মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫০তম পর্ব)

সংখ্যা: ২৮৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

(৩৪তম ফতওয়া হিসেবে)

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

পূর্ব প্রকাশিতের পর

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জুমাদাল ঊলা শরীফ মাসে প্রকাশিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফসমূহ

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ তারীখ মুবারক- ৬টি, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ- ৯টি।

৫. (ঘ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৮শে জুমাদাল ঊলা শরীফ:

আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস মুবারক। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসিম বা নাম মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম। উনার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক ‘সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর আলাইহিস সালাম। তিনি সকলের মাঝে ‘সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম’ হিসেবে পরিচিত। তিনি হচ্ছেন- আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া ছিদ্দীক্বে আকবর সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বরক ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম ইবনে আবী কুহাফা উছমান ইবনে ‘আমির ইবনে ‘আমর ইবনে কা’ব ইবনে সা’দ ইবনে তাইম ইবনে মুররাহ্ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! উনার ঊর্ধ্বতন সপ্তম পুরুষ হযরত মুররাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট গিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নসব মুবারক উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিতা আম্মাজান হযরত উম্মুল খইর সালমা বিনতে ছখর আলাইহাস সালাম। উনার নসব মুবারক ৬ষ্ঠ পুরুষে যেয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নসব মুবারক উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার পিতা-মাতা উভয়ই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ২ বছর ২ মাস ১৬ দিন পর পবিত্র ২৮শে জুমাদাল ঊলা শরীফ ইয়াওমুল খমীস শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সর্বপ্রথম সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি যাকেই সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত মুবারক দিয়েছি তিনিই চিন্তা-ভাবনা করেছেন, সময়ক্ষেপণ করেছেন। তবে খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতিক্রম। উনাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত দেয়া মাত্রই কোনো প্রকার চিন্তা-ভাবনা না করে, কালবিলম্ব না করে তৎক্ষণাত তিনি দাওয়াত মুবারক গ্রহণ করেন। পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ!

হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরে মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি। উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সম্পর্কে অনেক সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ রয়েছেন। তিনিই একমাত্র সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক, যাঁর সম্মানিত শান মুবারক-এ একই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি তিনখানা সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

ثَانِـىَ اثْـنَـيْـنِ اِذْ هُـمَا فِـى الْغَارِ اِذْ يَـقُوْلُ لِصَاحِبِهٖ لَا تَـحْزَنْ اِنَّ اللهَ مَعَنَا

অর্থ: “দু’জনের দ্বিতীয়। যখন উনারা সম্মানিত (সাওর) গুহা মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক করছিলেন, তখন তিনি উনার ছাহিব অর্থাৎ সঙ্গী, ছাহাবী, খাদিম উনাকে বললেন, আপনি চিন্তিত হবেন না, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সাথে রয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪০)

এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার তিনখানা সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা মুবারক করা হয়েছে- ১. উনাকে দু’জনের দ্বিতীয় বলা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! যদিও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বিতীয় কেউ নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন খ্বালিক্ব মালিক রব হিসেবে একক, তেমনিভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বায়িম মাক্বাম হিসেবে একক। উনার সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া যত মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন সমস্ত কিছুর মালিক হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! তারপরেও অত্র সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বিতীয় বলা হয়েছে পবিত্র সাওর গুহায় অবস্থানকারী হিসেবে। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রমাণ করে দিলেন যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা-মর্তবা হচ্ছেন, তিনি শুধু নবী-রসূল নন, এছাড়া সমস্ত মর্যাদা-মর্তবার অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!

২. উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছহিব অর্থাৎ সঙ্গী, খাদিম ও গোলাম বলা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

৩. সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক তিনি রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـى الدَّرْدَاءِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ وَلَا غَرَبَتْ عَلـٰى اَحَدٍ اَفْضَلَ مِنْ حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقِ الْاَكْبَـرِ عَلَيْهِ السَّلَامُ اِلَّا اَنْ يَّكُوْنَ نَبِـىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ

অর্থ: “হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এমন কোনো ব্যক্তির উপর সূর্য উদিত হয়নি, অস্তও যায়নি যিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার থেকে শ্রেষ্ঠ হতে পারেন; শুধুমাত্র হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত। অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (ফাদ্বায়িলুছ ছাহাবাহ লি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি ১/৩৫২, আল মুনতাখাব মিন মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমাইদ ১/১০১)

অন্য বর্ণনায় বর্ণিত রয়েছেন,

مَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ وَلاَ غَرَبَتْ عَلـٰى اَحَدٍ مِّنَ الْمُسْلِمِيْـنَ بَعْدَ النَّبِـيِّـيْـنَ وَالْمُرْسَلِيْـنَ اَفْضَلَ مِنْ حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقِ الْاَكْبَـرِ عَلَيْهِ السَّلَامُ

অর্থ: “হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ছাড়া এমন কোনো ব্যক্তির উপর সূর্য উদিত হয়নি, অস্তও যায়নি; যে ব্যক্তি আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার থেকে শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি।” সুবহানাল্লাহ!

হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পর যিনি দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি স্বয়ং নিজে বলেন,

حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقُ الْاَكْبَـرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّدُنَا وَخَيْـرُنَا وَاَحَبُّـنَا اِلـٰى رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন আমাদের সাইয়্যিদ, আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আমাদের সকলের চেয়ে অধিক প্রিয়।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيْلًا لَاتَّـخَذْتُ حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَ الْاَكْبَـرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ خَلِيْلًا اَلَا وَاِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيْلُ اللهِ

অর্থ: “আমি যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে খলীল অর্থাৎ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তাহলে সেই মহান ব্যক্তিত্ব মুবারকই হতেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি। সাবধান! নিশ্চয়ই আপনাদের যিনি ছহিব (মালিক অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার খলীল অর্থাৎ বন্ধু, হাবীব মাহবূব।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْـقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ بَـيْـنَا رَأْسُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِـىْ حِجْرِىْ لَيْـلَةٍ ضَاحِيَةٍ اِذْ قُـلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ يَكُوْنُ لِاَحَدٍ مِّنَ الْـحَسَنَاتِ عَدَدُ نُـجُوْمِ السَّمَاءِ قَالَ نَعَمْ حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقُ الْاَعْظَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ قُـلْتُ فَاَيْنَ حَسَنَاتُ حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقِ الْاَكْبَـرِ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ اِنَّـمَا جَـمِيْعُ حَسَنَاتِ حَضْرَتْ اَلْفَارْقِ الْاَعْظَمِ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَحَسَنَةٍ وَاحِدَةٍ مِّنْ حَسَنَاتِ حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقُ الْاَكْبَـرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক জোস্নার রাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল আযহার মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কোল মুবারক-এ) উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাথা মুবারক) রেখে শুয়ে ছিলেন। আমি বললাম- ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কারো কি আকাশের তারকার সমপরিমাণ নেকী মুবারক রয়েছে? তিনি বললেন, হঁ্যা; হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার আকাশের তারকার সমপরিমাণ নেকি মুবারক রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তখন আমি বললাম, তাহলে আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নেকী মুবারক উনার পরিমাণ কত? জবাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জিন্দেগীর সমস্ত নেকী মুবারক হচ্ছেন, আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার একখানা সম্মানিত নেকী মুবারক উনার সমান।” সুবহানাল্লাহ! (রযীন শরীফ, জামিউল উছূল লিইবনে আছীর, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)

আর তা হচ্ছেন, আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার সময় সম্মানিত সাওর গুহা মুবারক-এ চার দিন তিন রাত্রি মুবারক  নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়ে যেই সম্মানিত নেকী মুবারক অর্জন করেছিলেন, সেই সম্মানিত নেকী মুবারকখানা হচ্ছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জিন্দেগীর সমস্ত নেকী মুবারক উনার সমান। সুবহানাল্লাহ!

সেটাই সাইয়্যিদুনা হযরত ফরূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি প্রায় সময় আফসোস করে বলতেন, আমার সারা জীবন না হয়ে যদি, ওই চার দিন তিন রাত্রি মুবারক হতো, যেই চার দিন তিন রাত্রি মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত সাওর গুহা মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছিলেন, তাহলে তা আমার জন্য অতি উত্তম হতো। সুবহানাল্লাহ!

তাহলে আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার শান-মান মুবারক কত বেমেছাল সেটা আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে  আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলায় সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উপলব্ধি করে, উনার অনুসরণ-অনুকরণ করে রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার হাক্বীক্বী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক, গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

অসমাপ্ত- (পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৩)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫৬

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৮তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১১ম পর্ব)