হানাফী মাযহাবের আক্বাইদের ইমাম, ইমামু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ হযরত ইমাম আবু মানছূর আল মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বিছাল শরীফ ৩৩৩ হিজরী

সংখ্যা: ২০৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

হযরত ইমাম মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পূর্ণ নাম মুবারক হচ্ছে আবূ মানছূর মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ ইবনে মাহমুদ। উনাকে ইমামুল হুদা অর্থাৎ হিদায়েত ও আলোর দিশারী এবং ইমামু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

আল মাতুরীদ শব্দটি সমরকন্দের একটি এলাকার নাম ছিল। কারো মতে সমরকন্দের উপকণ্ঠে অবস্থিত মাতুরীদ নামক উক্ত একটি পল্লীতে তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেন। কোন জীবনীকার উনার বিলাদত শরীফ-এর তারিখ উল্লেখ করেননি। হযরত ইমাম মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বিশ্ব বিখ্যাত বড় বড় ইমাম মুজতাহিদগণ উনাদের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেন। যেমন- প্রচলিত হযরত ইমাম মুহম্মদ ইবনে মুকাতিল, নাসির ইবনে ইয়াহইয়া বালাখী, ইমাম নাসর ইয়াদ ও শায়খ আবু বাকর আহমাদ জুযজানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের নিকট তিনি শিক্ষা লাভ করেন। এক পর্যায়ে তিনি দুই মধ্যস্থতায়ই হযরত ইমাম আবু ইউসুফ ও হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমা উনার ছাত্র ছিলেন। বিশ্ব বিখ্যাত অনেক বড় বড় ইমাম-মুজতাহিদগণ হযরত ইমাম মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছাত্র ছিলেন। উনার ছাত্রদের মধ্যে হযরত ইসহাক ইবনে মুহম্মদ রকানদী, আলী রুস্তাগফানী ও আব্দুল করীম আল রাবী, (যিনি প্রখ্যাত হানাফী ফক্বীহ ও ইলমুল উসূলের বিজ্ঞ ফাখরুল ইসলাম আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনিল হুসাইন আবদিল কারীম আল বাইদ্বাবী (বিছাল ৪৮২/১০৮৯) উনার প্রপিতামহ উনার নাম উল্লেখযোগ্য।

হযরত ইমাম আবু মানছূর আল মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিপুল সংখ্যক মূল্যবান কিতাব রচনা করেছেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কিতাবুত তাওহীদ, কিতাবুল মাক্বালাত, রদ্দু আহলিল আদিল্লা লিল কা’বী, বায়ানু আওহামিল মু’তাযিল, আর রাদদু আলাল কারামিতা, মাখাযুশ শারাই ফী উছূলিল ফিক্বহ, কিতাবুল জাদাল, শারহুল ফিক্বহিল আকবার লিআবী হানীফা (ইহা হায়দারাবাদ, দাক্ষিণাত্য হতে ১৩২২ হিজরী প্রকাশিত হয়) উসুসুল ফিক্বহ ও তাবীলাতুল কুরআন, তাবীলাতু আহলিস সুন্নাহ, তাফসীরুল মাতুরীদী। সকল জীবনীকারক আল মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিছাল শরীফ ৩৩৩ হিজরী লিখেছেন।

হযরত ইমাম আবু মানছূর মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে ইমামুল মুতাকাল্লিমীন, ইমামু ইলমিল আক্বাইদ তথা আক্বাইদ বা বিশ্বাস শাস্ত্রের ইমাম ও মুছলিহু আক্বাইদিল মুসলিমীন অর্থাৎ মুসলমানগণের আক্বীদা বা বিশ্বাস শাস্ত্রের সঠিক ফায়ছালা দানকারী বলা হতো। মু’তাযিলা সম্প্রদায় কুরআন শরীফ-এর যেসব ভ্রান্ত ব্যাখ্যা প্রদান করেছিলো এর প্রতিবাদে ও খণ্ডনে হযরত ইমাম মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাবীলাতুল কুরআন নামে একখানি গ্রন্থ রচনা করেন। বলা হয় যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ এর চিন্তাধারার আলোকে এটা একটা অমূল্য গ্রন্থ। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের নিকট দুজন ব্যক্তি অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রিয় বলে গণ্য। উনাদের মধ্যে একজন শাফিয়ী মাসলাকের আলিম ও শাফিয়ী মাযহাবের আক্বাঈদের ইমাম। তিনি হচ্ছেন ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাঈল আল আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। আর অন্যজন হচ্ছেন বিখ্যাত হানাফী মাযহাবের আলিম। আর তিনিই হচ্ছেন হযরত ইমাম আবু মানছূর আল মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি। একথা সর্বজন স্বীকৃত যে, উনারা দুজন হলেন সুন্নী ইলমুল কালামের দুই মেরু এবং সর্বজনস্বীকৃত ইমাম। উনাদের উভয়ের চিন্তাধারাকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের সকল মাশায়িখ ও উলামাগণ নিজেদের হিদায়েত লাভ ও পথভ্রষ্টতা হতে আক্বীদা বিশ্বাসকে রক্ষা করার অবলম্বন মনে করে থাকেন।

এতদ্বসত্ত্বেও হযরত ইমাম আল মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইলমুল কালামে অনেক ক্ষেত্রে হযরত ইমাম আল আশআরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে মতবিরোধ করেছেন। হযরত ইমাম আল আশআরী রহমতুল্লাহি আলাইহি যেহেতু ফিকহী মাসয়ালায় হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনুসারী ছিলেন, তাই শাফিয়ী উনাদের নিকট উনার ইলমুল কালাম স্বীকৃতি লাভ করেছে। অন্যদিকে ইমাম হযরত আবু মানছূর আল মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফিক্বহি মাসয়ালায় হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনুসারী ছিলেন। ফলে হানাফীদের নিকট উনার ইলমুল কালাম এত অধিক সমাদৃত হয়েছে যে, প্রাচীনকালে ফিক্বহী মাসয়ালা ও ইলমুল কালামের পরস্পর সামঞ্জস্য অপরিহার্য সাব্যস্ত হয়েছিল। কোন কোন মাসয়ালায় হযরত ইমাম আল আশয়ারী ও হযরত ইমাম আবূ মানছূর আল মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের সামান্য কিছু মতভেদ দেখা যায়। মূলত এই মতবিরোধ মৌলিক কোন বিষয় ছিল না, বরং এটা শাখাগত বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কাজেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আক্বাঈদে আশয়ারিয়্যাহ ও মাতুরীদীয়্যাহ চিন্তাধারা এক অভিন্ন। কোনো কোনো মাসয়ালায় উনাদের মধ্যে যে সামান্য মতবিরোধ পরিলক্ষিত হয়, তা কোন দোষের কারণ নয়। এর দ্বারা কারো কারো দ্বীনী ইলম ও আক্বীদার ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মূলত উনারা দু’জন মহান আলিমের মধ্যে কোনো কোনো শাখাগত বিষয়ে যে মতবিরোধ পাওয়া যায়, সেই সম্পর্কে যদিও কেউ কেউ স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এ সম্পর্কিত সর্বোৎকৃষ্ট গ্রন্থ আর রওদাতুল বাহিয়্যাতু ফীমা অক্বায়া বাইনাল আশাইরিয়্যাহ ওয়াল মাতুরীদীয়্যাহ)। এটা আবু উযবা আল হাসান ইবনে আবদিল মুহাসিন কর্তৃক বিরচিত এবং হায়দরাবাদ, দক্ষিণাত্য হতে ১৩২২ হিজরী সালে প্রকাশিত। মাতুরীদী ও আশয়ারীদের মধ্যে মতভেদযুক্ত মাসয়ালার সংখ্যা অনেকে ৫০, অনেকে ৪০, কেউ ১৩ আবার কেউ মাত্র ৩টি বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লামা শিবলী এরূপ নয়টি মাসয়ালার তালিকা দিয়েছেন।

যা মূলত: اختلاف امتى رحمة “আমার উম্মতের মতভেদ রহমতপূর্ণ” এ হাদীছ শরীফ-এর মিছদাক্ব।

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান-এর দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৩৫

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান-এর দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৩৬

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান-এর দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৩৭

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান-উনার দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৩৮

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান-উনার দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৩৯