মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১১)

সংখ্যা: ২৭৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৬তম ফতওয়া হিসেবে

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ফাযায়িল-ফযীলত ও বুযূর্গী-সম্মান মুবারক-

১৩. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মধ্যে যাঁরা চাটাই বিছাবেন, উনাদের জন্য সত্তর হাজার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করবেন যতক্ষণ পর্যন্ত সেই চাটাই থাকবে:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৩২৫-৩৩১)

عَنْ حَضْرَتْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عَلَّقَ فِـىْ مَسْجِدٍ قِنْدِيْلًا صَلّٰى عَلَيْهِ سَبْعُوْنَ اَلْفَ مَلَكٍ حَتّٰـى يَنْطَفِئَ ذٰلِكَ الْقِنْدِيْلُ وَمَنْ بَسَطَ فِيْهِ حَصِيْرًا صَلّٰى عَلَيْهِ سَبْعُوْنَ اَلْفَ مَلَكٍ حَتّٰـى يَنْقَطِعَ ذٰلِكَ الْـحَصِيْرُ وَمَنْ اَخَذَ مِنْهُ قَذَاةَ كَانَ لَهٗ كِفْلَانِ مِنَ الْاَجْرِ.

অর্থ: “হযরত মু‘য়ায বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মধ্যে একটি মোমবাতি ঝুলাবে তথা আলোর ব্যবস্থা করবেন, উনার জন্য সত্তর হাজার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করবেন যতক্ষণ পর্যন্ত সেই মোমবাতি বা আলো নিভে না যাবে। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মধ্যে চাটাই বিছাবেন, উনার জন্য সত্তর হাজার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করবেন যতক্ষণ পর্যন্ত সেই চাটাই শেষ না হবে বা ছিড়ে না যাবে। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার থেকে একটি ধূলিকণা বের করে ফেলে দিবেন, উনার জন্য দ্বিগুণ নেকী রয়েছেন। অর্থাৎ উনার জন্য সত্তর হাজার এবং সত্তর হাজার তথা এক লক্ষ চল্লিশ হাজার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (জামি‘উল আহাদীছ ২১/৬৯, কানযুল ‘উম্মাল ৭/৬৫৬, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৩৫৯৯, ‘উমদাতুল ক্বারী ৭/৫৭, শরহে ইবনে মাজাহ লিমুগালত্বায়ী ১/১২১২, কাশ্ফুল খাফা ২/২৬৪, আত্ তাদওয়ীন ফী আখবারে ক্বাযওয়ীন ৪/১৭ ইত্যাদি)

১৪. যাঁরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ প্রবেশ করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে সম্মানিত করবেন:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৩৩২-৩৩৫)

 عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ بُيُوْتَ اللهِ فِـى الْاَرْضِ الْمَسَاجِدُ وَاِنَّ حَقًّا عَلَى اللهِ اَنْ يُّكْرِمَ مَنْ زَارَهٗ فِيْهَا.

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই দুনিয়ার যমীনে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারক হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ। সুবহানাল্লাহ! যাঁরা ওই সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘর মুবারক-এ প্রবেশ করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে সম্মানিত করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ৯/৩, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/৩২, জামি‘উল আহাদীছ ৮/৪৮০, আল মাত্বালিবুল আলিয়াহ ৩/৪৬৬ ইত্যাদি)

১৫. যাঁরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদেরকে মুহব্বত করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে মুহব্বত করবেন:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৩৩৬-৩৪০)

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ سَعِيْدِۣ الْـخُدْرِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اَلِفَ الْمَسْجِدَ اَلِفَهُ اللهُ تَعَالـٰى.

অর্থ: “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাকে মুহব্বত করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তি উনাকে মুহব্বত করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল আওসাত্ব লিত ত্ববারনী ৬/২৬৯, তাখরীজু আহাদীছিল কাশ্শাফ ২/৫৮, তাখরীজু আহাদীছিল ইহ্ইয়াই ‘উলূমিদ্দীন ১/১৭৯, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/২৩, আল ফাতহুল কাবীর লিস সুয়ূত্বী ৩/১৬২ ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বেমেছাল

ফযীলত মুবারক:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক অপরিসীম। সেটা মানুষের পক্ষে ভাষায় প্রকাশ করা আদৌ সম্ভব নয়। যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবাইকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ও সুগন্ধিময় করে রাখার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন এবং উম্মতকে সম্মানিত তা’লীম মুবারক দেয়ার জন্য তিনি স্বয়ং নিজে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাহ্ মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক-এ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ ঝাড়– মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাধ্যমে সমস্ত উম্মতকে এই বিষয়ে উৎসাহ মুবারক প্রদান করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

১. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ও সুগন্ধিময় করে রাখার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৩৪১-৩৫৮)

عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ) سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ( قَالَتْ اَمَرَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِـبِنَاءِ الْمَسَاجِدِ فِـى الدُّوْرِ وَاَنْ تُنَظَّفَ وَتُطَــيَّبَ.

অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাড়িতে বাড়িতে মসজিদ নির্মাণ করার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন এবং মসজিদসমূহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় করে রাখার জন্য নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ, আদ দুররুল মানছূর ১১/৭৫, তাফসীরে ইবনে কাছীর, গ্বারাইবুল কুরআন তথা তাফসীরে নীসাপুরী ১/৩৭৪, মুখতাছরুল আহকাম ৩/১৬৫, ফাতহুল বারী ২/৩৮০, মা‘আলিমুস সুনান লিল খ্বাত্ত্বাবী ১/১৪২, আত্ তামহীদ ১৪/১৬০, আল ইস্তিযকার লি ইবনে ‘আব্দিল র্বার ২/৩৬০, কুওওয়াতুল মুগ¦তাযী লিস সুয়ূত্বী ১/২৩৩, সুবুলুস সালাম ১/২২৮, আল মাফাতীহ ২/৭৩, আল বাদরুত তামাম লিল মাগরিবী ২/৩৮৯, তুহ্ফাতুল আরশরাফ ১২/১৪৫, নাছবুর রাইয়াহ ১/১২২ ইত্যাদি)

২. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! কেননা স্বয়ং যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাহ্ মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুবারক-এ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ ঝাড়– মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৩৫৯-৩৬৭)

عَنْ حَضْرَتْ يَعْقُوْبَ بْنِ زَيْدٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَتْبَعُ غُبَارَ الْمَسْجِدِ بِـجَرِيْدَةٍ.

অর্থ: “হযরত ইয়া’কূব ইবনে যায়েদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয়ই স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খেজুরের ডাল দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার ধূলি-বালি মুবারক পরিষ্কার মুবারক করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (আদ দুররুল মানছূর ১১/৭৮, রূহুল মা‘য়ানী ৯/৩৬৮, মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ ১/৩৯৮, শরহে ইবনে বাত্ত্বাল ২/১০৭, আত্ তাওদ্বীহ ৫/৫৮২, ফাতহুর রব্বানী ৩/৭৯, আল কাওছারুল জারী ২/১৪১, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৭/৩৪, খুলাছাতুল ওয়াফা’ ২/২০৮ ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৩৬৮-৩৬৯)

عَنْ حَضْرَتْ زَيْدِ بْنِ اَسْلَمَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ الْمَسْجِدُ يُرَشُّ وَيُقَمُّ عَلٰى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقِ الْاكْبَـرِ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَبِـىْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ).

অর্থ: “হযরত যায়েদ ইবনে আসলাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবার আলাইহিস সালাম উনার যামানায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মধ্যে পানি ছিটা দেয়া হতো এবং ঝাড়– দেয়া হতো।” সুবহানাল্লাহ! (আদ দুররুল মানছূর ১১/৭৮, মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ ১/৩৯৭)

৩. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৩৭০)

عَنْ حَضْرَتْ اَلْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ حَنْطَبٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقَ الْاَعْظَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدَنَا حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) اَتٰى مَسْجِدَ قُبَاءٍ عَلٰى فَرَسٍ لَّهٗ فَصَلّٰى فِيْهِ ثُـمَّ قَالَ يَا حَضْرَتْ يَرْفَاُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اٰتِـنِـىْ بِـجَرِيْدَةٍ قَالَ فَاَتَاهُ بـِجَرِيْدَةٍ فَاحْتَجَزَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقُ الْاَعْظَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ) بِثَوْبِهٖ ثُـمَّ كَنَسَهٗ.

অর্থ: “হযরত আব্দুল মুত্ত্বলিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানত্বব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একদা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ঘোড়ায় চড়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে কুবা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক নিয়ে সেখানে সম্মানিত নামায আদায় করেন। তারপর তিনি বললেন, হে ইয়ারফা’ রহমতুল্লাহি আলাইহি! আমাকে একটি খেজুরের ডাল এনে দিন। তিনি উনাকে একটি খেজুরের ডাল এনে দিলেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার কাপড় মুবারক ভালোভাবে গুছিয়ে নিলেন এবং সমস্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ঝাড়– দিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ ১/৩৪৯)

৪. যাঁরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার করবেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে খাছ দয়া-ইহসান মুবারক করবেন এবং উনারা নিশ্চিত জান্নাতী হবেন:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৩৭১-৩৭৩)

عَن حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ امْرَاَةً كَانَتْ تَلْقِطُ الْقَذٰى مِنَ الْمَسْجِدِ فَتُوُفِّــيَتْ فَلَمْ يُؤْذَنِ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِدَفْنِها فَقَالَ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا مَاتَ فِيْكُمْ مَيِّتٌ فاٰذِنُوْنِــىْ وَصَلّٰى عَلَيْهَا وَقَالَ اِنِّـىْ رَاَيْتُهَا فِـى الْـجَنَّةِ لِمَا كَانَتْ تَلْقِطُ الْقَذٰى مِنَ الْمَسْجِدِ.

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন যে, একজন মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ ঝাড়– দিতেন। (এক রাতে) তিনি সম্মানিত ও পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। (রাত হওয়ার কারণে আদবের জন্য) নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ না জানিয়ে উক্ত মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনাকে সম্মানিত দাফন মুবারক করা হয়। (বিষয়টি জেনে) নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, যখন আপনাদের মধ্যে কেউ সম্মানিত ও পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করবেন, তখন আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ বিষয়টি পেশ করবেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (উক্ত মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার মাযার শরীফÑএ তাশরীফ মুবারক নিয়ে) উনার সম্মানিত জানাযা উনার নামায মুবারক আদায় করেন এবং তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই আমি উক্ত মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনাকে সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে দেখেছি, কেননা, তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর লিত্ ত্ববারনী ৯/৪৩৭, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৮/১৪৩, মাজমা‘উয যাওয়াইদ ২/১৯ ইত্যাদি।)

অপর বর্ণনায় এসেছে-

(৩৭৪)

عَن حَضْرَتْ بُرَيْدَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلٰى قَبْـرٍ جَدِيْدٍ حَدِيْثٍ عَهْدٍ بِدَفْنٍ وَمَعَهٗ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقُ الْاَكْبَـرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَبُوْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ) فَقَالَ قَبْرُ مَنْ هٰذَا قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هٰذَا قَبْرُ حَضْرَتْ اُمِّ مِـحْجَنٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهَا كَانَتْ مُوْلَعَةً اَنْ تَلْقُطَ الْقَذٰى مِنَ الْمَسْجِدِ فَقَالَ اَلَا اٰذَنْتُمُوْنِـىْ لَـهَا فَقَالُوْا كَرِهْنَا اَنْ نُّـهِيْجَكَ وَفِــىْ رِوَايَةٍ كُنْتَ نَائِمًا فَكَرِهْنَا اَنْ نَّـهِيْجَكَ فَصَفَّ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِاَصْحَابِهٖ وَصَلّٰى عَلَيْهَا.

অর্থ: “হযরত বুরাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। একদা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি সদ্য দাফনকৃত একটি নতুন কবর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। উনার সাথে ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এটি কার কবর? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটি হযরত উম্মু মিহ্জান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার সম্মানিত কবর মুবারক। তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার বিষয়ে আসক্ত ছিলেন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনারা আমাকে উনার বিষয়ে সংবাদ মুবারক দিলেন না কেন? উনারা বললেন, (কারণ আপনি ঘুমিয়ে ছিলেন।) আপনাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলাটাকে আমরা অপছন্দ করি। অপর বর্ণনায় রয়েছে, (ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি ঘুমিয়ে ছিলেন। আর আপনাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলাটাকে আমরা অপছন্দ করি। (আপনার কোন প্রকার কষ্ট হোক, এটা আমরা চাই না।) তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে কাতার মুবারক করলেন এবং উক্ত হযরত মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার সম্মানিত জানাযা উনার নামায মুবারক আদায় করলেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদুর রূইয়ানী ১/৮০)

অসমাপ্ত

(পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক- (২য় পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪৮

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৪)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৫)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০তম পর্ব)