মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-২৫)

সংখ্যা: ২৮৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

(৩৬তম ফতওয়া হিসেবে)

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খেদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করা ফরয:

(৩) স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করার ও বিশেষভাবে সম্মান করার এবং উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশ মুবারক করেছেন:

এ প্রসঙ্গে যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

(৯৯৬)

فِــىْ بُــيُـوْتٍ اَذِنَ اللهُ اَنْ تُـرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِـيْـهَا اسْـمُهٗ يُسَبِّحُ لَهٗ فِـيْـهَا بِالْغُدُوِّ وَالْاٰصَالِ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ সমস্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারক উনাদেরকে সম্মান করার জন্য, উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করার জন্য অর্থাৎ না ভাঙ্গার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশ মুবারক করেছেন, যে সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারকসমূহ উনাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাম মুবারক স্মরণ করা হয় এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাসবীহ্-তাহ্লীল পাঠ করা হয় ।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৬)

আলোচ্য সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত بُــيُـوْتٍ ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারকসমূহ’ উনার ব্যাখ্যায় পৃথিবীর সমস্ত বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থসমূহ উনাদের মধ্যে الْمَسَاجِدُ ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ’ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ আলোচ্য সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত بُــيُـوْتٍ ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারকসমূহ’ দ্বারা الْمَسَاجِدُ ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ’ উনাদেরকেই বুঝানো হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

যেমন ‘তাফসীরে মাযহারী শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

(৯৯৭)

وَالْمُرَادُ بِـهَا الْـمَسَاجِدُ قَالَ حَضْرَتْ سَعِيْدُ بْنُ جُبَـيْـرٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَـلَـيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَـبَّـاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَـنْهُ اَلْـمَسَاجِدُ بُــيُـوْتُ اللهِ فِـى الْاَرْضِ وَهِىَ تُضِىْءُ لِاَهْلِ السَّمَاءِ كَمَا تُضِىْءُ لِاَهْلِ الْاَرْضِ النُّجُوْمُ

অর্থ: “এখানে ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারকসমূহ’ দ্বারা উদ্দেশ্য ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ’। হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন, ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ হচ্ছেন দুনিয়ার যমীনে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারক।’ সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ আসমানবাসী উনাদেরকে এমনভাবে আলোকিত করেন, যেমনিভাবে আসমানের তারকারাজি যমীনবাসী উনাদেরকে আলোকিত করে থাকে।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে মাযহারী শরীফ ৬/৩৩৯)

‘তাফসীরে বাগভী শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

(৯৯৮)

وَالْـبُـيُـوْتُ هِىَ الْمَسَاجِدُ

অর্থ: “আর ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারকসমূহ’ হচ্ছেন ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ’।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে বাগভী শরীফ ৩/৪১৮)

‘তাফসীরে নীশাপুরী শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

(৯৯৯)

{فِـىْ بُــيُـوْتٍ} يَـعْنِـى الْـمَسَاجِدَ

অর্থ: “সম্মানিত ঘর মুবারকসমূহে অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহে।” (তাফসীরে নীশাপূরী শরীফ ১/৭৬৫)

‘তাফসীরে ত্ববারী শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

(১০০০)

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَـبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَـنْهُ فِـىْ قَـوْلِهٖ {فِـىْ بُــيُـوْتٍ اَذِنَ اللهُ اَنْ تُـرْفَعَ} يَـعْنِـىْ كُلَّ مَسْجِدٍ يُصَلّٰى فِـيْهِ جَامِعٍ اَوْ غَـيْـرِه

অর্থ: “রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছেন-  মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম  মুবারক- فِـىْ بُــيُـوْتٍ اَذِنَ اللهُ اَنْ تُـرْفَعَ  ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশ মুবারক করেন- সম্মান করার জন্য এবং উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করার জন্য অর্থাৎ না ভাঙ্গার জন্য, ঐ সমস্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারক’ (এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে উল্লেখ রয়েছেন-) كُلَّ مَسْجِدٍ يُصَلّٰى فِـيْهِ جَامِعٍ اَوْ غَـيْـرِهٖ  ‘অর্থাৎ প্রত্যেক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যেখানে নামায পড়া হয়। সেটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জামে মসজিদ মুবারক হোক অথবা অন্য যে কোন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক হোক।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ত্ববারী শরীফ ১৯/১৮৯)

আলোচ্য সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে اَذِنَ  শব্দ মুবারক উনার অর্থ মুবারক হচ্ছে- ‘তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশ মুবারক করেছেন’। যেমন- এই সম্পর্কে ‘তাফসীরে নীশাপূরী শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

(১০০১)

اَمَرَ اللهُ اَنْ تُــبْـنٰـى

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করার জন্য অর্থাৎ না ভেঙ্গে উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করার জন্য সম্মানিত আদেশ মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে নীশপূরী শরীফ ১/৭৬৫)

‘তাফসীরে কুরতুবী শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

 

(১০০২)

اَذِنَ مَعْنَاهُ اَمَرَ وَقَضٰى

অর্থ: اَذِنَ শব্দ মুবারক উনার অর্থ মুবারক হচ্ছেন-اَمَرَ  তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশ মুবারক করেছেন قَضٰى  মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (কুরতুবী শরীফ ১২/২৬৬)

আর اَنْ تُــرْفَعَ উনার অর্থ মুবারক সম্পর্কে ‘তাফসীরে মাযহারী শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

(১০০৩)

وَمَعْـنٰـى اَنْ تُـرْفَعَ قَالَ حَضْرَتْ مُـجَاهِدٌ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنْ تُـبْـنٰـى نَظِـيْـرُهٗ قَـوْلُهٗ تَـعَالـٰى وَاِذْ يَـرْفَعُ اِبْـرٰﻫٖﻢُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْـبَـيْتِ وَاِسْـمٰعِـيْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ بَـنٰـى لِلّٰهِ مَسْجِدًا بَـنَـى اللهُ لَهٗ بَـيْـتًا فِـى الْـجَنَّةِ مُـتَّـفَقٌ عَلَـيْهِ مِنْ حَدِيْثِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ ذِى النُّـوْرَيْنِ عَلَـيْهِ السَّلَامُ وَقَالَ الْـحَسَنُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَـيْهِ مَعْنَاهُ اَنْ تُـعَظَّمَ يَـعْنِــىْ لَا يُـذْكَرُ فِـيْـهَا الْـقَبِـيْحُ مِنَ الْقَوْلِ قَالَ اللهُ تَـعَالـٰى اَنْ طَهِّرَا بَـيْـتِـىَ لِلطَّـــآئِفِيْـنَ وَالْعٰكِفِيْـنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُوْدِ

অর্থ: “আর হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি اَنْ تُـرْفَعَ  শব্দ মুবারক উনার অর্থ মুবারক সম্মর্কে বলেছেন, اَنْ تُــبْـنٰـى ‘নির্মাণ করা, তৈরি করা’ অর্থাৎ না ভেঙ্গে উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করা। এর দৃষ্টান্ত হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক-

وَاِذْيَـرْفَعُ اِبْـرٰﻫٖﻢُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْـبَـيْتِ وَاِسْـمٰعِـيْلُ

‘স্মরণ করুন! যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার ভিত্তি মুবারক নির্মাণ করেছিলেন।’ (এখানে يَـرْفَعُ  শব্দ মুবারক ‘নির্মাণ করা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছেন।) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ একখানা সম্মানিত ঘর বা বালাখানা মুবারক নির্মাণ করবেন।’ সুবহানাল্লাহ! এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম উনার থেকে ‘বুখারী শরীফ এবং মুসলিম শরীফ’ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

আর হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, اَنْ تُـرْفَعَ  শব্দ মুবারক উনার অর্থ اَنْ تُـعَظَّمَ  ‘সম্মান করা’। অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ উনাদের মধ্যে অশ্লীল-অশালীন এবং অনর্থক কোনো কথা না বলা, দুনিয়াবী কোনো আলোচনা না করা অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ উনাদেরকে উত্তমভাবে এবং তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اَنْ طَهِّرَا بَـيْـتِـىَ لِلطَّـــائِـفِيْـنَ وَالْعٰكِـفِيْـنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُوْدِ

‘আপনারা আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারক উনাকে তাওয়াফকারী, অবস্থানকারী ও রুকু-সিজদাকারী উনাদের জন্য পবিত্র রাখুন। অর্থাৎ উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করুন।’ অর্থাৎ এখানে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার মধ্যে অশ্লীল-অশালীন এবং অপছন্দনীয় কথা-বার্তা ও আলাপ-আলোচনা থেকে বিরত থাকার জন্য এবং উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নির্দেশ মুবারক দেয়া হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে মাযহারী শরীফ ৬/৩৩৯)

‘তাফসীরে আব্দুর রাজ্জাক’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

 (১০০৪)

اَذِنَ اللهُ اَنْ تُــبْـنٰـى

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ ভাঙ্গার নির্দেশ মুবারক দেননি)।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে আব্দুর রাজ্জাক ২/৪৪২)

‘তাফসীরে দুররে মানছূর শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,

(১০০৫)

فِـىْ مَسَاجِدَ اَنْ تُــبْـنٰـى

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করার ব্যাপারে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নির্দেশ মুবারক দেয়া হয়েছে। (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ ভাঙ্গার নির্দেশ মুবারক দেননি)।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর ৬/২০২)

সুতরাং সর্বজনমান্য ও নির্ভরযোগ্য বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থসমূহ থেকে এই বিষয়টিই দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করার জন্য, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম বা সম্মান করার জন্য, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদেরকে পবিত্র রাখার জন্য এবং উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করার জন্য অর্থাৎ না ভাঙ্গার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশ মুবারক লঙ্ঘন করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙবে অর্থাৎ উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করবে না, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে এবং সমর্থন করবে, নিঃসন্দেহে তারা সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির এবং চির জাহান্নামী, মহান আল্লাহ পাক উনার শত্রু। যার কারণে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে তাদের জন্য রয়েছে ইহকালে কঠিন গযব ও লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জাহান্নাম। না‘ঊযুবিল্লাহ!

(৪) রাস্তা নির্মাণের দোহাই দিয়ে, সৌন্দর্য বর্ধনের নামে এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গার তো প্রশ্নই উঠে না; বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী প্রতি মহল্লায় মহল্লায়, বাড়িতে বাড়িতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করতে হবে, সাথে সাথে উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করতে হবে কোন অবস্থাতেই ভাঙ্গা যাবে না এবং সম্মানিত মুসলমান উনাদের সুবিধার্থে রাস্তার পাশে ও মোড়ে মোড়ে আরো অসংখ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করতে হবে রাস্তার দোহাই দিয়ে কোন অবস্থাতেই ভাঙ্গা যাবে না এবং প্রতিটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ অত্যন্ত আদব ও তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণের সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে:

এই সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

(১০০৬-১০০৭)

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَـنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ اِبْـنُوا الْمَسَاجِدَ

অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ নির্মাণ করো। অর্থাৎ ভাঙ্গার তো প্রশ্নই আসে না বরং আরো বেশী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ নির্মাণ করতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফে আবী শায়বাহ শরীফ ১/২৭৪, আস সুনানুল কুবরাহ লিলবাইহাক্বী ২/৬১৫)

অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৭)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৬০

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১৬)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪২তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১৫ম পর্ব)