সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সংখ্যা: ২৩০তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ দেলওয়ার হুসাইন

বালুবাড়ি, দিনাজপুর

 সুওয়াল: অনেকে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সূরা আনআম শরীফ উনার ৭৪নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলে থাকে যে, হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম ছিল আযর এবং সে ছিল একজন মূর্তিপূজক। অথচ আমরা জানি যে, হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি হলেন কুল-মাখলূক্বাতের যিনি নবী ও রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষ উনাদের অন্তর্ভুক্ত।

অতএব আমার সুওয়াল হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ব পুরুষ উনাদের মধ্যে কেউ মূর্তিপূজক তথা কাফির-মুশরিক থাকার বিষয়টি কতটুকু শুদ্ধ? পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে সঠিক ফায়ছালা জানিয়ে আমাদের ঈমান-আক্বীদা হিফাযত করবেন।

জাওয়াব: হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে এরূপভাবে মনোনীত যে, উনাদের কারো পিতা-মাতা পর্যন্ত কেউই কাফির কিংবা মুশরিক ছিলেন না। বরং উনাদের মধ্যে অনেকে নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন আর যাঁরা নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না উনারা ঈমানদার তো অবশ্যই উপরন্তু উনারা ছিলেন উনাদের যুগে মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষস্থল বান্দা ও ওলী উনাদের অন্তর্ভুক্ত। এটাই হচ্ছে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের মত এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ উনাদের মত। এ মতের বিপরীত মত, অর্থ, ব্যাখ্যা, বক্তব্য, লিখনী সবই কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

প্রকৃতপক্ষে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পিতা ছিলেন পরিপূর্ণ দ্বীনদার, পরহেযগার, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মত ও পথের পরিপূর্ণ অনুসারী একজন খালিছ ঈমানদার।

সর্বোপরি তিনি ছিলেন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রুবূবিয়াত প্রকাশের মহানতম ওসীলা। কেননা সমগ্র মাখলূক্বাত বা কায়িনাত সৃষ্টির যিনি মূল উৎস সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ওজুদ ‘নূর’ মুবারক উনার একজন মহান ধারক-বাহক।

হযরত আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে যে সকল মনোনীত ও সম্মানিত পুরুষ-মহিলা আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ওজুদ ‘নূর’ মুবারক হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে উনারা সকলেই ছিলেন সর্বকালের সর্বযুগের শ্রেষ্ঠতম পবিত্রতম সুমহান ব্যক্তিত্ব। উনাদের মধ্যে কেউই কাফির, মুশরিক বা বেদ্বীন ইত্যাদি ছিলেননা। উনারা সকলেই ছিলেন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত খাছ বান্দা-বান্দি উনাদের অন্তর্ভুক্ত।

মূলত যারা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা বা পরিবারকে মূর্তিপূজক হিসেবে অভিহিত করে কুফরী কাজটি করে থাকে তারা পবিত্র হাদীছ শরীফ ও পবিত্র তাফসীর শরীফ উনাদের সম্পর্কে নেহায়েত অজ্ঞ ও জাহিল হওয়ার কারণেই করে থাকে। এছাড়া তারা মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত নবী ও রসূল হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহানতম ও পবিত্রতম শান, মান, মর্যাদা, মর্তবা সম্পর্কে এবং উনার সুমহান পরিচয় সম্পর্কে চরম অজ্ঞ ও গ- মূর্খ হওয়ার কারণে এবং পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ব্যবহৃত لابيه ازر উনার মূল ও সঠিক অর্থ যা পবিত্র হাদীছ শরীফ ও পবিত্র তাফসীর শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে তা গ্রহণ না করে তার বিপরীতে শুধুমাত্র আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থের উপর ভিত্তি করে অর্থ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করার কারণে করে থাকে। যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

অথচ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ উনাদের অর্থ ও ব্যাখ্যা কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যক্তির শান বা মর্যাদা অনুযায়ী করতে হবে। কোন কোন ক্ষেত্রে পবিত্র হাদীছ শরীফ অনুযায়ী যে অর্থ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়েছে সে অনুযায়ী অর্থ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে হবে। কোন কোন ক্ষেত্রে অনুসরণীয় হযরত মুফাসসিরীনে কিরাম উনারা যে অর্থ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন, সে অনুযায়ী অর্থ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে হবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে পবিত্র কালাম উনার শান বজায় রেখে শাব্দিক বা আভিধানিক অর্থ ও ব্যাখ্যাও গ্রহণ করতে হবে। তবে সবক্ষেত্রে শাব্দিক অর্থ ও ব্যাখ্যা আদৌ গ্রহণীয় ও অনুসরণীয় নয়। বরং ক্ষেত্র বিশেষ তা কুফরী এবং কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণও বটে।

যেমন মহান আল্লাহ পাক উনার শান মুবারকে পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ ৫৪নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ব্যবহৃত مكر শব্দ মুবারক উনার আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থ ‘ধোকাবাজির’ পরিবর্তে ‘হিকমত’ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় কুফরী হবে।

অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে পবিত্র সুরা দ্বুহা শরীফ উনার মধ্যে ব্যবহৃত ضالا শব্দ মুবারক উনার শাব্দিক অর্থ ‘বিভ্রান্ত’ গ্রহণ না করে বরং তার পরিবর্তে ‘কিতাববিহীন’ অর্থ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় কুফরী হবে।

একইভাবে পবিত্র সূরা হিজর শরীফ ৯৯নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে اليقين শব্দ মুবারক উনার শাব্দিক বা আভিধানিক অর্থ ‘বিশ্বাস’ গ্রহণ না করে ‘মৃত্যু’ অর্থ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় কুফরী হবে। এমনি ধরনের আরো বহু পবিত্র আয়াত শরীফ রয়েছে যাদের শুধুমাত্র আভিধানিক অর্থের উপর ভিত্তি করে অর্থ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হলে অশুদ্ধ ও কুফরী হবে। যেরূপ কুফরী হয়েছে পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত اب (আবুন) শব্দ মুবারক উনার শাব্দিক অর্থ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করে।

যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

واذ قال ابرهيم لابيه ازر اتتخذ اصناما الـهة.

অর্থ : “আর যখন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তিনি স্বীয় চাচা আযরকে বললেন, আপনি কি মূর্তিকে ইলাহ (মা’বুদ) হিসেবে গ্রহণ করছেন?” (পবিত্র সূরা আনআম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৪)

এ আয়াত শরীফেابيه  উনার মধ্যে اب (আবুন) শব্দ মুবারক উনার শাব্দিক একটি অর্থ ‘পিতা’ গ্রহন করে বলা হচ্ছে ‘আযর’ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা। কিন্তু হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের সর্বসম্মত মতে, এখানে ابيه শব্দ মুবারক উনার প্রকৃত অর্থ হচ্ছে ‘আযর’ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার চাচা। অর্থাৎ উদ্ধৃত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে اب (আবুন) শব্দ মুবারক উনার অর্থ পিতা না হয়ে উনার অর্থ হবে চাচা। কারণ, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অনেক স্থানেই اب (আবুন) শব্দটি পিতা ব্যতীত অন্য অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে।

যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

ام كنتم شهداء اذ حضر يعقوب الموت اذ قال لبنيه ما تعبدون من بعدى قالوا نعبد الـهك واله ابائك ابرهيم واسمعيل واسحق الـها واحدا.

অর্থ : “তোমরা কি উপস্থিত ছিলে? যখন হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম উনার বিছাল শরীফ গ্রহণের সময় উপস্থিত হলো তখন তিনি উনার সন্তানগণ উনাদেরকে বললেন, ‘আপনারা আমার পর কার ইবাদত করবেন? উনারা উত্তরে বললেন, ‘আমরা আপনার রব তায়ালা উনার এবং আপনার পূর্ব পিতা (আপনার দাদা) হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার এবং (আপনার চাচা) হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার এবং (আপনার পিতা) হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম উনার একক রব খালিক্ব মালিক মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করবো।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩৩)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে اب (আবুন) দ্বারা দাদা, চাচা ও পিতা সকলকে বুঝানো হয়েছে। যেমন, এ সম্পর্কে  বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে মাযহারী’ উনার ৩য় খ-ের ২৫৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

وكان ازر على الصحيح عما لابراهيم والعرب يطلقون الاب على العم كما فى قوله تعالى نعبد الـهك واله ابائك ابراهيم واسماعيل واسحاق الـها واحدا.

অর্থ : “বিশুদ্ধ মতে, আযর ছিলো হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার চাচা। আর আরবরা চাচাকেও اب (আবুন) শব্দে অভিহিত করে থাকে।” যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, আমরা আপনার প্রতিপালক ও আপনার পূর্বপুরুষ হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম, হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম উনাদের একক প্রতিপালক মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করবো।”

“তাফসীরে মাযহারী” কিতাব উনার ৩য় খ-ের ২৫৬ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ রয়েছে-

والعرب يطلقون الاب على العم.

অর্থ : “আরববাসীরা الاب (আল আবু) শব্দটি চাচার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেন।” তাফসীরে কবীর কিতাবের ১৩তম খ-ের ৩৮ পৃষ্ঠায়ও অনুরূপ উল্লেখ রয়েছে।

সুতরাং, পবিত্র সূরা আনআম শরীফ উনার ৭৪নং আয়াত শরীফে ابيه ازر এর অর্থ হলো আযর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার চাচা। উনার পিতা নন।

এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে-

عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه ان ابا ابراهيم عليه السلام لم يكن اسمه ازر وانما كان اسمه تارح.

অর্থ : “রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম আযর নয়। বরং উনার পিতার নাম মুবারক হলো হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম।” (ইবনে আবি হাতিম শরীফ, ইবনে কাছীর শরীফ- ৩/২৪৮)

এ সম্পর্কে তাফসীরে কবীর শরীফ ১৩/৩৮ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ রয়েছে-

ان والد ابراهيم عليه الس لام كان تارح وازر كان عما له والعم قد يطلق عليه اسم الاب.

অর্থ : “নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা ছিলেন হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম। আর আযর ছিলো উনার চাচা। এবং আম্মুন (চাচা) শব্দটি কখনও ‘ইসমুল আব’ অর্থাৎ পিতা নামে ব্যবহৃত হয়।”

উক্ত কিতাবে আরো উল্লেখ রয়েছে-

ان والد ابراهيم عليه السلام ما كان مشركا وثبت ان ازر كان مشركا فوجب القطع بان والد ابراهيم كان انسانا اخر غير ازر.

অর্থ : “নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা (হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম) মুশরিক ছিলেননা। বরং আযর (উনার চাচা) মুশরিক ছিল। কেননা, অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম উনার পিতা আযর নয়। বরং অন্য একজন অর্থাৎ হযরত তারাখ বা তারাহ আলাইহিস সালাম।” (তাফসীরে কবীর শরীফ- ১৩/৩৯)

তাফসীরে মাযহারী- ৩/২৫৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

ليس ازر ابا لابراهيم انما هو ابراهيم بن تارح.

অর্থ : “আযর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা নয়। বরং নিশ্চয়ই তিনি (হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম) হলেন হযরত তারাখ বা তারাহ আলাইহিস সালাম উনার সুযোগ্য সন্তান।”

তাফসীরে মাযহারী- ৩/২৫৬ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে-

وفى القاموس ازر اسم عم ابراهيم عليه السلام واما ابوه فانه تارح.

অর্থ : “ক্বামূস অভিধানে উল্লেখ করা হয়েছে, আযর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার চাচার নাম। আর নিশ্চয়ই উনার পিতার নাম হলো হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম।”

মূলতঃ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনিসহ সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগ উনাদের পিতা-মাতা বা পূর্বপুরুষ ছিলেন পরিপূর্ণ ঈমানদার, খালিছ মু’মিন। কেউই কাফির ছিলেন না।

এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

ان اباء الانبياء ماكانوا كفارا ويدل عليه وجوه منها قوله وتقلبك فى الساجدين.

অর্থ : “নিশ্চয়ই সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পিতা বা পূর্বপুরুষ উনারা কেউই কাফির ছিলেননা। তার দলীল হচ্ছে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এ কালাম বা  পবিত্র আয়াত শরীফ-

وتقلبك فى السجدين.

অর্থাৎ : “তিনি আপনাকে (হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) সিজদাকারীগণ উনাদের মধ্যে স্থানান্তরিত করেছেন।” (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ ২৯, তাফসীরে কবীর- ১৩/৩৮)

প্রকাশ থাকে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি হলেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষ।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ملة ابيكم ابرهيم هو سمكم الـمسلمين.

অর্থাৎ- “তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র দ্বীন উনার উপর কায়িম থাক। তিনি তোমাদের নাম রেখেছেন মুসলমান।” (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৮)

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যাঁদের মাধ্যমে যমীনে তাশরীফ এনেছেন অর্থাৎ হযরত আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম পর্যন্ত উনারা সকলেই ছিলেন সিজদাকারী। অর্থাৎ সকলেই নামায-কালাম, যিকির-আযকার, ইবাদত-বন্দিগীতে মশগুল ছিলেন। উনারা সকলেই পূর্ণ পরহেযগার, মুত্তাক্বী ও ধার্মিক ছিলেন।

এ সম্পর্কে পবিত্র তাফসীর শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

فالاية دالة على ان جميع اباء محمد صلى الله عليه وسلم كانوا مسلمين وحينئذ يجب القطع بان والد ابراهيم عليه السلام كان مسلما.

অর্থ : “উপরোক্ত আয়াত শরীফ উনার দ্বারা এটাই ছাবিত বা প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষ উনারা সকলেই পরিপূর্ণ মুসলমান ছিলেন। এ থেকে অকাট্যভাবে প্রমাণিত বা সাব্যস্ত যে, নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা মুসলমান ছিলেন।” (তাফসীরে কবীর শরীফ- ১৩/৩৮)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-

لـم ازل انقل من اصلاب الطاهرين الى ارحام الطاهرات.

অর্থ : “আমি সর্বদা পূত-পবিত্র নারী ও পুরুষ উনাদের মাধ্যমেই স্থানান্তরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর শরীফ- ১৩/৩৯)

তিনি আরো বলেন-

لـم يلتق ابوى قط على سفاح.

অর্থ : “আমার পিতা-মাতা (পূর্বপুরুষ) কেউই কখনও কোন অন্যায় ও অশ্লীল কাজে জড়িত হননি।” (কানযুল উম্মাল শরীফ, ইবনে আসাকীর, বারাহিনে  কাতিয়াহ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

بعثت من خير قرون بنى ادم قرنا فقرنا حتى بعثت من القرن الذى كنت فيه.

অর্থ : “আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সন্তানগণ উনাদের মধ্যে সর্বোত্তম সম্প্রদায়ের মধ্যেই সর্বদা প্রেরিত হয়েছি। এমনকি আমি যে (কুরাইশ) সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিলাম সেটিই ছিলো সর্বোত্তম সম্প্রদায়।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, তাফসীরে মাযহারী শরীফ ৪র্থ খ- ৩০৮ পৃষ্ঠা)

এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় কিতাবে বর্ণিত হয়েছে-

فلا يـمكن ان يكون كافرا فى سلسلة ابائه صلى الله عليه وسلم.

অর্থ : “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিতা (পূর্ব পুরুষ) উনাদের সিলসিলার মধ্যে কেউই কাফির হওয়া সম্ভব নয়।” (তাফসীরে মাযহারী শরীফ ৪র্থ খ- ৩০৮ পৃষ্ঠা)

এ সম্পর্কে কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-

ان احدا من اجداده ما كان من الـمشركين.

অর্থ : “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাপ-দাদাগণ উনারা কেউই মুশরিক ছিলেননা।” (তাফসীরে কবীর শরীফ- ১৩ খ- ৩৯ পৃষ্ঠা)

উল্লেখ্য, অনেকে “পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ” উনার ৪৭নং পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র সূরা তওবা শরীফ উনার ১১৪নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের বরাত দিয়ে বলে থাকে যে, “হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি উনার পিতার জন্য ইস্তিগফার করেছেন। কাজেই উনার পিতা ঈমানদার ছিলেননা।” নাউযুবিল্লাহ!

মূলতঃ যারা একথা বলে থাকে, তারা উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফদ্বয় উনাদের অর্থই বুঝেনি। কারণ “পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ” উনার ৪৭নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

قال سلم عليك ساستغفر لك ربى.

অর্থ : “হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আপনার প্রতি (বিদায়কালীন) সালাম, অচিরেই আমি আমার প্রতিপালক উনার নিকট আপনার জন্য মাগফিরাত কামনা করবো।”

অনুরূপ “পবিত্র সূরা তওবা শরীফ” উনার ১১৪নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ما كان استغفار ابرهيم لابيه الا عن موعدة وعدها اياه.

অর্থ : “হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার তরফ থেকে স্বীয় চাচার মাগফিরাত কামনা করা ছিলো কেবলমাত্র তার সাথে ওয়াদা করার কারণে।”  অর্থাৎ প্রথমত হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি স্বীয় চাচার সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, তিনি তার জন্য ইস্তিগফার করবেন যেন উনার চাচা তওবা করে, শিরক ছেড়ে ঈমান গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যায় সেজন্য দোয়া করবেন।

আর তাই “পবিত্র সূরা তওবা শরীফ” উনার ১১৪নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে সেই ওয়াদা পালনার্থে এবং মুশরিকদের জন্য দোয়া করা নিষেধ হওয়ার পূর্বে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি উনার চাচার জন্য দোয়া করেছিলেন।

যেমন, উক্ত আয়াত শরীফ উনার তাফসীর শরীফ-এ এসেছে-

ان ذلك كان قبل النهى عن الاستغفار للمشرك وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعمه ابى طالب والله لاستغفرن لك.

অর্থ : “নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার ইস্তিগফার কামনা করাটা ছিল মুশরিকদের জন্য দোয়া করা নিষেধ হওয়ার পূর্বের। যেমন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নিষেধ হওয়ার পূর্বে) উনার চাচা আবূ তালিব উনাকে বলেছিলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! অবশ্যই আমি আপনার তওবা নছীব হওয়ার জন্য দোয়া করবো।” (তাফসীরে মাযহারী শরীফ ৬/১০০)

এছাড়া হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার চাচা আযরের জন্য এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচা আবূ তালিবের জন্য সরাসরি দোয়া করেননি; বরং তাদের ইস্তিগফার কামনা করেছেন। অর্থাৎ আযর ও আবু তালিব তাদের যেন তওবা নছীব হয়, তারা যেন ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়, ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয় সেজন্য দোয়া করেছেন। আর তাও ছিল মুশরিকদের জন্য দোয়া নিষেধ সংক্রান্ত বিধান (আয়াত শরীফ) নাযিল হওয়ার পূর্বে।

আর চাচা হিসেবে আযর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার এবং আবূ তালিব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনেক খিদমত করেছে। তার বিনিময় স্বরূপ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা তাদের ইস্তিগফার (তওবা কবুল হওয়ার দোয়া) কামনা করেছেন।

এ সম্পর্কে তাফসীরে উল্লেখ রয়েছে-

وما كان استغفار ابراهيم لابيه يعنى ازر وكان عما لابراهيم عليه السلام وكان ابراهيم بن تارح عليه السلام.

অর্থ : “হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতার জন্যে ইস্তিগফার করেন অর্থাৎ আযরের জন্যে ইস্তিগফার করেন। আযর ছিল হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার  চাচা। আর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম উনার ছেলে।” (তাফসীর মাযহারী শরীফ ৪ খ- ৩০৮ পৃষ্ঠা)

এ কথা বিশেষভাবে  স্মরণীয় ও প্রণিধানযোগ্য যে, সকল হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা এ বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শরীর মুবারকে বা পা মুবারকে যা কিছু স্পর্শ করেছে তা আরশে মুআল্লা উনার চাইতে লক্ষ-কোটি গুণ বেশি মর্যাদাবান। সুবহানাল্লাহ!

তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র অজুদ ‘নূর’ মুবারক তা যাঁদের মাধ্যম হয়ে পর্যায়ক্রমে স্থানান্তরিত হয়ে তিনি যমীনে আগমন করেছেন সেই সকল ব্যক্তিগণ উনাদের মর্যাদা কত বেমেছাল হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

বস্তুত সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহান শানে এরূপ কুফরীমূলক উক্তি করার অর্থ হলো খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে চরম ধৃষ্ঠতা প্রদর্শন করা। যা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

আরো উল্লেখ্য, যেই পবিত্র নসব-নসল সূত্রে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ আনেন উনাদের পূর্ব-পুরুষ উনাদের নসব-নসলনামায় ‘কেউ কেউ ঈমানদার ছিলেননা’ এরূপ কল্পনা বা ধারণা করাও কাট্টা কুফরী।

উপরোক্ত দলীলভিত্তিক সংক্ষিপ্ত আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল যে, মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পিতা ছিলেন হাক্বীক্বী পরহেযগার, মুত্তাক্বী, পরিপূর্ণ ঈমানদার ও মুসলমান। উনার নাম মুবারক ছিল হযরত তারাখ মতান্তরে তারিহ বা তারাহ আলাইহিস সালাম। আর আযর নামক ব্যক্তি ছিল উনার চাচা। আরো প্রমাণিত হলো যে, পূর্ববর্তী সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পূর্বপুরুষগণ এবং সর্বোপরি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষগণ হযরত আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত সকলেই ছিলেন পূত-পবিত্র চরিত্র মুবারক উনার অধিকারী, পূর্ণ ধার্মিক ও পরিপূর্ণ মুসলমান।

অতএব, যে ব্যক্তি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা ও পরিবার সম্পর্কে কুফরীমূলক আক্বীদা রাখবে ও বক্তব্য-লিখনী প্রকাশ করবে পবিত্র ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী তার উপরে মুরতাদের হুকুম বর্তাবে। অর্থাৎ সে ইসলাম বা মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে যাবে। পবিত্র ইসলামী খিলাফত থাকলে তাকে তিনদিন সময় দেয়া হতো তওবা করার জন্য। তিনদিনের মধ্যে তওবা না করলে তার শাস্তি হতো মৃত্যুদ-। সে মারা গেলে তার জানাযা পড়া জায়িয হবে না। তাকে মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করা যাবে না; বরং তাকে মৃত কুকুর-শৃগালের মত মাটিতে পুঁতে রাখতে হবে। তার জীবনের সমস্ত নেক আমল বাতিল হয়ে যাবে। বিয়ে করে থাকলে তার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে এবং সে হজ্জ করে থাকলে তা বাতিল হয়ে যাবে। সে ওয়ারিছসত্ব থেকেও বঞ্চিত হবে।

{দলীলসমূহ : (১) তাফসীরে মাযহারী, (২) ইবনে কাছীর, (৩) ইবনে আবী হাতিম, (৪) কবীর, (৫) আহকামুল কুরআন, (৬) আহমদী, (৭) তাফসীরে বাইযাবী, (৮) বয়ানুল হক্ব, (৯) মাআলিমুত তানযীল, (১০) তাফসীরে জালালাইন, (১১) বুখারী, (১২) মুসলিম, (১৩) তিরমিযী, (১৪) বাইহাক্বী, (১৫) মিশকাত, (১৬) মুস্তাদরাকে হাকিম, (১৭) তবারানী, (১৮) কামূস, (১৯) ফতহুল বারী,(২০) উমদাতুল ক্বারী, (২১) মিরকাত, (২২) আশয়াতুল লুময়াত, (২৩) লুময়াত, (২৪) তা’লীকুছ ছবীহ, (২৫) শরহুত ত্বীবী, (২৬) মুযাহিরে হক্ব, (২৭) ফতহুল মুলহিম, (২৮) শরহে নববী, (২৯) আহমদ, (৩০) ইবনে আসাকির, (৩১) ইবনে মারদুবিয়া, (৩২) তাক্বদীসু আবায়িন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, (৩৩) দুররুল মুখতার, (৩৪) ফিকহুল আকবর, (৩৫) শরহুশ শিফা, (৩৬) শুমুলুল ইসলাম লি উছূলির রসূলিল কিরাম, (৩৭) আকাইদে নিজামিয়া, (৩৮)  কাছাছূল আম্বিয়া, (৩৯) কাছাছূল কুরআন, (৪০) কুরআন কাহিনী, (৪১) কিতাবুদ্ দারাযিল, (৪২) মাওয়াহিবে লাদুন্নিয়া, (৪৩) শাওয়াহিদুন্ নুবুওওয়াহ, (৪৪) কিছাছে আম্বিয়া, (৪৫) মাতালিউন নূর, (৪৬) আল মুসতালিদ, (৪৭) বারাহিনে ক্বাতিয়া ইত্যাদি।}

 

মুহম্মদ মুসলেহুদ্দীন

সানার পাড়, ঢাকা

 

সুওয়াল: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাত মাঝে হাযির-নাযির হওয়ার বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের কি আক্বীদা?

জাওয়াব: মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ উনার ৯ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

انا ارسلناك شاهدا

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে (হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) সাক্ষ্যদানকারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।’

জানা আবশ্যক, যিনি সাক্ষ্য দিবেন উনার জন্য যেরূপ হাযির বা উপস্থিত থাকা শর্ত, তদ্রƒপ নাযির বা দেখাও শর্ত।

কাজেই, বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট কুল-মাখলুক্বাতের সবকিছুই হাযির ও নাযির।

এটিই হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা। এর বিপরীত আক্বীদা পোষণকারীরা ৭২টি বাতিল ও জাহান্নামী ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ‘বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ’ উনাদের বরাত দিয়ে বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

انما انا قاسم والله يعطى

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি হাদিয়া করেন আর নিশ্চয়ই আমি হলাম (উক্ত হাদিয়া) বণ্টনকারী।” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সর্বপ্রকার নিয়ামত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া করেছেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুল-মাখলূক্বাতের যাকে যতটুকু ইচ্ছা তাকে ততটুকু নিয়ামত বণ্টন করেন। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য, যিনি কুল-মাখলুক্বাতের জন্য নিয়ামত  বণ্টনকারী; তিনি যদি কুল-মাখলূক্বাতের কাছে হাযির বা উপস্থিত না থাকেন এবং তাদেরকে নাযির বা দেখে না থাকেন, তাহলে তিনি তাদের মাঝে কিভাবে নিয়ামত বণ্টন করবেন? কাজেই কায়িনাতের সমস্ত সৃষ্টির জন্য তিনি যেহেতু নিয়ামত বণ্টনকারী, সেহেতু বলার অপেক্ষা রাখে না- সবকিছুই উনার নিকট হাযির ও নাযির।

হযরত ইমাম তবারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত নঈম ইবনে উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ان الله قد رفع لى الدنيا فانا انظر اليها والى ما هو كائن فيها الى يوم القيامة كانما انظر الى كفى هذه

অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এই পৃথিবীকে আমার চোখের সামনে এরূপভাবে রেখেছেন যে, আমি এ সমগ্র পৃথিবীকে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত তার মধ্যে যা কিছু সৃজিত বা সংঘটিত হবে তদসমূহকে ওইরূপভাবে দেখি, যেরূপ আমার হাত মুবারক উনার তালু মুবারক দেখে থাকি।” সুবহানাল্লাহ! (তবারানী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

স্মরণীয় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি জিসিম ও ছূরত-এ দুটির কোনো একটি হিসেবে হাযির ও নাযির নন। বরং তিনি ছিফত অর্থাৎ ইলম ও কুদরত মুবারক উনার দ্বারা এবং ছিফত মিছালী ছূরত মুবারক হিসেবে কায়িনাতের সমস্ত স্থানে হাযির ও নাযির। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিফত অর্থাৎ ইলম ও মু’জিযা শরীফ দ্বারা এবং ছিফত অর্থাৎ নূর ও রহমত হিসেবে কায়িনাতের সমস্ত স্থানে হাযির ও নাযির। আর উনার যেহেতু জিসিম ও ছূরত মুবারক রয়েছে, সেহেতু তিনি যে জিসিম মুবারকে পবিত্র রওযা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান করছেন উনার ইখতিয়ার ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি সেই জিসিম মুবারক নিয়ে কোথাও হাযির হবেন না। আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের হযরত ইমাম-মুজতাহিদগণ উনারা এ বিষয়ে একমত যে, তিনি ওই জিসিম মুবারক নিয়ে রওযা শরীফ থেকে উঠলে ক্বিয়ামত হয়ে যাবে। তাই তিনি উক্ত জিসিম মুবারক উনার অনুরূপ জিসিম মুবারক ও ছূরত মুবারক এবং মিছালী ছূরত মুবারক-এ কায়িনাত মাঝে হাযির ও নাযির থাকেন, যে কারণে উনার আশিকগণ উনাকে স্বপ্নে, মুরাক্বাবা-মুশাহাদার হালতে, এমনকি জাগ্রত অবস্থার মধ্যেও দেখে থাকেন এবং কথোপকথনও করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট কুল-মাখলূক্বাতের সবকিছুই হাযির ও নাযির। এটিই হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা। এর বিপরীত আক্বীদা পোষণকারীরা ৭২টি বাতিল ও জাহান্নামী ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ৯৪তম সংখ্যা পাঠ করুন।

 

খন্দকার মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন

শান্তিবাগ, ঢাকা।

সুওয়াল: কেউ কেউ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সূরা আ’রাফ উনার ১৮৮ নং আয়াত শরীফ উনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলে থাকে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলমে গইব সম্পর্কে জানতেন না। নাউযুবিল্লাহ!

এ বিষয়ে সঠিক জাওয়াব দানে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: ক্বিল্লতে ইলম ও ক্বিল্লতে ফাহম অর্থাৎ কম জ্ঞান ও কম বুঝই হচ্ছে সমস্ত ফিতনার মূল কারণ। কাজেই, পবিত্র কুরআন শরীফ কিংবা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের শুধুমাত্র বাহ্যিক ও শাব্দিক অর্থের উপর ভিত্তি করেই সব আয়াত শরীফ ও সব হাদীছ শরীফ উনাদের অর্থ ও ব্যাখ্যা করাটা আদৌ শুদ্ধ নয় বরং ক্ষেত্রে বিশেষে সেটা কুফরী। বিশেষ করে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কে, কুল-মাখলূক্বাতের যিনি নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে অন্যান্য হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে,  হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে এবং হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ কিংবা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে ইরশাদকৃত বিষয়ে যখন অর্থ ও ব্যাখ্যা করা হবে তখন উনাদের মার্যাদা ও শান অনুযায়ী অর্থ ও ব্যাখ্যা করতে হবে। অন্যথায় কৃত অর্থ ও ব্যাখ্যা অশুদ্ধ ও কুফরী হবে। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি যেরূপ পবিত্র তেমনি মহান আল্লাহ পাক উনার  সর্বাধিক মনোনীত ও মকবূল বান্দা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাও পবিত্র এবং উনার মা’ছূম। শুধু তাই নয়, উনারা ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সরাসরি তত্বাবধানে উনারা পরিচালিত। যার কারণে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা নিজের থেকে কোনকিছু বলেননি এবং কোনকিছু করেননি। উনাদের বলা, করা, জানা, শোনা ইত্যাদি সবকিছু পবিত্র ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। যেমন এ প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وما ينطق عن الهوى ان هو الا وحى يوحى

অর্থাৎ: তিনি ওহী মুবারক ব্যতীত নিজের থেকে কোন কথা বলেন না। (পবিত্র সূরা নজম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩, ৪)

অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ان اتبع الا ما يوحى الى

অর্থাৎ আমি তো কেবল ওই ওহী মুবারক উনার অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি অবতীর্ণ হয়। (পবিত্র সূরা আনআম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫০)

স্মরণীয় যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা কেউই আসমান-যমীনের কোন সৃষ্টি তথা কোন জ্ঞানী-গুণী, প-িত ব্যক্তির নিকট থেকে বিন্দু-বিসর্গ কিছু শিক্ষা করেননি। উনারা শুধুমাত্র খালিক্ব মালিক রব আহকামুল হাকিমীন মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট থেকে শিখেছেন, যার কারণে উনাদের লক্বব মুবারক উম্মী এবং উনারা সৃষ্টির জন্য তথা স্বীয় উম্মতের জন্য মুআল্লিম (শিক্ষক বা শিক্ষাদাতা) হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

بعثت معلما

অর্থ: আমি মুাআল্লিম হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। (মিশকাত শরীফ)

অর্থাৎ সকলকে শিক্ষা দেয়ার জন্য আমি আগমন করেছি। যেমন এ মর্মে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যেও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

لقد من الله على الـمؤمنين اذ بعث فيهم رسولا من انفسهم يتلوا عليهم ايته ويزكيهم ويعلمهم الكتب والـحكمة وان كانوا من قبل لفى ضلل مبين.

অর্থ: মু’মিন মুসলমানদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার ইহসান হলো যে, তিনি তাদের মাঝে একজন রসূল অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ করেন, যিনি তাদেরকে আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে শোনান, তাদেরকে (যাহির-বাতিন) পরিশুদ্ধ করেন, তাদেরকে কিতাব (কুরআন শরীফ) ও হিকমত (হাদীছ শরীফ) শিক্ষা দেন। যেহেতু তারা ইতোপূর্বে প্রকাশ্য গোমরাহীতে নিপতিত ছিল। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬৪)

পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের সুস্পষ্ট বর্ণনা দ্বারা প্রতীয়মান হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বীয় উম্মত তথা গোটা মাখলুক্বাতের জন্য বিশেষ করে মানুষ জাতির জন্য মুআল্লিম বা শিক্ষক হিসেবে আগমন করেছেন, সেখানে উনাকে উনার উম্মত দাবিদার অজ্ঞ ও পথভ্রষ্ট ছাত্ররা ‘উম্মী নবী’ বলে উনাকে মূর্খ নবী আখ্যায়িত করছে। নাউযুবিল্লাহ! এরাই হচ্ছে হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত উম্মত দাবিদার ৭২টি বাতিল ও জাহান্নামী ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত।

অথচ উম্মী শব্দ মুবারক উনার প্রকৃত অর্থ মূর্খ নয়। বরং উম্মী শব্দ মুবারক উনার অর্থ হচ্ছে মূল, প্রধান, সম্মানিত।

সুতরাং ‘উম্মী’ শব্দ মুবারক উনার আক্বীদা বহির্ভুত অশুদ্ধ ও কুফরী অর্থের মতো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইলমে গইব সম্পর্কিত আক্বীদা বহির্ভূত অশুদ্ধ ও কুফরী অর্থ পরিহার করতঃ বিশুদ্ধ আক্বীদা সম্পন্ন ঈমানী অর্থ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে হবে।

যেমন সুওয়ালে উল্লেখিত আয়াত শরীফখানা হলো:

قل لا املك لنفسى نفعا ولا ضرا الا ما شاء الله ولو كنت اعلم الغيب لاستكثرت من الخير وما مسنى السوء ان انا الا نذير وبشير لقوم يؤمنون

বাতিল ফিরক্বার লোকেরা উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ করে থাকে- “হে আমার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের উপকার কিংবা অপকার করার মালিক নই, তবে মহান আল্লাহ পাক তিনি যা চান। আর যদি আমি গইব সম্পর্কে জানতাম তাহলে আমি বেশি বেশি কল্যাণ করতাম এবং কোন অকল্যাণ বা ক্ষতি আমাকে স্পর্শ করতে পারতো না। আমি তো কেবল সতর্ককারী এবং সুসংবাদ প্রদানকারী ওই সকল লোকদের জন্য যারা ঈমানদার।” (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮৮)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে পরিপূর্ণরূপে মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগত বা মহান আল্লাহ পাক উনার ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সে বিষয়টিই প্রকাশ করা হয়েছে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনাকে ব্যতীত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আলাদা কোন অবস্থা নেই। এ প্রসঙ্গে সূরা আনআম শরীফ ৫০নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ان اتبع الا ما يوحى الى

অর্থ: আমি তো কেবল ওই ওহী মুবারক উনার অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি অবতীর্ণ হয়। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার অবস্থা ও ইচ্ছা মুবারক যা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবস্থা ও ইচ্ছা মুবারকও তাই। সেটাই আলোচ্য আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত হয়েছে

الا ما شاء الله

অর্থাৎ: মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা মুবারকের বিপরীত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন ইচ্ছা মুবারক নেই এবং না থাকাটাই হচ্ছে বাস্তব সম্মত।

অতঃপর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পরবর্তী অংশে উল্লেখ রয়েছে, “যদি আমি গইব সম্পর্কে জানতাম তাহলে বেশি বেশি কল্যাণ হাছিল করতাম এবং কোন অকল্যাণ আমাকে স্পর্শ করতো না।” এখানেও পূর্বোক্ত বিষয়টিই ফুটে উঠেছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো সম্পূর্ণরূপে ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আর ওহী মুবারক হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার ইলম সম্পর্কিত বিষয় প্রকৃতপক্ষে তা ইলমে গইব থেকে খালি নয়। যার কারণে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার একাধিক আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই গইব সম্পর্কে জানেন, তা স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। যেমন সূরা জিন শরীফ উনার ২৬ ও ২৭ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عالـم الغيب فلا يظهر على غيبه احدا الا من ارتضى من رسول

অর্থ : মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি ইলমে গইব সম্পর্কে জানেন, তিনি উনার গইবের ইলম উনার মনোনীত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিকট ব্যতীত অপর কারো নিকট প্রকাশ করেন না।

প্রতিভাত হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গইব সম্পর্কে জানেন এবং তার প্রমাণ সুওয়ালে উল্লেখিত আয়াত শরীফ উনার মধ্যেও উল্লেখ রয়েছে তাহলো-

لاستكثرت من الخير وما مسنى السوء

অর্থা: আমি বেশি বেশি ভাল বা কল্যাণজনক বিষয় অর্জন করতাম এবং কোন খারাবি বা অকল্যাণজনক বিষয় আমাকে স্পর্শ করতো না।

প্রশ্ন হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি বেশি বা অধিক পরিমাণে ভালাই বা কল্যাণ হাছিল করেননি? এবং উনাকে কি কোন খারাবী বা অকল্যাণজনক বিষয় স্পর্শ করেছে?

এর জাওয়াবে ঈমানদার তো অবশ্যই কাফিররা পর্যন্ত বলতে বাধ্য যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কেবল ভাল বা কল্যাণজনক বিষয়ই হাছিল করেছেন এবং তার বিপরীতে কোন অকল্যাণজনক বিষয় উনাকে সম্পর্শ করেনি। তাহলে উক্ত আয়াত শরীফ উনার দ্বারাই তো সাব্যস্ত হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলমে গইব সম্পর্কে জানতেন; যার কারণে তিনি কেবল অধিক ভাল বিষয়সমূহই হাছিল করেছেন এবং খারাপ কোন বিষয় উনাকে স্পর্শ করেনি।

এর প্রমাণ সূরাতুল কাওছার শরীফ উনার ১নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

انا اعطينك الكوثر

অর্থ: “হে আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওছার হাদিয়া করেছি।”

উল্লেখ্য, ‘কাওছার’ শব্দ মুবারক উনার বহু অর্থের মধ্যে হযরত মুফাসসিরীনে কিরামগণ দু’টি অর্থ প্রধান বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন মুফাসসিরকুল শিরমণি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, কাওছার শব্দ মুবারকের প্রধান দু’টি অর্থের একটি হচ্ছে ‘হাউযে কাওছার’ যে হাউযে কাওছারের পানি হাশরের মাঠে শুধুমাত্র জান্নাতবাসীগণ পান করবেন। অপরটি হচ্ছে ‘খইরে কাছীর’ অর্থাৎ সমস্ত ভালাই বা কল্যাণ। মোটকথা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারকে যা কিছু এসেছে সবকিছুই উত্তম থেকে উত্তমতর হয়েছে।

স্মরণীয় যে, কুরআন শরীফ উনার এক আয়াত শরীফ অপর আয়াত শরীফ উনার তাফসীর বা ব্যাখ্যা।

অতএব, উক্ত আয়াত শরীফ উনার দ্বারাই প্রমাণিত হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত কল্যাণ বা ভালাইয়ের অধিকারী এবং বিপরীতে কোন খারাবী বা অকল্যাণ উনাকে স্পর্শই করেনি। কাজেই, সুওয়ালে উল্লেখিত সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ১৮৮নং আয়াত শরীফ উনার বর্ণনা দ্বারাও প্রতীয়মান হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলমে গইব উনার অধিকারী। আর উল্লিখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার সঠিক ও গ্রহণযোগ্য অর্থ হলো- হে আমার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের উপকার কিংবা অপকার করার মালিক নই, তবে মহান আল্লাহ পাক তিনি যা চান। আর আমি যেহেতু ‘গইব’ সম্পর্কে অবহিত সেহেতু আমি বেশি কল্যাণ করি এবং আমাকে কোন অকল্যাণ বা ক্ষতি স্পর্ষ করেনি। আমি তো কেবল সতর্ককারী এবং সুসংবাদ প্রদানকারী ওই সকল লোকদের জন্য যারা ঈমানদার।”

 

মুহম্মদ হামিদুর

রাজারহাট, কুড়িগ্রাম

 

সুওয়াল: আমরা জেনে আসছি, আমাদের নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরের সৃষ্টি। উনার নূর মুবারকই সর্বপ্রথম সৃষ্টি হয় এবং সেই নূর মুবারক হতেই সবকিছুর সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু ইদানীংকালে কিছু কিছু মৌলভী ছাহেব বলে যে, ‘তিনি নাকি মাটির সৃষ্টি। আবার কেউ কেউ বলে যে, মাটি ও নূর উভয়টির দ্বারা তিনি সৃষ্টি হয়েছেন।’ আসলে কোনটি সঠিক? আর মানুষ মাটির তৈরী পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত এ আয়াত শরীফ উনার সঠিক ব্যাখ্যা কি?

জাওয়াব:  আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘নূর মুবারক উনার তৈরি’ হিসেবে অস্বীকার করা বা মাটির তৈরি বলা এবং নূর ও মাটি দ্বারা  তৈরি বলা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ ও অসংখ্য পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ অস্বীকার করার নামান্তর। যা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কেননা, অসংখ্য পবিত্র আয়াত শরীফ ও ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধুমাত্র নূর মুবারক উনার তৈরি। সেজন্য বলা হয়, তিনি নূরে মুজাসসাম অর্থাৎ তিনি আপাদমস্তক নূর মুবারক। মাটির কোন অস্তিত্বই উনার মধ্যে নেই।

যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি “পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ” উনার ১৫ নম্বর আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

قد جاءكم من الله نور.

অর্থ: “নিশ্চয় তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে ‘নূর’ মুবারক এসেছেন।”

উল্লেখ্য, এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি “নূর” শব্দ দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই বুঝিয়েছেন, যেহেতু তিনি আপাদমস্তক “নূর বা নূর মুবারক উনার তৈরি।”

আর “মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, উক্ত ‘নূর মুবারক’ হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।”

যেমন ক্বাজিউল কুজাত হযরত ইমাম আবূ সউদ মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ ইমাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার মশহুর তাফসীর “তাফসীরে আবী সউদ শরীফ” উনার ৩য় জিলদ ১৮ পৃষ্ঠায় লিখেন-

(قد جاءكم من الله نور.) … الـمراد بالاول هو الرسول صلى الله عليه وسلم

অর্থ: বর্ণিত আয়াত শরীফ-এর প্রথম শব্দ অর্থাৎ নূর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম।”

এছাড়া স্বয়ং আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই নিজেকে নূর মুবারক উনার তৈরি বলে উল্লেখ করেছেন বলে অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ বিদ্যমান রয়েছে। যেমন- পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت جابر رضى الله تعالى عنه قال قلت يارسول الله صلى الله عليه وسلم بابى انت وامى اخبرنى عن اول شىء خلق الله تعالى قبل الاشياء قال يا جابر رضى الله تعالى عنه ان الله تعالى قد خلق قبل الاشياء نور نبيك.

অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আমাকে জানিয়ে দিন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেন? তিনি বললেন, হে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! মহান আল্লাহ পাক তিনি সবকিছুর পূর্বে আপনার সম্মানিত নবী উনার নূর মুবারক উনাকে সৃষ্টি করেন।” মুসনাদে আব্দির রয্যাক শরীফ, দালায়িলুন নুবুওওয়াত শরীফ, মাদারিজুন নুবুওওয়াত শরীফ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক উনার সর্বপ্রথম সৃষ্টিই হচ্ছেন উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক। আর সে নূর মুবারক থেকেই মাটিসহ সবকিছুর সৃষ্টি হয়। তাহলে উনাকে মাটির সৃষ্টি বলা কিভাবে শুদ্ধ হতে পারে?

কাজেই, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বাশার, ইনসান বা মানুষ মাটির তৈরি বলতে একমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে বুঝানো হয়েছে। আর অপর কাউকে নয়। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি  ইরশাদ মুবারক করেন-

واذ قال ربك للملئكة انى خالق بشرا من طين

অর্থ: “যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বললেন, আমি মানুষ সৃষ্টি করবো মাটি দ্বারা।” (পবিত্র সূরা ছোয়াদ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭১)

“তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় জিঃ, ১৪১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

(انى خالق بشرا من طين) يعنى حضرت ادم عليه السلام.

অর্থ: “(নিশ্চয়ই আমি সৃষ্টি করবো বাশার মাটি থেকে) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে।”

মূলত পবিত্র কুরআন শরীফ উনার যতো পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে ‘মানুষকে’ মাটির তৈরি বলা হয়েছে সে সকল পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লিখিত ‘মানুষ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো “হযরত আদম আলাইহিস সালাম।” কারণ শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত আর কেউই সরাসরি মাটি থেকে তৈরি নন।

অতএব, প্রত্যেক মুসলমানকে এ আক্বীদাই রাখতে হবে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরে মুজাসসাম অর্থাৎ নূর মুবারক উনার তৈরি, মাটির তৈরি নন। অথবা নূর ও মাটি মিশ্রিতও নন। উনাকে মাটির বা মাটি ও নূরের তৈরি বলা সুস্পষ্ট গুমরাহী ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

(বিঃ দ্রঃ এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকা উনার ফতওয়া বিভাগ “৬০তম সংখ্যা থেকে ৮২তম” সংখ্যা পাঠ করুন। সেখানে ২৪১টি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ থেকে দলীলসহ বিস্তারিত ফতওয়া প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ৯৪তম ও ১৬২তম সংখ্যার সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ দেখুন।)

মুহম্মদ ওয়াহিদুয যামান

সদর, নিলফামারী

 

সুওয়াল: কেউ কেউ পবিত্র সূরা হামীম সাজদাহ উনার ৬ নম্বর আয়াত শরীফ-

قل انـما انا بشر مثلكم يوحى الى

আয়াত শরীফ উনাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অন্যান্য মানুষের মতো বলতে চায়। তাদের বক্তব্য কতটুকু গ্রহণযোগ্য দয়া করে জানাবেন।

জাওয়াব: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা অন্যান্য মানুষের মতো বলতে চায় তারা মূলত আশাদ্দুদ দরজার জাহিল ও পথভ্রষ্ট। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অন্যান্য মানুষের মতো মনে করা সুস্পষ্ট কুফরীর শামিল। মূলতঃ যারা কাফির কেবল তারাই হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে তাদের মতো মানুষ বলে মনে করতো।

যেমন হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার ক্বওম এবং আদ ও ছামূদ গোত্রের লোকেরা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শানে বে-আদবী করতে গিয়ে বলেছিলো-

ان انتم الا بشر مثلنا

অর্থাৎ আপনারা তো আমাদের মতোই বাশার (মানুষ)। (পবিত্র সূরা ইব্রাহীম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০)

একইভাবে ফিরআউনের লোকেরা হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও হযরত হারূন আলাইহিস সালাম উনাদের ব্যাপারে বলেছিলো-

انؤمن لبشرين مثلنا

অর্থাৎ আমরা কি আমাদের মতোই দু’জন বাশার তথা মানুষ উনাদের উপর ঈমান আনবো। (পবিত্র সূরা মু’মিনূন শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৭)

কাফির সর্দাররা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনাকে বলেছিলো-

ما نراك الا بشرا مثلنا

অর্থাৎ আমরা তো আপনাকে আমাদের মতোই (বাশার) মানুষ দেখতে পাচ্ছি। (পবিত্র সূরা হুদ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৭)

হযরত ছালিহ আলাইহিস সালাম উনাকে কাফিররা বলেছিলো-

ما انت الا بشر مثلنا

অর্থাৎ আপনি তো আমাদের মতোই মানুষ। (সূরা শুয়ারা: আয়াত শরীফ ১৫৪)

হযরত হূদ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে কাফিরেরা বলেছিলো-

ما هذا الا بشر مثلكم يأكل مما تأكلون منه ويشرب مما تشربون

অর্থাৎ এই লোকটি তিনি তো আমাদের মতোই একজন মানুষ। তোমরা যা আহার করো, তিনিও তা আহার করেন এবং তোমরা যা পান করো তিনিও তা পান করেন। (পবিত্র সূরা মু’মিনূন শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)

এমনকি যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কেও কাফিরেরা বলেছিলো-

هل هذا الا بشر مثلكم افتاتون السحر وانتم تبصرون.

অর্থ: “ইনি তো তোমাদের মতো ‘বাশার’ ব্যতীত কেউ নন। তা সত্ত্বেও কি তোমরা দেখে শুনে জাদুর শিকার হবে।” (পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে তারা আরো বলতো-

مال هذا الرسول ياكل الطعام ويمشى فى الاسواق

অর্থ: “ইনি কেমন রসূল যিনি খাদ্য খান এবং বাজারে যান।” (পবিত্র সূরা ফুরকান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)

মক্কা শরীফ উনার কাফির ওলীদ বিন মুগীরা সে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে বলেছিলো-

ان هذا الا قول البشر

অর্থাৎ- ইহা তো মানুষের কথা ছাড়া আর কিছু নয়। (পবিত্র সূরা মুদ্দাছ্ছির শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৫)

কাজেই, উল্লিখিত আয়াতে কারীমাসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নিজের মতো মানুষ বলা কাফিরদের অন্যতম একটি স্বভাব।

মূলত কাদিয়ানীরা যেমন  خاتم النبينএর মনগড়া অর্থ ও ব্যাখ্যা করে খতমে নুবুওওয়াতকে অস্বীকার করে থাকে তদ্রƒপ বাতিল আক্বীদা ও ফিরক্বার লোকেরা পবিত্র সূরা হামীম সাজদা শরীফ উনার আয়াত শরীফ-

قل انـما انا بشر مثلكم يوحى الى

উনার মনগড়া অর্থ ও ব্যাখ্যা করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তাদের মতো মানুষ বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!

প্রকৃতপক্ষে পবিত্র আয়াত শরীফ উনার সঠিক অর্থ ও মর্ম হলো- “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ওই মুশরিকদের বলে দিন যে, আমি তোমাদের মেছাল (ছূরতান) একজন মানুষ, (হাক্বীক্বতান আমি একজন রসূল) আমার নিকট ওহী মুবারক এসে থাকে। সুবহানাল্লাহ

পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে কি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব উনাকে আমাদের মতো বলা হয়েছে? মোটেও নয়। কারণ উক্ত আয়াত শরীফ উনার মধ্যেই

يوحى الى

অর্থাৎ ‘আমার নিকট ওহী মুবারক এসে থাকে’ এ বাক্যটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সকল মানুষ থেকে আলাদা করে দিয়েছে। যেহেতু অন্যান্য মানুষের নিকট ওহী মুবারক আসে না।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে حيوان ‘হাইওয়ান’ বা প্রাণী বলতে মানুষকেও বুঝায় এবং অন্যান্য জীব-জন্তুকেও বুঝায়। তবে কি তারা একথা বলবে যে, গরু-ছাগল, ঘোড়া-গাধা ইত্যাদিও তাদের মতো ‘হাইওয়ান’।

মূলত মানুষ হাইওয়ান বটে কিন্তু গরু-ছাগল, ঘোড়া-গাধা প্রভৃতি হাইওয়ানের মতো নয়। কেননা মানুষ হলো ‘হাইওয়ানে নাতিক’ অর্থাৎ বাকশক্তিসম্পন্ন জীব। মানুষ বিবেক, জ্ঞান ও বাক শক্তির অধিকারী। যেরূপ এ নাতিক বা ‘বাকশক্তি সম্পন্ন’ শব্দটি মানুষকে অন্যান্য জীব-জন্তু হতে পৃথক করে দিয়েছে তদ্রƒপ يوحى الى (আমার নিকট ওহী মুবারক এসে থাকে) বাক্যটি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সাধারণ মানুষ থেকে পৃথক করে দিয়েছে।

বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম ‘ইহসান’ সম্পর্কে জানতে চাইলে তার উত্তরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন-

ان تعبد الله كانك تراه فان لـم تكن تراه فانه يراك

অর্থাৎ ইহসান হলো: “এমনভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করো অর্থাৎ মুসলমানের প্রতিটি মুহূর্তই যেহেতু ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত সেহেতু প্রতিটি মুহূর্ত এমনভাবে অতিবাহিত করো যেনো তুমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখছো, যদি দেখতে না পাও তাহলে ধারণা করো যে তিনি তোমাকে দেখছেন।”

এ পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে মুহাদ্দিছীনে কিরাম ইহসানের দুটি স্তর বর্ণনা করেছেন। এক. বান্দা মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখে দেখে ইবাদত করবে অর্থাৎ অবস্থান করবে। দুই. বান্দাকে মহান আল্লাহ পাক দেখছেন এ ধারণা করে বান্দা ইবাদত করবে অর্থাৎ অবস্থান করবে। এ দু’অবস্থা ব্যতীত ইবাদত করা হলে সে ইবাদত মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কবূল যোগ্য হবেনা।

এ পবিত্র হাদীছ শরীফ প্রমাণ করছে, বান্দা যমীনে মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখবে। এখন কিভাবে দেখবে সে বর্ণনা অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে এবং ইমাম-মুজতাহিদ-আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কিতাবাদিতে উনারা সেটা বর্ণনা করেছেন। আর তাহলো- মিছালী ছূরত মুবারক উনার বর্ণনা। কারণ আমাদের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা হলো, যমীনে মহান আল্লাহ পাক উনাকে হাক্বীক্বী ছূরত মুবারক-এ কেউই দেখবে না। মিছালী ছূরত মুবারক-এ দেখতে পাওয়া বহু বর্ণনার মধ্যে একটি বর্ণনা হলো বাশারী ছূরত মুবারক-এ দেখা।

এখন মহান আল্লাহ পাক উনাকে মিছালী বাশারী ছূরত মুবারকে দেখে কী একথা বলা শুদ্ধ হবে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষের মতো? নাঊযুবিল্লাহ!

যদি মহান আল্লাহ পাক উনাকে মিছালী বাশারী ছূরত মুবারক-এ দেখে মানুষের মতো বলা শুদ্ধ না হয় তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মিছালী বাশার ছূরত বা আকৃতি মুবারক উনার কারণে অন্যান্য মানুষের মতো বলা শুদ্ধ হবে কি করে?

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির পর থেকে যমীনে আগমণের পূর্ব পর্যন্ত শুধুমাত্র নূর মুবারক উনার ছূরত বা আকৃতি মুবারক-এ ছিলেন। আর হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূর মুবারক উনার দ্বারা সৃষ্টি। তাই বলে কি কোন হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম কখনও একথা বলেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের মতো? বললে কি সে কথা শুদ্ধ হতো? অবশ্যই না। তাহলে বাশারী ছূরত মুবারক উনার কারণে তিনি অন্য মানুষের মতো হন কি করে?

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের তেইশ বছর যিন্দিগী মুবারক-এ হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি চব্বিশ হাজার বার সাক্ষাৎ মুবারক করেছেন। এরমধ্যে তিনি অনেক সময় ছাহাবী হযরত দাহইয়াতুল ক্বলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মুবারক ছূরত বা আকৃতিতে সাক্ষাৎ মুবারক করেছেন। আর তাই পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ উনার ১৭ নম্বর আয়াত শরীফ-উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মানব আকৃতি ধারণ করার কথা উল্লেখ করেছেন। এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যেও ‘বাশার’ বা মানব শব্দটি আছে। এখন বাশার ছিফত মুবারক উনার অধিকারী হওয়ার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা তাদের মতো সাধারণ মানুষ বলছে, তারা তাহলে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে সাধারণ মানুষের মতো বলছে না কেন?

একইভাবে জিনেরাও মানুষের ছূরত ধারণ করে চলাফেরা করে, মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করে সেজন্য তাদেরকে কি মানুষ বলা শুদ্ধ হবে? কস্মিনকালেও নয়।

উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে কটূক্তি করে যারা বলছে যে, তিনি নাকি তাদের মতোই সাধারণ মানুষ। নাঊযুবিল্লাহ! যারা এরূপ জঘন্য উক্তি করছে তারা কি কখনও তাদের দলে আমীর, উস্তাদ ও পিতা-মাতার দাঁতকে কুকুরের দাঁতের মতো বলবে? যদিও কুকুরের দাঁত তাদের আমীর, মুরুব্বী, উস্তাদ ও পিতা-মাতার দাঁতের চেয়েও শক্ত।

আরো উল্লেখ্য, জগৎ বিখ্যাত নমরূদ, সাদ্দাদ, কারূন, ফিরআউন, আবূ জাহিল, আবূ লাহাব এরাও তো মানুষ, তাহলে মাঝে মাঝে ওইসব কুলাঙ্গাররা নিজেদের বড়ত্ব প্রকাশ করার জন্য বলুক যে, সে এবং তাদের আমীর ও মুরুব্বী গং নমরূদ, সাদ্দাদ, কারূন, ফিরআউন, আবূ জাহিল, আবূ লাহাবের মতোই।

উপরন্তু ‘মিছলু’ বা ‘মতো’ শব্দটির জন্য সবকিছুকেই যদি একাকার করতে হয় তাহলে পৃথিবীটা তো কমলা লেবুর মতোই গোলাকার। ফলে তারা নিজেদের ঘরের দেয়াল চাটুক আর বলুক যে তারা কমলা লেবু খাচ্ছে। কারণ, তাদের ঘরটাতো পৃথিবীর ভিতরেই। আল্লাহ পাক কত চমৎকারইনা বলেছেন-

من اتخذ الهه هواه واضله الله على علم وختم على سمعه وقلبه وجعل على بصره غشاوة

অর্থ: “যে ব্যক্তি তার খেয়াল-খুশিকে স্বীয় উপাস্য স্থির করে নেয়, মহান আল্লাহ পাক তিনি জেনে শুনেই তাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কান ও অন্তরে মোহর মেরে দেন এবং তার চোখের উপর আবরণ বা পর্দা রেখে দেন।” (পবিত্র সূরাতুল জাছিয়াহ:২৩)

ফলে, এদের পক্ষে হক্ব জানা, বুঝা, অনুধাবন করা এবং তা মানা ও গ্রহণ করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়।

 

মুহম্মদ মুনিরুজ্জামান

রাজশাহী

 

সুওয়াল: কেউ কেউ বলে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া মুবারক ছিলো না, আবার কেউ কেউ বলে, উনার ছায়া মুবারক ছিলো। কোনটি সঠিক?

জাওয়াব: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া মুবারক ছিল না। এটাই সঠিক।

এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিছ আল্লামা হাকীম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “নাওয়াদিরুল উছূল” কিতাবে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন, হযরত হাকীম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “নাওয়াদিরুল উছূল” কিতাবে হযরত যাকওয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চাঁদের আলোতেও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া মুবারক দেখা যেত না।”

ইমামুল মুহাদ্দিছীন, সুলত্বানুল আরিফীন হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও উনার “খাছায়িছুল কুবরা” নামক কিতাবে উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ করে এ মতের সমর্থন করেন।

বাহ্রুল উলূম, শায়খুল মাশায়িখ, হযরতুল আল্লামা ইবনে সাবা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “শিফাউছ ছুদূর” কিতাবে লিখেছেন, “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার ছায়া মুবারক যমীনে পড়তো না। কেননা তিনি ছিলেন নূর। অতঃপর যখন তিনি সূর্য অথবা চাঁদের আলোতে হাঁটতেন তখন উনার ছায়া মুবারক দৃষ্টিগোচর হতো না।”

বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার, হাফিযুল হাদীছ, আওলাদে রাসূল, হযরতুল আল্লামা ইমাম যুরকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “শরহে মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া শরীফ” কিতাবে বর্ণনা করেছেন- “চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া মুবারক দৃষ্টিগোচর হতো না। কেননা তিনি নূর মুবারক ছিলেন।”

ইমামুল আল্লাম, জালালু মিল্লাত ওয়াদ্ দীন, আল্লামা হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “আলমু’জামুল লাবীব ফী খাছায়িছিল হাবীব” ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামক কিতাব উনার দ্বিতীয় বাবের চতুর্থ অধ্যায়ে লিখেছেন- “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া মুবারক যমীনে পড়তো না। চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও উনার ছায়া মুবারক দেখা যেতনা।”

হযরতুল আল্লামা ইবনে সাবা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু সম্পূর্ণ নূর মুবারক ছিলেন সেহেতু উনার ছায়া মুবারক ছিল না।

হযরত ইমাম রযীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক সমস্ত কিছুকে ছাড়িয়ে যেত।”

ইমামুল জালীল, মুহাদ্দিছুশ্ শাহীর, ফক্বীহুল আছার, আল্লামা ইমাম ক্বাযী আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “শিফা শরীফ” কিতাবে লিখেছেন- “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দেহ মুবারক উনার ছায়া মুবারক সূর্য ও চাঁদের আলোতেও পড়তো না। কেননা তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নূর মুবারক।”

বিখ্যাত বুযুর্গ, ওলীয়ে কামিল, হযরত ইমাম ইবনে হাজার মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “আফদ্বালুল কুরা” কিতাবে উল্লেখ করেন, “নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূর মুবারক ছিলেন। নিশ্চয়ই তিনি যখন চাঁদ ও সূর্যের আলোতে হাঁটতেন তখন উনার ছায়া মুবারক প্রকাশ পেতো না।”

বিখ্যাত মুহাদ্দিছ আল্লামা শিহাবুদ্দীন খাফ্ফাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “নাসীমুর রিয়াদ্ব” নামক কিতাবে লিখেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুবুওওয়াতের প্রমাণের মধ্যে এটাও একটি প্রমাণ যে, উনার শরীর মুবারক উনার ছায়া মুবারক ছিলো না। যখন তিনি সূর্য ও চন্দ্রের আলোতে হাঁটতেন তখনও উনার ছায়া মুবারক পড়তো না। কেননা তিনি (আপাদমস্তক) নূর মুবারক।”

‘কিতাবুল ওয়াফা’ উনার লিখক হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া মুবারক ছিলো না। উনার নূরের উজ্জ্বলতা সূর্য ও বাতির আলোর উপর প্রাধান্য লাভ করতো।”

ক্বাইয়ূমে আউয়াল, আফদ্বালুল আওলিয়া, শায়খ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জগদ্বিখ্যাত কিতাব “মাকতুবাত শরীফ” উনার ৩য় জিলদ্ ১৫৫ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার কি করে ছায়া পড়তে পারে? ছায়া তো তিনিই সৃষ্টি করেছেন। তবে কি উনার কোন মিছাল রয়েছে? তবে কি তিনি কামালে লাতাফাত উনার অধিকারী নন? দেখুন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘কামালে লাতাফাত’ উনার অধিকারী হওয়ার কারণে উনার দেহ মুবারক উনার ছায়া মুবারক পড়তো না।”

পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং অনুসরণীয় ইমাম, মুজতাহিদ, আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের নির্ভরযোগ্য উল্লিখিত ক্বওল শরীফ উনার দ্বারা প্রতিভাত হলো যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরাণী দেহ মুবারক-উনার ছায়া মুবারক ছিল না।

মুহম্মদ রফিকুল ইসলাম

সাভার, ঢাকা।

 

সুওয়াল: আমরা জানি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ৪০ বৎসর বয়স মুবারক-এ নুবুওওয়াত লাভ করেছেন। কিন্তু আপনাদের মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় দেখলাম, তিনি নবী-রসূল হিসেবেই সৃষ্টি হয়েছেন অর্থাৎ সৃষ্টির শুরু হতেই তিনি নবী ও রসুল। এ বিষয়ে দলীলভিত্তিক জাওয়াব জানতে ইচ্ছুক।

জাওয়াব: পবিত্র হাদীছে কুদছী শরীফ উনা মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

كنت كنزا مخفيا فاحببت ان اعرف فخلقت الـخلق لاعرف

অর্থ: “আমি গুপ্ত ভা-ার ছিলাম। যখন আমার মুহব্বত হলো যে, আমি প্রকাশিত হই, তখনই আমি সৃষ্টি করলাম আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে।” (আল মাক্বাছিদুল হাসানা ৮৩৮, কাশফুল খিফা-২০১৩, তমীযুত্তীব-১০৪৫, আসরারুল মারফুয়া-৩৩৫, তানযিয়াতুশ শরীয়াহ, আদ্দুরারুল মুন্তছিরা-৩৩০, আত্তাযকিরা ফি আহাদীছিল মুশতাহিরা)

অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اول ما خلق الله نورى وخلق كل شىء من نورى

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম আমার নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকেই সমস্ত কায়িনাত সৃষ্টি করেছেন।” (নূরে মুহম্মদী, আল ইনসানুল কামিল, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كنت اول النبى فى الخلق واخرهم فى البعث.

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সৃষ্ট জীবের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম নবী হিসাবে সৃষ্টি হয়েছি। কিন্তু আমি প্রেরিত হয়েছি সব নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের শেষে।” (তাফসীরে বাগবী ৫/২৩২, দুররে মানছূর ৫/১৮৪, শিফা ১/৪৬৬, মানাহিলুচ্ছফা ৫/৩৬, কানযুল উম্মাল ৩১৯১৬, দাইলামী ৪৮৫০) মিরকাত ১১/৫৮)

আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن حضرت عبد الله بن عمر رضى الله تعالى عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اول شىء خلق الله القلم من نور واحد.

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক প্রথমে কলম সৃষ্টি করেছেন একখানা নূর মুবারক (ইহাই নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে।” (ইবনে আবি হাতিম ১-৯, আহমদ ৫-২১৭১, আত্ তয়ালিস ৫৭৭, তিরমিযী ২-২৩, দাইলামী-২)

এ সম্পর্কে অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন প্রথম মানব, প্রথম নবী ও প্রথম রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে যমীনে প্রেরণ করেন, তখন তিনি দুইশ থেকে তিনশত বছর যাবৎ দোয়া ও কান্নাকাটি করার পর বলেন-

يا رب اغفرلى بحق محمد صلى الله عليه وسلم قال الله تعالى يا ادم عليه السلام كيف عرفت محمدا صلى الله عليه وسلم قال لانك لما خلقتنى بيدك ونفخت فى من روحك رفعت رأسى فرأيت على قوائم العرش مكتوبا لا اله الا الله محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم فعلمت أنك لم تضف الى اسمك الا احب الخلق اليك قال الله تعالى صدقت يا ادم لولا محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم ما خلقتك.

অর্থ: “আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ওসীলায় আমার দোয়া কবুল করুন। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত আদম আলাইহিস সালাম! আপনি কিভাবে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চিনলেন? উত্তরে হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনি যখন আমাকে কুদরতী হাত মুবারক-এ তৈরি করে আমার মধ্যে রূহ মুবারক ফুঁকে দিলেন, তখন আমি মাথা উত্তোলন করে দেখলাম আপনার আরশে মুয়াল্লা উনার স্তম্ভে লিখা রয়েছে-

لا اله الا الله محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم

তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, আপনার নাম মুবারক উনার সাথে যাঁর নাম মুবারক লিখা রয়েছে, তিনিই আপনার সবচেয়ে বেশি খাছ ও প্রিয় বান্দা হবেন। তাই আমি উনার ওসীলা দিয়ে আপনার নিকট দোয়া চেয়েছি।

তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বলেন, “আপনি সত্যই বলেছেন। যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি না করতাম তবে আপনাকেও সৃষ্টি করতাম না।”

(আল্ মুস্তাদারক লিল হাকিম, আছ ছহীহাহ্, মুখতাছারুল মুস্তাদরাক, আত্ তাওয়াস্সুল, আদ্ দুররুল মানছূর, কানযুল উম্মাল)

عن حضرت ميسرة الفجر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كنت نبيا وادم بين الروح والجسد.

অর্থ: “হযরত মাইসারাতুল ফজর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি তখনো নবী ছিলাম যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম রূহ ও শরীর মুবারকে ছিলেন।” (তারীখে বুখারী, আহমদ, আলহাবী, ইত্তেহাফুচ্ছাদাত, তাযকিরাতুল মাউজুয়াত, কানযুল উম্মাল, দাইলামী, ত্ববরানী, আবু নঈম, মিশকাত, মিরকাত ১১/৫৮)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

كنت نبيا وادم بين الـماء والطين

অর্থ: আমি তখনো নবী ছিলাম, যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি পানি ও মাটিতে ছিলেন। (মিশকাত, মিরকাত ১১/৫৮)

পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن حضرت جابر رضى الله تعالى عنه قال قلت يا رسول الله بابى انت وامى اخبرنى عن اول شىء خلق الله تعالى قبل الاشياء قال يا جابر ان الله تعالى قد خلق قبل الاشياء نور نبيك

অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হয়ে যাক, আপনি আমাকে জানিয়ে দিন যে, মহান আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন, হে জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক সবকিছুর পূর্বে আপনার নবী উনার নূর মুবারককে সৃষ্টি করেছেন।”

প্রখ্যাত ও মশহুর তাফসীরকারক আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মশহুর ও বিখ্যাত “তাফসীরে রুহুল বয়ানে” একখানা পবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেন-

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه انه عليه الصلاة والسلام سأل جبريل عليه السلام فقال يا جبريل كم عمرك من السنين فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم لست اعلم غير ان فى الحجاب الرابع نجما يطلع فى كل سبعين الف سنة مرة رأيته اثنين وسبعين الف مرة فقال يا جبريل عليه السلام وعزة ربى انا ذلك الكوكب.

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদিন কথা প্রসঙ্গে হযরত জিবরায়ীল আলাইহিস সালাম উনার বয়স সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, জবাবে হযরত জিবরায়ীল আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমি শুধু এতটুকু জানি যে, হিজাবে আযমত উনার চতুর্থ তবকায় একটি নূরানী তারকা মুবারক ৭০ হাজার বৎসর পরপর একবার উদয় হতো, আমি সে তারকা মুবারকটি ৭২ হাজার বার উদয় হতে দেখেছি। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমিই সেই নূরানী তারকা মুবারক।” অর্থাৎ ঐ তারকা মুবারকটিই হলেন, নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আলোচনা দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমগ্র কায়িনাত সৃষ্টির পূর্বে নবী ও রসূল হিসাবে সৃষ্টি হয়েছেন।

অর্থাৎ নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই মহান আল্লাহ পাক উনার নবী, রসূল ও হাবীব। আর তিনিই মহান আল্লাহ পাক উনার সর্বপ্রথম সৃষ্টি।

তবে জমিনে চল্লিশ বৎসর বয়স মুবারক-এ আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশ করা হয়েছে বা তিনি যে মহান আল্লাহ পাক উনার নবী, রসূল ও হাবীব সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে কুল কায়িনাতকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

 

মুহম্মদ মুঈনুল ইসলাম

মানিকনগর, ঢাকা

সুওয়াল: কেউ কেউ বলে থাকে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিন্দিগী মুবারক দু’ভাগে বিভক্ত। ১. ব্যক্তিগত যিন্দিগী, ২. নুবুওওয়াতী যিন্দিগী। তাদের এ বক্তব্য কতটুকু সঠিক? দয়া করে জানাবেন।

জাওয়াব: মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন-

وما محمد الا رسول

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ব্যতীত অন্য কিছুই নন।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪৪)

তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

وما ينطق عن الهوى ان هو الا وحى يوحى

অর্থ: “নূরে মুজসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওহী মুবারক ব্যতীত নিজের থেকে কোন কথা বলেননি।” (পবিত্র সূরা নজম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩, ৪)

স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

الا وانا حبيب الله

অর্থ: “সাবধান হয়ে যাও, আমি হলাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব।” (তিরমিযী শরীফ, দারিমী শরীফ, মিশকাত)

অর্থাৎ আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নবী, রসূল ও হাবীব হিসেবেই সৃষ্টি হয়েছেন। আর তিনি সম্পূর্ণরূপে ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

কাজেই যিনি নবী, রসূল ও হাবীব হিসেবে সৃষ্টি হয়েছেন এবং উনার সম্পূর্ণ যিন্দিগী মুবারক ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাহলে উনার সম্পর্কে একথা কি করে বলা যেতে পারে যে, উনার ব্যক্তিগত যিন্দিগী মুবারক রয়েছে? নাঊযুবিল্লাহ!

প্রকৃতপক্ষে উনার সম্পূর্ণ যিন্দিগী মুবারকই নুবুওওয়াতী, রিসালতী ও হাবীবী যিন্দিগী মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

কোন নবী কিংবা রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যক্তিগত যিন্দিগী মুবারক রয়েছে এ প্রকারের প্রশ্ন করা ও আক্বীদা পোষণ করা উভয়টাই কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

কারণ, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের স্বপ্নও ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ তার মানে উনারা ঘুমের মধ্যেও হযরত নবী-রসূল হিসেবেই থাকেন ব্যক্তি হিসেবে নয়। আর সজাগ অবস্থায় অর্থাৎ চলা-ফেরা, উঠা-বসা, খাওয়া-দাওয়া, আলাপ-আলোচনা, ওয়ায-নছীহত ইত্যাদি সর্বাবস্থায় তো অবশ্যই উনারা নবী ও রসূল হিসেবে অবস্থান করেন। তাই সর্বাবস্থায়ই উনাদের প্রতি ওহী মুবারক নাযিল হয়েছে। এমনকি আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের বিছানা মুবারক-এ থাকা অবস্থায়ও উনার প্রতি ওহী মুবারক নাযিল হয়েছে।

তাহলে এটা কি করে বলা যেতে পারে যে, হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যক্তিগত যিন্দিগী মুবারক রয়েছে?

আরো উল্লেখ্য, যদি বলা হয় কোন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনার ব্যক্তিগত যিন্দিগী মুবারক রয়েছে, তাহলে এটা প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি কখন নবী হিসেবে থাকেন আর কখন সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে থাকেন? অর্থাৎ তিনি কত সময় ব্যাপী নবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আর কত সময়ব্যাপী ব্যক্তি হিসেবে ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালন করেন? তা কস্মিনকালেও প্রমাণ করা সম্ভব নয়।

কারণ, আমরা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও পবিত্র ক্বিয়াস দ্বারা প্রমাণ পাই যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের প্রতি চব্বিশ ঘন্টাই ওহী মুবারক নাযিল হয়েছে। এমনকি স্বপ্নেও উনাদের প্রতি ওহী মুবারক নাযিল হতো ও হয়েছে। যার কারণে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের স্বপ্নও ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। এর বহু প্রমাণ রয়েছে।

উদাহরণ স্বরূপ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

قال يبنى انى ارى فى المنام انى اذبحك

অর্থ: “হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হে আমার ছেলে (হযরত ঈসমাঈল আলাইহিস সালাম!) নিশ্চয়ই আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি আপনাকে যবেহ (কুরাবানী) করছি।” (পবিত্র সূরা ছফফাত শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০২)

অতঃপর হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনার ছেলে হযরত ঈসমাইল আলাইহিস সালাম উনাকে মিনা বাজারে শোয়ায়ে কুরবানী করার উদ্দেশ্যে গলা মুবারক-এ ছুরি চালাচ্ছিলেন। তখন মহান আল্লাহ পাক পুনরায় নাযিল করলেন-

قد صدقت الرؤيا.

অর্থ: “নিশ্চয়ই আপনি আপনার স্বপ্ন মুবারককে সত্যে পরিণত করেছেন।” (পবিত্র সূরা ছফফাত শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৫)

অতএব, প্রমাণিত হলো যে, কোন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের ব্যক্তিগত যিন্দিগী মুবারক বলতে কোন যিন্দিগী মুবারকই ছিলনা। উনাদের সম্পূর্ণ যিন্দিগী মুবারকই ছিলো নুবুওওয়াতী ও রিসালতী যিন্দিগী মুবারক। সুতরাং ব্যক্তিগত যিন্দিগী ছিলো বলে মত পোষণ করা ও বিশ্বাস করা উভয়টাই কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

মুহম্মদ শামসুজ্জামান

কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ

 

সুওয়াল: খারিজী মাদরাসা থেকে প্রকাশিত একটি অখ্যাত মাসিক পত্রিকায় লিখেছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম্মা আলাইহাস সালাম উনার রেহেম শরীফ থেকে আমাদের ন্যায় স্বাভাবিকভাবে দুনিয়াতে তাশরীফ এনেছেন।

উক্ত পত্রিকার বক্তব্য কতটুকু সঠিক তা জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: না, উক্ত পত্রিকার উত্তর মোটেও শুদ্ধ হয়নি। তা সম্পূর্ণরূপে ভুল, মনগড়া, দলীলবিহীন ও অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ উনাদের গ্রহণযোগ্য ফতওয়ার খিলাফ হয়েছে।

মূলত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাধারণ মানুষের ন্যায় মায়ের রেহেম শরীফ থেকে পৃথিবীতে তাশরীফ মুবারক আনেননি। শুধু তাই নয় হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কেউই সাধারণ মানুষের মতো ভূমিষ্ট হননি। কারণ হলো, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি খাছ বা বিশেষভাবে মনোনীত করেই সৃষ্টি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

الله يجتبى اليه من يشاء

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে চান উনাকে খাছভাবে মনোনিত করেন। অর্থাৎ নবী-রসূলরূপে মনোনীত করেন।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)

উল্লেখ্য, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে খাছভাবে মনোনীত এবং মহান আল্লাহ পাক উনার বার্তা বা ওহী মুবারক উনার ধারক ও বাহক সেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে দিয়েছেন। অর্থাৎ উনাদের বিষয়গুলো আর অন্য সব মানুষের বিষয়গুলো একরকম নয়। উনাদের চলা-ফেরা, আচার-ব্যবহার, কথা-বার্তা, আহার-নিদ্রা ইত্যাদি সবকিছুই অন্য মানুষ হতে ব্যতিক্রম। আর ব্যতিক্রম হবেইনা বা কেন, যেহেতু উনারা সার্বিক ও পরিপূর্ণরূপে ওহী মুবারক উনারা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

কাজেই, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা যমীনে আগমন করেছেন। উনাদের যমীনে আগমন আর অন্যান্য মানুষের যমীনে আগমনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অন্যান্য মানুষ সাধারণত স্বাভাবিক পথেই ভূমিষ্ট বা জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনারা কেউই স্বাভাবিক পথে যমীনে আগমন করেননি। বরং বিশেষ পথে যমীনে আগমন করেন।

যেমন এ প্রসঙ্গে বর্ণিত রয়েছে-

كل مولود غير الانبياء يولد من الفرج وكل الانبياء غير نبينا مولود من فوق الفرج وتحت السرة.

অর্থ: হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনারা ব্যতীত সমস্ত মানুষই স্বাভাবিক পথেই আগমন করেন। আর সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনারা স্বাভাবিক পথের উপর ও নাভি মুবারক উনার নিচ থেকে বিলাদত শরীফ গ্রহন করেন। (উমদাতুন নুকুল ফী কাইফিয়াতে ওয়ালাদাতির রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

যেখানে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের যমীনে আগমনের বিষয়টি সাধারণ মানুষের মত নয় সেখানে যিনি নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিষয়টি তো আরো ঊর্ধ্বের আরো স্বতন্ত্র। তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই উনার যমীনে আগমন বা তাশরীফ নেয়া সম্পর্কে কিতাবে যে নির্ভরযোগ্য মতটি বর্ণিত রয়েছে তাহলো-

واما نبينا صلى الله عليه وسلم فمولود من الخاصرة اليسرى تحت الضلوع.

অর্থ: আমাদের নবী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা আম্মা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার বাম পার্শ্বের পাঁজর মুবারক উনার নিচ থেকে বিলাদত শরীফ গ্রহন করেন। (উমদাতুন নুকুল ফী কাইফিয়াতে ওয়ালাদাতির রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

প্রতিভাত হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অন্যান্য মানুষের মতো বিলাদত শরীফ গ্রহন করেননি বা যমীনে তাশরীফ আনেননি। বরং মহান আল্লাহ পাক উনাকে কুদরতিভাবে উনার আম্মা আলাইহাস সালাম উনার বাম পাঁজর মুবারক উনার নিচ দিয়ে যমীনে প্রেরণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

আর এ বিষয়টি আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদার অন্তর্ভুক্ত যে, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিসহ কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামই অন্য মানুষের মতো স্বাভাবিক পথে যমীনে আগমন করেননি। বরং উনারা প্রত্যেকেই কুদরতিভাবে কুদরতি পদ্ধতিতে যমীনে আগমন করেন বা তাশরীফ নেন।

মুহম্মদ রূহুল কুদুস, বগুরা।

ডা. মুহম্মদ আওক্বাত আলী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

 

সুওয়াল : মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা এবং হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ১১তম খলীফা এবং ‘আস সাফফাহ’ লক্বব মুবারক উনার অর্থ ও ব্যাখা-বিশ্লেষণ ও মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনিই যে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম’ এবং উনার মুবারক উছীলায় যে, অবশ্যই অবশ্যই বর্তমান যামানায় সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে এ সম্পর্কে দলীলভিত্তিক বিস্তারিতভাবে জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব :

(পূর্ব প্রকাশিতের পর- ৫)

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল খুলাফা, পবিত্র রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি অবশ্য অবশ্যই  পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১২জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে অন্যতম একজন আখাচ্ছুল খাছ বিশেষ খলীফা তথা ১০ম খলীফা এবং উনার সুমহান আওলাদ, খলীফাতুল উমাম, আল মানছূর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন ১১তম খলীফা। সুবহানাল্লাহ! ঃ

সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো স্পষ্ট করে সমগ্র কায়িনাতবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন-

قُلِ اللّٰهُمَّ مٰلِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِـى الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ.

অর্থ : “আপনি বলুন, আয় বারে এলাহী মহান আল্লাহ পাক! আপনি হচ্ছেন সমস্ত মুলক্ তথা কায়িনাতের মালিক। আপনি যাকে ইচ্ছা তাকে পুরো পৃথিবী বা সমস্ত কায়িনাতের সম্মানিত মালিকানা বা সম্মানিত খিলাফত মুবারক হাদিয়া করে থাকেন।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ : ২৬)

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-

ذٰلِكَ فَضْلُ اللهِ يُؤْتِيْهِ مَنْ يَّشَاءُ.

অর্থ : “ইহা (সম্মানিত খিলাফত মুবারক) হচ্ছে একটি বিশেষ নিয়ামত বা মাক্বামাত মুবারক তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে হাদিয়া করে থাকেন।” সুবহানাল্লাহ! (সূরা জুমুয়া শরীফ, আয়াত শরীফ : ৪)

অর্থাৎ সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক ও সম্মানিত রিসালাত মুবারক যেমন খাছ মাক্বাম মুবারক তা চেয়ে পাওয়া যায় না। ঠিক অনুরূপভাবে সম্মানিত খিলাফত মুবারকও হচ্ছে একটি বিশেষ মাক্বাম মুবারক, তা চেয়ে পাওয়া যায় না। তবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার যিনি হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যাঁকে ইচ্ছা উনাকে এই বিশেষ মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالىٰ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ِاِذَا اَرَادَ اللهُ اَن يـَّخْلُقَ خَلْقًا لّـلْـخِلَافَةِ مَسَحَ ناصِيَتَه بِيَدِهٖ.

অর্থ: “সর্বাধিক পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী ছাহাবী হযরত আবূ হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি উনার মাহবূব বান্দা তথা মাহবূব ব্যক্তিত্ব উনাদের মধ্য থেকে কাউকে খলীফা হিসেবে সৃষ্টি করার ইচ্ছা মুবারক পোষণ করেছেন তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে খলীফা হিসেবেই সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি উনার কুদরতী হাত মুবারক উক্ত মাহবূব ব্যক্তিত্ব বা মহান ওলীউল্লাহ উনার কপাল মুবারক-এ বুলিয়ে দিয়েছেন তথা কপাল মুবারক-এ কুদরতী হাত মুবারক বুলিয়ে দিয়ে সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার বিশেষ মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া করেছেন ।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খুলাফা লিস সুয়ূতী পৃষ্ঠা নং ১৪, জামিউল আহাদীছ লিস সুয়ূত্বী ২য় খ- ২৪৬ পৃষ্ঠা, আল ফাতহুল কাবীর লিস সুয়ূত্বী ১ম খ- ৬৯পৃষ্ঠা, জামউল জাওয়ামি, জামিউছ ছগীর লিস সুয়ূত্বী ১ম খ- ৩০ পৃষ্ঠা, দায়লামী শরীফ ১ম ২৪৮ পৃষ্ঠা ইত্যাদি)

উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা থেকে এই বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক ও সম্মানিত রিসালাত মুবারক যেমন খাছ মাক্বাম মুবারক তা চেয়ে পাওয়া যায় না। ঠিক অনুরূপভাবে সম্মানিত খিলাফত মুবারকও হচ্ছে একটি বিশেষ মাক্বাম মুবারক, তা চেয়ে পাওয়া যায় না। তবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার যিনি হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যাঁকে ইচ্ছা উনাকে এই বিশেষ মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া করে থাকেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনার মাহবূব ব্যক্তিত্ব উনাদের মধ্যে যাঁরা দুনিয়ার যমীনে খলীফা হবেন, উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি খলীফা হিসেবেই সৃষ্টি করেছেন। শুধু তাই নয় তিনি উনার কুদরতী হাত মুবারক উক্ত মাহবূব ব্যক্তিত্ব উনাদের কপাল মুবারক-এ বুলিয়ে দিয়ে, উনাদেরকে সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার বিশেষ মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য যে, এখানে খলীফা বা সম্মানিত খিলাফত মুবারক বলতে, যাহিরী খলীফা ও সম্মানিত যাহিরী খিলাফত মুবারক তথা সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক বুঝানো হয়েছে।

জানা আবশ্যক যে, সম্মানিত খিলাফত মুবারক দুই প্রকার। যথা-

এক. বাত্বিনী খিলাফত এবং দুই. যাহিরী খিলাফত। আরো জানা আবশ্যক যে, সমস্ত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা প্রত্যেকেই বাত্বিনী খলীফা; কিন্তু উনারা প্রত্যেকে যাহিরী খলীফা নন। যেমনÑ হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই নবী; কিন্তু হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই রসূল নন। আর যে সকল সম্মানিত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা যাহিরী খলীফা, উনারা অবশ্য অবশ্যই বাত্বিনী খলীফাও বটে। কারণ বাত্বিনী খিলাফত মুবারক ব্যতিত কেউ কস্মিনকালেও ওলীউল্লাহ হতে পারেন না। আর খলীফাতো হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। কারণ খলীফা হওয়ার বিষয়টি আরো অনেক উপরের বিষয়। আরো উল্লেখ্য যে, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত ১২ ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান এবং মাক্বামাত মুবারক উনার বিষয়টি যেমন সম্পূর্ণরূপে আলাদা, ঠিক তেমনিভাবে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং পবিত্র আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যে বর্ণিত ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান এবং মাক্বামাত মুবারক উনার বিষয়টিও সম্পূর্ণরূপে আলাদা। সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং এখান থেকে অত্যান্ত সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা যেমন মনোনীত, পূর্ব নির্ধারিত তেমনিভাবে সম্মানিত হযরত খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনারাও মনোনীত, পূর্ব নির্ধারিত। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি যাঁদেরকে খলীফা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, মনোনীত করেছেন উনারাই কেবল খলীফা হবেন এবং উনাদের দ্বারাই দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে। এছাড়া অন্য কারো দ্বারা সে বিষয়টি সম্ভব হবে না।

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল ও জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব