যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নুমা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার-

সংখ্যা: ২৬৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

ওয়াজ শরীফ

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে-

উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (২৭)

পূর্ব প্রকাশিতের পর

সে খুব উত্তমভাবে তিলাওয়াত করতে পারতো। এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ তার ভালো জানা ছিলো। হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে সে চাচাতো ভাই ছিলো এবং ছূরতান বাহ্যিক আকার-আকৃতিতেও সে খুব ছূরত ছিলো এবং হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ক্বারূনকে অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাত লাভ করার জন্য যে ৭০ জন বনী ইসরাঈল নির্দিষ্ট হয়েছিলেন তাদের মধ্যে একজন ছিলো ক্বারূন। অনেক নিয়ামত তাকে দেয়া হয়েছিলো। তারপরও সে বিভ্রান্ত হয়ে যায়। ক্বারূন উলামায়ে ‘সূ’দের মধ্যে একজন ছিলো। সে তাওরাত শরীফ উনার হাফিয হওয়ার পরও মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার তরফ থেকে সে অনেক প্রকার নিয়ামত হাছিল করার পরও, ফায়িয-তায়াজ্জুহ হাছিল করার পরও সে দুনিয়ার মোহে বিভ্রান্ত হয়ে যায়।

তার সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

إِنَّ قَارُونَ كَانَ مِن قَوْمِ مُوسٰى فَبَغٰى عَلَيْهِمْ ۖ وَاٰتَيْنَاهُ مِنَ الْكُنُوزِ مَا اِنَّ مَفَاتِحَه لَتَنُوءُ بِالْعُصْبَةِ اُولِى الْقُوَّةِاِنَّ قَارُوْنَ كَانَ مِن قَوْمِ مُوسٰى

নিশ্চয়ই ক্বারূন ছিলো হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ক্বওমের অন্তর্ভুক্ত, (ক্বারূন সম্পর্কে উনার চাচাতো ভাই ছিলো)।

فَبَغٰى عَلَيْهِمْ

সে বিদ্রোহ করলো, সে বিরোধিতা করলো। বনী ইসরাইলের উপর সে যুলুম করা শুরু করে দিলো।

وَاٰتَيْنَاهُ مِنَ الْكُنُوْزِ

 মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে অনেক ধনভাণ্ডার দিয়েছিলেন। তাকে যে সম্পদ দেয়া হয়েছিলো, যে ধন-ভাণ্ডার দেয়া হয়েছিলো সেগুলো সে সিন্দুকের মধ্যে রাখতো, স্বর্ণ চান্দি। আর সেই সিন্দুকগুলো ছোট খাটো কোন সিন্দুক নয় তা বড় বড় কামরার মতো, অর্থাৎ ঘরের মতো সিন্দুক ছিলো। সেই সমস্ত সিন্দুকে, তার স্বর্ণ চান্দি সমস্ত কিছু রাখতো। সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন।

وَآتَيْنَاهُ مِنَ الْكُنُوزِ

তাকে অনেক ধন-ভাণ্ডার দেয়া হয়েছিলো

مَا اِنَّ مَفَاتِحَهُ لَتَنُوءُ بِالْعُصْبَةِ اُولِى الْقُوَّةِ

এই ধন ভাণ্ডারের যে চাবিগুলো ছিলো সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এতো চাবি ছিলো চল্লিশজন শক্তিশালী লোকের পক্ষেও সেই চাবিগুলো একসাথে উত্তোলন করা কঠিন ছিলো। এটার ব্যাখ্যায়, তাফসীরে বলা হয় যে, তার চাবিগুলো ছিলো চামড়ার, তার প্রতিটির ওজন ছিলো অর্ধ দিরহাম। এরকম ৭০ উটের বোঝা ছিলো তার চাবিগুলো, ৭০ উটের বোঝা। ৪০ জন শক্তিশালী লোক সেই চাবিগুলো একসাথে উত্তোলন করতে পারতো না।  যে সমস্ত শক্তিশালী যুবক তা উত্তোলন করতে চেষ্টা করতো। তারা ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে যেতো, এবং প্রতিটা চাবি দিয়ে ৭০টা সিন্দুক খুলতো। এরকম ৭০ উটের বোঝা ছিলো তার চাবিগুলো। আর সিন্দুকগুলো ছিলো একেকটা বড় বড় রুমের মতো, কামরার মতো। সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তাকে অনেক সম্পদ দেয়া হয়েছিলো। তার এতো সম্পদ ছিলো যার হিসাব দিলে, মানুষের পক্ষে ফিকির করা কঠিন। সেজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি সহজেই বুঝিয়ে দিলেন। সেই সিন্দুকগুলির চাবি এতোগুলো ছিলো যে, তা ৭০ উটের বোঝা হতো। তাহলে তার সিন্দুক কতগুলো ছিলো। একেকটা চাবি দিয়ে ৭০টা সিন্দুক খোলা যেতো।

