সম্পাদকীয়

সংখ্যা: ২৭৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।

বিভিন্ন সময়ে দেশের ক্ষমতাসীন সরকার পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আলোকে বিভিন্ন বক্তব্য প্রদান করে থাকে। প্রসঙ্গত, আলোচিত হতে পারে যে, ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক স্বার্থে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার পক্ষে এসব কথা বলেছেন। কিন্তু দেখার বিষয় হচ্ছে যে- এসব কথা মুসলমানরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করছে। আনন্দিত হচ্ছে। উল্লসিত হচ্ছে। তাদের প্রাণের কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছে বলে মনে করছে। প্রতিভাত হচ্ছে- এদেশের ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী সর্বাগ্রে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে চায়। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে মনে-প্রাণে লালন করে। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধারণ করে। বহন করে। বিস্তার করে।

অনেক সময় ছূরত-শেকেলে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নিদর্শন না থাকলেও অন্তরে ঠিকই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বীজ লুকায়িত থাকে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার জজবা অটুট থাকে।

এ কারণে দেশে হারাম সংস্কৃতির বেসামাল পরিবেশে অনেকে ভেসে গেলেও এক সময় তারা তটস্থ হয়। কাজেই নাট্যমঞ্চ বা সংস্কৃতি মঞ্চের সামনে ভীড়, সিনেমা হলগুলিতে প্রচুর দর্শক, টিভি সেটগুলোর সামনে অগণিত দর্শক ইত্যাদি দেখে কল্পনা করার কারণ নেই যে- তারা সব পবিত্র দ্বীন ইসলাম ছেড়ে দিয়েছে। একথা ঠিক যে, তারা অনৈসলামী কাজ করেছে। কিন্তু একথাও যুগপৎভাবে প্রযোজ্য যে, প্রতিটি মুসলমান মাত্রই কোনো পাপ কাজের পর তাদের অন্তরে অনুভব হয় যে- তারা গুনাহর কাজ করেছে। তাদের অন্তরে উদয় হয় “মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন ক্ষমা করে দেন।” অথবা তারা এসব গুনাহর কাজ স্মরণ করেই প্রায়ই বলে থাকে- ‘সারাজীবন অনেক গুনাহ করেছি’। (নাঊযুবিল্লাহ)। এছাড়া এরপরে তারা নামায পড়ে থাকে অথবা কমপক্ষে জুমুয়ার দিন পবিত্র জুমুয়া উনার নামায বা পবিত্র ঈদ উনার নামায পড়ে থাকে। এসব নামাযে উপস্থিতি মূলত তাদের বিগত গুনাহ থেকে তওবা করার বিষয়টাও সংযুক্ত বা মুখ্য থাকে। কাজেই দেশের মানুষ অনৈসলামী কাজে লিপ্ত থাকলেই যে এখান থেকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উঠে গেছে- একথা মনে করার কোনো অবকাশ নেই।

প্রসঙ্গত, কথিত তরুণ প্রজন্ম এলোমেলো চললেও পবিত্র দ্বীন ইসলাম তারা ঠিকই অন্তরে ধারণ করে। এজন্য শাহবাগ চত্বর থেকেও বারবার উচ্চারিত হয়েছে আমরা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিপক্ষে নই। প্রমাণিত ও প্রতিভাত হচ্ছে- পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিপক্ষে স্থান নিলে যেমন শাহবাগ চত্বরের অস্তিত্ব থাকবে না, তেমনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিপক্ষে অবস্থান নিলে রাষ্ট্রযন্ত্রও টিকে থাকতে পারবে না।

সম্প্রতি সরকারের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা ষড়যন্ত্রকারী মহল দেশের রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম নিয়ে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। গত কিছুদিন আগে রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলাম বাতিলের দাবিতে যে রিটটি করা হয়েছিলো তার বিরুদ্ধে সারাদেশের মুসলমান ফুঁসে উঠেছিলো। সে অবস্থায় হাইকোর্ট উক্ত রায়টি খারিজ করে দিয়েছিলো। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা এরপরও থেমে থাকেনি। উল্লেখ্য, ষড়যন্ত্রকারীরা অপপ্রচার করছে যে এবার রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলাম উঠিয়ে দেয়া হবে (নাঊযুবিল্লাহ)।

বলার অপেক্ষা রাখে না- যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে ‘পবিত্র দ্বীন ইসলাম এদেশে বিপন্ন’ সেটা প্রমাণিত হবে এবং এ ধারণা বহুগুণ সম্প্রসারিত হবে। আর তাতে দেশের ৯৮ ভাগ মুসলমান ফুঁসে উঠবে। মনে রাখতে হবে, ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিকরা এদেশের ভিত্তি নয়। দেশের মূলভিত্তি দেশের ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ। তাদেরকে অবহেলা করলে সরকার নিজের পায়ে কুড়াল মারবে। সরকারকে অবিলম্বে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও যত্নশীল হতে হবে এবং ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতিসহ সব অনৈসলামিক তৎপরতা বন্ধে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এদেশে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধিতা করে কোনো অবস্থান বা রাষ্ট্রযন্ত্র টিকে থাকতে পারবে না।

মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয, তাওয়াজ্জুহ।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে তা নছীব করুন। (আমীন)

 

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয় 

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়