মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১২)

সংখ্যা: ২৭৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৬তম ফতওয়া হিসেবে

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বেমেছাল ফযীলত মুবারক:

৫. যাঁরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার করেন, উনাদের এই সম্মানিত ‘আমল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খেদমত মুবারক-এ পেশ করা হয়:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৩৭৫-৩৮৪)

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُرِضَتْ عَلَىَّ اُجُوْرُ اُمَّتِـىْ حَتَّـى الْقَذَاةُ يـُخْرِجُهَا الرَّجُلُ مِنَ الْمَسْجِدِ.

অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আমার সম্মানিত উম্মত উনাদের সমস্ত আমালের বদলা পেশ করা হয়। এমনকি কোন ব্যক্তি যদি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক থেকে একটি ধূলিকণা বের করে বা পরিষ্কার করে, সেটাও আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ পেশ করা হয়।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, মুসনাদে বাযযার ১২/৩৩৯, মুসনাদে আবূ ইয়া’লা ৭/২৫৩, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ২/৪৪০, আল মু’জামুল আওসাত্ব লিত ত্ববারনী ৬/৩০৮, আল মু’জামুছ ছগীর লিত ত্ববারনী ১/৩৩০, শরহুস সুন্নাহ ২/৩৬৪, শু‘য়াবুল ঈমান ৩/৩৫৩, ছহীহ ইবনে খুযাইমাহ ২/২৭১ ইত্যাদি)

৬. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার করা, সম্মানিত জান্নাতী হূর উনাদের মোহরানা স্বরূপ তথা নিশ্চিত জান্নাতী হওয়ার একটি বিশেষ মাধ্যম:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৩৮৫-৩৯২)

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ قِرْصَافَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّهٗ سَـمِعَ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ ابْنُوا الْمَسَاجِدَ وَاَخْرِجُوا الْقُمَامَةَ مِنْهَا فَمَنْ بَنٰـى لِلّٰهِ مَسْجِدًا بَنَـى اللهُ لَهٗ بَيْتًا فِـى الْـجَنَّةِ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهٰذِهِ الْمَسَاجِدُ الَّتِـىْ تُبْنٰـى فِـى الطَّرِيْقِ قَالَ نَعَمْ وَاِخْرَاجُ الْقُمَامَةِ مِنْهَا مُهُوْرُ حُوْرِ الْعِيْـنِ.

অর্থ: “হযরত আবূ ক্বিরছাফাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, তোমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করো এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখো। সুবহানাল্লাহ! কেননা যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য একটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তি উনার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন। সুবহানাল্লাহ! একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যে সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক রাস্তার পাশে নির্মাণ করা হয়? (সেই সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদের হুকুম কী? ওই সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যাঁরা নির্মাণ করবেন, উনাদের জন্যও কি মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে বালাখানা নির্মাণ করবেন?) নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হ্যাঁ; (উনাদের জন্যও মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তি উনার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন। সুবহানাল্লাহ!) আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক থেকে ময়লা দূর করা তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা ডাগরচক্ষু তথা বড় ও সুন্দর চক্ষু বিশিষ্ট সম্মানিত হূর উনাদের মোহরানা স্বরূপ। (অর্থাৎ যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে ডাগরচক্ষু তথা বড় ও সুন্দর চক্ষু বিশিষ্ট সম্মানিত হূর দান করবেন। অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি তিনি নিশ্চিত জান্নাতী।)” সুবহানাল্লাহ! (ত্ববারনী শরীফ ৩/১৯, তাফসীরে দুরররে মানছূর শরীফ ৪/১৪৪, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১১৩, জামি‘উছ ছগীর ১/৫, আল ফাতহুল কাবীর ১/২১, জামি‘উল আহাদীছ ১/১৩৭, কাশফুল খফা ২/৩৪,  আল মাত্বালিবুল আলিয়াহ ৩/৪৮৮ ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৩৯৩)

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ قِرْصَاصَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ ابْنُوا الْمَسَاجِدَ وَاَخْرِجُوا الْـقُمَامَةَ مِنْهَا وَسَـمِعْـتُهٗ يَقُوْلُ اِخْرَاجُ الْـقُمَامَةِ مِنَ الْمَسْجِدِ مُهُوْرُ الْـحُوْرِ الْعِيْـنِ.

অর্থ: “হযরত আবূ ক্বিরছাছাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি, (তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,) তোমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ নির্মাণ করো এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদের থেকে ময়লা-আবর্জনা বের করে দাও। আর আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি, (তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক থেকে ময়লা-আবর্জনা বের করে দেয়া ডাগরচক্ষু তথা বড় ও সুন্দর চক্ষু বিশিষ্ট সম্মানিত হূর উনাদের সম্মানিত মোহরানা স্বরূপ।” সুবহানাল্লাহ! (আদ্ দুররুল মানছূর লিস সুয়ূত্বী ৭/২৬৮)

অন্য বর্ণনায় ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৩৯৪-৩৯৫)

رَوٰى حَضْرَتْ اَبُوْ قِرْصَافَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنَّهٗ قَالَ اِخْرَاجُ الْقُمَامَةِ مِنَ الْمَسْجِدِ مِنْ مُّهُوْرِ الْـحُوْرِ الْعِيْـنِ.

অর্থ: “হযরত আবূ ক্বিরছাফাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক থেকে ময়লা-আবর্জনা বের করে দেয়া ডাগরচক্ষু তথা বড় ও সুন্দর চক্ষু বিশিষ্ট সম্মানিত হূর উনাদের সম্মানিত মোহরানা স্বরূপ। অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি তিনি নিশ্চিত জান্নাতী।” সুবহানাল্লাহ! (আল মুর্হারারুল ওয়জীয লিইবনে ‘আত্বিয়্যাহ ৬/৯৫, তাফসীরে কুরতুবী ১৬/১৫৩)

৭. যাঁরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার করবেন, উনাদের জন্যও মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে বালাখানা নির্মাণ করবেন:

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

 (৩৯৬-৪১০)

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ سَعِيْدِ ۣ الْـخُدْرِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اَخْرَجَ اَذًى مِّنَ الْمَسْجِدِ بَنَـى اللهُ لَهٗ بَيْتًا فِـى الْـجَنَّةِ.

অর্থ: “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মবারক করেন, যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক থেকে কষ্টদায়ক কিছু বের করে দিবেন তথা সম্মানিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তি উনার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন।” সুবানাল্লাহ! (সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ, শরহু সুনানি ইবনে মাজাহ লিল মুগলতত্বাই ১/১২৬২, হাশিয়াতুস সিন্দ আলা সুনানি ইবনে মাজাহ ১/২৫৬, আল জামি‘উছ ছগীর ২/৩০৭, আল ফাতহুল কাবীর ৩/১৪৪,  জামি‘উল আহাদীছ ৪১/৩৯৪, ফায়জুল ক্বদীর ৬/৫৬, আত তানভীর শরহু জামিয়ছ ছগীর ১০/৬১, আত তাইসীর বিশরহি জামি‘য়ছ ছগীর ২/৭৫৭, মিছবাহুয যুজাযাহ ১/৯৬, তুহফাতুল আশরাফ ৩/৪৫০, তাফসীরে কুরতুবী শরীফ ১২/২৬৬, আশ শরহুল কাবীর লিইবনে কুদামাহ ১/১২১, কাশফুল ক্বিনা’ ৬/২২৫ ইত্যাদি)

এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ১০ম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল জামি‘উছ ছগীর’ উনার বিশ্বখ্যাত শরাহগ্রন্থ ‘ফায়যুল ক্বদীর শরহু জামিয়িছ ছগীর’ উনার মধ্যে হযরত ইমাম মানাভী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ১০৩১ হিজরী শরীফ) তিনি উল্লেখ করেন-

(৪১১)

(مَنْ اَخْرَجَ اَذًى مِّنَ الْمَسْجِدِ) نَـجَسٌ اَوْ طَاهِرٌ كَدَمٍ وَزَرْقِ طَيْـرٍ وَمُـخَاطٍ وَبُصَاقٍ وَتُرَابٍ وَحَجَرٍ وَقُمَامَةٍ وَنَـحْوِهَا مِنْ كُلِّ مَا يَقْذُرُهٗ (بَنَـى اللهُ لَهٗ بَيْتًا فِـى الْـجَنَّةِ) وَفِـىْ بَعْضِ الرِّوَايَاتِ اِنَّ ذٰلِكَ مُهُوْرُ الْـحُوْرِ الْعِيْـنِ.

 অর্থ: “যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক থেকে কষ্টদায়ক কিছু বের করে দিবে, তা অপবিত্র হোক অথবা পবিত্র। যেমন- রক্ত, পাখির মল, নাকের ময়লা, থুথু, মাটি, ধূলি-বালি, পাথর, পাথরকণা, ময়লা এবং অনুরূপ যে সমস্ত জিনিষ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাকে নোংরা বা অপরিচ্ছন্ন করে (তা যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক থেকে বের করে দিবেন তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবেন,) মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তি উনার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন। সুবহানাল্লাহ! কিছু কিছু রেওয়াতে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই এটা (এই সম্মানিত আমল মুবারক) সম্মানিত জান্নাতী হূর উনাদের মোহরানা স্বরূপ।” সুবহানাল্লাহ! (ফায়যুল ক্বদীর ৬/৫৬)

‘আত তানভীর শরহুল জামিয়িছ ছগীর’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে-

(৪১২)

(مَنْ اَخْرَجَ اَذًى مِّنَ الْمَسْجِدِ) شَيْئًا يُؤَدِّىْ مِنْ نَـجَسٍ اَوْ غَيْـرِهٖ مِنْ قُمَامَةٍ وَنَـحْوِهَا (بَنَـى اللهُ لَهٗ بَـيْـتًا فِـى الْـجَنَّةِ) لِاَنَّهٗ صَانَ بَيْتَ اللهِ فِـى الدُّنْيَا وَعَظَّمَهٗ واَجَلَّهٗ فَجَازَاهُ اللهُ بَـيْـتًا ثَبَتَ لَهٗ فِـى الْـجَنَّةِ.

অর্থ: “যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক থেকে কষ্টদায়ক কিছু বের করে দিবেন তথা পবিত্র অথবা অপবিত্র ময়লা এবং অনুরূপ কিছু বের করে দিবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে ঐ ব্যক্তি উনার জন্য একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন। সুবহানাল্লাহ! কেননা ঐ ব্যক্তি তিনি দুনিয়ার যমীনে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারক উনাকে হিফাযত করেছেন, উনার মহত্ব, সম্মান ও ইজ্জত হেফাযত করেছেন। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তি উনাকে প্রতিদান স্বরূপ জান্নাতে একটি বালাখানা দান করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আত তানভীর শরহুল জামি‘িয়ছ ছগীর ১০/৬১)

৮. যাঁরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার করবেন, উনারা সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে ইয়াসমীন (এক প্রকার জান্নাতী ফুল) কুড়াবেন। অর্থাৎ উনারা নিশ্চিত জান্নাতী হবেন:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৪১৩)

قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ الَّذِيْنَ يَلْتَقِطُوْنَ الْقَذٰى مِنَ الْمَسْجِدِ هُمُ الَّذِيْنَ يَلْتَقِطُوْنَ الْيَاسَـمِيْـنَ فِـى الْـجَنَّةِ.

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই যাঁরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক থেকে ধূলিকণা কুড়াবেন, উনারা অবশ্যই সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে ইয়াসমীন (এক প্রকার জান্নাতী ফুল) কুড়াবেন। অর্থাৎ উনারা নিশ্চিত জান্নাতী হবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আখবারু মাক্কা ২/১২৮)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক সাজসজ্জা মুবারক করা

স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে সারা কায়িনাত সৃষ্টি করেছেন ও সুসজ্জিত করেছেন এবং উনার সম্মানার্থে দায়িমীভাবে অনন্তকালব্যাপী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফ্রহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৪১৪)

عَنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامِ الْاَوَّلِ مِنْ اَهْلِ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَـلِـىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ) عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ اَنَّهٗ قَالَ يَا سَيِّدَنَا مَوْلٰنَا مُـحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعِزَّتِـىْ وَجَلَالِـىْ لَوْلَاكَ مَا خَلَقْتُ اَرْضِىْ وَلَا سَـمَائِىْ وَلَا رَفَعْتُ هٰذِهِ الْـخَضْرَاءَ وَلَا بَسَطْتُّ هٰذِهِ الْغَبْرَاءَ.

অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার সম্মানিত ই’য্যত মুবারক এবং সম্মানিত জালালিয়াত মুবারক উনাদের ক্বসম! যদি আমি আপনাকে সৃষ্টি মুবারক না করতাম, তাহলে আসমানবাসী, যমীনবাসী তথা সারা কায়িনাতের কোনো কিছুই সৃষ্টি করতাম না, এই সবুজ কোনো কিছু অর্থাৎ গাছ-পালা, তরুলতা, বন-জঙ্গল কোনো কিছুই সৃষ্টি করতাম না এবং ধুলিময় মরুভূমি, পাহাড়, মাটি তথা যমীনকে বিস্তৃত করতাম না। অর্থাৎ একমাত্র আপনার সম্মানার্থেই আমি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছি, সমস্ত কায়িনাত সুসজ্জিত করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/৭৫)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৪১৫)

عَنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامِ الْاَوَّلِ مِنْ اَهْلِ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَـلِـىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ) اِنَّ اللهَ تَعَالـٰى قَالَ لِنَبِيِّهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ اَجْلِكَ اَبْطَحُ الْبَطْحَاءَ وَاُمَوِّجُ الْمَاءَ وَاَرْفَعُ السَّمَاءَ وَاَجْعَلُ الثَّوَابَ وَالْعِقَابَ وَالْـجَنَّةَ وَالنَّارَ.

অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নবী-রসূল, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলেন, আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার মুবারক সম্মানার্থেই সমভূমি, নি¤œভূমি, উপত্যকা, নদীর তলদেশকে বিস্তৃত করেছি অর্থাৎ যমীন সৃষ্টি করেছি, (সমুদ্রের) পানিকে তরঙ্গায়িত করেছি, ঊর্মিমুখর করেছি এবং আসমানকে করেছি সুউচ্চ। আর আপনার মুবারক সম্মানার্থেই আমি সৃষ্টি করেছি পুরস্কার-শাস্তি এবং জান্নাত-জাহান্নাম।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/৭৫)

অর্থাৎ একমাত্র আপনার সম্মানার্থেই আমি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছি, সমস্ত কায়িনাত সুসজ্জিত করেছি। আপনাকে যাঁরা সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করবেন, উনারা পুরস্কার লাভ করবেন, সম্মানিত জান্নাত মুবারক লাভ করবেন তথা হাক্বীক্বী মুহব্বত-মা‘রিফত, নিসবত-কুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ! আর আপনাকে যারা সম্মানিত তা‘যীম-তাকরীম মুবারক করবে না, আপনার নাফরমানী করবে, তাদের জন্য দুনিয়া-আখিরাতে রয়েছে কঠিন লাঞ্ছনাদায়ক ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এবং চিরজাহান্নাম। না‘ঊযুবিল্লাহ!

মূলকথা হলো, স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে সারা কায়িনাত সৃষ্টি করেছেন ও সুসজ্জিত করেছেন এবং উনার সম্মানার্থে দায়িমীভাবে অনন্তকালব্যাপী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফ্রহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার অনুসরণে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে সারা পৃথিবী, সারা কায়িনাত সুসজ্জিত করা এবং উনার সম্মানার্থে অনন্তকালব্যাপী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমরা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে দুনিয়ার যমীনে তো অবশ্যই; হায়াতে-মউতে, কবরে, হাশরে-নশরে, মীযানে-পুলছিরাতে এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে যেয়েও অনন্তকালব্যাপী দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করবো এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারকসহ সমস্ত কায়িনাতকে সুসজ্জিত করবো।” সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বিশেষ মাকান বা স্থান মুবারক। সুবহানাল্লাহ! কাজেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক সম্মানিত সাজসজ্জা মুবারক করা এবং সুগন্ধিময় করা সমস্ত জিন-ইনসান,  তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য ও ফরয ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত এবং বিশেষ ফযীলত লাভের কারণ। সুবহানাল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে সুলত্বানুল আরিফীন ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত কিতাব ‘আল ওয়াসায়িল ফী শরহিশ শামায়িল’ উনার মধ্যে বলেন-

(৪১৬-৪১৭)

مَا مِنْ بَيْتٍ اَوْ مَسْجِدٍ اَوْ مَـحَلَّةٍ قُرِئَ فِيْهِ مَوْلِدُ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلَّا حَفَّتِ الْـمَلَائِكَةُ ذٰلِكَ الْبَيْتَ اَوِ الْـمَسْجِدَ اَوِ الْـمَحَلَّةَ وَصَلَّتِ الْـمَلَائِكَةُ عَلٰى اَهْلِ ذٰلِكَ الْـمَكَانِ وَعَمَّهُمُ اللهُ تَعَالـٰى بِالرَّحْـمَةِ وَالرِّضْوَانِ وَاَمَّا الْـمُطَوَّقُوْنَ بِالنُّوْرِ يَعْنِـىْ حَضْرَتْ جِبْرَائِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَحَضْرَتْ مِيْكَائِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَحَضْرَتْ اِسْرَافِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَحَضْرَتْ عَزْرَائِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ  فَاِنَّـهُمْ يُصَلُّوْنَ عَلٰى مَنْ كَانَ سَبَبًا لِّقَرَاءَةِ مَوْلِدِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

অর্থ: “যে কোনো বাড়িতে বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ অথবা মহল্লায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় মীলাদ শরীফ পাঠ করা হয় বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করা হয় তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা হয় সেখানে অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা বেষ্টন করে নেন। আর উনারা সে স্থানের অধিবাসীগণ উনাদের উপর ছলাত পাঠ করতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

আর মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে স্বীয় সম্মানিত রহমত মুবারক ও সন্তুষ্টি মুবারক উনার আওতাভুক্ত করে নেন। আর নূর দ্বারা সজ্জিত প্রধান চারজন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম অর্থাৎ হযরত জিবরায়ীল আলাইহিস সালাম তিনি, হযরত মীকাইল আলাইহিস সালাম তিনি, হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালাম তিনি এবং হযরত আযরাইল আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় মীলাদ শরীফ পালনকারী উনাদের উপর বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপনকারীর উপর তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনকারী উনাদের উপর ছালাত পাঠ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা)

ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীক্বত হযরত ইমাম মা’রূফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

(৪১৮)

مَنْ هَيَّاَ طَعَامًا لِّاَجْلِ قِرَائَةِ مَوْلِدِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَـمَعَ اِخْوَانًا وَّاَوْقَدَ سِرَاجًا وَّلَبِسَ جَدِيْدًا وَّتَبَخَّرَ وَتَعَطَّرَ تَعْظِيْمًا لِّـمَوْلِدِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَشَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الْفِرْقَةِ الْاُوْلـٰى مِنَ النَّبِـيِّـيْـنَ وَكَانَ فِـىْ اَعْلـٰى عِلِّـيِّـيْـنَ.

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে যিনি খুশি মুবারক প্রকাশ করে খাদ্য প্রস্তুত করবেন এবং সম্মানিত মুসলমান ভাই উনাদেরকে একত্রিত করবেন, প্রদীপ বা বাতি জ্বালাবেন, নতুন পোশাক পরিধান করবেন, ধূপ জ্বালাবেন এবং আতর-গোলাপ মাখবেন, ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তি উনার হাশর-নশর করবেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম দলের সাথে এবং তিনি (সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে) সুউচ্চ ইল্লীনে অবস্থান মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা)

অসমাপ্ত

(পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক- (২য় পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪৮

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৪)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৫)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০তম পর্ব)