সে যখন যুলুম শুরু করলো, বিরোধিতা শুরু করলো, তখন সে মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে বার বার বলতেছিলো, উনার ভাই হযরত হারূন আলাইহিস সালাম উনাকে নুবুওওয়াত দেয়া হলো? অথচ ক্বারূন তার অনেক যোগ্যতা রয়েছে, তাওরাত শরীফ সে উত্তমরূপে পাঠ করতে পারে, তার হিফয রয়েছে, এরপরও তাকে কেন নুবুওওয়াত দেয়া হলো না। মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সবসময় ধৈর্য্য ধারন করে তাকে বুঝিয়েছেন, এটা কোন মানুষের বিষয় নয়। এটা মহান আল্লাহ পাক উনার ইখতিয়ার। মহান আল্লাহ পাক তিনি চেয়েছেন, নুবুওওয়াত দিয়েছেন। এরপরও সে চূ-চেরা ক্বীল ক্বাল করতে থাকলো। তার অনেক সম্পদ ও অন্যান্য বিষয় যা রয়েছে, তা নিয়ে সে ফখর করতে থাকলো। তার ক্বওমের যারা লোকজন ছিলো তারা বললো, হে কারূন! তুমি এ বিষয় ফখর করো না।

لَا تَفْرَحْ ۖ إِنَّ اللّٰـهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِيْنَ

তুমি ফখর করো না, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি দাম্ভিক, ফখরকারীকে পছন্দ করেন না।

وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللّٰـهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ ۖ وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا ۖ وَاَحْسِن كَمَا اَحْسَنَ اللّٰـهُ اِلَيْكَ ۖ وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِى الْأَرْضِ ۖ إِنَّ اللّٰـهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ

তাকে ক্বওমের লোকেরা জানিয়ে দিলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনিতো তাকে নছীহত করতেছিলেন সবসময়ই। তার এই বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা থেকে সাবধান করার জন্য ক্বওমের লোকেরাও বললো,

وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللّٰـهُ الدَّارَ الْاٰخِرَة

হে কারূন তোমাকে যে মহান আল্লাহ পাক নিয়ামত দিয়েছেন এর মাধ্যমে তুমি পরকালের যে নিয়ামত রয়েছে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক সেটা তালাশ করো, সেজন্য তুমি মনোনিবেশ করো।

وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا

এবং দুনিয়ায় যে তোমার অংশ রয়েছে অর্থাৎ দুনিয়ার মাধ্যম দিয়ে পরকালে যেতে হবে, সে বিষয় তুমি ভুলে যেও না এবং মানুষের প্রতি তোমার যে হক্ব রয়েছে-

وَاَحْسِنْ كَمَا اَحْسَنَ اللّٰـهُ اِلَيْك

তুমি মানুষের প্রতি ইহসান করো যেমন, মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমার প্রতি ইহসান মুবারক করেছেন। অতএব, সেটা ভুলে যেও না।

وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِى الْأَرْضِ ۖ اِنَّ اللّٰـهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ

যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করো না। মহান আল্লাহ পাক তিনি ফাসাদ সৃষ্টিকারীকে পছন্দ করেন না।

তাকে অনেক নছীহত করা হলো। কিন্তু তার ভিতরে মূল যে বিষয়টা গইরুল্লাহর মুহব্বত সেটা প্রবেশ করে গেছে।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ سُفْيَان رَحَمَةُ اللهِ عَلَيْهِ ان حضرت عمر بن الـخطاب عليه السلام قال لكعب رحمة الله عليه  “من أرباب العلم” ؟ قال “الذين يعملون بما يعلمون” ، قال “فما أخرج العلم من قلوب العلماء” ؟ قال “الطمع”

হযরত সুফিয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত কা’ব আহবার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটা মজলিসের লোকদের জানানোর জন্য উম্মতদের জানানোর জন্য তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু?

من أرباب العلم ؟

আলিম কে? তিনি জবাব দিলেন,

الذين يعملون بما يعلمون

যিনি ইলিম অনুযায়ী আমল করে থাকেন তিনিই হলেন আলিম।

فما أخرج العلم من قلوب العلماء

কোন জিনিসটা আলিমের অন্তর থেকে ইলিমকে বের করে দেয়?

الطمع

দুনিয়ার লোভ, দুনিয়ার মোহ। গইরুল্লাহর মোহ, গইরুল্লাহর লোভ মানুষের অন্তর থেকে ইলিম বের করে দেয়। নাউজুবিল্লাহ! (অসমাপ্ত)

খলীফাতুল্লাহ্, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, সুলত্বানুল ওয়ায়িজীন, গউছে আ’যম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফ-এর আলোকে ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয-৩২

খলীফাতুল্লাহ্, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, সুলত্বানুল ওয়ায়িজীন, গউছে আ’যম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফ-এর আলোকে ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয-৩৩

খলীফাতুল্লাহ্, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, সুলত্বানুল ওয়ায়িজীন, গউছে আ’যম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফ-এর আলোকে ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয-৩৪

খলীফাতুল্লাহ্, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, সুলত্বানুল ওয়ায়িজীন, গউছে আ’যম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফ-এর আলোকে ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয-৩৫

খলীফাতুল্লাহ্, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, সুলত্বানুল ওয়ায়িজীন, গউছে আ’যম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফ-এর আলোকে ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয-৩৬