মাহে যিলহজ্জ এবং তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

সংখ্যা: ২০৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শুয়াইব আহমদ

আরবী বছরের সর্বশেষ মাস যিলহজ্জ। আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের তরফ থেকে ঘোষণাকৃত চারটি হারাম বা সম্মানিত মাসসমূহের অন্যতম মাস এটি। বিভিন্ন দিক থেকে এ মাসটি বুযুর্গী ও সম্মানের অধিকারী। এ মাসেই আল্লাহ পাক তিনি হজ্জ আদায়ের ফরযটি নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

এ মাসের ফযীলত সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আল্লাহ পাক উনার নিকট যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিনের ইবাদত-বন্দিগীর চেয়ে বেশি প্রিয় আর কোন দিনের ইবাদত-বন্দিগী নেই। এর প্রত্যেক দিনের রোযা এক বছরের রোযার সমতুল্য এবং প্রত্যেক রাত্রির ইবাদত শবে ক্বদরের ইবাদতের সমতুল্য। সুবহানাল্লাহ!

যিলহজ্জের দশম তারিখ দিনটি ঈদুল আযহার দিন। এ মহান দিনে সূর্যোদয়ের পর দু’রাকায়াত ঈদুল আযহার নামায অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সাথে আদায় করা ওয়াজিব। অতঃপর যারা সামর্থ্যবান তথা মালিকে নিছাব তাদের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।

কুরবানীর ফযীলত সম্পর্কে বহু হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আদম সন্তান কুরবানীর দিন যেসব নেকীর কাজ করে থাকে তš§ধ্যে আল্লাহ পাক উনার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় নেকীর কাজ হলো কুরবানী করা। ক্বিয়ামত দিবসে কুরবানীর পশু তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে এবং কুরবানীদাতার নাজাতের ব্যাপারে সাক্ষ্য দান করবে। কুরবানীর পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে আল্লাহ পাক তিনি কুরবানীদাতার আমলনামায় অসংখ্য নেকী প্রদান করেন। ্এছাড়া কুরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই কুরবানীদাতার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। সুবহানাল্লাহ!

যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব তারা তো কুরবানী করে অফুরন্ত ফযীলত লাভ করবে। কিন্তু যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়নি বা ওয়াজিব নয় তারাও যাতে কুরবানী করে কুরবানীর ফযীলত লাভ করতে পারে তার সহজ মাসয়ালা বর্ণনা করেছেন যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল, যামানার মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদ আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। উক্ত মাসয়ালাটি হলো- একাধিক জন অর্থাৎ ৫, ১০, ২০, ৩০, ৪০, ৫০, ৬০ বা ১০০ জন মিলে কুরবানীর পশু কিনে স্বীয় নবী ও রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক-এ কুরবানী করবে। এর ফলে একদিকে তাদের কুরবানীর গোশত পাওয়া হবে। আরেকদিকে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক-এ কুরবানী দেয়ার কারণে তাদের কুরবানী নিশ্চিতরূপে কবুল হবে। সুবহানাল্লাহ!

যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব তারা নিজেদের ওয়াজিব কুরবানী আদায় করার পাশাপাশি যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে উম্মত হিসেবে তাদের উপর হক্ব হলো স্বীয় নবী ও রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নামে কুরবানী করা। এটা তাদের কুরবানী কবুল হওয়ার কারণও বটে।

হানাফী মাযহাব মতে, যার উপর কুরবানী ওয়াজিব তার পক্ষ থেকেই অর্থাৎ তার নামেই কুরবানী করতে হবে। তার নামে কুরবানী না করে যদি তার পরিবর্তে তার মৃত বা জীবিত পিতা-মাতা কিংবা অন্য কারো নামে কুরবানী করে তাহলে ওয়াজিব তরকের কারণে সে কঠিন গুনাহে গুনাহগার হবে।

স্মরণীয় যে, যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব অথবা যাদের উপর ওয়াজিব নয় প্রত্যেকের জন্যেই যিলহজ্জের চাঁদ উঠার পর থেকে দশ তারিখ কুরবানী করা পর্যন্ত চুল, নখ ইত্যাদি কর্তন না করা মুস্তাহাব-সুন্নত। যারা এ মুস্তাহাব-সুন্নত আমলটি পালন করবে তারা একটি কুরবানীর ছওয়াব লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম, আবু দাউদ, মিশকাত)

সম্প্রতি কিছু ধর্মব্যবসায়ী ও তাদের দ্বারা বিভ্রান্ত শাসক এবং সাধারণ মানুষ আর ইহুদী পোষ্য কিছু সাংবাদিক ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবী অর্থনীতিবিদ গযব থেকে পানাহ চাওয়ার পরিবর্তে উল্টো ‘ইসলামকে’ নিয়ে খেলায় মেতে উঠেছে। তারা আজ কুরবানীর বিরুদ্ধে বলছে। কুরবানীর বিপরীতে তারা মনগড়া পরামর্শ দিচ্ছে যে, কুরবানী না করে সে টাকা-পয়সা বন্যা, মহামারি, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি দুর্ঘটনায় আক্রান্তদেরকে দেয়ার জন্য। নাঊযুবিল্লাহ!

অথচ কুরবানী করা যিনি খালিক্ব মালিক রব্বুল আলামীন আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ এবং যিনি কুল-কায়িনাতের নবী ও রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ।

কাজেই, যে বা যারা কুরবানী না করে ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত বা দুস্থদেরকে কুরবানীর অর্থ দিবে তাদের এ কাজ হবে শরীয়তের বিধান অস্বীকার ও পরিবর্তনের সামিল যা মূলত প্রকাশ্য কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। অতএব এরূপ কুফরী বক্তব্য ও আমল থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ ও মহিলার জন্য ফরয। অন্যথায় ঈমান ও ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে কাট্টা কাফির, মুরতাদ ও জাহান্নামী হতে হবে।

মাহে রবীউল আউয়াল শরীফ ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে রবীউছ ছানী ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে জুমাদাল উখরা ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে রজব ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে রমাদ্বান শরীফ ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা