সম্পাদকীয়

সংখ্যা: ২৪১তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত ছলাত মুবারক ও সালাম মুবারক।

একদিনের হরতাল-অবরোধে প্রায় ২ হাজার ৭ শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। এই হিসাব অনুয়ায়ী, দেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা, হরতাল ও অবরোধে গত ৫ জানুয়ারি থেকে ৪৪ দিনে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

এছাড়াও পত্রিকার পাতায় অনেক খবর হেডিং হয়েছে- “হরতাল-অবরোধে ঘেরা দুর্ভোগের বাংলাদেশ”;

“কৃষক বাঁচান,মানুষ বাঁচান”;

“অবরোধ-হরতালে আবাসনে ক্ষতি হাজার হাজার কোটি টাকা”;

“টানা অবরোধ ও হরতালে বিপাকে পড়েছেন সবজি চাষী ও ব্যবসায়ীরা”;

“ডিমপাড়া মুরগি বিক্রি, হাজারে ক্ষতি ১৫ হাজার!”;

“হরতালে জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষকদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা”;

“ক্ষুদ্র ব্যবসায় ক্ষতি ৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা”;

“পুড়ছে মানুষ, পুড়ছে দেশ,পুড়ছে অর্থনীতি”;

“মাওয়ায় হরতালে বেকার ২০ হাজার শ্রমিক”;

“হরতাল-অবরোধ, লোকসানের মুখে তাঁতীরা”;

“হরতাল-অবরোধে উত্তরাঞ্চলের পরিবহন খাতে ক্ষতি ৮৪ কোটি টাকা”;

“নারায়ণগঞ্জে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে ফুল”;

“অবরোধ আর হরতালে দেউলিয়ার পথে পাট ব্যবসায়ীরা”;

“হরতাল-অবরোধের ধকল রেলেও”;

“বেনাপোল বন্দরে পণ্য পরিবহনে ধস”;

“অবরোধের কারণে দেশে নয় দিনে কৃষকের ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি”;

“অবরোধে পরিবহন খাতে প্রতিদিন ক্ষতি ৩০০ কোটি টাকা”;

“অবরোধে পোল্ট্রিখাতে প্রতিদিন ক্ষতি ৬০০ কোটি টাকা”;

“৩০ দিনে অর্থনীতির ক্ষতি জিডিপি’র ৫ শতাংশ!”।

অর্থাৎ কথিত হরতাল-অবরোধ তথা রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।

সাধারণভাবে মানুষ একে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা রাজনৈতিক সহিংসতা তথা হরতাল ও অবরোধ নাম দিলেও আসলে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার পরিভাষায়, দেশ ও জাতির জন্য এটি সুস্পষ্ট আযাব ও গযব ছাড়া কিছুই নয়। কাজেই চলমান রাজনৈতিক দুরবস্থা থেকে কবে মুক্তি পাবো- এ কথা না বলে মানুষের ভাবা উচিত, চলমান ফিতনা থেকে কবে মুক্তি পাবো?

সমূহ তাফসীর গ্রন্থে বর্ণিত আছে, আদজাতির অমার্জনীয় পাপাচারের কারণে প্রাথমিক গযব হিসেবে উপর্যুপরি তিন বছর বৃষ্টিপাত বন্ধ থাকে। তাদের শস্যক্ষেতগুলো শুষ্ক বালুকাময় মরুভূমিতে পরিণত হয়। বাগবাগিচা জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। তা সত্ত্বেও তারা শিরক ও মূর্তিপূজা ত্যাগ করেনি। তথাপি বাধ্য হয়েই তারা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করে। তখন আসমানে সাদা, কালো ও লাল মেঘ দেখা দেয় এবং অদৃশ্য আওয়াজ আসে, তোমরা কোন্টি পছন্দ করো? লোকেরা কালো মেঘ কামনা করায় কালো মেঘই ঘনীভূত হলো। লোকেরা তাকে স্বাগত জানিয়ে বললো, ‘এটি আমাদের বৃষ্টি দেবে।’ জবাবে তাদের হযরত নবী হযরত হুদ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ‘বরং এটা সেই বস্তু, যা তোমরা তাড়াতাড়ি চেয়েছিলে। এটা এমন বায়ু যার মধ্যে রয়েছে মর্মন্তুদ আযাব, যা তার রব তায়ালা উনার আদেশে সবাইকে ধ্বংস করে দেবে।’ (পবিত্র সূরা আহকাফ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৪-২৫)

পরদিন ভোরে মহান আল্লাহ পাক উনার চূড়ান্ত গজব নেমে আসে। সাত রাত ও আট দিনব্যাপী অনবরত ঝড়-তুফান বইতে থাকে। মেঘের বিকট গর্জন ও বজ্রাঘাতে বাড়ি-ঘর সব ধসে যায়। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে গাছপালা সব উপড়ে যায়। মানুষ ও জীবজন্তু শূন্যে উত্থিত হয়ে সজোরে ভূপাতিত হতে থাকে। (পবিত্র সূরা কামার শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২০)

প্রণিধানযোগ্য বিষয় হলো- আদ জাতি তাদের প্রতি প্রেরিত গযবকে গযব হিসেবে বুঝতে ভুল করেছিল।

প্রসঙ্গত, উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম তিনি যখন মেঘ বা ঝড় দেখতেন, তখন উম্মতকে শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি উনার বরকতময় চেহারা মুবারক-এ নতুন শান মুবারক জাহির করতেন। তিনি বলতেন, হে হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম! এই মেঘ ও তার মধ্যকার ঝঞ্ঝাবায়ু দিয়েই একটি সম্প্রদায়কে ধ্বংস করা হয়েছে, যারা মেঘ দেখে খুশি হয়ে বলেছিল, ‘এটি আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করবে।’ (মিশকাত শরীফ)

উল্লেখ্য, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখনই কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আলামত দেখতে পেতেন, তখনই তিনি উম্মতকে শিক্ষা দেয়ার জন্য রোনাজারিতে, ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল হতেন। উম্মতের জন্য পানাহ চাইতেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “অতঃপর আমি তাদেরকে অভাব অনটন ও রোগ-ব্যাধি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম, যাতে তারা আকুতি-মিনতি করে। অতঃপর তাদের কাছে যখন আমার আযাব আসলো তখন তারা আকুতি-মিনতি করলো না। মূলতঃ তাদের অন্তর কঠোর হয়ে গিয়েছিল এবং শয়তান তাদের কাছে আকর্ষণীয় করে দেখিয়েছিল যে কাজ তারা করছিল। (পবিত্র সূরা আনয়াম শরীফ)

আমিরুল মু’মিনীন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন আমার উম্মতেরা সচরাচর কয়েকটি কাজে লিপ্ত হবে; তখন তাদের উপর বালা-মুছিবত অর্থাৎ আসমান ও যমীন থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার আযাব ও গযব নাযিল হতে থাকবে।

অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, ‘মোতি গাঁথা মালার’ সূতা কেটে দিলে মোতিগুলো যেমন একের পর এক নিচে পড়তেই থাকে- ঠিক উক্ত কাজে উম্মাতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যাপকভাবে লিপ্ত হওয়ার কারনে তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে আযাব ও গযব একটার পর একটা নাযিল হতেই থাকবে। তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনার বললেন, হে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সে কাজগুলো কী কী? উত্তরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ধারাবহিকভাবে যে কাজের বর্ণনা দিয়েছিলেন তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো-

মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নাফারমানী করবে। যখন সরকারি কর্মচারীরা গনীমতের মাল অর্থৎ সরকারি মাল ব্যাপকহারে আত্মসাৎ করবে।(নাউযুবিল্লাহ)

নিজের ধন-সম্পদ থেকে যথাযথভাবে হিসাব-নিকাশ করে যাকাত আদায় করাকে কোনো বিষয়ে জরিমানা দেয়ার মতো কষ্টকর মনে করবে।

যখন মানুষেরা নেশাদার বস্তু যেমন- মদ, গাঁজা, ইয়াবা, হিরোইন ইত্যাদি ব্যাপকহারে পান করবে।

যখন মানুষেরা ব্যাপকহারে বাদ্যযন্ত্র, গায়িকা ও নর্তকীদের ব্যবহার করবে অর্থাৎ গান-বাজনা, খেলাধুলায় মশগুল হয়ে পড়বে। নাঊযুবিল্লাহ!

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এদেশের গণমানুষ গণহারে যে নাফরমানী করছে; প্রথমত তা হলো গণতন্ত্র করা এবং এরপরে গান-বাজনা, খেলাধুলা ইত্যাদি হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া। মূলতঃ প্রথমটিই দ্বিতীয়টির বা সব হারামের অনুঘটক। অর্থাৎ গণতন্ত্র আসলেই সেখানে সব হারামের সয়লাব ঘটে। কাজেই গযব থেকে গণমানুষকে রক্ষা পেতে হলে গণতন্ত্রকে গণহারে গণধিকৃত করতে হবে, গণপরিত্যাগ করতে হবে।

মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন উনার ইলম ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয় 

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়