মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৬৮

সংখ্যা: ২৮৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৩তম ফতওয়া হিসেবে

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”-

পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

সম্মানিত চার মাযহাব হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বলী উনাদের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক

অনুসরণীয় সকল ইমাম মুজতাহিদ উনারা এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন যে, অনুসরণীয় ও গ্রহণযোগ্য মাযহাব হচ্ছে চারটি।

১। হানাফী ২। মালিকী

৩। শাফিয়ী ৪। হাম্বলী।

সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন ইমাম আ’যম ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

সম্মানিত মালিকী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

সম্মানিত শাফিয়ী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

সম্মানিত হাম্বলী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

নিম্নে সংক্ষিপ্তভাবে উনাদের পরিচিতি ও সাওয়ানেহ উমরী মুবারক তুলে ধরা হলো-

সাইয়্যিদুনা ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

১৪৮ হিজরীতে শাসক মনসূর ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে গৃহবন্দী করে। কিন্তু এ অবস্থায় কিছুতেই সে নিশ্চিত হতে পারছিল না। বাগদাদ রাজধানী হওয়ার ফলে যেমন প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। একইভাবে  জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার প্রধান কেন্দ্রগুলোও বাগদাদ শরীফে গড়ে উঠেছিল। তাই গোটা সাম্রাজ্যের প্রতিভাবান ছাত্ররা উচ্চতর শিক্ষার জন্য  বাগদাদমূখী হলো।

ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পরিচিতি সাম্রাজ্যের সর্বত্র সমান। বন্দী অবস্থায় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পরিবর্তে আরো অনেকগুণে বেড়ে গেল। বাগদাদ শহরের অত্যন্ত প্রভাবশালী শিক্ষাবিদ ও আলিম সম্প্রদায়ের সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠলো। শাসক মানসূর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে একটা বাড়িতে নজরবন্দি করে রেখেছিল বটে; কিন্তু এর চেয়ে বেশি কিছু করার ধৃষ্টতা তার ছিল না। তাই শিক্ষাদান, প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞানচর্চার কার্যক্রম নিষ্ঠার সাথে চলছিল। হানাফী ফিকহের বাহু হিসেবে খ্যাত ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উস্তাদের বন্দি দশার মধ্যেই শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রভাব সম্পর্কে মানসূরের যে আশঙ্কা ছিল, তা উনাকে বন্দি করেও দূর হয়নি; বরং আরো বেড়ে গিয়েছিল। তার সর্বশেষ চরম আঘাত ছিল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খাদ্যে বিষ মিশিয়ে দেয়া। নাউযুবিল্লাহ!

শাসক মানসূর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জেলখানা থেকে তার দরবারে ডেকে এনে বিষমিশ্রিত শরবত পান করতে অনুরোধ করে। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শরবত পান করতে অস্বীকৃতি জানান। অস্বীকৃতি সত্বেও জোরপূর্বক উনাকে শরবত পান করানো হয়। শরবত পান করে তিনি স্বেচ্ছায় জেলখানায় চলে যান। তারপর যখন বিষক্রিয়া অনুভব করতে পারলেন, তখন যিনি খ্বালিক মালিক রব তায়ালা মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফে সিজদায় অবনত হন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সামনে সিজদাবনত। হয়তো মহান আল্লাহ পাক তিনি গ্রহণ করেছিলেন। সিজদাবনত অবস্থায় ইরাকের বাগদাদ শহরে শাসক মানসূরের জিন্দানখানায় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ১৫০ হিজরীতে সিজদারত অবস্থায় পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

খতীব বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

وُلِدَ اَبُـوْ حَنِيْـفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ سَنَةَ ثَـمَانِيْنَ وَكَانَ لَهٗ يَـوْمَ مَاتَ سَبْـعُوْنَ سَنَةً وَمَاتَ فِىْ خَمْسِيْنَ وَمِائَةٍ وَهُوَ النُّـعْمَانُ بْنُ ثَابِتٍ

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ৮০ হিজরীতে বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশকালে উনার সম্মানিত বয়স মুবারক হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি ১৫০ হিজরীতে বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

চিরবিদায়ের সময়ে মানুষের শ্রদ্ধা:

বিষ পান করিয়ে শাসক মানসূর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে শহীদ করে। সিজদারত অবস্থায় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করে চলে গেলেন মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাত মুবারকে। মুহূর্তের মধ্যেই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লো বাগদাদের অলিতে গলিতে। গোটা বাগদাদ শরীফের মানুষ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বন্দীখানার দিকে ছুটে আসলো। শোকাহত জনে¯্রাত। প্রধান বিচারপতি গোসল দিচ্ছিলেন। কাঁদছিলেন আর পাগলের মতো বলছিলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আপনি সবচেয়ে বড় ফকীহ, বড় আবিদ,  বড় জাহিদ, মহান আল্লাহ পাক উনার সকল পছন্দনীয় গুণ আপনার মাঝে জড়ো হয়েছিল। আপনি আপনার উত্তরাধিকারীদের ভারাক্রান্ত করে দিয়ে গেলেন, উনারা আপনার মর্যাদার অবস্থানে পৌছার আর কোন বাহন পাবে না।

কাফন পরিয়ে জানাযার আয়োজন করতে করতে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বন্দিনিবাস জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে গেলো। প্রথম জানাযায় মানুষের সংখ্যা ঐতিহাসিকগণের মতে, পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার হয়েছিল। জনদাবির প্রেক্ষিতে এক এক করে ছয়বার জানাযার নামায পড়া হয়েছে। আসরের নামাযের কাছাকাছি সময়ে মাজার শরীফে সমাহিত করা হয়। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অসীয়ত করেছিলেন, তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহন করলে, ‘খীযরানের কবরস্থানে উনাকে যেন দাফন করা হয়। অসীয়ত অনুযায়ী কবরস্থানের পূর্ব পার্শ্বে উনার মাক্ববারাহ তৈরি করা হয়। ঐতিহাসিক খতীব লিখেছেন, এরপর একটানা বিশ দিন পর্যন্ত দফায় দফায় মানুূষ এসেছে আর তারা উনার উসীলা দিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করেছে। সুবহানাল্লাহ! মানুষের শ্রদ্ধা ও মুহব্বতের এর চেয়ে বড় দৃষ্টান্ত আর কী হতে পারে। (চার ইমাম উনাদের জীবন কথা- পৃষ্ঠা-৫০)

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইন্তিকাল রহস্য:

শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি বহু নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন।

উমাইয়া শাসনামলে ইরাকের আমীর হুবায়রা উনাকে কাযী বা বিচারকের পদের প্রস্তাব দিলে তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এতে উনাকে প্রতিদিন একটি আবর্জনাস্থলে নিয়ে দশটি করে বেত্রাঘাত করা হতো। নাউযুবিল্লাহ! এভাবে উনাকে একশত দশটি দোররা মারা হয়। নাউযুবিল্লাহ! কিন্তু তারপরও তিনি কাযীর পদ গ্রহণ করেননি।

আব্বাসীয় শাসনামলেও উনাকে কাজীর পদ গ্রহন করার প্রস্তাব দেয়া হয়। অবশেষে উনাকে বিষ পান করিয়ে শহীদ করা হয়।

কাযীর পদ গ্রহণ না করায় দোররা মারা বা বিষ পান করানোর নেপথ্যে কারণ ছিল অন্যটি। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে উমাইয়া এবং আব্বাসীয় শাসক গোষ্ঠী সঠিক পথ থেকে অনেক দূরে ছিল। অন্যায় অত্যাচারে তারা সীমাতিক্রম করতো। সুতরাং উক্ত শাসকগোষ্ঠীর শাসনামলে রাষ্ট্রীয় কাযীর পদ গ্রহণ করাটা অত্যাচারের ব্যাপারে সহযোগিতা করার শামিল ছিল। তখনকার সচেতন এবং বিচক্ষণ আলিমগণের চিন্তাধারা এটাই ছিল যে, উনারা রাষ্ট্রীয় কোনো পদে কাজ করাকে গুনাহ মনে করতেন। উনাদের এ ভাব মূর্তিতে শাসকরা ভীত ছিল। কোনো প্রকার বাহানা করে উনাদেরকে নিজ মতের অনুসারী করার চেষ্টা করতো। বিরাট অঙ্কের অর্থ এবং বড় বড় পদ দিয়ে উনাদের উপর চাপ সৃষ্টি করতো। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথেও এরূপই করা হয়েছে। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যেহেতু এসব বিষয়ের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন এবং আলাভী আলিমগণের ন্যায়সঙ্গত পক্ষ অবলম্বন করেছেন, তাই আবু জাফর মানসূর কাযীর পদ গ্রহন না করার বাহানায় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জেলখানায় বিষপান করায়। নাউযুবিল্লাহ! (ইমাম আবূ হানীফা কী সিয়াসী যিন্দেগী: ৫৩৬-৫৪৫)

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছাল শরীফের পর ইমাম-মুজাতাহিদগণের অভিব্যক্তি:

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মনসূরের সামনে নেয়া হলে উনাকে কাযীর পদের প্রস্তাব দেয়া হয়। উনি অস্বীকৃতি  জানালে উনাকে জেলে পাঠানো হয়। সেখানেই তিনি ১৫০ হিজরীতে বিষপ্রয়োগে শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার সম্মানিত জিসিম মুবারক ৫ জন সরকারী কর্মচারী বের করে আনে। অতঃপর উনাকে গোসল মুবারক দেয়া হয়। উনার জানাযায় পঞ্চাশ হাজারেরও অধিক লোক অংশ নিয়েছিল। ছয়বার জানাযার নামায পড়ানো হয়েছিল। পূর্ব বাগদাদের খীযরান নামক কবরস্থানে উনাকে দাফন মুবারক করা হয়। বাগদাদ শরীফের কাযী হাসান ইবনে উমারা গোসল দেয়ার পর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি এভাবে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন-

হে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি! মহান আল্লাহ পাক আপনাকে রহমত  করুন, আপনি ত্রিশ বছর রোযা রেখেছেন। চল্লিশ  বছর রাতে ঘুমাননি। আমাদের মধ্যে আপনি সবচেয়ে বড় ফকীহ, সবচেয়ে বড় আবিদ, সবচেয়ে বড় যাহিদ এবং সবচেয়ে বেশি  সৎগুণের অধিকারী। নেক আমল ও সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার উপর ইন্তিকাল করেছেন। আপনার পরবর্তী লোকদেরকে দুঃখে রেখে গেলেন। উলামায়ে কিরামের গৌরব শেষ হয়ে গেল।

সাম’আনী বর্ণনা করেন, প্রচণ্ড ভীড়ের কারণে ছয়বার জানাযা পড়া হয়। শেষবার উনার সম্মানিত আওলাদ হযরত হাম্মাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জানাযা পড়ান।

একবার কাযী হাসান ইবনে হাসান সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, মহান আল্লাহ পাক আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি সালাফদের সত্যিকার উত্তরসূরী ছিলেন। আপনি এমন ছাত্র রেখে গেছেন, যারা আপনার ইলমের উত্তরসূরী হতে পারেন। কিন্তু তাক্বওয়া পরহেযগারীতে মহান আল্লাহ পাক উনার তাওফীক্ব ছাড়া উত্তরসূরী হওয়া যায় না।

একবার আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বাগদাদ শরীফ আসলেন। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযার শরীফের পাশে গিয়ে বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি! হযরত ইবরাহীম নখয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইন্তিকালে উনার স্থলাভিষিক্ত রেখে গেছেন। কিন্তু আপনি ইন্তিকালের পর পৃথিবীর  বুকে আপনার স্থলাভিষিক্ত কেউ নেই। তিনি একথা বলে অঝোরে কাঁদতে লাগলেন।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শাহাদাতী শান মুবারকের পর উনাকে সাধারণ কবরস্থানে দাফন না করে পৃথক স্থানে দাফন করা হলো। শাসক মানসূর উনার জানাযার নামায পড়তে এসে জিজ্ঞাসা করলো, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সাধারণ কবরস্থানে দাফন না করে অন্যত্র দাফন করার কারণ কি?

উত্তরে বলা হলো, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অসীয়ত মুবারক করে গেছেন উনাকে যেন পৃথক স্থানে দাফন করা হয়। কারণ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে বাগদাদ শহরের ভূমি, ভূমির মালিকদের থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে আনা হয়েছে। এ ভূমির ব্যাপারে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতওয়া এটাই ছিল। আর উনার অসীয়ত এটাই ছিল যে, উনাকে যেন এমন স্থানে দাফন না করা হয়, যা অবৈধ পন্থায় অর্জিত হয়েছে।

একথা শুনে শাসক মানসূর বলে উঠলো, উনার জীবদ্দশায় এবং ইন্তিকালের পর কে আমাকে উনার হাত থেকে রক্ষা করবে।

শু’বা ইবনে হাজ্জাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উস্তাদ এবং বসরার প্রধান ইমাম ছিলেন।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শাহদাতী শান মুবারক প্রকাশের সংবাদ শুনে অত্যন্ত আবেগ ভরা কণ্ঠে তিনি বললেন, “কুফায় অন্ধকার ছেয়ে গেলো।” (উকুদুল জুম্মান)

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র মাযার শরীফ:

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যে কত যোগ্য ব্যক্তি  এবং কত জনপ্রিয় ছিলেন, উনার প্রতি মানুষের কত ভক্তিশ্রদ্ধা ও হৃদয়ের ভালোবাসা ছিল, তা বুঝা গেছে উনার শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের পর। খতীবে বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দাফন মুবারক করার পরও বিভিন্ন দেশ হতে অগণিত লোক আসতে থাকে আজও অগনিত লোক অত্যন্ত ভক্তি শ্রদ্ধার সাথে উনার পবিত্র মাযার শরীফ যিয়ারত করে থাকেন।

পবিত্র মাযার শরীফের নিকটেই সুবৃহৎ সুরম্য প্রাসাদে একটি মাদরাসা রয়েছে। মাদরাসার অগণিত শিক্ষার্থী ও মুদাররিসগণ আজও শ্রদ্ধার সাথে উনারা পবিত্র মাযার শরীফ যিয়ারত করে থাকেন।

মাদরাসার নিকটেই একটি সুবৃহৎ মুসাফিরখানা রয়েছে। বিভিন্ন মুসলিম রাজ্য হতে যে সকল শিক্ষার্থী মাদরাসায় শিক্ষা লাভের জন্য আসতেন, উনারা এই মুসাফিরখানায় আহার ও বসবাস করতেন। আজও সেই মাযার শরীফ, সেই মাদরাসা, সেই মুসাফিরখানা সুনাম ও ঐতিহ্যের সাথে বিদ্যমান থেকে সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার পবিত্র স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয় প্রতিনিয়ত।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় বড়  বড় শিক্ষাবিদ গভীর অনুভূতি নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিতেন। ‘আল জাওয়াহিরুল মুজিয়্যাহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ’ গ্রন্থে ঐসব মহান শিক্ষকদের পূর্ণ পরিচয় উদ্ধৃত রয়েছে। শাসক মুকতাদির বিল্লাহর দরবারে হামি ইবনে হাজলা উনার সারা জীবনের সংগ্রহ বহু মূল্যবান কিতাবাদির সমূদয় এই মাদরাসায় ওয়াকফ করে দেন। (ইবনে খল্লিকান, তরজমাহ ইয়াহইয়া ইবনে ঈসা ইবনে হাজশহ আততবীব তবাকাতুস সুন্নিয়্যাহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ ১/২৫, ওয়াফাইয়াতুল আ’ইয়ান:  (শামেলা) ৫/৪১৫)

অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

 

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৩)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫৬

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৮তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১১ম পর্ব)