মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৯৩) ক্বলবের ফানা এবং নফসের ফানা হাছিলের উপায়

সংখ্যা: ২৩৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম

 

পূর্ব প্রকাশিতের পর

কোনো কারণে যদি তওবা ভঙ্গ হয়ে যায়। অর্থাৎ নফসের তাড়না সহ্য করতে না পেরে যদি গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়ে যায় তাহলে সাথে সাথে তওবা করতঃ পূনরায় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

التائب من الذنب كمن لا ذنب له

অর্থাৎ “গুনাহ হতে তওবাকারী ব্যক্তি তিনি যেন কোন গুনাহই করেননি।”

তবে যারা সৌভাগ্যবান তাদের দ্বারা গুনাহের পূনরাবৃত্তি ঘটে না। যাদের দ্বারা পূনরাবৃত্তি ঘটে তাদের মঞ্জিলে মাকছুদে (জীবনের অভিষ্ট লক্ষ্যে) পৌঁছতে অনেক সময় লাগে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মু’মিন ব্যক্তি কখনো একই গর্তে দুবার দংশিত হয় না।” অর্থাৎ তাদের দ্বারা একই ভুলের পূনরাবৃত্তি ঘটে না।

উল্লেখ্য যে, শারিরীক জটিল- কঠিন রোগ হলে নিরাময়ের জন্য হাসাপাতালে যেতে হয়। সর্বক্ষণ অভিজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়।

একইভাবে আত্মার জটিল কঠিন রোগ তথা বদখাছলতগুলো হতে মুক্তি পেতে হলে একজন কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সার্বক্ষণিক তত্বাবধানে থাকা আবশ্যক। কেননা কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার তত্ত্বাবধান তথা ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ ব্যতীত বদ খাছলত হতে মুক্ত থাকা কখনোই সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে বিগত জীবনের সকল গুনাহ-খতা, বদখাছলত হতে খালিছ তওবা করতঃ ভবিষ্যতে কোনদিন গুনাহ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। স্বীয় শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার পবিত্র ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার তথা ফায়েজ তাওয়াজ্জুহ হাছিলের লক্ষ্যে পবিত্র দরবার শরীফ অবস্থান করতে হবে। চোখ, মুখ, হাত, পা, কান ইত্যাদি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দ্বারা কোন প্রকার গুনাহ কখনো যেন না হয় তার দিকে তীক্ষè দৃষ্টি রাখতে হবে। এমনকি অন্তরে কোন প্রকার গোনাহ এর চিন্তাও যেন উদয় না হয় তার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

পক্ষান্তরে সবসময় নেক আমলে লিপ্ত থাকতে হবে। একটি মুহুর্তের জন্য গাফিল থাকতে পারবে না। অর্থাৎ বেশি বেশি রোযা রাখতে হবে। ফরয-ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্কাদা আমলগুলো যথাযথভাবে সুসম্পন্ন করার পর সুন্নতে যায়িদা বা মুস্তাহাব আমলেও অতীব গুরুত্বের সাথে লিপ্ত থাকতে হবে। তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত, যাওয়াল, আওয়াবিন, তাছবীহসহ সমস্ত সুন্নতে যায়িদা নামাযসমূহ আদায় করতে হবে। পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, পবিত্র হাদীছ শরীফ অধ্যায়ন, পবিত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ও দৈনিক আল ইহসান শরীফ পাঠসহ অন্যান্য কিতাবাদি পাঠ করতে হবে। সর্বাবস্থায় পাস-আনফাস করতে হবে। পবিত্র ইশা ও ফযর নামাযান্তে গভীর মনোযোগ ও মুহব্বতের সাথে পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করতে হবে। সবক থাকলে তাও অধির আগ্রহে, অত্যান্ত মুহব্বত ও ধ্যান-খেয়ালের সাথে আদায় করতে হবে।

একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত কোন কথা বলবে না। কারো সাথে একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত মেলা- মেশা করবে না। অসহনীয় না হওয়া পর্যন্ত ঘুমাবে না। পেট ভরে কখনোই খাবে না। সবসময় অযু সহকারে থাকবে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে হবে। এভাবে অন্তত চল্লিশ দিন অতিবাহিত করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে ৩০ দিন। তা না হলে অন্তত ১৫ দিন। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে ৭ দিন। তাও সম্ভব না হলে অন্ততপক্ষে ৩ দিন এই অবস্থায় অতিবাহিত করবে।

তাহলে স্বীয় শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার ফায়িজ-তাওয়াজ্জুহ, নেক দৃষ্টি লাভ করা সহজ ও সম্ভব হবে। তায়াল্লুক, নিছবত মুবারক উনার পথ খুলে যাবে। ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক দীদার, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক জিয়ারত নসীবের দ্বারা উন্মোচন হবে। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের সুসংবাদ লাভ হবে। আসমান ও যমীনের সকলের নিকট কবুলিয়াতের সংবাদ পাওয়া যাবে।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন কোন বান্দাকে মুহব্বত করেন তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে ডেকে বলেন, আমি অমুক বান্দাকে মুহব্বত করি। কাজেই, আপনিও তাকে মুহব্বত করুন। তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে মুহব্বত করতে থাকেন। অতঃপর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম আসমানবাসীকে ডেকে বলেন মহান আল্লাহ পাক তিনি অমুক বান্দাকে মুহব্বত করেন। আমিও উনাকে মুহব্বত করি। কাজেই, আপনারাও উনাকে মুহব্বত করুন। তখন আসমানবাসী সবাই উনাকে মুহব্বত করতে থাকেন।” অতঃপর পৃথিবীর সবার কাছে সেই বান্দার কবুলিয়াত বা গ্রহণযোগ্যতা ঘোষিত হয়। (সবাই তাকে মুহব্বত করেন, তা’যীম-তাকরীম করেন। ইতায়াত বা অনুসরণ-অনুকরণ করতে থাকেন।) সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছার মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১২৭)

-ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছার- মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১২৮)

ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছার মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১২৯)

ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছারল মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১৩০)

ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছার মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১৩১)