সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সংখ্যা: ২৫৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

আল্লামা মুহম্মদ ছিদ্দীকুর রহমান, কুমিল্লা।

আল্লামা মুহম্মদ হামীদ আহ্সান মিয়া, ঢাকা।

আল্লামা মুহম্মদ ফজলুর রহমান মিয়া, নোয়াখালী।

 

সুওয়াল: সম্মানিত সূরা তাহরীম শরীফ উনার প্রথমোক্ত পাঁচখানা আয়াত শরীফ উনাদের সম্মানিত শানে নুযূল মুবারক এবং সম্মানিত তাফসীর মুবারক সম্পর্কে বাত্বিল ৭২ ফেরক্বার লোকেরা; এমনকি হক্বপন্থী দাবীদারও তাদের লিখিত কিতাবসমূহে, তাফসীর ও হাদীছ শরীফের শরাহগ্রন্থে দলীলবিহীন, মনগড়া এলোমেলো কুফরীমূলক বক্তব্য উল্লেখ করেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! যেমন তারা উল্লেখ করেছে,

১.         নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নাকি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য হালালকে হারাম করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!

২.         তিনি নাকি গুণাহ করেছেন এজন্য উনাকে তওবা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!

৩.         হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা নাকি পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! এছাড়াও নানা কুফরীমূলক বক্তব্য উল্লেখ করেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ!

এখন আমাদের জানার বিষয় হলো, প্রকৃতপক্ষে সম্মানিত সূরা তাহরীম শরীফ উনার প্রথমোক্ত পাঁচখানা আয়াত শরীফ উনাদের হাক্বীক্বী সম্মানিত শানে নুযূল মুবারক এবং সম্মানিত তাফসীর মুবারক কী? আর তাদের উল্লেখিত মূর্খতাসূচক দলীলবিহীন মনগড়া এলোমেলো কুফরীমূলক বক্তব্যসমূহের সঠিক ও বিশুদ্ধ জওয়াব কী?

জাওয়াব: সম্মানিত সূরা তাহরীম শরীফ উনার প্রথমোক্ত পাঁচখানা আয়াত শরীফ নিয়ে বাত্বিল ফেরক্বার লোকেরা নানা কুফরীমূলক বক্তব্য পেশ করে থাকে এবং মানুষের ঈমান-আক্বীদা নষ্ট করে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! বিভিন্ন কিতাব এবং বিভিন্ন তাফসীরগ্রন্থগুলোতেও নানা এলোমেলো ও কুফরীমূলক বক্তব্য রয়েছে। বর্ণনাকারীরা ইসরাঈলী বর্ণনার দ্বারা বিষয়টিকে এলোমেলো করে ফেলেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! অনেকে এই আয়াত শরীফ উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারিয়াহ ক্বিবত্বিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে জড়িয়ে উনার সম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ বিভিন্ন কুফরীমূলক বক্তব্য পেশ করে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ!

এই সম্মানিত আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার প্রকৃত যে ঘটনা সেটা হচ্ছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মধু খাওয়া খুব পছন্দ করতেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে জাহাশ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ মধু পান করেছিলেন। প্রত্যেক মধুতে একটা ঘ্রাণ থাকে। এক এক ফুলের মধুর মধ্যে এক একটা ঘ্রাণ থাকে। স্বাভাবিকভাবে প্রত্যেক খাদ্য, তরী-তরকারী, মাছ, গোশত প্রত্যেকটাতে আলাদা আলাদা একটা ঘ্রাণ থেকে থাকে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট যেই ঘ্রাণগুলো রুচি সম্মত হতো না, সেগুলো তিনি পছন্দ করতেন না। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে জাহাশ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ যেই মধু মুবারক পান করেছিলেন, সেই মধুর মধ্যে মাগাফীর ফুলের ঘ্রাণ ছিলো। সেই বিষয়টিই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম তিনি এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাফছাহ আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলেছিলেন। বলার কারণে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছিলেন, যদি এই ঘ্রাণই হয়, তাহলে তিনি মধু পান করবেন না।

এই বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে সম্মানিত সূরা তাহরীম শরীফ উনার প্রথমোক্ত পাঁচখানা আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرّمُ مَا أَحَلَّ الله لَكَ تَبْتَغِى مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ وَالله غَفُورٌ رَحِيمٌ .قَدْ فَرَضَ الله لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ وَالله مَوْلَاكُمْ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ. وَاِذْ اَسَرَّ النَّبِيُّ اِلـى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا فَلَمَّا نَبَّأَتْ بِهِ وَأَظْهَرَهُ الله عَلَيْهِ عَرَّفَ بَعْضَهُ وَأَعْرَضَ عَنْ بَعْضٍ فَلَمَّا نَبَّأَهَا بِهِ قَالَتْ مَنْ أَنْبَأَكَ هَذَا قَالَ نَبَّأَنِيَ الْعَلِيمُ الْخَبِيرُ. إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا وَإِنْ تَظَاهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ الله هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمَلَائِكَةُ بَعْدَ ذَلِكَ ظَهِيرٌ. عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبْدِلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ مُسْلِمَاتٍ مُؤْمِنَاتٍ قَانِتَاتٍ تَائِبَاتٍ عَابِدَاتٍ سَائِحَاتٍ ثَيِّبَاتٍ وَأَبْكَارًا.

প্রথম আয়াত শরীফ উনার অর্থ ও ব্যাখ্যা

يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ لِـمَ تُـحَرّمُ مَا أَحَلَّ الله لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ وَالله غَفُورٌ رَّحِيمٌ

অর্থ: “হে আমার সম্মানিত নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যা হালাল করেছেন, আপনি তা কী কারণে হারাম করলেন? আপনি কি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে সন্তুষ্ট মুবারক করার জন্য এটা করেছেন? যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল এবং দয়ালু।”

শব্দার্থ: لِـمَ تُـحَرّمُ  কেন বা কি কারণে আপনি হারাম করেন বা করলেন, تَبْتَغِي আপনি চান, প্রত্যাশা করেন, مَرْضَاتَ সন্তুষ্টি, খুশি।

(ব্যাখ্যা: সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার শুরুতে মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে সম্বোধন মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনাকে সরাসরি নাম মুবারক দ্বারা সম্বোধন করেননি। বরং তিনি বলেন-

يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ

অর্থ: “হে আমার সম্মানিত নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!”

তারপর তিনি বলেছেন-

لِمَ تُحَرّمُ مَا أَحَلَّ الله لَكَ

অর্থ: “যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যা হালাল করেছেন, আপনি তা কী কারণে হারাম করলেন?”

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى. إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত ওহী মুবারক ব্যতীত কোন কথা বলেন না, কোন কাজ করেন না।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা নজম শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ৩-৪)

তাহলে তিনি যে মধু পান করা হারাম করলেন, তাহলে তিনি কি এটা সম্মানিত ওহী মুবারক উনার বাইরে করেছেন? না‘ঊযুবিল্লাহ! তিনি এটা সম্মানিত ওহী মুবারক উনার মাধ্যমেই করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

তারপর বলা হয়েছে-

تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ

অর্থ: “আপনি কি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে সন্তুষ্ট মুবারক করার জন্য এটা করেছেন?”

কখনো না। কারণ সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে-

وَالله وَرَسُولُهُ اَحَقُّ اَنْ يُرْضُوْهُ اِنْ كَانُوْا مُؤْمِنِيْنَ.

অর্থ: “তারা যদি ঈমানদার হয়ে থাকে তাহলে তারা যেন মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু উনাকে সন্তুষ্ট করে। উনারাই সন্তুষ্টি পাওয়ার সমধিক হকদার।” সুবহানাল্লাহ!

এই আয়াত শরীফ খাছভাবে সমস্ত উম্মতের জন্য নাজিল করা হয়েছে। আর আমভাবে নাযিল করা হয়েছে, رِضْوَان مِنَ اللهِ اَكْبَرُ অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হচ্ছেন সবচেয়ে বড়।

আয়াত শরীফ নাযিল হলো অর্থাৎ বলা হলো মহান আল্লাহ পাক উনাকে সন্তুষ্ট করতে হবে। তাহলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি করে মহান আল্লাহ পাক উনাকে সন্তুষ্ট না করে অন্য কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য কোন আমল করতে পারেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে সন্তুষ্ট করার জন্যই করেছেন। কাজেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে, হালালটাকে হারাম করেছেন, সেটা মহান আল্লাহ পাক উনাকে সন্তুষ্ট করার জন্যই করেছেন এবং সম্মানিত ওহী মুবারক উনার মাধ্যমেই করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এরপর বলা হয়েছে-

وَاللهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ

অর্থ: “যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল এবং দয়ালু।”

বাতিল ফেরক্বার লোকেরা বলে থাকে যে, এখানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে হালালকে হারাম করেছেন, এই জন্য উনাকে ইস্তিগফার করতে বলা হয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!

মূলত, এখানে বলা হয়েছে, যারা এই আয়াত শরীফ নিয়ে চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করবে, এলোমেলো ব্যাখ্যা করবে, তাদেরকে ইস্তিগফার করতে হবে। যদি তারা তওবা করে, ইস্তিগফার করে, তাহলে তাদের তওবা কবুল করা হবে, তাদেরকে দয়া করা হবে। কাজেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম তিনি সম্মানিত ওহী মুবারক ব্যতীত কোন কথা বলেন না, কোন কাজ করেন না। সুবহানাল্লাহ!)

দ্বিতীয় আয়াত শরীফ উনার অর্থ ও ব্যাখ্যা

قَدْ فَرَضَ الله لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ وَالله مَوْلَاكُمْ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ.

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদের জন্য আপনাদের শপথ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ তিনি কসমের কাফ্ফার বিষয়টি নির্ধারণ করে দিয়েছেন, শপথ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বন্ধু। সুবহানাল্লাহ! আর মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত বিষয় জানেন এবং প্রজ্ঞাময়।”

শব্দার্থ:  فَرَضَ ফরয করেছেন, ধার্য করেছেন, জারি করেছেন, নির্ধারণ করেছেন, বর্ণনা করেছেন, تَحِلَّةَ অব্যাহতি, أَيْمَانِكُمْ আপনাদের কসমসমূহ, শপথসমূহ, مَوْلَاكُمْ আপনাদের বন্ধু, আপনার বন্ধু, অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বন্ধু।

ব্যাখ্যা: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কসম বা শপথ যে করেছেন সেটা সম্মানিত ওহী মুবারক উনার মাধ্যমেই করেছেন। আবার এই শপথ বা কসমের যে কাফফারা সেটাও সম্মানিত ওহী মুবারক উনার মাধ্যমে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! যাতে এর মাধ্যম দিয়ে শপথ থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ পাক তিনি এটা নির্ধারণ করে দিয়েছেন যাতে উম্মত পরবর্তীতে কসমের কাফফারা আদায় করে এর থেকে সহজে অব্যাহতি লাভ করতে পারে। সুবহানাল্লাহ!

তৃতীয় আয়াত শরীফ উনার অর্থ ও ব্যাখ্যা

وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا فَلَمَّا نَبَّأَتْ بِهِ وَأَظْهَرَهُ الله عَلَيْهِ عَرَّفَ بَعْضَهُ وَأَعْرَضَ عَنْ بَعْضٍ فَلَمَّا نَبَّأَهَا بِهِ قَالَتْ مَنْ أَنْبَأَكَ هَذَا قَالَ نَبَّأَنِيَ الْعَلِيمُ الْخَبِيرُ.

অর্থ: “আর যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একজন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাফছাহ আলাইহাস সালাম) উনার কাছে একটি বিষয় (তিনি আর মধু পান করবেন না) আস্তে আস্তে বললেন। তিনি আবার এই বিষয়টি আরেকজন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম) উনাকে অবগত করলেন, এই বিষয়টি জানালেন। যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আবার বিষয়টি ওহী মুবারক করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জানিয়ে দিলেন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনাকে (মহান আল্লাহ পাক তিনি যা ওহী মুবারক করেছেন তার থেকে) কিছু বিষয় জরুরত আন্দাজ প্রকাশ করলেন, আর কিছু বিষয় যেগুলো জরুরী না সেগুলো প্রকাশ করলেন না। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন সেই উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম (হযরত হাফছাহ আলাইহাস সালাম) উনাকে বিষয়টি অবগত করালেন, তখন তিনি জানতে চাইলেন এই বিষয়টি কে আপনাকে জানিয়েছেন? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, যিনি ‘আলীমুল খবীর মহান আল্লাহ পাক যিনি সবকিছু জানেন এবং খবর রাখেন তিনি জানিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!

শব্দার্থ: أَسَرَّ তিনি গোপনে বললেন, চুপে চুপে বললেন, আস্তে আস্তে বললেন, حَدِيثًا একটি কথা,نَبَّأَتْ  তিনি অবগত করলেন, জানালেন, أَظْهَرَهُ তিনি উনাকে প্রকাশ করলেন, স্পষ্ট করলেন, জানিয়ে দিলেন, عَرَّفَ তিনি জানালেন, অবহিত করলেন, বললেন, أَعْرَضَ তিনি পরিহার করলেন, পরিত্যাগ করলেন, বিরত থাকলেন, অর্থাৎ বললেন না, أَنْبَأَكَ তিনি আপনাকে অবগত করলেন, জানালেন, نَبَّأَنِيَ আমাকে অবগত করেছেন, জানিয়েছেন, الْخَبِيرُ মহাবিজ্ঞ, সর্বজ্ঞ, যিনি সবকিছু জানেন এবং খবর রাখেন।

চতুর্থ আয়াত শরীফ উনার প্রথম অংশ

উনার অর্থ ও ব্যাখ্যা

إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا

অর্থ: “যদি আপনারা (উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম ও হযরত হাফছাহ আলাইহাস সালাম) তওবা করেন, রুজু হন যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে, অবশ্যই আপনাদের অন্তর রুজু হয়ে গেছে। (উনারা  তো তওবা করেছেনই, মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে রুজু হয়েছেনই। যার কারণে উনাদের অন্তর মুবারক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে রুজু আছে, রুজু হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!)

শব্দার্থ: إِنْ تَتُوبَا  যদি আপনারা দু’জন তওবা করেন, রুজু হন, فَقَدْ صَغَتْ  ঝুঁকে গেছে, রুজু হয়ে গেছে।

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা যে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মাঝে ফানা-বাক্বা এবং উনাদের সম্মানিত অন্তর মুবারক যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে দায়িমীভাবে রুজু আছে এই বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে গেছে তাখয়ীরের আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে। সুবহানাল্লাহ! তাখয়ীরের আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান ও পবিত্রতা মুবারক উনার বিষয়টিই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। যদিও তাখয়ীরের পবিত্র আয়াত শরীফ নিয়ে বাতিল-ফিরক্বার লোকেরা অনেক চূ-চেরা ক্বীল-ক্বাল করে থাকে, বিভিন্ন এলোমেলো বক্তব্য পেশ করে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! অথচ এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার মধ্যে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

খায়বার বিজয়ের পরের ঘটনা। তখন মুসলমানদের অনেক গণীমতের মাল লাভ হয়েছিলো পর্যায়ক্রমে। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা সকলেই এর মাধ্যমে ফায়দা গ্রহণ করছিলেন। তখন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ লিবাস  (পোশাক) মুবারক উনার বিষয়ে, ভাতার বিষয়ে জানালেন। কারণ উনাদেরকে বাৎসরিক যে ভাতা মুবারক দেয়া হতো, সেটা এক মাসও যেতো না, উনারা দান-খয়রাত করে শেষ করে দিতেন। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে উনাদেরকে যে লেবাস মুবারক দেয়া হতো, সেটাও উনারা দান-খয়রাত করে দিতেন। ফলে উনাদের শুধু পরিধাণকৃত লেবাস মুবারকখানাই থাকতো। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ এমন হতো যে, দান করতে করতে উনাদের শুধু  এক সেট সম্মানিত লিবাস মুবারক থাকতো। ফলে উনারা আরো বেশি বেশি দান-খয়রাত করার জন্য এবং মানুষদেরকে আরো বেশী বেশী হাদিয়া-তোহফা দেয়ার জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ  সম্মানিত লিবাস মুবারক ও ভাতা মুবারক উভয়ের জন্য আরজি মুবারক পেশ করেছিলেন। উনারা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আরজি পেশ করেননি। সুবহানাল্লাহ! তখন যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার জন্য তাখয়ীরের পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتّعْكُنَّ وَأُسَرّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا. وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الله وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الْآخِرَةَ فَإِنَّ الله أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَاتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا.

অর্থ: “হে আমার নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বলে দিন যে, যদি আপনারা দুনিয়া ও দুনিয়ার সৌন্দর্য্য চেয়ে থাকেন, তাহলে আসুন বা বলুন, আপনাদের সমস্ত চাহিদা পূরণ করে দেয়া হবে এবং উত্তমভাবে আপনাদের রুখসতেরও ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ! আর যদি আপনারা যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে চান, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চান, পরকাল চান, তাহলে নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদের মধ্যে যারা পবিত্রা মহিলা উনাদের জন্য অনেক বড় নিয়ামত মুবারক তৈরি করে রেখেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ২৮-২৯)

যখন এই সম্মানিত আয়াত শরীফ নাযিল হলো, তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সকলকে বিশেষ করে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে বললেন, সম্মানিত আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে। আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করবো, আপনি কিন্তু তাড়াহুড়া করে জবাব দিবেন না। আপনার সম্মানিত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে জিজ্ঞাসা করে, উনাদের থেকে জেনে জবাব দিবেন। এই কথা মুবারক বলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফগুলো তিলাওয়াত মুবারক করে শুনালেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি শুনে বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই প্রশ্নের  জবাব দেয়ার জন্য আমার সম্মানিত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে হবে না। এটার জবাব আমি নিজেই দিবো। এখানে যেই বিষয়টি বলা হয়েছে, সেটা হচ্ছে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে, উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং পরকালকে যদি আমরা চাই, তাহলে সেটা যেন আমরা বলি। আপনি যেমন মহান আল্লাহ পাক উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা। ঠিক আমরাও আপনার মধ্যে ফানা ও বাক্বা হওয়ার জন্যই আপনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ এসেছি। আমরা আপনার মাঝে ফানা ও বাক্বা। একমাত্র আপনার হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার জন্যই আমরা আপনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ এসেছি। সুবহানাল্লাহ! আমরা অন্য কোন উদ্দেশ্যে আপনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসিনি।  সুবাহানাল্লাহ!

অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অন্যান্য হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিস সালাম উনাদেরকেও এই প্রশ্ন মুবারক করলেন। উনারা প্রত্যেকেই একই জবাব মুবারক দিলেন। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা  যে, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে ফানা ও বাক্বা সেই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সম্পর্কে কি করে চু-চেরা ও ক্বিল-ক্বাল করা যেতে পারে? আর যারা করবে তারা কি করে ঈমানদার হিসেবে সাবস্ত্য হবে? না‘ঊযুবিল্লাহ!

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার অনেকবার তাফসীর করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি বলতেন, দেখ এটা সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ। এটা ক্বিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। কিন্তু এমন এক সময় আসবে আমরাও থাকবো না, তোমরাও থাকবে না। মানুষ এটাতে ভুল বুঝতে পারে। এইজন্য তিনি বিশেষ বিশেষ মাহফিলে, মজলিসে এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যা করতেন। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছিলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি যদি চান তাহলে উহুদ পাহাড় স্বর্ণ হয়ে আপনার পিছনে পিছনে ঘুরবে। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছিলেন, উহুদ পাহাড় স্বর্ণ হয়ে আমার পিছনে পিছনে ঘুরুক, সেটা আমার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি তো আপনার মুহব্বত-মা’রিফাত, কুরবত, তায়াল্লুক্ব-নিসবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক ত্বলব করে থাকি। সুবহানাল্লাহ! সেটাই হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يا محمد صلى الله عليه وسلم انا وانت وما سواك خلقت لاجلك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا رب انت وما انا وما سواك تركت لاجلك.

 অর্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি এবং আপনি। আর আপনি ছাড়া যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছু আপনার সন্তুষ্টি মুবারক উনার জন্যই সৃষ্টি করেছি। সুবহানাল্লাহ! জবাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে বারে এলাহী! শুধু আপনি, আমিও না। আপনি ছাড়া আর যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছুই তরক করেছি আপনার রেযমন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার লক্ষ্যে ।” সুবহানাল্লাহ!

এই সম্মানিত হাদীছে কুদসী শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন মহান আল্লাহ পাক উনার মাঝে ফানা এবং বাক্বা ঠিক তেমনিভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মাঝে ফানা এবং বাক্বা। সুবহানাল্লাহ! এই বিষয়টিই স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে ‘তাখয়ীরের পবিত্র আয়াত শরীফ’ উনার মাধ্যমে। সুবহানাল্লাহ!

চতুর্থ আয়াত শরীফ উনার দ্বিতীয় অংশ

উনার অর্থ ও ব্যাখ্যা

وَإِنْ تَظَاهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ الله هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمَلَائِكَةُ بَعْدَ ذَلِكَ ظَهِيرٌ.

অর্থ: “আর যদি আপনারা পরস্পর (মিলে) নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন, তাহলে আপনারা কামিয়াবী হাছিল করবেন। (উনারা তো সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেনই এবং কামিয়াবী হাছিল করেছেনই। সুবহানাল্লাহ!) যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কিন্তু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বন্ধু। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি, সমস্ত ছালেহীন বান্দা-বান্দী এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমতগার।” সুবহানাল্লাহ!

শব্দার্থ: إِنْ تَظَاهَرَا যদি আপনারা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করেন, অর্থাৎ আপনারা পরস্পর পরস্পরকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার  আনজাম মুবারক দেয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করেন তথা আপনারা পরস্পর মিলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন, مَوْلَاهُ উনার মাওলা বা বন্ধু, جِبْرِيلُ হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম, صَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ ছালিহুল মু’মিনীন তথা পূণ্যবান মু’মিনগণ, الْمَلَائِكَةُ সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম, بَعْدَ অতঃপর, ظَهِيرٌ সাহায্যকারী, খাদিম,

পঞ্চম আয়াত শরীফ উনার অর্থ ও ব্যাখ্যা

عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبْدِلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ مُسْلِمَاتٍ مُؤْمِنَاتٍ قَانِتَاتٍ تَائِبَاتٍ عَابِدَاتٍ سَائِحَاتٍ ثَيِّبَاتٍ وَأَبْكَارًا.

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি আপনাদেরকে তালাক্ব দেন অর্থাৎ আপনাদেরকে রুখসত দেয়ার ব্যবস্থা করেন, তাহলে যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদের থেকে উত্তম উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম পাল্টিয়ে দিবেন। উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আত্মসমর্পণকারিণী হবেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারিণী হবেন, প্রত্যেকেই অত্যন্ত অনুগতা হবেন, প্রত্যেকেই তাওবাকারিণী হবেন, প্রত্যেকেই অত্যন্ত ইবাদাতকারিণী হবেন, প্রত্যেকেই অনেক রোযা রাখবেন, অনেকে অকুমারী এবং অনেকে কুমারী হবেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা তাহরীম শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ১-৫)

শব্দার্থ:إِنْ طَلَّقَكُنَّ  যদি তিনি আপনাদেরকে তালাক্ব দেন, রুখসত দেয়ার ব্যবস্থা করেন, يُبْدِلَهُ  তিনি উনাকে পরিবর্তন করে দিবেন, পাল্টিয়ে দিবেন, خَيْرًا উত্তম, مِنْكُنَّ আপনাদের থেকে, مُسْلِمَاتٍ আত্মসমর্পণকারিণী,  مُؤْمِنَاتٍ বিশ্বাসস্থাপনকারিণী, قَانِتَاتٍ অনুগতা, تَائِبَاتٍ তাওবাকারিণী, عَابِدَاتٍ ইবাদাতকারিণী, سَائِحَاتٍ রোযাদার, ثَيِّبَاتٍ অকুমারী, أَبْكَارًا কুমারী।

এই আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, যদি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপনাদেরকে তালাক্ব দেন, তাহলে তিনি আপনাদেরকে পাল্টিয়ে দিবেন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো তালাক্ব দেননি এবং উনাদেরকে পাল্টিয়েও দেয়া হয়নি। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনারা হচ্ছেন-

مُسْلِمَاتٍ مُؤْمِنَاتٍ قَانِتَاتٍ تَائِبَاتٍ عَابِدَاتٍ سَائِحَاتٍ ثَيِّبَاتٍ وَأَبْكَارًا

এই সমস্ত গুণ সম্পন্না। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন-

مُسْلِمَاتٍ مُؤْمِنَاتٍ قَانِتَاتٍ تَائِبَاتٍ عَابِدَاتٍ سَائِحَاتٍ ثَيِّبَاتٍ وَأَبْكَارًا

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আত্মসমর্পণকারিণী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারিণী, প্রত্যেকেই অত্যন্ত অনুগতা, প্রত্যেকেই তাওবাকারিণী, প্রত্যেকেই অত্যন্ত ইবাদাতকারিণী হবেন, প্রত্যেকেই অনেক রোযাদার, অনেকে অকুমারী এবং অনেকে কুমারী।” সুবহানাল্লাহ!

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা অবশ্যই অবশ্যই এই সমস্ত সম্মানিত ছিফত মুবারক সম্পন্না। যার কারণে উনাদেরকে তালাক্বও দেয়া হয়নি এবং পাল্টানোও হয়নি। সুবহানাল্লাহ!

উনাদের মতো এরূপ উত্তম সম্মানিত ছিফত মুবারক সম্পন্না কায়িনাতের বুকে কোন মহিলা নেই। যার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-

يَانِسَاءَ النَّبِىّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النّسَاءِ

 অর্থ: “হে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা নিসা আলাইহিন্নাস সালাম তথা হে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম! আপনারা অন্য কোন মহিলাদের মত নন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ, সম্মানিত আয়াত শরীফ : ৩২)

এই সকল আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে কিন্তু হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান মুবারক উনার খিলাফ কোন কিছুই বলা হয়নি। কিন্তু বাতিল ফিরক্বার লোকেরা এবং যাদের আক্বল, বুদ্ধি, সমঝ, ইলম-কালাম, তায়াল্লুক্ব-নিসবতে ত্রুটি রয়েছে, তারা আলোচ্য আয়াত শরীফ উনাদের হাক্বীক্বতটা বুঝতে না পেরে এলোমেলো ব্যাখ্যা করেছে, ইসরাঈলী বর্ণনার কারণে তারা প্রতারিত হয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তারা বলে থাকে যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা না কি পরস্পর হিংসা করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!  অথচ যে হিংসুক সে তো ঈমানদারই হতে পারে না। যেটা সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اِنَّ الْحَسَدَ ياكل الحسنات كما تاكل النار الحطب

অর্থ: “নিশ্চয়ই হিংসা নেকীসমূহকে এভাবে বিনষ্ট করে দেয় যেভাবে আগুন লাকড়িকে জ্বালিয়ে দেয়।”

একজন ওলীউল্লাহ বা খালিছ ঈমানদারের অন্তরে কোন প্রকার হিংস-বিদ্বেষ বা বদ স্বভাব থাকে না। কারো অন্তরে যদি হিংসা-বিদ্বেষ থাকে, সে কস্মিনকালেও ওলীউল্লাহ হতে পারে না, খালিছ ঈমানদারও হতে পারে না। যদি তাই হয় থাকে, তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা তো হচ্ছেন একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ব্যতীত সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ তামাম কায়িনাতবাসী সকলেরই মহাসম্মানিতা মাতা। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনাদের অন্তরে কিভাবে হিংসা-বিদ্বেষ থাকতে পারে? না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! যে ব্যক্তি এরূপ আক্বীদা পোষণ করবে, সে অবশ্যই প্রথম শ্রেণীর কাট্টা কাফির এবং চির জাহান্নামী ও চির মাল‘ঊন হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পবিত্রতা মুবারক সম্পর্কে স্বয়ং যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اِنَّـمَا يُرِيْدُ الله لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُمْ تَطْهِيْرًا.

অর্থ: “হে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ৩৩)

আরো উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন,

لَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنْثَى

অর্থ: “তিনি এমন একজন সম্মানিতা মহিলা যে, উনার সমকক্ষ কোনো পুরুষও নেই।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আল ইমরান শরীফ, সম্মানিত আয়াত শরীফ : ৩৬)

অর্থাৎ উম্মু রূহিল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এতো বেমেছাল যে, তিনি তো পূর্ববর্তী সমস্ত মহিলা উনাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার অধিকারিণী; শুধু তাই নয়, উনার সমকক্ষ কোনো পুরুষও নেই। সুবহানাল্লাহ!

উনার শান মুবারক-এ আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

وَإِذْ قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ يَامَرْيَمُ إِنَّ الله اصْطَفَاكِ وَطَهَّرَكِ وَاصْطَفَاكِ عَلَى نِسَاءِ الْعَالَمِينَ.

অর্থ: “আর যখন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা বললেন, হে হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে মনোনীত করেছেন, আপনাকে পবিত্রা করেছেন এবং সমস্ত আলমের সকল মহিলা উনাদের উপর আপনাকে মনোনীত করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আলে ইমরান শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ  ৪২)

অর্থাৎ উম্মু রূহিল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম তিনি পূর্ববর্তী পুরুষ-মহিলা উনাদের সকলের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ!

আর হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান মুবারক-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يَانِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النّسَاءِ

 অর্থ: “হে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা নিসা আলাইহিন্নাস সালাম তথা হে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম! আপনারা অন্য কোনো মহিলাদের মতো নন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ  ৩২)

অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম তিনিসহ সৃষ্টির শুরু থেকে এই পর্যন্ত যত মহিলা তাশরীফ মুবারক এনেছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত যতো মহিলা তাশরীফ মুবারক আনবেন উনাদের সকলের উপরে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক। সুবহানাল্লাহ! কাজেই উনারা কায়িনাতের অন্য কারো মতো নন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল তা ভাষায় প্রকাশ করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার অধিকারিণী  হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ! কাজেই উনাদের শান মুবারক উনার খিলাফ যারা বক্তব্য পেশ করবে তারা প্রথম শ্রেণীর কাট্টা কাফির এবং চির জাহান্নামী হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তারা ইবলীসের ন্যায়; বরং ইবলীসের চেয়েও চরম মাল‘ঊন। তাদের প্রত্যেককেই লা’নাতুল্লাহি আলাইহি বলা ফরয, ফরয এবং ফরয।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রতি সর্বোত্তম বিশুদ্ধ আক্বীদা ও সর্বোচ্চ হুসনে যন মুবারক পোষণ করার তাওফীক্ব দান করুন এবং উনাদের হাক্বীক্বী মুহব্বত-মা’রিফাত, তায়াল্লুক্ব-নিসবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক নছীব করুন। আমীন!

 

মুহম্মদ আব্দুল্লাহ ফারূক্বী

সুপার- হাসানপুর দাখিল মাদরাসা

আজগড়া, রূপসা, খুলনা

 

সুওয়াল: কিছুদিন পূর্বে কুমিল্লার এক স্থানে আমাদের দেশীয় এক পীর ছাহেব মাহফিল করতে আসেন। এক পর্যায়ে তিনি তার সফরসঙ্গী এক মালানাকে ওয়াজ করার সুযোগ দেন। ঐ মালানা তার ওয়াজের মধ্যে উক্ত পীর ছাহেবের বুযুর্গী তুলে ধরে এবং তার পীর ছাহেব এ যুগের নবী বলে আখ্যায়িত করে। এমনকি তিনি নবী, একথাকে দৃঢ় করার জন্য উপস্থিত শ্রোতাদের নিকট থেকে একাধিকবার স্বীকৃতি নেয়। তখন উক্ত পীর ছাহেব মঞ্চে চেয়ার পেতে বসা ছিলেন। তিনি নীরবে বক্তার কথা শ্রবণ করেন। এ কথায় দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে দিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে।

তাই আমাদের জানার বিষয় হলো যে, বক্তা,  শ্রোতা ও পীর ছাহেবের প্রতি শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে কি বিধান আরোপিত হবে?

জাওয়াব: পাকিস্তানের মীর্জা গোলাম কাদিয়ানী ও তার অনুসারীর মতোই হুকুম বা বিধান আরোপিত হবে। অর্থাৎ মীর্জা গোলাম কাদিয়ানী সে নিজেকে নবী দাবি করেছিল এবং কিছু লোক তাকে নবী হিসেবে মেনেছিল এবং এখনো মানছে; ফলে তারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের থেকে খারিজ হয়ে বাতিল  ও জাহান্নামী ৭২ ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।

কেউ নিজে নবী দাবী করুক অথবা অন্য কেউ তাকে নবী বলে বিশ্বাস করুক প্রত্যেকটিই কুফরী। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যদি কাউকে নবী হিসেবে ঘোষণা দেয় কিংবা নবী বলে বিশ্বাস করে এক্ষেত্রে যাকে নবী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হলো ও বিশ্বাস করা হলো তার জন্য ফরয হচ্ছে ঘোষণাদাতা ও বিশ্বাসকারীকে উক্ত কুফরী আক্বীদা বা বিশ্বাস থেকে সতর্ক করা। যদি সতর্ক না করে তাহলে সে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে। আর তাকে যারা অনুসরণ করবে তারাও দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে।

কেননা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিধান হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বশেষ নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

ما كان محمد ابا احد من رجالكم ولكن رسول الله وخاتم النبيين

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের (প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির) পিতা নন; বরং তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার  রসূল ও শেষ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং ৪০)

আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ختم بى النبيون

অর্থ: আমার দ্বারা নবী আগমনের ধারা শেষ করা হয়েছে। (মুসলিম শরীফ)

তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

انا خاتم النبيين لا نبى بعدى.

অর্থ: আমিই শেষ নবী। আমার পর কোন নবী নেই। (আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ)

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই হচ্ছেন শেষ নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনার পর ক্বিয়ামত পর্যন্ত আর কোন ব্যক্তিকে নবী বা রসূল হিসেবে মনে করা, বিশ্বাস করা, মানা বা গ্রহন করা যাবে না। করলে ঈমানদার ও মুসলমান থাকা যাবে না। কাদিয়ানীদের মতোই কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী হতে হবে।

মুহম্মদ রাসেল মিশরী

তেরখাদা, খুলনা

সুওয়াল: ইদানিং ছারছীনা পীর ছাহেবের দরবারে ছবি ভিডিও বেধড়কভাবে চালু হয়েছে। এমনকি পীর ছাহেবের হেজবুল্লাহ সংগঠনের দেশের সব জেলা, উপজেলা, গ্রাম-গঞ্জের কর্মীসব থেকে এক কপি ফটোসহ ফরম পূরণ করে নিয়েছে। হেজবুল্লাহ কর্মীরা ছবি ও ফরম পূরণ করতে পেরে মহাখুশি। আর যারা ছবি দেয়নি তারা মূর্খ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! এখন আমাদের জিজ্ঞাসা যে, বর্তমানে ছবি, ভিডিও করা কোন কোন ক্ষেত্রে বৈধ এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অবৈধ? তা জানতে বাসনা রাখি।

জাওয়াব: নবী-রসূল ও ওহী নাযিল হওয়ার দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন কেউ যেরূপ নবী-রসূল হবেন না তদ্রƒপ কারো প্রতি মুবারক ওহীও নাযিল হবে না। মুবারক ওহী উনার মাধ্যমে হালাল-হারাম সব ফায়ছালা হয়ে গেছে। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, দেখা সবক্ষেত্রেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোন ক্ষেত্রেই বৈধ ঘোষণা করা হয়নি।

তবে দ্বীন ধ্বংসকারী তিন শ্রেনীর লোক অর্থাৎ উলামায়ে ‘সূ’, মুনাফিক ও পথভ্রষ্ট শাসক এদের কারণে মানুষ হারাম কাজ করতে বাধ্য হয়। এজন্য উক্ত তিন শ্রেণীর লোকদেরকে জাহান্নামী বলে ঘোষণা করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

তাদের কারণেই আজ মানুষ ছবি, টিভি, সিনেমা, ভিডিও, নাচ, গান, খেলাধুলা, বেপর্দা, বেহায়াপনা, ইত্যাদি হারাম-নাজায়িয কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

যা হারাম তা কখনো হালাল বা বৈধ হয় না। অনুরূপ কোন হালালও কখনো হারাম হয় না। হারামকে হালাল মনে করা এবং হালালকে হারাম মনে করা উভয়ই কুফরী এবং কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ। তাই ছবির ব্যবহার সবসময়ের জন্য ও সবক্ষেত্রেই হারাম। আর মাজূরতা বা অক্ষমতার মাসয়ালা সেটাতো কেবল জান ও মাল হিফাজতের সাথে সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ কারো জীবন রক্ষার জন্য এবং ইজ্জত-আবরু হিফাজতের জন্য হারামটা জরুরত আন্দাজ মুবাহ বলা হয়েছে কিন্তু হালাল বা বৈধ নয়। যেমন কেউ তিনদিন না খাওয়া; এই ব্যক্তি হালাল খাদ্যের ব্যবস্থা করতে পারলোনা তখন তার জন্য মৃত হাস-মুরগী, গরু-ছাগলের গোশত খাওয়াটা মুবাহ হয়ে যায়।

দরীদ্র ভাতা বা অনুদানের জন্য আগে ছবিবিহীন কার্ড ছিল কিন্তু এখন ছবিযুক্ত কার্ড করতে বাধ্য করা হয়েছে।

অনুরূপ চাকরী, ব্যবসার লাইসেন্স, জায়গা-জমি, বাড়ী-ঘর, রেজিস্ট্রারী মোটকথা খাওয়া-পরা, বাসস্থান, শিক্ষা ইত্যাদির জন্য ছবি তুলতে বাধ্য হলে সেক্ষেত্রে হারাম জেনেই তুলতে হবে এবং এজন্য তওবা-ইস্তিগফারও করতে হবে। শরয়ী মাজূরতা ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে ছবি তোলা মুবাহর অন্তর্ভুক্ত হবে না।

স্মরণীয় যে, যারা ছবি তোলে ও তোলার জন্য পরামর্শ দেয় ও বাধ্য করে তারা কখনোই হক্ব হতে পারে না। পীর হোক, ইসলামী ব্যক্তিত্ব হোক, ইসলামী দল হোক প্রত্যেকের জন্য ছবি তোলা হারাম ও কবীরা গুনাহ। ছবিকে জায়িয বা বৈধ মনে করা কুফরী। এ ধরনের পীর ও ইসলামী নামধারী দলের থেকে দূরে থাকা ফরয।

খন্দকার মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন

টাঙ্গাইল

সুওয়াল: পবিত্র মুহররম শরীফ মাসের ফযীলত ও আমলসমূহ দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: পবিত্র মুহররম শরীফ মাসটি অতিশয় ফযীলতপূর্ণ। এ মাসটি রহমত, বরকত, সাকীনা ও মাগফিরাত উনাদের দ্বারা সমৃদ্ধ। আরবী ১২টি মাসের মধ্যে হারাম বা পবিত্র মাস হলো ৪টি। তার মধ্যে পবিত্র মুহররম শরীফ মাস হলো অন্যতম। যেমন, এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ان عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا فى كتب الله يوم خلق السموت والارض منها اربعة حرم ذلك الدين القيم فلا تظلموا فيهن انفسكم.

অর্থ :  “নিশ্চয়ই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার বিধান ও গণনায় আসমান-যমীনের সৃষ্টির শুরু থেকে মাসের সংখ্যা বারটি। তন্মধ্যে চারটি হচ্ছে হারাম বা পবিত্র মাস। এটা সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোতে নিজেদের প্রতি জুলুম বা অবিচার করনা।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ  : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৬)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

ثلاثة متواليات ذو القعدة وذو الـحجة والـمحرم ورجب مضر الذى بين جمادى وشعبان.

অর্থ : “হারাম মাসসমূহ উনাদের মধ্যে তিনটি হলো ধারাবাহিক অর্থাৎ পরস্পর মিলিত। তা হলো- পবিত্র যিলক্বদ শরীফ, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ ও পবিত্র মুহররম শরীফ। আর চতুর্থটি হলো মুদ্বার গোত্রের পবিত্র রজব শরীফ মাস; যা জুমাদাল উখরা শরীফ ও শা’বান শরীফ মাসের মাঝখানে অবস্থিত।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মুসনাদে আহমদ, শুয়াবুল ঈমান)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اكرموا الـمحرم من اكرم الـمحرم اكرمه الله بالـجنة ونجاه من النار

অর্থ : “তোমরা পবিত্র মুহররম শরীফ মাসকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি পবিত্র মুহররম শরীফ মাসক উনাকে সম্মান করবে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দিয়ে এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ দিয়ে সম্মানিত করবেন।” সুবহানাল্লাহ!

স্মরণযোগ্য যে, পবিত্র মুহররম শরীফ মাসের উল্লেখযোগ্য ও শ্রেষ্ঠতম দিন হচ্ছে ১০ই মুহররম শরীফ ‘আশূরা’র দিনটি। এ দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয় এ দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনে। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনাও এ দিনেই সংঘটিত হয়।

বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুরু করে সাইয়্যিদুনা আবুল বাশার হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত প্রায় সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোন না কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা এ দিনে সংঘটিত হয়েছে। সঙ্গতকারণে এ দিনটি আমাদের সবার জন্যে এক মহান আনুষ্ঠানিকতার দিন, যা রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত, নিয়ামত মুবারক হাছিল করার দিন। ফলে এ দিনে বেশ কিছু আমল করার ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উৎসাহিত করা হয়েছে। যেমন-

১। পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা : পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم افضل الصيام بعد رمضان شهر الله الـمحرم.

অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ফরয রোযার পর উত্তম রোযা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার মাস পবিত্র মুহররম শরীফ উনার রোযা।” (মুসলিম শরীফ)

عن حضرت ابى قتادة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صيام يوم عاشوراء احتسب على الله ان يكفر السنة التى قبله.

অর্থ : হযরত আবূ কাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযা পালনে আমি মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে আশা করি যে, তিনি (উম্মতের) বিগত বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন।” (মুসলিম শরীফ)

عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صوموا التاسع والعاشر وخالفوا فيه اليهود.

অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ৯ ও ১০ই মুহররম শরীফ রোযা রেখে ইহুদীদের খিলাফ তথা বিপরীত আমল করো।” (তিরমিযী শরীফ)

২। রোযাদারদেরকে ইফতার করানো : রোযাদারদেরকে ইফতার করানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من فطر فيه صائما فكانـما افطر عنده جميع امة (سيدنا حبيبنا شفيعنا مولانا) محمد صلى الله عليه وسلم

অর্থ : “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, তিনি যেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত উম্মতকে ইফতার করালো।” সুবহানাল্লাহ!

৩। পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো : পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من وسع على عياله فى النفقة يوم عاشوراء وسع الله عليه سائر سنته

অর্থ : “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আশূরা শরীফ উনার দিন তার পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়াবে-পরাবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা বৎসর ওই ব্যক্তিকে সচ্ছলতা দান করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (তবারানী শরীফ, শুয়াবুল ঈমান, মা ছাবাতা বিস্সুন্নাহ, মুমিন কে মাহে ওয়া সাল ইত্যাদি)

৪ ও ৫। গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো : গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من مسح فيه على رأس يتيم واطعم جائعا وسقى شربة من ماء اطعم الله من موائد الجنة وسقاه الله تعالى من الرحيق السلسبيل

অর্থ  :  “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতীমের মাথায় হাত স্পর্শ করে, কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত উনার দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়াবেন এবং ‘সালসাবীল’ ঝর্ণা থেকে পানীয় (শরবত) পান করাবেন।” সুবহানাল্লাহ!

৬। চোখে (ইছমিদ) সুরমা দেয়া : চোখে সুরমা দেয়া সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من اكتحل يوم عاشوراء بكحل فيه مسك لـم يشك عينه الى قبيل من ذلك اليوم.

অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন মিশক মিশ্রিত সুরমা চোখে দিবে, সেদিন হতে পরবর্তী এক বৎসর তার চোখে কোন প্রকার রোগ হবেনা।” সুবহানাল্লাহ! (মাক্বাছিদে হাসানাহ, শুয়াবুল ঈমান, দায়লামী, মা ছাবাতা বিস্সুন্নাহ্)

৭। গোসল করা : পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিনে গোসল করা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

من اغتسل فيه عفى ولـم يـمرض الا مرض الـموت وامن من الكسل والتعليل

অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন গোসল করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। মৃত্যু ব্যতীত তার কোন কঠিন রোগ হবেনা এবং সে অলসতা ও দুঃখ-কষ্ট হতে নিরাপদ থাকবে।” সুবহানাল্লাহ!

অতএব, পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস এবং উনার মধ্যস্থিত পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিনের ফাযায়িল-ফযীলত ও আমল সম্পর্কে জেনে সে মুতাবিক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর দায়িত্ব-কর্তব্য।

মুহম্মদ আবুল হায়াত

কক্সবাজার

 

সুওয়াল: আশূরা উপলক্ষে কয়টি রোযা রাখা সুন্নত, জানতে বাসনা রাখি।  জাওয়াব: হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ পাক-উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-

صوموا يوم عاشوراء وخالفوا فى اليهود صوموا قبله يوما او بعده يوما.

 অর্থ: “তোমরা আশূরার রোযা রাখ এবং (এ ব্যাপারে) ইহুদীদের বিপরীত কর। তোমরা আশূরার আগের দিন অথবা পরের দিনেও রোযা রাখো।”

এ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আশূরার উদ্দেশ্যে দুটি রোযা রাখা সুন্নত। মুর্হরমের ৯ ও ১০ তারিখে অথবা ১০ ও ১১ তারিখে। তবে উত্তম হলো ৯ ও ১০ তারিখে রোযা রাখা। শুধু ১০ই মুহররম আশূরার উদ্দেশ্যে ১টি রোযা রাখা মাকরূহ। কারণ ইহুদীরা সেদিনটিতে রোযা রেখে থাকে। {দলীলসমূহঃ (১) বুখারী শরীফ, (২) মুসলিম শরীফ, (৩) মিশকাত, (৪) তিরমিযী, (৫) মুয়াত্তা ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি, (৬) জামিউল ফাওয়ায়েদ, (৭) মুসনাদে ফেরদৌস দায়লামী, (৮) মাসাবাতা বিস্ সুন্নাহ্, (৯) মুসনাদে ইমাম আহ্মদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি ইত্যাদি}

 

মুহম্মদ ইবরাহীম খলীল

কুমিল্লা

সুওয়াল : আমাদের দেশসহ বিভিন্ন দেশে নববর্ষ পালন করা এবং এ উপলক্ষে ভালো খাওয়া-পরার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়। এটা কতটুকু শরীয়তসম্মত?

জাওয়াব : পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে নওরোজ বা যে কোন নববর্ষ পালন করা হারাম ও বিদয়াত।”

কাজেই, নববর্ষ সেটা বাংলা হোক, ইংরেজি হোক, আরবী হোক ইত্যাদি সবই ইহুদী-নাছারা,  বৌদ্ধ, মজুসী-মুশরিকদের তর্জ-তরীক্বা; যা পালন করা থেকে বিরত থাকা সকল মুসলমানের জন্য ফরয-ওয়াজিব।

উল্লেখ্য, সাধারণভাবে প্রাচীন পারস্যের শাসক জমশীদ খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ সালে এই নওরোজের প্রবর্তন করেছিল এবং এ ধারাবাহিকতা এখনও পারস্য তথা ইরানে নওরোজ ঐতিহ্যগত নববর্ষের জাতীয় উৎসব পালিত হয়। ইরান থেকেই এটা একটি সাধারণ সংস্কৃতির ধারা বেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশ এবং ভারত উপমহাদেশে প্রবেশ করে।

তাছাড়া বাংলা পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ উপলক্ষে শহরে ও গ্রামে যে ভোজ, মেলা উৎসব হয় তাও ইরানের নওরোজ হতে পরোক্ষভাবে এদেশে এসেছে। মোঘল পূর্ববর্তী আমলে এদেশে নওরোজ বা নববর্ষ পালনের রীতি প্রচলিত ছিল না।

ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী পহেলা বৈশাখ পালনের সংস্কৃতি হিন্দুদের থেকে এসেছে। তবে কথিত বাংলা সন প্রকৃতপক্ষে ফসলী সন বা পহেলা বৈশাখ বাঙালি দ্বারা প্রবর্তিত নয়। বাদশাহ আকবর ফসলী সন হিসেবে এর প্রবর্তন করে। আর বাদশাহ আকবর ছিল মঙ্গলীয় এবং ফারসী ভাষী। তাহলে এটা কি করে বাঙালি সংস্কৃতি হতে পারে? কাজেই বাঙালিদের জন্য এটা অনুসরণীয় নয়। আর মুসলমানদের জন্য তো এটা অনুসরণ করার প্রশ্নই আসেনা।

হযরত ইমাম আবু হাফস্ কবীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “নওরোজ বা নববর্ষ উপলক্ষে যদি কেউ একটা ডিমও দান করে তার ৫০ বৎসরের আমল থাকলেও তা বরবাদ হয়ে যাবে।” অর্থাৎ নওরোজ বা নববর্ষ পালনের কারণে তার জিন্দেগীর সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাবে।

বিশেষত বাংলা নববর্ষ হিন্দুদের খাছ ধর্মীয় উৎসবের দিন। এর আগের দিন তাদের চৈত্র সংক্রান্তি। আর পহেলা বৈশাখ হলো ঘট পূজার দিন।

কাজেই, মুসলমানদের জন্য বাংলা নববর্ষসহ বিভিন্ন নববর্ষ পালন করার অর্থ হচ্ছে বিজাতি ও বিধর্মীদের সাথেই মিল রাখা। তাদেরই অনুসরণ অনুকরণ করা। নাঊযুবিল্লাহ!

অথচ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ان شر الدواب عند الله الذين كفروا فهم لا يؤمنون

অর্থ  : “নিশ্চয়ই সমস্ত প্রাণীর মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কাফিররাই নিকৃষ্ট, যারা ঈমান আনেনি।” (সূরা আনফাল : আয়াত শরীফ ৫৫)

অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ولا تطع الكافرين والـمنافقين

অর্থ : কাফির ও মুনাফিকদের অনুসরণ করো না। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং- ১)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ليس منا من تشبه بغيرنا

অর্থ :  হযরত আমর ইবনে শুয়াইব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা থেকে এবং তিনি উনার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ওই ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে বিজাতীয়দের সাথে সাদৃশ্য রাখে।” (মিশকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن حضرت عبد الله بن عمر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من تشبه بقوم فهو منهم

অর্থ  :  “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের দলভুক্ত অর্থাৎ তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে।” (সুনানে আহমদ, সুনানে আবূ দাউদ)

অতএব, পহেলা বৈশাখ, পহেলা জানুয়ারি, পহেলা মুর্হরম ইত্যাদি নববর্ষ পালন করার জন্য উৎসাহিত করা এবং সাথে সাথে ভাল খাওয়া-পড়ার জন্যও উৎসাহিত করা কাট্টা হারাম ও কুফরী যা থেকে বিরত থাকা ও বেঁচে থাকা সকল মুসলমানের জন্য ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত।

 

মুহম্মদ তাজুল ইসলাম

নূরসিবাদ (নরসিংদী)

 

সুওয়াল :  বছরের মধ্যে কি কোন নির্দিষ্ট দিন আছে, যেদিন ভালো খাওয়া-পরার ব্যাপারে ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে উৎসাহ দেয়া হয়েছে?

জাওয়াব :  হ্যাঁ, রয়েছে। সে দিনটি হচ্ছে পবিত্র দশই মুর্হরম শরীফ। এ দিনটিতে প্রত্যেক পরিবারের প্রধানকে তার পরিবারের সদস্যদেরকে ভালো খাদ্য খাওয়ানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

من وسع على عياله فى النفقة يوم عاشورا وسع الله عليه سائر سنته

অর্থ : “যে ব্যক্তি তার পরিবারবর্গকে পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন অর্থাৎ পবিত্র দশই মুহররম শরীফ তারিখে ভালো খাদ্য খাওয়াবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে এক বৎসরের জন্য সচ্ছলতা দান করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (তবারানী শরীফ, মা-ছাবাতা বিস্সুন্নাহ)

এ প্রসঙ্গে কিতাবে একটি ওয়াক্বিয়া বর্ণিত রয়েছে। এক ব্যক্তি ছিল গরিব ও আলিম। একবার অসুস্থতার কারণে তিনি তিনদিন যাবৎ কোন কাজ করতে পারলেন না। চতুর্থ দিন ছিল পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন। তিনি পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিনে ভালো খাওয়ার ফযীলত সম্পর্কে জানতেন। তখন ছিল কাজীদের (বিচারক) যুগ। এলাকার কাজী ছাহেব ধনী ব্যক্তি ছিল।

গরিব আলিম ব্যক্তি তিনি কাজী ছাহেবের কাছে পবিত্র আশূরা শরীফ উনার ফযীলতের কথা বলে এবং নিজের অসুস্থতা ও পরিবারের অভুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে ১০ সের আটা, ১০ সের গোশত ও ২ দিরহাম হাদিয়া অথবা কর্জ হিসেবে চাইলেন। কাজী ছাহেব উনাকে যুহরের সময় আসতে বললো। যুহরের সময় কাজী ছাহেব বললো, আছরের সময় আসতে। এরপরে আছরের সময় ইশা এবং ইশার সময় সরাসরি না করে দিল। তখন গরিব আলিম ব্যক্তি বললেন:  হে কাজী ছাহেব! আপনি আমাকে কিছু দিতে পারবেন না সেটা আগেই বলতে পারতেন, আমি অন্য কোথাও ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু তা না করে আমাকে সারাদিন ঘুরিয়ে এই শেষ মুহূর্তে নিষেধ করলেন? কাজী ছাহেব সেই গরিব আলিম ব্যক্তির কথায় কর্তপাত না করে দরজা বন্ধ করে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো।

মনের দুঃখে গরিব আলিম ব্যক্তি তখন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির দিকে রওয়ানা হলেন। পথে ছিল এক খ্রিস্টানের বাড়ি। একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে কাঁদতে দেখে উক্ত খ্রিস্টান কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলো। কিন্তু বিধর্মী বিধায় খ্রিস্টানকে প্রথমে তিনি কিছু বলতে চাইলেন না। অতঃপর খ্রিস্টানের অধীর আগ্রহের কারণে তিনি আশূরা শরীফ উনার ফযীলত ও উনার বর্তমান অবস্থার কথা ব্যক্ত করলেন। খ্রিস্টান ব্যক্তি তখন উৎসাহী হয়ে আলিম ব্যক্তিকে পবিত্র আশূরা শরীফ উনার সম্মানার্থে ১০ সের আটা, ১০ সের গোশত, ২ দিরহাম এবং অতিরিক্ত আরও ২০ দিরহাম দিল এবং বললো যে, আপনাকে আমি পবিত্র আশূরা শরীফ উনার সম্মানার্থে প্রতিমাসে এ পরিমাণ হাদিয়া দিব। গরিব আলিম তখন তা নিয়ে বাড়িতে গেলেন এবং খাবার তৈরি করে ছেলে-মেয়েসহ আহার করলেন। অতঃপর দোয়া করলেন, “আয় মহান আল্লাহ পাক! যে ব্যক্তি আমাকে সন্তুষ্ট করলো, আমার ছেলে-মেয়েদের মুখে হাসি ফোটালো, মহান আল্লাহ পাক! আপনি তার দিল খুশি করে দিন, তাকে সন্তুষ্ট করে দিন।”

ওই রাতে কাজী ছাহেব স্বপ্ন দেখলো, স্বপ্নে কাজী ছাহেবকে বলা হচ্ছে, হে কাজী ছাহেব! তুমি মাথা উত্তোলন করো। মাথা তুলে কাজী ছাহেব দেখতে পেলো যে, তার সামনে দুটি বেহেশ্তী বালাখানা। একটি স্বর্ণের তৈরী আরেকটি রৌপ্যের তৈরী। কাজী ছাহেব বললো, ‘আয় মহান আল্লাহ পাক! এটা কি?’ গায়িবী আওয়াজ হলো, ‘এ বালাখানা দুটি হচ্ছে বেহেশতী বালাখানা। এ বালাখানা দুটি তোমার ছিল। কিন্তু এখন আর তোমার নেই। কারণ তোমার কাছে যে গরিব আলিম লোকটি আশূরা শরীফ উপলক্ষে সাহায্যের জন্য এসেছিলেন উনাকে তুমি সাহায্য করোনি। এজন্য এ বালাখানা দুটি এখন অমুক খ্রিস্টান লোকের হয়েছে।’ কারণ সে খ্রিস্টান লোকটা আশূরা শরীফ উনার সম্মানার্থে গরিব আলিমকে সাহায্য করেছে। অতঃপর কাজী ছাহেবের ঘুম ভেঙে গেলো। ঘুম থেকে উঠে ওযূ ও নামায আদায় করে সেই খ্রিস্টানের বাড়িতে গেলো। খ্রিস্টান কাজী ছাহেবকে দেখে বিস্ময়াভূত হলো। কারণ কাজী ছাহেব খ্রিস্টানের পড়শি বা প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও জন্মের পর থেকে এ পর্যন্ত কোন সময় তার বাড়িতে আসতে দেখেনি।

অতঃপর খ্রিস্টান ব্যক্তি কাজী ছাহেবকে বললো, ‘আপনি এত সকালে কি জন্য এলেন?’ কাজী ছাহেব বললো, ‘হে খ্রিস্টান ব্যক্তি! তুমি গত রাতে যে নেক কাজ করেছ সেটা আমার কাছে এক লাখ দিরহামের বিনিময় বিক্রি করে দাও।’ খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, ‘হে কাজী সাহেব! আপনি কি বলতে চাচ্ছেন আমি বুঝতে পারছি না। আপনি স্পষ্ট করে বলুন।’ তখন কাজী ছাহেব তার স্বপ্নের কথা জানালো এবং বললো, ‘তুমি নিশ্চয়ই সেই গরিব আলিম লোকটিকে সাহায্য করেছ।’ তখন খ্রিস্টান ব্যক্তি তা স্বীকার করলো। কাজী ছাহেব বললো যে, ‘তুমি তো খ্রিস্টান, তুমি তো এই বালাখানা পাবেনা। তোমার এটা নিয়ে কি ফায়দা হবে? তুমি তোমার এই নেক কাজ এক লাখ দিরহামের বিনিময়ে আমার নিকট বিক্রি করে দাও এবং তুমি উনার কাছে প্রত্যেক মাসে যে ওয়াদা করেছ আমি উনাকে তা দিয়ে দিব।’ খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, ‘হে কাজী ছাহেব! আমি যদি মুসলমান হয়ে যাই তাহলে কি সেই বালাখানা পাবো?’ তখন কাজী ছাহেব বললো:  ‘হ্যাঁ, তুমি যদি মুসলমান হও তবে বালাখানা পাবে।’ তখন খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, ‘হে কাজী ছাহেব! আপনি সাক্ষী থাকুন, আমি পবিত্র কালিমা শরীফ পড়ে মুসলমান হয়ে গেলাম।’ অতঃপর সত্যি সেই খ্রিস্টান ব্যক্তি মুসলমান হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!

অতএব এটা ফিকিরের বিষয় যে, পবিত্র মুহররম শরীফ মাস তথা পবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে সম্মান করার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি খ্রিস্টান ব্যক্তিকে ঈমান দিয়ে দিলেন। এমনকি জান্নাত নছীব করলেন। সুবহানাল্লাহ!

মুহম্মদ মঞ্জুর রহমান

নূরপুর (লক্ষীপুর)

সুওয়াল : পবিত্র ১০ই মুহররম আশূরা শরীফ উপলক্ষে অনেকে আলোচনা করতে যেয়ে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে এলোমেলো বক্তব্য দিয়ে থাকে। যেমন তারা বলে থাকে, সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি গন্দম খেয়ে ভুল করেছেন কিংবা একটি গুনাহ করেছেন। সত্যিই কি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা কোন ভুল বা গুনাহ করেছিলেন?

জাওয়াব :  আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা হলো, কোন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা কখনো ভুল করেননি। ইচ্ছাকৃত তো নয়ই, অনিচ্ছাকৃতও নয়। অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা কোন ভুলই করেননি। (শরহে আক্বাইদে নছফী, ফিক্বহে আকবর, তাকমীলুল ঈমান, আক্বাইদে হাক্কাহ)

অর্থাৎ সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ছিলেন মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ও মনোনীত বান্দাগণ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন পবিত্র ওহী মুবারক উনার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার একাধিক স্থানে ইরশাদ  মুবারক হয়েছে-

نوحى اليهم

অর্থ : “আমি উনাদের (হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের) প্রতি পবিত্র ওহী মুবারক করতাম।” (পবিত্র সূরা ইউসূফ শরীফ উনার পবিত্র ১০৯ আয়াত শরীফ, পবিত্র সূরা নহল শরীফ উনার পবিত্র ৪৩ আয়াত শরীফ, পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ উনার ৭ আয়াত শরীফ)

অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকল কার্যাবলীই পবিত্র ওহী মুবারক উনার দ্বারা (মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুতাবিক) পরিচালিত হতো। যার পরিপ্রেক্ষিতে আক্বাইদের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে-

الانبياء عليهم السلام كلهم معصومون

অর্থ  : “সকল হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা মা’ছূম বা নিষ্পাপ।” (শরহে আক্বাইদে নছফী)

আরও উল্লেখ রয়েছে যে-

الانبياء عليهم السلام كلهم منزهون عن الصغائر والكبائر والكفر والقبائح

অর্থ : “সকল হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা ছগীরা, কবীরা, কুফরী এবং অপছন্দনীয় কাজ হতেও পবিত্র।” (আল ফিক্বহুল আকবার লি ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি)

অতএব, যারা হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের ভুল সম্পর্কে বলে থাকে, আক্বাইদ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই তারা তা বলে থাকে। যেমন তারা বলে থাকে যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি গন্দম খেয়ে ভুল করেছিলেন। নাঊযুবিল্লাহ!

মূলত তাদের একথা সঠিক নয়। প্রকৃত ঘটনা হলো, মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে ও হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম উনাদেরকে আদেশ মুবারক করেছিলেন যে-

لا تقربا هذه الشجرة

অর্থ : “আপনারা এই (গন্দমের) গাছের নিকটবর্তী হবেন না।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৫)

তখন উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার এ আদেশ অনুযায়ী সে গাছের নিকটবর্তী হননি। বরং উক্ত গাছের অনুরূপ বিপরীত দিকের অন্য একটি গাছ দেখিয়ে ইবলিস শয়তান এসে হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম উনাকে মিথ্যা কছম খেয়ে বলেছিল যে, আপনারা যদি এ গাছের ফল খান, তবে আপনারা ফেরেশতা হয়ে যাবেন অথবা স্থায়ীভাবে বেহেশতে বসবাস করতে পারবেন। কোন কোন বর্ণনা মোতাবেক, তখন হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম তিনি সে গাছ হতে ফল এনে শরবত বানিয়ে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে খাইয়েছিলেন। অপর বর্ণনায়, ফল কেটে খাইয়েছিলেন। এ ঘটনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার অজান্তেই সংঘটিত হয়েছিল। সুতরাং যা অজান্তে সংঘটিত হয়, তা কি করে ভুল বা অপরাধ হতে পারে? বাস্তবিক তা কখনই ভুল  হতে পারেনা। (সমূহ তাফসীরের কিতাব)

এর মেছালস্বরূপ উল্লেখ করা যায়- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাত মুবারক উনার ঘটনা। তিনি যে শাহাদাত মুবারক বরণ করেছিলেন, এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। উনাকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শত্রুরা শহীদ করার জন্য একে একে পাঁচবার বিষ পান করায়। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতে তিনি প্রত্যেকবারই বেঁচে যান। ষষ্ঠবার উনাকে শহীদ করার জন্য উনার পানির কলসি মুবারক, যে কলসি মুবারক উনার মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখতেন, (যেন তার ভিতর কিছু ফেলা না যায়,) সেই কাপড় মুবারক উনার উপর শত্রুরা মারাত্মক হিরক চূর্ণ বিষ উনার অজান্তে মিশিয়ে দিয়েছিল। তিনি গভীর রাত্রিতে হিরক চূর্ণ বিষ মিশ্রিত পানি কলসি মুবারক থেকে ঢেলে পান করেন, যার ফলশ্রুতিতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। যা উনার অজান্তেই সংঘটিত হয়েছিল। (সিররুশ শাহাদাতাইন, শুহাদায়ে কারবালা, সীরতে ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন আলাইহিমাস সালাম)

এখন প্রশ্ন উঠে, ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে উনার শাহাদাতকে আত্মহত্যা বলতে হবে, না ভুল করার কারণে বিছাল শরীফ লাভ করেছেন, তা বলতে হবে?

মূলত উপরোক্ত দুটির কোনটিই বলা যাবেনা। যদি কেউ কোন একটিও বলে, তবে সে মিথ্যা তোহমত দেয়ার গুনাহে গুনাহগার হবে; যা কুফরীর শামিল হবে। তদ্রূপ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার ঘটনাও। যা উনার অজান্তে সংঘটিত হয়েছে।

অনুরূপ অন্যান্য হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ঘটনাও। মানুষ সঠিক ইতিহাস না জানার কারণে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের সঠিক ব্যাখ্যা না বুঝার কারণে, হযরত নবী আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের শানে বেয়াদবিমূলক, কুফরী কথাবার্তা বলে থাকে।

পঞ্চম হিজরী শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাযযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার আল মুরশিদুল আমীন কিতাবে উল্লেখ করেন, “একবার মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হুজরা শরীফ-এ বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাক্ষাৎ করার অনুমতি চাইলেন। এ সংবাদ উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পৌঁছালেন। তখন নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন যে, সে ব্যক্তিকে অপেক্ষা করতে বলুন। একথা বলে নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পাগড়ি মুবারক, কোর্তা মুবারক ইত্যাদি গোছগাছ করে নিলেন। এমনকি পবিত্র হুজরা শরীফ থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে পানির গামলাতে নিজের চেহারা মুবারক দেখে গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। তা দেখে উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনিও কি এরূপ করেন?

তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, কিরূপ করি? উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, এরূপ পরিপাটি। এর জবাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার নবী। আমাদের কোন কাজ কারো অপছন্দ হলে, সে ঈমানহারা হয়ে যাবে।”

অতএব, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা যে কতটুকু অপছন্দনীয় কাজ থেকে বেঁচে থাকতেন, এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ঘটনা তারই প্রমাণ। তাহলে কি করে এ কথা বলা যেতে পারে বা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ভুল-ত্রুটি করেছিলেন? বস্তুত এরূপ আক্বীদা পোষণ করা সম্পূর্ণই কুফরী।

তদ্রূপ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে ও উনাদের শানের খিলাফ কোন অর্থ গ্রহণ করা যাবেনা বরং এমন অর্থ ব্যবহার বা গ্রহণ করতে হবে, যাতে উনাদের শান-মান মুবারক সমুন্নত থাকে।

অতএব, কোন লোকের জন্যেই হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারক উনার বিন্দুমাত্র খিলাফ কথাবার্তা বলা যাবেনা। কেউ যদি বলে থাকে, তাহলে তা হবে সম্পূর্ণ নাজায়িয, হারাম ও কুফরী। এ ধরনের কুফরী আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা সমস্ত মুসলমান পুরুষ-মহিলাদের জন্য ফরয।

মুহম্মদ এনায়েত হুসাইন

সদর, চাঁদপুর

  সুওয়াল: হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাতকে কেন্দ্র করে অনেকে জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দোষারোপ করে থাকে। এটা কতটুকু শরীয়তসম্মত? দয়া করে জানাবেন।

জাওয়াব: কোন নবী-রসূল আলাইহিস্ সালাম উনাকে যেমন কোন ব্যাপারে দোষারোপ করা জায়িয নেই। তদ্রƒপ কোন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকেও কোন ব্যাপারে দোষারোপ করা জায়িয নেই।

এ বিষয়ে আল্লাহ পাক উনার কালাম পাকে ইরশাদ করেন-

ولا تزر وازرة وزر اخرى

অর্থ: “একজনের পাপের বোঝা অপরজন বহন করবেনা।” (পবিত্র সূরা আনয়াম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং ১৬৪)

এ আয়াত শরীফ-এর তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সন্তানের অপরাধের জন্য পিতাকে এবং পিতার অপরাধের জন্য সস্তানকে দায়ী করা বৈধ নয়। যেমন, কাবিলের অপরাধের জন্য হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম উনাকে, কেনানের অপরাধের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম উনাকে দায়ী করা বৈধ নয়। তেমনি ইয়াযীদের অপরাধের জন্য হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দায়ী করাও বৈধ নয়। বরং সম্পূর্ণ নাজায়িয, হারাম ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

ليغيظبهم الكفار

অর্থ: “কাফিররাই উনাদের (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের) প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে।” (পত্রি সূরা ফাতহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং ২৯)

আর হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت مالك بن انس رحمة الله عليه قال من غاظ اصحاب محمد صلى الله عليه وسلم فهو كافر

অর্থ: “হযরত মালিক ইবনে আনাস রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে কাফির।” (নাসীমুর রিয়াদ্ব)

এখানে একটা বিষয় মনে রাখা দরকার যে, আল্লাহ পাক-উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার আদরের দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার মর্মান্তিক শাহাদাতে মুসলিম উম্মাহ’র অন্তর ব্যথাতুর হবে তা চরম সত্য কথা এবং এটি ঈমান মজবুতীর আলামতও বটে। কিন্তু এজন্য হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যিনি আল্লাহ পাক-উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার জলীলুল ক্বদর ছাহাবী উনাকে দোষারোপ করা কস্মিনকালেও শরীয়ত সম্মত হতে পারে না।

হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابى سعيد الخدرى رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تسبوا اصحابى فلو ان احدكم انفق مثل احد ذهبا ما بلغ مد احدهم ولا نصيفه

অর্থ: “হযরত আবু সায়ীদ খুদুরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে গালি দিওনা। কেননা তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ আল্লাহ পাক-উনার রাস্তায় দান কর, তবুও ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের এক মূদ্ (১৪ ছটাক) বা অর্ধ মূদ্ (৭ ছটাক) গম দান করার ফযীলতের সমপরিমাণ ফযীলত অর্জন করতে পারবে না।” (বুখারী শরীফ)

হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে যে-

عن حضرت عويمر بن ساعدة رضى الله تعالى عنه انه صلى الله عليه وسلم قال ان الله اختارنى واختارلى اصحابا فجعل لى منهم وزراء وانصارا واصهارا فمن سبهم فعليه لعنة الله والـملئكة والناس اجمعين ولا يقبل الله منهم صرفا وعدلا.

অর্থ: “হযরত উয়াইমির ইবনে সায়িদাহ রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে মনোনীত করেছেন এবং আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে মনোনীত করেছেন এবং উনাদের মধ্য থেকে আমার কার্য সম্পাদনকারী, খিদমতকারী ও বৈবাহিক সূত্রের আত্মীয়বর্গ নির্ধারণ করেছেন। অতএব যারা উনাদেরকে গালি দিবে বা দোষারোপ করবে, তাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম উনাদের ও মানুষ সকলেরই লা’নত এবং তাদের কোন ফরয ও নফল ইবাদত মহান আল্লাহ পাক তিন কবুল করবেন না।” (তবারানী শরীফ, হাকিম শরীফ)

স্মরণযোগ্য যে, হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে একজন বিশেষ শ্রেণীর ছাহাবী যাকে ‘উলুল আযম বা জলীলুল ক্বদর ছাহাবী বলা হয়। তিনি ছিলেন আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, কাতিবীনে ওহীর সদস্য, হাদীছ শরীফ উনার রাবী, ফক্বীহ ইত্যাদি মর্যাদার অধিকারী। উনার ইল্মের পূর্ণতা, হিদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা, উনার দ্বারা লোকদের হিদায়েত লাভ, কিতাব শিক্ষাদান এবং জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করেছেন।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ام حرام رضى الله تعالى عنها انها سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول اول جيش من امتى يغزون البحر قد اوجبوا.

অর্থ: “হযরত উম্মু হারাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, আমার উম্মতের প্রথম যে দল সমুদ্র পথে জিহাদে অংশগ্রহণ করবেন উনাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব।” (বুখারী শরীফ)

হযরত ইমাম তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ২৮ হিজরীতে সর্বপ্রথম সমুদ্র পথে জিহাদের মাধ্যমে কাবরাসের উপর আক্রমণ করেন এবং কাবরাস তিনিই বিজয় করেন।”

হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মর্যাদা-মর্তবার মধ্যে অন্যতম মর্যাদা হলো, তিনি ছিলেন একজন আদিল বা ইনসাফগার খলীফা। উনার ন্যায় বিচার ও ইনসাফ সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয় যে, জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ছাহাবী হযরত সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, “আমার দৃষ্টিতে হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, এরপর হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার চেয়ে অধিক ন্যায় বিচারক কেউ নেই।”

এক ব্যক্তি হযরত মুয়াফা ইবনে ইমরান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললো, ন্যায় বিচারের দিক দিয়ে হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ও হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ? একথা শুনে তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, “হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি কোন প্রকার ক্বিয়াস করা যাবে না। হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবী, কাতিবে ওহী ও মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ‘আমীন’ (আমানতদার)।”

আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, “হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি শ্রেষ্ঠ, না হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি শ্রেষ্ঠ?” তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার কছম! হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ঘোড়ায় চড়ে জিহাদে যেতেন, তখন ঘোড়ার নাকে যে ধুলোবালিগুলো প্রবেশ করতো, সেই ধুলোবালিগুলোও হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বহুগুণে শ্রেষ্ঠ।” (ফতওয়ায়ে হাদীছিয়াহ)

সুতরাং, এত সব মর্যাদা ও মর্তবার পরও যারা হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, উনাকে নাক্বিছ বলে গালি দেয়, তাদের জন্যে হযরত ইমাম শিহাবুদ্দীন খাফ্ফাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথাই অধিক প্রযোজ্য। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে গালি দেয়, নাকিছ বলে, সমালোচনা করে, সে হাবিয়া দোযখের কুকুরসমূহের মধ্য হতে একটি কুকুর।”

উপরোক্ত সংক্ষিপ্ত বর্ণনা থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হলো যে, হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি শুধু ছাহাবীই ছিলেন না, বরং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, জলীলুল ক্বদর ছাহাবী ও খলীফা ছিলেন। সুতরাং হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সহ সকল ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে সাবধানে কথা বলতে হবে। মূলত উনাদের সকলের প্রতিই সুধারণা পোষণ করতে হবে, মুহব্বত করতে হবে এবং উনাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণও করতে হবে।

কেননা উনারা হলেন দ্বীন ইসলাম উনার সম্মানিত ইমাম এবং হাবীবে খোদা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শের বাস্তব প্রতিফলন। এই জন্য উনারা যেভাবে ঈমানের স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং আমলে যেভাবে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন, ঠিক সেভাবেই ঈমানের স্বীকৃতি দেয়া এবং আমলে নিয়োজিত হওয়া পরবর্তী উম্মতের দায়িত্ব-কর্তব্য।

এ প্রসঙ্গে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

امنوا كما امن الناس

অর্থ: “তোমরা ঈমান আন যেভাবে অন্যান্য লোক অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ঈমান এনেছেন।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র  আয়াত শরীফ নং ১৩)

মহান আল্লাহ পাক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন-

رضى الله عنهم ورضوا عنه

“অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০০)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

والذين اتبعوهم باحسان رضى الله عنهم

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক ওই সকল বান্দাদের প্রতিও সন্তুষ্ট যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উত্তমরূপে অনুসরণ করেন।” (সূরা তওবা-১০০)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-

عن حضرت عمر بن الخظاب عليه السلام قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اصحابى كالنجوم فبايهم اقتديتم اهتديتم.

অর্থ: হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তারকা সাদৃশ্য। উনাদের যে কাউকে অনুসরণ করলে তোমরা হিদায়েতপ্রাপ্ত হবে।” (মিশকাত শরীফ)

অতএব, মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরাসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে চাইলে অবশ্যই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করতে হবে এবং উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা, সমালোচনা করা ও নাক্বিছ বলা হতে বিরত থাকতে হবে।

 

মুহম্মদ রূহুল কুদুস, বগুড়া।

ডা. মুহম্মদ আওক্বাত আলী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

 

সুওয়াল : মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা এবং খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ১১তম খলীফা এবং ‘আস সাফফাহ’ লক্বব মুবারক উনার অর্থ, ব্যাখা-বিশ্লেষণ ও মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিই যে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম’ এবং উনার মুবারক উছীলায় যে, অবশ্যই অবশ্যই বর্তমান যামানায় সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে এ সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব :

(পূর্ব প্রকাশিতের পর ৩০)

‘আস সাফফাহ’ লক্বব মুবারক উনার অর্থ

সাফফাহ (سَفَّاحٌ) শব্দ মুবারক উনার তাহক্বীক্ব বা শাব্দিক বিশ্লেষণ : সাফফাহ (سَفَّاحٌ) শব্দ মুবারকখানা ইসমে ফায়িল মুবালাগাহ। ইহা سفح মাদ্দাহ হতে নির্গত। মহান আল্লাহ পাক উনার (غَفَّارٌ) গফফার, (سَتَّارٌ) সাত্তার, (جَبَّارٌ) জাব্বার ইত্যাদি সিফতী নাম মুবারক উনাদের ন্যায় এই (سَفَّاحٌ) সাফফাহ শব্দ মুবারকখানাও আধিক্যের অর্থ প্রদান করবে। অর্থাৎ (غَفَّارٌ) গফফার অর্থ যেমন সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল। যাঁর উপর আর কোন ক্ষমাশীল নেই। তেমনিভাবে (سَفَّاحٌ) সাফফাহ অর্থ হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ মুুক্তিদানকারী। যাঁর উপর আর কোন মুক্তিদানকারী নেই। অর্থাৎ তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পরে সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিদানকারী। (সুবহানাল্লাহ) অনুরূপভাবে অন্যান্য অর্থ মুবারকগুলো হবে।

আস সাফফাহ (اَلسَّفَّاحُ) লক্বব মুবারক উনার শাব্দিক অর্থ :

বিশ্বখ্যাত আরবী অভিধান ‘লিসানুল আরব’-এ এসেছে, অধিক খুন বা রক্ত বহানেওয়ালা, অধিক দানশীল, সর্বাধিক বিশুদ্ধভাষী, সর্বোত্তম বাক্যালাপকারী বা সর্বোত্তম নছীহতকারী। (লিসানুল আরব ৪র্থ খ- ২০২৩ পৃষ্ঠা)

বিশ্বখ্যাত আরবী অভিধান ‘তাজুল আরূস মিন যাওয়াহিরিল ক্বামূস’-এ এসেছে, সর্বাধিক বিশুদ্ধভাষী, অধিক দানশীল, সর্বোত্তম বাক্যালাপকারী বা সর্বোত্তম নছীহতকারী। (তাজুল আরূস মিন যাওয়াহিরিল ক্বামূস ২/১৬৪)

মাসঊদ প্রণীত বিশ্বখ্যাত আরবী অভিধান ‘আর রইদ’-এ এসেছে, অধিক খুন বা রক্ত বহানেওয়ালা, অধিক দানশীল, সর্বাধিক বিশুদ্ধভাষী, সর্বোত্তম বাক্যালাপকারী বা সর্বোত্তম নছীহতকারী। (আর রইদ ৪৪২ নং পৃষ্ঠা)

এছাড়াও আছ ছিহাহ ফিল লুগাহ, আল ক্বামূসুল মুহীত, আল মুহীতুল আ’যম, তাহযীবুল লুগাহ, মুখতারুছ ছিহাহ, তাজুল লুগাহ, আল মুহীত ফিল লুগাহ এবং আরো অন্যান্য বিশ্বখ্যাত আরবী অভিধানগুলোতে ‘আস সাফফাহ’ লক্বব মুবারক উনার অনুরূপ অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে। আরো উল্লেখ্য যে, বিশ্বখ্যাত প্রতিটি আরবী অভিধানেই ‘আস সাফফাহ’ লক্বব মুবারক উনার অনেক সুন্দর সুন্দর অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে এবং কোথাও এই নিয়মের ব্যতিক্রমটি ঘটেনি। আর তা কেউ আদৌ দেখাতেও পারবে না ।

বিশ্বখ্যাত অভিধান ‘ফীরূযুল লুগাত’-এ এসেছে, অধিক খুন বা রক্ত বহানেওয়ালা, সর্বশ্রেষ্ঠ আযাদদানকারী বা মুক্তিদানকারী, পরম বিশুদ্ধভাষী, অপরিসীম ফায়িযদানকারী, বেমেছাল ইছলাহদানকারী, অসীম দাতা। (ফীরূযুল লুগাত, আরবী-উর্দূ, পৃষ্ঠা ৮৮০)

‘আল মুনজিদ’-এ এসেছে, অধিক খুন বা রক্ত বহানেওয়ালা, বড়দাতা, বড় উদার, সুবক্তা তথা সর্বোত্তম ওয়ায়িজ বা নছীহতকারী, সর্বোত্তম ব্যাখ্যা বিশ্লেষণকারী, সর্বোত্তম বর্ণনাকারী, মিষ্টভাষী বা বিশুদ্ধভাষী। (আল মুনজিদ, আরবী-উর্দূ, পৃষ্ঠা ৪৭৬)

‘মিছবাহুল লুগাত’-এ এসেছে, অধিক খুন বা রক্ত বহানেওয়ালা, প্রচুর দানকারী বা অসীম দাতা, সর্বোত্তম বিশুদ্ধভাষী। (মিছবাহুল লুগাত, আরবী-উর্দূ, পৃষ্ঠা ৫৬৪)

হযরত হাফিয আবুল ফিদা আল্লামা ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাফফাহ এই অর্থে যে, ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি অকাতরে রক্তপাত ঘটাবেন বা রক্ত প্রবাহিত করবেন। (বিদায়া-নিহায়া ৬/২৪৮; বিদায়া-নিহায়া, অনুবাদ : ইসলামী ফাউন্ডেশন ৬/৩৬৮)

এছাড়া এই শব্দ মুবারকখানা ইসলাম ও মুসলমান উনাদের শত্রু, কাফির-মুশরিক, ইহুদী-নাছারা, মুনাফিক্ব¡ ও উলামায়ে সূ’দেরকে ধ্বংসকারী, নাহক্বকে নিশ্চিহ্নকারী, তাগুতী শক্তিকে বিলীনকারী, অসীম ইলম মুবারক উনার অধিকারী, পূত-পবিত্র, বিশুদ্ধ, সর্বোত্তম ও সুমহান চরিত্র মুবারক উনার অধিকারী, মহান আল্লাহ পাক উনার গুণে গুণান্বিত হয়ে কথা মুবারক বলনেওয়ালা, অনুসরণীয়, উসওয়াতুন হাসানাহ, পবিত্র অর্থাৎ নূরে মুকাররাম, নূরে মুয়াযযাম ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়। (সুবহানাল্লাহ)

সুতরাং আস সাফফাহ (اَلسَّفَّاحُ) লক্বব মুবারক উনার অর্থ হচ্ছে-

১. অধিক খুন বা রক্ত বহানেওয়ালা,

২. সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিদানকারী,

৩. মুক্তির দিশারী,

৪. সর্বশ্রেষ্ঠ আযাদদানকারী,

৫. অসীম দাতা,

৬. বড় উদার,

৭. অসীম ইলম মুবারক উনার অধিকারী,

৮. সুবক্তা,

৯. সর্বোত্তম ওয়ায়িজ,

১০. সর্বশ্রেষ্ঠ নছীহতকারী,

১১. সর্বোত্তম ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকারী,

১২. সর্বোত্তম বর্ণনাকারী,

১৩. মিষ্টভাষী,

১৪. বিশুদ্ধভাষী,

১৫. বাগ্মী,

১৬. সাখী বা সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল,

১৭. কাফির-মুশরিক, ইহুদী-নাছারা, গুমরাহ, মুনাফিক্ব¡ ও উলামায়ে সূ’দেরকে ধ্বংসকারী,

১৮. নাহক্বকে নিশ্চিহ্নকারী,

১৯. তাগুতী শক্তিকে বিলীনকারী,

২০. বিশুদ্ধ,

২১. খাঁটি,

২২. পূত-পবিত্র,

২৩. সর্বোত্তম ও সুমহান চরিত্র মুবারক উনার অধিকারী,

২৪. অনুসরণীয়,

২৫. উসওয়াতুন হাসানাহ,

২৬. পবিত্র অর্থাৎ নূরে মুকাররাম, নূরে মুয়ায্যাম,

২৭. মহান আল্লাহ পাক উনার গুণে গুণান্বিত হয়ে কথা মুবারক বলনেওয়ালা,

২৮. সাখী বা হাবীবুল্লাহ,

২৯. অপরিসীম ফায়িযদানকারী,

৩০. বেমেছাল ইছলাহদানকারী ইত্যাদি। (সুবহানাল্লাহ)

 

মীর মুহম্মদ ছাবের আলী

বায়তুল মোকাররম মার্কেট, ঢাকা

মুহম্মদ হাবীবুর রহমান, সংসদ ভবন, ঢাকা

মুহম্মদ জুনাইদ, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

সুওয়াল: বর্তমানে মসজিদের ভিতরে চেয়ারে বসে নামায আদায় করার ব্যাপারে তীব্র মতভেদ দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, মসজিদের ভিতরে চেয়ারে বসে নামায আদায় করা জায়িয নেই। আবার কেউ বলছে জায়িয। উভয়েই পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও ফিক্বাহের কিতাব থেকে দলীল দিয়ে থাকে।

এখন আমরা কোনটা গ্রহণ করবো? বহুল প্রচারিত দলীলভিত্তিক মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এ এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সঠিক ফায়সালা তুলে ধরলে সাধারণ মুসলমানগণ উপকৃত হতো।

জাওয়াব: পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে মসজিদের ভিতরে বা মসজিদের বাহিরে চেয়ারে বসে নামায আদায় করার সঠিক ফায়ছালা হচ্ছে, মসজিদের ভিতরে হোক অথবা মসজিদের বাহিরে হোক, দাঁড়াতে সক্ষম হোক  অথবা দাঁড়াতে অক্ষম হোক, প্রত্যেক অবস্থাতেই চেয়ার, টেবিল, টুল, বেঞ্চ অথবা অনুরূপ (পা ঝুলে থাকে এমন) কোন আসনে বসে নামায আদায় করা কাট্টা হারাম, নাজায়িয ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ এবং নামায বাতিল হওয়ার কারণ। এটাই ছহীহ, দলীলভিত্তিক ও গ্রহণযোগ্য ফতওয়া। এর খিলাফ কোন ফতওয়াই ছহীহ নয়, দলীলভিত্তিকও নয় এবং গ্রহণযোগ্যও নয়।

আমরা ধারাবাহিকভাবে উল্লিখিত বিষয়ে দলীল-আদিল্লাহ পেশ করার পাশাপাশি যারা চেয়ার, টেবিল, টুল ও বেঞ্চে বসে নামায পড়াকে জায়িয বলে, তাদের সে সমস্ত বক্তব্যগুলো নির্ভরযোগ্য দলীল দ্বারা খণ্ডন করবো। ইন্শাআল্লাহ!

উল্লেখ্য যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, তাবিয়ীন, তাবি-তাবিয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কেউই অসুস্থ অবস্থাতেও কখনো চেয়ারে বসে নামায পড়েছেন এরূপ কোন প্রমাণ পাওয়া যায়না। অথচ পবিত্র নামাযসহ প্রতিটি ইবাদতের ক্ষেত্রেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে উত্তম আদর্শ মুবারক রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لقد كان لكم فى رسول الله اسوة حسنة

অর্থ: “অবশ্যই তোমাদের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছে উত্তম আদর্শ মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২১)

আর তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিহ্্হাতী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় (সুস্থাবস্থায়) কিভাবে পবিত্র নামায আদায় করেছেন তা যেরূপ সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, তদ্রƒপ মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় (অসুস্থাবস্থায়) কিভাবে পবিত্র নামায আদায় করেছেন তাও সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে চেয়ারে বসে নামায পড়ার বিষয়ে এত মতভেদের কি কারণ থাকতে পারে? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় (অসুস্থাবস্থায়) কিভাবে পবিত্র নামায আদায় করেছেন, সেটা দেখলেই তো সমস্ত মতভেদ দূরীভূত হয়ে যায়।

যেমন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে   ইরশাদ মুবারক হয়েছে যে-

عن حضرت مالك بن الحويرث رضى الله تعالى عنه قال قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلوا كما رأيتمونى اصلى

অর্থ: “হযরত মালিক ইবনে হুয়াইরিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে বলেন, “তোমরা ঐভাবে নামায পড়ো, যেভাবে আমাকে নামায পড়তে দেখেছো।” (বুখারী শরীফ,  মুসলিম শরীফ,  মিশকাত শরীফ)

তাই এখন আমরা দেখবো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মারীদ্বি শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় (অসুস্থাবস্থায়) কিভাবে পবিত্র নামায আদায় করেছেন।

যেমন, ছহীহ “আবূ দাউদ শরীফ” কিতাবের  ১ম খণ্ডের ৮৯ পৃষ্ঠার ৬নং হাশিয়ায় উল্লেখ আছে-

ان النبى صلى الله عليه وسلم صلى فى مرض وفاته بعد هذا قاعد وابو بكر الصديق عليه السلام والناس خلفه قياما كما اخرج البخارى ومسلم و غيرهم

অর্থ: “নিশ্চয়ই  নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে মারীদ্বি  (অসুস্থতা) শান মুবারক প্রকাশ করার পর বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, উক্ত মারীদ্বি শান মুবারকে তিনি  যমীনে বসেই পবিত্র নামায মুবারক আদায় করেছেন।” আর হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম এবং অন্যান্য  মুক্তাদীগণ উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিছনে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছিলেন। যেমন,  বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ ও অন্যান্য কিতাবসমূহে উল্লেখ আছে।”

“আবূ দাউদ শরীফ” কিতাবের  ১ম খণ্ডের ৮৯ পৃষ্ঠার ৬নং হাশিয়ায় আরো উল্লেখ আছে-

وفيه فكان حضرت ابو بكر الصديق عليه السلام يصلى قائما وكان صلى الله عليه وسلم يصلى قائدا يقتدى ابو بكر الصديق عليه السلام بصلوة رسول الله صلى الله عليه وسلم

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (উনার মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় (অসুস্থাবস্থায়) হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করে  দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছিলেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি  যমীনে বসে সম্মানিত ইমাম হিসেবে পবিত্র নামায পড়তে লাগলেন। অর্থাৎ হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নামাযের ইকতিদা করলেন এবং লোকজন হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র নামাযের ইকতিদা বা অনুসরণ করলেন।”

“আবূ দাউদ শরীফ” কিতাবের  ১ম খণ্ডের ৮৯ পৃষ্ঠার ৬নং হাশিয়ায়  আরো উল্লেখ আছে-

هو فى مرضه القديم ثم صلى بعد ذلك النبى صلى الله عليه وسلم جالسا والناس خلفه قياما

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বের মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করার পর (অসুস্থাবস্থায়) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি  যমীনে বসেই পবিত্র নামায আদায় করেছেন। আর অন্যান্য মুক্তাদীগণ উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিছনে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করেছেন।”

“আওনুল মা’বূদ” কিতাবের  ১ম খণ্ডের ২৩৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

عَنْ ام الـمؤمنين حضرت عَائِشَةَ الصديقة عليها السلام، حديث صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم اخر ماصلاها بالناس وهو قاعد  والناس خلفه قيام وفى اخرالحديث فاقامه فى مقامه وجعله عن يمينه فقعد رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فكبر بالناس فجعل حضرت ابو بكرٍ عليه السلام يكبر بتكبيره والناس يكبرون بتكبير حضرت أَيى بَكْرٍ عليه السلام  بيان واضح ان الامام فى هذه الصلاة رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وقد صلى قاعدا والناس من خلفه قيام وهى اخر صلاة صلاها بالناس.

অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মারীদ্বি  (অসুস্থতা) শান মুবারক প্রকাশের পর, উনার শেষ নামায সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে যে, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনের উপর বসে সম্মানিত ইমাম হিসেবে লোকজনদেরকে নিয়ে নামায পড়ছেনে। আর লোকজন উনার পছিনে  দাঁড়িয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নামাযের ইকতিদা করছেনে।” উক্ত হাদীছ শরীফ উনার শেষ বর্ণনার মধ্যে এটাও রয়েছে যে অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে স্বস্থানে থাকার জন্য ইঙ্গিত মুবারক করলেন। এবং মসজিদে প্রবেশ করে, হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে উনার ডান দিকে রেখে অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনের উপর বসলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনরে উপর বসে সম্মানিত ইমাম হিসেবে লোকজনদরেকে নিয়ে পবিত্র নামায উনার তাকবীর বললেন। আর হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি মুক্তাদীদের শুনিয়ে উচ্চস্বরে তাকবীর বলেন।  আর লোকজন উনারা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার তাকবীরকে অনুসরণ করে তাকবীর বলেন। আর ইহা সুষ্পষ্ট বর্ণনা যে, প্রকৃতপক্ষে সম্মানিত ইমাম ছলিনে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মারীদ্বি  (অসুস্থতা) শান মুবারক প্রকাশের পর যমীনের উপর বসেই নামায পড়েছেন। আর লোকজন উনার পিছনে দাঁড়িয়ে উনার পবিত্র নামাযের ইকতিদা করেছেন।” এটাই ছিল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শেষ নামায যা তিনি যমীনের উপর বসে সম্মানিত ইমাম হিসেবে লোকজনদেরকে নিয়ে নামায পড়েছেন

“আওনুল মা’বূদ” কিতাবের  ১ম খন্ডের ২৩৪ পৃষ্ঠায়  আরো উল্লেখ আছে-

عَنْ ام الـمؤمنين حضرت عَائِشَة الصديقة عليها السلام قالت لـما ثقل رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وذكر الحديث قالت فجاء رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حتى جلس عن يسار حضرت ابى بكرٍ عليه السلام فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلى بالناس جالسا وحضرت ابو بكرٍ عليه السلام قائما يقتدى به والناس يقتدون بابى بكر  عليه السلام

অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে) যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মারীদ্বি  (অসুস্থতা) শান মুবারক  বেড়ে গেল, তখন বর্ণিত হাদীছ শরীফ উল্লেখ করে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (দুইজন ব্যক্তির কাঁধে ভর করে)  মসজিদে প্রবেশ করে, হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার পাশে বাম দিকে যমীনের উপর বসলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনের উপর বসে সম্মানিত ইমাম হিসেবে লোকজনদেরকে নিয়ে নামায পড়তে লাগলেন। আর হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি দাঁড়িয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নামাযের ইকতিদা করলেন আর লোকজন হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে অনুসরণ করলেন। ”

অতএব, উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বর্ণনা থেকে সুস্পষ্টভাবে এটাই প্রমানিত হলো যে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মারীদ্বি (অসুস্থতা) শান মুবারক প্রকাশকালে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে যমীনে বসেই পবিত্র নামায আদায় করেছেন।

 

খাজা মুহম্মদ আবূ সাঈদ মানিক

সিরাজগঞ্জ

 

সুওয়াল: আমরা জানি, ছেলে সন্তান জন্ম নিলে আযান দিতে হয়। নামাযের সময় যেমন আযান হয় ঐরূপ না কি কোন অংশ বাদ দিতে হয়?

জাওয়াব: শুধু ছেলে সন্তান জন্মগ্রহণ করলে আযান দিতে হয়; এ কথা শুদ্ধ নয়। বরং ছেলে সন্তান ও মেয়ে সন্তান প্রত্যেকের জন্মগ্রহণের পর নাড়ী কেটে, গোসল করিয়ে তারপর ডান কানে আযান ও বাম কানে ইক্বামত বলতে হয়।

সন্তান দুনিয়ায় আগমনের পরমুহূর্তে তার নিকট তার যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার মহিমা এবং উনার যিনি শ্রেষ্ঠতম নবী ও রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহিমা ঘোষণা করার উদ্দেশ্যেই আযান ও ইক্বামত বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুনিয়ায় এসেই শিশুর কানে মহান আল্লাহ পাক উনার তাওহীদ মুবারক ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রিসালাত মুবারক ধ্বণিত হলো যাতে করে দুনিয়ায় অবস্থানকালে এবং দুনিয়া হতে বিদায়গ্রহণকালে সর্ব অবস্থায় তার মুখে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নাম মুবারক ও উনাদের ছানা ছিফত মুবারক উচ্চারিত হয়। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুবারক নামে বান্দা ও উম্মতের জীবনের সূচনা এবং উনাদের মুবারক নামেই জীবনের অবসান এটাই ইসলামী বা মুলমানী জিন্দেগীর রূপরেখা।

ক্বীমিয়ায়ে সাআদাত কিতাবে শিশু সন্তানের কানে আযান ও ইক্বামত বলার ফায়দা সম্পর্কে আরো বর্ণিত রয়েছে যে, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, শিশুরা সাধারণত রোগ প্রবণ হয়ে থাকে। তাদের কানে আযান ও ইক্বামত বলা হলে উনাদের বরকতে তাদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতে তারা নানারকম রোগ-বিমারী হতে নিরাপদ থাকে। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য, শিশু সন্তানের কানে যে আযান-ইক্বামত বলা হয় এটাকে তা’যীন বলে। এ আযান-ইক্বামত উনাদের কালাম বা বাক্যসমূহ আর সম্মানিত নামায উনার আযান ও ইক্বামত উনাদের কালাম বা বাক্যসমূহের মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। যেমন এ আযানের বাক্যসমূহ ফজরের আযানের মতো না হয়ে অন্যান্য ওয়াক্তের আযানের বাক্যসমূহের ন্যায় হবে। আর এ ইক্বামত উনার মধ্যে “ক্বদ ক্বামাতিছ ছলাহ” বলতে হবে না। তদ্রূপ বলার ক্ষেত্রেও কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ সম্মানিত নামায উনার আযান ও ইক্বামত যেভাবে উচ্চস্বরে দিতে হয় সেভাবে উচ্চস্বরে সন্তানের কানে আযান ও ইক্বামত বলতে হয় না। বরং স্বাভাবিক ও অল্প স্বরে আযান ও ইক্বামত বলতে হবে। আযান উনার বাক্যসমূহ ইক্বামত অপেক্ষা কিছুটা দীর্ঘ ও স্বাভাবিক স্বরে বলতে হবে যেনো আযান ও ইক্বামত উনাদের মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায়।

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল ও জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব