সম্পাদকীয়

সংখ্যা: ২৭০তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মুবারক খ্বলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সব সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ উনার ৮-৯ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- “হে হাবীব, নূরে  মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি শাহিদ ও সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শনকারীরূপে। অতএব, তোমরা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনো এবং উনার গোলামী মুবারক করো, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করো, ছানা-ছিফত মুবারক অর্থাৎ প্রশংসা মুবারক করতে থাকো সকাল-সন্ধ্যা অর্থাৎ দায়িমীভাবে।”

প্রসঙ্গত শুধুমাত্র পবিত্র এই আয়াত শরীফ বা অন্য আরো পবিত্র আয়াত শরীফ নয় বরং পুরো পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রত্যেক পবিত্র আয়াত শরীফেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই ছানা-ছিফত মুবারক করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানেনা।

প্রসঙ্গত, অনন্তকালের জন্য সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনে যে পবিত্র হাদীছ শরীফ অনন্য তা হলো- “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন এমনকি নিজের জীবন থেকে আমাকে বেশি মুহব্বত করতে না পারবে।” সুবহানাল্লাহ!

এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রেক্ষিতে জ্বলন্ত জিজ্ঞাসা- ব্যক্তি মুসলমান থেকে রাষ্ট্রের প্রতি; আমরা কী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সর্বক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে পেরেছি?’

মূলত, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর, পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ যথাযথ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালনের দ্বারাই মুসলমান সে সম্মানিত ঈমানী চেতনা ও প্রেরণা তথা কুওওয়াত বা নিয়ামত পাবে।

প্রসঙ্গত, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার প্রতি পবিত্র ছলাত শরীফ পাঠ করেন। অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেন। হে ঈমানদারগণ! আপনারাও উনার প্রতি পবিত্র ছলাত শরীফ পাঠ করুন এবং পবিত্র সালাম মুবারক পেশ করুন অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করুন যথাযথ সম্মানের সাথে।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)

বলাবাহুল্য, মহান আল্লাহ পাক তিনি ছলাত-সালাম মুবারক পাঠ করছেন, কিন্তু সেটা কতক্ষণ? মহান আল্লাহ পাক তিনি কোন সময় নির্ধারণ করেননি। অনন্তকাল ধরে তিনি করে যাচ্ছেন। তাহলে কিভাবে সেটা? সে বিষয়টি পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনাকে যদি সৃষ্টি না করতাম, তাহলে আমার রুবুবিয়ত মুবারকও প্রকাশ করতাম না। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার রুবুবিয়াত মুবারক উনার প্রকাশ ও বিকাশ সবই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্যই। সুবহানাল্লাহ!

আর এ বিষয়খানা পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম মুবারক তাজদীদ করেছেন, ধারণ করেছেন, বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছেন, কুল-কায়িনাতবাসীকে বিতরণ করেছেন সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ ছাহিবে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ। তিনি নূরে মুজাসসাম, নূরে মুকাররম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের আখাচ্ছুল খাছ ব্যক্তিত্ব। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! যমীনের বুকে তিনিই সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠরূপে হাদিয়া মুবারক লাভ করেছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কিত পরিপূর্ণ ইলমে লাদুন্নী মুবারক এবং মহাসম্মানিত অনন্য নিছবত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! তাই তিনি পবিত্র ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদা, মর্তবা, কতটুকু? এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া বাকী যা কিছু নিয়ামত, ফযীলত, শান-শওকত রয়েছে সবকিছু খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “হে আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ফযল-করম মুবারক এবং রহমত মুবারক হিসেবে উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে হাদিয়াস্বরূপ দিয়েছেন সেজন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে। (তোমরা যত কিছুই করো না কেন) এ খুশি মুবারক প্রকাশ করাই হচ্ছেন সমগ্র কায়িনাতের জন্য সবচেয়ে বড় ও সর্বোত্তম নিয়ামত মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৫-৫৮)

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত মুবারক, সালাম মুবারক পাঠ করতে হবে। তথা উনার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করতে হবে অনন্তকাল ধরে। এ বিষয়টি সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ হাক্বীক্বীভাবে খুশি প্রকাশ করতে পারলে পুরো সাইয়্যিদুশ শুহুর পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস জুড়ে খুশি করা সম্ভব হবে। আর এ মাসে করতে পারলে সারা বছর করতে পারবে। সারা বছর করতে পারলে সারা জীবন করা সম্ভব হবে। আর দুনিয়াতে সারা জীবন করতে পারলে পরকালে অনন্তকাল ধরে খুশি প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

সঙ্গতকারণেই বলতে হয় রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র ইসলাম উনার এদেশে, ৯৮ ভাগ মুসলমান অধিবাসীর এদেশে- সর্বপ্রধান, সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বোচ্চ সরকারি উপলক্ষে হবে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর, পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ। এ উপলক্ষে লাখ লাখ কোটি টাকা বাজেট করতে হবে। দেশের সব গরিব-দুঃখীদের এ পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আদাদ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের জন্য প্রভূত সরকারি সাহায্য দিতে হবে। গোটা সাইয়্যিদুল আসইয়াদ, সাইয়্যিদুশ শুহূর, শাহরুল আ‘যম মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনাকেই ছুটির মাস হিসেবে গণ্য করতে হবে। দেশের সমস্ত মসজিদে ব্যাপক সরকারি সহযোগিতায় পবিত্র ওয়াজ শরীফ মাহফিল, পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিল ও উন্নতমানের তবারক বিতরণ ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে।

তবে আবশ্যকীয়ভাবে মনে রাখতে হবে, হামিলু লিওয়ায়িল হামদ, হাবীবে আ’যম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সার্বক্ষণিক রূহানী সংযোগ সমৃদ্ধ ও উনার মহান সুন্নত দ্বারা সুশোভিত খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ ছহিবে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক উনার মাধ্যমেই আমাদের পক্ষে পাওয়া সম্ভব সনদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জাত মুবারক ও পবিত্র ছিফত মুবারক সম্পর্কিত ইলম ও ফিকির মুবারক, উনার হাক্বীক্বত মুবারক সম্পর্কিত মা’রিফাত মুবারক এবং উনার পূর্ণ অনুসরণ মুবারক ও সুন্নত পালনের এবং সর্বোপরি চরম, পরম ও গভীর মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম ও আদবের সাথে সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর, পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে পালনের কুওওয়ত। তাই, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার উপলক্ষে সেসব নিয়ামত মুবারক হাছিলই হোক আমাদের অন্তরের আরজু। (আমীন)

 

 

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয় 

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়