লক্বব মুবারক বা উপাধির তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ-১৩২

সংখ্যা: ২৩৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

আ’লামু বিত্ ত্বিব, আ’লামু বিল ফারায়িদ্ব, আ’লামু বিসুনানি রসূলিল্লাহ, হুল্লাতুল ইসলাম, আশাদ্দু হিজাবান, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম-

রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক উনার পূর্বে ব্যবহৃত লক্বব মুবারক বা উপাধির তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ-১৩২


সর্বোত্তম নামকরণ-২

এছাড়াও হযরত নবী-রসূল আলইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মুবারক নামে নাম রাখাও মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কাছে প্রিয়। সেক্ষেত্রে অর্থের দিকে লক্ষ না রেখে উনাদের নিছবত মুবারকের দিকে লক্ষ রাখতে হবে এবং প্রাধান্য দিতে হবে।

আর উনাদের মুবারক নামে নাম ধারণকারী ব্যক্তিকে মুহব্বত ও সম্মান করা কর্তব্য। যারা উনাদেরকে মুহব্বত করবেন, সম্মান করবেন তারা অনেক ফযীলত ও সম্মানের অধিকারী হবেন। যা তাক্বওয়া বা পরহেযগারীতার বহিঃপ্রকাশ। অর্থাৎ তারা মুত্তাক্বী বা পরহেযগার বলে পরিগনিত হবেন। তবে শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা কিংবা উনার সম্মানিত আল-আওলাদ উনাদের হায়াত মুবারকে উনাদের নাম মুবারকে নাম রাখা উচিত নয়। কেননা উনাদের মুবারক নামে নামকরণ করলে যে আদব-ইহতিরাম রক্ষা করা আবশ্যক তা সাধারণভাবে রক্ষা করা সম্ভব হয় না। আর আদব-ইহতিরাম রক্ষা করতে না পারলে আদবের খিলাফ হবে। যার কারণে কুফরীতে পর্যন্ত পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমনিভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়াতে অবস্থান করাকালীন সময়ে উনার মুবারক কুনিয়াতে কুনিয়াত বা উপনাম রাখা নিষিদ্ধ ছিল। পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করার পর এই নিষেধাজ্ঞা রহিত হয়ে যায়। তিনিই উনার পবিত্র নাম মুবারকে এবং কুনিয়াত মুবারকে নামকরণ করার অনুমতি দিয়েছেন।

একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাজারে ছিলেন। এক ব্যক্তি ডাক দিলো يا ابا القاسم (হে আবুল কাসিম) ডাক শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে ব্যক্তির দিকে তাকালেন। তখন সে ব্যক্তি বললো, আমি আপনাকে ডাকিনি। আমি অমুক ব্যক্তিকে ডেকেছি। ইহা শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

سموا باسمى ولا تكتنوا بكنيتى

অর্থ: “তোমরা আমার মুবারক নামে নাম রাখবে। কিন্তু আমার মুবারক কুনিয়াত বা উপনামে কারো উপনাম বা ডাক নাম রাখবে না।” (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)

কাজেই, স্বীয় শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার মুবারক নামে যদি কারো নাম থাকে তাহলে মুরিদ হওয়ার পর তা পরিবর্তন করা উচিত। কেননা শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার মুবারক হায়াতে সে নামে সম্বোধন করা আদবের চরম খিলাফ। তাছাড়া শায়েখ উনার সম্মুখে সে নামে ডাকা বা সম্বোধন করা চরম বেয়াদবি। তা নিজের সন্তান হউক কিংবা অন্য কেউ হোক।

আক্বীক্বা করা সুন্নত মুবারক

عقيقة (আক্বীক্বা) শব্দটি একবচন। তার বহুবচন হচ্ছে عقائق (আক্বায়িক্ব)। অর্থ: নবজাতকের মাথার চুল।

পারিভাষিক বা ব্যবহারিক অর্থ: শিশু সন্তান জন্মগ্রহণ করার পর সে উপলক্ষে কোন পশু জবাই করাকে আক্বীক্বা বলা হয়।

সম্মানিত হানাফী মাযহাব মতে সন্তান জন্মগ্রহণের সপ্তম দিনে আক্বীক্বা করা সুন্নত। তবে সেদিন আক্বীক্বা করতে না পারলে ১৪তম দিনে করবে। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে ২১তম দিনে আক্বীক্বা করবে। যদি তাও না পারে তাহলে জীবনের যেকোন দিন দিলেও আদায় হবে।

ছেলে সন্তানের জন্য দুটি খাসি। আর মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে একটি খাসি আক্বীক্বা করবে। যদি গরু বা মহিষ দ্বারা আক্বীক্বা দিতে চায় তাও পারবে। সেক্ষেত্রে ছেলের জন্য দুই নাম তথা সাত ভাগের দুই ভাগ। আর মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে এক নাম তথা সাত ভাগের এক ভাগ দিতে হবে। ছেলে সন্তানের জন্য দুটি খাসি কিংবা গরুতে দুই নাম দিতে না পারলে একটি খাসি কিংবা এক নামে আক্বীক্বা দিলেও চলবে। তাছাড়া একসাথে বা একবারে দুটি খাসি বা দুই নামে আক্বীক্বা দিতে না পারলে দুই ভাগে কিংবা দুই বারে তথা সপ্তম দিনে একটি পরে সুবিধাজনক সময়ে অন্যটি দেয়াও যাবে। তবে যথাসম্ভব আক্বীক্বা তাড়াতাড়ি দেয়া উচিত। বিলম্ব করা উচিত নয়। কেননা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “শিশু সন্তান আক্বীক্বার সাথে বন্ধক বা আবদ্ধ থাকে। কাজেই, সপ্তম দিনে তার পক্ষ হতে পশু যবেহ করবে, তার নাম রাখবে এবং তার মাথা মু-ন করবে।” (আহমদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, আবু দাউদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ)


আল্লামা মুফতী মুহম্মদ কাওছার আহমদ

ছাহিবুর রিদ্বওয়ান, আয়ায্যু উম্মাতিন নাবিয়্যি, আ’দালু উম্মাতিন নাবিয়্যি, ছাহিবুত্ তাক্বওয়া, মাহবুবুল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা, ইমাম- রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর নাম মুবারকের পূর্বে ব্যবহৃত লক্বব বা উপাধির তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ-৭২

রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর নাম মুবারকের পূর্বে ব্যবহৃত লক্বব বা উপাধির তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ-৭৩

মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাওলানা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাম মুবারক উনার পূর্বে ব্যবহৃত “মুহইস সুন্নাহ” লক্বব মুবারক বা উপাধির তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ-১৮৯

ছাহিবুর রিদ্বওয়ান, আয়ায্যু উম্মাতিন নাবিয়্যি, আ’দালু উম্মাতিন নাবিয়্যি, ছাহিবুত্ তাক্বওয়া, মাহবুবুল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা, ইমাম- রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর নাম মুবারকের পূর্বে ব্যবহৃত লক্বব বা উপাধির তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ-৭৪

ছাহিবুর রিদ্বওয়ান, আয়ায্যু উম্মাতিন নাবিয়্যি, আ’দালু উম্মাতিন নাবিয়্যি, ছাহিবুত্ তাক্বওয়া, মাহবুবুল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম- রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর নাম মুবারকের পূর্বে ব্যবহৃত লক্বব বা উপাধির তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ-৭৫