মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭৪) তওবা-এর মাক্বাম এবং সেই মাক্বামে ফানা কতিপয় আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম

সংখ্যা: ২১৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম

 

মহান আল্লাহ পাক উনার পথের পথিকগণের জন্য সর্বপ্রথম কর্তব্য হলো খালিছভাবে তওবা করা। তওবার মাক্বাম হাছিল করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

يايها الذين امنوا توبوا الى الله توبة نصوحا عسى ربكم ان يكفر عنكم سياتكم ويدخلكم جنات تجرى من تحتها الانهار.

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তওবা করো, খালিছ বা বিশুদ্ধ তওবা। তোমাদের রব মহান আল্লাহ পাক অবশ্যই তোমাদের গোনাহগুলো ক্ষমা করে দিবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত।” (সূরা তাহরীম: আয়াত শরীফ ৮)

মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-

ما من شىء احب الى الله تعالى من شاب تائب

অর্থ: যুবক তওবাকারী ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক প্রিয় আর কেউ নেই। অর্থাৎ তওবাকারী যুবকই মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সবচেয়ে বেশি প্রিয়।” (কাশফুল মাহযূব-১৫৪)

কাজেই, যৌবনকালে যার খালিছ তওবা নছীব হয়, মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মা’রিফাত-মুহব্বত হাছিলের প্রতি মনোযোগী হয় তিনি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। উনার পক্ষে তওবা-এর সর্বশেষ স্তরে বা তবকায় পৌঁছা অতীব সহজ ও সম্ভব হয়।

তওবাকারীদের তিনটি তবকা বা স্তর

প্রথম স্তর: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নিষিদ্ধকৃত কাজ করা থেকে বিরত থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করে তাকে تائب (তায়িব) বলে। এটা তওবা-এর প্রাথমিক স্তর। যা সাধারণ লোকের মাক্বাম।

দ্বিতীয় স্তর: যে ব্যক্তি সগীরাহ গুনাহসহ অন্যান্য বদ চিন্তা ও পরিকল্পনা থেকে বিরত থেকে আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে ফিরে আসেন বা মনোযোগী হন তাকে انيب (আনীব) বলে।

তৃতীয় স্তর: যে ব্যক্তি স্বীয় সত্তা ও অস্তিত্ব বিলীন করে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে বিলীন হয়ে যান তাকে اواب (আওওয়াব) বলে।

ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, হাবীবুল্লাহ হযরত জুননূন মিসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

توبة العوام من الذنوب وتوبة الخواص من الغفلة

অর্থ: “আম বা সাধারণ লোকের তওবা হচ্ছে পাপ হতে বিরত থাকা। আর খাছ বা বিশিষ্ট ব্যক্তির তওবা হচ্ছে অলসতা হতে দূরে থাকা।”

উল্লেখ্য যে, শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। সে যুবক-বৃদ্ধ সবাইকে সর্বদা একথা বলে ধোকা দেয় যে, এ বয়সে বা এখন তওবা করলে তওবার উপর ইস্তিক্বামত থাকতে পারবে না। আবার কাউকে একথাও বলে যে, আগামীকাল সব গুনাহ থেকে তওবা করিও। ইত্যাদি ইত্যাদি। শয়তানের এরূপ ধোকায় পড়ে তওবা করা থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। ইমামে রব্বানী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এরূপ ব্যক্তিদের হালাকী বা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

কাজেই, তওবার উপর ইস্তিক্বামত থাকতে পারবে না, এই ভয়ে তওবা করা হতে বিরত থাকা শয়তানের ওয়াসওয়াসার ফসল।  যতদিন পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারবে ততদিন তওবাকারী পূণ্য বা নেকী লাভ করতে থাকবে। তওবার শর্ত হলো- সেই গুনাহের পুনরাবৃত্তি না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া। প্রাথমিক পর্যায়ে তওবাকারীকে দেখা যায় যে, তওবা করার পর পুনরায় ঐ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তবে এমতাবস্থায় পাপ কাজ করার সাথে সাথে সে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে পুনরায় সে পাপ কাজ না করার জন্য দৃঢ়তার সাথে তওবা করে। এভাবে একদিন তওবা-এর হাক্বীক্বতে পৌঁছে যায়। তখন আর কখনো গোনাহের কাজে লিপ্ত হয় না বরং অত্যধিক তওবা করতে থাকে। তওবা-ইস্তিগফার করার মধ্যে ইতমিনান বা প্রশান্তি লাভ করে। ছোট থেকে ছোট গুনাহ হলেও তাকে বিরাট বড় মনে হয়। নৈকট্যের বড় প্রতিবন্ধকতা ভাবতে থাকে। ফলে রফে দারাজাত বা উত্তোরত্তর মর্যাদা-মর্তবা বৃদ্ধি হতে থাকে। তওবার চূড়ান্ত মাক্বামে উপনিত হয়।

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৬৮)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৬৯)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭০)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭১) ফানা-এর মাক্বামে অবস্থানকারী কতিপয় আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৭২) তাওয়াক্কুল-এর মাক্বামে ফানা কতিপয় আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের হাল বা অবস্থা: