সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গওছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, ইমামুর রাসিখীন, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি (৯)

সংখ্যা: ২১৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাসাউফ হাছিলের জন্য বাগদাদ শরীফ-এ গমন

মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মা’রিফত, মুহব্বত, তায়াল্লুক, নিছবত হাছিলের ক্ষেত্রে ইলমের বিকল্প নেই। ইলিমহীন ব্যক্তি কখনও আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য লাভ করতে পারে না। তবে শুধুমাত্র ইলমে ফিক্বাহ বা যাহিরী ইলিম দ্বারা সে উদ্দেশ্য সফল হয় না। বরং ইলমে তাছাউফ-এ পূর্ণতা না থাকলে ইলমে ফিক্বাহ বা যাহিরী ইলিম অধিকাংশ ক্ষেত্রে জাহান্নামী হওয়ার কারণ হয়। আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের থেকে বিমুখ হয়ে গইরুল্লাহতে মশগুল হতে হয়। যা স্পষ্টই গোমরাহী বা পথ ভ্রষ্টতা, কুফরী। সেহেতু ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষার পাশাপাশি ইলমে তাসাউফও জরুরত আন্দাজ শিক্ষা করা ফরযে আইন।

সঙ্গতকারণে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মাহবুব বান্দা ও উম্মতগণের মন ও মনন সবসময়ই  এ দু’প্রকার ইলিম তালাশী হয়ে থাকেন। ইলিম তালাশের মধ্যে উনারা ইতমিনান পান। সারা দুনিয়ার সমস্ত ইলিম হাছিল করেও উনারা পরিতৃপ্ত হতে পারেন না। বরং হাছিলের এই আশা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতেই থাকে। গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

সম্মানিত পিতা হযরত আবু ছলেহ মুসা জঙ্গি দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্তমানে গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সাংসারিক কোনো কাজ করতে হয়নি। তিনি কেবল পড়ালেখা ও ইবাদত-বন্দেগী, যিকির-ফিকিরে রত থাকতেন। কিন্তু পিতার বিছাল শরীফ-এর পর পিতার একমাত্র সন্তান হওয়ার কারণে সংসারের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব উনারই উপর পড়ে। লোকের অভাবে বাধ্য হয়ে দৈনন্দিন বাজার করা থেকে শুরু করে গো-চারণ পর্যন্ত সাংসারিক যাবতীয় কার্যাবলী নিজেকেই করতে হতো। এগুলো উনার ইলিম হাছিল এবং ইবাদত-বন্দেগী, যিকির-ফিকিরে যথেষ্ট প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ালো। এসব কিছুই উনার সহ্য হচ্ছিল না। পরিশেষে উনার মুবারক অন্তরের এ ব্যাকুলতার কথা যথাসময়ে বৃদ্ধা মাতা উম্মুল খইর, আমাতুল জাব্বার, আওলাদে রসূল হযরত ফাতিমা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জানালেন। আর মায়ের কাছ থেকে আশানুরূপ জওয়াবই পেয়েছিলেন।

সতেরো বছর বয়স মুবারক অতিক্রম করে যখন আঠার বছর বয়স মুবারক-এ একদা আরাফার দিনে তিনি গরু নিয়ে নিজের জমি চাষ করতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় সেই গরু উনার দিকে ফিরে বলল-

يا عبد القادر مابـهذا خلقت وما بهذا امرت.

অর্থ: æহে গাউছুল আ’যম, আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি! এ কাজের জন্য আপনাকে সৃষ্টি করা হয়নি। আর এ কাজের জন্য আপনাকে আদেশও করা হয়নি।”

সাইয়্যিদুনা গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি স্বয়ং নিজেই বলেন, আল্লাহ পাক প্রদত্ত সেই বাণী শুনে আমি বাড়িতে ফিরে আসলাম। বাড়ির ছাদে আরোহণ করতঃ গভীর চিন্তায় মগ্ন হলাম। এমন সময় দূরে দেখতে পেলাম- একটি বিরাট কাফেলা বাগদাদ শরীফ-এর দিকে যাচ্ছে। আমি এ দৃশ্য দেখে ছাদের উপর আর স্থির থাকতে পারলাম না। ছাদ থেকে নেমে ¯েœহময়ী মাতার নিকট মনের অবস্থা ও আরজু ব্যক্ত করলাম। প্রায় আটাত্তর বছর বয়স্কা বৃদ্ধা মাতা দ্বিধাহীন চিত্তে, পরমপ্রিয় চোখের মণি, একমাত্র সহায়-সম্বল, ইলিম পিপাসী পুত্রকে স্বাচ্ছন্দে অনুমতি দিলেন। সাথে দিলেন পিতার রেখে যাওয়া ৮০টি স্বর্ণমুদ্রা থেকে ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা। বগলের নিচে জামা আস্তিনের মধ্যে সেলাই করে দিলেন।

মাতা আরো বললেন, æপ্রিয় বৎস! মনে রাখবেন আপনার প্রতিপালনকারী একমাত্র আল্লাহ পাক। কাজেই, সদা-সর্বদা উনার উপরই তাওয়াক্কুল বা ভরসা রাখবেন। সবসময় সত্য কথা বলবেন। মিথ্যাকে চরমভাবে ঘৃণার সাথে বর্জন করে চলবেন।” ¯েœহময়ী মায়ের যবান মুবারকে উচ্চারিত উপদেশ শুনে অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতঃ ক্বদমবুচি করে বাগদাদ শরীফ-এর দিকে রওয়ানা হলেন। উনারা হামদান-এর নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছলে ষাটজন ডাকাত কাফেলা আক্রমণ করে সকলের পুরো ধনসম্পদ লুট করে নিল। একজন ডাকাত এসে উনাকে বললো, যুবক! আপনার কাছে কি কিছু আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, জবাব দিতেই ডাকাতটি উনাকে সরদারের কাছে নিয়ে গেল। ডাকাত সরদারকেও একই জবাব দিলেন। সরদার বিস্ময়ে হতবাক হয়ে বললো, এগুলো সন্ধান আপনি কেন দিলেন?

তিনি বললেন, আমার মাতা আমাকে উপদেশ দিয়েছেন, ‘কখনও মিথ্যা বলবেন না” আমি কি আমার মায়ের আদেশ অমান্য করতে পারি? এরূপ জবাব শুনে ডাকাত সরদার উনার হাত মুবারকে বুচা দিলো এবং সাথীদের সবাইকে নিয়ে উনার মুবারক হাতে তওবা করতঃ বাইয়াত হলো। যিকির-ফিকির করে পরবর্তীতে সবাই অতি উঁচু স্তরের ওলীআল্লাহ হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৫০

সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গওছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, ইমামুর রাসিখীন, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪)

হানাফী মাযহাবের আক্বাইদের ইমাম, ইমামু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ হযরত ইমাম আবু মানছূর আল মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বিছাল শরীফ ৩৩৩ হিজরী

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৫১

সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গওছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, ইমামুর রাসিখীন, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫)