মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ওতার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৪)

সংখ্যা: ২৯১তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য এবং অশেষ-অসীম সম্মানিত ছলাত ও সালাম মুবারক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ। মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খাছ রহমত, বরকত, সাকীনাহ, দয়া-দান, ইহসান মুবারক উনাদের কারণে – “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগ উনার তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের অকাট্ট দলীলের আলোকে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায়- “৩৮তম সম্মানিত ফতওয়া মুবারক হিসেবে” মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ ও সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া মুবারক পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

পবিত্র সুন্নতী ক্বমীছ মুবারক উনার উসীলায় সাইয়্যিদুনা হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি নমরুদের জলন্ত অগ্নিকুন্ডের কঠিন উত্তাপ থেকে হিফাযতে থাকেন এবং ইতমিনানের সাথে অবস্থান মুবারক করেন

 أَنَّ نَّـمْرُوْدَ لَمَّا أَلْقَى سَيِّدَنَا حَضْرَتْ إِبْـرَاهِيْمَ خَلِيْلَ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِي النَّارِ نَـزَلَ إِلَيْهِ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِقَمِيْصٍ مِّنَ الْـجَنَّةِ وَطَنْـفَسَةٍ مِّنَ الْجَنَّةِ فَأَلْبَسَهُ الْقَمِيْصَ وَأَقْـعَدَهٗ عَلَى الطَّنْـفَسَةِ وَقَـعَدَ مَعَهٗ يَـتَحَدَّثُ فَأَوْحَى اللهُ إِلَى النَّارِ فِيْ قَـوْلِهٖ: كُوْنِيْ بَـرْدًا وَّسَلَامًا

অর্থ: নিশ্চয়ই বর্বর জালিম নমরুদ যখন সাইয়্যিদুনা হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে তার অগ্নিকুন্ডে রেখেছিল, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র জান্নাত মুবারক থেকে একটি ক্বমীছ মুবারক এনে সাইয়্যিদুনা হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে পরিধান করিয়ে দিলেন। এবং একটি জান্নাতী বিছানা মুবারকে বসিয়ে দিলেন। এবং সাইয়্যিদুনা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নবী সাইয়্যিদুনা হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে আগুনের কুন্ডে বসে কথা বার্তা বলতেছিলেন। তার পূর্বে মহান আল্লাহ পাক তিনি আগুনের প্রতি নির্দেশনা মুবারক জারী করেছিলেন যে, আগুন তুমি সাইয়্যিদুনা হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার জন্য ইতমিনান মূলক ঠান্ডা হয়ে যাও। সুবহানাল্লাহ! (ফতহুল ক্বদীর লিশ-শাওকানী ৩/ ৬৬)

পবিত্র সুন্নতী ক্বমীছ মুবারক উনার উসীলায় মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে নমরুদের জলন্ত অগ্নিকুন্ডে ইতমিনানের সাথে অবস্থান মুবারক করান।

পবিত্র জান্নাতী সুন্নতী পোশাক মুবারক উনার বিষয়ে তাফসীরগ্রন্থ সমূহে উল্লেখ রয়েছে,

ذٰلِكَ الْقَمِيْصُ هُوَ مِنْ كِسْوَةِ الْجَنَّةِ كَانَ اللهُ كَسَاهُ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ إِبْـرَاهِيْمَ خَلِيْلَ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَكَسَاهُ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ إِبْـرَاهِيْمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ إِسْحَاقَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَكَسَاهُ حَضْرَتْ إِسْحَاقُ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ يَـعْقُوْبَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَكَسَاهُ حَضْرَتْ يَـعْقُوْبُ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ يُـوْسُفَ عَلَيْهِ السَّلَامُ

অর্থ: ঐ পবিত্র ক্বমীছ। ইহা পবিত্র জান্নাতী ক্বামীছ মুবারক। যা মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারকে সাইয়্যিদুনা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া প্রদান করেছিলেন (যখন সাইয়্যিদুনা হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে নমরুদ তার জলন্ত অগ্নিকুন্ডে রেখেছিল)। পরবর্তী সময়ে সাইয়্যিদুনা হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত ক্বমীছ মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত ক্বমীছ মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়া’কূব আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়া’কূব আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত ক্বমীছ মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছিলেন। (তাফসীরে মাতুরীদী ৬/২৮৫, ফতহুল ক্বদীর লিশ-শাওকানী আর-ইয়ামানী ৩/৬৩)

এ বিষয়ে আরো উল্লেখ রয়েছে। (দারজুদ্দুরার ফী তাফসীরিল আয়ি ওয়াস সুয়ার ৩/১০১৫, ফতহুর রহমান ফী তাফসীরিল ক্বুরআন ৩/৪৫, তাফসীরে জালালাইন শরীফ ৩১৭পৃ:)

সাইয়্যিদুনা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম তিনি বিভিন্ন বালা-মুছীবত থেকে হিফাযতে ছিলেন

প্রথমত: সাইয়্যিদুনা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনাকে যখন আযীযে মিশর ক্রয় করে নিজ সন্তান হিসেবে লালন-পালনের জন্য সাইয়্যিদাতুনা হযরত জুলায়খা আলাইহাস সালাম উনাকে উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক করার জন্য নির্দেশ দেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত জুলায়খা আলাইহাস সালাম উনার অধীনে লালিত-পালিত অবস্থায় যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি অশ্লিল কাজের অপবাদ দেয়া হলো, তখন ঐ পবিত্র জান্নাতী ক্বমীছ মুবারক উনার মাধ্যমে তিনি হক্ব হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিলেন। যেমন এ বিষয়ে যিনি খ¦ালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَشَهِدَ شَاهِدٌ مِّنْ أَهْلِهَا إِنْ كَانَ قَمِيْصُهٗ قُدَّ مِنْ قُـبُلٍ فَصَدَقَتْ وَهُوَ مِنَ الْكَاذِبِيْنَ. وَإِنْ كَانَ قَمِيْصُهٗ قُدَّ مِنْ دُبُرٍ فَكَذَبَتْ وَهُوَ مِنَ الصَّادِقِيْنَ. فَـلَمَّا رَأَى قَمِيْصَهٗ قُدَّ مِنْ دُبُرٍ قَالَ إِنَّهٗ مِنْ كَيْدِكُنَّ إِنَّ كَيْدَكُنَّ عَظِيْمٌ

অর্থ: দোলনায় শায়িত দুগ্ধপোষ্য শিশুটি তখন সাক্ষ্য দিয়ে বললেন, হে আযীযে মিশর! এর সঠিক ফায়সালা হলো, যদি সাইয়্যিদুনা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত সুন্নতী ক্বমীছ মুবারক উনার সামনের দিকে ছিড়া থাকে, তাহলে হযরত জুলায়খা আলাইহাস সালাম উনার দাবি সঠিক এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার দাবি সঠিক নয়। আর যদি পিছনের দিকে ছিড়া থাকে, তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার দাবি সঠিক এবং হযরত জুলায়খা আলাইহাস সালাম উনার দাবি সঠিক নয়। তখন আযীযে মিশর পবিত্র সুন্নতী ক্বমীছ মুবারক উনার পিছনের দিকে ছিড়া দেখে বললেন, হে হযরত জুলাইখা আলাইহাস সালাম! এটা আপনার চক্রান্ত। নিশ্চয়ই মহিলাদের চক্রান্ত অত্যান্ত কঠিন। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইউসুফ শরীফ: সম্মানিত  ও পবিত্র আয়াত শরীফ- ২৬, ২৭, ২৮)

সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়া’কূব আলাইহিস সালাম তিনি উনার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছিলেন

সাইয়্যিদুনা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম তিনি মিশরের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর যখন দুর্ভিক্ষ দেখা দিল, তখন ঐ দুর্ভিক্ষের প্রভাব গড়াতে গড়াতে কিনয়া’নে সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়া’কূব আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফ পর্যন্ত পৌছে যায়। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়া’কূব আলাইহিস সালাম তিনি উনার আওলাদগণকে লক্ষ্য করে বললেন যে, হে আমার আওলাদগণ! আমি জানতে পেরেছি মিশরে একজন নতুন দায়িত্বশীল দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। যিনি অত্যান্ত সৎ ও দয়ালু। এই দুর্ভিক্ষের সময় তিনি মানুষের অভাব-অনটন দূর করার জন্য সামান্য অর্থ-কড়ির বিনিময়ে উট বোঝাই খাদ্যশস্য দিয়ে থাকেন। আপনারা উনার নিকট থেকে খাদ্যশস্য নিয়ে আসুন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়া’কূব আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশ মোতাবিক যখন দশ ভাই উনারা মিশরে গেলেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম তিনি উনার দশ ভাইদেরকে চিনার পর তৃতীয়বারে যখন উনারা মিশরে আসলেন, তখন কিনয়া’ন অর্থাৎ স্বীয় বাড়ীতে প্রত্যাবর্তনের পূর্বে সাইয়্যিদুনা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম তিনি উনার ভাইদেরকে বললেন, হে আমার ভ্রাতাগণ! আমার জানা আছে যে, আমার পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়া’কূব আলাইহিস সালাম তিনি আমার জন্য কান্না করতে করতে দু’টি চক্ষু মুবারক উনার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। এ কথা বলে তারপর তিনি উনার ভাইদেরকে যে নির্দেশ মুবারক দিলেন, সে বিষয়ে যিনি খ¦ালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اِذْهَبُـوْا بِقَمِيْصِيْ هٰذَا فَأَلْقُوْهُ عَلٰى وَجْهِ أَبِىْ يَأْتِ بَصِيْـرًا وَأْتُـوْنِيْ بِأَهْلِكُمْ أَجْمَعِيْنَ.

অর্থ: আপনারা আমার এই পবিত্র জান্নাতী ক্বমীছ মুবারক নিয়ে যান। অতঃপর এই পবিত্র জান্নাতী ক্বমীছ মুবারক আমার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়া’কূব আলাইহিস সালাম উনার পবিত্রতম চেহারা মুবারক উনাতে রাখলেই তিনি উনার দৃষ্টি ফিরে পাবেন। এবং পরবর্তীতে আমাদের পরিবারের সকলকে নিয়ে মিশরে চলে আসবেন। (পবিত্র সূরা ইউসুফ : পবিত্র আয়াত শরীফ-৯৩)

কাফেলা বাড়ীতে গিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়া’কূব আলাইহিস সালাম উনার পবিত্রতম চেহারা মুবারক উনাতে পবিত্র জান্নাতী সুন্নতী ক্বমীছ মুবারক রাখলে সাথে সাথেই তিনি উনার দৃষ্টি শক্তি মুবারক ফিরে পান। সুবহানাল্লাহ!

কাট্টা কাফির হামানও উক্ত সুন্নতী ক্বমীছ মুবারক উনার উসীলায় দুনিয়াবী আযাব-গযব থেকে রক্ষা পায়

সাইয়্যিদুনা হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি যখন উনার প্রতি পবিত্র ঈমান আনয়নকারী উম্মতগণকে নিয়ে লোহিত সাগর পার হয়ে ওপারে চলে গেলেন। তখন ফেরাউন তার দল-বলসহ সকলেই ডুবে জাহান্নামে চলে গেল। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ওপার থেকে দেখলেন ফেরাউনের দল-বল সকলেই ডুবে মারা  গেল। কিন্তু হামান নামক দুষ্ট কাফির সে সাঁতরিয়ে কিনারে উঠার চেষ্টা করতেছে। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনি এখনো কেন দুষ্ট কাফির হামানকে জিন্দা রাখলেন? তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি জানালেন, আমার নবী সাইয়্যিদুনা হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আপনি জানেন, তার পরিধানে আপনার অনুরূপ সুন্নতী ক্বমীছ মুবারক রয়েছে। যদিও সে আপনাকে তিরস্কার করার জন্য তা পরিধান করেছে, তবুও উক্ত পোশাক উনার কারণে তাকে এ মুহুর্তে আমি আযাব-গববে ধ্বংস করবোনা। আপনি অপেক্ষা করে দেখতে থাকুন কি হয়। তখন দেখা গেল হামান যতই সাঁতরিয়ে কিনারে উঠার চেষ্টা করতেছে কিন্তু সে নিজেকে ঘুরে-ফিরে একজায়গাই দেখতে পায়, কিনারে যেতে পারছেনা। তখন সে ভাবল যে, জামার ভিতরে পানি তাকে আটকিয়ে রেখেছে। সে কারণে সে সুন্নতী জামা যখনই খুলে ফেলল, সাথে সাথে লোহিত সাগরের অতল তলদেশে ডুবে জাহান্নামে চলে গেল।

অপর বর্ণনায় রয়েছে, সুন্নতী লিবাস পরিধানের কারণে হামান তৎক্ষণাত পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেনি। বরং পরবর্তীতে সে লাঞ্ছিত-অপমানিত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্মানিত সুন্নতী লিবাস মুবারক সমূহ উনাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় পোশাক ছিল সম্মানিত ক্বমীছ বা জামা পরিধাণ করা। নিম্নে পুরুষ উনাদের সম্মানিত পবিত্র সুন্নতী ক্বমীছ মুবারক উনার সবিস্তারে বর্ণনা করা হলো:

ক্বমীছ বা কোর্তা পরিধান করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক:

ক্বমীছ বা কোর্তা সাদা হওয়া, সূতি কাপড়ের হওয়া, গোল হওয়া, কোণা ফাঁড়া না হওয়া, গলাবন্ধনীকে আটকানোর জন্য কাপড়ের তৈরী একটি গুটলীযুক্ত হওয়া, ফুতহা অর্থাৎ ক্বমীছের গলা সংশ্লিষ্ট ফাড়া অংশ বক্ষের উপরে হওয়া, নিছফে সাক্ব হওয়া, হাতা কব্জি পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া, ছয় টুকরা বিশিষ্ট হওয়া, ইত্যাদি খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤمِنِيْنَ السَّادِسَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ اَحَبُّ الثِّيَابِ اِلٰى رَسُوْلِ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْقَمِيْصَ

অর্থ: উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস-সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পোশাক উনার মধ্যে ক্বমীছ বা কোর্তা পরিধান করাই ছিল সর্বাধিক প্রিয়। (তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, শরহুস সুন্নাহ লিল বাগাভী ১২/৪, মিশকাত শরীফ)

সাদা কাপড়ের ক্বমীছ পরিধান করা খাছ সুন্নত মুবারক যা অতি উত্তম ও

পবিত্র পোশাক

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْه عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِلْبَسُوا الثِّيَابَ الْبِيْضَ فَإِنَّـهَا أَطْهَرُ وَأَطْيَبُ وَكَفِّنُـوْا فِيْهَا مَوْتَاكُمْ

অর্থ: হযরত সামুরা বিন জুনদুব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু হতে বর্ণিত: তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা সাদা লিবাস পরিধান করুন। নিশ্চয়ই তা অধিক পবিত্র ও অতি উত্তম লিবাস মুবারক। এবং উক্ত সাদা লিবাস মুবারক উনার দ্বারা মৃত ব্যক্তির কাফন সম্পাদন করুন। (আহমদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মাযাহ শরীফ)

(অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

 

 

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২০

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২১