মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৯০) অতি প্রিয় ও পছন্দনীয় বস্তু কুরবান বা বিসর্জন না দেয়া পর্যন্ত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার গভীর নিছবত, তায়াল্লুক, মুহব্বত, নৈকট্য হাছিল হয় না।

সংখ্যা: ২৩১তম সংখ্যা | বিভাগ:

আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম

বালয়াম বিন বাউরা ইস্তিক্বামাত

বা অবিচল থাকতে পারেনি।

রইসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, লোকটির নাম ছিল বালয়াম বিন বাঊরা। সে বাইতুল মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী কেনআনের অধিবাসী ছিল। ওহী মুবারক দ্বারা নাযিলকৃত পবিত্র কিতাব উনার ইলিম তার ছিল। ফিরআউনের লোহিত সাগরে ডুবে মারা যাওয়া ও মিসর বিজয়ের পর যখন নির্দেশ আসলো যে, জাববারীন সম্প্রদায়ের সাথে জিহাদ করতে হবে। তখন জাব্বারীন সম্প্রদায়ের লোকেরা ভয় পেয়ে গেল। তারা সবাই বালয়াম বিন বাঊরার কাছে সমবেত হয়ে বললো, হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি অত্যন্ত জ্বালালী তবীয়তের রসূল। তাছাড়া বিপুল সংখ্যক লোক রয়েছে উনার সাথে। উনারা এসেছেন আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার জন্য।

কাজেই, আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আমাদের জন্য দোয়া করুন যাতে তিনি উনাদেরকে আমাদের মুকাবেলা থেকে ফিরিয়ে দেন। বালয়াম বিন বাঊরা ইসমে আ’যম জানতো এবং সে পবিত্র ইসমে আ’যম উনার মাধ্যমে যে দোয়া করতো সেটাই কবুল হতো।

বালয়াম বিন বাঊরা বললো, বড়ই আশ্চর্যের বিষয়। তোমরা এটা কি বলছ? তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার জলীলুল ক্বদর (অতি উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন) রসূল আলাইহিস সালাম। উনার সাথে রয়েছেন মহান আল্লাহ পাক উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ, গায়েবী মদদ। কাজেই, আমি কি করে উনার বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে পারি? আমি যদি এ কাজ করি তাহলে আমার দুনিয়া-আখিরাত সবই ধ্বংস হয়ে যাবে।

সমাজের প্রভাবশালী লোকেরা পীড়াপীড়ি করলো। বালয়াম বিন বাঊরা বললো, আচ্ছা আমি আমার মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে জেনে নেই যে, এ ব্যাপারে দোয়া করার অনুমতি আছে কিনা?

সে তার নিয়মানুযায়ী বিষয়টি জানার জন্য ইস্তিখারা কিংবা অন্য কোন উপায় অবলম্বন করলো। তাতে তাকে জানানো হলো, সে যেন কখনোই এমন কাজ না করে। বালয়াম বিন বাঊরা তার সম্প্রদায়কে বললো যে, বদদোয়া করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। কাজেই, আমার পক্ষে কখনোই এ কাজ করা সম্ভব হবেনা।

সমাজপতিরা তখন তার স্ত্রীকে মোটা অঙ্কের লোভনীয় উপঢৌকন দান করলো। তার স্ত্রী তা গ্রহণ করে কাজটি করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলো। বালয়াম বিন বাঊরা তার স্ত্রীর প্রতি দুর্বল ছিল। স্ত্রীর আকর্ষণ বেশি ছিল তার অন্তরে। ফলে স্ত্রীর সন্তুষ্টি এবং অর্থের মোহ তাকে অন্ধ করে দিল। ফলে সে হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং বণী ইসরাইলগণের বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে আরম্ভ করলো।

মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত, সে হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে গিয়ে যেসব বাক্য বলতে চাইছিল সে সবই নিজ সম্প্রদায়ের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে উচ্চারিত হয়ে যাচ্ছে। তখন সবাই চিৎকার করে উঠলো। তুমি যে আমাদের বিরুদ্ধেই বদদোয়া করছো। বালয়াম বিন বাঊরা বললো, এটা আমার ইচ্ছাকৃত নয়। আমার জিহ্বা এর বিরুদ্ধাচরণে সমর্থ নয়।

ফল হলো এই যে, সে সম্প্রদায়ের উপর ধ্বংস নাযিল হলো। আর বালয়াম বিন বাঊরার শাস্তি হলো- তার জিহ্বা বেরিয়ে এসে বুকের উপর লটকে গেল। তখন সে তার সম্প্রদায়কে বললো আমার দুনিয়া-আখিরাত সবইতো শেষ হয়ে গেল। আমার দোয়া অকার্যকর হয়ে গেল। তবে তোমাদের একটি কৌশল বলে দিচ্ছি, যার দ্বারা তোমরা হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উপর বিজয়ী হতে পারবে। নাউযুবিল্লাহ! তোমরা তোমাদের খুব ছূরত মেয়েদেরকে অলঙ্কারে সুসজ্জিত করে বণী ইসরাইল সৈন্যদের মাঝে পাঠিয়ে দাও। তাদেরকে এ কথা ভাল করে বুঝিয়ে দাও যে, বণী ইসরাইলের লোকেরা তাদের সাথে যা কিছু করতে চায়, তারা যেন রাজি হয়। কোন রকম বাধা যেন না সাধে। এরা মুসাফির। দীর্ঘদিন বাড়ী ঘর ছাড়া। হয়তো বা তারা এমতাবস্থায় কুকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়বে। আর মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ইহা অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। যে জাতির মাঝে তা অনুপ্রবেশ করে, তাদের উপর কঠিন আযাব-গযব ও অভিসম্পাত নাযিল হয়। সে জাতি কখনো বিজয় বা কৃতকার্যতা অর্জন করতে পারে না।

বালয়াম বিন বাঊরার এই পৈশাচিক চালটি তাদের খুব পছন্দ হলো এবং সে মতেই কাজ করলো। বণী ইসরাইলের জনৈক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এ চালের স্বিকার হয়ে গেল। ফলে বণী ইসরাইলের মাঝে কঠিন প্লেগ ছড়িয়ে পড়লো। তাতে একই দিনে সত্তর হাজার ইসরাইলী মৃত্যুমুখে পতিত হলো।

হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আরযু জানালেন, আয় বারে ইলাহী! এর কারণ কি? মহান আল্লাহ পাক তিনি অহী মুবারক দ্বারা বিষয়টি জানালেন। পরে বণী ইসরাইলের যে ব্যক্তি অসৎকর্মে লিপ্ত হয়েছিল তাকে এবং যার সাথে লিপ্ত হয়েছিল তাকে হত্যা করে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখলো। যাতে অন্যান্যরা শিক্ষা গ্রহণ করে। পরে তারা সবাই তওবা করলো। তখন সে প্লেগ চলে গেল। বণী ইসরাইলগণ বিজয় লাভ করলেন।

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৬৮)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৬৯)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭০)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭১) ফানা-এর মাক্বামে অবস্থানকারী কতিপয় আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭২) তাওয়াক্কুল-এর মাক্বামে ফানা কতিপয় আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের হাল বা অবস্থা: