সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৪৮ (বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী) ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা (১)

সংখ্যা: ২৬৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

কুতুবুদ্দীন আইবেক ছিলেন দিল্লীর মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা। প্রথম সুলতান।

এই মুসলিম সা¤্রাজ্য প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন সুলতানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। ইতোপূর্বের আলোচনার দ্বারা বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হয়েছে। কুতুবুদ্দীন আইবেক তিনি সুলতান শিহাবুদ্দীন মুহম্মদ ঘোরীর প্রতিনিধি ছিলেন। প্রতিনিধিত্ব লাভের পর প্রথমে তিনি আজমীর শরীফের জন্য সাইয়্যিদ হাসান মাশহুদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মনোনীত করেন। সেখানকার শাসনভার উনার হাতে অর্পন করেন। যিনি ‘খোংগে ছওয়ার’ নামে পরিচিত ছিলেন। খোংগে ছওয়ার অর্থ সাদা ঘোড়ার আরোহী। তিনি একজন আল্লাহওয়ালা ও বুযুর্গ ছিলেন। তিনি ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জাফর ছাদিক আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্রতম বংশধর। সুলতানুল হিন্দ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একান্ত ভক্ত ও অনুরক্ত ছিলেন।

তখনও তারাইনের যুদ্ধক্ষেত্রের রক্ত শুকায়নি। এরই মধ্যে মূর্তি পুজারীরা সতেজ হয়ে উঠলো। একদিন হিন্দুরা রাতের অন্ধকারে ভীমরাজের নেতৃত্বে আজমীর শরীফে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। সকলেই যখন ঘুমের ঘোরে অচেতন ঠিক তখনই তারা হামলা করলো। তাতে মুসলমানগণের অনেক ক্ষয় ক্ষতি হলো। অনেক মুসলমান শাহাদাতবরণ করলেন। এমনকি আজমীর শরীফের শাসনকর্তা সাইয়্যিদ হাসান মাশহুদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বীর বিক্রমে, শক্ত হাতে এই জিহাদ পরিচালনা করেন। অতঃপর তিনিও শাহাদাতবরণ করেন। শাহাদাতের সময় ছিল ছুবহি সাদিক।

আজমীর শরীফের শাসন ক্ষমতা হিন্দুদের হাতে চলে যায়। হিন্দু যোদ্ধারা ভীমরাজকে আজমীর শরীফের রাজা বানায়। মুর্তিপূজারীরা মন্দিরে মন্দিরে আনন্দে মেতে উঠে।

হিন্দুদের বিশ্বাসঘাতকতার এ খবর পৌঁছে দিল্লীপতি কুতুবুদ্দীন আইবেক উনার নিকট। তিনি এ হৃদয়বিদারক খবর শুনে বিমর্ষ হন। আর মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন যে, বিশ্বাস ঘাতকদেরকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে। কিন্তু ভীমরাজের দাম্ভিকতা বেড়েই চললো। সে ধর্মের নামে, ধর্মের দোহাই দিয়ে সৈন্য সংগ্রহ করতে লাগলো। দেখতে দেখতে সে বড় সৈন্যবাহিনী গঠন করে ফেললো।

এদিকে কুতুবুদ্দীন আইবেক এক বিশাল ও চৌকস বাহিনী নিয়ে ভীমরাজকে উচিত শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে অগ্রসর হলেন। আজমীর শরীফের সন্নিকটে এক বিশাল প্রান্তরে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো। যুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে গেল। যুদ্ধের এই অবস্থা দেখে কুতুবুদ্দীন আইবেক তিনি নতুন কৌশল অবলম্বন করলেন। অর্ধেক সৈন্যকে সামনে রেখে বাকী অর্ধেককে পাহাড় ঘুরে রাজপুতদের পিছন দিক থেকে আক্রমন করার নির্দেশ দিলেন। রাজপুতরা ভাবলো, মুসলমানগণ টিকতে না পেরে যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করেছে। কিন্তু একটু পরেই যখন পিছন দিক থেকে আক্রমন শুরু হলো তখন তারা আর যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকতে পারলো না। কে কোন দিকে যাবে তা স্থির করার পুর্বেই অসহায়ের মত মরতে লাগলো। যুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় ভেবে অবশিষ্টরা যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে পালাতে লাগলো। এমনকি ভীমরাজও মুসলমান সৈন্যগণের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে গেল। মুসলমান সৈন্যগণ তাকে জীবিত রাখা সমীচিন মনে করলেন না। তার মাথা দেহ থেকে আলাদা করে দিলেন। কুতুবুদ্দীন আইবেক বিজয় লাভ করলেন। হিন্দুদেরকে জনমের মত শিক্ষা দিলেন। মুসলমাগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার স্বাদ আস্বাদন করালেন।

কুতুবুদ্দীন আইবেক তিনি, পরে সুলতানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র দরবার শরীফে হাজির হলেন। উনার নিকটবর্তী হয়ে ক্বদম মুবারকে বুছা দিলেন। আর দোয়া ও ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ প্রার্থনা করলেন। সবিনয়ে আরজ করলেন, আজমীর শরীফের শুন্য মসনদে কাকে বসাবেন? মনের গহীন কোঠায় লুকায়িত আকুতি পেশ করলেন যে, যদি মেহেরবানী করে আপনি সে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তাহলে আমাদের সবার জন্য তা হবে হিতকর, কল্যাণের কারণ।

সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কুতুবুদ্দীন আইবেক উনাকে থামিয়ে দিলেন। বললেন, এ কাজের জন্য আমরা আদিষ্ট হইনি। এটা দরবেশগণের কাজ নয়। এটা দুনিয়াদারদের কাজ। এ ব্যাপারে তোমার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। তুমি যাকে পছন্দ ও উপযুক্ত মনে করো তাকেই সিংহাসনের দায়িত্বভার অপর্ন করো। এ ক্ষেত্রে আমাকে আর কখনো কোন কিছু জিজ্ঞাসা করবে না। কুতুবুদ্দীন আইবেক তিনি কোন বাক্য ব্যয় করলেন না। সুলতানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্বদম মুবারকে পূনরায় বুছী দিয়ে বিদায় হলেন। আর আজমীর শরীফের সিংহাসনে সাইয়্যিদ হাসান মাশহুদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চাচা সাইয়্যিদ ওয়াজীহুদ্দীন মাশহুদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বসালেন। পবিত্র আজমীর শরীফের উপর মুসলমানগণের একচ্ছত্র আধিপত্র প্রতিষ্ঠিত হলো। সকল প্রকার অপবিত্রতা, কলুষতা দূর হলো। সুবহানাল্লাহ!

সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদ যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৩৭ (বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৫৩ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-৫৭-মুহম্মদ সা’দী

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাত্বিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-২০৭ -মুহম্মদ সা’দী

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৬৪ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)  মুতাহ্হার, মুতাহ্হির, সাইয়্যিদুনা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মান  ও ফযীলত