হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০৮)

সংখ্যা: ২৪৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০৮)

হুসনুল খুল্ক্ব বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।


হুসনুল খুলক বা সচ্চরিত্রবান হওয়ার জন্য সালিক বা মুরীদকে অরা’ উনার মাক্বাম ত্বয় বা হাছিল করা প্রয়োজন। কেননা ورع (অরা’) উনার মাক্বাম ত্বয় বা হাছিল করতে পারলে মুর্শিদ ক্বিবলা উনার খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দেয়া সহজ ও সম্ভব হবে। সাথে সাথে উনার সাথে তায়াল্লুক মুবারক, নিছবত মুবারক দৃঢ় হবে। মুহব্বত ও নৈকট্য মুবারক গভীর হবে।

ورع (অরা’) উনার মাক্বাম এবং তা হাছিলের উপায়।

خفى (খফী) লতীফা ورع (অরা’) উনার মাক্বাম। সালিক বা মুরীদ যখন গভীর ও নিবিড় মনোযোগের সাথে, আদব ইহতিরাম, মুহব্বত ও গুরুত্ব সহকারে খফী লতীফা উনার সবক আদায় করতে থাকে। পক্ষান্তরে পরহেযগারীতার খিলাফ কাজ কর্ম, কথা-বার্তা, আচার-আচরণ থেকে বিরত থাকার কোশেশ করে তখন শায়েখ আলাইহিস সালাম উনার ফায়িয তার উপর বর্ষিত হতে থাকে। ফলে এক সময় ورع (অরা’) উনার মাক্বাম ত্বয় বা হাছিল হয়ে যায়। আর তখনই সেই মাক্বাম হাছিল বা প্রাপ্তির নিয়ামতরাজির সৌভাগ্য নছীব হয়। সে হয় তাক্বওয়ার অধিকারী, অত্যন্ত পরহেযগার। মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বাধিক প্রিয়, নৈকট্যশীল বান্দা ও উম্মত। সে মাক্বাম সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনার ইরশাদ মুবারক হচ্ছে-

ان اكرمكم عند الله اتقاكم

অর্থ: “নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যে অধিক তাক্বওয়ার অধিকারী সে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সর্বাধিক সম্মানিত।” (পবিত্র সূরা হুজুরাত শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)

ورع (অরা’) শব্দের অর্থ, তাক্বওয়া, পরহেযগারী। অর্থাৎ পরহেযগারী অবলম্বন করা ও সন্দেহজনক বিষয়-বস্তু হতে বেঁচে থাকাকে ورع (অরা’) বলা হয়।

ফকীহ আল্লামা আবু লাইছ সমরকন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

الورع الخالص ان يكف بصره عن الحرام ويكف لسانه عن الكذب والغيبة ويكف جميع اعضائه وجوارحه عن الحرام.

অর্থ: “প্রকৃত অরা’ হলো হারাম বস্তু- বিষয় হতে দৃষ্টি অবনত রাখা। মিথ্যা ও গীবত হতে জিহ্বাকে সংযত রাখা। আর সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে হারাম বিষয় ও বস্তু থেকে বিরত রাখা।”

প্রথমত নিজের নফসের উপর বল বা শক্তি প্রয়োগ করত: বিরত হতে হয়, যা কষ্টসাধ্য। তবে কিছুদিন পর তা স্বাভাবিক হয়। অর্থাৎ পরে বল বা শক্তি প্রয়োগ করতে হয় না। আপছে-আপ বা সহসাই অভ্যাসে পরিণত হয়। এমনকি পরে হারাম ও সন্দেহমূলক বিষয়-বস্তুর প্রতি ঘৃণা পয়দা হয়।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “কোন ব্যক্তি পূর্ণ মুত্তাক্বী হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে গুনাহে লিপ্ত হওয়ার ভয়ে অনেক সন্দেহজনক কাজ পরিত্যাগ না করে। (তিরমিযী শরীফ)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

الحلال بين والحرام بين وبينهما امور مشتبهات لايدرى كثير من الناس امن الحلال هى ام من الحرام فمن تركها مستبر لدينه وعرضه فقد سلم ومن واقع شيئا منها يوشك ان يواقع الحرام كما انه من يرعى حول الحمى يوشك ان يواقع.

অর্থ: “হালাল সুস্পষ্ট হারামও সুস্পষ্ট। আর এতদুভয়ের মাঝে সন্দেহজনক কিছু বিষয় আছে যা অনেক লোকেই জানে না যে, তা হারাম না হালাল। কাজেই যে ব্যক্তি সম্মানিত দ্বীন এবং সম্মান রক্ষার্থে ঐ সকল বিষয় পরিত্যাগ করে সে মূলতঃ নিরাপদ থাকে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি সন্দেহজনক কাজে নিপতিত হয়, তার হারাম কাজ-কর্মে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন, কেউ নিষিদ্ধ ও সংরক্ষিত এলাকার আশে পাশে পশুচারণ করলে তার পশু নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকে।” (তিরমিযী শরীফ)


-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম

ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছার মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১২৭)

-ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছার- মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১২৮)

ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছার মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১২৯)

ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছারল মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১৩০)

ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছার মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১৩১)