সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গওছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, ইমামুর রাসিখীন, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি (২২)

সংখ্যা: ২২৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

কারামত বা অলৌকিক ঘটনা

জন্মান্ধ ও মাজুর ছেলের আরোগ্য লাভ

শায়েখ আবুল হাসান আলী কবশী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন- ৫৪৭ হিজরীতে আমি ও শায়েখ আলী বিন হায়তী সাইয়্যিদুল আওলিয়া হযরত শায়েখ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফ-এ বসা ছিলাম। তখন হযরত আবু গালেব ফজলুল্লাহ বিন ইসমাইল রহমতুল্লাহি আলাইহি নামে এক ব্যবসায়ী উনার নিকট এসে বললেন, হুযূর! বেয়াদবি ক্ষমা চাই! আপনার নানাজান নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন- ‘যদি কেউ দাওয়াত দেয়, তা কবুল করা উচিত।’ আমি আপনাকে আমার গরিবালয়ে দাওয়াত দিচ্ছি। তিনি বললেন- যদি অনুমতি পাওয়া যায়, তাহলে যাব। অতঃপর দীর্ঘক্ষণ মুরাকাবা করার পর বললেন- ইনশাআল্লাহ যাব। যথাসময়ে তিনি ঘোড়ার উপর আরোহণ করলেন। শায়েখ আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি ডান দিকের রিকাব এবং আমি বাম দিকের রিকাব ধরে ব্যবসায়ীর ঘরে পৌঁছলাম। ঘরে প্রবেশ করে দেখলাম, বাগদাদ শরীফ উনার বড় বড় মাশায়িখ, ওলামায়ে কিরাম ও তথাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণও সেখানে উপস্থিত আছেন। একটি লম্বা দস্তরখানা বিছানো হলো, যার উপর বিভিন্ন খাবার রাখা হলো। ঢাকনা দেয়া একটি বড় পাত্রও দস্তরখানার এক কিনারে রাখা হলো। অতঃপর দাওয়াতকারী হযরত আবুল গালেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন- ‘খাওয়া শুরু করতে পারেন। সাইয়্যিদুল আউলিয়া, গাউছে পাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার মাথা মুবারক অবনত করে রাখলেন। তিনি নিজেও খেলেন না এবং অন্যদেরকেও খেতে বললেন না। সবাই একেবারে নিশ্চুপ বসে রইলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি আমাকে ও হযরত আলী হায়তী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সেই ঢাকনা দেয়া বড় পাত্রটি উনার সামনে নিয়ে আসার জন্য বললেন। আমরা গিয়ে পাত্রটি নিয়ে আসলাম। যদিও বা পাত্রটি খুবই ভারি ছিল। আমরা অত্যন্ত কষ্ট করে উঠায়ে শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সামনে আনলাম এবং উনার নির্দেশে ঢাকনা খুললাম। ঢাকনা খুলে দেখি, সেখানে এক জন্মান্ধ ও অর্ধাঙ্গগ্রস্ত কুড়ে ছেলে। ছেলেটি ছিল সাহিবে মেজবান হযরত আবুল গালেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। গাউছে পাক হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছেলেটির দিকে লক্ষ্য করে বললেন- ‘মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমে উঠ।’ ছেলেটি তখনি চোখ খুলে চারদিকে দেখতে লাগলো এবং তার শরীরে কোন রোগের লক্ষন পরিলক্ষিত হলো না। সুবহানাল্লাহ! এ অবস্থা দেখে উপস্থিত সকলে বিস্মিত হয়ে গেলেন এবং চারদিকে হৈচৈ পড়ে গেল। এ হৈচৈয়ের মধ্যে হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন এবং কিছু খেলেন না।

আমি শায়েখ হযরত আবু সাঈদ কায়লবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে গিয়ে এ ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি আমার কথা শুনে বললেন- সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমে অন্ধদেরকে দৃষ্টি দান, কুষ্ঠ রোগীদেরকে আরোগ্য দান এবং মৃতদেরকে জীবিত করতে পারেন। (যুবদাতুল আছার)

শরাব সিরকায় পরিণত হলো

গাউছুল আ’যম সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছাহিবজাদা কুতুবুল মাশায়িখ হযরত আব্দুর রাযযাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, আমার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুল আউলিয়া, গাউসুল আ’যম হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একদিন জুমুয়া উনার নামায পড়ার জন্য বের হলেন। আমি এবং আমার আরো দুই ভাই হযরত আব্দুল ওহাব রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ঈসা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে ছিলাম। পথিমথ্যে বাদশাহের তিনটি শরাবের পাত্র আমাদের নিকট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। উহার দুর্গন্ধ এত অধিক মাত্রায় বের হচ্ছিল যে, সহ্য করা যাচ্ছিল না। তাদের সাথে রাজ কর্মচারীরাও ছিল।

গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাদেরকে দাঁড়াতে বললেন। কিন্তু তারা উনার মুবারক কথায় কান দিলনা। বরং শরাব বহনকারী চতুষ্পদ জন্তুগুলোকে আরো জোরে হাঁকিয়ে নিয়ে যেতে লাগলো। তখন গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত চতুষ্পদ জন্তুগুলোকে থামতে বললেন। সাথে সাথে সেগুলো সে স্থানে অচেতন পদার্থের ন্যায় থেমে গেলো। কর্মচারীরা পশুগুলোকে কঠিনভাবে মারতে লাগলো। কিন্তু সেগুলো তাদের স্বস্থান ত্যাগ করলোনা। রাজ কর্মচারীরা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়লো। তারা তৎক্ষণাৎ অত্যন্ত বেদনায় অস্থির হয়ে যমীনে গড়াগড়ি করতে লাগলো। পড়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরে কাতর স্বরে তওবা-ইস্তিগফার করলো। গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্বদম পাকে ক্ষমা প্রার্থনা করলো। তাদের ব্যথা-বেদনা দূর হলো। আর শরাবের গন্ধ সিরকার গন্ধে পরিবর্তিত হলো। তারা পাত্রগুলো খুলে দেখতে পেল যে, সবই সিরকায় পরিণত হয়েছে। তখন চতুষ্পদ জন্তুগুলো চলতে শুরু করলো। লোকেরা তাকবীর ধ্বনি দিতে লাগলো। বাদশাহের কাছে যখন এই সংবাদ পৌঁছলো, তখন বাদশাহ অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে কাঁদতে লাগলো। শরাব পান করাসহ অনেক নাজায়িয হারাম কাজ থেকে তওবা-ইস্তিগফার করলো। আর কোন দিন সেগুলো করবে না বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো। সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছোহবত মুবারকের জন্য উনার দরবার শরীফে হাজির হলো। অত্যন্ত আদব ইহতিরাম, বিনয়-নম্রতার সাথে উনার সামনে বসলো। (হযরত বড়পীর ছাহিবের জীবনী-৫৮)

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৫০

সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গওছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, ইমামুর রাসিখীন, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪)

হানাফী মাযহাবের আক্বাইদের ইমাম, ইমামু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ হযরত ইমাম আবু মানছূর আল মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বিছাল শরীফ ৩৩৩ হিজরী

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৫১

সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গওছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, ইমামুর রাসিখীন, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫)