মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৯৮) হুসনুল খুল্ক বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।

সংখ্যা: ২৩৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম

انابة (ইনাবত) উনার মাক্বাম অর্জনকারী বা হাছিলকারী ব্যক্তির ফযীলত-সম্মান

 

انابة (ইনাবত) বিশেষ এক মাক্বাম। এ মাক্বাম হাছিলকারী ব্যক্তিত্বকে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুহব্বত করেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় বান্দাকে উক্ত মাক্বাম হাছিলের নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وانيبوا الى ربكم واسلموا له من قبل ان ياتيكم العذاب ثم لا تنصرون.

অর্থ: তোমাদের কাছে আযাব-গযব আসার এবং সাহায্য ও সহায়হীন হওয়ার পূর্বেই তোমরা তোমাদের মহান পালনকর্তা আল্লাহ পাক উনার প্রতি ধাবিত হও এবং উনার কাছে আত্মসমর্পন করো তথা পূর্ণ আজ্ঞাবহ হও। (পবিত্র সূরা যুমার শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৪)

এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে উল্লেখ রয়েছে, “তোমরা শিরক এবং পাপ কাজ ছেড়ে দিয়ে তোমাদের মহান রব আল্লাহ পাক উনার দিকে ধাবিত হও।” (তাফসীরে শায়েখ যাদাহ)

বান্দা যখন দুনিয়ার আবিলতা হতে মুক্ত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে খালিছভাবে রুজু হয় তখন মহান আল্লাহ পাক উক্ত ব্যক্তিত্বকে বিশেষভাবে মুহব্বত করেন। আর তখনই মহান আল্লাহ পাক উনার আযমতের পর্দা উন্মোচিত হয়, নতুন নতুন রহস্যের দ্বার খুলে যায়। তখন সে ব্যক্তিত্ব যা দেখেন সঠিক দেখেন, যা বলেন সঠিক বলেন, যা করেন সঠিক করেন। হাক্বীক্বী বা প্রকৃত রূপটি উনার সামনে উদ্ভাসিত হয়।

এ প্রসঙ্গে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ويهدى اليه من ينيب

অর্থ: “যে ব্যক্তি উনার দিকে (মহান আল্লাহ পাক) রুজু হয় তিনি সে ব্যক্তিকে সঠিক পথের সন্ধান দান করেন।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)

সাথে সাথে দুনিয়ার কদর্যপূর্ণ রূপটিও হাক্বীক্বীভাবে ফুটে উঠে। উনার পিছনের যিন্দিগীর সময়টির ভাল-মন্দ বিষয়টিও স্পষ্ট হয়। তখন উনার আফসোস পয়দা হয় বিশেষভাবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত যায়িদ ইবনে আরক্বাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা তিনি বর্ণনা করেন, একদিন আমি খলীফাতু রসূলিল্লাহ আফদ্বালুন নাস, বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার কাছে বসা ছিলাম। কয়েকজন লোক ঠাণ্ডা শীতল পানিতে মধু মিশিয়ে শরবত তৈরী করতঃ খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খিদমত মুবারকে পেশ করলেন। তিনি শরবতের পেয়ালাটি হাত মুবারকে নিলেন। মুখ মুবারকের কাছে নেয়ার সাথে সাথে আবার তা ফিরিয়ে নিলেন। এমনভাবে কান্না শুরু করে দিলেন যে, তা দেখে আমরাও কাঁদতে লাগলাম। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার কাঁদতে শুরু করলেন। উনার তখনকার অবস্থা দেখে কেউ কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করার সাহস পেলেন না।

কিছুক্ষণ পর কান্নার গতি কমে গেল। তিনি চোখ মুবারক মুছতে লাগলেন। তখন উপস্থিত লোকজন উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, হে খলীফাতু রসূলিল্লাহ! আপনি এভাবে কান্না করলেন কেন? তিনি বললেন, আমি একদিন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দরবার শরীফে উপস্থিত ছিলাম। দেখতে পেলাম তিনি স্বীয় পবিত্র হাত মুবারকে উনার পরিধানের কাপড় মুবারক থেকে যেন কোন কিছু সরিয়ে ফেলছেন। অথচ আমরা তাতে কিছুই দেখতে পেলাম না। এমতাবস্থায় আমরা উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম। ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি সরিয়ে দিচ্ছেন? তিনি বললেন, দুনিয়া। সে এসে আমার কাছে আত্মসমর্পন করেছিল। আমি তাকে দুরে সরিয়ে দিলাম। সে পুনরায় এসে বললো, আমি আপনার কাছে স্থান পেলাম না। আপনি আমাকে গ্রহণ করলেন না। কিন্তু আপনার পরে যারা আসবে (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা ব্যতীত) তারা আমার হাত থেকে নিস্তার পাবে না।

তিনি আরো বললেন, শরবতের পিয়ালাটি আমার মুখ মুবারক উনার কাছে নিতেই ভয় হলো কি জানি হয়তো দুনিয়া আমাকে পেয়ে বসে।। (কিমিয়ায়ে সা’আদাত)

খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আফদ্বালুন নাস, বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবার আলাইহিস সালাম তিনি কোন পাখি দেখে বলতেন, হায় আফসুস! আমি যদি তোমার মত পাখি হতাম!

হযরত আবূ যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলতেন, আমি যদি বৃক্ষ হতাম। উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্ব আলাইহাস সালাম তিনি বলতেন, হায় আফসুস! আমার অস্তিত্বই যদি না হতো!

খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার কোন আয়াত শরীফ শুনলে বেকারার হয়ে যেতেন। কখনো কখনো অবস্থা এমন গুরুতর হয়ে যেত যে, কিছুদিন পর্যন্ত উনাকে শয্যাগত থাকতে হতো। (কিমিয়ায়ে সা’আদাত)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৬৭)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৬৮)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৬৯)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭০)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭১) ফানা-এর মাক্বামে অবস্থানকারী কতিপয় আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম