সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩২

সংখ্যা: ২৫১তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন উনার শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা) ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)  ২৭. ইসলামের নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করার পর-

 

৩২তম ফতওয়া হিসেবে

 

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”-

পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব উনার উপর মউত পর্যন্ত ইস্তিক্বামত থাকা ফরয

পূর্ব প্রকাশিতের পর

পবিত্র তাফসীর শরীফ উনাদের নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে ‘আত-তাক্বলীদু গাইরুশ্ শারয়ী তথা শরীয়াত বহির্ভুত অনুসরণ’ উনার বিষয়ে পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ উনাদের ছহীহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও আহকাম

 

পবিত্র কুরআন মাজীদ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস উনাদের দলীল-আদিল্লাহ উনাদের বিপরীতে নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো শায়তান ও তাগূতী যাবতীয় বাতিল মত-পথ মেনে চলাকে ‘আত-তাকলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা শারীয়াত বহির্ভুত অনুসরণ’ বলে। একে ‘তাকলীদুন নাফ্স’ ও ‘তাকলীদুল হাওয়া’ তথা প্রবৃত্তির অনুসরণও বলা হয়ে থাকে।

নিম্নে পবিত্র তাফসীর শরীফ উনাদের নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে ‘আত-তাক্বলীদু গাইরুশ শারয়ী  তথা শরীয়াত বহির্ভূত অনুসরণ’ উনার সম্পর্কে পবিত্র আয়াত শরীফ সমূহ উল্লেখ করে উনাদের ছহীহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও আহকাম বা বিধি-বিধান আলোচনা করা হলো-

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ১

غير الـمغضوب عليهم و لا الضالين.

অর্থ: আয় আল্লাহ তায়ালা! আমরা তাদের পথ চাই না, যারা গযবপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্ট হয়েছে। (পবিত্র সূরাতুল ফাতিহাহ শরীফ- ৭)

অত্র পবিত্র আয়াত উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

(৫৯৪)

وقد اجمع المفسرون ان الـمغضوب عليهم اراد به اليهود والضالين اراد به النصارى.

অর্থ: হযরত মুফাসসিরূন কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ইজমা’ বা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, নিশ্চয়ই গযবপ্রাপ্ত দ্বারা ইয়াহূদীদেরকে এবং পথভ্রষ্ট দ্বারা নাছারা বা খ্রিষ্টানদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। (বাহরুল উলূম অর্থাৎ তাফসীরুস সামারকান্দী পবিত্র সূরাতুল ফাতিহাহ শরীফ- ৭ লেখক: হযরত আবুল লাইছ নছর বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম সামারকান্দী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৩৭৩ হিজরী)

(৫৯৫)

والـمراد بالمغضوب عليهم العصاة وبالضالين الجاهلون بالله.

অর্থ: গযবপ্রাপ্ত দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে যাবতীয় নাফরমান বা পাপীরা এবং পথভ্রষ্ট দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার থেকে গাফিল ব্যক্তিরা। (রূহুল বয়ান ফী তাফসীরিল কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুল হাক্কী পবিত্র সূরাতুল ফাতিহাহ শরীফ- ৭ লেখক: হযরত ইসমাঈল হাক্কী বিন মুছতফা ইস্তাম্বূলী হানাফী খালওয়াতী বারূসাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১১২৭ হিজরী)

অত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর থেকে প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি গযবপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্টদের অনুসরণ-অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন। আর গযবপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্টরা হল- ইয়াহূদী, নাছারা বা খ্রিষ্টান, কাফির, মাজূসী বা অগ্নি উপাসক, মুশরিক, হুনূদ বা হিন্দু, বৌদ্ধ, উছাত বা পাপী, যাবতীয় নাফরমানরা। কারণ, তারা একদিকে নাফরমান আর অন্যদিকে মহান আল্লাহ তায়ালা ও উনার রসূল নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের থেকে গাফিল। আর এদেরকে অনুসরণ করা ‘আত-তাকলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা শারীয়াত বহির্ভুত অনুসরণ’ হিসেবে বিবেচিত। যা হারাম ও নাজায়িয-এর অন্তর্ভুক্ত।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ২

يٰايُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِى الْاَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ اِنَّه لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ.

অর্থ: হে মানুষেরা! পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র খাদ্য ভক্ষন কর। আর শয়তানের মত-পথের অনুসরণ করো না, নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: ১৬৮)

অত্র পবিত্র আয়াত উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

(৫৯৬)

{وَلاَ تَتَّبِعُوْا خطوات الشيطان} يعنى طاعات الشيطان. وقال مقاتل رحمة الله عليه: يعنى تزيين الشيطان، ويقال: وساوس الشيطان. وقال القتبى رحمة الله عليه: الخطوات جمع الخطوة، وقال الزجاج رحمة الله عليه: خطواته اى طرقه ومعناه: لا تسلكوا الطريق الذى يدعوكم اليه الشيطان {اِنَّه لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِيْنٌ} اى ظاهر العداوة.

অর্থ: (আর শয়তানের মত-পথের অনুসরণ করো না) অর্থাৎ শয়তানের ইত্বায়াত বা আনুগত্য কর না। হযরত মুক্বাতিল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: অর্থাৎ শয়তান কর্তৃক লোভনীয় বিষয়কে অনুসরণ কর না। কেউ বলেন: শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রনার অনুসরণ কর না। হযরত কুতবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: খুতুওয়াত শব্দটি খুতওয়াহ শব্দের বহুবচন। হযরত যুজাজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: খুতুওয়াত বা পদানঙ্ক অর্থ শয়তানের মত পথ পদ্ধতি মতবাদ ইত্যাদী। যার মর্মার্থ হচ্ছে: শয়তান তোমাদেরকে যেই পথে ডাকে তোমরা সেই পথে মতে চলো না। (নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু) অর্থাৎ স্পষ্ট শত্রু। (বাহরুল উলূম অর্থাৎ তাফসীরুস সামারকান্দী পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: ১৬৮ লেখক: আবুল লাইছ নছর বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম সামারকান্দী হানাফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৩৭৩ হিজরী)

(৫৯৭)

}ولا تتبعوا خطوات الشيطان} … اى لا تقتدوا باٰثاره وطرقه ومذاهبه فى اتباع الهوى وهى وساوسه فتحرموا الحلال وتحللوا الحرام.

অর্থ: (আর শয়তানের মত-পথের অনুসরণ করো না) … নফসের তারনায় শয়তানের কুমন্ত্রণা, মত-পথ ও মাযহাব বা পদ্ধতির অনুসরণ কর না। কারণ, এগুলো হলো তার ধোকা, সে হারাম গুলোকে হালাল করতে এবং হালাল গুলোকে হারাম করতে ওয়াসওয়াসা দিয়ে থাকে। (রূহুল বয়ান ফী তাফসীরিল কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুল্ হাক্কী পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: ১৬৮ লেখক: হযরত ইসমাঈল হাক্কী বিন মুছতফা ইস্তাম্বূলী খালওয়াতী বারূসাবী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১১২৭ হিজরী)

(৫৯৮)

وكلُّ ما يحملك على نسيان الحق او عصيان الحق فهو من خطوات الشيطان.

অর্থ: প্রত্যেক ঐ ব্যাপার যা মানুষকে সত্য থেকে বিমুখ রাখে অথবা সত্য থেকে নাফরমানীর দিকে নিয়ে যায়, তা-ই শয়তানের পথ-পদ্ধতি বা মতবাদ। নাঊযু বিল্লাহ। (লাত্বায়িফুল ইশারাত অর্থাৎ তাফসীরুল্ কুশাইরী পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: ১৬৮ লেখক: হযরত আব্দুল করীম বিন হাওয়াযিন বিন আব্দুল মালিক কুশাইরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৪৬৫ হিজরী)

(৫৯৯-৬০০)

{خطوات} جمع خطوةٍ والمعنى: النهْىُ عن اتباع الشيطان وسلوكِ سبله وطرائقه.

অর্থ: (খুতুওয়াত) শব্দটি খুতওয়াহ শব্দের বহুবচন। উনার অর্থ হলো: এখানে ইবলীস শয়তানের অনুসরণ করতে এবং তার প্রদর্শিত পথ ও পদ্ধতি অনুযায়ী চলতে নিষেধ করা হয়েছে। (আল-জাওয়াহিরুল হিসান ফী তাফসীরিল কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুছ ছা’লাবী পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: ১৬৮ লেখক: হযরত আবূ যায়েদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন মাখলূফ ছা’লাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৮৭৫ হিজরী, আল-মুর্হাররুল ওয়াজীয অর্থাৎ তাফসীরে ইবনু আত্বিয়্যাহ)

(৬০১)

}خُطُوَاتِ الشَّيطَانِ} اى طرقه التى يأمر بها وهى جميع الـمعاصى من كفر وفسوق وظلم، … ويدخل فيه ايضا تناول الـمأكولات الـمحرمة.

অর্থ: (খুতুওয়াতিশ্ শাইত্বান) অর্থাৎ সেই পথ যে পথে চলতে শয়তান আদেশ করে। আর তা হলো- কুফরী, ফুসূক্বী ও যূলূম বা অত্যাচার মূলক যাবতীয় নাফরমানী কাজ। … এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে হারাম খাদ্য সমূহ গ্রহণ করাও অন্তর্ভুক্ত হবে। (তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান অর্থাৎ তাফসীরুস্ সা’দী পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: ১৬৮ লেখক: হযরত আব্দুর রহমান বিন নাছির বিন আব্দুল্লাহ সা’দী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১৩৭৬ হিজরী)

(৬০২)

وقال قتادة والسدى رحمة الله عليهما فى قوله {وَلا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ} كل معصية لله فهى من خطوات الشيطان، وقال عكرمة رحمة الله عليه: هى نزغات الشيطان.

অর্থ: হযরত ক্বতাদাহ ও সুদ্দী রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা উনারা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইরশাদ মুবারক (তোমরা শয়তানের মত-পথের অনুসরন করো না) উনার ব্যাখ্যায় বলেন: মহান আল্লাহ তায়ালা উনার সাথে কৃত প্রত্যেক নাফরমানীই হচ্ছে খুতুওয়াতিশ্ শাইত্বান বা শয়তানের পথ-মত। হযরত ইকরামাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: খুতুওয়াতিশ্ শাইত্বান হলো শয়তানের কুমন্ত্রণা তথা প্ররোচনা। (তাইসীরুল্ কুরআনিল আযীম অর্থাৎ তাফসীর ইবনু কাছীর পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: ১৬৮ লেখক: হযরত আবুল ফিদা ইসমাঈল বিন উমর বিন কাছীর কুরাশী দামেশক্বী শাফিয়ী আশয়ারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বিলাদত: ৭০০ হিজরী ওয়াফাত: ৭৭৪ হিজরী)

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ৩

يايها الذين امنوا ادخلوا فى السلم كافة ولا تتبعوا خطوات الشيطان انه لكم عدو مبين.

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা সম্পুর্নরূপে দীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ কর। আর ইবলীস-শয়তানের মত-পথের অনুসরণ কর না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ- ২০৮)

অত্র পবিত্র আয়াত উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

(৬০৩)

}وَلاَ تَتَّبِعُوْا خطوات الشيطان} يعنى طاعات الشيطان.

অর্থ: (আর তোমরা শয়তানের মত-পথের অনুসরণ করো না) অর্থাৎ ইবলীস শয়তানের আনুগত্য কর না। (বাহরুল উলূম অর্থাৎ তাফসীরুস সামারকান্দী পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: ২০৮ লেখক: আবুল লাইছ নছর বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম সামারকান্দী হানাফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৩৭৩ হিজরী)

(৬০৪)

{ولا تتبعوا خطوات الشيطان} جمع خطوة بالضم والسكون وهو ما بين القدمين اى لا تسلكوا مسالكه ولا تطيعوه فيما دعاكم اليه من السبل الزائغة والوساوس الباطلة.

অর্থ: (তোমরা শয়তানের মত-পথের অনুসরন কর না) এখানে খুতুওয়াত শব্দটি খুতওয়াহ শব্দের বহুবচন, যার মধ্যে শুরু থেকে পেশ ও সাকিন যোগে পড়তে হবে। দুই পায়ের মাঝের পথকে খুতুওয়াত বলা হয়। অর্থাৎ তোমরা শয়তানের পথে চলো না আর শয়তান তোমাদেরকে যে ভ্রষ্ট পথ সমূহের দিকে এবং বাত্বিল কুমন্ত্রণার দিকে আহ্বান করে তার ইত্বায়াত বা অনুসরণ কর না। (রূহুল বয়ান ফী তাফসীরিল কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুল্ হাক্কী পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ: ২০৮ লেখক: হযরত ইসমাঈল হাক্কী বিন মুছতফা ইস্তাম্বূলী খালওয়াতী বারূসাবী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১১২৭ হিজরী)

উল্লেখিত দুইখানা পবিত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর থেকে যা প্রমাণিত হল, তাহচ্ছে: খুতুওয়াতিশ্ শাইত্বান হচ্ছে ইবলীস শয়তানের মাযহাব বা মত-পথ, তার ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা, যাবতীয় নাফরমানীমূলক কাজ যেমন কুফরী র্শিকী ফাসিক্বী, যুলূম-অত্যাচার ইত্যাদী। এখানে শয়তানকে অনুসরণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, ইবলীস- শয়তানকে অনুসরণ করা হলো ‘আত-তাকলীদু গাইরুশ শারয়ী তথা শারীয়াত বহির্ভুত অনুসরণ’-এর আয়োতাভুক্ত। তাই শয়তানের মত, পথ, পদ্ধতি, নিয়ম-কানূন ও তার যাবতীয় প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ধোকা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। এজন্য মহান আল্লাহ তায়ালা উনার কাছে সর্বদাই পরিত্রাণ চাইতে হবে।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ৪

واذا قيل لهم اتبعوا ما انزل الله قالوا بل نتبع ما الفينا عليه اباءنا او لو كان اباؤهم لا يعقلون شيئا و لا يهتدون.

অর্থ: যখন তাদেরকে (কাফির-মুশরিকদেরকে) বলা হয়, তোমরা সে বিধানোর আনুগত্য কর, যা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি নাযিল করেছেন। তখন তারা বলে কখনো না, বরং আমরা তো সে বিষয়ের অনুসরণ করব, যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে পেয়েছি। যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই জানত না এবং হিদায়াতের উপর ছিল না। (পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ- ১৭০)

অত্র পবিত্র আয়াত উনার বিশুদ্ধ তাফসীর

বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

(৬০৫)

 (وَاِذَا قِيْلَ لَهُمْ) اَىِ الْكُفَّارَ (اتَّبِعُوْا مَا اَنْزَلَ الله) مِنَ التَّوْحِيْد وَتَحْلِيل الطَّيّبَات (قَالُوْا) لَا (بَلْ نَتَّبِعُ مَا اَلْفَيْنَا) وَجَدْنَا (عَلَيْهِ اٰبَاءَنَا) مِنْ عِبَادَةِ الْاَصْنَامِ … (اَوَلَوْ) يَتَّبِعُوْنَهُمْ وَالْهَمْزَة لِلْإِنْكَارِ (كَانَ اٰبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُوْنَ شَيْئًا) مِنْ اَمْرِ الدّيْنِ (وَلَا يَهْتَدُوْنَ) الَى الْحَقِّ.

অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়) অর্থাৎ কাফিরদেরকে বলা হয় (তোমরা সে বিধানোর আনুগত্য করো, যা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি নাযিল করেছেন।) তাওহীদ ও পবিত্র হালাল বিষয় সম্পর্কিত (তখন তারা বলে) না (কখনো না, বরং আমরা তো সে বিষয়ের অনুসরণ করব, যাতে আমরা পেয়েছি) অবস্থিত পেয়েছি (আমাদের বাপ-দাদাদেরকে) মূর্তিপূজা করতে (যদিও) তারা তাদের বাপ-দাদাদেরকে অনুসরণ করত। এখানে হামযাটি ইনকার বা অস্বীকৃতি অর্থে এসেছে। (তাদের বাপ-দাদারা কিছুই জানত না) দীনী বিষয়ে (এবং হিদায়াতের উপর ছিল না) হক্ব মত-পথে ছিল না। (তাফসীরুল জালালাঈন পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ- ১৭০)

(৬০৬)

{وَاِذَا قِيْلَ لَهُمُ} لمشركى العرب {اتبعوا مَآ اَنزَلَ اللهُ} اتبعوا تحليل ما بين الله من الحرث والانعام {قَالُوْا بَلْ نَتَّبِعُ مَآ اَلْفَيْنَا عَلَيْهِ} وجدنا عليه {اٰبَاٰءَنَا} من التحريم قال الله {اَوَلَوْ كَانَ اٰبَاؤُهُمْ} او ليس كان اٰباؤهم وقد كان اٰباؤهم {لَا يَعْقِلُوْنَ شَيْئًا} من الدين {وَلَا يَهْتَدُوْنَ} لسنة نبى فكيف تتبعونهم ويقال وان كان اٰباؤهم لا يعقلون شيئًا من الدنيا ولايهتدون لسنة نبى فكيف تتبعونهم ويقال وان كان اٰباؤهم لا يعقلون شيئًا من الدين ولايهتدون لسنة نبى انهم يتبعونهم ثم ضرب مثل الكفار مع محمد صلى الله عليه وسلم.

অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়) অর্থাৎ আরবের মুশরিকদেরকে বলা হয় (তোমরা সে বিধানোর আনুগত্য করো, যা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি নাযিল করেছেন।) তোমরা ঐ সমস্ত বিষয়গুলোকে গ্রহণ কর, যা জমিনে উৎপাদিত ফসল ও গবাদি পশুর মধ্য থেকে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি হালাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। (তখন তারা বলে) না (বরং আমরা তো সে বিষয়ের অনুসরণ করব, যাতে আমরা পেয়েছি) যার উপর প্রতিষ্ঠিত দেখেছি (আমাদের বাপ-দাদাদেরকে) হারামে মাশগূল থাকতে। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন (যদিও তাদের বাপ-দাদারা) তাদের বাপ-দাদারা ছিল না (তারা কিছুই জানত না) সঠিক দীন সম্পর্কে (এবং হিদায়াতের উপর ছিল না) হযরত নাবী আলাইহিস সালাম উনার সুন্নত জানত না। অতএব তাদেরকে কিভাবে অনুসরণ করা যাবে। বলা হয় যে- যদিও তাদের বাপ-দাদারা দুনিয়া সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখত না এবং হযরত নাবী আলাইহিস সালাম উনার সুন্নত উনার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। এজন্য এমন লোকদেরকে কিভাবে অনুসরণ করা যাবে? আরো তাফসীরে বলা হয় যে- যদিও তাদের বাপ-দাদারা দীন সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখত না এবং হযরত নাবী আলাইহিস সালাম উনার সুন্নত উনার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। অথচ তারা এমন বাপ-দাদাদেরকেই অনুসরণ করত। অতপর মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি অত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে কাফিররা যে নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হযরত মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আচরন করত তারই উপমা দিয়েছেন। (তানবীরুল্ মাক্ববাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওয়াফাত মুবারক: ৬৮ হিজরী পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ- ১৭০ সংকলক: হযরত মুহাম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফীরাযাবাদী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৮১৭ হিজরী)

(৬০৭)

}وَاِذَا قِيْلَ لَهُمُ اتَّبِعُوْا مَا اَنْزَلَ الله} اى اعملوا بما انزل الله فى القراٰن من تحليل ما احل الله وتحريم ما حرم الله. {قَالُوْا بَلْ نَتَّبِعُ مَا اَلْفَيْنَا عَلَيْهِ اٰبَاءنَا} يعنى ما وجدنا عليه اٰباءنا. قال الله تعالى: “وَاِذَا قِيْلَ لَهُمُ اتَّبِعُوْا مَا اَنْزَلَ الله قَالُوْا” معناه ايتبعون اٰباءهم وان كانوا جهالًا فيتابعوهم بغير حجة؟ فكانه نهاهم عن التقليد وامرهم بالتمسك بالحجة.

অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা সে বিধানের আনুগত্য করা, যা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি নাযিল করেছেন) অর্থাৎ মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি যা নাযিল করেছেন তোমরা তা-ই আমল কর। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি যা হালাল করেছেন সেই হালাল বিষয় আমল কর এবং মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি যা হারাম করেছেন সেই হারাম বিষয় গুলো থেকে বেঁচে থাক। (তখন তারা বলে কখনো না, বরং আমরা তো সে বিষয়ের অনুসরণ করব, যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে পেয়েছি) অর্থাৎ আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে যে কাজে পেয়েছি তাই অনুসরণ করব। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: ‘যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা সে বিধানের আনুগত্য করো, যা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি নাযিল করেছেন। তখন তারা বলে’ উনার মর্মার্থ হল- তারা কি তাদের বাপ-দাদাদেরকে অনুসরণ করে? অথচ তারা জাহিল বা চরম মূর্খ, এরপরও দলীল ছাড়া তারা কি তাদেরকে অনুসরণ করে? অথচ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি তাদেরকে এরকম জাহিলী তাক্বলীদ বা অনুসরণ করতে নিষেধ করছেন এবং তাদেরকে দলীল আঁকড়ে ধরতে নির্দেশ দিচ্ছেন। (বাহরুল উলূম অর্থাৎ তাফসীরুস সামারকান্দী পবিত্র সূরাতুল বাক্বারাহ শরীফ- ১৭০ লেখক: হযরত আবুল লাইছ নছর বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম সামারকান্দী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৩৭৩ হিজরী)

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর- ৫

واذا قيل لهم تعالوا الى ما انزل الله والى الرسول قالوا حسبنا ما وجدنا عليه اباءنا او لوكان اباؤهم لايعلمون شيئا ولايهتدون.

অর্থ: যখন তাদেরকে (কাফিরদের-মুশরিদেরকে) বলা হয়, তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি যা নাযিল করেছেন তার দিকে এবং হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে আস, তখন তারা বলে আমাদের জন্য তা-ই যথেষ্ট যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে পেয়েছি। যদিও তাদের বাপ-দাদারা না কিছুই জানতো আর না হিদায়াতের উপর ছিল। (পবিত্র সূরাতুল মায়িদাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৪)

 

অত্র পবিত্র আয়াত উনার বিশুদ্ধ তাফসীর

বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

(৬০৮)

قَوْلُه تَعَالَى: {وَاِذَا قِيْلَ لَهُمْ تَعَالَوْا اِلٰى مَآ اَنزَلَ الله وَاِلَى الرَّسُوْلِ قَالُوْا حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ اٰبَاءَنَا} معناهُ اذا قيلَ لاهلِ مكة هَلُمُّوا الى تحليلِ وتحريم ما انزَلَ الله فى كتابه وبيَّنَهُ الرسولُ فى سُننه قالوا يَكفينا ما وجَدنا عليه اٰباءَنا من الدِّين والسُّنة، يقولُ الله تعالى: {اَوَلَوْ كَانَ اٰبَاؤُهُمْ لاَ يَعْلَمُونَ شَيْئًا} من الدّين والسُّنة {وَلاَ يَهْتَدُونَ} الطريقَ الـمستقيمَ.

অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি যা নাযিল করেছেন তার দিকে এবং হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে আস, তখন তারা বলে আমাদের জন্য তা-ই যথেষ্ট যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে পেয়েছি) উনার মর্থার্থ হল- যখন কাফিরদেরকে বলা হয় মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি উনার কিতাবুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে যা নাযিল করেছেন এবং নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সুন্নাহ শরীফ উনার মধ্যে যা বর্ণনা করেছেন, এমন হালাল ও হারাম বিধান পালনের জন্য আস। তখন তারা বলে- যে দীন তথা জীবন ব্যবস্থা ও সুন্নাহ তথা রীতি-নীতিতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি আমাদের জন্য তা-ই যথেষ্ট। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: (যদিও তাদের বাপ-দাদারা না কিছুই জানতো) দীন তথা জীবন ব্যবস্থা ও সুন্নাহ তথা রীতি-নীতি সম্পর্কে (এবং না হিদায়াতের উপর ছিল) তাদের বাপ-দাদারা সরল সঠিক পথের উপর ছিল না। (তাফসীরুল কুরআনিল আযীম লিত্ ত্ববারানী পবিত্র সূরাতুল মায়িদাহ শরীফ- ১০৪ লেখক: হযরত আবুল ক্বাসিম সুলাইমান বিন আহমাদ বিন আইয়্যূব বিন মুত্বীর লাখমী শামী ত্ববারানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৩৬০ হিজরী)

(৬০৯)

قوله تعالى: {واِذا قيل لهم} يعنى اِذا قيل لهؤلاء المشركين الذين حرَّموا على انفسهم هذه الانعام {تعالوا الٰى ما انزل الله} فى القراٰن من تحليل ما حرّمتهم على انفسكم قالوا {حسبنا} اى يكفينا {ما وجدنا عليه اٰباءنا} من الدين والـمنهاج {اولو كان اٰباؤهم لا يعلمون شيئًا} من الدين {ولا يهتدون} له ايتّبعونهم فى خطئهم.

অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইরশাদ মুবারক: (যখন তাদেরকে বলা হয়,) মুশরিকদের মধ্যে যারা নির্দিষ্ট গাবাদি পশু নিজেদের জন্য হারাম করে নিয়েছিল তাদেরকে যখন বলা হয় (তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি যা নাযিল করেছেন তার দিকে এবং হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে আস,) তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য যা হারাম করে নিয়েছ এ ব্যাপারে কুরআন মাজীদ যে হালাল বিধান দিয়েছে তোমরা সে দিকে আস। তখন তারা বলে (আমাদের জন্য তা-ই যথেষ্ট) আমাদের জন্য ইহাই যথেষ্ট (যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে পেয়েছি) যে দীন তথা মনগড়া জীবন ব্যবস্থা ও মত-পথের উপর তাদেরকে পেয়েছি (যদিও তাদের বাপ-দাদারা না কিছুই জানতো) তাদের সঠিক দীনের ব্যাপারে (আর না হিদায়াতের উপর ছিল) এরপরও কি তারা তাদের বাপ-দাদাদের পথকে অনুসরণ করবে? (যাদুল মাসীর ফী ইলমিত তাফসীর অর্থাৎ তাফসীরুর জাওযী পবিত্র সূরাতুল মায়িদাহ শরীফ- ১০৪ লেখক: হযরত জামালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ জাওযী হাম্বালী আশয়ারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৫৯৭ হিজরী)

(৬১০)

}وَاِذَا قِيْلَ لَهُمْ تَعَالَوْا اِلٰى مَا اَنْزَلَ الله وَاِلَى الرَّسُوْلِ} فى تحليل الحرث والانعام وبيان الشرائع والاحكام { قَالُوْا حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ اٰبَاءَنَا} من الدين.

অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি যা নাযিল করেছেন তার দিকে এবং হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে আস) জমিনে উৎপাদিত ফসল ও গবাদি পশুর হালালের দিকে আস এবং দীনী শরীয়াত ও যাবতীয় বিধি-বিধান পালনের দিকে আস (তখন তারা বলে আমাদের জন্য তা-ই যথেষ্ট যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে পেয়েছি) যে মত-পথে আমাদের বাপ-দাদারা ছিল। (মায়ালিমুত্ তানযীল অর্থাৎ তাফসীরুল বাগবী পবিত্র সূরাতুল মায়িদাহ শরীফ- ১০৪ লেখক: হযরত মুহ্ইস সুন্নাহ আবূ মুহাম্মাদ হুসাঈন বিন মাহমূদ বাগবী শাফিয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৫১০ হিজরী)

উপরোল্লিখিত ৪র্থ ও ৫ম পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের থেকে এবং উনার তাফসীরে বর্ণিত ৩+৩ = ৬ খানা ইবারত থেকে প্রমানিত হলো যে- ১. বেইল্ম ও বেআক্বল বাপ-দাদা বা পূর্বপূরুষদেরকে শরীয়াতের কোন ব্যাপারে অনুসরণ করা হারাম। ২. তবে বাপ-দাদা বা পূর্বপূরুষ যদি আলিম বা ওলীআল্লাহ ও আক্বলমান্দ বা ইমাম-মুজতাহিদ হন তাহলে উনাদেরকে অনুসরণ করা ফরয। ৩. যারা উল্লেখিত দু’খানা আয়াত শরীফ উল্লেখ করে বলে তাক্বলীদ বা ইমাম-মুজতাহিদ উনাদেরকে অনুসরণ করা হারাম ও র্শিক, তাদের এ কথা এই একই আয়াত শরীফ দ্বারা খন্ডিত হয়ে তাক্বলীদ করা জায়িয, সুন্নাত ও ফরয সাব্যস্ত হয়। ৪. পবিত্র কুরআন মাজীদ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস উনাদের উপর যাঁরা প্রতিষ্ঠিত উনারাই হক্ব এবং উনাদেরকেই তাক্বলীদ বা অনুসরণ-অনুকরণ করতে হবে। আর ইহাই তো মাযহাব তথা সত্য পথ মান্য করা। ৫. পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বয় এবং উনাদের তাফসীর থেকে চুড়ান্তভাবে জানা যায় যে, যারা বিনা দলীলে জেদের বসবর্তী হয়ে বাপ-দাদাদেরকে অনুসরণ করত তারা ছিল কাফির ও মুশরিক। এটা কাফির ও মুশরিকদের আলামত। কখনই ইহা মু’মিন-মুসলমানদের আলামত নয়। ৬. কাফির, মুশরিক, ইয়াহূদী, নাছারা বা খ্রিষ্টান, মাজূসী বা অগ্নী উপাসক, হুনূদ বা হিন্দু, মুরতাদ্দ, যাবতীয় বিধর্মী, বাতিল ৭২ ফিরক্বা ইত্যাদীদেরকে ঈমান-আক্বায়িদ ও আমলের যেকোন ব্যাপারেই অনুসরণ ও অনুকরণ করলে শিরক করে মুশরিক হতে হবে। কুফরী করে কাফির হতে হবে। যা কাট্টা নাজায়িয ও হারাম।

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৩)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫৬

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৮তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১১ম পর্ব)