহার করা হারাম, র্শিক ও কুফরির অন্তর্ভুক্ত। নাউযুবিল্লাহ!

মূলত মাস্ক পরে নামায পড়া যাবে না। কারণ- মাস্ক ব্যবহার করলে নাক ও মুখসহ চেহারার প্রায় অর্ধেকের বেশি অংশ ঢেকে যায়। আর এক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য হুকুম হচ্ছে, নামাযের সময় চেহারা ঢেকে রাখা মাকরূহ তাহরীমী। না‘ঊযুবিল্লাহ!

এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

(৮৭০-৮৭৪)

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـهٰى عَنِ السَّدْلِ فِـى الصَّلَاةِ وَانْ يُّغَطِّىَ الرَّجُلُ فَاهُ.

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নামাযের মধ্যে মহিলাদেরকে এবং পুরুষদেরকে তাদের মুখম-ল ঢাকতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ মূখম-ল খোলা রেখে নামায আদায় করতে বলেছেন।” (আবূ দাঊদ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৬৪৩, ছহীহ ইবনে খুজায়মাহ ১/৩৭৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী, ছহীহ ইবনে হিব্বান ৬/১১৭, মাওয়ারিদুদ্ য¦মআন ১/১৩০ ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

(৮৭৫)

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ نَـهٰى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ السَّدْلِ وَاَنْ يُّغَطِّىَ الرَّجُلُ فَاهُ فِـى الصَّلَاةِ.

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নামাযের মধ্যে মহিলাদেরকে এবং পুরুষদেরকে তাদের মুখম-ল ঢাকতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ মূখম-ল খোলা রেখে নামায আদায় করতে বলেছেন।” (মুসনাদে বায্যার ১৬/১৮৬)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৮৭৬-৮৭৯)

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ نَـهٰى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنْ يُّغَطِّىَ الرَّجُلُ فَاهُ فِـى الصَّلَاةِ.

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি লোকদেরকে নামাযের মধ্যে তাদের মুখম-ল ঢাকতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ মূখম-ল খোলা রেখে নামায আদায় করতে বলেছেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ, শরহে ইবনে মাজাহ্ লিল মুগলতায়ী ১/১৬১৯, হশিয়াতুস সিন্দী ১/৩০৬, শরহে সুনানে আবী দাঊদ লি ইবনে রসলান ১৯/২১৩-২১৪ ইত্যাদি)

উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ‘শরহে আবী দাঊদ লিল আইনী’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,

(৮৮০)

وَنَـهٰى اَنْ يُّغْطِىَ الرَّجُلُ فَاهُ اَىْ فَمَهٗ وَالْـحِكْمَةُ فِـىْ هٰذَا اَنَّهٗ يُشَبِّهُ فِعْلَ الْـمَجُوْسِ حَالَ عِبَادَةِ النِّيْرَانِ كَذَا قَالَهٗ صَاحِبُ الْـمُحِيْط.

অর্থ: “সম্মানিত ছলাত উনার মধ্যে লোকদের মুখ ঢেকে রাখতে নিষেধ করার কারণ হলো, এটা মজূসীদের কার্যকলাপের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায়। তারা আগুনের পূজা করার সময় তাদের মুখ ঢেকে রাখে। যেমনটি ‘মুহীত’ কিতাবের মুছান্নিফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন।” (শরহে আবী দাঊদ লিল আইনী ৩/১৮১)

উল্লেখিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ‘মির‘আতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ’ কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

(৮৮১)

وَالْـحَدِيْثُ يَدُلُّ عَلٰى تَـحْرِيْـمٍ اَنْ يُّصَلِّىَ الرَّجُلُ مُتَلَثِّمًا اَىْ مُغْطِيًّا فَمَهٗ وَحِكْمَةُ النَّهْىِ اَنَّ فِـى التَّغْطِيَّةِ مَنْعًا مِّنَ الْقِرَاءَةِ وَالْاَذْكَارِ الْـمَشْرُوْعَةِ وَلِاَنَّهٗ لَوْ غَطّٰى بِيَدِهٖ فَقَدْ تَرَكَ سُنَّةَ الْيَدِ وَلَوْ غَطَّاهُ بِثَوْبٍ فَقَدْ تَشَبَّهَ بِالْـمَجُوْسِ لِاَنَّـهُمْ يَتَلَثَّمُوْنَ فِـىْ عِبَادَتِـهِمُ النَّارَ.

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা মুখ ঢেকে (মাস্ক পরিধান করে) নামায পড়া হারাম প্রমাণিত হয়। আর (মুখ ঢেকে মাস্ক পরিধান করে সম্মানিত ছলাত আদায় করা নিষেধ হওয়ার) হিকমত হচ্ছেন- নিশ্চয়ই সম্মানিত শরীয়ত স্বীকৃত যিকির বা দুয়া-কালাম ও ক্বিরায়াত পাঠ করা অবস্থায় মুখ ঢাকা নিষেধ। এটা এই কারণে যে, যদি হাত দিয়ে ঢাকা হয়, তাহলে হাত বাঁধার সুন্নত তরক করা হবে, আর যদি কাপড় দিয়ে ঢাকা হয়, তাহলে মজূসীদের সাথে সাদৃশ্যতা হবে। কেননা মজূসীরা তাদের অগ্নি পূজার সময় মুখ ঢেকে রাখে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (মির‘আতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ ২/৪৮০)

কাজেই, যারা ছোঁয়াচে রোগ বিশ্বাস করবে, বিশ্বাস করে মাস্ক পড়বে, মাস্ক পড়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ প্রবেশ করবে, সম্মানিত ছলাত আদায় করবে, সম্মানিত ছলাত সংক্ষিপ্ত করবে, সম্মানিত ছলাত উনার কাতারে ফাঁক ফাঁক করে দাঁড়াবে, তারাও মজূসীদের ন্যায় মুশরিক হিসেবে সাব্যস্ত হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ!

খ¦লিক্ব মালিক বর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে এবং সারা পৃথিবীর সমস্ত মুসলমান উনাদেরকে হিফাযত করুন। আমীন!

অসমাপ্ত- (পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৩)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫৬

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৮তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১১ম পর্ব)