মাহে রমাদ্বান শরীফ ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

সংখ্যা: ২১৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শুয়াইব আহমদ

মাহে রমাদ্বান শরীফ মহান খালিক্ব মালিক রব আল্লাহ পাক উনার মাস, কুরআন শরীফ নাযিল হওয়ার মাস, রোযা, তারাবীহ, ই’তি[কাফ, শবে ক্বদর ও কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের খাছ মাস, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের খাছ মাস, ঈমানদারের রিযিক বৃদ্ধি হওয়ার খাছ মাস, ধৈর্য ও সহানুভূতির মাস এবং সর্বোপরি ঈমানদারদের তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জনের খাছ মাস। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

يايها الذين امنوا كتب عليكم الصيام كما كتب على الذين من قبلكم لعلكم تتقون

অর্থ: æহে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী ঈমানদারগণের উপর। অবশ্যই (এ রোযার দ্বারা) তোমরা তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করবে।” (সূরা বাক্বারা : আয়াত শরীফ ১৮৩)

স্মরণীয় যে, পরিপূর্ণ শরীয়ত বা সুন্নতের অনুসরণের নামই তাক্বওয়া। তাক্বওয়া ব্যতীত কারো পক্ষে হাক্বীক্বী বা প্রকৃত মুসলমান হওয়া সম্ভব নয়। অথচ খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

يايها الذين امنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تـموتن الا وانتم مسلمون

অর্থ: æহে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করার মতো ভয় করো এবং হাক্বীক্বী মুসলমান না হওয়া পর্যন্ত তোমরা মৃত্যুবরণ করো না।” (সূরা আলে ইমরান- ১০৩)

অর্থাৎ প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য হাক্বীক্বী আল্লাহভীতি বা তাক্বওয়া অর্জন করা এবং হাক্বীক্বী মুসলমান হয়ে যাওয়া ফরযের অন্তর্ভুক্ত। আরো সহজ ব্যাখ্যা হলো, কেউ যদি হাক্বীক্বী বা প্রকৃত মুসলমান হতে চায় তাকে অবশ্যই হাক্বীক্বী আল্লাহভীতি বা তাক্বওয়া অবলম্বন করতে হবে। আল্লাহভীতি বা তাক্বওয়া ব্যতীত কারো পক্ষে প্রকৃত মুসলমান হওয়া আদৌ সম্ভব হবে না।

উল্লেখ্য, তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতি অর্থ হলো মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়ে যাবতীয় পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা। যেমন- রোযাদারের ঘরে খাদ্য-পানীয় মওজুদ থাকা সত্ত্বেও এবং তার পানাহার করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সে কিন্তু তা খায় না বা পান করে না। এমনকি দেখা যায়, কেউ রোযা রেখে স্বপ্নেও কিছু খেলে এ ব্যাপারে শরীয়তের মাসয়ালা জিজ্ঞেস করে, তার রোযা ভঙ্গ হলো কি না? এই যদি হয় রোযার ক্ষেত্রে তাক্বওয়ার অবস্থা; তাহলে অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে কী তাক্বওয়ার হুকুম নেই? অবশ্যই রয়েছে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলমান নর-নারীর জন্য মাহে রমাদ্বান শরীফ-এর রোযা যেমনি ফরয করেছেন তেমনি তাদের জন্য ফরয করেছেন পর্দা।

হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, æবেহেশতের দরজায় লিপিবদ্ধ রয়েছে, ‘দাইয়ূছ’ বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। ‘দাইয়ূছ’ হলো ওই ব্যক্তি যে নিজে পর্দা করে না এবং তার  অধীনস্থদেরকে পর্দা করায় না।” (মুসনাদে আহমদ)

অনুরূপ মুসলমান পুরুষ-মহিলাদের জন্য ছবি তোলা হারাম করা হয়েছে। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন- æপ্রত্যেক ছবি তোলনেওয়ালা ও তোলানেওয়ালা জাহান্নামী।” (মুসলিম শরীফ)

এমনিভাবে মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যেসব বিষয় পালন করার জন্য আদেশ কিংবা নিষেধ করেছেন সেসব বিষয় পালনের ক্ষেত্রে তাক্বওয়া কোথায়? বরং সেসব বিষয়ের ক্ষেত্রে তাক্বওয়ার বিপরীতে চরমভাবে নাফরমানীর অনুসরণ করা হচ্ছে। ইহুদী-নাছারাদের প্রবর্তিত গণতন্ত্র, ভোট, নির্বাচন করছে, কট্টর নাস্তিক মাওসেতুং-এর প্রবর্তিত লংমার্চ করছে, কট্টর মুশরিক হিন্দু মহনদাস করম চাঁদ গান্ধীর প্রবর্তিত হরতাল করছে, তাবৎ কাফির-মুশরিকদের প্রবর্তিত টিভি, সিনেমা, ভিডিও দেখছে ও তাতে প্রোগ্রাম করছে, খেলাধুলা করছে ও দেখছে, গান-বাজনা শুনছে ও করছে, সুদ-ঘুষ খাচ্ছে ইত্যাদি হাজারো হারাম ও কুফরী কাজের অনুসরণ করছে। ফলে জান্নাতের পরিবর্তে তারা জাহান্নামকে ওয়াজিব করে নিচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!

কাজেই, রোযার ন্যায় সর্বক্ষেত্রে ‘তাক্বওয়া’ বা মহান আল্লাহ পাক উনার ভীতি অবলম্বন করা  প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয। আর এই তাক্বওয়া সত্যিকার যিনি ওলীআল্লাহ উনার ছোহবত ব্যতীত অর্থাৎ উনার রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ ব্যতীত অর্জন করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। এ মর্মে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, æহে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার ভীতি অর্জন করো। এবং (মহান আল্লাহ পাক উনার ভীতি অর্জন করার জন্য) ছাদিক্বীন অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী উনাদের ছোহবত ইখতিয়ার করো।” (সূরা তওবা : আয়াত শরীফ-১১৯)

বলার অপেক্ষা রাখে না, উক্ত আয়াত শরীফ-এর হাক্বীক্বী মিছদাক্ব যামানার মুজাদ্দিদ ও ইমামগণ। আর বর্তমান যামানার মুজাদ্দিদ ও ইমাম হলেন মুজাদ্দিদ আ’যম, আওলাদে রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম।

অতএব, প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উচিত উনার মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করে হাক্বীক্বী তাক্বওয়া অর্জনের কোশেশ করা। আল্লাহুম্মা আমীন।

মাহে যিলহজ্জ এবং তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে মুহররম এবং তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা -হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শুয়াইব আহমদ

মাহে ছফর এবং তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

সাইয়্যিদুল আসইয়াদ, সাইয়্যিদুশ শুহূর, শাহরুল আ’যম মাহে রবীউল আউয়াল শরীফ ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে রবীউছ ছানী ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা