সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সংখ্যা: ২৩১তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ ইবরাহীম যুবায়ের

চট্টগ্রাম

সুওয়াল:  কারো কারো আক্বীদা হলো, মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত আর কেউই গইবের ইলম রাখেন না। এমনকি যিনি কুল-মাখলূক্বাতের নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও নাকি গইবের ইলম রাখেন না। নাউযুবিল্লাহ!

এ বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের কি আক্বীদা? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন খালিক্ব, মালিক রব। আর অন্য সকলেই হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার মাখলূক্ব বা সৃষ্টি। কাজেই, মহান আল্লাহ পাক তিনি কোন মাধ্যম বা মধ্যস্থতা ব্যতিরেকেই সবকিছু জানেন বা উনার ইলম মুবারকে রয়েছে। তা যাহিরাহ (প্রকাশ্য) হোক, বাতিনাহ  (গোপন) হোক, শাহাদাহ (দৃশ্য) হোক, গইব (অদৃশ্য) হোক। যেমন এ প্রসঙ্গে কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عالـم الغيب والشهادة

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্য (গইব) সম্পর্কে জানেন। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি বিনা মধ্যস্থতায় ইলমে গইবের অধিকারী। (পবিত্র সূরা মু’মিনূন: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯২)

অনুরূপ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার ইলমে গইব সম্পর্কিত যত পবিত্র আয়াত শরীফ ইরশাদ মুবারক হয়েছে সবখানেই মহান আল্লাহ পাক উনার শান মুবারকে উক্তরূপ অর্থ গ্রহণ করতে হবে যে, তিনি বিনা মধ্যস্থতায় সবকিছু জানেন।

আর হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ইলমে গইবের বিষয়টি হচ্ছে-

مطلع على الغيب

অর্থাৎ: মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে উনারা জেনেছেন বা উনাদেরকে জানানো হয়েছে। আর এটিই হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা। এ আক্বীদাই সকল মু’মিন মুসলমান উনাদেরকে পোষণ করতে হবে। এর বিপরীত আক্বীদা পোষণ করা কুফরী এবং কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই ইলমে গইব উনার অধিকারী।

যেমন এ সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার ‘সূরা জিন শরীফ’ উনার ২৬ ও ২৭ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

علم الغيب فلا يظهر على غيبه احدا الا من ارتضى من رسول.

অর্থঃ- æতিনি (মহান আল্লাহ পাক) আলিমুল গইব, উনার গইব সম্পর্কিত ইলম উনার মনোনীত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত কারো নিকট তিনি প্রকাশ করেন না। অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে তিনি ইলমে গইব হাদিয়া করেছেন।”

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য তাফসীরগ্রন্থ æতাফসীরে খাযিন ও তাফসীরে বাগবী শরীফে” উল্লেখ আছে যে-

يعنى الا من يصطفيه لرسالته ونبوته فيظهره على ما يشاء من الغيب حتى يستدل على نبوته مما يخبربه من الـمغيبات.

অর্থ : æযাঁকে উনার নুবুওওয়াত ও রিসালতের জন্য মনোনীত করেন, উনাকে যে পরিমাণ ইচ্ছা ইলমে গইব হাদিয়া করেন। উনার ইলমে গইব উনার নুবুওওয়াতের প্রমাণ স্বরূপ এবং উনার মু’জিযাও বটে।”

শাব্দিক কিছু পার্থক্যসহ অনুরূপ ব্যাখ্যা তাফসীরে রূহুল বয়ান, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে সাবী এবং তাফসীরে আযীযীতেও উল্লেখ আছে।”

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ উনার ১৭৯নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

وما كان الله ليطلعكم على الغيب ولكن الله يجتبى من رسله من يشاء.

অর্থঃ- æএটা মহান আল্লাহ পাক উনার দায়িত্ব নয় যে, গইব বা অদৃশ্য সম্পর্কে তোমাদের (সাধারণ লোকদের) অবহিত করবেন। তবে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা ইলমে গইব হাদিয়া করেন।”

উক্ত আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত ও মশহূর তাফসীরগ্রন্থ æতাফসীরে জালালাইন শরীফে” উল্লেখ আছে যে-

ولكن الله يجتبى ويختار من يشاء فيطلع على غيبه كنا اطلع النبى صلى الله عليه وسلم على حال المنافقين.

অর্থ : æতবে মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে (নবী-রসূল হিসেবে) মনোনীত করেন, উনাকে ইল্মে গইব হাদিয়া করেন। যেমন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুনাফিকদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল।”

হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وانبئكم بما تأكلون وما تدخرون فى بيوتكم.

অর্থ : æতোমরা কি খেয়ে এসেছ আর কি ঘরে রেখে এসেছ তা সবই আমি (হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম) বলে দিতে পারি।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৯)

অনুরূপ হযরত ইয়াকূব আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার স্বপ্নের কথা শ্রবণ করার পর উনার অন্যান্য ছেলেদের সম্পর্কে আগেই বলে দিয়েছিলেন।  এ প্রসঙ্গে কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

يبنى لا تقصص رءياك على اخوتك فيكيدوا لك كيدا.

অর্থ : æহে আমার ছেলে! আপনার ভাইদের কাছে আপনার স্বপ্নের কথা বর্ণনা করবেন না। উনারা আপনার ব্যাপারে অন্য কোন চিন্তা করতে পারেন।” (পবিত্র সূরা ইউসুফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)

হযরত ইয়াকূব আলাইহিস সালাম উনার বক্তব্য:

قال الـم اقل لكم انى اعلم من الله ما لاتعلمون.

অর্থ : æআমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে আমি এমনসব বিষয় জানি যা তোমরা জান না? অর্থাৎ হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম তিনি জীবিত আছেন এবং তিনি উনার পিতা আলাইহিস সালাম উনার সাথে মিলিত হবেন।” (পবিত্র সূরা ইউসুফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯৬)

এ আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত ইয়া’কুব আলাইহিস সালাম উনার ইলমে গইবের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

حتى اذا اتوا على واد النمل قالت نملة يايها النمل ادخلوا مسكنكم لا يحطمنكم سليمن وجنوده وهم لايشعرون فتبسم ضاحكا من قولها وقال رب اوزعنى ان اشكر نعمتك التى انعمت على وعلى والدى.

অর্থ : যখন উনারা (হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার সৈন্যবাহিনী) পিপীলিকা অধ্যুষিত উপত্যকায় পৌঁছলেন তখন এক পিপীলিকা বললো, হে পিপীলিকা দল! তোমরা তোমাদের ঘরে প্রবেশ কর। অন্যথায় হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এবং উনার বাহিনী অজান্তেই তোমাদেরকে পিষ্ট করে ফেলবেন। তার (পিপীলিকার) কথা শুনে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তিনি মুচকি হাসলেন এবং বললেন, হে আমার রব! আপনি আমাকে সামর্থ দান করুন যাতে আমি আপনার সেই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে এবং আমার পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে হাদিয়া করেছেন।” (পবিত্র সূরা নমল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮,১৯)

এ আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে রয়েছে, হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম পিপীলিকার সেই কথা তিন মাইল দূরবর্তী স্থান থেকে শুনেছিলেন যা উনার ইলমে গইবের অন্তর্ভুক্ত। (তাফসীরে জালালাইন, হাশিয়ায়ে শায়েখযাদাহ)

একইভাবে পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ ৩২নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قالوا سبحانك لا علم لنا الا ما علمتنا انك انت العليم الـحكيم

অর্থ: হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা বললেন, হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি অতি পবিত্র, আমাদের কোন ইলম নেই, কেবল ততটুকু ব্যতীত যা আপনি আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আপনি মহান জ্ঞানী এবং মহান হিকমতওয়ালা।

এখানে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে ইলমপ্রাপ্ত। উক্ত ইলমের মধ্যে গইব সম্পর্কিত ইলমও রয়েছে।

মহান আল্লাহ পাক উনার যাঁরা ওলী উনাদেরকেও মহান আল্লাহ পাক তিনি ইলমে গইব বা অদৃশ্যের জ্ঞান হাদিয়া করেন। যেমন এ প্রসঙ্গে হযরত খিযির আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وعلمنه من لدنا علما

অর্থ: ‘আমি উনাকে ইলমে লাদুন্নী অর্থাৎ আমার তরফ থেকে ইলিম হাদিয়া করেছি।’ (পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৫)

স্মরণীয় যে, আহলে সুন্নত  ওয়াল জামায়াত উনাদের মতে, হযরত খিযির আলাইহিস সালাম তিনি হলেন একজন ওলীআল্লাহ। উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইলমে লাদুন্নী তথা ইলমে গইব হাদিয়া করেছেন। এর প্রমাণস্বরূপ হযরত খিযির আলাইহিস সালাম উনার তিন তিনটি গইবের বিষয় পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেসব গইবের সংবাদ জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দ্বারা সত্যায়ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে ইলমে গইবসহ সর্বপ্রকার ইলিম ও নিয়ামত হাদিয়া করার পদ্ধতির নাম হচ্ছে ‘ইলমে লাদুন্নী, ইলহাম ও ইলক্বা। আর হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে ইলমে গইবসহ সর্বপ্রকার ইলিম ও নিয়ামত হাদিয়া করার পদ্ধতির নাম হচ্ছে ওহী। বলার অপেক্ষা রাখে না, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সুবহানাল্লাহ!

আর যাঁরা প্রকৃত ওলীআল্লাহ উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত। উনাদের সবকিছুই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত বা ক্ষমতা বলেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। তাই উনাদের গইব সম্পর্কে অবগত হওয়াটা বিস্ময়কর কোন ব্যাপার নয়।

এ প্রসঙ্গে ‘শরহে মাওয়াহিব’ কিতাবে ‘লাতায়িফুল মিনান’ কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ আছে যে, কোন কামিল বান্দা বা হক্কানী ওলীআল্লাহগণ উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে কোন অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান বা ইলমে গইব লাভ করা আশ্চর্যের বিষয় নয়। এটা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রমাণিত। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اتقوا فراسة الـمؤمن فانه ينظر بنور الله

অর্থ: ‘মু’মিনের অর্থাৎ প্রকৃত মু’মিন তথা ওলীআল্লাহ উনার অন্তরদৃষ্টিকে ভয় করো। কেননা তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নূর মুবারক দ্বারা অবলোকন করেন।’  (মিশকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফাত অর্জনকারী ওলীআল্লাহ উনার শান মুবারক সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-

كنت سـمعه الذى يسمع به كنت بصره الذى يبصربه كنت لسانه الذى ينطق به كنت يده التى يبطش بها كنت رجله التى يـمشى بـها

অর্থ: আমি উনার কান হই, তিনি আমার কুদরতী কান মুবারক-এ শ্রবণ করেন। আমি উনার চক্ষু হই, তিনি আমার কুদরতী চোখ মুবারক-এ দেখেন। আমি উনার যবান হই, তিনি আমার কুদরতী যবান মুবারক-এ কথা বলেন। আমি উনার হাত হই, তিনি আমার কুদরতী হাত মুবারক-এ ধরেন। আমি উনার পা হই, তিনি আমার কুদরতী পা মুবারক-এ চলেন। (বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী শরীফ, উমদাতুল ক্বারী শরীফ)

অতএব, হযরত ওলী-আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ক্ষেত্রে যেখানে ইলমে গইব থাকাটা বাস্তবসম্মত সেখানে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইলমে গইব থাকাটা আরো কত বেশি বাস্তসম্মত তা সহজেই অনুমেয়।

তাহলে যিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম, সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, সমস্ত হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম, সমস্ত জিন-ইনসান উনারাসহ সমস্ত মাখলূক্বাত উনাদের নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্ষেত্রে ইলমে গইব সম্পর্কে কি ফায়ছালা! বলার অপেক্ষা রাখে না, তিনি শুধু ইলমে গইব উনার অধিকারীই নন বরং তিনি হচ্ছেন ইলমে গইবসহ যাবতীয় ইলম মুবারক উনার বণ্টনকারীও বটে। সুবহানাল্লাহ! এ সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নি¤েœ আলোকপাত করা হলো:

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

قل يايها الناس انـى رسول الله اليكم جميعا

অর্থ: হে আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলেন দিন, হে মানুষেরা! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের জন্যে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫৮)

মুসলিম শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ارسلت الى الـخلق كافة

অর্থ: আমি সমস্ত সৃষ্টির জন্যে রসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইলমে গইব প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وما هو على الغيب بضنين.

অর্থাৎ- তিনি (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গইবের সংবাদ প্রকাশে কৃপণতা করেননা।” (পবিত্র সূরা তাকউয়ীর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৪)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় তাফসীরে æমায়ালিমুত তানযীল”-এ উল্লেখ আছে-

يقول انه ياتيه علم الغيب فلايبخل به عليكم بل يعلمكم ولايكتمه.

অর্থ : æমহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট ইল্মে গইব রয়েছে।  সুতরাং তিনি তোমাদেরকে তার সংবাদ দানে কৃপণতা করেন না। বরং তিনি তোমাদেরকে তা শিক্ষা দেন এবং তা গোপন করেন না। অনুরূপ তাফসীরে খাযিন ও তাফসীরে বাগবীতেও উল্লেখ আছে।”

মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘সূরা আর রহমান’ উনার ১-৪নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

الرحمن. علم القران. خلق الانسان. علمه البيان.

অর্থ : æদয়াময় মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রিয়তম হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি ইনসান সৃষ্টি করেছেন এবং উনাকে বয়ান শিক্ষা দিয়েছেন।” (পবিত্র সূরা আর রহমান : পবিত্র আয়াত শরীফ ১-৪)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে খাযিনে’ উল্লেখ আছে-

قيل الـمراد بالانسان محمدا صلى الله عليه وسلم البيان يعنى بيان ما كان ومايكون لانه ينبئ عن خبر الاولين والاخرين وعن يوم الدين.

অর্থঃ- æবলা হয়েছে যে, ইনসান দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর বয়ান দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, যা ঘটেছে এবং যা ঘটবে, পূর্বাপর সমস্ত কিছুর ইলম মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে হাদিয়া করেছেন। কেননা উনাকে পূর্ববর্তী-পরবর্তী এবং পরকাল সম্পর্কিত সকল (গইবী বিষয়ে) ইলম মুবারক হাদিয়া করেছেন।” অনুরূপ তাফসীরে মায়ালিমুত তানযীল, তাফসীরে হুসাইনী, তাফসীরে সাবীতেও উল্লেখ আছে।”

পবিত্র সূরা হুদ শরীফ উনার ৬নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

كل فى كتب مبين.

অর্থ : (মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতের) সমস্ত কিছুই সুস্পষ্ট কুরআন শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে।”

অর্থাৎ সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন কোন বিষয় নেই যার বর্ণনা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে নেই। সুতরাং পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সামগ্রিক ইলম মুবারক তথা যাহিরী ও বাতিনী সমস্ত ইল্ম যাঁর রয়েছে উনার নিকট কোনকিছু অজানা থাকেনা।

বুখারী শরীফ ও মিশকাত শরীফ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن حضرت عمر بن الـخطاب عليه السلام قال قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقاما فاخبرنا عن بدء الـخلق حتى دخل اهل الـجنة منازلـهم واهل النار منازلـهم حفظ ذالك من حفظه ونسيه من نسيه.

অর্থ: æহযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে সৃষ্টির শুরু থেকে জান্নাতবাসীদের জান্নাতে প্রবেশ এবং দোযখবাসীদের দোযখে প্রবেশ করা পর্যন্ত সমস্ত বিষয়ের সংবাদ প্রদান করেন। এগুলো যাঁরা স্মরণ রাখতে পেরেছেন উনারা স্মরণ রেখেছেন, আর যাঁরা স্মরণ রাখতে পারেননি উনারা ভুলে গেছেন।”

‘ছহীহ মুসলিম শরীফ’ উনার মধ্যে আরো উল্লেখ আছে যে-

عن حضرت حجيفة رضى الله تعالى عنه قال قال فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقام ما ترك شيئا يكون فى مقامه ذالك الى قيام الساعة الا حدث به.

অর্থ : হযরত হুযাইফা রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ক্বিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে তার সবকিছুই বর্ণনা করে দিলেন, কোন কিছুই বাদ দিলেন না।”

শরহুস্ সুন্নাহ ও মিশকাত শরীফ ৫৪১ পৃষ্ঠায় আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال جاء ذئب الى راعى غنم فاخذ منها شاة فطلبه الراعى حتى انتزعها منه قال فصعد الذئب على تل فاقعى واستثفر وقال قدعمدت الى رزق رزقنيه الله اخذته ثم انتزعته منى فقال الرجل تالله ان رأيت كاليوم ذئب يتكلم فقال الذئب اعجب من هذا رجل فى النخلات بين الـحرتين يخبركم بما مضى وما هو كائن بعدكم قال فكان الرجل يهوديا فجاء الى النبى صلى الله عليه وسلم فاخبره واسلم فصدقه النبى صلى الله عليه وسلم.

অর্থ : æহযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, একদা একটি নেকড়ে বাঘ এক ছাগল পালের দিকে আসলো এবং সেখান থেকে একটি ছাগল ধরে নিয়ে গেল, রাখাল তার পিছনে ছুটলো এবং ছাগলটিকে ছিনিয়ে নিয়ে আসলো। হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন, নেকড়ে বাঘটি তার বিশেষ ভঙ্গিতে একটি টিলার উপর গিয়ে বসলো এবং তার লেজ উভয় পায়ের মধ্যখানে রেখে বলতে লাগল, (হে রাখাল!) তুমি আমার নিকট হতে এমন রিযিক ছিনিয়ে নিতে ইচ্ছে করছ যা মহান আল্লাহ পাক আমাকে দান করেছেন। রাখাল বললো, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আজকের মত এরূপ বিস্ময়কর অবস্থা আমি কখনো দেখিনি যে, নেকড়ে বাঘ কথা বলে। নেকড়ে বাঘ বললো, এর চেয়ে বিস্ময়কর অবস্থা সেই মহান রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিনি খেজুর বৃক্ষ সম্বলিত এলাকায় দু’ পাহাড়ের মাঝখানে অর্থাৎ মদীনা শরীফে অবস্থান করেন এবং তোমাদেরকে ঐ সমস্ত বিষয়ের সংবাদ দেন যা হয়েছে এবং যা ভবিষ্যতে হবে। হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, লোকটি ছিল ইহুদী, সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসলো এবং উনার নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করলো এবং মুসলমান হয়ে গেল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত ঘটনাটি সত্যায়ন করলেন।

বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ উনাদের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তয়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

فو الله لاتسئلونى عن شىء الا اخبرتكم به مادمت فى مقامى هذا.

অর্থ : æমহান আল্লাহ পাক উনার কসম! তোমরা যে কোন বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন কর, আমি এখানে দাঁড়িয়েই তার সংবাদ দিব।” সুবহানাল্লাহ!

উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত-

لا تسئلونى عن شىء

 ‘লা তাসআলূনী আন শাইয়িন’ বাক্য দ্বারা এটাই প্রতিভাত যে, কোন বিষয় বা বস্তুই আখিরী রসূল, ছাহিবে ইলমে গইব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইলমের বাইরে ছিলনা। কারণ شىء (শাইউন) শব্দটি হলো نكرة নাকিরাহ বা অনির্দিষ্ট বিশেষ্য। আর নাকিরাহ নফী বা নাসূচক বাক্যের অধীনে হলে ব্যাপকতার অর্থ প্রদান করে।

যেমন, তবারানী, ইবনে আবি শাইবা, আবু ইয়ালা, কানযুল উম্মাল ৩১৯২৬ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن حضرت ابى موسى رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اعطيت فواتح الكلم وجوامعه وخواتمه.

অর্থ : æহযরত আবূ মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

আমাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল বিষয়ের সমস্ত ইলম হাদিয়া করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

দাইলামী শরীফ/১৬২০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

اعطيت جوامع العلم.

অর্থ : æআমাকে সমস্ত ইল্ম হাদিয়া করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ!

মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ/৫১২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

اعطيت جوامع الكلم.

অর্থঃ æআমাকে সমস্ত ইল্ম হাদিয়া করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ!

বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ/৫১২ পৃষ্ঠায় আরো বর্ণিত রয়েছে-

بعثت بجوامع الكلم.

অর্থ : আমি সমস্ত ইল্মসহ প্রেরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ!

লুগাতুল হাদীছ-১/১৪ পৃষ্ঠায় আরো বর্ণিত রয়েছে-

اوتيت جوامع الكلم وخواتمه.

অর্থ : আমি সমস্ত ইল্ম এবং তার শেষ সীমাসহ প্রেরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ!

আফদ্বালুল কুরা” কিতাবে উল্লেখ আছে-

لان الله تعالى اطلعه على العالـم فعلم الاولين والاخرين وما كان وما يكون.

অর্থ : মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস্ সালাম উনাকে সমস্ত দুনিয়া সম্পর্কে অবহিত করেছেন। সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল ইলম এবং যা কিছু হয়েছে এবং যা কিছু হবে, সবকিছুই জানিয়ে দেয়া হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ!

æক্বাছীদায়ে র্বুদা” শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে-

وكلهم من رسول الله صلى الله عليه وسلم ملتمس غرفا من البحر او رشفا من الديم.

অর্থ : æসকলেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট থেকে জ্ঞান আহরণ করে থাকেন। যেমন, কেউ সমুদ্র থেকে কলসি ভরে অথবা কেউ প্রবল বৃষ্টির ফোঁটা থেকে পানি সংগ্রহ করে।”

উক্ত কিতাবে আরো উল্লেখ রয়েছে-

ان جميع الانبياء كل واحد منهم طلبوا واخذوا العلم من علمه عليه السلام الذى كالبحر فى السعة والكرم من كرمه عليه السلام الذى هو كالديم لانه عليه السلام مفيض وهم مستفاضون لانه تعالى خلق ابتداء روحه عليه السلام ووضع فيه علوم الانبياء وعلم ماكان وما يكون ثم خلقهم فاخذوا علومهم منه عليه السلام.

অর্থ : সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যাপক ইলমি ভান্ডার থেকে ইলম সংগ্রহ করেছেন এবং সকলেই উনার সেই অঝোর বারি ধারার মতো করুণা থেকে করুণাপ্রাপ্ত হয়েছেন। কেননা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন ফায়িযদাতা আর অন্যান্য হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা হলেন ফায়িয গ্রহীতা। মহান আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রূহ্ মুবারক সৃষ্টি করে উনার মধ্যে সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের ও পূর্বাপর প্রত্যেক বিষয়ের ইলিমসমূহ সঞ্চিত রাখেন। অতঃপর অন্যান্য হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদে সৃষ্টি করেন। সুতরাং উনারা সকলেই স্বীয় ইলম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে সংগ্রহ করেছেন বা লাভ করেছেন।” (ক্বাছীদায়ে র্বুদা শরীফ)

সারকথা হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সকল সৃষ্টির জন্য ইলমসহ সমস্ত নিয়ামতের বণ্টনকারী।

এ প্রসঙ্গে ছহীহ বুখারী শরীফ ও ছহীহ মুসলিম শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

انـما انا قاسم والله يعطى

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি হাদিয়া করেন আর নিশ্চয়ই আমি হলাম (উক্ত হাদিয়া) বণ্টনকারী।”

অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সর্বপ্রকার নিয়ামত উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া করেছেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুল মাখলুক্বাতের যাকে যতটুকু বা যে পরিমাণ ইচ্ছা তাকে সে পরিমাণ বণ্টন করে দিয়ে থাকেন। দেখা যাচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার ভা-ার মুবারক রয়েছে এবং তিনি সে ভা-ার মুবারক থেকে যাকে যতটুকু প্রয়োজন তাকে ততটুকু দিয়ে থাকেন।

এখন যিনি কুল-মাখলুক্বাতের জন্য বণ্টনকারী তিনি মূলত সৃষ্টির শুরু হতে সৃষ্টির শেষ পর্যন্ত বণ্টনকারী। আর বণ্টনকারী যাদের মাঝে বণ্টন করবেন তাদেরকে অবশ্যই চিনেন ও জানেন। অন্যথায় না চিনলে ও না জানলে কাকে কতটুকু বা কি পরিমাণ দিবেন? কাজেই বলার অপেক্ষা রাখেনা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলমে বাতিন বা ইলমে গইবসহ সমস্ত ইলিমের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য, লওহে মাহফূয সম্পর্কে বলা হয়, সৃষ্টির শুরু হতে যা কিছু হয়েছে, হচ্ছে ও হবে সবকিছুই সেখানে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এখানে বলতে হয়, লওহে মাহফূয সৃষ্টি হয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ওজুদ পাক নূর মুবারক উনার অংশ হতে। আর লওহে মাহফূয যেহেতু সৃষ্টিরাজির মধ্যে একটি সৃষ্টি সেহেতু তারমধ্যে সংরক্ষিত নিয়ামত তথা ইলিমেরও বণ্টনকারী হলেন নূরে  মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার ইলিমের একটা অংশ রাখা হয়েছে লওহে মাহফূযে যেই ইলিম মাখলুক্বাত সম্পর্কিত এবং মাখলুক্বাতের জন্য বণ্টিত। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু মাখলুক্বাতের সর্বপ্রকার নিয়ামতের বণ্টনকারী সেহেতু তিনি মাখলুক্বাতের অবস্থা সম্পর্কিত ও তাদের জন্য বণ্টিত লওহে মাহফূযে সংরক্ষিত সমস্ত ইলিম উনাদেরও অধিকারী এবং তার বণ্টনকারীও।

মূলকথা হলো, লওহে মাহফূযে সংরক্ষিত ইলিম মুবারক যেরূপ মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার ইলিম মুবারক উনার একটা অংশ একইভাবে উক্ত ইলিম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারও ইলিম মুবারক উনার অংশ বিশেষ। সুবহানাল্লাহ!

মনে রাখতে হবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পরিপূর্ণরূপে গইবের ইলিম বণ্টনকারী। উনার মধ্যেমেই বান্দা ও উম্মত গইবের ইলিম জেনেছে, বুঝেছে ও লাভ করেছে। সুবহানাল্লাহ!

অতএব, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে উপরের সংক্ষিপ্ত জাওয়াবের দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম, সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং সমস্ত হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ইলমে গইব সম্পর্কে অবহিত হওয়াটাই যেখানে প্রমাণিত সেখানে উনাদের যিনি নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্ষেত্রে ইলমে গইব সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যে কত চরম জিহালতি, গুমরাহী ও কুফরী; তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মূলত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যারা চিরশত্রু, চির লা’নতগ্রস্ত ও চিরজাহান্নামী কেবল তারাই উক্ত বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে। জানা আবশ্যক যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শান বা মর্যাদা সম্পর্কিত কোন বিষয়ে ফায়ছালা দিতে হলে শুধু দু’ বা একখানা আয়াত শরীফ উনার আংশিক ও শাব্দিক অর্থের উপর ভিত্তি করে ফায়ছালা দেয়াটা আদৌ শুদ্ধ নয় বরং উনার সীমাহীন পবিত্র মর্যাদা বা শান মুবারক সম্পর্কে ফায়ছালা দিতে হলে সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ ও সম্পূর্ণ হাদীছ শরীফ উনার ইলিম থাকতে হবে; অন্যথায় প্রদত্ব ফায়ছালা অশুদ্ধ ও কুফরী হবে এবং পরিণামে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নাম ওয়াজিব হবে। নাউযুবিল্লাহ!

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ১২৯ ও ২২১তম সংখ্যা পাঠ করুন।

মুহম্মদ মুবারক আলী

ঢাকা

সুওয়াল: ঐতিহাসিকভাবে সত্য যে, ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং আমাদের নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ছাহাবীগণ, তাবিয়ীগণ এবং তাবে-তাবিয়ীগণ কেউই পালন করেননি। অথচ আপনারা পালন করার পক্ষে যেসব উদ্ধৃতি (আবু লাহাবের খুশি প্রকাশের বিষয়টি ছাড়া) উল্লেখ করেছেন তা æআন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম” নামক একটি বিশেষ কিতাব থেকে নেয়া। উক্ত কিতাবটির গ্রহণযোগ্যতাইবা কতটুকু? উক্ত কিতাবটি আপনাদের কাছে কি আছে? এ ব্যাপারে সঠিক জাওয়াব জানতে ইচ্ছুক।

জাওয়াব: দ্বীন ইসলাম উনার কোন বিষয় প্রমাণের জন্য ইসলামী শরীয়ত উনার চারটি উছূল বা মূলনীতি তথা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের প্রত্যেকটিতেই উল্লেখ থাকতে হবে তা নয়। বরং কোন বিষয়ে হয়তো শুধুমাত্র পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ থাকবে, কোন বিষয়ে হয়তো কেবল পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ থাকবে এবং কোন বিষয়ে হয়তো শুধুমাত্র ইজমা শরীফ বা ক্বিয়াস শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ থাকবে। আবার কোন বিষয়ে হয়তো সব মূলনীতির মধ্যে উল্লেখ থাকবে। মোটকথা, ইসলামী শরীয়ত উনার একটি মাত্র উছূলের দ্বারাও যদি কোন বিষয় প্রমাণিত বা সাব্যস্ত হয় তবুও তা বিনা দ্বিধায় মেনে নিতে হবে। সেখানে কোন রকম চু-চেরা করা, প্রশ্ন উত্থাপন করা জায়িয নেই।

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে বুখারী শরীফে বর্ণিত আবু লাহাব খুশি প্রকাশ করে তার বাঁদী আযাদ করার কারণে যে নিয়ামত লাভ করছে সেটা নিঃসন্দেহে একটা অন্যতম দলীল; যদিও আরো দলীল-প্রমান রয়েছে।

আর আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম” সম্পর্কে বলতে হয় যে, উক্ত কিতাব উনার যিনি লিখক তিনি সাধারণ কোন ব্যক্তি ছিলেন না; বরং তিনি উনার যামানায় অনুসরণীয় হক্কানী-রব্বানী আলিমে দ্বীন ছিলেন। উনার পরিচিতি সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে যে, উনার প্রকৃত বা মূল নাম হচ্ছে হযরত আহমদ বিন মুহম্মদ বিন মুহম্মদ বিন আলী বিন হাজার শিহাবুদ্দীন হাইতামী (হাইছামী) মাক্কী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার কুনিয়াত বা উপনাম আবুল আব্বাস। তিনি মিসরের বিশিষ্ট ফক্বীহ ও গবেষক হিসেবে খ্যাত ছিলেন। উনার প্রজ্ঞাময় ফতওয়া দ্বারা শাফিয়ী মাযহাব সমৃদ্ধি লাভ করেছে। উনার বিশেষ উপাধি হচ্ছে শায়খুল ইসলাম। মিসরের পশ্চিম প্রান্তে ‘আবুল হাইতাম’ নামক মহল্লায় উনার বিলাদত (জন্ম) হয়। উনার বিলাদত সন ৮৯৯ হিজরী মতান্তরে ৯০৯ হিজরী। আর পবিত্র মক্কা শরীফ এ উনার বিছাল শরীফ (ইনতিকাল) হয়। উনার ইনতিকাল সন ৯৭৪ হিজরী। তিনি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ মিসরের আল আজহার বিশ্ব বিদ্যালয়ে লেখা পড়া সম্পন্ন করেন। তিনি কত বড় বিজ্ঞ আলিম ছিলেন তা উনার লিখনী সম্ভার দ্বারাই সহজে অনুধাবন করা যায়। তিনি বহু কিতাব রচনা করেছেন। তন্মধ্যে কিছু কিতাবের নাম উল্লেখ করা হলো-

(১) আন্ নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম বিমাওলিদি সাইয়্যিদি বুলদি আদাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া গাইরি যালিকা মিনাল্ হাওয়াশী ওয়ার রসায়িল (২) ইতমামুন্ নি’মাতিল কুবরা আলাল আলাম বিমাওলিদি সাইয়্যিদি বুলদি আদাম (৩) ইত্তিহাফু আহলিল ইসলাম বিখুছূছিয়্যাতিছ্ ছিয়াম (৪) আরবাঈনাল্ আদলিয়্যাহ (৫) ইরশাদু আহলিল্ গানী ওয়াল্ আনাক্বাহ ফীমা জায়া ফিছ্ ছদাক্বাতি ওয়াদ্ দ্বিয়াফাহ (৬) ইসআফুল আবরার শরহু মিশকাতিল্ আনওয়ার ফিল্ হাদীছ ‘আরবাউ মুজাল্লাদাত’ (৭) আসনাল মাত্বালিব ফী ছিলাতিল্ আক্বারিব (৮) আশরাফুল ওয়াসায়িল ইলা ফাহমিশ্ শামায়িল (৯) আল-ই’লামু বিক্বাওয়াত্বিয়িল্ ইসলাম (১০) আল-ইমদাদ শরহুল্ ইরশাদ কাবীর (১১) তাহযীরুছ্ ছিক্বাত মিন আকলিল কাফতাহ ওয়াল্ লুক্বাত (১২) তাহরীরুল কালাম ফিল্ ক্বিয়াম আন যিকরি মাওলিদি সাইয়্যিদিল আনাম (১৩) তাহরীরুল্ মাক্বাল ফী আদাবি ওয়া আহকামি ওয়া ফাওয়ায়িদি ইয়াহতাজ্জু ইলাইহা মুয়াদ্দাবুল্ আতফাল (১৪) তুহফাতুয্ যুয়ার ইলা ক্ববরিন্ নাবিয়্যিল্ মুখতার ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৫) তুহফাতুল্ মুহতাজ ফী শরহিল্ মিনহাজ ‘আরবাউ মুজাল্লাদাত’ (১৬) তাতহীরুল্ জানান ওয়াল্ লিসান আনিল্ খাওদ্বি ওয়াত্ তাফাওউহি বিছুলবি মুয়াবিয়াহ বিন আবী সুফইয়ান রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা (১৭) তাতহীরুল আইবাহ মিন দানাসিল গীবাহ (১৮) তালখীছুল্ আহরা ফী হুকমিত্ তলাকিল্ মুয়াল্লাকি বিল্ আবরা (১৯) তাম্বীহুল্ আখইয়ার আন্ মুয়াদ্দালাত ওক্বায়াত ফী কিতাবিল্ ওয়াযায়িফি ওয়া আযকারিল্ আযকার (২০) আল-জাওহারুল্ মুনায্যাম ফী যিয়ারাতি ক্ববরিন্ নাবিয়্যিল্ মুকাররাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (২১) আল-খইরাতুল হিসান ফী মানাক্বিবিল্ ইমাম আবী হানীফাতান নু’মান (২২) আদ-দুররুল মানদূদ ফিছ্ ছলাতি আলা ছাহিবিল্ লিওয়ায়িল্ মা’কূদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (২৩) আদ-দুররুল মানযূম ফী তাসলিয়াতিল মাহমূম ফিছ্ ছলাহ (২৪) দুরারুল্ গামামাহ ফী দুরলিত্ তাইলাসানি ওয়াল্ আযবাতি ওয়াল্ ইমামাহ (২৫) আয-যাওয়াজির ফী মা’রিফাতিল্ কাবায়ির (২৬) যাওয়ায়িদু আলা সুনানি ইবনি মাজাহ (২৭) আছ-ছাওয়ায়িকুল্ মুহাররাকাহ আলা আহর্লি রফদ্ব ওয়ায্ যানাদিকাহ (২৮) ফাতাওয়াল্ হাদীছিয়াহ (২৯) ফাতাওয়াল্ ফিক্বহিয়্যাহ (৩০) ফাতহুল ইলাহ্ শরহুল্ মিশকাত (৩১) ফাতহুল্ জাওয়াদ আলা শরহিল্ ইরশাদ ফিল্ ফুরূ’ (৩২) ফাতহুল মুবীন ফী শরহিল্ আরবাঈন লিন্ নুবাবী (৩৩) আল-ফাদ্বায়িলুল্ কামিলাহ লিযাবিল্ ওয়ালাতিল্ আদিলাহ হুয়া আরবাঈন ফিল্ আদাল (৩৪) আল-ফিকহুল্ জালী র্ফি রদ্দি আলাল্ খালী (৩৫) আল-ক্বাওলুল হালী ফী খফ্দ্বিল্ মু’তালী (৩৬) কুররাতুল্ আইনি ফী বায়ানি আন্নাত্ তাবাররুয়া লা ইয়াবতিলুহুদ্ দীন (৩৭) ক্বাওয়াতিউল্ ইসলাম ফিল্ আলফাযিল্ মুকাফ্ফারাহ (৩৮) আল-ক্বাওলুল্ মুখতাছার ফী আলামাতিল্ মাহদিল্ মুনতাযার (৩৯) কাফফুদ দিমাগ মিন্ মুহাররামাতিল্ লাহবি ওয়াস্ সামা’ (৪০) মাবলাগুল্ আরিব ফী ফাদ্বলিল্ আরাব (৪১) আল-মানাহিলুল্ আযিবাহ ফী ইছলাহি মা হিয়া মিনাল্ কা’বাহ (৪২) মা’দানুল্ ইয়াওয়াক্বিতিল্ মুলতামিয়াহ ফী মানক্বিবিল্ আইম্মাতিল্ আরবাআহ (৪৩) আল-মানহুল্ মাক্কিয়্যাহ ফী শরহিল্ হামযিয়্যাহ (৪৪) আন-নুখাবুল্ জালীলাহ ফিল্ খুতাবিল্ জাযীলাহ (৪৫) আছ-ছাওয়ায়িকুল মুহাররাকাহ আলা আহলিল বিদয়ি ওয়াদ দ্বলালি ওয়ায যানাদিকাহ (৪৬) শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ লিততাবরিযী (৪৭) আল ফাতাওয়াল হাইতামিয়্যাহ (৪৮) আল-ইআব ফী শরহিল ইবাব (৪৯) আল ইমদাদু ফী শরহিল ইরশাদি লিল মুক্বরী (৫০) শরহুল আরবাঈনান নুওয়াওয়িয়া (৫১) নছীহাতুল মুলূক (৫২) খুলাছাতুল আইম্মাতিল আরবাআহ (৫৩) আল মানহাজুল ক্বউইম ফী মাসায়িত তা’লীম (৫৪)  আদ-দুরারুয যাহিরাহ ফী কাশফি বায়ানিল আখিরাহ (৫৫) দ্বিমানুন মাজমূআহ (৫৬) কাফফুর রিআয়ি আন ইসতিমায়ি আলাতিস সিমাঅ’ (৫৭) আল যাওয়াজির আন ইক্বতিরাফিল কাবায়ির (৫৮) আখিরুল মাজমূয়ি কাতানী (কাশফুয্ যুনূন আন্ আসামিল্ কুতুবি ওয়াল্ ফুনূন লেখক: আল্লামাহ মুছ্তফা আব্দুল্লাহ কুস্তান্তানী রূমী হানাফী মাশহূর মুল্লা কাতিবুল্ জালী হাজী খলীফাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি জন্ম: ১০১৭ হিজরী ইন্তিকাল: ১০৬৭ হিজরী ৫ম খন্ড ১২১ পৃষ্ঠা)

কাজেই, মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নবীজি ছল্লাল্লাহু তিনি পালন করেননি, তাবিয়ীনগণ পালন করেননি, তাবে তাবেয়ীনগণ পালন করেননি ঐতিহাসিকদের এ তথ্য সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা ও দলীলবিহীন। আর কোন ইতিহাস দ্বীন ইসলাম উনার দলীলের অন্তর্ভুক্ত নয়। ইতিহাস বা কারো কোন তথ্য ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষণ না তা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার বর্ণনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হবে।

প্রকাশ থাকে যে, মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে আগমন তথা বিলাদত শরীফ উপলক্ষে মাহফিল বা মজলিসের আয়োজন করা। আর এ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে মজলিসের আয়োজন করেছেন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানাতেই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা। যেমন এ প্রসঙ্গে সুপ্রসিদ্ধ কিতাবুত তানবীর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযীর এবং হাক্বীক্বতে মুহম্মদী ও মীলাদে আহমদী কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابى الدرداء رضى الله تعالى عنه انه  مر مع النبى صلى الله عليه وسلم الى بيت عامر الانصارى وكان يعلم وقائع ولادته صلى الله عليه وسلم لا بنائه وعشيرته ويقول هذا اليوم هذا اليوم فقال عليه الصلوة والسلام ان الله فتح لك ابواب الرحمة والملائكة كلهم يستغفرون لك من فعل فعلك نجى نجتك .

অর্র্থ: æহযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, একদা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত আমির আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার গৃহে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন যে, তিনি বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে উনার সন্তান-সন্ততি এবং আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতি-গোষ্ঠী, পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে সমবেত করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উনার ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছেন এবং বলছেন, এই দিবস, এই দিবস অর্র্থাৎ এই দিবসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে তাশরীফ এনেছেন। এমন সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। (তিনি যখন উপস্থিত হলেন তখন সমবেত সবাই দাঁড়িয়ে উনাকে সালাম পেশ করতঃ অভ্যর্থনা বা স্বাগত জানিয়ে আসনে বসালেন।) তিনি বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে মাহফিল করতে দেখে উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা আপনাদের জন্য রহমতের দরজা মুবারক উš§ুক্ত করেছেন এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম আপনাদের জন্য মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং যে কেউ আপনাদের মতো এরূপ কাজ করবে, আপনাদের মতো তারাও রহমত ও মাগফিরাত এবং নাজাত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنهما انه كان يحدث ذات يوم فى بيته وقائع ولادته صلى الله عليه وسلم لقوم فيستبشرون ويحمدون الله ويصلون عليه صلى الله عليه وسلم فاذا جاء النبى صلى الله عليه وسلم قال حلت لكم شفاعتى .

অর্র্থ: æহযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে উনার নিজ গৃহে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে সমবেত করে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উনার ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছিলেন। এতে শ্রবণকারীগণ আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা তথা তাসবীহ-তাহলীল পাঠ করছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে ছলাত-সালাম (দুরূদ শরীফ) পাঠ করছিলেন। এমন সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে উপস্থিত হলেন। (তিনি যখন উপস্থিত হলেন তখন সমবেত সবাই দাঁড়িয়ে উনাকে সালাম পেশ করতঃ অভ্যর্থনা বা স্বাগত জানিয়ে আসনে বসালেন।) তিনি বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে মাহফিল করতে দেখে উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আপনাদের জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব।”

স্মরণীয় যে, উপরে উল্লেখিত কিতাবুত তানবীর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযীর এবং হাক্বীক্বতে মুহম্মদী ও মীলাদে আহমদী উক্ত কিতাবদ্বয়সহ আরো যেসব কিতাবে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে বর্ণনা, আলোচনা এসেছে তাহচ্ছে- (১) কিতাবুত তানবীর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযীর (২) সুবুলুল হুদা ফী মাওলিদিল মোস্তাফা।, (৩) হুসনুল মাকাছিদ, (৪) সীরতে শামী, (৫) সীরতে নববী, (৬) যারক্বানী, (৭) ইমদাদুল মোশতাক্ব, (৮) মাছাবাতা বিস্ সুন্নাহ্, (৯) আদ্ দুররুল মুনাজ্জাম ফী বায়ানে হুকমু মাওলুদিন নবীয়্যিল আ’যম, (১০) সাবীলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সীরাতে খাইরিল ইবাদ, (১১) আল ইন্তিবাহ্ ফী সালাসিলে আওলিয়াইল্লাহ্, (১২) ফাতহুল মুবীন শরহে আরবাঈন লি ইমাম নববী, (১৩) মিয়াতে মাসায়িল, (১৪) মিরআতুয্ যামান, (১৫) মিছবাহুয্ যুজাজাহ্ আলা সুনানে ইবনে মাজাহ্, (১৬) তাফসীরে রুহুল বয়ান, (১৭) নি’মাতুল কুবরা, (১৮) আল মাওলূদুল কাবীর, (১৯) ইশবাউল কালাম ফী ইছবাতিল মাওলুদে ওয়াল ক্বিয়াম, (২০) আশ্ শিফা লি ক্বাজী আয়াজ, (২১) আল মুলাখ্যাছ, (২২) কিতাবুস্ সীরাতিল মুহম্মদিয়াহ্ ওয়াত্ তরীক্বাতিল আহ্মদিয়া, (২৩) আল জাওহারুল মুনাজ্জাম, (২৪) আল ইনসানুল উয়ুন, (২৫) ইক্বদুল জাওহার, (২৬) আস্সুলুকুল মুয়াজ্জাম, (২৭) ক্বিয়ামুল মিল্লাহ্, (২৮) জামিউল ফত্ওয়া, (২৯) নুয্হাতুল মাজালিস, (৩০) মিশকাত শরীফ, (৩১) মিরকাত শরীফ, (৩২) লোময়াত, (৩৩) আশয়্যাতুল লোম্য়াত, (৩৪) রদ্দুল মোহ্তার, (৩৫) হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাহ (৩৬) আখবারুল আখইয়ার (৩৭) ফতওয়ায়ে বরকতীয়া, (৩৮) আহ্কামে শরীয়ত, (৩৯) সুন্নী বেহেশ্তী জিওর, (৪০) জায়াল হক্ব, (৪১) মজমুয়ায়ে ফতওয়ায়ে আযীযিয়াহ্, (৪২) মাওয়ায়েজে আশ্রাফিয়া, (৪৩) আশ্রাফুল জাওয়াব, (৪৪) মাক্তুবাতে মাদানী, (৪৫) হাশিয়ায়ে হায়দারী, (৪৬) মরকূমাতে ইমদাদিয়াহ্ ইত্যাদি।

অতএব, মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর লিখিত কিতাব শুধুমাত্র আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম কিতাবখানাই নয় বরং উক্ত বিষয়ের উপর লেখা কিতাবের সংখ্যা বহু। আর ‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’ কিতাবখানা আমাদের সংগ্রহে রয়েছে।

মুহম্মদ তবারুক হুসাইন

ঢাকা

সুওয়াল: কুরআন শরীফ উনার কোন তরজমা করার সময় মূল আরবীর সাথে কিছু যোগ বা বাদ দেয়া অন্যায়। অথচ সূরা ইউনুস শরীফ উনার ৫৭ ও ৫৮নং আয়াত শরীফদ্বয় উনাদের তরজমা বর্ণনায় উক্ত কাজটিই আপনারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছেন। অন্যথায় উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের তরজমা মতে কুরআন শরীফ উনার মধ্যে এত সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকলে কি আমাদের নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার বিলাদত শরীফ দিবস আনন্দের সাথে উদযাপন করতেন না? আমাদের নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো ছিলেন পবিত্র কুরআন শরীফ উনার জীবন্ত নমুনা। বিষয়টি জানতে আগ্রহী।

জাওয়াব: পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অর্থ বর্ণনায় সবক্ষেত্রে শাব্দিক বা আভিধানিক অর্থের উপর ভিত্তি করে অর্থ করা যাবে না, করলে তা শুদ্ধ হবে না। উদাহরণস্বরূপ সূরা হিজর শরীফ ৯৯নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

واعبد ربك حتى ياتيك اليقين

অর্থ: তুমি তোমার মহান রব তা’য়ালা উনার ইবাদত করো ইয়াক্বীন (বিশ্বাস) আসা পর্যন্ত।

এই আয়াত শরীফ উনার দলীল দিয়ে এক শ্রেণীর ভ- ফকীর বলে থাকে যে, উপরের মাক্বামে উঠলে অর্থাৎ ‘ইয়াক্বীন’ পয়দা হয়ে গেলে আর ইবাদত-বন্দিগী করতে হয়না। নাউযুবিল্লাহ!

‘ইয়াক্বীন’ শব্দের শাব্দিক অর্থ বিশ্বাস হওয়া সত্বেও উক্ত আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ‘বিশ্বাস’ অর্থ গ্রহন করা কুফরী। বরং উক্ত ‘ইয়াক্বীন’ শব্দের অর্থ গ্রহণ করতে হবে মৃত্যু; যা অনুসরণীয় হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা গ্রহণ করেছেন।

কাজেই, পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ভাষা মর্মার্থ মানুষের পক্ষে স্বল্প জ্ঞান দিয়ে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এ কারণেই প্রকৃত তাফসীর করার জন্য ইলমে লাদুন্নী শর্ত করা হয়েছে। আর পবিত্র কুরআন শরীফ উনার শব্দ ও ভাষা মুবারক আর অন্য ভাষার শব্দ ও ভাষা এক নয়; ফলে শব্দে শব্দে অর্থ বর্ণনাও কখনোই সম্ভব নয়। কেননা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার কালাম সীমাবদ্ধ হলেও উনার মর্মার্থ ব্যাপক। যার কারণে তাফসীর লেখা শুরু হয়েছে বটে তা শেষ হয়নি এবং হবেও না। প্রখ্যাত মুফাসসির ইমাম ইবনু জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যেদিন গওছুল আ’যম হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফ গিয়েছিলেন উনাকে দেখার জন্য, সেদিনও গওছুল আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মজলিসের প্রাত্যহিক নিয়মানুযায়ী হাফিয ছাহিব কর্তৃক পঠিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর বর্ণনা শুরু করলেন। এক এক করে চৌদ্দ প্রকার তাফসীর করে নতুন আগন্তুক ইমাম ইবনু জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, এসব তাফসীর কি আপনার জানা আছে? তিনি উত্তর দিলেন জী হুযূর! গওছুল আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তখন একই আয়াত শরীফ উনার তাফসীর করে চল্লিশ প্রকারে গিয়ে পৌঁছলেন। এরপর বললেন, হে ইবনু জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি! চৌদ্দ প্রকারের পরবর্তী তাফসীরগুলোও কি আপনি জানেন? তিনি উত্তর দিলেন, হুযূর! পরবর্তী তাফসীরগুলো আমার জানা নেই এবং এত সুক্ষ্ম থেকে সুক্ষ্মতর তাফসীর হতে পারে তা কখনও চিন্তাও করিনি। তখন গওছুল আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ইবনু জাওযী! তুমি সোজা হয়ে বস। আমি কালের থেকে হালের দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম। এ কথা বলামাত্র ইবনু জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাল শুরু হয়ে গেল এবং তিনি লাফাতে লাগলেন, হযরত গওছুল আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হে ইবনু জাওযী! এটা ইলম হাছিলের জায়গা, লাফানোর জায়গা নয়। ইবনু জাওযী উনার ক্বদম মুবারকে পড়ে বাইয়াত হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, আওলাদে রসূল, মুজাদ্দিদে আ’যম ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি যে তাফসীর করেছেন, অর্থ ও ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছেন সেটাই সমধিক ছহীহ অর্থ ও ব্যাখ্যা। উপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনা দ্বারা আশা করি সে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি সবাইকে দ্বীনের ছহীহ সমঝ দান করুন। আমীন।

মুহম্মদ রিয়াদুয যামান

বরগুনা।

সুওয়াল: তালাক দেয়ার শরীয়তসম্মত পদ্ধতি কি? এক সাথে তিন তালাক দিলে তার ফায়সালা কি? রাগের সহিত তালাক দিলে তালাক হবে কিনা? অনুগ্রহ করে জানাবেন।

জাওয়াব: তালাক শব্দের অর্থ হচ্ছে জুদা, বর্জন, ত্যাগ, পৃথক ইত্যাদি। অর্থাৎ স্বামী থেকে আহলিয়া বা আহলিয়াকে কিছু নির্দিষ্ট শব্দ দ্বারা আলাদা করে দেয়া বা বিবাহ ভঙ্গ করে দেয়াকে তালাক বলে।

আহলিয়ার উপর তালাক আরোপিত হওয়া সম্পর্কে শরীয়তে তিনটি ছূরত বর্ণিত হয়েছে। (১) তালাকে আহ্সান, (২) তালাকে হাসান বা সুন্নত এবং (৩) তালাকে বিদ্য়ী বা বিদ্য়াত।

তালাকে আহসান হলো, বিবাহিতা আহলিয়াকে এক তুহুর বা পবিত্রতাকালে (যাতে জেমা ও ওতি হয়নি) এক তালাক দিয়ে ইদ্দত পর্যন্ত রেখে দেয়াকে তালাকে আহসান বলে।

তালাকে হাসান বা সুন্নত তালাক হলো বিবাহিতা আহলিয়াকে তিন তুহুরে তিন তালাক দেয়া আর নাবালেগা, ছন্নে আয়েছা, হামেলদার বা গর্ভবতী আহলিয়াকে তিন মাসে তিন তালাক দেয়া। এটাকেও হাসান তালাক বলে।

আর যে আহলিয়ার সাথে জেমা ও ওতি করা হয়নি তাকে তুহুরে অথবা অপবিত্রাবস্থায় এক তালাক দেয়াকে হাসান তালাক বলে। তালাকে সুন্নত শব্দের অর্থ হলো, তালাকে বিদ্য়াত নয়।

তালাকে বিদয়ী হলো, এক কথায় তিন তালাক দেয়াকে তালাকে বেদয়ী বলে। আর এক তুহুর বা এক অপবিত্রতার মধ্যে তিন তালাক দেয়াকে তালাকে বিদয়ী বলে।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ابغض الحلال الى الله الطلاق.

অর্থ : æমহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হালালের মধ্যে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হালাল হচ্ছে তালাক দেয়া।” (মিশকাত শরীফ)

অতএব, সম্মানিত শরীয়ত কখনো কাউকে তালাক দেয়ার জন্য উৎসাহিত করেনা। হ্যাঁ, যদি স্বামী এবং আহলিয়ার মধ্যে কোন অবস্থাতেই একত্রে বসবাস করা সম্ভব না হয় তাহলে পরস্পর পরস্পর থেকে আলাদা বা জুদা হবে। এই জুদা হওয়াকেই তালাক বলা হয়। এই তালাক দেয়ার মধ্যে উত্তম পদ্ধতি হচ্ছে আহসান তালাক দেয়া অথবা হাসান তালাক দেয়া যা তালাকে বিদয়ী নয়।

হ্যাঁ, এক সঙ্গে তিন তালাক দিলে তিন তালাকই পতিত হবে। চাই তা গোস্বা হয়ে দিক বা খুশি হয়ে দিক অথবা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় দিক।

এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ثلث جدهن جد هزلـهن جد النكاح والطلاق والرجعة.

অর্থ : æতিনটি বিষয় এমন রয়েছে যা গোস্বায় হোক বা হাসি ঠাট্টায় হোক সর্বাবস্থায় কার্যকরী হয়ে থাকে। বিবাহ্, তালাক ও রজয়াত।” (তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ/২৮৪)

এ বিষয়ে সম্মানিত চার ইমামই একমত পোষণ করেছেন।

অনেকে বলে থাকে যে, গোস্বা হয়ে তালাক দিলে তালাক হয়না।

এর জাওয়াবে বলতে হয়, কোন ব্যক্তি তার আহলিয়াকে কখনোই খুশি হয়ে তালাক দেয়না। কারণ কেউ যখন বিবাহ করে তখন সে খুশি মনেই করে। আর তালাক দেয়ার নিয়তে কেউ বিয়ে করেনা। কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে- æতালাক দেয়ার নিয়তে বিবাহ করলে তার প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত বর্ষিত হয়।”

কাজেই কেউ যখন তার আহলিয়াকে তালাক দেয় তখন সে গোস্বা হয়েই তালাক দিয়ে থাকে। অর্থাৎ মনমালিন্য হওয়ার কারণেই তালাক দিয়ে থাকে।

তাই এ কথা বলার অবকাশ নেই যে, গোস্বা হয়ে তালাক দিলে তালাক বর্তাবেনা।

আমাদের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার ফতওয়া হচ্ছে, তিন তালাক দিলেই তিন তালাক পতিত হবে। তা যে কোন অবস্থাতেই হোক।

{দলীলসমূহ : (১) তাফসীরে তাবারী, (২) রূহুল মায়ানী, (৩) ইবনে কাছীর, (৪) কবীর, (৫) খাযিন, (৬) বাগবী, (৭) কুরতুবী, (৮) মাযহারী, (৯) আহকামুল কুরআন, (১০) আহমদী, (১১) বায়যাবী, (১২) শায়খেযাদাহ, (১৩) মা’আরিফুল কুরআন, (১৪) বুখারী, (১৫) মুসলিম, (১৬) মিশকাত, (১৭) ফতহুল বারী, (১৮) উমদাতুল ক্বারী, (১৯) মিরকাত, (২০) আশয়াতুল লুময়াত, (২১) লুময়াত, (২২) তা’লীকুছ্ ছবীহ্, (২৩) ত্বীবী, (২৪) মুযাহেরে হক্ব, (২৫) মাবসুত, (২৬) ফতহুল ক্বাদীর, (২৭) বেনায়া, (২৮) আলমগীরী, (২৯) শামী, (৩০) আইনী, (৩১) বাহরুর রায়িক, (৩২) কুদুরী, (৩৩) হেদায়া, (৩৪) আইনুল হিদায়া, (৩৫) নিহায়া, (৩৬) ইনায়া, (৩৭) গায়াতুল আওতার, (৩৮) শরহে বিকায়া, (৩৯) কানযুদ্ দাক্বায়িক্ব, (৪০) ফতওয়ায়ে আমিনী ইত্যাদি।}

 

মুহম্মদ রূহুল কুদুস, বগুড়া।

ডা. মুহম্মদ আওক্বাত আলী, চাঁপাই নবাবঞ্জ।

 

সুওয়াল : মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা এবং শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ১১তম খলীফা এবং ‘আস সাফফাহ’ লক্বব মুবারক উনার অর্থ ও ব্যাখা-বিশ্লেষণ ও মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনিই যে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম’ এবং উনার মুবারক উছীলায় যে, অবশ্যই অবশ্যই বর্তমান যামানায় সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে এ সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বিস্তারিতভাবে জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব :

(পূর্ব প্রকাশিতের পর- ৬)

এই সম্পর্কে ছাহিবুল ইলমিল আউয়ালি ওয়াল ইলমিল আখিরি, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, æযাহিরী খিলাফত মুবারক উনার বিষয়টি সম্মানিত মাকা¡ম মুবারক উনার সাথে সম্পৃক্ত। মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার  হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা  দয়া ও ইহসান  করে যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদেরকে এই বিশেষ মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া করেছেন উনাদের দ্বারাই শুধুমাত্র দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত যাহিরী খিলাফত মুবারক তথা সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে। এছাড়া অন্য কারো মাধ্যমে সেটা হবে না। আর যেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি এই বিশেষ মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া করেছেন, তিনি অবশ্য অবশ্যই সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক উনার জন্য কোশেশ করবেন এবং উনার মুবারক উছীলায় অবশ্যই অবশ্যই সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবেই হবে ইনশাআল্লাহ।” (সুবহানাল্লাহ)

তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, æআর পূর্ববর্তী হযরত আওলিয়া-ই কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মধ্যে কেবলমাত্র হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে এবং সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকে সম্মানিত যাহিরী খিলাফত মুকবারক উনার সম্মানিত মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া করা হয়েছিলো। তাই পূর্ববর্তী হযরত আওলিয়া-ই কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মধ্যে শুধুমাত্র উনারা দু’জন খলীফা হয়েছেন এবং সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করেছেন।” (সুবহানাল্লাহ)

যার ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাই, ক্বাদ্বিরিয়া ত্বরীক্বা উনার মহাসম্মানিত ইমাম, ষষ্ঠ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, গাউছুল আ’যম হযরত বড়পীর আব্দুল ক্বাদির জীলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার যামানায় অনুকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি সম্মানিত খিলাফত আল মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক উনার জন্য কোশেশ করেননি, খলীফা হননি এবং সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনাও করেননি। অনুরূপভাবে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নির্দেশে চীশতিয়া ত্বরীক্বা উনার মহাসম্মানিত ইমাম, সপ্তম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, সুলত্বানুল হিন্দ, হাবীবুল্লাহ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমীরী সানজীরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে এসেছেন এবং উনার মুবারক উছীলায় এক কোটিরও বেশি লোক ঈমান এনেছেন। শুধু তাই নয়, উনার সম্মানিত বেলায়ত মুবারক উনার তাছিরে অত্যাচারী হিন্দুরাজা পৃথ্বিরাজ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। (সুবহানাল্লাহ) তারপরেও তিনি সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার জন্য কোশেশ করেননি, খলীফা হননি এবং সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনাও করেননি। একইভাবে মুজাদ্দিদিয়া ত্বরীক্বা উনার মহাসম্মানিত ইমাম, একাদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, আফদ্বালুল আউলিয়া, ক্বইউওমে আউওয়াল, আবুল বারাকাত, বদরুদ্দীন হযরত শায়েখ আহমদ ফারূকী সিরহিন্দী মুজাদ্দিদ আলফে ছানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আলাইহি তিনি ছিলেন পূর্ববর্তী হযরত মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মধ্যে একজন বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক। উনার পবিত্র শান মুবারক-এ দুইখানা সম্মানিত হাদীছ শরীফ রয়েছে। (সুবহানাল্লাহ) তিনি দুইজন প্রতাপশালী বাদশাহ তথা বাদশাহ আকবর ও বাদশাহ জাহাঙ্গীরের ফিতনাকে তছনছ করে দিয়েছেন, মিটিয়ে দিয়েছেন। শেষপর্যন্ত বাদশাহ আকবর সে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এবং বাদশাহ জাহাঙ্গীর উনার মুরীদ হয়ে গেছেন। (সুবহানাল্লাহ) কিন্তু তারপরও হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার জন্য কোশেশ করেননি, খলীফা হননি এবং সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনাও করেননি। সুতরাং উপরোক্ত দলীল ভিত্তিক আলোচনা থেকে এই বিষয়টি অত্যান্ত সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, সম্মানিত যাহিরী খিলাফত মুবারক উনার বিষয়টি সম্মানিত মাক্বাম মুবারক উনার সাথে সম্পৃক্ত। মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদেরকে দয়া ও ইহসান করে এই বিশেষ মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া করেছেন উনারাই শুধুমাত্র যাহিরী খলীফা হবেন এবং উনাদের দ্বারা অবশ্যই অবশ্যই সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ প্রতিষ্ঠিত হবেই হবে। (সুবহানাল্লাহ)

মহান আল্লাহ পাক উনার অসংখ্য-অগণিত শুকরিয়া যে, আমাদের যিনি শায়েখ, মুজাদ্দিদে আ’যম, পবিত্র রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদি ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যাহিরী এবং বাত্বিনী উভয় প্রকার খিলাফত মুবারক উনাদের সর্বোচ্চ পন্থায় সম্মানিত খিলাফত মুবারক হাদিয়া করেছেন। (সুবহানাল্লাহ)

এই প্রসঙ্গে মামদূহ মুর্শিদি ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার যিনি হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যাহিরী এবং বাতিনী উভয় প্রকার সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনাদের সর্বোচ্চ মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া করেছেন এবং আমাকে সর্বোচ্চ পন্থায় সম্মানিত খিলাফত মুবারক হাদিয়া করেছেন। অতীতের আর কোন হযরত আওলিয়াই কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে এরূপ সর্বোচ্চ পন্থায় সম্মানিত খিলাফত মুবারক প্রদান করা হয়নি।” (সুবহানাল্লাহ)

সুতরাং উনার মুবারক উছীলায় বর্তমান যামানায় অবশ্যই অবশ্যই সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবেই হবে ইনশাআল্লাহ। এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। (সুবহানাল্লাহ)

সাইয়্যিদুল খুলাফা মামদূহ মুর্শিদ সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ  ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, æসাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক বিশেষ নূরানী  কুদরতী মাহফিল মুবারক উনার মধ্যে সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের, সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের, সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মুখে স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক নির্দেশে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার শির (মাথা) মুবারক-এ সাদা, কালো ও সবুজ এই তিন ধরণের তিনটি পাগড়ী মুবারক পড়িয়ে, একখানা আছা (লাঠি) মুবারক হাদিয়া করে যাহিরী এবং বাতিনী উভয় প্রকার খিলাফত মুবারক উনাদের সর্বোচ্চ পন্থায় খিলাফত মুবারক প্রদান করেন। (সুবহানাল্লাহ) অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উপস্থিত সকলের সামনে উনার সর্বশ্রেষ্ঠ আওলাদ, উনার সর্বশ্রেষ্ঠ খলীফা, মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, æহে আমার যোগ্যতম আওলাদ! আপনাকে যেরূপ সর্বোচ্চ পন্থায় খিলাফত মুাবরক প্রদান করা হলো, এরূপ সর্বোচ্চ পন্থায় আর কোন আওলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে খিলাফত মুবারক দেয়া হয়নি।” (সুবহানাল্লাহ) শুধু তাই নয়, উক্ত বিশেষ মজলিসে তিনি উপস্থিত সবার সম্মুখে পুনরায় এক মুবারক ই’লান দিলেন যে, বর্তমানে জাহিলিয়াতের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, ফিতনা-ফাসাদ চরমভাবে প্রকাশ পেয়েছে, পুরো দুনিয়া যুলুম-নির্যাতন, অত্যাচার-অবিচার, কুফরী-শিরকী হারাম-নাজায়িয কার্যকলাপে ভরে গেছে। পৃথিবীর কোথায়ও ইনসাফের লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই। এমনি এক কঠিন পরিস্থিতে, এমন এক কঠিন সময়ে আমার এই সুযোগ্য আওলাদ উনার মুবারক তাশরীফ। তিনি সমস্ত কাফির-মুশরিক, ইহুদী-নাছারা, গোমরাহ-পথভ্রষ্ট, মুনাফিক্ব ও উলামায়ে সূ’দেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে দুনিয়ার যমীনে ইনসাফ মুবারক প্রতিষ্ঠা করবেন, খিলাফত মুবারক জারি করবেন। (সুবহানাল্লাহ) আমার এই সুমহান আওলাদ তিনি হচ্ছেন আমার পক্ষ থেকে একজন আখাচ্ছুল খাছ মহান খলীফা আলাইহিস সালাম। দুনিয়ার যমীনে উনার যারা বিরোধীতা করবে, উনার যারা শত্রুতা পোষণ করবে, তারা প্রত্যেকেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, ধ্বংস হয়ে যাবে, তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।” (সুবহানাল্লাহ) এছাড়াও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খিলাফত মুবারক প্রদানের আগে ও পরে উক্ত মুবারক মাহফিল উনার মধ্যে সকলের সম্মুখে মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম  খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার আরো অনেক ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেন। (সুবহানাল্লাহ)

পরিশেষে যাঁরা বড় বড় হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা রয়েছেন, উনারা প্রত্যেকেই মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আরজী পেশ করলেন যে, æআপনার সাথে পেরে উঠা আমাদের পক্ষে আর সম্ভব হবে না। কেননা আপনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান মুবারক স্বয়ং যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বর্ণনা করেছেন।” (সুবহানাল্লাহ) 

 

মুহম্মদ যাকারিয়া

জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানী, সিলেট

 

সুওয়াল: তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোক ইদ্দত পালন না করেই অন্যত্র বিবাহ বসতে পারবে কি? এ বিষয়ে সঠিক ফায়ছালা জানতে ইচ্ছুক।

জাওয়াব: তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোক ইদ্দত পালন ব্যতীত অন্যত্র বিবাহ বসতে পারবে না। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اذا طلقتم النساء فطلقوهن لعدتهن واحصوا العدة واتقوا الله ربكم

অর্থ: যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও তখন তাদেরকে ইদ্দতের মধ্যে অর্থাৎ পবিত্রা অবস্থায় তালাক দিবে এবং তোমরা (তালাক দেয়ার পর) ইদ্দত গণনা করবে। এবং এ বিষয়ে তোমাদের প্রতিপালক মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করবে। (পবিত্র সূরা আত ত্বলাক: পবিত্র আয়াত শরীফ ১)

স্মরণীয় যে, ‘ইদ্দত’ উনার আভিধানিক অর্থ  গণনা করা, হিসাব, সংখ্যা। পবিত্র শরীয়ত উনার পরিভাষায় বৈবাহিক সম্পর্ক চলে যাওয়ার পর স্ত্রীর অপেক্ষমান সময়কে ইদ্দত বলে। আবার শুধু অপেক্ষমান সময়কেও ইদ্দত বলা হয়।

পবিত্র সূরা তলাক উনার ১নং আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবসমূহে বর্ণিত রয়েছে, যখন স্বামী স্বীয় স্ত্রীকে ‘তালাকে বাইন’ অথবা ‘তালাকে রেজয়ী’ দিয়ে দেয় অথবা উভয়ের মধ্যে তালাক ব্যতীত পৃথকতা সৃষ্টি হয়ে যায় এবং মহিলা যদি আজাদ (স্বাধীন) হয় এবং স্বাভাবিক মা’জূর হয়, তাহলে ওই মহিলার ইদ্দত তিন ‘কুরূ’ তথা তিন স্বাভাবিক মা’জুরতা।

যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

والـمطلقات يتربصن بانفسهن ثلثة قروء

অর্থ: আর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীলোক নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন ‘কুরূ’ বা তিন স্বাভাবিক মাজুরতা পর্যন্ত। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২২৮)

কিন্তু যদি ওই মহিলার স্বল্প বয়স অথবা বার্ধক্যের কারণে স্বাভাবিক মা’জূরতা না হয়, তাহলে তার ইদ্দত হবে তিন মাস। আর যদি স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হয়, তবে তার ইদ্দত সন্তান হওয়া পর্যন্ত। আর যদি মহিলা দাসী হয়, তবে তার ইদ্দত দুই ‘কুরূ’ বা স্বাভাবিক মাজুরতা। যদি তার স্বাভাবিক মা’জূরতা না হয়, তাহলে ইদ্দত দেড়মাস। আর যদি স্বামী তার (স্বাধীন) স্ত্রীকে রেখে ইনতিকাল করে, তবে ওই মহিলার ইদ্দত চারমাস দশ দিন, কিন্তু স্ত্রী দাসী হলে তার ইদ্দত দুই মাস পাঁচ দিন। আর যদি অন্ত:সত্ত্বা হয়, তবে তার ইদ্দত সন্তান হওয়া পর্যন্ত। যদি মহিলা মৃত্যুশয্যায় তালাকপ্রাপ্ত হয়, তাহলে তার ইদ্দত ইমামে আ’যম হযরত ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট উভয় ইদ্দতের মধ্য হতে যেটা অতি দীর্ঘ সেটাই গৃহীত হবে। যদি দাসীকে তার তালাকে রেজয়ী এর ইদ্দত চলাকালীন সময়ে আজাদ করে দেয়া হয়, তাহলে তার ইদ্দত স্বাধীন মহিলাদের ইদ্দতের দিকে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। আর যদি এমতাবস্থায় আজাদ হয় যে, উক্ত মহিলা তালাকে বাইন প্রাপ্ত, অথবা তার স্বামী ইনতিকাল করেছে, তাহলে তার ইদ্দত স্বাধীন মহিলাদের ইদ্দতের সাথে পরিবর্তন হবে না।

যদি বার্ধক্যের কারণে মহিলার স্বাভাবিক মা’জুরতা বন্ধ হয়ে যায় এবং সে ইদ্দত পালন করা অবস্থায় পুনরায় রক্ত দেখে তবে তার যেটুকু ইদ্দত অতিবাহিত হয়েছে তা বাতিল হয়ে যাবে এবং তার উপর স্বাভাবিক মা’জুরতা অনুযায়ী পুনরায় ইদ্দত পালন করা আবশ্যক হবে। যে মহিলার বিবাহ ফাসিদ হয়ে গেছে এবং যার সাথে সন্দেহ বশত নির্জনবাস হয়েছে, উভয়ের ইদ্দত স্বামীর বিচ্ছেদ এবং ইনতিকালের অবস্থাতে স্বাভাবিক মা’জূরতা দ্বারা গণনা করা হবে। যদি উম্মু ওয়ালাদ (যে দাসীর সাথে নির্জনবাস করার কারণে সন্তান হয়েছে) এর মনিব ইনতিকাল করে অথবা তাকে আজাদ করে দেয়, তাহলে তার ইদ্দত তিন স্বাভাবিক মা’জুরতা।

আর যদি ছেলে তার স্ত্রী রেখে ইনতিকাল করে অথচ তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা তবে তার ইদ্দত সন্তান হওয়া পর্যন্ত। কিন্তু যদি স্বামী নাবালক হয় আর তার ইনতিকালের পরে প্রকাশ পায় স্ত্রী সন্তান সম্ভবা তবে তার ইদ্দত চার মাস দশ দিন।

যদি স্বামী স্বীয় স্ত্রীকে স্বাভাবিক মাজুরতা অবস্থায় তালাক দিয়ে দেয় তখন যে স্বাভাবিক মাজুরতার মধ্যে তালাক দিয়েছে তা ইদ্দতের মধ্যে গণ্য হবে না। আর যদি ইদ্দত পালনরত অবস্থায় মহিলার সাথে সন্দেহমূলকভাবে নির্জনবাস করে ফেলে তবে তার ওপর নতুনরূপে ইদ্দত পালন করা আবশ্যক। আর উভয় ইদ্দত একটি অপরটির মধ্যে প্রবেশ করবে।

যেমন মহিলা অন্য কারো ইদ্দতের মধ্যে ছিল, কিন্তু পুরুষের অবগতি না থাকায় সে ওই মহিলাকে বিবাহ করে ফেললো তখন ওই মহিলার উপর দ্বিতীয় ইদ্দত ওয়াজিব হয়ে যাবে এবং একটা ইদ্দত অন্যটার সাথে প্রবেশ করবে এবং দ্বিতীয় ইদ্দত ওয়াজিব হওয়ার পর যে স্বাভাবিক মা’জুরতা দেখা দিবে তা উভয় ইদ্দতের মধ্যে গণনা করা হবে এবং যদি প্রথম ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে দ্বিতীয় ইদ্দত পুরা করা কর্তব্য। যেমন মহিলা তালাক হয়ে যাওয়ার পর ইদ্দত পালনকালে মাত্র একবার স্বাভাবিক মা’জুর হয়েছে এমতাবস্থায় সে অন্য স্বামীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেছে এবং নির্জনবাসের পর পৃথক হয়ে গেছে, এরপর দু’বার স্বাভাবিক মা’জুর হয়েছে, তাহলে এই তিনো স্বাভাবিক মা’জুরতা উভয় ইদ্দতের মধ্যে পরিগণিত হবে। প্রথম স্বাভাবিক মা’জুরতা এবং পরের দুই স্বাভাবিক মা’জুরতা মিলে প্রথম স্বামীর ইদ্দত পূরণ হয়েছে। আর দ্বিতীয় স্বামীর ইদ্দতের শুধু দুই স্বাভাবিক মা’জুরতা হয়েছে, অতঃপর যখন একবার স্বাভাবিক মা’জুরতা দেখা দিবে, তখন দ্বিতীয় স্বামীর ইদ্দতও পূর্ণ হয়ে যাবে।

আর ইদ্দতের গণনা তালাকের অবস্থায় তালাকের পর থেকে শুরু হয় এবং ইনতিকালের অবস্থায় ইনতিকালের পর থেকে শুরু হয়। অতঃপর স্ত্রী যদি তালাক বা স্বামীর ইনতিকালের ব্যাপারে অবগত না হয়; এমনকি ইদ্দতের সময়কাল গত হয়ে যায়, তাহলে তার ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গেছে।

স্মরণীয় যে, ইদ্দত পালনকারিণী মহিলার উপর সৌন্দর্যের বস্তুসমূহ অলংকার, সুগন্ধি, তৈল, সুরমা, মেহেদী, কুমকুম এবং জাফরান রঙে রঙিত পোশাক ইত্যাদি পরিত্যাগ করে শোক পালন করা কর্তব্য।

অতএব, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বর্ণনা থেকে প্রতিভাত হলো যে, তালাক কিংবা স্বামীর জুদায়ির কারণে স্ত্রীর জন্য ইদ্দত পালন অপরিহার্য। স্ত্রীর ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ করলে তা শুদ্ধ হবে না। অজ্ঞতাবশতঃ ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ করে থাকলে উক্ত বিবাহ ফাসিদ হবে এবং পুনারায় ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর বিবাহ সম্পাদন করতে হবে।

উল্লেখ্য, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ইদ্দতের মধ্যে নির্জনবাস হারাম জানা সত্ত্বেও যদি নির্জনবাস করে তাহলে উভয়ের প্রতি ব্যভিচারের হুকুম বর্তাবে। খিলাফত থাকলে উভয়কে পাথর মেরে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হতো। (দলীলসমূহ: হিদায়া, কুদুরী, গায়াতুল আওতার, দুররুল, মুখতার, শামী, এনায়া, বাজ্জাজিয়া, ফতওয়া নাওয়াঝিল, কাযীখান, আলমগীরী ইত্যাদি)

মুহম্মদ যুফার আলী

ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

সুওয়াল: এক পুরুষ লোকের আহলিয়া (স্ত্রী) ইনতিকাল করেছে এবং তার এক মেয়ে আছে। আবার অন্য এক মহিলার স্বামী ইনতিকাল করেছে এবং তার এক ছেলে আছে। উক্ত পুরুষ লোকটির সাথে উক্ত মহিলার বিবাহ হয়ে যায়। এখন তাদের উভয়ের যে মেয়ে ও ছেলে রয়েছে অর্থাৎ মহিলার ছেলেটি পুরুষ লোকটির মেয়েকে বিবাহ করতে চাচ্ছে। এটা শুদ্ধ হবে কিনা?

জাওয়াব:  সুওয়ালে উল্লেখিত ছেলেটির মা এবং মেয়েটির পিতা উভয়ের মধ্যে স্বামী-আহলিয়া সম্পর্ক। আর তাদের একে অপরের যে ছেলে ও মেয়ে রয়েছে উক্ত ছেলের সাথে মেয়ের বিবাহে আবদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে কোনরূপ বাধা বা আপত্তি নেই। যদিও উক্ত ছেলেটির মা ও মেয়েটির পিতা বর্তমানে পরস্পর স্বামী-আহলিয়া; কিন্তু তাদের উক্ত ছেলে ও মেয়ের সাথে পিতার দিক থেকে এবং মায়ের দিক থেকে রক্তের সম্পর্ক না থাকার কারণে তাদের উভয়ের মাঝে বিবাহ শুদ্ধ। এ কারণে যে, উক্ত ছেলে ও মেয়ে উভয়ের পিতা-মাতা দুজনেই আলাদা। (কুরতুবী, মাযহারী, আলমগীরী, শামী ইত্যাদি)

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল ও জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব