মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৮২) রাবেতা বা তাছাওউরে শায়েখ এবং উনার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

সংখ্যা: ২২৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম

 

পূব র্প্রকাশিতের পর

সে মুরীদ বাড়ীতে আসার জন্য রওয়ানা করলো। কিছুদূর আসার পর রাস্তার পাশে পতিতাবৃত্তির একটা সাইন বোর্ড দেখে সেখানে থেমে গেল এবং সেই হাদিয়ার টাকা দিয়ে সেখানে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিল। নাউযুবিল্লাহ!

যেই বাড়ীতে পতিতাবৃত্তির কাজ হতো সেই বাড়ীর চারদিকে চারটি রাস্তা ছিল। প্রথমে সে একটা রাস্তা দিয়ে সেই বাড়ীতে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখতে পেল, মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একটা তরবারী হাতে নিয়ে সেখানে পায়চারি করছেন। এ দৃশ্য দেখে মুরীদ ভয়ে পালিয়ে গেল। বেশকিছু সময় অপেক্ষা করে বাড়ীর অপরদিকে দ্বিতীয় আরেক রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করতে গেল। কিন্তু সে রাস্তায় গিয়েও মুরীদ দেখতে পেল, মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী হযরত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তরবারী হাতে নিয়ে পায়চারি করছেন। এমনিভাবে মুরীদ তৃতীয় ও চতুর্থ রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে একইভাবে বাধাগ্রস্ত হলো। আর এদিকে রাত্রিও শেষ হয়ে গেল।

যখন সকাল হলো তখন মুরীদ চিন্তা করতে লাগলো যে, ব্যাপারটা কি ঘটলো! চিন্তা-ভাবনা করে সে সেই বাড়ীতে গিয়ে বললো, আমি তো টাকা দিয়ে চুক্তি করেছিলাম আসার জন্য কিন্তু এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা শুনে মহিলা বললো, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে চিনি। এই ঘটনা মূলতঃ উনি আপনাকে পাপ থেকে সাবধান করার জন্যেই ঘটিয়েছেন। আপনি যদি আমার সাথে সাক্ষাত করতেই চান তাহলে হালালভাবে করতে পারেন। তখন মুরীদ সেই মহিলাকে বিবাহ করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়ীতে এসে চিন্তা করতে লাগলো, হযরত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে পাঠানো হাদিয়া তো খরচ করে ফেলেছি, এখন উনার দরবারে যাব কি যাব না। আবার এদিকে এটাও ভাবছে, উনার জন্য যে হাদিয়া পাঠানো হয়েছে তাতো আর উনি জানেন না। নাউযুবিল্লাহ। ইত্যাদি নানান ভাবনা-চিন্তা করে সে হযরত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবারে গেল এবং পূর্বের মতো আসা-যাওয়া করতে লাগলো। হযরত শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও কিছু বলছেন না। এভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর মুরীদ আবার জিজ্ঞেস করে বসলো, হুযূর! শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা মুরীদের কি কাজে আসে? এ কথা শুনামাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ধমক দিয়ে বললেন, হে ব্যক্তি! তুমি এখনও জিজ্ঞেস করছো, শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা মুরীদের কি কাজে আসে? আমার সেই হাদিয়া কোথায়? তুমি যে পতিতালয়ে প্রবেশ করার জন্য উদ্যত হয়েছিলে সেখান থেকে কে তোমাকে ফিরালো? এরপরও কি তোমার বুঝতে বাকী আছে যে, শায়েখ মুরীদের কি কাজে আসে? তখন সে মুরীদ অনুতপ্ত হয়ে উনার ক্বদম মুবারকে পড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগলো।

তাছাওউরে শায়েখ এর মুরাকাবাটি সবক হিসেবে তরীক্বত উনার মধ্যে নেই। আর এই বিষয়ে শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনারও কোন নির্দেশ থাকেনা। তবে সালিক বা মুরীদগণ উনাদের ফায়দার জন্য সালিক বা মুরীদকে এ বিষয়ে সচেষ্ট হওয়া উচিত। কেননা বিনা চেষ্টায় শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার ছূরত বা আকৃতি মুবারক খেয়ালে আসা শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে মুরীদের পূর্ণ নিছবত, তায়াল্লুক বা সম্বন্ধের বহিঃপ্রকাশ। যা ফায়দা আদান-প্রদানের শ্রেষ্ঠতম উপায়। মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফত মুবারক, মুহব্বত মুবারক, সন্তুষ্টি মুবারক রেযামন্দি মুবারক প্রাপ্তির কোন পথই ইহা হতে অধিক নিকটতর নয়। আর গোনাহ হতে বেঁচে থাকার জন্য ইহা থেকে অধিক সহজতর কোন পথ নেই। কোন সৌভাগ্যবান লোক যে ইহা লাভ করে, তা মহান আল্লাহ পাক তিনিই জানেন। সুলত্বানুল মাশায়িখ হযরত উবাইদুল্লাহ আহরার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার ছূরত মুবারক অর্থাৎ তছাওউরে শায়েখ যিকির-ফিকির হতেও উৎকৃষ্ট এবং অধিক উপকারী। কারণ, মুরীদ এখনো মহান আল্লাহ পাক উনার এমন নিছবত (সম্বন্ধ) হাছিল করতে পারেনি যে, পবিত্র যিকির-ফিকিরে পূর্ণ ফায়দা লাভ করতে পারবে। (মাকতুবাত শরীফ ২/৬৫ রাহে নাজাত-২৪৯)

আফদ্বালুল আওলিয়া, ইমামে রব্বানী, আবুল বারাকাত বদরুদ্দীন হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার একজন মুরীদ হাজী মুহম্মদ ফরকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকটে লিখেছেন, রাবেতা বা তছাওউরে শায়েখ তথা শায়েখ উনার ছূরত বা আকৃতি মুবারক স্মরণ ইহা আপনাকে স্বীয় শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে সবসময় সংশ্লিষ্ট রাখবে এবং প্রতিবিম্বিত ফয়েজ মুবারক উনার মধ্যস্থ হবে। অর্থাৎ খাছ ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ লাভ হবে। কাজেই, এই শ্রেষ্ঠ নিয়ামত মুবারক উনার শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা আদায় করা কর্তব্য। (মাকতুবাত শরীফ-২৪৬১)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭০)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭১) ফানা-এর মাক্বামে অবস্থানকারী কতিপয় আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭২) তাওয়াক্কুল-এর মাক্বামে ফানা কতিপয় আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের হাল বা অবস্থা:

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭৩) তওবা-এর মাক্বাম এবং সেই মাক্বামে ফানা কতিপয় আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭৪) তওবা-এর মাক্বাম এবং সেই মাক্বামে ফানা কতিপয় আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম