মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৮৬) অতি প্রিয় ও পছন্দনীয় বস্তু কুরবান বা বিসর্জন না দেয়া পর্যন্ত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার গভীর নিছবত, তায়াল্লুক, মুহব্বত, নৈকট্য হাছিল হয় না।

সংখ্যা: ২২৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের গভীর তায়াল্লুক, নৈকট্য, নিছবত, মুহব্বত, সন্তুষ্টি হাছিলের জন্য অতি প্রিয় ও পছন্দনীয় সম্পদ বা বস্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে পেশ করেছেন।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অত্যন্ত প্রিয় ছাহাবী হযরত যায়িদ ইবনে হারিসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তিনি একদিন উনার প্রিয় ঘোড়াটি নিয়ে এসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে পেশ করলেন। নিবেদন করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই ঘোড়াটি আমার সবচেয়ে বেশি প্রিয়। আমি উহাকে আপনার মুবারক খিদমতে উৎসর্গ করতে চাই।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেটা কবুল করলেন, গ্রহণ করলেন। অতঃপর সেই ঘোড়াটি উনারই পুত্র হযরত উসামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দিয়ে দিলেন। খিদমত মুবারকে পেশকৃত ঘোড়া নিজ গৃহে ফেরত দেখে হযরত যায়িদ ইবনে হারিসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি অত্যন্ত চিন্তিত হলেন। উনার চিন্তিত অবস্থা দেখে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হে যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনার হাদিয়া কবুল করা হয়েছে। অর্থাৎ আপনার প্রিয় জিনিস কুরবান করার প্রতিদান আপনি পেয়েছেন। চিন্তার কোন কারণ নেই।” (তাফসীরে মাজহারী-২/২৪৭, কামালাইন, জালালাইন-১-৬৭৫)

আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, একদিন এ পবিত্র আয়াত শরীফ-

لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون

তিলাওয়াতকালে আমার মনে উদয় হলো যে, আমার সম্পদের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে আমার মারজানা রহমতুল্লাহি আলাইহি নামের রুমী দাসীটি। তৎক্ষণাৎ আমি তা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারকের জন্য উনাকে আযাদ করে দিলাম। তিনি আরো বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দানকৃত বস্তু ফেরত নেয়া নিষিদ্ধ না হলে আমি উক্ত বাঁদীটিকে ফেরত নিয়ে বিয়ে করতাম। (তাফসীরে দুরলে মানছুর-১/৫০)

অষ্টম খলীফা, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি টাকা দ্বারা মিষ্টি কিনে তা মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দান করতেন। কেউ উনাকে বললেন, ইয়া আমীরুল মু’মিনীন! আপনি এত মেহনত না করে সরাসরি টাকা-পয়সা দান করতে তো পারতেন।

তিনি বললেন, মিষ্টি আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় বস্তু। তাই আমার ইচ্ছা হলো সর্বাধিক প্রিয় বস্তু মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দান করবো। (হাশিয়ায়ে জালালাইন, কামালাইন, জামালাইন-১/৬৭৫)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিশিষ্ট ছাত্র ও মুরীদ হযরত ইমাম নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মিষ্টি কিনে তা মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় ছদকা করে দিতেন।

আমরা বললাম, হে আমাদের শায়েখ! বেয়াদবী ক্ষমা চাই। আপনি যদি মিষ্টি না কিনে এর মূল্য দ্বারা অন্য খাদ্য কিনে দিতেন তাহলে গরীবদের জন্য অধিক ফায়দা হতো। উত্তরে তিনি বললেন, আপনারা যা বলছেন তা আমি অবশ্যই বুঝি। তবে আমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে বলতে শুনেছি-

لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون

অর্থাৎ তোমাদের সর্বাধিক প্রিয় বস্তু ব্যয় বা উৎসর্গ না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো কল্যাণ তথা মা’রিফাত, মুহব্বত, সন্তুষ্টি, নৈকট্য হাছিল করতে পারবেনা। হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তো মিষ্টিকে মুহব্বত করেন। তাই তিনি মিষ্টি খরীদ করে ছদকা করেছেন। (তাফসীরে দুররে মানছুর-১/৫১)

আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! পৃথিবীতে এমন কোন বস্তু দেখছিনা যার প্রতি আমার আন্তরিক আকর্ষণ রয়েছে। তবে খাইবারের ভূখ-টুকু কিছুটা প্রিয়। এ ব্যাপারে আপনি কি বলেন?

সাইয়্যিদুল মুরসলীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনি মূল জমিটুকু নিজের মালিকানায় রাখুন এবং উহার উৎপাদিত শস্য মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দান করে দিন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর-২/৫০৯)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৬৮)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৬৯)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭০)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭১) ফানা-এর মাক্বামে অবস্থানকারী কতিপয় আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭২) তাওয়াক্কুল-এর মাক্বামে ফানা কতিপয় আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের হাল বা অবস্থা: