সুওয়াল: জাতীয় শিক্ষা বোর্ডের ষষ্ঠ শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের ৯ পৃষ্ঠায় লিখা হয়েছে, “যাঁদের নিকট আসমানী কিতাব এসেছিলো তাঁরা ছিলেন রসূল। আর যাঁদের নিকট কোনো আসমানী কিতাব আসেনি তাঁরা হলেন নবী। এখন আমার জানার বিষয় হলো উক্ত বইয়ের উক্ত বক্তব্য কতটুকু দলীলসম্মত? জানিয়ে বাধিত করবেন।

সংখ্যা: ২৩৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ ফজলে রাব্বী, চট্টগ্রাম


 

জাওয়াব: উক্ত বইয়ের উল্লিখিত বক্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে ভুল ও দলীলবিহীন এবং স্ববিরোধী।

কারণ, আসমানী কিতাব মুবারক হচ্ছে ৪খানা। আর ছহীফা মুবারক হচ্ছে ১০০ খানা। মোট ১০৪খানা কিতাব মুবারক ও ছহীফা মুবারক মোট ৮ জনের উপর নাযিল হয়েছে।

তাহলে তাদের কথায় বুঝা যায় যে, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন ৮ জন। নাউযুবিল্লাহ!

অথচ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্টভাবে ৮ জন এরও বেশি হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের নাম মুবারক উল্লেখ আছে।

শুধু তাই নয়, উক্ত বইয়ের ৯ পৃষ্ঠায় উল্লিখিত বক্তব্যের পরপরই তারা লিখেছে, “তন্মধ্যে মাত্র ৩১৩ (তিনশত তের) জন ছিলেন ‘রসূল’।

তাদের এ বক্তব্য স্ববিরোধী নয় কি?

প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে ১০৪খানা কিতাব মুবারক ও ছহীফা মুবারক ৩১৩ জনের উপর কিভাবে নাযিল হলো?

মূলকথা হলো- উল্লিখিত বইয়ে ‘রসূল ও নবী’ উনাদের যে সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুল, মনগড়া ও দলীলবিহীন।

হযরত নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনাদের সঠিক পরিচয় ও সংজ্ঞা হচ্ছে, যাঁদের নিকট সরাসরি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র ওহী মুবারক নিয়ে এসেছেন উনারাই ‘রসূল’। আর যাঁদের নিকট হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি সরাসরি পবিত্র ওহী মুবারক নিয়ে আসেননি উনারা হচ্ছেন নবী। এটা জানা অবশ্যই কর্তব্য যে, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম হওয়ার জন্য কিতাব নাযিল হওয়া শর্ত নয়। সে হিসেবে সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার ছহীহ মত হলো হযরত রসূল আলইহিমুস সালাম উনাদের সংখ্যা হচ্ছে ৩১৩ থেকে ৩১৫ জন। (দলীলসমূহ : উছূলুল কুরআন, তাফসীরে কবীর।)

অতএব, কর্তৃপক্ষের জন্য ফরয হচ্ছে অতিসত্তর উক্ত বইয়ের উক্ত বক্তব্য সংশোধন করে সঠিক বক্তব্য প্রকাশ করা।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।