হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২২৫): তাওয়াক্কুল উনার মাক্বাম হাছিলের পথে ফানা বা বিলীন কতিপয় আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম -আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম

সংখ্যা: ২৬৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

সাইয়্যিদুল মুতাওয়াক্কিল, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খাওয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন, আমি একবার শাম দেশে একজন সুদর্শন চেহারা বিশিষ্ট ও উত্তম পোষাক পরিহিত যুবককে দেখতে পেলাম। যুবকটি বললো, আমি আপনার সঙ্গে সফর করতে চাই। আমি বললাম, অনাহারে থাকতে হবে। সে বললো, আমি রাজি আছি। আমরা আহার ব্যতীত চারদিন পর্যন্ত সফর করলাম। চতুর্থ দিন একস্থানে গিয়ে একটি দস্তরখানের উপর নানা প্রকারের খাদ্য-দ্রব্য সাজানো দেখতে পেলাম। আমি আমার সঙ্গী যুবকটিকে বললাম, আস, খাও।

সে বললো, আমি সংকল্প করেছি যে, কোনো মাধ্যম থাকা পর্যন্ত আমি কিছুই খাবো না। আমি বললাম, হে যুবক! তুমি যে সূক্ষ্ম কথা চিন্তা করেছো তা কার্যকরী করা অসম্ভব। সে বললো, হে ইবরাহীম খাওয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি! পাগলামী করবেন না। মহান আল্লাহ পাক যাচাইকারী বিদ্যমান রয়েছেন। বুঝতে পারলাম যে, আপনার নিকট তাওয়াক্কুল বলতে কিছু নেই। অতঃপর বললো, মনে রাখুন যে, সর্বনিম্ন স্তরের তাওয়াক্কুল এই যে, যখন আপনি দুঃখ-কষ্ট ও অনাহারের সম্মুখীন হবেন তখন কোনো বাহানার আশ্রয় নিবেন না। সেই অবস্থায়ও আপনি তাওয়াক্কুলই করতে থাকবেন। ইহা আপনার জন্য যথেষ্ট।” (তাযকিরাতুল আউলিয়া-৩/১৭৭)

সাইয়্যিদুল মুতাওয়াক্কিল, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খাওয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন, আমি একবার একটি জঙ্গলের মধ্যে একজন কুৎসিত কদাকার চেহারা বিশিষ্ট লোককে দেখতে পেলাম। উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার পরিচয় কি? তিনি বললেন, আমি একজন অসহায় বৃদ্ধ লোক। পবিত্র মক্কা শরীফ যাচ্ছি।

আমি উনাকে বললাম, আপনার কাছে পথের পাথেয়-সম্বল এবং সাওয়ারী কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। তিনি বললেন, আমাদের দলের সকলেই এরূপে তাওয়াক্কুলের উপর সফর করছেন। যেমন আপনি করতেছেন। আমি বললাম, তাওয়াক্কুল কি?

তিনি বললেন, খালিক্ব মালিক রব, মহান আল্লাহ পাক উনার থেকেই গ্রহণ করা। (তাযকিরাতুল আউলিয়া-৩/১৭৮)

সাইয়্যিদুল মুতওয়াক্কিল, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খাওয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি সফর করতে করতে একবার এক প্রান্তরে পৌঁছলাম। পথ ভুলে অন্যপথে যেতে শুরু করলাম। ইতোমধ্যে একজন লোককে দেখলাম। তিনি আমাকে সালাম করে বললেন, মুহতারাম! আপনি পথ ভুলে গেছেন। আমার সাথে আসুন। কয়েক ক্বদম চলতেই লোকটি অদৃশ্য হয়ে গেলেন। পরে আমি গভীরভাবে লক্ষ করে দেখলাম আমি ঠিক পথে এসে পৌছেছি। তারপর আর কখনো ভুলিনি। আর আমার কোনো ক্ষুধা ও পিপাসা অনুভব হয়নি। সুবহানাল্লাহ!

তিনি আরো বলেন, একদা আমি কোনো এক পথে যাচ্ছিলাম। রাতে এক পোড়া বাড়ীতে গিয়ে উপস্থিত হলাম। সেখানে বিরাট আকারের একটি বাঘ দেখে শঙ্কিত হলাম।

একটি গাইবী নিদা (আওয়াজ) শুনতে পেলাম। ভয় পাবেন না। আপনার হিফাযতের জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম নিযুক্ত করেছি। (তাযকিরাতুল আউলিয়া-১/১৭৮)

কুদওয়াতুল আউলিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ ইসহাক ইবরাহীম ইবনে আদহাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাওয়াক্কুল

কুদওয়াতুল আউলিয়া, যীনাতুল আরিফীন, সুলত্বানুল আরিফীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম ইবনে আদহাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সুলূকের পথে রিয়াদ্বত-মাশাক্কাতের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, একদিন আমি এক জঙ্গলে পৌছলাম। হঠাৎ এক বৃদ্ধ ব্যক্তি আমার সামনে উপস্থিত হলো। সে আমাকে বললো, হে ইবরাহীম রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি কি জানেন এটা কত বরকতময় স্থান? এখানে আপনি বিনা খরচে উপস্থিত হয়েছেন? আমি বুঝতে পালাম, এতো মানুষরূপী শয়তান। সে আমাকে মহান আল্লাহ পাক ব্যতীত অন্য কিছুর প্রতি আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। তখন আমার পকেটে রূপার চারটি মুদ্রা ছিল। আমি বের করে দূরে নিক্ষেপ করলাম। একেবারে রিক্ত হস্ত হলাম।

তারপর আমি চার বছর এই বনে থাকি। অথচ কোন পরিশ্রম ছাড়াই মহান আল্লাহ পাক তিনি খাবারের ব্যবস্থা করে দেন। আর তখন থেকে আমার অন্তর মহান আল্লাহ পাক ব্যতীত অন্য কিছুর চিন্তা থেকে মুক্তি লাভ করেছেন। (কাশফুল মাহযূব-১২৯)

ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছার মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১৫৪)

ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছার মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১৫৫)

ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছার মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১৫৬)

ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছারল ল মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১৫৭)

মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১৫৮)