মাহে শাওওয়াল-যিলক্বদ ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

সংখ্যা: ১৯১তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শুয়াইব আহমদ

আরবী দশমতম মাসটির নাম শাওওয়াল। এ মাসের পহেলা তারিখ দিনটি ঈদুল ফিতরের দিন। ঈদুল ফিতরের রাত ও দিন উভয়টি অতিশয় ফযীলত ও মর্যাদার। হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ঈদুল ফিতরের রাতে একদল ফেরেশতা আসমান হতে যমীনে আগমন করে উচ্চস্বরে ঘোষণা করতে থাকেন, হে আল্লাহ পাক-এর প্রিয় বান্দাগণ! তোমরা আল্লাহ পাক-এর রিযামন্দির জন্য এক মাস রোযা রেখেছো, বিনিময়ে আল্লাহ পাক তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তোমাদের জন্য আল্লাহ পাক জান্নাতে এমন সব বালাখানা তৈরি করে দিবেন, যা অন্য কারো পক্ষে লাভ করা সম্ভব হবে না। শুধুমাত্র যারা তোমাদের মতো নেক আমল করবে তারাই সে মর্যাদা লাভে সক্ষম হবে।

আর দিনটির ফযীলত সম্পর্কে হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ঈদুল ফিতরের দিন যখন মুছল্লীগণ ঈদের নামায আদায় করার জন্য ঈদগাহে জমায়েত হন তখন আল্লাহ পাক-এর তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়, ‘হে আমার বান্দাগণ! তোমরা আমারই রিযামন্দি লাভের আশায় এক মাস রোযা রেখেছো এবং আজ আমার সন্তুষ্টি লাভের আশায় ঈদগাহে সমবেত হয়েছো। কাজেই, আমি আজ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। যাও, তোমরা আজ চিরমুক্ত ও নির্মল।

আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম দ্বিতীয় হিজরীতে ঈদুল ফিতরের নামায আদায় করেন এবং পরবর্তীতে কখনও এ নামায বাদ দেননি। হানাফী মাযহাবের ইমাম হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি ঈদের নামায সম্পর্কিত হাদীছ শরীফসমূহ অনুধাবন করে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যে, ঈদের নামায ওয়াজিব। হাম্বলী মাযহাবের ইমাম হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি-এরও এই মত। তবে মালিকী ও শাফিয়ী মাযহাবের ইমামদ্বয়ের মতে সুন্নত।

ঈদের নামাযের ওয়াক্ত: ফজরের ওয়াক্ত শেষ হবার ২৩ মিনিট পর্যন্ত মাকরূহ ওয়াক্ত, এরপরই ঈদের ওয়াক্ত শুরু হয়। আর যুহরের ওয়াক্ত শুরু হবার পূর্বে ১ ঘণ্টা যা মাকরূহ ওয়াক্ত, এর পূর্ব পর্যন্ত ঈদের নামাযের ওয়াক্ত থাকে। মাকরূহ ওয়াক্তে ঈদের নামায আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে না।

ঈদের নামায সকাল সকাল পড়া সুন্নত। ঈদের নামাযের সম্মানার্থে এবং ঈদের নামায আদায়ে যাতে দেরি না হয় সেজন্য ঈদের দিন ইশরাকসহ অন্যান্য নফল নামায পড়া নিষিদ্ধ।

হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামায পড়ে হুজরা শরীফে গিয়ে সকাল সকাল গোসল করতেন এবং ঈদুল ফিতরের দিন বিজোড় সংখ্যক (৩, ৫, ৭) খেজুর খেয়ে ঈদগাহে যেতেন। আর ঈদুল আযহার দিন কিছু না খেয়ে সরাসরি ঈদগাহে যেতেন। অতঃপর ঈদের নামাযের ওয়াক্ত হবার সাথে সাথে ঈদের নামায আদায় করতেন। তারপর খুতবাহ দিতেন ও নছীহত পেশ করতেন।

আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদ ও জুমুয়ার খুতবা দানকালে লাঠির উপর ভর দিতেন। অর্থাৎ খুতবা দেয়ার সময় ইমাম ছাহেবের জন্য লাঠি ব্যবহার করা একটি সুন্নত এবং খুতবা মুখস্থ দেয়া সুন্নত। খুতবার ভাষা আরবী হওয়া শর্ত। আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় খুতবা দেয়া জায়িয নেই।

বর্তমানে কোন কোন এলাকায় মহিলাদেরকে ঈদ ও জুমুয়া পড়ার জন্য ঈদগাহে ও মসজিদে যেতে দেখা যায়। নাউযুবিল্লাহ! এটা সম্পূর্ণরূপে শরীয়তের খিলাফ। শরীয়তের আম বা সাধারণ ফতওয়া মতে এটা মাকরূহ তাহরীমী, আর খাছ ফতওয়া মতে কুফরী। কাজেই, মহিলারা মসজিদ ও ঈদগাহে গিয়ে নামায পড়লে নামায তো হবেই না, উল্টা কঠিন গুনাহে গুনাহগার হবে। কারণ হাদীছ শরীফে মহিলাদের নামাযের উত্তম স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে তাদের নিজ নিজ ঘরের প্রকৌষ্ঠ বা কামরা এবং সেখানে নামায আদায়ে ২৫ গুণ ছওয়াবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মাহে শাওওয়াল-এর পরবর্তী মাস মাহে যিলক্বদ। এটি আরবী এগারতম মাস এবং চারটি হারাম বা সম্মানিত মাসের একটি। এছাড়া এ মাসটি হজ্জের মাসসমূহেরও একটি। এ মাসেই হজ্জ পালনকারীগণ হজ্জের প্রস্তুতি গ্রহণপূর্বক হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ গমন করে থাকেন।

প্রকাশ থাকে যে, হজ্জ দ্বীন ইসলামের পাঁচটি বুনিয়াদের একটি। অর্থাৎ প্রত্যেক স্বাধীন, বালেগ, সুস্থ, দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন মুসলমানের যদি সাংসারিক প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর হজ্জে যাওয়া ও ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের অতিরিক্ত সম্বল বা পাথেয় থাকে, যানবাহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকে এবং জান-মাল, ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা থাকে, তবে তার প্রতি জীবনে একবার হজ্জ করা ফরয। মহিলাদের জন্য স্বামী অথবা কোন সৎচরিত্রবান মাহরাম সঙ্গে থাকা শর্ত।

স্মরনযোগ্য যে, হজ্জ পালন করার জন্য যেসব শর্তের কথা উল্লেখ রয়েছে তারমধ্যে ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “যার উপর হজ্জ ফরয সে যেন হজ্জ করতে গিয়ে নির্জনবাস ও তার সংশ্লিষ্ট কোন কাজ না করে এবং কোন প্রকার ফাসিকী বা নাফরমানীমূলক কাজ না করে এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। (সূরা বাক্বারা-১৯৭)

আয়াত শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হলো, হজ্জ করতে গিয়ে যদি কাউকে কোন ফাসিকী বা হারাম  কাজের সম্মুখীন হতে হয় যেমন- ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া ইত্যাদি তাহলে তার উপর হজ্জের ফরয সাকিত বা রহিত হয়ে যাবে অর্থাৎ তখন আর হজ্জ ফরয হবে না। যেমনিভাবে কোন মহিলা যদি সারা পৃথিবীর মালিকও হয় আর তার যদি কোন মাহরাম না থাকে তাহলে তার উপর হজ্জ ফরয হবে না। কারণ মাহরাম ব্যতীত হজ্জে গেলে তার দ্বারা হারাম কাজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাহে মুহররমুল হারাম ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে রবীউল আউয়াল শরীফ ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা -হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শুয়াইব আহমদ

মাহে রবীউছ্ ছানী ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে জুমাদাল উখরা ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে রজব ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা