সম্পাদকীয়

সংখ্যা: ২০০তম সংখ্যা | বিভাগ:

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। যিনি সকল নিয়ামত, রাজত্ব ও ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অসংখ্য দরূদ ও সালাম। যিনি বলেছেন, দ্বীন ইসলাম পাঁচটি মূল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। তা হল, কালিমা, নামায, যাকাত, রোযা ও হজ্জ।
সৃষ্টির শুরু হতে যে চারটি মাসকে মহাপবিত্রতা দান করা হয়েছে তার মধ্যে যিলক্বদ ও জিলহজ্জ অন্যতম। যা হারাম মাস এবং হজ্জ ও কুরবানীর মাস হিসেবে সমাদৃত।
কিন্তু এই হজ্জ সম্পর্কেও হাদীছ শরীফ-এ হাক্বীক্বত তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, “আখিরী যামানায় মানুষ কয়েক উদ্দেশ্যে হজ্জ করবে। যারা ধনী তারা যাবে দেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে। তাদের বিষয়টা হবে এমন যে অনেক দেশই তো ঘোরা হলো এবার মক্কা শরীফ, মদীনা শরীফ দেখে আসি। আবার যারা গরিব তারা যাবে দান-খয়রাত, ভিক্ষা-ছদক্বাহ হাছিলের উদ্দেশ্যে।” বলাবাহুল্য, আমাদের দেশে এরূপ মৌলানা ও তাদের এনজিও সংগঠনের সংখ্যা বিস্তর। আবার কেউ বা যাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে।
উল্লেখ্য, হজ্জকে উপলক্ষ করে অনেকেই সউদী স্বর্ণসহ বিভিন্ন দ্রব্য এনে এদেশে ব্যবসা করে। চতুর্থ আরেক শ্রেণীর লোক রয়েছে যারা দু’বার, চারবার হজ্জ করবে লোক দেখানোর জন্য। আমি পাঁচ বার হজ্জ করেছি বা হাজী- এ কথা প্রচারের জন্য।
বলাবাহুল্য, ইসলামের সব ইবাদতই খুলুছিয়ত বা নিখাদ অন্তরের তথা আমলের সাথে জড়িত। কিন্তু আখিরী যামানায় সব আমলের মধ্যেই এ খুলুছিয়তের বড়ই অভাব। যেমন হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, “আখিরী যামানায় মসজিদগুলো হবে সুরম্য প্রাসাদ, মনোলোভা অট্টালিকা কিন্তু তা হবে আমলশূন্য।”
একইভাবে মানুষ লাখে লাখে হজ্জে যাচ্ছে; কিন্তু খাছ আল্লাহ পাক উনার জন্য কয়জন হজ্জে যাচ্ছে তা এক বড় প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়। কারণ- কারো হজ্জ কবুল হয়ে থাকলে তার আলামত এই যে, তার আমল হজ্জ করে আসার পর থেকে দিন দিন ভাল হবে। আর খোদা না করুন কারো হজ্জ কবুল না হলে তার আলামত এই যে, তার আমল দিন দিন খারাপ হবে।
বলাবাহুল্য, আমাদের দেশের সমাজের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরাই প্রতিবছর হজ্জে যান এবং কমপক্ষে লাখ খানেক লোক হজ্জে যান। হজ্জ কবুলের শর্ত অনুযায়ী এই লাখ খানেক লোক প্রতিবছরই যদি ভাল হতে থাকতেন তাহলে স্বাধীনতা উত্তর এ যাবৎ কমপক্ষে চল্লিশ লাখ সমাজের শীর্ষস্থানীয় লোক ভাল হয়ে যেতেন।
বলাবাহুল্য, এই চল্লিশ লাখ শীর্ষ লোকের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, মন্ত্রী, এমপি, সচিব, রাজনৈতিক নেতা, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, আমলা, এমপি, ভিসি, জজ, ব্যারিস্টার বড় ব্যবসায়ীসহ কমিশনার, চেয়ারম্যান সমাজের সব প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি।
উল্লেখ্য, তাদের হজ্জ যদি কবুল হতো তারা যদি সত্যিকার হাজী হতেন তাহলে সোনার বাংলা অনেক আগেই শুধু সোনালী দেশই নয় মহাপবিত্র ও ইসলামী দেশ হয়ে যেতো। কিন্তু তা হচ্ছে না কেন? তবে কী হজ্জ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ভুল? এ থেকে আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী গোষ্ঠী তথা ইহুদী গোষ্ঠী কী সউদীকে নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদ না দেখে ভুল তারিখে হজ্জ করিয়ে সবার হজ্জ বরবাদ করছে? পাশাপাশি হজ্জ একটা ফরযের বিপরীতে হাজার হাজার সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে লাখ লাখ ছবি তুলিয়ে এমনকি গলার মধ্যে ছবি ঝুলিয়ে হজ্জের কাঙ্খিত রহমত পেতে বাধাগ্রস্ত করছে? যেহেতু সব ছহীহ হাদীছ শরীফ-এর গ্রন্থে অগণিত হাদীছ শরীফ রয়েছে, “যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা থাকে না।”
প্রসঙ্গত মাত্র কিছুদিন আগে ইন্দোনেশিয়ার ক্বিবলা পরিবর্তন করা হলো। এখন এটাই ঠিক না আগেরটাই ঠিক ছিল সেটা যেমন জ্বলন্ত প্রশ্ন? তেমনি আগের প্রথাটা কারা ঠিক করে দিয়েছিল সেটাও একটা তীর্যক প্রশ্ন। তবে উত্তর হলো যেটাই ভুল সেটার পেছনেই রয়েছে ইহুদী-নাছারাদের তরফ থেকে মুসলমানদের আমল নষ্ট করার ষড়যন্ত্র।
সম্প্রতি এ ষড়যন্ত্র ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে আমাদের দেশেও। গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে কুরবানী আসলেই তথাকথিত পশু প্রেমিক অথবা মানবতাবাদীরা কুরবানীর বিশেষত গরু কুরবানীর বিরুদ্ধে বলেন। এর দ্বারা তারা যে হিন্দুদের এজেন্ট হয়ে গো-হত্যা নিষেধের প্রপাগান্ডা করেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু উসীলাটা দেখান ভিন্ন। আইলায় দুর্গতদের দান অথবা দুস্থদের দান ইত্যাদি।
বলাবাহুল্য, আইলা দুর্গতদের হাজার হাজার কোটি টাকা এসেছে কিন্তু তাদের দুর্গতি আদৌ কমেছে কী? অপরদিকে যারা গরু কুরবানীর বিরুদ্ধে বলেছে সেসব পত্রিকাগুলো তাদের নিজস্ব কার্যালয়েই দুর্গাপুজার ব্যাপক আয়োজন করেছে। এসব তাহলে কিসের আলামত? এসবের কূটউদ্দেশ্য একটাই মুসলমানদের গরু কুরবানী বন্ধ করা।
উল্লেখ্য, অ্যানথ্রাক্স জীবাণু আবিষ্কারের পর শুরু হয় একে অস্ত্র হিসেবে যুদ্ধে ব্যবহার করার মহাপরিকল্পনা। ১৯৩০ সালে প্রথম জাপানের মানুচরিয়ার জাপানিজ কোয়ান্টাং আর্মি যুদ্ধে বন্দিদের উপর এটি প্রয়োগ করে হাজার হাজার বন্দিকে মেরে ফেলা হয়। এরপর থেকে একে যুদ্ধকালীন জীবাণু অস্ত্র হিসেবে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মানি, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড প্রভৃতি দেশ বিভিন্ন নামে (যেমন, এন এজেন্ট, এন বোমড) ব্যবহার করতে থাকে। ১৯৭৮-৭৯ সালে রোডেশিয়ার কালো জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধেও রোডেশিয়ার সরকার অ্যানথ্রাক্স জীবাণু অস্ত্র ব্যবহার করেছিলো। জৈব সন্ত্রাসের এজেন্ট হিসেবে অ্যানথ্রাক্স নিয়ে বেশ আলোচনা হয় ২০০১ সালে আমেরিকায়। ডাকের মাধ্যমে চিঠিতে অ্যানথ্রাক্স জীবাণু মিশ্রিত পাউডার শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে ২২টি অ্যানথ্রাক্স আক্রমণ ঘটেছিল।
অর্থাৎ অ্যানথ্রাক্স রোগ অনেক আগ হতেই এবং দীর্ঘদিন যাবৎ দুরভিসন্ধিমূলক ষড়যন্ত্রের একটি বড় বাহন হিসেবে জঙ্গি ইহুদী-খ্রিস্টানরা ব্যবহার করে আসছে। এবারে মুসলমানদের জন্য গরু কুরবানী বন্ধ করতে নেয়া হয়েছে অ্যানথ্রাক্স অস্ত্র। এছাড়া বার্ড ফ্লু’র মত ফার্মের মুরগি শিল্প নষ্ট করার পর এখন এদেশের ৫ কোটি গরু-ছাগলের ডেইরী ব্যবসা তথা ২৮ হাজার কোটি টাকার চামড়া ব্যবসা ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্রমূলক হীন উদ্দেশ্যে।
কাজেই এদেশের শতকরা ৯৫ ভাগেরও বেশি জনগোষ্ঠী মুসলমানদের এ হীন ও কূট ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে হবে। এ বিষয়ে অবগত হবার জন্য প্রতিনিয়ত তাজদীদী মুখপত্র ‘দৈনিক আল ইহসান’ ও ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত’ পাঠ করতে হবে। সর্বোপরি মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার ছোহবতে আসতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি সবাইকে কবুল করুন। আমীন।

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয় 

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়