সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদ যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-২৮ (বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)

সংখ্যা: ২৫৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সফর

কুতুবুল মাশায়িখ, সুলতানুল হিন্দ, কুতুবুল বাররি ওয়াল বাহার, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র জীবনী মুবারক উনার বিরাট একটি অংশ সফরে অতিবাহিত হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার নিদর্শনরাজী দর্শনে তায়াল্লুক-নিছবত মুবারকে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছার ক্ষেত্রে এই সফর বিরাট ভূমিকা পালন করেছিল।

তিনি নিজেই বর্ণনা করেন, “আমি বাগদাদ শরীফে আমার পীর ও মুর্শিদ ক্বিবলা সুলতানুল আউলিয়া, শামসুল আরিফীন, কুতুবুল আকতাব, সাইয়্যিদুনা হযরত উসমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র যিয়ারত মুবারক ও ক্বদমবুছী মুবারক হাছিলের সৌভাগ্য অর্জন করলাম। আর সেই সময় যুগশ্রেষ্ঠ অনেক ওলীআল্লাহ উনার মুবারক খিদমতে উপস্থিত ছিলেন। আমার পীর ও মুর্শিদ ক্বিবলা আমার প্রতি দয়া পরবশ হয়ে আমাকে দু’রাকায়াত নামায আদায়ের নির্দেশ মুবারক দিলেন। আমি যথাযথভাবে তা পালন করলাম। আমার নামায শেষ হলে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। আমার হাত ধরে আকাশের দিকে মুখ করে বলতে লাগলেন, আয় বারে ইলাহী! আমি আমার প্রিয় মুঈনুদ্দীন উনাকে আপনার কুদরতী হাত মুবারকে সমর্পন করলাম।

তারপর পবিত্র খানকা শরীফে, সম্মানিত তরীক্বা উনার নিয়ম অনুযায়ী রিয়াযত-মাশাক্কাতে নিয়োজিত রইলাম। কিছুদিন পর আমার মহা সম্মানিত পীর ও মুর্শিদ ক্বিবলা সুলতানুল আউলিয়া, সাইয়্যিদুনা হযরত উসমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি পবিত্র মক্কা শরীফ চলে গেলেন। আমাকেও উনার সফর মুবারকের সাথী বানালেন। সেখানে আমাকে নাওদান (পানির নালা) এর নিচে দাঁড়াতে বললেন। নির্দেশ মুবারক পেয়ে আমি সেখানে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে দোয়ায়ে খইর (উৎকৃষ্ট দোয়া) করলেন। গইবী নেদা (অদৃশ্য) আওয়াজ ভেসে এলো “আমি মুঈনুদ্দীন উনাকে গ্রহণ করলাম।”

তারপর তিনি আমাকে নিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফে গেলেন। আমরা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওজা শরীফ উনার নিকটবর্তী হলাম। আমার মহান পীর ও মুর্শিদ ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আমাকে আদেশ করলেন সালাম করুন। আমি সালাম করলাম।  পবিত্র রওজা শরীফ হতে আওয়াজ মুবারক এলো-

وعليكم السلام يا قطب البر والبحر

অর্থ: “হে যমীনের উপরিভাগের কুতুব! আপনাদের উপরেও মহান আল্লাহ পাক উনার সালাম (শান্তি) বর্ষিত হউক।”

আমার মহান পীর ও মুর্শিদ ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি কামালিয়াতে পরিপূর্ণতার স্তরে পৌঁছে গেছেন। আজ তারই সত্যায়ন বা স্বীকৃতি পেলেন। সুবহানাল্লাহ!

আমরা পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে রওয়ানা হয়ে বদাখশানে পৌঁছলাম। সেখানে একজন বুযুর্গ ব্যক্তির সাক্ষাত পেলাম। যিনি সাইয়্যিদুত ত্বয়িফা হযরত জুনাইদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বংশধর ছিলেন। তখন উনার বয়স মুবারক হয়েছিল ১৪০ বছর। তিনি সবসময় মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। উনার একটি পা মুবারক মুল থেকে কাটা ছিল। আমরা দেখে অবাক হলাম। পা না থাকার কারণ জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি উত্তরে বললেন, আমি দীর্ঘকাল যাবত এ ইবাদতখানায় অবস্থান করছি। কখনো নফস বা প্রবৃত্তির ইচ্ছায় বাইরে বের হইনি। একবার এমন হলো যে, নফসের প্ররোচনায় কর্তিত পাখানা ইবাদতখানার বাইরে বের করেছি, অপরটি বের করে বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এমন সময় গইবী নেদা (অদৃশ্য আওয়াজ) হলো হে তায়াল্লুক, নিছবত ও কুরবত, নৈকট্য তালাশকারী! আমার সাথে ওয়াদাবদ্ধ হওয়ার কথা কি ভুলে গেলেন?

এই গইবী নেদা (অদৃশ্য আওয়াজ) শুনে সাবধান হলাম। আর ওয়াদা ভঙ্গের জন্য এমনভাবে অনুতপ্ত হলাম যে, বেকারার হয়ে পড়লাম। খাপ থেকে তরবারী বের করে বাইরে বের হওয়া পা কেটে বাইরে ফেলে দিলাম। এই ঘটনা ঘটেছে ৪০ বছর পূর্বে। সে সময় হতে অদ্যবধি সৃষ্টির দর্শন থেকে বিচ্ছিন্ন ও লজ্জিত আছি যে, কাল ক্বিয়ামতের দিন ওলীআল্লাহগণ উনাদের সামনে মুখ দেখাবো কি করে?

আমাদের পরবর্তী গন্তব্যস্থল ছিলো বোখারা। সেখানে প্রায় সব মাশায়িখগণের সাথে সাক্ষাত করলাম। উনাদের মধ্যে প্রত্যেকেই এমন সৌন্দর্য মুবারকে অধিকারী ছিলেন যে, উনাদের প্রশংসা বর্ণনাতীত। এমনি সফর করতে করতে দশটি বছর স্বীয় সম্মানিত পীর ও মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে কাটালাম। সফরের উপযোগী প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র মাথায় করে পথ চলতাম। সফরের দশ বছর পূর্ণ হলে আমরা পবিত্র বাগদাদ শরীফে এসে পৌঁছলাম। তারপর আমার মহান পীর ও মুর্শিদ ক্বিবলা বিশেষ ইবাদত-বন্দেগীর জন্য নির্জনতা অবলম্বন করলেন। আর আমাকে বললেন, আমি হুজরা শরীফ থেকে বাইরে বের হবো না। আপনি প্রতিদিন একবার আমার কাছে চলে আসবেন। বিশেষ কিছু কথা বলবো- যা আমার অবর্তমানে আপনার কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সুবহানাল্লাহ! (আনীসুল আরওয়াহ-১৮)

সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-১৭৩ -মুহম্মদ সাদী

পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম (২২) উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-১৯ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

সুলতানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদ যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৩ (বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-১৭৪