সুওয়াল-জাওয়াব

সংখ্যা: ২১৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ বেলাল হুসাইন, বাংলা বাজার, ঢাকা

মুহম্মদ হাবীবুর রহমান, কাকরাইল, ঢাকা

মুহম্মদ আরিফুর রহমান, মগবাজার, ঢাকা

মুহম্মদ ছাবের আলী, বাইতুল মোকাররম, ঢাকা

মুহম্মদ জুনাইদ, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

 

সুওয়াল: আমরা জানি, শরীয়তে ছবি তোলা হারাম ও কবীরা গুনাহ এবং বেপর্দা হওয়াও হারাম ও কবীরা গুনাহ। কিন্তু বর্তমানে পুরুষ ও মহিলাকে হজ্জের ফরযটি পালন করতে হলে বিশেষ করে ছবি ও বেপর্দা এ দু’টি হারাম ও কবীরা গুনাহর সম্মুখীন হতে হয়। এমতাবস্থায় হজ্জ করার ক্ষেত্রে শরীয়তের কি হুকুম? দলীল-আদিল্লাহ সহকারে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: হজ্জ করা প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

اتـموا الحج والعمرة لله

অর্থ: “আল্লাহ পাক উনার জন্যেই তোমরা হজ্জ ও উমরাহ আদায় কর বা পূর্ণ কর।” (সূরা বাক্বারা: আয়াত শরীফ ১৯৬)

এ আয়াত শরীফে আল্লাহ পাক তিনি বান্দাকে শুধুমাত্র আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি হাছিলের উদ্দেশ্যে হজ্জ ও উমরাহ করার জন্য আদেশ করেছেন। আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে যেমন- আনন্দ ভ্রমণ, ভিক্ষাবৃত্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সুনাম-সুক্ষাতি, রিয়া বা লৌকিকতা এক কথায় গইরুল্লাহ’র উদ্দেশ্যে হজ্জ ও উমরাহ করতে নিষেধ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

عن حضرت انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ياتى على الناس زمان يحج الاغنياء للنـزاهة و اوسطهم للتجارة وفقرائهم للمسئلة وعلمائهم للسمعة والرياء

অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, মানুষের উপর এমন একটা যামানা বা সময় আসবে সেসময় ধনী ব্যক্তিরা হজ্জ করবে আনন্দ ভ্রমনের জন্য, মধ্যবৃত্ত ব্যক্তিরা হজ্জ করবে ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে, দরিদ্ররা হজ্জ করবে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে এবং আলিম নামধারীরা হজ্জ করবে সুনাম অর্জন ও  রিয়া বা লৌকিকতার উদ্দেশ্যে।”

আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ করেন-

ولله على الناس حج البيت من استطاع اليه سبيلا

অর্থ: “আল্লাহ পাক উনার জন্যেই মানুষের প্রতি হজ্জ করা ফরয- যার পথের সামর্থ ও নিরাপত্তা রয়েছে।” (সূরা আল ইমরান: আয়াত শরীফ ৯৭)

অর্থাৎ, যার পথের  সামর্থ ও নিরাপত্তা নেই তার প্রতি হজ্জ ফরয নয়। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

عن حضرت ابى امامة رضى الله تعالى عنه قال قال النبى صلى الله عليه وسلم من لـم يـمنعه من الحج حاجة ظاهرة او سلطان جابر او مرض حابس

অর্থাৎ: “হযরত আবূ উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, কোন ব্যক্তির হজ্জ ফরয হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধকারী বিষয় হচ্ছে, প্রকাশ্য বাধা অথবা অত্যাচারী শাসক অথবা গুরুতর অসুখ।” (মাছাবীহুস সুন্নাহ, দারিমী, মিশকাত, মিরকাত)।

অর্থাৎ, কোন ব্যক্তির হজ্জ করার ক্ষেত্রে শরয়ী প্রকাশ্য কোন বাধা থাকলে অথবা অত্যাচারী শাসকের কারণে জান-মাল, ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা না থাকলে অথবা কঠিন অসুস্থতা থাকলে তার উপর হজ্জ ফরয হওয়া সত্ত্বেও তা সাকিত বা রহিত হয়ে যাবে।

উল্লিখিত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয়েছে যে, “প্রত্যেক স্বাধীন, বালেগ, সুস্থ, দৃষ্টি শক্তি সম্পন্ন মুসলমানের যদি সাংসারিক প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর হজ্জে যাওয়া ও ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের অতিরিক্ত সম্বল ও পাথেয় থাকে, যানবাহনের সুষ্ঠ ব্যবস্থা থাকে এবং জান,মাল, ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা থাকে, তবে তার প্রতি জীবনে একবার হজ্জ করা ফরয। মহিলাদের জন্য স্বামী অথবা কোন সৎচরিত্রবান মাহরাম সঙ্গে থাকতে হবে।”

প্রতিভাত হলো, গোলাম, নাবালেগ, অসুস্থ, অন্ধ ও অমুসলমানের উপর হজ্জ ফরয নয়। আবার যাদের সাংসারিক প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর হজ্জে যাওয়া ও ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের অতিরিক্ত সম্বল ও পাথেয় নেই, যানবাহনের সুষ্ঠ ব্যবস্থা নেই, তাদের উপরও হজ্জ ফরয নয়। একইভাবে যাদের হজ্জের পথে প্রাণ নাশের আশংকা রয়েছে,মাল ছিনতাইয়ের ভয় রয়েছে, ঈমান ও আমল নষ্ট হওয়ার অর্থাৎ কোন কুফরী ও হারাম কাজ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের উপরও হজ্জ ফরয নয়। আর মহিলাদের যদি স্বামী অথবা কোন সৎচরিত্রবান মাহরাম না থাকে তবে তাদের উপর হজ্জ ফরয হবে না।

শরীয়ত যার উপর হজ্জ ফরয করেনি তারপরও যদি সে হজ্জ করে আর তা করতে গিয়ে হজ্জের শর্ত বা ফরয লঙ্ঘন করে তাহলে সে কবীরা গুণাহে গুণাহগার হবে।

যেমন কোন ব্যক্তির সাংসারিক প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর হজ্জে যাওয়া ও ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের অতিরিক্ত সম্বল ও পাথেয় নেই অথচ হজ্জ করতে গেল। এদিকে পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের কষ্টের জন্য সে ব্যক্তির কবীরা গুণাহ হবে।

আবার যে ব্যক্তির প্রাণ নাশের আশঙ্কা রয়েছে এটা জানা সত্বেও সে যদি হজ্জে রওয়ানা করে এবং পথে তাকে হত্যা করা হয়, এজন্য সে আত্মহত্যার গুণাহে গুণাহগার হবে।

আবার যে ব্যক্তির মাল ছিনতাইয়ের ভয় রয়েছে এটা জানা সত্বেও সে যদি হজ্জে রওয়ানা করে এবং তার মাল ছিনতাই হয়ে যায়। এজন্য সেই উক্ত অপরাধের জন্য দায়ী হবে।

একইভাবে যাদের ঈমান ও আমল নষ্ট হওয়ার অর্থাৎ কোন কুফরী ও হারাম কাজ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এটা জানা সত্বেও তারা যদি হজ্জে রওয়ানা করে এবং তাদের দ্বারা কুফরী ও হারাম কাজ সংঘটিত হয় তাহলে এজন্য তাদের কুফরী ও কবীরা গুণাহ হবে।

অনুরূপ মহিলাদের সাথে স্বামী কিংবা কোন সৎচরিত্রবান মাহরাম পুরুষ সঙ্গে না নিয়ে তারা যদি হজ্জে রওয়ানা করে এবং পথে কোন অশালীন কাজ সংঘটিত হয়। এজন্য তারাই কঠিন গুণাহে গুণাহগার হবে।

তাই হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য উল্লিখিত সকল প্রকার কবীরা ও কুফরী গুণাহ থেকে বেঁচে থাকা শর্ত করা হয়েছে। এ মর্মে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাক-এ ইরশাদ করে জানিয়ে দিয়েছেন-

فمن فرض فيهن الحج فلا رفث ولا فسوق ولا جدال فى الحج وما تفعلوا من خير يعلمه الله وتزودوا فان خير الزاد التقوى واتقون ياولى الالباب.

অর্থ: “যে ব্যক্তির প্রতি হজ্জ ফরয সে যেন হজ্জ পালনের ক্ষেত্রে নির্জন অবস্থান ও তার সংশ্লিষ্ট কোন কাজ না করে এবং কোন প্রকার ফাসিকী বা নাফরমানীমুলক কাজ না করে এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। আর তোমরা যে নেক কাজ কর তা মহান আল্লাহ পাক জানেন। তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর। নিশ্চয়ই উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাক্বওয়া।” (সূরা বাক্বারা: আয়াত শরীফ ১৯৭)

উল্লেখ্য, ছবি তোলা এবং পর্দা তরক করা আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রকাশ্য নাফরমানী।

এ সম্পর্কে বহু হাদীছ শরীফ ইরশাদ হয়েছে, তারমধ্যে জরুরত আন্দাজ কতিপয় হাদীছ শরীফ এখানে উল্লেখ করা হলো-

قال حدثنا حضرت الاعمش رضى الله تعالى عنه عن حضرت مسلم رضى الله تعالى عنه قال كنا مع حضرت مسروق رضى الله تعالى عنه فى دار حضرت يسار بن نمير رضى الله تعالى عنه فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت حضرت عبد الله رضى الله تعالى عنه قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থ: “হযরত আ’মাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত মুসলিম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গে হযরত ইয়াসার ইবনে নুমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার নিকট শুনেছি, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “নিশ্চয় মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ্ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

عن حضرت عبد الله بن عمر رضى الله تعالى عنه اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الذين يصنعون هذه الصور يعذبون يوم القيمة يقال لهم احيوا ما خلقتم.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যারা প্রাণীর ছবি তৈরী করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, যে ছবিগুলো তোমরা তৈরী করেছ, সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দান কর।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০, মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ২০১)

عن حضرت ام المؤمنين عائشة عليها السلام حدثته ان النبى صلى الله عليه وسلم لم يكن يترك فى بيته شيئا فيه تصاليب الا نقضه.

অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘরে প্রাণীর ছবি বা ছবিযুক্ত সকল জিনিস (থাকলে) ধ্বংস করে ফেলতেন।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ৮৮০, মিশকাত শরীফ পৃঃ ৩৮৫)

عن حضرت ابى زرعة رضى الله تعالى عنه قال دخلت مع حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه دار بالمدينة فراها فيها تصاوير وهى تبنى فقال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول يقول الله عز وجل ومن اظلم ممن ذهب يخلق خلقا كخلقى فليخلقوا ذرة او ليخلقوا حبة او ليخلقوا شعيرة.

অর্থ: হযরত আবু যুরয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গে মদীনা শরীফ-এর একটি ঘরে প্রবেশ করলাম, অতঃপর তিনি ঘরের উপরে এক ছবি অংকনকারীকে ছবি অঙ্কন করতে দেখতে পেলেন এবং বললেন, আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি তিনি  বলেন, আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি ইরশাদ করেন, মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বাধিক অত্যাচারী, যে ব্যক্তি আল্লাহ পাক উনার সাদৃশ্য কোন প্রাণীর ছূরত সৃষ্টি করে। তাকে বলা হবে একটি শস্যদানা অথবা একটি পিপিলিকা অথবা একটি যবের দানা সৃষ্টি করোতো দেখি। কিন্তু সে সেটা করতে পারবে না। (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

عن حضرت ابى حجيفة رضى الله تعالى عنه عن ابيه ان النبى صلى الله عليه وسلم نهى عن ثمن الدم وثـمن الكلب وكسب البغى ولعن اكل الربى وموكله والواشـمة والـمستوشـمة والـمصور.

অর্থ: হযরত আবু হুজায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার পিতা হতে বর্ণনা করেন। “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রক্তের দাম, ও কুকুরের দাম নিতে এবং ব্যাভিচারকারীনীর উপার্জন নিষেধ করেছেন, এবং তিনি লা’নত বা অভিসম্পাত করেছেন ওইসব লোকদের উপর যে ঘুষ খায়, যে ঘুষ দেয়, যে অংগে উলকি আঁকে এবং যে আঁকায়, আর যে ছবি অংকন করে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ৮৮১)

عن حضرت ابى معاوية رضى الله تعالى عنه ان من اشد اهل النار يوم القيمة عذابا المصورون.

অর্থ: হযরত আবূ মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। “নিশ্চয় ক্বিয়ামতের দিন দোযখবাসীদের মধ্যে ঐ ব্যক্তির কঠিন আজাব হবে, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আঁকে বা তোলে।” (মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০১)

عن حضرت سعيد رضى الله تعالى عنه قال جاء رجل الى حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه فقال انى رجل اصور هذه الصور فافتنى فيها فقال له ادن منى فدنا منه ثم قال ادن منى فدنا حتى وضع يده على راسه وقال انبئك بما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم وسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول كل مصور فى  النار يجعل له بكل صورة صورها نفسا فيعذبه فى جهنم وقال ان كنت لا بد فاعلا فاصنع الشجر وما لا نفس له.

অর্থ: হযরত সাঈদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, এক ব্যক্তি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট এসে বলল, আমি এমন এক ব্যক্তি যে প্রাণীর ছবি অংকন করি, সুতরাং এ ব্যাপারে আমাকে ফতওয়া দিন। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনাকে বললেন, তুমি আমার নিকটবর্তী হও। তিনি উনার নিকটবর্তী হলেন। পুণরায় বললেন, তুমি আরো নিকটবর্তী হও। তিনি আরো নিকটবর্তী হলেন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার মাথায় হাত মুবারক রেখে বললেন, আমি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এ ব্যাপারে যা বলতে শুনেছি তোমাকে তা বলব। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “প্রত্যেক প্রাণীর ছবি তৈরীকারীই জাহান্নামে যাবে। আর মহান আল্লাহ্ পাক তিনি প্রত্যেকটি ছবিকে প্রাণ দিবেন এবং সেই ছবিগুলো তাদেরকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে।” অত:পর হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, তোমার যদি ছবি আঁকতেই হয় তবে, গাছ-পালা বা প্রাণহীন বস্তুর ছবি আঁক। (মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০২)

عن حضرت جابر رضى الله تعالى عنه ان النبى صلى الله عليه وسلم امر عمر بن الخطاب رضى الله تعالى عنه زمن الفتح وهو بالبطحاء ان ياتى الكعبة  فيمحو كل صورة فيها فلم يدخلها النبى صلى الله عليه وسلم حتى محيت كل صورة  فيها.

অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মক্কা শরীফ বিজয়ের সময় হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে হুকুম করলেন- তিনি যেন পাথর দিয়ে ক্বাবা ঘরের সমস্ত মূর্তি বা চিত্রগুলি ধ্বংস করে দেন। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কা’বা ঘরের মূর্তি বা চিত্রগুলো ধ্বংস না করা পর্যন্ত কা’বা ঘরে প্রবেশ করলেন না। (আবু দাঊদ শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২১৯)

عن حضرت عيسى بن حميد رحمة الله عليه قال سال حضرت عقبة رحمة الله حضرت الحسن رضى الله تعالى عنه قال ان فى مسجدنا ساحة فيها تصاوير قال انحروها.

অর্থ: হযরত ঈসা ইবনে হুমাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত ওকবা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমাদের মসজিদে প্রাণীর ছবিযুক্ত একখানা কাপড় রয়েছে, এ ব্যাপারে শরীয়তের ফায়সালা কি? তখন হযরত হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, তুমি (মসজিদ থেকে) ওটা সরিয়ে ফেল। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২য় জিঃ পৃষ্ঠা ৪৬)

عن حضرت اسامة رضى الله تعالى عنه قال دخلت مع النبى صلى الله عليه وسلم الكعبة فرايت فى البيت صورة فامرنى فاتيته بدلو من الـماء فجعل يضرب  تلك  الصورة ويقول قاتل الله قوما  يصورون ما لا يخلقون.

অর্থ: হযরত উসামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে পবিত্র ক্বাবা ঘরে প্রবেশ করলাম। আমি ক্বাবা ঘরের ভিতরে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলাম। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুকুমে আমি পাত্রে করে পানি নিয়ে আসলাম। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ ছবিগুলিতে পানি নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, “আল্লাহ্ পাক তিনি ঐ গোত্রের সাথে জ্বিহাদ ঘোষণা করেছেন, যে গোত্র এরূপ প্রাণীর ছূরত তৈরী করে। যা সে তৈরী করতে অক্ষম অর্থাৎ জীবন দিতে পারেনা।” (মুছান্নেফ ইবনে আবী শায়বা ৮ম জিঃ পৃঃ২৯৬, তাহাবী ২য় জিঃ পৃঃ৩৬৩)

অনুরূপ অসংখ্য অগণিত হাদীছ শরীফ রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা রাখা ইত্যাদিকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। আর মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম উনাদের পক্ষ থেকে যা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ তাই শরীয়তে হারাম হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। আর এ কারণেই অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদগণ উনারা উনাদের কিতাবে প্রাণীর ছবি আঁকা ও তোলা উভয়কে হারাম বলে ফতওয়া দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ফখরুল মুহাদ্দিছীন, আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত ব্যাখ্যা গ্রন্থ বুখারী শরীফের শরাহ “উমদাতুল ক্বারী”-এর ২২ খ- ৭০ পৃষ্ঠায়  লিখেন-

صورة الحيوان حرام اشد التحريم وهو من الكبائر وسواء صنعه لـما يـمتهن او بغيره فحرام بكل حال.

অর্থ: “প্রাণীর ছবি তৈরী করা শক্ত হারাম ও কবীরা গুনাহ। সম্মানের জন্য তৈরী করুক অথবা অন্য কারণে, সবটার একই হুকুম। অর্থাৎ প্রত্যেক অবস্থাতেই তা হারাম।

অনুরূপভাবে পর্দা তরক করা যে স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রকাশ্য নাফরমানীর অন্তর্ভুক্ত এ সম্পর্কে বহু আয়াত শরীফ এবং হাদীছ শরীফ ইরশাদ হয়েছে। সেসব আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ থেকে কতিপয় এখানে উল্লেখ করা হলো-

قل للمؤمنين يغضوا من ابصارهم ويحفظوا فروجهم ذلك ازكى لهم ان الله خبير بما يصنعون. وقل للمؤمنت يغضضن من ابصارهن ويحفظن فروجهن ولا يبدين زينتهن.

অর্থ: “(হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি মু’মিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের ইজ্জত-আবরু হিফাযত করে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতার কারণ। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ পাক তিনি তারা যা করে তার খবর রাখেন। আর আপনি মু’মিনা নারীদেরকে বলুন, তারাও যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের ইজ্জত-আবরু হিফাযত করে ও তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।” (সূরা নূর-৩০,৩১)

হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

عن حضرت بريدة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعلى يا حضرت على رضى الله تعالى عنه لا تتبع النظرة النظرة فان لك الاولى وليست لك الاخرة.

অর্থ: “হযরত বুরাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে হযরত আলী আলাইহিস সালাম! দৃষ্টিকে অনুসরণ করবেননা। প্রথম দৃষ্টি (যা অনিচ্ছা সত্ত্বে পতিত হয় তা) ক্ষমা করা হবে; কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না।” অর্থাৎ প্রতি দৃষ্টিতে একটি কবীরা গুণাহ্ লেখা হয়ে থাকে। (আহমদ, তিরমিযী শরীফ, আবু দাঊদ শরীফ, দারিমী, মিশকাত শরীফ)

হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে-

عن حضرت حسن رحمة الله عليه مرسلا قال بلغنى ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لعن الله الناظر والـمنظور اليه.

অর্থ: “হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন, আমার নিকট এই হাদীছ শরীফ পৌছেছে, যে দেখে এবং দেখায় তার প্রতি আল্লাহ পাক উনার লা’নত।” (বাইহাক্বী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

অর্থাৎ আল্লাহ পাক উনার কালাম পাক এবং আল্লাহ্ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ দ্বারা সরাসরি পর্দাকে ফরয করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয় বরং চোখের দৃষ্টিসহ সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে হিফাযত করে পর্দা করতে বলেছেন।

গবেষণা করে দেখা গেছে যে, “প্রত্যেক মানুষ পুরুষ কিংবা মহিলা সে প্রতি দু’সেকেন্ডে পাঁচটি করে চোখের পলক বা দৃষ্টি ফেলে থাকে। সে হিসেবে প্রতি মিনিটে ১৫০টি পলক বা দৃষ্টি করে থাকে। আর ঘণ্টা হিসেবে প্রতি ঘণ্টায় ৯০০০ (নয় হাজার) পলক বা দৃষ্টি করে থাকে। সে হিসেবে বেগানা পুরুষ ও মহিলা পরস্পর পরস্পরের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার কারণে তাদের উভয়ের প্রতি এক মিনিটে তিনশ’টি এবং এক ঘণ্টায় আঠারো হাজার কবীরা গুনাহ্ লিখা হয়। এ হিসাব একজন পুরুষ ও একজন মহিলার ক্ষেত্রে। আর যদি কোন জনসমাবেশে উপস্থিত মহিলা-পুরুষের পরস্পর পরষ্পরের দৃষ্টির হিসাব করা হয় তাহলে গুনাহর পরিমাণ আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

ধরা যাক, কোন জনসমাবেশের সময় ৩ ঘণ্টা আর পুরুষ ও মহিলার সংখ্যা ১০০+ ১০০= ২০০ জন। এখন একজন পুরুষ ও একজন  মহিলা পরস্পর পরস্পরের প্রতি দৃষ্টি করার কারণে এক ঘণ্টায় আঠারো হাজার কবীরা গুনাহ  হয় তাহলে একশজন পুরুষ ও একশজন মহিলা পরস্পর পরস্পরের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার কারণে কবীরা গুনাহর পরিমাণ হবে ৩৬ লক্ষ এবং তিন ঘণ্টায় হবে  ১ কোটি ৮ লক্ষ কবীরা গুনাহ।

অথচ একজন মানুষ যদি একশ বছর হায়াত পায়। আল্লাহ পাক না করুন সে যদি  নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত (ফরয হওয়া সত্ত্বেও) কিছুই না করে তারপরও ১ কোটি ৮ লক্ষ কবীরা গুনাহ হবে না। যেমন, একশ বছরে অর্থাৎ জীবনে একবার হজ্জ করা ফরয। তা না করার কারণে ১টা কবীরা গুনাহ। যাকাত একশ বছরে একশটা ফরয। তা না দেয়ার কারণে ১০০টা কবীরা গুনাহ। রোযা ২৯ বা ৩০ টা। হিসাবের সুবিধার্থে যদি ৩০টা ধরে নেয়া হয়  তা না রাখার কারণে একশ বছরে ৩,০০০ কবীরা গুনাহ। এরপর নামায দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ৫টা, এক ওয়াক্ত ওয়াজিব ১টা, সুন্নতে মুয়াক্কাদা- ফজরের ফরযের পূর্বে ১টা, যুহরের ফরযের আগে-পরে ২টা, মাগরিবের ফরযের পর ১টা, ইশার ফরযের পর ১টা মোট ৫টা। তা আদায় না করার কারণে সবমিলে দৈনিক ১১টা কবীরা গুনাহ। বছরে  ত্রিশ তারাবীহ (সুন্নতে মুয়াক্কাদা)। তা আদায় না করার কারণে ৩০টা এবং দু’ঈদ (ওয়াজিব) তা আদায় না করার কারণে ২টা। মোট ৩২টা কবীরা গুনাহ। এক বছরে নামায- ৪,০৪৭০০, যাকাত- ১০০, রোযা- ৩০০০, হজ্জ- ১টা, সর্বমোট ৪,০৭৮০১টা।

অর্থাৎ একশ বছর কোন ব্যক্তি নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত না করলে তার সর্বোচ্চ কবীরা গুনাহর পরিমাণ হলো মাত্র ৪ লাখ ৭  হাজার আটশ’ একটা।

আর একজন পুরুষ কিংবা মহিলা যদি কোন জনসমাবেশে যোগ দেয় যে জনসমাবেশে পুরুষ বা মহিলার সংখ্যা কমপক্ষে একশ’ জন এবং সেখানে একঘণ্টা অবস্থান করে তাহলে শুধু চোখের দৃষ্টির কারণে তার কবীরা গুনাহর পরিমাণ হবে আঠারো লক্ষ। আর লোক সংখ্যা বেশি হলে এবং বেশি সময় অবস্থান  করলে কত লক্ষ-কোটি কবীরা গুনাহ হবে তা  বলার অপেক্ষা রাখে না। তাহলে পর্দার কত গুরুত্ব রয়েছে তা চিন্তা-ফিকিরের বিষয়।

কাজেই যারা হজ্জ করতে গিয়ে বেপর্দা হয়, তারা দৈনিক যে কত কোটি কোটি কবীরা গুনাহ করে থাকে তা আল্লাহ পাক তিনিই বেহ্তর জানেন।”

এটা তো শুধু চোখের গুণাহর কথা বলা হলো। তদ্রুপ প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা গুনাহ হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم العينان زناهما النظر والاذنان زناهما الاستماع واللسان زناها الكلام واليد زناها البطش والرجل زناها الخطى والقلب يهوى ويتمنى ويصدق ذلك الفرج ويكذبه.

অর্থ: “হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “চোখের ব্যভিচার হলো দৃষ্টি করা, কানের ব্যভিচার হলো শ্রবণ করা, মুখের ব্যভিচার হলো কথা বলা, হাতের ব্যভিচার হলো স্পর্শ করা, পায়ের ব্যভিচার হলো ধাবিত হওয়া, অন্তর চায় ও আকাঙ্খা করে এবং লজ্জাস্থান সেটাকে সত্য অথবা মিথ্যায় প্রতিপন্ন করে।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, কানযুল উম্মাল)

অর্থাৎ যারা বেপর্দা হয়ে থাকে হাদীছ শরীফের বর্ণনা মুতাবিক তারা সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা অবৈধ কাজ তথা ব্যভিচারে মশগুল বা লিপ্ত।

স্মরণীয় যে, হজ্জ করা যেমন আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ তদ্রুপ পর্দা করা এবং ছবি তোলা থেকে বিরত থাকাও আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ।

একটা আদেশ অমান্য করে আরেকটা মান্য করা জায়িয নেই। এ মর্মে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

افتؤمنون ببعض الكتاب وتكفرون ببعض فما جزاء من يفعل ذلك منكم الا خزى فى الحيوة الدنيا ويوم القيامة يردون الى اشد العذاب وما الله بغافل عما تعملون.

অর্থ: “তোমরা কিতাবের কিছু হুকুম মানবে আর কিছু হুকুম অমান্য করবে (তা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়)। যে ব্যক্তি এরূপ করবে তার পরিণাম হচ্ছে, সে পার্থিব জীবনে লাঞ্চিত হবে এবং পরকালে কঠিন আযাবে নিক্ষিপ্ত  হবে। আর আল্লাহ পাক তোমাদের আমল সম্পর্কে খবর রাখেন।” (সূরা বাক্বারা: আয়াত শরীফ ৮৫)

কাজেই, ছবি ও পর্দার আদেশ তরক করে যারা হজ্জ করবে তাদের সে হজ্জ কস্মিনকালেও আদায় হবে না। এটাই শরীয়ত তথা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর সঠিক ফতওয়া। যা প্রকাশ করেন “হিজরী পঞ্চদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ও ইমাম, মুজাদ্দিদ আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি।”

তিনি বলেন, পর্দাহীনতা ও ছবির প্রচলন এটা মুসলমানের ঈমান-আমল নষ্ট করার ক্ষেত্রে ইহুদী-নাছারাদের একটা বড় ষড়যন্ত্র। ইহুদী-নাছারা তথা তাবৎ কাফির ও মুশরিকরা সদা তৎপর, মুসলমানদেরকে তাদের ঈমান-আক্বীদা, আমল-আখলাক্ব বিধ্বংসী কর্মকা-ে মশগুল করে দিয়ে জাহান্নামী বানানো।

কাফির মুশরিকদের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাক-এ ঘোষণা করে দেন যাতে মুসলমানরা সাবধান, সতর্ক হতে পারে। যেমন আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

ود كثير من اهل الكتاب لو يردونكم من بعد ايمانكم كفارا حسدا من عند انفسهم

অর্থ: আহলে কিতাব তথা ইহুদী-নাছারাদের অনেকেই হিংসামূলক মনোভাবের কারণে আকাঙ্খা করে যে, ঈমান আনার পর আবার তোমরা কাফির হও। (সূরা বাক্বারা: আয়াত শরীফ ১০৯)

মুসলমানদের ঈমান-আমল নষ্ট করে মুসলমানদেরকে জাহান্নামী বানানোর ষড়যন্ত্র হিসেবে কাফির-মুশরিকরা মুসলমান নামধারী মুনাফিক উলামায়ে ছূ ও গোমরাহ শাসকদের মাধ্যমে ছবি ও বেপর্দার প্রচলন ঘটিয়েছে। এমনকি মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগীগুলো যাতে বরবাদ হয় সেক্ষেত্রেও তারা তাদের ষড়যন্ত্রগুলো কাজে লাগিয়ে থাকে। বিশেষ করে ছবি ও বেপর্দা এ বিষয় দু’টি এমন বিষয় যে বিষয় দু’টি মুসলমানদেরকে জাহান্নামী করার জন্য যথেষ্ট। নাঊযুবিল্লাহ! কারণ হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, বেহেশতের দরজায় লেখা রয়েছে-

الديوث لا يدخل الجنة

অর্থ: দাইয়ূছ অর্থাৎ যে পুরুষ কিংবা মহিলা নিজে পর্দা করে না এবং তার অধিনস্তদেরকে পর্দা করায় না সে বেহেশতে প্রবেশ করবে না। (মুসনাদে আহমদ)

একইভাবে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

كل مصور فى النار

অর্থ: প্রত্যেক ছবি তোলনেওয়ালা বা তোলানেওয়ালা জাহান্নামী। (মুসলিম শরীফ)

এখন মুসলমান নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি যত ইবাদত-বন্দেগী বা আমলই করুক তাকে যদি দাইয়ূছ ও মুছাওয়ির অর্থাৎ ছবি তুলনেওয়ালা বা তোলানেওয়ালা বানানো যায় তাহলে তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেল। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ইবলীস শয়তান যেভাবে সফল একইভাবে ইবলীসের দোসর তাবৎ কাফির-মুশরিকরাও সফল। নাঊযুবিল্লাহ!

তাই মুসলমানকে জাহান্নামী করার জন্য কাফির-মুশরিকরা উল্লেখযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে ছবি ও বেপর্দা এ বিষয় দু’টিকে বেছে নিয়েছে আর মুসলমানরা তাদের সেই ষড়যন্ত্রের জালে পা দিয়ে জাহান্নামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

এখন কেউ বলতে পারে, ছবি ও বেপর্দার কারণে তাহলে কি হজ্জ করা বন্ধ থাকবে? এর জাওয়াবে বলতে হয় যে, হ্যাঁ, হজ্জ ফরয হলে তো অবশ্যই করতে হবে। সেজন্য যে দেশে হজ্জের জন্য ছবি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সে দেশের সরকারকে বলতে হবে, তিনি যেন ছবি ব্যতীত হজ্জে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এবং বিশেষ করে সউদী সরকারকে বলতে হবে, তিনি যেন ছবি ব্যতীত এবং মহিলাদের পর্দার সহিত হজ্জ করার সুষ্ঠু ব্যবস্থা করে দেন। আর মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফে স্থাপিত সি সি ক্যামেরা ও টিভি সরিয়ে ফেলেন। কারণ এসব হজ্জ পালন করার ক্ষেত্রে সর্বোপরি হজ্জে মাবরূর (মক্ববুল) হওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায়।

যদি দেশের সরকার এবং সউদী সরকার ছবির ব্যবস্থা তুলে না নেন এবং পর্দার সাথে হজ্জ করার সুষ্ঠু ব্যবস্থা না করেন তাহলে তারা হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত সুলতানে জায়ির বা অত্যাচারী শাসক হিসেবে গণ্য হবেন। আর তাদের আমলটা হবে হাদীছ শরীফ অনুযায়ী হাজতে যাহিরা বা হজ্জের নিষেধকারী প্রকাশ্য বাধা যা বর্তমান থাকলে হজ্জের ফরয  সাকিত বা রহিত হয়ে যায়। যেরূপ মহিলাদের হজ্জ ফরয হওয়ার সমস্ত শর্ত থাকার পরও শুধুমাত্র স্বামী কিংবা সৎচরিত্রবান কোন মাহরাম পুরুষ না থাকার কারণে তাদের উপর হজ্জের ফরয সাকিত বা রহিত হয়ে যায়।

প্রতিভাত হলো যে, শুধু টাকা-পয়সা থাকলেই হজ্জ ফরয হয় না। বরং হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য যেমন যাতায়াতের সামর্থ থাকা শর্ত তেমনি শর্ত হচ্ছে জান-মাল, ইজ্জত, ঈমান ও আমলের নিরাপত্তার।

এখন কেউ যদি সত্যিই আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্যেই হজ্জ করতে চায় তাহলে তাকে উল্লিখিত শর্ত মুতাবিক হজ্জ করতে হবে। আর যদি কেউ গইরুল্লাহ’র উদ্দেশ্যে বা আলহাজ্জ ও হাজী খিতাব লাভের উদ্দেশ্যে হজ্জ করতে চায় তবে তার মাসয়ালা আলাদা।

উল্লেখ্য, হজ্জের জন্য যখন ছবি তুলতে বাধ্য হতে হয় এবং ছবি তোলার কারণে মহিলাদের পর্দা তরক  হয় এছাড়া সউদী ওহাবী সরকারের মদদে মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ-এ হজ্জের স্থানসমূহে শত শত সিসি টিভি ও ক্যামেরা স্থাপন করে কোটি কোটি ছবি তোলা হয় এবং পর্দার প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে পুরুষ-মহিলা উভয়ের পর্দা নষ্ট করা হয় তখন এ অবস্থায় কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর নির্দেশ মুতাবিক মুসলমানদের জন্য কি করণীয় তা ছহীহ মুসলিম শরীফ-এ বর্ণিত হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-

من را منكم منكرا فليغيره بيده فان لـم يستطع فبلسانه فان لـم يستطع فبقلبه وذلك اضعف الايمان. وفى رواية ليس وراء ذلك من الايمان حبة خردل.

অর্থ: “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন অন্যায় বা হারাম কাজ সংঘটিত হতে দেখে সে যেনো তা হাত দ্বারা বাধা দেয়। যদি সে তা হাত দ্বারা বাধা দিতে না পারে তাহলে সে যেনো যবান দ্বারা বাধা দেয়। যদি যবানের দ্বারাও বাধা দিতে না পারে তাহলে যেনো অন্তরে তা ঘৃণা করে উক্ত অন্যায় বা হারাম কাজ থেকে দূরে সরে থাকে। আর এটা সবচেয়ে দুর্বল ঈমানের পরিচয়।” অন্য বর্ণনায় এসেছে,  এরপর ঈমানের আর সরিষা পরিমাণ অংশও অবশিষ্ট থাকে না।”

অর্থাৎ প্রথমতঃ হাতে বাধা দেয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যারা হাতে বাধা দিবে না। দ্বিতীয়তঃ মুখে বাধা দেয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যারা মুখে বাধা দিবে না। তৃতীয়তঃ অন্তরে খারাপ জেনে যারা দূরে সরেও থাকবে না। তাদের মূলত ঈমান নেই। অথচ হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য ঈমান থাকা বা ঈমানদার হওয়া প্রথম ও পূর্ব শর্ত।

উপরন্তু ছবি ও বেপর্দার মতো কঠিন হারাম ও কবীরা গুনাহর মধ্যে ডুবে গিয়ে যারা হজ্জ পালনের ইচ্ছা করবে তাদের সে হজ্জ কবুল হওয়া তো দূরের কথা সে হজ্জই তাদের জন্য লা’নতগ্রস্ত ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ হবে। কেননা ছহীহ হাদীছ শরীফ-এ সুস্পষ্টরূপে বর্ণিত রয়েছে, যে বেপর্দা হয় সে লা’নতগ্রস্ত, দাইয়ূছ ও জাহান্নামী। একইভাবে যে ছবি তোলে সেও জাহান্নামী ও গযবপ্রাপ্ত।

তাই হজ্জ ও উমরাহ করার পর যেখানে আমল আরো ভাল হওয়ার কথা সেখানে দেখা যায় সম্পূর্ণ বিপরীত। নাঊযুবিল্লাহ। এর মানে হলো- শরীয়তের হুকুম মুতাবিক হজ্জ ও উমরাহ পালিত হয়নি।

অতএব, শরীয়তের হুকুম মুতাবিক হজ্জ ও উমরাহ করার জন্য যামানার মহানতম ইমাম ও মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার অনবদ্য তাজদীদ সউদী সরকারসহ প্রত্যেক সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং তা মানতে বাধ্য করা।

উল্লেখ্য, শরীয়তের কোথাও এরূপ কোন বাধ্য বাধকতা নেই যে, শরীয়তের এক হুকুম অমান্য করে আরেক হুকুম মান্য করতে হবে। বরং ‘রাহনুমায়ে হুজ্জাজ’ কিতাবে উল্লেখ আছে-

لا يليق بالحكمة ايجاب فرض على وجه يفوته فرض اخر.

অর্থাৎ: “এটা হিকমত ও শরীয়তবিরোধী যে, এক ফরয আদায় করতে গিয়ে অপর ফরয বাদ দেয়া।”

আরো উল্লেখ্য, কেউ কেউ বলে কিতাবে উল্লেখ রয়েছে-

الضرورة تبيح الـمحظورات.

অর্থাৎ “প্রয়োজনে হারাম বিষয়ও মুবাহ হয়ে যায়।”

অর্থাৎ তাদের বক্তব্য হলো হজ্জের জন্য ছবি তুললে কোন গুনাহ হবে না, কারণ তা প্রয়োজনবশত বা মা’যূরের কারণে তোলা হয়।

এর জাওয়াবে বলতে হয় যে, তাদের উক্ত বক্তব্য বা যুক্তি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এটা কখনই মা’যূরের পর্যায়ে পড়ে না। কেননা হজ্জ করার জন্য সরকার বা অন্য কারো পক্ষ থেকে কাউকে বাধ্য করা হয়নি। তাছাড়া ঈমান-আমলের নিরাপত্তা না থাকার কারণে হজ্জই যেখানে ফরয নয় সেখানে সে কি করে মা’যূর হলো। এখন কোন মহিলা যদি বলে যে, আমার সম্পদ রয়েছে কিন্তু মাহরাম নেই এক্ষেত্রে আমি মা’যূর তাই মাহরাম ছাড়াই হজ্জ করবো; তার এটা গ্রহণযোগ্য বা শরীয়ত সম্মত হবে কি? কস্মিনকালেও না। কারণ মাহরাম না থাকলে হজ্জই ফরয হয় না। আর হজ্জই যদি ফরয না হয় তবে সে মা’যূর হলো কিভাবে?

বরং সরকারের পক্ষ থেকে হজ্জের ক্ষেত্রে ছবি তোলাকে আবশ্যক করাটাই মূলত হজ্জ ফরয না হওয়ার একটি অন্যতম কারণ। কেননা শরীয়তের দৃষ্টিতে যারা নেক কাজে বাধা দেয় এবং হারাম কাজ করতে বাধ্য করে তারা যালিমের অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

ومن اظلم ممن منع مساجد الله  ان يذكر فيها اسمه وسعى فى خرابـها.

অর্থ: “ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম কে? যে মসজিদে আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক-এর যিকির করতে বাধা দেয় এবং তা বিনষ্ট করার কোশেশ করে।” অর্থাৎ যারা নেক কাজে বাধা দেয় এবং হারাম কাজ করতে বাধ্য করে তারা সবচেয়ে বড় যালিম।  (সূরা বাক্বারা-১১৪)

আর পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, হজ্জ ফরয হওয়ার শর্তসমূহের মধ্যে একটি শর্ত হলো- যালিম বাদশা কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত না হওয়া।

আর বর্তমানে হজ্জের জন্য ছবি তোলাকে আবশ্যক করা বা ছবি তুলতে বাধ্য করাটাই হচ্ছে যালিম বাদশার পক্ষ থেকে হজ্জ করার ক্ষেত্রে বাধা স্বরূপ। তাই এক্ষেত্রে সম্পদ থাকার পরও তার উপর হজ্জ ফরয হবে না।

মূল কথা হলো: হজ্জ ইসলামের একটি অন্যতম বুনিয়াদী ও ফযীলতপূর্ণ ফরয ইবাদত। যা অস্বীকার করা কাট্টা কুফরী। তবে হজ্জ অবশ্যই শর্ত সাপেক্ষে ফরয। বিশেষ করে হজ্জ করতে গিয়ে যদি হারাম-নাজায়িয বা শরীয়তবিরোধী কাজে মশগুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে সম্পদ থাকার পরও তার উপর হজ্জ ফরয থাকে না। কেননা হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য সম্পদ থাকার পাশাপাশি ঈমান-আমলের নিরাপত্তা থাকাও শর্ত।

কাজেই “ছবি তুলে, বেপর্দা হয়ে হজ্জ করা যাবে না বা ঈমান-আমলের নিরাপত্তা না থাকলে হজ্জ ফরয হবে না” একথা বলার অর্থ কখনোই হজ্জকে অস্বীকার করা নয়।

যেমন কেউ যদি বলে যে, “সম্পদ না থাকলে হজ্জ ফরয হবে না।” তার এ কথা কি হজ্জ অস্বীকার করার শামিল হবে? কখনই নয়।

তা যদি না হয় তাহলে “ঈমান-আমলের নিরাপত্তা না থাকলে হজ্জ ফরয হবে না” এ কথা বললে হজ্জকে অস্বীকার করা হবে কেন? প্রশ্নই উঠেনা।

অতএব, হজ্জের ব্যাপারে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সঠিক আক্বীদা বা বক্তব্য হলো- হজ্জ ইসলামের একটি অন্যতম বুনিয়াদী ও ফরয আমল। যা শর্ত সাপেক্ষে ফরয হয়ে থাকে। হজ্জ ফরয হওয়ার শর্তসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম শর্ত হলো ঈমান-আমলের নিরাপত্তা বা নিশ্চয়তা থাকা। বর্তমানে হজ্জ করতে গেলে যেহেতু ঈমান-আমলের নিরাপত্তা থাকে না অর্থাৎ ছবি তোলা ও বেপর্দা হওয়ার মত হাজারো হারাম-নাজায়িয কাজে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় মশগুল হতে হয় তাই সম্পদ থাকলেও হজ্জ ফরয হবে না। এটাই কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের ফায়ছালা।

দলীলসমূহ: ১. তাফসীরে আহকামুল কুরআন জাসসাস, ২. কুরতুবী, ৩. রূহুল মায়ানী, ৪. রূহুল বয়ান, ৫. খাযিন, ৬. বাগবী, ৭. তাবারী, ৮. কবীর, ৯. ইবনে কাছীর, ১০. মাযহারী, ১১. দুররে মানছূর, ১২. জালালাইন, ১৩. কামালাইন, ১৪. মায়ালীমুত তানযীল, ১৫. বুখারী, ১৬. মুসলিম, ১৭. আবূ দাউদ, ১৮. মুসনাদে আহমদ, ১৯. তিরমিযী, ২০. নাসায়ী, ২১. ইবনে মাজাহ, ২২. মাছাবীহুস সুন্নাহ, ২৩. দারিমী, ২৪. বায়হাক্বী, ২৫. মিশকাত, ২৬. মিরকাত, ২৭. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, ২৮. কানযুল উম্মাল, ২৯. তহাবী, ৩০. ফতহুল বারী, ৩১. উমদাতুল ক্বারী, ৩২. ইরশাদুস সারী, ৩৩. তাইসীরুল বারী, ৩৪. ফাইদ্বুল বারী, ৩৫. শরহুন নববী, ৩৬. ফতহুল মুলহিম, ৩৭. আল মুফহিম, ৩৮. ইকমালুল ইকামল, ৩৯. মায়ালিমুস সুনান, ৪০. বযলুল মাযহূদ, ৪১. আউনুল মা’বূদ, ৪২. ফতহুল ওয়াদূদ, ৪৩. আরীদ্বাতুল আহওয়াযী, ৪৪. তুহফাতুল আহওয়াযী, ৪৫. দরসে তিরমিযী, ৪৬. উরফুশ শাযী, ৪৭. মায়ারিফুস সুনান, ৪৮. মিরআতুল মানাযীহ, ৪৯. আশআতুল লুময়াত, ৫০. লুময়াত, ৫১. তা’লীকুছ ছবীহ, ৫২. মুযাহিরে হক্ব, ৫৩. শরহুস সুন্নাহ, ৫৪. ফতওয়ায়ে আলমগীরী, ৫৫. শামী, ৫৬. দুররুল মুখতার, ৫৭. রদ্দুল মুহতার, ৫৮. আইনুল হিদায়া, ৫৯. ফতহুল ক্বাদীর, ৬০. শরহে বিক্বায়াহ, ৬১. ফাযায়িলে হজ্জ, ৬২. আহকামে হজ্জ ও যিয়ারত, ৬৩. হজ্জ ও যিয়ারত, ৬৪. রাহনুমায়ে হজ্জ, ৬৫. আহকামে হজ্জ, ৬৬. মিশকাতুল আনওয়ার, ৬৭. মক্কা ও মদীনার পথে ইত্যাদি।

 

মুহম্মদ আশিকুল্লাহ

ঢাকা

সুওয়াল: মাসিক মদীনা মার্চ ২০১২ ঈসায়ী সংখ্যায় প্রশ্নোত্তর বিভাগে বলা হয়েছে, “যুদ্ধের ময়দানে শত্রুপক্ষের মনে ভীতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে চুল ও দাড়িতে নিরেট কালো খেজাব ব্যবহার করা সর্বসম্মতভাবে জায়েজ এবং প্রশংসনীয়ও বটে।”

এখন আমার সুওয়াল হলো- সত্যিই যদি যুদ্ধের ময়দানে শত্রুপক্ষের মনে ভীতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে চুল ও দাড়িতে নিরেট কালো খেজাব ব্যবহার করা জায়িয হয়, তাহলে বাজারে প্রচলিত কালো খেযাবও কি মুজাহিদের জন্য যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহার করা জায়িয হবে? সঠিক জাওয়াব জানিয়ে বাধিত করবেন। জাওয়াব:  না, কালো খেযাব যা বাজারে প্রচলিত তা যুদ্ধের ময়দানে মুজাহিদের জন্যও ব্যবহার করা জায়িয হবেনা।  কারণ,  বাজারে প্রচলিত কালো খেযাব ব্যবহার করলে মাথার চুলে ও দাড়িতে নখপালিশের ন্যায় একটি আবরণ বা প্রলেপ পড়ে, যার ফলে মাথার চুলে ও দাড়িতে পানি পৌঁছেনা এবং এ কারণে তার ওযু ও ফরয গোসল হবে না। আর ওযু ও ফরয গোসল না হলে তার নামাযও শুদ্ধ হবেনা। কারণ নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য পূর্বশর্ত হলো, শরীর পাক হওয়া। আর শরীর পাক করতে হলে ফরয গোসলে সমস্ত শরীর ধৌত করতে হবে এমনকি মাথার চুলে ও দাড়িতে পানি পৌঁছাতে হবে যেন একটি চুলও শুকনা না থাকে।

কেননা চুল শুকনা থাকলে গোসল শুদ্ধ হবেনা এবং শরীরও পাক হবেনা। যেহেতু ফরয গোসলে মাথার চুলে ও দাড়িতে পানি পৌঁছানো ফরয।

যেমন, “ফতওয়ায়ে আলমগীরী” কিতাবের ১ম খ-ের ৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

والخضاب اذا تجسد ويبس يـمنع تـمام الوضو والغسل

অর্থ: “খেযাব (কলপ) যখন শরীরে (চুলে, দাড়ি ইত্যাদিতে) জমে বা লেগে যাবে এবং শুকিয়ে যাবে তখন ওযু ও গোসল শুদ্ধ হবেনা।”

উল্লেখ্য, চুলে বাজারে প্রচলিত যে কোন ধরনের কলপ ব্যবহার করার কারণে মূল চুলে পানি পৌঁছেনা বরং প্রলেপের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। যার কারণে শরীর পাক হয় না।

দ্বিতীয়ত:  শরীর পাক থাকলে নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য ওযু করা ফরয। আর ওযুতে মাথার চুল মাসেহ করা ফরয এবং দাড়িতে পানি প্রবাহিত করাও ফরয। কিন্তু চুলে যে কোন রঙের কলপ ব্যবহার করলে মাথার চুলে ও দাড়িতে প্রলেপ পড়ে যাওয়ার কারণে মূল চুলের উপর মাসেহ ও পানি প্রবাহিত হয়না বরং প্রলেপের উপর দিয়ে মাসেহ ও পানি প্রবাহিত হয়। ফলে তার ওযুও হয়না। আর ওযু ও ফরয গোসল না হলে নামাযও শুদ্ধ হয়না অর্থাৎ হবেনা।

শুধু তাই নয়, এমনকি বাজারে প্রচলিত কালো খেযাব ব্যবহারকারী ব্যক্তি মারা গেলে তার জানাযা নামাযও শুদ্ধ হবেনা। কারণ তাকে গোসল দেয়ার সময় তার দাড়িতে ও চুলে পানি না পৌঁছানোর কারণে সে পবিত্র হবেনা।

সুতরাং তাকে পবিত্র করতে হলে তার দাড়ি ও চুল মুন্ডন করে গোসল করাতে হবে। এরপর তার জানাযা দিতে হবে। অন্যথায় সে কস্মিনকালেও পবিত্র হবেনা এবং তার জানাযা নামায পড়ানোও জায়িয হবেনা।

উল্লেখ্য, মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীন তার পত্রিকায় বলেছে, “যুদ্ধের ময়দানে শত্রুপক্ষের মনে ভীতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে চুল ও দাড়িতে নিরেট কালো খেজাব ব্যবহার করা সর্বসম্মতভাবে জায়েজ এবং প্রশংসনীয়ও বটে।”

এর জবাবে বলতে হয়, মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীনের উক্ত বক্তব্য ভুল ও অশুদ্ধ হয়েছে। কারণ, “যুদ্ধের ময়দানে একমাত্র মুজাহিদের জন্য কালো খেযাব ব্যবহার জায়িয; তবে তাও শর্ত সাপেক্ষে। আর বাজারে প্রচলিত কালো খেযাব “যুদ্ধের ময়দানে মুজাহিদের জন্যও ব্যবহার করা হারাম ও নাজায়িয।” যা উপরে আলোচনা করা হয়েছে।

সুতরাং মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীনের উক্ত বক্তব্যও ভুল বলেই প্রমাণিত হলো।

স্মর্তব্য, কালো খেযাব দু’ধরণের হয়ে থাকে।

প্রথমতঃ যেটা ব্যবহার করলে আবরণ বা প্রলেপ পড়েনা কিন্তু কালো হয়। আর এ ধরণের কালো রংয়ের খেযাব ব্যবহার করাও শরীয়তে মাকরূহ্ তাহ্রীমী বলা হয়েছে।

যেমন, হাদীছ শরীফ-এর কিতাব “আবু দাউদ” ও “নাসাঈ শরীফ-এ” উল্লেখ আছে-

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون فى اخر الزمان قوم يخضبون بالسواد كحواصل الحمام لايجدون رائحة الجنة

অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আখিরী যামানায় এমন কিছু লোক বের হবে যারা কবুতরের পালকের ন্যায় কালো খেযাব ব্যবহার করবে, তারা জান্নাতের ঘ্রাণও পাবেনা।”

হাদীছ শরীফ-এর কিতাব “তিবরানী শরীফ” -এ ইরশাদ হয়েছে-

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من خضب بالسواد سود الله وجهه يوم القيامة

অর্থ: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি কালো খেযাব ব্যবহার করবে, আল্লাহ পাক তিনি ক্বিয়ামতের দিন তার চেহারাকে কালো করে দিবেন।”

“মুসলিম শরীফ”-এর ২য় খ-ের ১৯৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

ويحرم خضابه بالسواد على الاصح وقيل يكره كراهة تنــزيه والـمختار التحريم لقوله صلى الله عليه وسلم واجتنبوا السواد

অর্থ: “অধিক ছহীহ বা বিশুদ্ধ মতে কালো খেযাব ব্যবহার করা হারাম। কেউ কেউ বলেছেন, মাকরূহ তানযীহ। তবে গ্রহণযোগ্য মত হলো, কালো খেযাব ব্যবহার করা মাকরূহ তাহরীমী। কারণ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, ‘তোমরা কালো রঙের খেযাব বর্জন করো।”

কালো খেযাব সম্পর্কে বিখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “শরহে শামায়িলে তিরমিযী শরীফ”-এ উল্লেখ করেন-

ذهب اكثر العلماء الى كراهة الخضاب بالسواد ورجح الثورى الى انها كراهة تحريم

অর্থ: “অধিকাংশ আলিমগণের মতে কালো খেযাব ব্যবহার করা মাকরূহ। হযরত ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার মতে মাকরূহ তাহরীমী।”

মিশকাত শরীফ-এর শরাহ “আশয়াতুল লুময়াতে” উল্লেখ আছে-

خضاب بحناء باتفاق جائزاست ومختار در سواد حرمت است

অর্থ: “মেহেদী বা মেন্দী দ্বারা খেযাব দেয়া সর্বসম্মতিক্রমে জায়িয। আর গ্রহণযোগ্য মতে, কালো খেযাব ব্যবহার করা হারাম।”

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, চুল বা দাড়িতে কালো রঙের খেযাব ব্যবহার করা আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবিক মাকরূহ তাহরীমী।

 

মুজাহিদের কালো খেযাব ব্যবহারের শর্ত

তবে প্রলেপ পড়েনা এধরণের কালো খেযাব “যুদ্ধের ময়দানে একমাত্র মুজাহিদের  জন্য ব্যবহার করা জায়িয হলেও এক্ষেত্রে কিছু শর্ত-শারায়েত রয়েছে। যেমন, যুদ্ধক্ষেত্রে পাকা চুল ও দাড়ি ওয়ালা মুজাহিদ এ শর্তে কালো খেযাব ব্যবহার করবে যে, শত্রুপক্ষ যেন মুজাহিদের কালো চুল ও দাড়ি দেখে ভয় পায়। অর্থাৎ শত্রুকে ভীতি প্রদর্শন করার উদ্দেশ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে মুজাহিদরা কালো খেযাব ব্যবহার করবে। এ উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য যে কোন উদ্দেশ্যে কালো খেযাব ব্যবহার করা মাকরূহ তাহরীমী।

দ্বিতীয়তঃ আমাদের দেশে বা বিদেশে যে সমস্ত খেযাব পাওয়া যায় তার প্রত্যেকটি ব্যবহারেই প্রলেপ পড়ে। প্রলেপ পড়েনা এমন কোন খেযাব এখন পর্যন্ত তৈরী হয়নি বা বিশ্বে কোথাও পাওয়া যায়না।

অতএব, বর্তমানে বাজারে যে সব কালো বা অন্য কোন রংয়ের খেযাব পাওয়া যায় তা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয।

আরো উল্লেখ্য যে, “যুদ্ধের ময়দানে একমাত্র মুজাহিদের জন্য যে কালো খেযাব ব্যবহার করা জায়িয সেটা হচ্ছে, কাতম মিশ্রিত মেহেদী বা মেন্দীর খেযাব; যাতে কাতমের  পরিমাণ বেশী  হবে, ফলে তা কালো রং ধারণ করবে; কিন্তু প্রলেপ পড়বে না। আর এ ধরণের কালো খেযাব  বাজারে প্রচলিত নেই। কেননা, বর্তমান বাজারে যে সমস্ত কালো খেযাব পাওয়া যায়, তার সাথে কাতম মিশ্রিত মেহেদী বা মেন্দীর খেযাবের কোন সম্পর্ক নেই। সুতরাং বাজারে প্রচলিত কালো খেযাবও “যুদ্ধের ময়দানে মুজাহিদের জন্য ব্যবহার করা হারাম ও নাজায়িয।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই সাব্যস্ত হলো যে, যুদ্ধক্ষেত্রেও মুজাহিদরা বাজারে প্রচলিত কালো খেযাব ব্যবহার করতে পারবেনা। যা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

সুতরাং মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীন এর উক্ত বক্তব্য ভুল, মনগড়া ও দলীলবিহীন হয়েছে বলেই প্রমাণিত হল।

{বিঃ দ্রঃ- এ সম্পর্কে আরো জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ১৯, ৩২, ৪২, ৬০, ৬৬, ৬৭, ৭৫, ৯৫, ১০৯ ও ২০৬তম সংখ্যাগুলো পড়–ন। সেখানে মাসিক মদীনা, মাসিক পৃথিবী ও মাসিক রাহমানী পয়গামের ভুল বক্তব্য খ-ন করে সঠিক জাওয়াব দেয়া হয়েছে।}

{দলীলসমূহ: (১) মুসলিম, (২) তিরমিযী, (৩) আবু দাউদ, (৪) নাসাঈ, (৫) ইবনে মাজাহ, (৬) তিবরানী, (৭) মিশকাত, (৮) উমদাতুল ক্বারী, (৯) জামউল ওসায়িল, (১০) মিরকাত, (১১) আশয়াতুল লুময়াত, (১২) লুময়াত, (১৩) শরহে শামায়িলে তিরমিযী, (১৪) যখীরা, (১৫) ওয়াজীয, (১৬) সিরাজুল ওয়াহহাজ, (১৭) দুররুল মুখতার, (১৮) ফতওয়ায়ে আলমগীরী, (১৯) ফতওয়ায়ে শামী, (২০) ফতওয়ায়ে হিন্দীয়া, (২১) ইমদাদুল ফতওয়া, (২২) কিফায়াতুল মুফতী, (২৩) Manufacture of Beauty products By SBP Board of Consultants & Engineers (24) Yahoo search engine P-Phenylenediamine all related files ইত্যাদি}

 

মুহম্মদ ইবরাহীম সোহেল

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

 

সুওয়াল: ডা: জাকির নায়েক তার লেকচারে বলেছে যে, তারাবীহ নামায যত খুশি তত আদায় করা যাবে। অর্থাৎ জাকির নায়েককে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তারাবীর নামায আট রাকাআত, নাকি বিশ রাকাআত? এর উত্তরে সে যা বলেছে তাহলো-

এক ব্যক্তি নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলো যে, ক্বিয়ামুল লাইল কিভাবে পড়বো? তিনি বললেন, এটা দুই রাকাআত করে পড়া উচিত। যেমন দুই রাকায়াত তারপর দুই রাকাআত এভাবে এবং যদি সূর্য উদিত হওয়ার সময় হয়ে যায় তাহলে এক রাকাআত। (বুখারী, হাদীছ শরীফ নং ৪৭২)

এভাবে যতো খুশি ততো পড়া যাবে। তবে আমরা যদি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুশীলনের দিকে তাকাই তাহলে হাদীছ শরীফ-এর বর্ণনা দেখতে পাই যে, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রমাদ্বান মাসের তারাবীহ নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রমাদ্বান মাসে যখন ক্বিয়ামুল লাইল বা তারাবীর নামায আদায় করতেন তখন এগারো রাকাআত আদায় করতেন এবং এর বেশি আদায় করতেন না। অন্য মাসে আট রাকাআত ক্বিয়ামুল লাইল এবং তিন রাকাআত বিতরের নামায আদায় করতেন। (বুখারী, হাদীছ শরীফ নং- ১১৪৭)

অনেক হাদীছ শরীফ আছে যেখানে বলা হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১১ রাকাআত ক্বিয়ামুল লাইল আদায় করতেন। তবে এ ব্যাপারে আমরা যদি ছাহাবী, সালফে ছালিহীন এবং তাবিঈনদের অনুশীলন দেখি তাহলে উনারা ১১, ১৩, ১৯, ২৩, ৩৯ রাকাআত এ রকম আদায় করতেন।

আরেকটি হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে যে, তাবিঈগণ রমাদ্বানের রাতে ২০ রাকাআত তারাবীহ আদায় করতেন। অন্যত্র বলা হয়েছে, উনারা ৩৬ রাকাআত আদায় করতেন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১১ রাকাআত আদায় করতেন। তবে তিনি ২+২+২+…..এভাবেও আদায় করতে বলেছেন। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, পৃষ্ঠা ১৬৫)

সুতরাং, তারাবীর নামায যতোখুশি ততো আদায় করা যাবে।  (লেকচার সমগ্র- ৫/২৪৭)

জাওয়াব: উক্ত জাকির নায়েক ব্যক্তিটি প্রকৃতপক্ষে কাফির নায়েকের অন্তর্ভুক্ত।  কারণ তার বক্তব্যগুলি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সবগুলিই বিভ্রান্তিকর এবং শরীয়ত বিরোধী। প্রকারান্তরে যা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। আলোচ্য তারাবীহ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরেও সে বিষয়টিই জাহির হয়েছে।

সে বুখারী শরীফ-এর উদ্ধৃতি দিয়ে ১১ রাকাতের যে হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেছে তাতে ক্বিয়ামুল লাইল বলা আছে, তারাবীহ নেই। কিন্তু অনুবাদ করার সময় সে তারাবীহ শব্দটি নিজের থেকে বৃদ্ধি করে দিয়েছে। যদি স্পষ্টভাবে বুখারী শরীফ-এ তারাবীর কথা উল্লেখ থাকতো তাহলে তো এ নিয়ে কোনো মতবিরোধই থাকতো না। সে আরো অনেক ক্ষেত্রে এই কাজটি করেছে। হাদীছ শরীফ-এর অনুবাদ করার সময় স্বীয় দাবীর স্বপক্ষে শব্দটি যোগ করে দিয়েছে অথচ মূল আরবী ইবারতে কিন্তু উক্ত শব্দটি নেই। তৎপরবর্তী বর্ণনার ক্ষেত্রেও সে ঠিক এই কাজটিই করেছে। এরপরে সালফে ছালিহীনের দিকে ১১, ১৩, ১৯ রাকাআত পড়ার যে নিসবত করেছে সেটাও ঠিক নয়।

কেননা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যুগ থেকেই ২০ রাকাআত তারাবীহ চলে আসছে। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلى فى رمضان عشرين ركعة والوتر

অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রমাদ্বানে ২০ রাকাআত (তারাবীহ) এবং বিতির পড়তেন। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/ ২৮৬)

এখানে মনে রাখা দরকার যে, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রা আহলিয়া উম্মুল মু’মিনীন হযরত মাইমূনা আলাইহাস সালাম উনার ভাগিনা ছিলেন।

তিনি মাঝে মধ্যে খালা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার ঘরে রাত কাটাতেন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সব আমল গভীরভাবে লক্ষ্য করতেন। সুতরাং, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তারাবীহ কত রাকাআত পড়তেন সে ব্যাপারে উনার কথাই বেশি গ্রহণযোগ্যতার দাবি রাখে।

হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت يحى بن سعيد رضى الله تعالى عنه ان حضرت عمر بن الخطاب عليه السلام امر رجلا يصلى بـهم عشرين ركعة

অর্থ: হযরত ইয়াহ্ইয়া ইবনে সাঈদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি জনৈক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে মসজিদে নববীতে বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়ানোর আদেশ দিয়েছিলেন। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/২৮৫)

عن حضرت السائب بن يزيد رضى الله تعالى عنه قال كانوا يقومون على عهد حضرت عمر بن الخطاب عليه السلام فى شهر رمضان بعشرين ركعة

অর্থ: হযরত সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, লোকেরা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার যুগে বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়তেন। (বাইহাকী শরীফ ২/ ৪৯৬)

عن حضرت الحسن عليه السلام ان حضرت عمر بن الخطاب عليه السلام جمع الناس على ابى بن كعب رضى الله تعالى  عنه فكان يصلى لـهم عشرين ركعة

অর্থ: হযরত হাসান আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম তিনি লোকদেরকে হযরত উবাই ইবনে কাআব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট জমা করলেন, তিনি তাদেরকে বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়াতেন। (আবূ দাউদ ১/২০২)

عن حضرت ابى بن كعب رضى الله تعالى عنه ان عمر بن الخطاب عليه السلام امره ان يصلى بالليل فى رمضان عشرين ركعة

অর্থ: হযরত উবাই ইবনে কাআব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে আদেশ করলেন, আমি যেনো রমাদ্বানে লোকদেরকে বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়াই। (কানযুল উম্মাল ৮/ ২৬৪)

স্মরণীয় যে, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার যুগে বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়ার উপর ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তখন সেখানে বিদ্যমান ছিলেন।

উনারা কেউই এর বিরোধিতা করেননি। উনারা কেউই এ কথা বলেননি যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আট রাকাআত পড়েছেন, আপনি বিশ রাকাআত চালু করলেন কেন? বরং উনারা আনন্দ উৎসাহের সাথে তাতে শরীক হয়েছেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সমন্ধে কি এটা কল্পনা করা যায় যে, উনারা হাদীছ শরীফ বিরোধী কোনো কাজ হতে দেখে চুপ করে থাকবেন? অথবা ভয়ে কিছু বলবেন না? কক্ষনও নয়।

বিশেষ করে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ করেন-

لو كان بعدى نبى لكان حضرت عمر بن الخطاب عليه السلام

অর্থ: “কেউ যদি আমার পরে নবী হতেন তাহলে তিনি হতেন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম।” (তিরমিযী শরীফ ২/২০৯)

অন্য হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাক উনার দ্বীনের মধ্যে সবচেয়ে মজবুত হলেন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম।”

এতদসত্বে উনার সম্পর্কে কি এ কথা কল্পনা করা যায় যে, তিনি হাদীছ শরীফ-এর বিরোধিতা করে নিজের মত মতো বিশ রাকায়াত তারাবীহ চালু করবেন? গুমরাহ কাফির নায়েক আট রাকাআত তারাবীর পক্ষে বুখারী শরীফ-এর যে হাদীছ শরীফ-এর উদ্ধৃতি দিয়েছে সেই হাদীছ শরীফ তো উনাদের সামনে ছিলো। কিন্তু উনারা আমল না করায় বুঝা গেলো যে, সেখানে তারাবীর কথা বলা হয়নি। বরং সেসব বর্ণনা হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাযের বর্ণনা।

তাছাড়া উক্ত হাদীছ শরীফ-এর বর্ণনাকারী হলেন উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম। তিনি ৫৭ হিজরীতে বিছাল শরীফ লাভ করেন। আর হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি এই বিশ রাকাআত তারাবীহ চালু করেন ১৫ হিজরীতে মসজিদে নববী শরীফ-এ। মসজিদে নববী শরীফ-এর সাথেই উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হুজরা শরীফ ছিলো। এই পুরা বিয়াল্লিশ বৎসর উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সামনে মসজিদে নববী শরীফ-এ বুখারী শরীফ-এর (যদিও তখন বুখারী শরীফ সংকলন হয়নি) ছহীহ হাদীছ শরীফ-এর খিলাফ করে বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়া হলো অথচ তিনি একদিনও বললেন না যে, আপনারা ছহীহ হাদীছ শরীফ-এর খিলাফ করে বিশ রাকাআত তারাবীহ কেন পড়ছেন?

উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন-

من احدث فى امرنا هذا ما ليس منه فهو رد

অর্থ: এই দ্বীনের মধ্যে যে বিদয়াত চালু করবে সেটা রদ বা পরিত্যাজ্য বলে গণ্য হবে। (মিশকাত শরীফ- ২৭)

আশ্চর্যের বিষয় উনার সামনে একটা বিদয়াত চালু হলো আর তিনি সেটাকে রদ করলেন না, এটা কেমন কথা?

বুঝা গেলো, বিশ রাকাআত তারাবীহ এটা বিদয়াত ছিলো না বরং এটাই প্রকৃত সুন্নত। আর সে জন্যই উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি তা তাছদীক্ব করেছেন এবং সকল ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এটাকে মেনে নিয়েছিলেন।

এছাড়া হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম এবং হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের খিলাফতের যুগেও সারা মুসলিম বিশ্বে বিশ রাকাআত তারাবীহ চালু ছিলো।

যেমন হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, হযরত সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার যুগে লোকেরা বিশ রাকাআত তারাবীর নামায পড়তেন আর হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার যুগেও। (বাইহাক্বী- ২/৪৯৬)

হযরত আবূ আব্দুর রহমান সুলামী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি জনৈক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন, তিনি যেনো রমাদ্বানে লোকদেরকে বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়ান। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২/২৮৫)

উল্লেখ্য, ছহীহ হাদীছ শরীফ-এর মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা আমার সুন্নতকে এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীন উনাদের সুন্নতকে আঁকড়ে ধরো। (ইবনে মাজাহ শরীফ, হাদীছ শরীফ নং- ৪২, আহমদ-৪/১২৬, তিরমিযী হাদীছ শরীফ নং- ২৬৭৬, আবূ দাঊদ, হাদীছ শরীফ নং- ৪৬০৭)

এই হাদীছ শরীফ-এ খুলাফায়ে রাশিদীন উনাদের সুন্নতের উপর আমল করা ওয়াজিব বলা হয়েছে। সুতরাং, যে আমলটা খুলাফায়ে রাশিদীন উনাদের দ্বারা প্রমাণিত হবে সেটাও প্রকৃতপক্ষে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমল বলে গণ্য হবে। কাজেই, বিশ রাকাআত তারাবীর প্রমাণ যদি সরাসরি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে নাও হতো তবুও খুলাফায়ে রাশিদীন উনাদের আমলের কারণে সেটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশেই প্রমাণিত হয়েছে বলে গণ্য হবে।

এখন কাফির নায়েক এবং তার অন্ধ অনুসারীদের মতে এই বিশ রাকাআত তারাবীহ যদি বিদয়াত হয় তাহলে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনিসহ সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বিদয়াতী বলতে হয়। নাঊযুবিল্লাহ! হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বিদয়াতী বলার পরিণাম কি ভয়াবহ হতে পারে তা কি এই নব্য গুমরাহ ও তার অনুসারীরা কখনো ভেবে দেখেছে?

বস্তুত ইংরেজদের আমলে ভারতবর্ষে তথাকথিত আহলে হাদীছ তথা লা-মাযহাবী সম্প্রদায়ের উৎপত্তির পূর্বে কেউই এ কথা বলেনি যে, বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়া বিদয়াত এবং খইরুল কুরূন এবং তৎপরবর্তী যুগেও কোনো একজনের নাম খুঁজে পাওয়া যাবে না যে কিনা লা-মাযহাবীদের ন্যায় তারাবীহ আট রাকাআত পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেছে।

স্বরণ রাখা দরকার যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বওল, ফে’ল ও তাকরীর দ্বারা প্রমাণিত বিষয়সমূহ যেমনিভাবে সুন্নত এবং অনুসরণযোগ্য তদ্রƒপ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের আমল দ্বারা যেটা প্রমাণিত সেটাও সুন্নত বলে গণ্য হবে এবং তার অনুসরণ করা ওয়াজিব। কেননা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা ছহীহ হাদীছ শরীফ যা আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, সুনানে আহমদ ইত্যাদি হাদীছ শরীফ-এর কিতাবে বর্ণিত রয়েছে। সেখানে তিনি ইরশাদ করেছেন-

من يعش منكم بعدى فسير اختلافا كثيرا فعليكم بسنتى وسنة الخلفاء الراشدين الـمهدين تـمسكوا بـها وعضوا عليها بالنواجذ

অর্থ: “আমার পরে যারা জীবিত থাকবে তারা অনেক ইখতিলাফ দেখবে, এমতাবস্থায় তোমাদের জন্য জরুরী হলো তোমরা আমার সুন্নতকে এবং আমার পরে খুলাফায়ে রাশিদীন উনারা যেসব সুন্নতকে জারী করবেন সেগুলিকে দৃঢ়ভাবে আকঁড়ে ধরবে, যেমন নাকি দাঁত দ্বারা কোনো জিনিষ মজবুতীর সাথে ধরা হয়।”

তিরমিযী শরীফ-এ আরো একখানা হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে। হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আমার পরে আপনারা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনাদের তরীক্বা অনুসরণ করবেন।

উল্লেখ্য, প্রথম হাদীছ শরীফ-এ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুলাফায়ে রাশিদীন উনাদের অনুসরণ করাকে নিজের অনুসরণ বলে ঘোষণা করেছেন। আর দ্বিতীয় হাদীছ শরীফ-এ বিশেষভাবে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম উনাদেরকে অনুসরণ করার আদেশ দিয়েছেন।

অনুরূপভাবে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবিয়ীনে কিরাম এবং হযরত ইমাম মুজতাহিদ, ফুক্বাহায়ে ইজাম উনারাও যদি কোনো একটি বিষয়ের উপর ইজমা বা ঐক্যমত পোষণ করেন তাহলে সেটাও সুন্নত বলে বিবেচিত হবে। মুক্তি পাওয়ার জন্য সেটার উপর আমল করাও জরুরী। হাদীছ শরীফ-এ মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পরিচয় দিতে যেয়ে বলা হয়েছে-

ما انا عليه واصحابى

অর্থ: আমি এবং আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যে তরীক্বার উপর রয়েছি সেটার অনুসরণ করলেই মুক্তি পাওয়া যাবে। (তিরমিযী শরীফ- ২/১০২)

এত স্পষ্ট বর্ণনা থাকা সত্ত্বেও কাফির নায়েক ও তার গোমরাহ অনুসারীরা ২০ রাকাআত তারাবীর আমল এবং এর বরকত থেকে উম্মতকে মাহরুম করতে চায়। এদের হাজার হাজার পোষ্টার আর প্রচার পত্রের কারণে কেউ যদি প্রভাবিত হয়ে আট রাকাআত তারাবীর নামায পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যায় তাহলে তাকে নিয়ে এরা ঈদের খুশি উদযাপন করে। নাউযুবিল্লাহ!

মনে হয় যেনো এই লোক নতুন মুসলমান হয়েছে। আর সারা দুনিয়ার মুসলমান যারা বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়েন উনারা তাদের দৃষ্টিতে বিদয়াতীরূপে সাব্যস্ত হন। নাঊযুবিল্লাহ! রমাদ্বানুল মুবারক-এর বরকত থেকে মাহরুম থাকা আর মাহরুম রাখাকে এই গোমরাহগুলো বলে, হাদীছ শরীফ-এর উপর আমল করা। এরা আরো বলে যে, আমরা শুধু নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই মানি, আমরা খাঁটি মুহাম্মদী। আবূ বকরীও না, উমরীও না, হানাফীও না, শাফিয়ীও না। আমাদের প্রত্যেকটা আমলের উপর নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মোহর আছে।

এসব বাতিল দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এদের প্রতি আমাদের জিজ্ঞাসা হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো সারা জীবন মাত্র তিন রাত তাও আবার রমাদ্বানের শেষ দশকে জামায়াতের সাথে তারাবীহ পড়েছেন; এটা তো তোমাদের আমলের খিলাফ হলো। এখানে তো তোমরা মুহম্মদী রইলে না। কেননা পুরো মাস জামাতসহ তারাবীহ পড়া তো হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আমল দ্বারা প্রমাণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে ছাবিত নেই।

হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত আমলে তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে পরামর্শের মাধ্যমে মসজিদে নববীতে বিশ রাকাআত তারাবীহ নামায জারি করেছিলেন এটা তোমাদের পছন্দসই হয়নি। তাই এটাকে তোমরা “উমরের বিদয়াত” বলে অভিহিত করে থাকো। নাঊযুবিল্লাহ!

কিন্তু প্রকৃত কথা হচ্ছে, রাকাআতের সংখ্যায় তোমরা নারাজ হলেও অন্যান্য বিষয়ে ঠিকই সম্মতি প্রকাশ করেছো। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুরো মাস নয় বরং মাত্র তিন দিন জামাত কায়িম করেছিলেন এবং তাতে কুরআন শরীফ খতম এবং বিতরের নামায জামাতের সাথে পড়া নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও তোমরা এগুলো করছো। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এগুলি তোমরা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার নিকট থেকেই গ্রহণ করেছো। আবার অন্যদিকে বিশ রাকাআত তারাবীহকে বিদয়াত বলছো। নাঊযুবিল্লাহ! স্ববিরোধিতা আর গোমরাহী কাকে বলে।

 

মুহম্মদ হামীদুল্লাহ

উত্তর শাহজাহানপুর, ঢাকা

সুওয়াল: কেউ কেউ বলে যে, দেশের প্রধান খাদ্য দিয়ে ছদাক্বাতুল ফিতির আদায় করতে হবে। তাদের উক্ত বক্তব্য কতটুকু শরীয়ত সম্মত? দয়া করে জানাবেন?

জাওয়াব: যারা বলে, দেশের প্রধান খাদ্য দিয়ে ছদাক্বাতুল ফিতির আদায় করতে হবে তাদের সে বক্তব্য আদৌ শরীয়ত সম্মত নয়। বরং তা সম্পূর্ণরূপে শরীয়তের খিলাফ।

উল্লেখ্য, আমাদের হানাফী মাযহাবে ছদাক্বাতুল ফিতিরের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে শুধুমাত্র গম তথা আটার মূল্যে।

যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

عن حضرت عبد الله بن ثعلبة او حضرت ثعلبة بن عبد الله بن ابى صعير رحمة الله عليه عن ابيه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صاع من بر او قمح على كل اثنين صغير او كبير حر او عبد ذكر او انثى

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সা’লাবা অথবা হযরত সা’লাবা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু সুআইর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, এক সা’ গম বা আটা দু’ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায় করতে হবে- ছোট হোক বা বড় হোক, আযাদ হোক বা গোলাম হোক এবং পুরুষ হোক বা মহিলা হোক।” (আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবিক অর্ধ সা’ বলতে ১ সের সাড়ে ১২ ছটাক বুঝানো হয়েছে, যা গ্রাম হিসাবে ১৬৫৭ গ্রাম (প্রায়) হয়।

যাদের উপর ছদাক্বাতুল ফিতর ওয়াজিব অর্থাৎ ঈদের দিন ছুব্হে ছাদিকের সময় যাদের নিকট নিছাব পরিমাণ (সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা এর সমপরিমাণ মূল্য, যা বর্তমানে ১,৪৫৮ টাকা তোলা হিসেবে ৭৬,৫৪৫ টাকা) সম্পদ থাকে, তাদের প্রত্যেককেই উল্লিখিত ১ সের সাড়ে ১২ ছটাক বা ১৬৫৭ গ্রাম আটা বা তার মূল্য দান করতে হবে।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় আটার দাম বিভিন্ন রকম। কাজেই যাদের উপর ছদাক্বাতুল ফিতর ওয়াজিব, তাদেরকে বর্তমান মূল্য হিসাবে একসের সাড়ে বার ছটাক বা ১৬৫৭ গ্রাম আটার মূল্য হিসাবে দিতে হবে।

ফতওয়ায়ে আলমগীরী, ক্বাযীখান, বাহরুর রায়িক, হিদায়া, আইনুল হিদায়া ইত্যাদি সুপ্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, হানাফী মাযহাবে শুধুমাত্র গম তথা আটার মূল্যে ছদাক্বাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। অন্যকিছু দিয়ে ছদকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে না।

স্মরণীয় যে, দেশের প্রধান খাদ্য দিয়ে ছদাক্বাতুল ফিতর আদায় করা; এটা মূলত লা-মাযহাবীদের ফতওয়া। কাজেই সে ফতওয়া কোনো মাযহাবপন্থীদের অনুসরণ বা আমল করা জায়িয নেই। এছাড়া এক মাযহাবের অনুসারীর জন্য অন্য মাযহাবের ফতওয়া বা মাসয়ালা অনুসরণ করাও জায়িয নেই।

প্রকাশ থাকে যে, তাফসীরে আহমদিয়া, ক্বিমিয়ায়ে সাআদাত, ইকদুলজিদ, ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন, আত তাহরীর, জাযীলুল মাযাহিব, আল মা’লূমা, মুসাল্লাম, জামিউল জাওয়ামে, হারী, ইনছাফ, তাফসীরে আযীযী, ছিফরুস সাআদাত ইত্যাদি কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,  প্রত্যেকের জন্য মাযহাব চতুষ্ঠয়ের যে কোনো এক মাযহাবের অনুসরণ করা ফরয-ওয়াজিব। অন্যথায় সে ফাসিক ও গোমরাহ হবে। এ ফতওয়ার উপর ইমাম-মুজতাহিদগণ ইজমা করেছেন।

এছাড়া তাফসীরে আহমদিয়া, ক্বিমিয়ায়ে সাআদাত, ইকদুলজিদ, ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন, আত তাহরীর, জাযীলুল মাযাহিব, আল মা’লূমা, দুররুল মুখতার ইত্যাদি কিতাবে আরো উল্লেখ রয়েছে, এক মাযহাবের অনুসারীর জন্য অন্য মাযহাবে যেরূপ প্রত্যাবর্তন করা জায়িয নেই তদ্রƒপ যে কোনো একটি মাসয়ালায় এক মাযহাবের অনুসরণ আবার অন্য একটি মাসয়ালায় অন্য এক মাযহাবের অনুসরণ করাও জায়িয নেই।

সুতরাং, যেসব মুফতী, মাওলানা মাযহাব সম্পর্কে জ্ঞাত নয়, যাদের আক্বীদা ও আমলে ত্রুটি রয়েছে, দুনিয়ার মোহ রয়েছে, তাক্বওয়া বা খোদাভীতি নেই, যারা শরীয়ত ও সুন্নতের পাবন্দ নয়, সর্বোপরি ফতওয়া দেয়ার জন্য যে ইলমে লাদুন্নী থাকা শর্ত, তা নেই সেসব মুফতী, মাওলানার ফতওয়া বা মাসয়ালা ভুল হওয়াই স্বাভাবিক। এ ধরণের নামধারী মুফতী, মাওলানাদেরকে শরীয়তের মাসয়ালা-মাসায়িল বা ফতওয়া জিজ্ঞাসা করা এবং তা গ্রহন করা জায়িয নেই। যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

فاسئلوا اهل الذكر ان كنتم لا تعلمون

অর্থ: তোমরা যদি না জানো তাহলে যারা আহলে যিকির বা আল্লাহওয়ালা উনাদের নিকট জিজ্ঞেস করো। (সূরা নহল: আয়াত শরীফ ৪৩)

আর হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

ان هذا العلم دين فانظروا عمن تأخذون دينكم

অর্থ: নিশ্চয়ই এই (কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর) ইলিমই হচ্ছে দ্বীন। সুতরাং তোমরা কার নিকট থেকে ইলিম গ্রহণ করছো তাকে দেখে নাও অর্থাৎ তার আক্বীদা, আমল-আখলাক্ব শুদ্ধ কি-না তা যাচাই বাছাই করো। (মিশকাত শরীফ)

কাজেই যারা হক্কানী-রব্বানী আলিম বা আল্লাহওয়ালা নয় তাদেরকে শরীয়তের কোন মাসয়ালা-মাসায়িল জিজ্ঞাসা করা এবং তা আমল করা যাবে না।

অতএব, যারা বলে- দেশের প্রধান খাদ্য চালের হিসাব অনুযায়ী ফিতরা নির্ধারণ করতে হবে, এর স্বপক্ষে তাদেরকে দলীল পেশ করতে হবে। কেননা দলীল ব্যতীত কোনো ফতওয়া মুসলমানের জন্য অনুসরণীয় বা পালনীয় নয়। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেছেন-

هاتوا برهانكم ان كنتم صادقين

অর্থ: যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো তাহলে দলীল পেশ করো। (সূরা বাক্বারা: আয়াত শরীফ ১১১)

আর প্রকৃতপক্ষে তারা কোনো নির্ভরযোগ্য দলীলই পেশ করতে পারবে না।

অতএব, যারা বিনা দলীলে মনগড়াভাবে ফতওয়া দিবে তাদের ব্যাপারে হাদীছ শরীফ-এ এসেছে হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-

من افتى بغير علم كان اثـمه على من افتاه

অর্থ: যাকে ইলিম ব্যতীত ফতওয়া দেয়া হয়েছে (সে তদানুযায়ী আমল করার কারণে) তার সমুদয় গুনাহ যে ফতওয়া দিয়েছে তার উপরই বর্তাবে। (মিশকাত শরীফ)

 

মুহম্মদ আরিফুর রহমান

পলাশ, নরসিংদী।

 

সুওয়াল: আপনারা ছদাক্বাতুল ফিতরের পরিমাণ ১ সেড় সাড়ে ১২ ছটাক অর্থাৎ ১৬৫৭ গ্রাম বলে থাকেন। কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশন বলে ১৬৫০ গ্রাম। প্রকৃতপক্ষে কোন্ হিসাব বা নিয়মে ছদাক্বাতুল ফিতর আদায় করা শরীয়তের হুকুম? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: ছদাক্বাতুল ফিতরের পরিমাণ সম্পর্কে সরাসরি হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-

صاع من بر او قمح على كل اثنين

অর্থ: ছদাক্বাতুল ফিতর হচ্ছে এক সা’ গম বা আটা দুই ব্যক্তির তরফ থেকে আদায় করতে হবে। অর্থাৎ একজনের জন্য হচ্ছে নিছফু সা’ বা অর্ধ সা’ গম তথা আটা। (আবূ দাউদ শরীফ)

স্মরণীয় যে, ছহীহ এবং গ্রহণযোগ্য মতে, নিছফু ‘সা’ বা অর্ধ ‘সা’ বলতে এক সের সাড়ে বারো ছটাক বুঝানো হয়েছে, যা গ্রাম হিসেবে প্রায় ১৬৫৭ গ্রাম হয়।

উল্লেখ্য, ইসলামিক ফাউন্ডেশন শুদ্ধ গাণিতিক হিসাব করতে না পারায় প্রতি বছরই তারা ফিতরা নির্ধারণে ভুল করে থাকে।

ফলে এক সের সাড়ে বারো ছটাক অর্থাৎ ১৬৫৭ গ্রামের পরিবর্তে তারা ১৬৫০ গ্রাম হিসাব করে থাকে।

কাজেই, ফিতরা সম্পর্কে ইসলামিক ফাউন্ডেশন যে ফতওয়া দিয়েছে তা সম্পূর্ণই ভুল ও পরিত্যাজ্য।

আরো উল্লেখ্য, ইসলামিক ফাউন্ডেশন শুদ্ধ গাণিতিক হিসাব করতে না পারায় প্রতিবছরই ফিতরা নির্ধারণে তিন ধরনের ভুল করে।

প্রথমত: ১৬৫৭ গ্রামের স্থলে কমিয়ে ১৬৫০ গ্রাম নির্ধারণ করে।

দ্বিতীয়ত: তারা খোলা বাজারের আটার দামে ফিতরা নির্ধারণ করে। অথচ খোলা বাজারের আটা গুণগত মানে ভাল নয় এবং তা ধনীরা তো নয়ই এমনকি মধ্যবিত্তরাও খায় না। তারা সবাই প্যাকেটের ভাল আটা খেয়ে থাকে। তারপরেও কথা হচ্ছে, প্যাকেটে আটা সব সময় ১ কেজি বা ২ কেজি পুরো থাকে না। অনেক সময় ২ কেজির প্যাকেটে থাকে ১৯৭৫ গ্রাম অথবা ১ কেজির প্যাকেটে ৯৭৫ গ্রাম বা ৯৮০ গ্রাম আটা থাকে।

তৃতীয়ত: ইসলামিক ফাউন্ডেশন একই মূল্য শহর, গ্রাম তথা সারাদেশ ব্যাপী নির্ধারণ করে দেয়। অথচ বিভিন্ন অঞ্চলে দামের তারতম্য থাকতে পারে এবং সে হিসাবেই ফিতরার পরিমাণ নির্ধারণ হওয়া বাঞ্ছনীয়। কেননা দেশের বিভিন্ন এলাকায় আটার দাম বিভিন্ন রকম। কাজেই যাদের উপর ছদাক্বাতুল ফিতর ওয়াজিব, তাদেরকে বর্তমান মূল্য হিসাবে এক সের সাড়ে বারো ছটাক বা ১৬৫৭ গ্রাম আটার মূল্য হিসেবে দিতে হবে।

স্মরণযোগ্য যে, দেশের সব এলাকার আটার দাম এক রকম নয়। সাধারণত শহরের তুলনায় গ্রামে দ্রব্যমূল্যের দাম কিছুটা কম হয়ে থাকে। আবার খোলা আটার তুলনায় প্যাকেটের আটার মান ভালো হয়ে থাকে এবং তার দামও বেশি হয়ে থাকে। শরীয়তের ফতওয়া হচ্ছে, যেটা সবচেয়ে ভাল, পছন্দনীয় ও মূল্যবান সেটাই দান করতে হবে। খারাপ বা নিম্ন মূল্যের যেটা সেটা দান করা যাবে না।

যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

لن تنالوا البر حتى تنفقوا مـما تحبون. وما تنفقوا من شىء فان الله به عليم.

অর্থ: তোমরা কখনই নেকী, কল্যাণ হাছিল করতে পারবে না, যে পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের প্রিয় বা পছন্দনীয় বস্তু দান করবে। এবং তোমরা যা কিছু দান করো সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক অবশ্যই পূর্ণ খবর রাখেন। (সূরা আলে ইমরান-৯২)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ করেন-

يايها الذين امنوا انفقوا من طيبت ما كسبتم ومـما اخرجنا لكم من الارض ولا تيمموا الـخبيث منه تنفقون ولستم باخذيه الا ان تغمضوا فيه واعلموا ان الله عزيز حميد.

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় উপার্জন থেকে এবং আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যা উৎপন্ন করেছি তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করো এবং নিকৃষ্ট জিনিস ব্যয় করতে নিয়ত বা মনস্থ করো না। কেননা তোমরা তা অনিচ্ছাকৃত ব্যতীত গ্রহণ করবে না। জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।” (সূরা বাক্বারা: আয়াত শরীফ-২৬৭)

এখানে সম্পদের যাকাত, ফিতরা ও জমির ফসলের উশর ইত্যাদি ফরয, ওয়াজিব, নফল সকল প্রকার দান-ছদক্বার কথাই বলা হয়েছে। অর্থাৎ যেটা উত্তম উৎকৃষ্ট, মূল্যবান সেটাই দিতে হবে। যেটা নিকৃষ্ট, নি¤œমানের, নি¤œমূল্যের সেটা দেয়া তো দূরের কথা সেটা দেয়ার কল্পনা বা চিন্তা করাও যাবে না। কেননা খারাপটা কেউই গ্রহণ করতে চায় না। তাহলে মহান আল্লাহ পাক সেটা কি করে গ্রহণ করবেন। এখন কেউ যদি চোখ বন্ধ করে নিজের খেয়াল খুশি মতো সেটা দিয়ে দেয় সেক্ষেত্রে আল্লাহ পাক জানিয়েছেন দেখো, মহান আল্লাহ পাক তোমাদের এসব দানের মুখাপেক্ষী নন। তিনি গণী বা অভাবমুক্ত এবং হামীদ বা চরম প্রশংসিত।

অতএব, যেটা সবচেয়ে ভাল, পছন্দনীয় ও মূল্যবান সেটাই যাকাত হিসেবে দান করতে হবে। অন্যথায় তা আল্লাহ পাক উনার নিকট আদৌ কবুলযোগ্য হবে না।

ফতওয়ায়ে আলমগীরী, ক্বাযীখান, বাহরুর রায়িক, হিদায়া, আইনুল হিদায়া ইত্যাদি সুপ্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, হানাফী মাযহাবে শুধুমাত্র গম তথা আটার মূল্যে ছদাক্বাতুল ফিতর আদায় করতে হবে।

এছাড়া গম ও আটা এ দুয়ের মধ্যে আটা দান করার মধ্যে গরিবদের ফায়দা বা উপকারিতা বেশি। কারণ এতে গরিবদের বাড়তি কোন শ্রম ব্যয় ও ঘাটতি নেই। কিন্তু গমের মধ্যে শ্রম, ব্যয় ও ঘাটতি ইত্যাদি রয়েছে। যে কারণে এতে গরিবদের উপকার কম। ফলে, হানাফী মাযহাবে উন্নতমানের আটার মূল্যই ছদাক্বাতুল ফিতর আদায় করতে বলা হয়েছে।

 

মুহম্মদ আমীরুল ইসলাম

নরসিংদী।

 

সুওয়াল: এ বছর ছদাক্বাতুল ফিতর কত টাকা?

জাওয়াব: ছদাক্বাতুল ফিতর সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت عبد الله بن ثعلبة او حضرت ثعلبة بن عبد الله بن ابى صعير رحمة الله عليه عن ابيه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صاع من بر او قمح على كل اثنين صغير او كبير حر او عبد ذكر او انثى

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সা’লাবা অথবা হযরত সা’লাবা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু সুআইর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, এক সা’ গম বা আটা দু’ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায় করতে হবে- ছোট হোক বা বড় হোক, আযাদ হোক বা গোলাম হোক এবং পুরুষ হোক বা মহিলা হোক।” (আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবিক অর্ধ সা’ বলতে ১ সের সাড়ে ১২ ছটাক বুঝানো হয়েছে। যা গ্রাম হিসেবে ১৬৫৭ গ্রাম (প্রায়) হয়।

এ বছর অর্থাৎ ১৪৩৩ হিজরীতে ঢাকা শহরে ৩৪.৫০ টাকা কেজি হিসাবে অর্ধ সা’ অর্থাৎ এক সের সাড়ে বার ছটাক বা ১৬৫৭ গ্রাম আটার মূল্য- ৫৮ টাকা (প্রায়)।

যেমন, ১ কেজি বা ১০০০ গ্রাম আটার মূল্য ৩৪.৫০ টাকা।

প্রতি গ্রাম আটার মূল্য ৩৪.৫০/১০০০= ০.০৩৪৫ টাকা।

১৬৫৭ গ্রাম আটার মূল্য ১৬৫৭x  ০.০৩৪৫=৫৭.১৬৬৫ টাকা অর্থাৎ ৫৮ টাকা (প্রায়)। এর কম দেয়া যাবে না। তবে ইচ্ছা করলে বেশি দিতে পারবে।

যাদের উপর ছদাক্বাতুল ফিতর ওয়াজিব অর্থাৎ ঈদের দিন ছুব্হে ছাদিকের সময় যাদের নিকট নিছাব পরিমাণ (সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা এর সমপরিমাণ মূল্য, যা বর্তমানে ১,৪৫৮ টাকা তোলা হিসেবে ৭৬,৫৪৫ টাকা) সম্পদ থাকে, তাদের প্রত্যেককেই উল্লিখিত ১ সের সাড়ে ১২ ছটাক বা ১৬৫৭ গ্রাম আটা বা তার মূল্য দান করতে হবে।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় আটার দাম বিভিন্ন রকম। কাজেই যাদের উপর ছদাক্বাতুল ফিতর ওয়াজিব, তাদেরকে বর্তমান মূল্য হিসাবে একসের সাড়ে বার ছটাক বা ১৬৫৭ গ্রাম আটার মূল্য হিসাবে দিতে হবে।

মুহম্মদ হুমায়ূন কবীর

বরিশাল

 

সুওয়াল: ঈদের নামায কখন পড়া সুন্নত? জানতে বাসনা রাখি।

জাওয়াব: সূর্য পূর্ণভাবে উদিত হবার পর থেকে (অর্থাৎ মাকরূহ্ ওয়াক্ত শেষ হবার পর থেকে অথবা সূর্য উদয়ের শুরু থেকে ঘড়ির মিনিট অনুযায়ী ২৩মিঃ পর) ঈদের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয়। আর যাহওয়াতুল কুবরা বা যাওয়াল অথবা শরয়ী অর্ধদিন বা দ্বিপ্রহর অর্থাৎ সূর্যের এস্তাওয়া (বরাবর হওয়া) আরম্ভ হবার পূর্ব পর্যন্ত ঈদের নামাযের ওয়াক্ত থাকে।

ফজরের ওয়াক্ত শেষ হবার পর ২৩মিঃ পর্যন্ত মাকরূহ্ ওয়াক্ত এবং এর পর ঈদের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং যোহরের ওয়াক্ত শুরু হবার ১ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত ঈদের নামযের ওয়াক্ত থাকে। সূর্য পূর্ণভাবে উদিত হবার পর থেকে অর্থাৎ মাকরূহ্ ওয়াক্ত যা ঘড়ির হিসাব অনুযায়ী ২৩ মিনিট অতিক্রম হবার পূর্বে ঈদের নামায আদায় করলে নামায হবে না এবং যোহরের নামাজের ওয়াক্ত হবার পূর্বের ১ঘণ্টা যা মাকরূহ্ ওয়াক্ত নামে পরিচিত অর্থাৎ যাহওয়াতুল কোবরা বা সূর্যের এস্তাওয়া (বরাবর হওয়া) আরম্ভ হবার পর ঈদের নামায আদায় করলে তা আদায় হবে না।

ঈদের নামায কোন সময় আদায় করলে তা সুন্নত হবে সে সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “ঈদের দিন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফজরের নামায পড়ে হুজরা শরীফে যেয়ে সকাল সকাল গোসল করতেন এবং ঈদুল ফিতর-এর দিন বিজোড় সংখ্যক (৩, ৫,৭) খোরমা, খেজুর খেয়ে ঈদগাহে যেতেন। আর ঈদুল আযহার সময় কিছু না খেয়ে সরাসরি ঈদগাহে যেতেন এবং ঈদের নামাযের ওয়াক্ত হবার সাথে সাথে ঈদের নামায আদায় করতেন এবং তারপর খুৎবা দিতেন ও নছীহত করতেন।

“হযরত আবুল হোয়ায়রেস্ রদ্বিয়াল্লাল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আমর ইবনে হাযাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নাজরানের গভর্ণর থাকা অবস্থায় চিঠি দিয়ে আদেশ করেছেন, ঈদুল আযহার নামায খুব সকাল সকাল পড়বে এবং ঈদুল ফিতর-এর নামায ঈদুল আযহার চেয়ে অল্প একটু দেরীতে পড়বে এবং নামাযের পরে মানুষকে নছীহত করবে।”

কাজেই, ঈদের নামায সকাল সকাল পড়া সুন্নত। ঈদের নামাযের সম্মানার্থে এবং ঈদের নামায যাতে আদায় দেরি না হয়, সেজন্য ঈদের দিন ইশরাকসহ অন্যান্য নামায পড়া নিষিদ্ধ।

 

সাইয়্যিদা সফুরা তাসনীমা

কুড়িগ্রাম।

 

সুওয়াল: মহিলারা ঈদের নামায পড়তে পারবে কিনা?

জাওয়াব: মহিলাদের জন্য ঈদ ও জুমুয়ার নামায নেই। কারণ, ঈদ ও জুমুয়ার নামাযের জন্য জামায়াত শর্ত। হানাফী মাযহাব মতে, ইমাম ব্যতীত কমপক্ষে তিনজন মুছল্লী থাকতে হবে। অন্যথায় ঈদ ও জুমুয়া আদায় হবে না।

আর ফতওয়া হচ্ছে, মহিলাদের জন্য ঈদ হোক, জুমুয়া হোক, পাঞ্জেগানা হোক, তারাবীহ্ হোক কোন নামাযেই জামায়াতে আদায় করার জন্য মসজিদ ও ঈদগাহে যাওয়া জায়িয নেই। তা আম ফতওয়া মতে মাকরূহ তাহরীমী আর খাছ ফতওয়া মতে কুফরী।

অতএব, মহিলারা ঈদের নামাযে গেলে কঠিন গুনাহে গুনাহ্গার হবে। (এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হলে আল বাইয়্যিনাত ১১তম সংখ্যা পাঠ করুন, সেখানে প্রায় ৬৫টি দলীল পেশ করা হয়েছে। (দলীলসমূহঃ উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী, দুররুল মুখতার, ফতওয়ায়ে তাতারখানিয়া, খুলাছাতুল ফতওয়া, ফতুহুল ক্বাদীর, আলমগীরী)

 

মুসাম্মত মমতাজ বেগম

চান্দিনা কুমিল্লা।

 

সুওয়াল: কেউ কেউ বলে, রমযানের কাযা রোযা এবং শাওওয়াল মাসের নফল রোযা শাওওয়াল মাসে একই দিনে একত্রে উভয় রোযার নিয়তে রাখলে, একই সঙ্গে উভয় রোযা আদায় হয়ে যাবে এবং একই সাথে উভয় রোযার ছওয়াব পাবে।

তাদের এ বক্তব্য কতটুকু সঠিক?

জাওয়াব: যারা বলে, ছুটে যাওয়া রমযানের কাযা রোযা এবং শাওওয়ালের নফল রোযা একই সঙ্গে আদায় করলে আদায় হবে এবং ছওয়াবও পাবে তাদের উক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া, ভুল ও দলীলবিহীন।

সঠিক ফতওয়া হলো, রমযানের কাযা রোযা এবং শাওওয়ালের নফল রোযা একই দিনে একত্রে নিয়ত করে রাখলে কস্মিনকালেও উভয় রোযা আদায় হবে না এবং একইসঙ্গে উভয় রোযার ছওয়াবও পাবেনা।

বরং শুধুমাত্র রমযানের কাযা রোযা আদায় হবে। শাওওয়ালের নফল রোযা আদায় হবে না। কেননা রমযান মাসের ছুটে যাওয়া ফরয রোযার কাযা আদায় করা ফরয। আর শাওওয়াল মাসের রোযা হলো নফল।

এটাই মূল ফতওয়া। এর বিপরীত মত পোষণ করা গোমরাহী।

 

মুহম্মদ আনোয়ার হুসাইন

সউদী আরব

সুওয়াল:  ঈদের রাতের ফযীলত কি?

জাওয়াব: বছরে পাঁচ রাতে দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়। তার মধ্যে দু’ঈদের দু’রাত। এ রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগী, তাসবীহ পাঠ, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, দুরূদ শরীফ ও যিকির-আযকার করে রাত অতিবাহিত করা অতি উত্তম। দিলের নেক মকছূদসমূহ আল্লাহ পাক উনার নিকট জানালে আল্লাহ পাক তিনি তা কবুল করবেন।

হাদীছ শরীফে রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদতে মশগুল থাকবে, যেদিন অন্য সমস্ত দিল মরবে, সেদিন তার দিল মরবে না।” এর অর্থ হলো- ক্বিয়ামতের দিন অন্যান্য দিল পেরেশানীতে থাকলেও দু’ঈদের রাতে জাগরণকারী ব্যক্তির দিল শান্তিতে থাকবে। (তবারানী শরীফ)

মুহম্মদ বদরুজ্জামান

বাইরকাদি, কিশোরগঞ্জ।

 

সুওয়াল:  ঈদের দিনের সুন্নতসমূহ কি? জানালে কৃতার্থ হবো।

জাওয়াব:  ঈদের দিনের সুন্নত হলো- (১) খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠা, (২) গোসল করা, (৩) মিসওয়াক করা, (৪) সামর্থ অনুযায়ী নতুন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা, (৫) আতর ব্যবহার করা, (৬) নামাযের পূর্বে ছদকাতুল ফিতর আদায় করা, (৭) ঈদুল ফিতর নামাযের পূর্বে কিছু মিষ্টান্ন খাওয়া (৮) তিন, পাঁচ বা বেজোড় সংখ্যক খেজুর বা খুরমা খাওয়া, (৯) মহল্লার (এলাকার) মসজিদে গিয়ে ফজরের নামায পড়া, (১০) ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া, (১১) এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা, (১২) সকাল সকাল ঈদের নামায পড়ার জন্য যাওয়া, (১৩) ঈদের নামায ঈদগাহে গিয়ে পড়া। সম্ভব না হলে মহল্লার (এলাকার) মসজিদে গিয়ে ঈদের নামায পড়া, (১৪) আস্তে আস্তে নিম্নলিখিত দোয়া পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাওয়া

الله اكبر الله اكبر لا اله الا الله والله اكبر الله اكبر ولله الحمد

(১৫) শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে খুশি প্রকাশ করা ইত্যাদি ঈদের সুন্নত। (আলমগীরী, নূরুল ঈজাহ ও অন্যান্য ফিক্বাহর কিতাব)

 

মুহম্মদ আব্দুল্লাহ্

লাখাই, হবিগঞ্জ।

 

সুওয়াল:  ঈদের নামাযের পূর্বে কোন নফল ইবাদত বা কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা যাবে কি?

জাওয়াব: ঈদের নামাযের পূর্বে পুরুষ, মহিলা প্রত্যেকের জন্য নফল নামায আদায়, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ইত্যাদি মাকরূহ। (মারাকিউল ফালাহ, তাহ্তাবী, তাতারখানিয়া)

 

মুহম্মদ আব্দুল মালেক

কাউখালী, পিরোজপুর।

সুওয়াল:  ঈদের নামাযের খুৎবার পরে মুসাফাহা করা কি?

জাওয়াব:  ঈদের নামাযের খুৎবার পর মুছাফাহা করা জায়িয। (মুসাওওয়া/ শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ফতওয়ায়ে আমীনিয়া)

 

মুহম্মদ মুঈনুল ইসলাম

কাজলা, ঢাকা

 

সুওয়াল: সউদী আরবকে কেন্দ্র ধরে সারা বিশ্বে রোযা ও ঈদ পালন করার কথা অনেকে বলে থাকে। এ ব্যাপারে শরীয়তের ফায়ছালা জানতে ইচ্ছুক।

জাওয়াব: শরীয়ত তথা হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে-

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صوموا لرؤيته وافطروا لرؤيته فان غم عليكم فاكملوا العدة شعبان ثلاثين

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা রোযা রাখো (রমাদ্বান মাসের) চাঁদ দেখে এবং রোযা ছাড়ো অর্থাৎ ঈদ করো (শাওওয়ালের) চাঁদ দেখে। যদি মেঘের কারণে (অথবা অন্য কোন কারণে) চাঁদ দেখতে পাওয়া না যায়, তাহলে পূর্ণ করো শা’বান মাস ত্রিশ দিনে। (মুত্তাফাকুন আলাইহি)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার রেওয়ায়েতে বুখারী ও মুসলিম শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেছেন, আরবী মাস ২৯ দিন অথবা ৩০ দিনে হয়ে থাকে।

অর্থাৎ আরবী মাসের ২৯ তারিখ দিনের শেষে নতুন চাঁদ তালাশ করা শরীয়তের নির্দেশ। কেননা চাঁদ দেখার উপর মুসলমানের বহু ইবাদত-বন্দিগী আদায় করার বিষয়টি নির্ভর করে।

চাঁদ দেখার বিষয়টি ভুল হলে ইবাদত-বন্দেগীগুলোই পালনে ভুল হয়ে যাবে অর্থাৎ ইবাদত-বন্দেগীগুলো আদায় হবে না।

কাজেই, প্রত্যেক অঞ্চলের অধিবাসীকে প্রতিটি মাসের নতুন চাঁদ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দেখতে হবে। এটা ওয়াজিবে কিফায়ার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ প্রত্যেক অঞ্চলের কিছু লোককে অবশ্যই নতুন চাঁদ তালাশ করতে হবে; অন্যথায় যদি কেউ চাঁদ তালাশ না করে তাহলে সেই অঞ্চলের সকলেই ওয়াজিব তরকের কারণে কবীরা গুনাহে গুনাহগার হবে।

স্মরণীয় যে, যদি ২৯ তারিখ চাঁদ দেখা যায় তাহলে সন্ধ্যা থেকেই আরবী মাসের এক তারিখ শুরু হলো এবং সে হিসেবে সে মাসের সাথে সম্পর্কযুক্ত ইবাদত শুরু হয়ে যাবে। আর যদি ২৯ তারিখ চাঁদ দেখা না যায় তাহলে মাস ৩০ দিনে পুর্ণ হয়ে পরবর্তী মাস শুরু করতে হবে। এটাই হচ্ছে শরীয়তের নিয়ম।

উল্লেখ্য, চাঁদের বয়সের কারণে কোন মাস ২৯ দিনে আবার কোন মাস ৩০ দিনে হয়ে থাকে। এরপর আকাশ মেঘলা বা কুয়াশাচ্ছন্ন থাকার কারণে ২৯ তারিখ চাঁদ দেখার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও চাঁদ দেখতে না পাবার কারণে চাঁদের তারিখ ৩০ দিনে গণনা করতে হয়। ফলে একই তারিখে পৃথিবীর সব অঞ্চলে চাঁদ দৃশ্যমান হয়না এবং হওয়াটাও অসম্ভব। এছাড়া চাঁদের উদয়াস্থলের পার্থক্য তো আছেই। সঙ্গত কারণে পৃথিবীর কোন অঞ্চলে চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে সমগ্র পৃথিবীতে বা সারা দেশে কোন ইবাদত শুরু করা বা শেষ করা কখনই সম্ভব নয়।

অনেকে মনে করে, সউদী আরব যেহেতু পৃথিবীর মধ্যবর্তী দেশ, যেখানে কা’বা শরীফ রয়েছে, পবিত্র মক্কা শরীফ, পবিত্র মদীনা শরীফ অবস্থিত, কাজেই সেদেশের চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে সারা দেশের মুসলমানগণ একই সাথে রমাদ্বান শরীফ-এর রোযা শুর করতে পারে, ঈদ করতে পারে ইত্যাদি। এতে দোষের কি রয়েছে! আসলে যারা এমন ধারণা ও বক্তব্যের অধিকারী; এদের না আছে শরীয়তের আবশ্যিক ইলিম এবং না আছে ভৌগোলিক নূন্যতম জ্ঞান।

বস্তুত সউদী আরবের আকাশে চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সাথে কেবল হজ্জের বিষয়টি সম্পর্কযুক্ত। কেননা হজ্জ পালনের বিষয়টি মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ-এর সাথে সম্পৃক্ত। পৃথিবীর অন্য কোথাও হজ্জ পালনের নিয়ম বা বিধান নেই।

কাজেই, হজ্জের ন্যায় অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগীও সউদী আরবের সাথে মিল রেখে করতে হবে এ মতের প্রবক্তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণ জিহালতী ও গোমরাহী ব্যতীত কিছু নয়।

স্মরণীয় যে, “সউদী আরবের আকাশে চাঁদ না দেখে যেমনি হজ্জের সময় নির্ধারণ করা জায়িয নয়, তেমনি নিজস্ব উদয়স্থলে চাঁদ না দেখে রোযা, ঈদ ও অন্যান্য আমল পালন করাও জায়িয নয়। কারণ পৃথিবীর দুটি স্থানের সর্বোচ্চ সময়ের পার্থক্য ১৪ ঘণ্টারও বেশী। সুতরাং কখনো এক দিনে পৃথিবীর সব দেশে রোযা ও ঈদ পালন করা সম্ভব নয়।”

উল্লেখ্য, পৃথিবীর এমন অনেক স্থান আছে যেখানে সন্ধ্যা হলে অন্য স্থানে সকাল। আর আমরা জানি, শরীয়তের দিন শুরু হয় সন্ধ্যার পর থেকে। সুতরাং কোন স্থানের সন্ধ্যায় চাঁদ দেখে, যে স্থানে সকাল সেখানে যদি ঈদ পালন করতে হয় তবে ঐ স্থানের দিনটি হবে অপূর্ণ। কেননা, ঈদ পালনের দিনটির রাতটি তাহলে কোথায়? অথচ হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে ঈদের রাতে দোয়া কবুল হয়। তাহলে কোন স্থানের সন্ধ্যায় চাঁদ দেখে পৃথিবীর সব দেশে ঈদ পালন করতে চাইলে পৃথিবীতে বহু দেশের অধিবাসীরা এই দোয়া কবুলের রাত পাবে না। শরীয়তের পূর্ণ দিন পাবে না। আর এরকম অবস্থায় ঈদ, রোযা পালন করা শরীয়ত কখনো সমর্থন করে না।

শুধু ঈদই নয়, রোযার ক্ষেত্রেও তাই। পৃথিবীতে এমন অনেক স্থান আছে যেখানে সন্ধ্যায় রমাদ্বান শরীফ-এর চাঁদ দেখা গেলে অন্যস্থানে সকাল গড়িয়ে প্রায় দুপুর। যে অঞ্চলে সকাল সে অঞ্চলের অধিবাসীরা পূর্বে তারাবীহ পড়েননি, সাহরীও খাননি বরং সকালের নাস্তা শেষ করেছেন। তাহলে অন্য অঞ্চলের সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে সেই চাঁদ দেখে কিভাবে তারা রোযা পালন করবেন? তাহলে দেখা যাচ্ছে, সারা বিশ্বে একদিনে ঈদ এবং রোযা পালনকারীদের শরীয়তের ইলিমের যেমনি অভাব রয়েছে তেমনি রয়েছে ভৌগোলিক জ্ঞানের অভাব।

অনেকে বলে থাকে- যদি পৃথিবীর সব দেশের জুমুয়ার দিনে জুমুয়ার নামায আদায় হয় তাহলে এক দিনে ঈদ পালন করা সম্ভব নয় কেন? এ প্রশ্নকারীদের প্রশ্নটিই অবান্তর। পৃথিবীর সব দেশের জুমুয়ার দিনে যেমনি জুময়ার নামায আদায় হয় তেমনি সব দেশের পহেলা শাওওয়ালেই ঈদ পালিত হয়। অর্থাৎ একটি দেশের পহেলা শাওওয়ালের সকালে অন্য অনেক স্থানে ৩০শে রমাদ্বান সন্ধ্যা। আবার কোন দেশ পহেলা শাওওয়ালের ঈদ পালন করে সন্ধ্যায় যখন পৌঁছেছে তখন অন্য দেশে ঈদ পালন শুরু হয়েছে। যেহেতু পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে সময়ের পার্থক্য রয়েছে এবং এই পার্থক্য ১৪ ঘণ্টারও বেশি সুতরাং  কোন দেশে ঈদ পালিত হলে অন্য দেশে ঈদ পালন শেষ হবে; এটাই স্বাভাবিক এবং এটাই শরীয়তের নিয়ম। যার যার অঞ্চলে চাঁদ দেখে ঈদ এবং রোযা বা অন্যান্য দ্বীনী আমল পালন করতে হবে। কোন স্থানের শাওওয়ালের চাঁদ দেখে পৃথিবীর সব স্থানে ঈদ পালন সম্ভব নয় বরং অবান্তর।

পৃথিবীর এমন অনেক স্থান আছে সেখানে সউদী আরবের পূর্বে চাঁদ দেখা যায়। যদি কোন বছরের যিলহজ্জ মাসের চাঁদ সউদী আরবের পূর্বে অন্য কোন দেশে দেখা যায় এবং তার একদিন পর যদি সউদী আরবে যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দৃশ্যমান হয় তাহলে কি সউদী আরবের পূর্বে বা আগে প্রথমে যে স্থানে যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখা গেলো সে অনুযায়ী হাজীদের আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকতে হবে! যদি তাই হয়, তাহলে কারো হজ্জ আদায় হবে না। সউদী আরবের আকাশে যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখেই যিলহজ্জ মাস শুরু করতে হবে এবং তাদের ৯ই যিলহজ্জ তারিখে পৃথিবীর সব হাজীকে আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকতে হবে।

যারা একই দিনে ঈদ, রোযা পালন করার কথা বলে থাকে তাদের কোন যুক্তি নেই, দলীল নেই। বরং যা বলা হয় তা অবান্তর, যুক্তিহীন, দলীলহীন, মনগড়া এবং যা বাস্তবে কখনো প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। সুতরাং এক দিনে ঈদ পালনকারীদের উচিত এখনই এই অবান্তর বিষয়টি থেকে খালিছ তওবা করে শরীয়তের সঠিক পথ অনুসরণ করা।

 সুওয়াল – জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল – জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল – জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল – জাওয়াব বিভাগ