হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

সংখ্যা: ২১২তম সংখ্যা | বিভাগ:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহমতে æফতওয়া ও গবেষণা বিভাগ মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র æমাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. ক্বদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইনজেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহকাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়ছালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ বা পাগড়ী মুবারক-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহর বা ইহতিয়াতুয যোহরের আহকাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা) ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়ছালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযিলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলার শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রঙয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা), ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো নাজায়িয হারাম হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুতবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় খুতবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা), ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাতের আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫তম সংখ্যা থেকে চলমান), ৩১. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২০৩) পেশ করার পর-

৩২তম ফতওয়া হিসেবে

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে æহানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট

বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরিকী ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- æমাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ æমাসিক আল বাইয়্যিনাতে” এমন সব লেখাই পত্রস্থ  হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ করণে বিশেষ সহায়ক।

তদ্রুপ ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাতে’ æহানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” দেয়ার মাকছুদ এবং উদ্দেশ্যও ঠিক তাই।

স্মর্তব্য যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালাম পাক-এ ‘সূরা মায়িদা’র’ ৮২নং আয়াত শরীফে ইরশাদ করেন-

لتجدن اشد الناس عداوة للذين امنوا اليهود والذين اشركوا

অর্থ: æতোমরা তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে ইহুদীদেরকে। অতঃপর যারা মুশরিক তাদেরকে।”

মূলতঃ এই ইহুদীরাই মুনাফিক সেজে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া  সাল্লাম উনাকে কষ্ট দিয়েছিল, উনাকে শহীদ করার চক্রান্ত করেছিল। এই ইহুদীরাই মুনাফিকী করে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের পরস্পরের মাঝে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চালিয়েছিল। আর মূলতঃ এই ইহুদীরাই মুসলমানের ঈমান-আমল বিনষ্ট করে দ্বীন ইসলামে ফিৎনা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বাতিল ফিরকার জন্ম দিয়েছে। অর্থাৎ শিয়া, খারিজী, মু’তাযিলা, জাবারিয়া, ক্বদরিয়া, দেওবন্দী, তাবলীগী, মওদুদী, লা-মাযহাবী ও ওহাবী ইত্যাদি বাতিল ফিরকাগুলো ইহুদীদেরই এজেন্ট। এছাড়া খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারী ও নতুন ধর্মের দাবীদার কাদিয়ানী ও বাহাইও ইহুদীদের এজেন্ট।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো- ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেল, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। যেমন, তারা প্রচার করছে- ফরয নামাযের পর মুনাজাত করা বিদয়াত ও হারাম। নিয়ত করে রওযা শরীফ ও মাযার শরীফ যিয়ারত করা শিরক, কদমবুছী করা নাজায়িয ও শিরক, মাযহাব মানার কোন প্রয়োজন নেই, পীর-মুরীদী শরীয়ত বিরোধী প্রথা, মীলাদ ক্বিয়াম করা র্শিক-বিদ্য়াত, শবে বরাত পালন করা বিদ্য়াত, তারাবীহ নামায জরুরী কোন নামায নয়, আট রাকায়াত তারাবীহ পড়লেই চলে ইত্যাদি ইত্যাদি। (নাঊযুবিল্লাহ) অথচ উল্লিখিত প্রতিটি বিষয়ই কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ তথা শরীয়তসম্মত এবং তন্মধ্যে কোনটা সুন্নত আবার কোনটা  ফরয।

পক্ষান্তরে উলামায়ে ‘ছূ’ তথা দুনিয়াদার মাওলানারা ছবি, টেলিভিশন, সিনেমা, নাটক, নোবেল, হরতাল, বেপর্দা হওয়া, নারী নেতৃত্ব মানা, ভোট দেয়া, রোযা অবস্থায় ইনজেকশন নেয়া, মহিলাদের  জামায়াতের জন্যে মসজিদে যাওয়া, মহিলাদের বাইরে বের হওয়ার সময় হাত ও মুখ খোলা রাখা, হরতাল করা, লংমার্চ করা, গণতন্ত্র করা, ব্লাসফেমী আইন চাওয়া, মৌলবাদী দাবী করা, কুশপুত্তলিকা দাহ করা, টিভি চ্যানেলে প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠান করা ইত্যাদি নাজায়িয কাজগুলোকে জায়িয বলে প্রচার করছে।  (নাঊযুবিল্লাহ)

অর্থাৎ তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মুসলমানদেরকে ইসলাম থেকে সরিয়ে, ইবাদত থেকে সরিয়ে অনৈসলামিক ও হারাম কাজে মশগুল করে বেঈমান করে দেয়া।

বস্তুতঃ এরাই হচ্ছে হাদীছ শরীফে বর্ণিত দাজ্জালের চেলা।

যেমন, হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون فى اخر الزمان دجالون كذابون يأتونكم من االاحاديث بما لم تسمعوا انتم ولا ابائهم فاياكم واياهم لايضلونكم ولايفتنونكم

অর্থ: æহযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আখিরী যামানায় কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা তোমাদের নিকট এমন সব (মিথ্যা-মনগড়া) কথা উপস্থাপন করবে, যা তোমরা কখনো শুননি এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি। সাবধান! তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকবে এবং তোমাদেরকে তাদের থেকে দূরে রাখবে। তবে তারা তোমাদেরকে গোমরাহ করতে পারবে না এবং ফিৎনায় ফেলতে পারবেনা।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)

উল্লেখ্য, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী লা-মাযহাবীরা উল্লিখিত বিষয়গুলোর ন্যায় ‘সূরা ফাতিহার পর আমীন উচ্চ আওয়াজে পাঠ করা’ সম্পর্কেও সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা সম্প্রতি হানাফী অনুসারীদের মসজিদে গিয়ে গিয়ে সূরা ফাতিহার পর ‘আমীন’ উচ্চ আওয়াজে পাঠ করছে। তাদের দেখা দেখি হানাফীগণও ‘আমীন’ উচ্চ আওয়াজে পাঠ করছে। এ দৃশ্য খোদ জাতীয় মসজিদ বাইতুল মুকাররমেও দেখা গেছে।

শুধু তাই নয়, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদী ও বক্তব্যে তারা ‘সূরা ফাতিহার পর ‘আমীন’ উচ্চ আওয়াজে পাঠ করার ব্যাপারে প্রচারণা চালাচ্ছে।

অথচ আমাদের হানাফী মাযহাবের ফতওয়া মুতাবিক সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ের জন্যই ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে অর্থাৎ চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ। কারণ একাধিক ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রায় সকলেই সূরা ফাতিহার পর নামাযে আমীন অনুচ্চ আওয়াজে অর্থাৎ চুপে চুপে পাঠ করতেন। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

عن حضرت وائل بن حجر رضى الله تعالى عنه قال ان النبى صلى الله عليه وسلم قرأ غير الـمغضوب عليهم ولا الضالين فقال امين وخفض بها صوته وفى رواية اخفى بها.

অর্থঃ æহযরত ওয়ায়িল বিন হজর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ শেষ করে আমীন বলতেন এবং তা অনুচ্চ আওয়াজে তথা চুপে চুপে বলতেন। (তিরমিযী শরীফ)

عن حضرت ابى وائل رضى الله تعالى عنه قال كان حضرت عمر و حضرت على عليهما السلام لايجمران بسم الله الرحمن الرحيم ولا بالتعوذ ولا بامين.

অর্থঃ æহযরত আবূ ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা বিসমিল্লাহ, আউযুবিল্লাহ ও আমীন চুপে চুপে পাঠ করতেন। (তহাবী শরীফ)

তবে শাফিয়ীদের মত হলো সূরা ফাতিহার পর আমীন উচ্চ আওয়াজে পাঠ করতে হবে। যা হানাফীদের জন্য অনুসরণ করা কস্মিনকালেও জায়িয নেই। কারণ হানাফীদের জন্যে শাফিয়ী মাযহাবের অনুসরণ করা নাজায়িয ও হারাম। এ প্রসঙ্গে æতাফসীরে আহমদী” কিতাবের ৩৪৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

لا يجوز الانتقال من مذهب الى مذهب اخر كذلك لا يجوز ان يعمل فى مسئلة على مذهب وفى اخرى على اخر.

অর্থ: এক মাযহাবের পক্ষে যেমন অন্য মাযহাবে প্রত্যাবর্তন করা নাজায়িয তথা হারাম। ঠিক তেমনিভাবে যে কোন একটি মাসয়ালায় এক মাযহাবের অনুসরণ আবার অন্য একটি মাসয়ালায় অন্য এক মাযাহাবের অনুসরণ করা জায়িয নেই বরং হারাম।

æতাফসীরে আহমদী” কিতাবের ৩৪৬ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে যে-

لا يجوز للحنفى العمل على مذهب الشافعى

অর্থ: æহানাফীদের জন্য শাফিয়ী মাযহাবের (মাসয়ালা’র উপর) আমল করা নাজায়িয তথা হারাম।”

প্রকৃতপক্ষে ভুল ফতওয়া দিয়ে ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী, দাজ্জালে কায্যাব ও উলামায়ে ‘ছূ’রা সাধারণ মুসলমানদের ঈমান-আমলকে বিনষ্ট করে দ্বীন ইসলামকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রই সর্বদা করে যাচ্ছে।

কাজেই এদের ভুল ফতওয়া থেকে যেন সাধারণ মুসলমানগণ নিজেদের ঈমান-আমল হিফাযত করতে পারে এবং যারা অজ্ঞতাহেতু ভুল ফতওয়া দিচ্ছে তারাও যেন সঠিক ও দলীলভিত্তিক ফতওয়া পাওয়ার পর ভুল ফতওয়া ও ভুল আমল থেকে তওবা করে হক্বের উপর ফিরে আসতে পারে। সর্বোপরি মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ রেযামন্দি বা সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে সে উদ্দেশ্যেই মাসিক আল বাইয়্যিনাতে æহানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” প্রকাশ করা হলো।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে উক্ত ফতওয়া মুতাবিক আমল করে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দী হাছিল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

হানাফী মাযহাব মতে সূরা ফাতিহার পর আমীন চুপে চুপে পাঠ করা শরীয়তের নির্দেশ সম্পর্কিত অকাট্য দলীল-আদিল্লাহসমূহ

হানাফী মাযহাবের ফতওয়া মুতাবিক জামায়াতে নামায পড়ার সময় ইমাম ছাহেবের সাথে প্রকাশ্য ক্বিরাআতে সূরা ফাতিহা শেষে চুপে চুপে আমীন বলতে হয়, প্রকৃতপক্ষে এটাই সঠিক। মূলত নামায জেহরী বা প্রকাশ্য ক্বিরাআতে হোক অথবা সেররী বা চুপে চুপে ক্বিরাআত পাঠে হোক ইমাম-মুক্তাদী সকলের জন্যেই সূরা ফাতিহার পর আমীন চুপে চুপে বা অনুচ্চ আওয়াজে বলাটাই শরীয়তের নির্দেশ। কারণ একাধিক ছহীহ হাদীছ শরীফ ও নির্ভরযোগ্য ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবের বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবেই প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ শেষে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে অর্থাৎ চুপে চুপে বলতেন। নি¤েœ এ সম্পর্কিত কতিপয় দলীল-আদিল্লাহ পেশ করা হলো-

عن حضرت وائل بن حجر رضى الله تعالى عنه قال ان النبى صلى الله عليه وسلم قرأ غير المغضوب عليهم ولا الضالين فقال امين وخفض بها صوته وفى رواية اخفى بها.

অর্থঃ æহযরত ওয়ায়িল বিন হজর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ শেষ করে আমীন বলতেন এবং তা অনুচ্চ আওয়াজে তথা চুপে চুপে বলতেন। (তিরমিযী শরীফ)

عن حضرت ابى وائل رضى الله تعالى عنه قال كان حضرت عمر و حضرت على عليهما السلام لا يجمران بسم الله الرحمن الرحيم ولا بالتعوذ ولا بامين.

অর্থঃ æহযরত আবূ ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা বিসমিল্লাহ, আউযুবিল্লাহ  ও আমীন চুপে চুপে পাঠ করতেন। (তহাবী শরীফ)

عن حضرت عمر بن الخطاب عليه السلام انه يخفى الامام اربعة اشياء التعوذ والبسملة وامين وسبحانه.

অর্থ: হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, ইমাম চারটি জিনিস চুপে চুপে পাঠ করবে। ১. আউযুবিল্লাহ, ২. বিসমিল্লাহ, ৩. আমীন, ৪. সুবহানা অর্থাৎ ছানা । (বায়হাক্বী, তবারানী)

عن حضرت ابن مسعود رضى الله تعالى عنه قال يخفى الامام ثلاثا التعوذ وبسم الله الرحمن الرحيم وامين.

অর্থ: æহযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, ইমাম তিনটি জিনিস চুপে চুপে পাঠ করবে। ১. আউযুবিল্লাহ, ২. বিসমিল্লাহ, ৩. আমীন। (আমানিউল আহবার)

عن حضرت وائل بن حجر رضى الله تعالى عنه انه صلى مع النبى صلى الله عليه وسلم فلما بلغ غير المغضوب عليهم ولا الضالين قال امين واخفى بها.

অর্থ: হযরত ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নামায আদায় করেন। এতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সূরা ফাতিহা শেষ করে চুপে চুপে আমীন পাঠ করেন। (মুসতাদরিকে হাকিম)

عن وكيع عن سفيان عن سلمة عن حجر بن عبس عن وائل بن حجر قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا قرأ ولا الضالين فقال امين خفض بها صوته.

অর্থ: হযরত ওয়াকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত সুফিয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত সালমাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত হিজর ইবনে আম্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত ওয়ায়িল ইবনে হজর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি শুনেছি, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন সূরা ফাতিহা শেষ করতেন তখন তিনি চুপে চুপে আমীন বলতেন। (মুসনাদে ইবনে আবি শায়বা)

عن حضرت سمرة بن جندب رضى الله تعالى عنه انه حفظ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم سكتتين سكتة اذا كبر وسكتة اذا فرغ من قراءة غير المغضوب عليهم ولا الضالين فصدقه ابى بن كعب.

অর্থ: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে দু’বার চুপ করে থাকার কথা স্মরণ রেখেছেন। একবার যখন তিনি তাকবীর বলতেন, আরেকবার যখন তিনি সূরা ফাতিহা শেষ করতেন। হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এই হাদীছ শরীফখানা সত্য বলে স্বীকার করেছেন। (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারিমী, মিশকাত)

قال حضرت الطيبى الشافعى لا ظهر ان السكتة الاولى للثناء والسكتة الثانية للتامين.

অর্থ: শাফিয়ী মতালম্বী হযরত ইমাম তীবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উপরোক্ত হাদীছ শরীফ এ সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রথমবার ছানা পড়ার জন্য চুপ থাকতেন এবং দ্বিতীয়বার আমীন পড়ার জন্য চুপ থাকতেন। (মিরকাত শরহে মিশকাত)

قال امين وخفى بها صوتة

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চুপে চুপে আমীন বলতেন। (মুসনাদে আহমদ)

فلما بلغ غير المغضوب عليهم ولا الضالين قال امين واخفى بها صوته

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সূরা ফাতিহা শেষ করে চুপে চুপে আমীন বলতেন। (আবু দাউদ তায়ালুছী)

فقال امين واخفى بها صوته

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চুপে চুপে আমীন বলতেন। (আবু ইয়া’লী মুছিলী)

قال امين واخفى بها صوته

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সূরা ফাতিহা শেষ করে চুপে চুপে আমীন বলতেন। (মহল্লী)

قال امين واخفى بها صوته

অর্থ: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমীন চুপে চুপে বলতেন। (দারুকুতনী)

قال امين واخفى بها صوته

অর্থ: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফাতিহা শেষে আমীন চুপে চুপে বলতেন। (তবারানী)

عن حضرت ابراهيم النخى قال اربع بخفيهن الامام التعوذ وبسم الله الرحمن الرحيم وسبحانك اللهم وامين.

অর্থ: হযরত ইবরাহীম নখয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন, ইমাম আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, ছানা ও আমীন এই চারটি কালাম চুপে চুপে পাঠ করবে। (কিতাবুল আছার)

عن حضرت شعبة رحمة الله عليه عن سلمة بن كهيل عن حجر ابى العنبس عن علقمة بن وائل عن ابيه ان النبى صلى الله عليه وسلم قرأ غير الـمغضوب عليهم ولا الضالين فقال امين وخفضن بها صوته.

অর্থ: হযরত ইমাম শু’বাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত সালমা ইবনে কুহাইল রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হজর আবিল আম্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে তিনি উনার পিতা হযরত ওয়ায়িল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সূরা ফাতিহা শেষ করে চুপে চুপে আমীন পাঠ করেছিলেন। (কিতাবুল আছার)

عن حضرت ابى وائل رضى الله تعالى عنه قال لـميكن حضرت عمر و حضرت على عليهما السلام يجهران بسم الله الرحمن الرحيم ولا بامين.

অর্থ: ইমাম তিবরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আবূ ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সনদে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত উমর ফারূক্ব এবং হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনারা বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম ও আমীন চুপে চুপে পাঠ করতেন। (তাহযীবুল আছার)

وروى الاخفاء حضرت عبد الله بن مغفل و حضرت انس رضى الله تعالى عنهما

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা আমীন চুপে চুপে পড়ার হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। (তাফসীরে বায়াযাবীতে)

قال حضرت الامام الجلال الدين السيوطى فى جمع الجوامع عن ابن وائل رضى الله تعالى عنه قال عمر و على عليهما السلام لا يجهران باسملة ولا بالتعوذ ولا بالتامين

অর্থ: হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি ‘জামউল জাওয়ামি’ কিতাবে উক্ত তিনখানা কিতাব থেকে বর্ণনা করেছেন, হযরত উমর ফারূক্ব এবং হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনারা বিসমিল্লাহ, আউযুবিল্লাহ ও আমীন চুপে চুপে পাঠ করতেন। (তহাবী, ইবনে শাহীন ও ইবনে জারীর)

قال حضرت عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه اربع بخفيهن الامام التعوذ والثناء والتسمية والتامين.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছেন, ইমাম আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, ছানা, আমীন এ চারটি কালাম বা বাক্য চুপে চুপে পাঠ করবেন। (মুসনাদে ইবনে আবী শায়বাহ)

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا قال غير المغضوب عليهم ولا الضالين فقولوا امين فان الملائكة تقول امين وان الامام يقول امين

অর্থ: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা আমীন পাঠ করো। কেননা নিশ্চয়ই ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাও আমীন পাঠ করেন এবং ইমামও আমীন পাঠ করেন। (নাসায়ী, ইবনে হাব্বান ও মুসনাদে আব্দুর রযযাক)

قوله: فان الامام يقولها يدل على ان الامام يخفيها لانه لوكان جهرا لكان مسموعا فحينئذ استعنى عن قوله فان الامام يقولها.

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত হাদীছ শরীফ-এ বলেছেন যে, ইমামও আমীন পড়েন; এতে বুঝা যাচ্ছে যে, ইমাম চুপে চুপে আমীন পড়তেন। যদি আমীন উচ্চ আওয়াজে পড়ার বিধান থাকতো, তাহলে মুক্তাদীগণ তা শুনতে পেতেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও উক্তরূপ কথা বলতেন না। (দলীল)

এছাড়া হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং ইমাম আমীন পড়েন; এতে বুঝা যাচ্ছে যে, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা যেরূপ চুপে চুপে আমীন পড়েন, ইমামও সেরূপ চুপে চুপে আমীন পড়ে থাকেন।

তানবীরুল আবছার কিতাবের ৪৯২নং পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে-

امن الامام سرا كماموم ومنفرد

অর্থ: মুক্তাদী ও একাকী নামাযী ব্যক্তির মতো ইমামও আমীন চুপে চুপে পড়বে।

উপরোক্ত বর্ণনার মাধ্যমে প্রতিভাত ও প্রমাণিত হয়েছে যে, ইমাম-মুক্তাদী সকলের জন্যেই সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর চুপে চুপে আমীন বলাটাই হচ্ছে শরীয়তের হুকুম তথা খাছ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।

তাছাড়া ‘আমীন’ কালামটি দোয়ার অন্তর্ভুক্ত। আর দোয়াকে নামাযের ভিতরে চুপে চুপে পাঠ করাটাই দলীলসম্মত। যেমন এ প্রসঙ্গে সূরা আ’রাফ-এর ৫৫ নং আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

ادعوا ربكم تضرعا وخفية

অর্থ: তোমরা তোমাদের রব আল্লাহ পাক উনার নিকট বিনীত-বিনম্রভাবে ও চুপে চুপে দোয়া করো।

এ প্রসঙ্গে তাফসীরে কবীর ৪র্থ খণ্ড ২৪৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে-

قال ابو حذيفة رحمة الله عليه اخفاء التامين افضل وقال الشافعى رحمة الله عليه اعلانه افضل واحتج ابو حنيفة على صحة قوله قال فى قوله الامين وجهان (احدهما) انه دعاء (والثانى) انه من اسماء الله. فان كان دعاء وجب اخفاءه لقوله تعالى ادعوا ربكم تضرعا وخفية. وان كان اسما من اسماء الله تعالى وجب اخفاءه لقوله تعالى واذكر ربك فى نفسك تضرعا وخيفة فان لم يثبت الوجوب فلا اقل من الندبية ونحن لهذا القول نقول.

অর্থ; হযরত ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘আমীন’ চুপে চুপে পাঠ করা উত্তম। আর হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘আমীন’ উচ্চ শব্দে পাঠ করা উত্তম। হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজ মতের সত্যতা প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে এই দলীল প্রকাশ করেছেন যে, আমীন কালামটি পাঠে দুই প্রকার মত রয়েছে। প্রথম হলো, ‘আমীন’ কালামটি একটি দোয়া। দ্বিতীয় হলো, ‘আমীন’ আল্লাহ পাক উনার একটি নাম। যদি আমীন দোয়া হয় তাহলে তা (নামাযের ভিতর) চুপে চুপে পাঠ করা ওয়াজিব হবে। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেছেন-

ادعوا ربكم تضرعا وخفية

অর্থ: তোমরা তোমাদের রব আল্লাহ পাক উনার নিকট বিনীতভাবে ও চুপে চুপে দোয়া করো।

আর যদি ‘আমীন’ আল্লাহ পাক উনার একটি নাম মুবারক ধরা হয় তাহলেও তা চুপে চুপে পাঠ করা ওয়াজিব হবে। কেননা আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন-

اذكر ربكم فى نفسك تضرعا وخيفة

অর্থ: তুমি তোমার রব আল্লাহ পাক উনাকে মনে মনে, বিনীত-বিন¤্রভাবে ও অনুচ্চ আওয়াজে স্মরণ করো। (সূরা আ’রাফ: আয়াত শরীফ ২০৫)

আর যদি ‘আমীন’ চুপে চুপে পড়া ওয়াজিব না হয়, তবে অন্ততপক্ষে তা মুস্তাহাব- সুন্নত হবে। আমরা হানাফীগণ এ মতই অবলম্বন করে থাকি।

ছহীহ বুখারী শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-

قال عطاء امين دعاء

অর্থ: হযরত আতা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, ‘আমীন’ একটি দোয়া।

তাফসীরে মায়ালিমুত তানযীল-এ বর্ণিত রয়েছে-

والتامين دعاء

অর্থ: ‘আমীন’ পাঠ একটি দোয়া।

‘আইনী শরহে বুখারী’ ১২২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে-

فاذا ثبت انه دعاء فاخفاءه افضل من الجهر به لقوله تعالى ادعوا ربكم تضرعا وخيفة

অর্থ: যখন ‘আমীন’ কালামটি দোয়া হওয়া প্রমাণিত হলো তখন তা চুপে চুপে পাঠ করাই উত্তম হবে। কেননা আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন, তোমরা তোমাদের রব আল্লাহ পাক উনার নিকট বিনীতভাবে ও চুপে চুপে দোয়া করো।

বিশ্বখ্যাত ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাব ‘হিদায়াহ’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

لانه دعاء فيكون مبناه على الاخفاء

অর্থ: ‘আমীন’ কালামটি হলো দোয়া আর দোয়াকে চুপে চুপে পাঠ করাই দলীলসম্মত।

উচ্চ শব্দে ‘আমীন’ পাঠকারীদের উত্থাপিত দলীল ও বক্তব্যসমূহের খণ্ডনমূলক জাওয়াব

উল্লেখ্য, যারা আমীন উচ্চ শব্দে পড়ার পক্ষে বলে থাকেন তারা দলীল হিসেবে হাদীছ শরীফ-এর কতক বর্ণনা উল্লেখ করে থাকেন। যেমন-

আবূ দাউদ ও তিরমিযী শরীফ-এ ছাহাবী হযরত ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সূরা ফাতিহা শেষ করে উচ্চ স্বরে আমীন পড়তেন।

(২) আবু দাউদ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এমনভাবে আমীন পাঠ করতেন যে, প্রথম সারির লোকজন তা শুনতে পেতেন এবং এতে মসজিদে প্রতিধ্বনি হতো।

(৩) নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, রাবী হযরত ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমীন পাঠ করতেন, আমি শুনতাম। আরেক সনদে আছে, আমরা শুনতাম।

(৪) ইবনে মাজাহ শরীফ-এ আছে, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমীন পাঠ করতে শুনেছিলেন।

(৫) বুখারী শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, ইমাম যে সময় আমীন পাঠ করবেন; মুক্তাদীগণও সেই সময় উচ্চ স্বরে আমীন পাঠ করবেন।

(৬) হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন, হযরত আতা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন,আমীন একটি দুআ। হযরত ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং উনার পিছনে নামায আদায়কারী মুক্তাদীগণ এমনভাবে আমীন পাঠ করেছিলেন যে,মসজিদে তার প্রতিধ্বনি হয়েছিল। হযরত ইবনে হাব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা হযরত আতা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, দুইশত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আমীন উচ্চ স্বরে পাঠ করতেন। এতে মসজিদে প্রতিধ্বনি হতো।

হানাফীগণের পক্ষ থেকে উচ্চ স্বরে আমীন পাঠকারীদের পেশকৃত উল্লিখিত বর্ণনাসমূহ উল্লেখপূর্বক তার খণ্ডনমূলক জাওয়াব ধারাবাহিকভাবে প্রদান করা হলো।

তাদের প্রথম বক্তব্য:

আবূ দাউদ ও তিরমিযী শরীফ-এ ছাহাবী হযরত ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সূরা ফাতিহা শেষ করে উচ্চ স্বরে আমীন পড়তেন।

তাদের প্রথম বক্তব্যের

খণ্ডনমূলক জাওয়াব:

হানাফীগণ উক্ত ১নং বর্ণনার জাওয়াবে বলেন যে, ‘নাছবুর রায়াহ’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে-

قال حضرت ابن القطان والرابع اختلافهما ايضا فجعله الثورى من رواية حجر عن وائل وجعله شعبة من رواية حجر عن علقمة بن وائل وصحح دار قطنى رواية الثورى وكانه عرف من حال حجر الثقة ولم يره نقطعا بزيادة شعبة علقمة بن وائل فى الوسط وهذا الذى حمل الترمذى على ان حسنه والحديث الى الضعف اقرب منه الى الحسن.

অর্থ: হযরত ইমাম ইবনু কাত্তান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, হযরত ইমাম ছুফিয়ান ছওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণিত হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, রাবী হযরত হজর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছাহাবী হযরত ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে আমীন উচ্চ আওয়াজে পড়ার কথা বর্ণনা করেছেন। আর হযরত ইমাম শু’বা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সনদে উল্লেখ রয়েছে, হযরত হজর রহমতুল্লাহি আলাইহি নামক রাবী হযরত আলকামা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে এবং তিনি হযরত ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে আমীন চুপে চুপে পড়ার হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। যদিও এই সনদে হযরত ইমাম শু’বা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মধ্যবর্তী রাবী হযরত আলকামা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম বেশি বর্ণনা করেছেন।

তথাপি ইমাম দারু কুতনী রহমতুল্লাহি হযরত হজর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে হযরত ইমাম ছুফিয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণিত ‘মুনকাতা’ হাদীছ শরীফকে ‘ছহীহ’ বলেছেন এবং এই হিসেবে ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উক্ত হাদীছ শরীফকে ‘হাসান’ বলেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মুনকাতা হওয়ার কারণে হযরত ইমাম ছুফিয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উচ্চ শব্দে আমীন পড়ার হাদীছ শরীফখানা ‘হাসান’ নয় বরং তা জয়ীফ হওয়া প্রমাণ সংগত।

যেমন এ প্রসঙ্গে ‘তাবয়ীনুল হাকায়িক’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

ما رواه وائل رضى الله تعالى عنه صعفه يحيى بن معين رحمة الله عليه وغيره

অর্থ: হযরত ইমাম ইয়াহইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ অন্যান্য ইমামগণ উনারা হযরত ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বর্ণিত উচ্চ স্বরে আমীন পড়ার হাদীছ শরীফখানাকে জয়ীফ বলেছেন। এছাড়া তিরমিযী শরীফ-এ উল্লেখ রয়েছে-

مد بها صوته

অর্থাৎ- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমীন পাঠের স্বর লম্বা করেছিলেন।” এর প্রকৃত মর্ম হলো যে, তিনি ‘আমীন’ শব্দের আলিফ অক্ষরকে মাদের সাথে অর্থাৎ দীর্ঘ করে পড়তেন। এতে আমীন শব্দটি উচ্চ স্বরে পাঠ করা প্রমাণিত হয়না।

আর আবূ দাউদ শরীফ-এ আমীন উচ্চ স্বরে পড়ার বর্ণনায় রয়েছে, তা রাবীর ভ্রান্তিমূলক ব্যাখ্যা। রাবী মাদ লম্বা করে পড়ার স্থলে উচ্চ স্বরে পড়ার কথা নিজ ভাষায় প্রকাশ করেছেন। অতএব তা গ্রহণযোগ্য নয়।

এরপর ছহীহ আবূ দাউদ শরীফ-এ হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে-

قال امين حتى يسمع من يليه من الصف الاول

অর্থ: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এমনভাবে আমীন পাঠ করতেন, যে ব্যক্তি প্রথম সারির মধ্যে উনার নিকট দাঁড়াতেন তিনিই শুনতে পেতেন।

এতে প্রমাণিত হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমীন চুপে চুপে পাঠ করতেন। কারণ যিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট দাঁড়াতেন, তিনি উনার অস্পষ্ট ধ্বনি বুঝতে পারতেন। কাজেই এর দ্বারা আমীন উচ্চ স্বরে পড়া কখনই সাব্যস্ত হয়না।

এরপর আমীন উচ্চ স্বরে পাঠ করার বিষয়টি স্বীকার করার ক্ষেত্রে বলতে হয় যে, তা ইসলামের প্রাথমিক ব্যবস্থা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে সর্বসাধারনকে শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে কখনো কখনো আমীন উচ্চ স্বরে পাঠ করতেন। যেরূপ তিনি কখনো কখনো যুহরের নামাযে উচ্চ স্বরে ক্বিরা‘আত পাঠ করতেন। কিন্তু তৎপরে তা ত্যাগ করেছিলেন।

যেমন এ প্রসঙ্গে ইবনে মাজাহ শরীফ-এর হাদীছ শরীফ উল্লেখ রয়েছে-

ترك الناس التأمين

অর্থাৎ- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আমীন (উচ্চ স্বরে) পাঠ করা ত্যাগ করেছিলেন।

মিশকাত শরীফ-এ ছহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফ-এর বরাত দিয়ে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করা হয়েছে-

ويسمعنا الاية احيانا

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কখনো কখনো (যুহরের নামাযে) কুরআন শরীফ-এর আয়াতে কারীমা আমাদেরকে শুনায়ে পাঠ করতেন।

আবার মুসলিম শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-

ان عمر بن الخطاب عليه السلام كان يجهر لهولاء الكلمات سبحانك اللهم الخ

অর্থ: হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উচ্চ স্বরে ছানা পাঠ করতেন।

স্মরণীয় যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে যুহরের নামাযে কোন কোন আয়াত শরীফ অথবা প্রত্যেক নামাযে ছানা উচ্চ স্বরে পাঠ করা হতো; পরবর্তীতে তা মানসূখ বা রহিত হয়ে যায়। এরূপ ইসলামের প্রাথমিক যুগে কখনো কখনো আমীন উচ্চ স্বরে পাঠ করা হতো, কিন্তু পরবর্তী যুগে তা মানসূখ হয়ে গিয়েছে।

এক্ষেত্রে যদি আমীন উচ্চ স্বরে পাঠ করা হয়, তাহলে তো ছানা ও যুহরের ক্বিরাআতও উচ্চ স্বরে পাঠ করতে হবে। অথচ তা তো উচ্চ স্বরে পাঠ করা হয় না।

কাজেই, যে কারণে ছানা ও যুহরের ক্বিরাআত উচ্চ স্বরে পাঠ করা মানসূখ হয়েছে; সে একই কারণে সূরা ফাতিহার পরে উচ্চ স্বরে আমীন বলাও মানসূখ হয়েছে।

তাদের দ্বিতীয় বক্তব্য:

আবূ দাউদ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এমনভাবে আমীন পাঠ করতেন যে, প্রথম সারির লোকজন তা শুনতে পেতেন এবং এতে মসজিদে প্রতিধ্বনি হতো।

তাদের দ্বিতীয় বক্তব্যের

খণ্ডনমূলক জাওয়াব:

উক্ত ২নং বর্ণনার জাওয়াবে প্রথমত বলতে হয় যে, উক্ত হাদীছ শরীফ-এর জাওয়াবে বলতে হয়ে যে, এ হাদীছ শরীফ-এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে বিশর নামে একজন বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ রয়েছে, তিনি জয়ীফ বা দোষযুক্ত ছিলেন।

যেমন ‘আইনীর’ টাকা ও ‘তাকরীবে’ বর্ণিত রয়েছে-

وقد ضعفه البخارى والترمذى والنسائى واحمد وابن معين  وقال ابن القطان هو ضعيف وفى التقريب بشر بن رافع ضعيف الحديث.

অর্থ: ইমাম বুখারী, তিরমিযী, নাসায়ী, আহমদ, ইবনু মঈন, ইবনু কাত্তান ও ইবনু হজর রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বিশর নামের রাবীকে জয়ীফ বলেছেন।

দ্বিতীয়ত বলতে হয় যে, উক্ত হাদীছ শরীফ-এর একজন রাবীর নাম আবু আব্দুল্লাহ। হযরত ইবনু কাত্তান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, আবু আব্দুল্লাহ তিনি একজন মাজহূল বা অপরিচিত ব্যক্তি। জয়ীফ ও মাজহূল (অপরিচিত) ব্যক্তির বর্ণিত হাদীছ শরীফ ছহীহ হতে পারে না।

আরো উল্লেখ্য যে, ইবনে মাজাহ শরীফ-এর বর্ণনায় রয়েছে-

ترك الناس التأمين

অর্থ: হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আমীন (উচ্চস্বরে) পাঠ করা পরিত্যাগ করেছিলেন।

এ বর্ণনার দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হচ্ছে যে, উচ্চ স্বরে আমীন পাঠ করা মানসূখ হয়েছিল। যার কারণে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তা ত্যাগ করেছিলেন।

চতুর্থ বলতে হয় যে, মদীনা শরীফ-এর মসজিদ তখন আয়তনে ছোট ছিল, তা খোরমা বৃক্ষের ছিল এবং ছাদও উঁচু ছিল না। এরূপ মসজিদে প্রতিধ্বনি প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব। কাজেই, উক্ত হাদীছ শরীফ দলীল হিসেবে গ্রহনযোগ্য বলে সাব্যস্ত হয় না।

পঞ্চমত বলতে হয় যে, ছহীহ ইবনে মাজাহ শরীফ-এর হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনভাবে আমীন পাঠ করতেন যে, কেবল প্রথম সারির লোকজন শুনতেন এবং তাতে মসজিদে প্রতিধ্বনি উঠতো। এখানে উল্লেখ্য, যা নামাযের কাতারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির লোকজন শুনতে না পায়, তাতে প্রতিধ্বনি প্রকাশ পাওয়া কিভাবে সম্ভব? এরূপ অসম্ভব কথা অবশ্যই গ্রহনযোগ্য নয়।

ষষ্ঠত বলতে হয় যে, ইবনে মাজাহ শরীফ-এ আছে, প্রথম সারির লোকজন শুনতে পেতেন। আর আবূ দাউদ শরীফ-এ আছে, প্রথম সারির মধ্যে যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটে থাকতেন তিনিই শুনতে পেতেন। এরূপ পরস্পর বিরোধী কথা কি করে শুদ্ধ বলে প্রমাণিত হতে পারে।

সপ্তমত বলতে হয় যে, নিকটস্থ লোকজন শোনার দ্বারা আমীন উচ্চস্বরে পাঠ করা কখনই সাব্যস্ত হয় না। কেননা মিশকাত শরীফ-এর ৯৭ পৃষ্ঠায় ছহীহ মুসলিম শরীফ-এর বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে, হযরত জাবির ইবনে সামুরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যুহর ও আছরের নামাযে সূরা ‘আল লাইল’ পাঠ করতেন। এতে বুঝা যাচ্ছে যে, নিকটস্থ লোকজন যেরূপ যুহর ও আছরের নামাযে চুপে চুপে ক্বিরাআত পাঠের শব্দ শুনতে পেতেন তদ্রƒপ নিকটস্থ লোকজনও চুপে চুপে আমীন পাঠ করার শব্দ শুনতে পেতেন। কাজেই উক্ত হাদীছ শরীফ-এর দ্বারা আমীন উচ্চ স্বরে পাঠ করা কখনই সাব্যস্ত হয় না।

অষ্টমত বলতে হয় যে, যদিও আমীন উচ্চ শব্দে পাঠ করার বিষয়টি স্বীকারও করে নেয়া হয়; তাহলে তা ছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগের বিধান, যেরূপ ছানা ও যুহরের ক্বিরাআত উচ্চ শব্দে পাঠ করা ইসলামের প্রাথমিক যুগের বিধান ছিল। অবশেষে তৎসমুদয় মানসূখ বা রদ হয়ে যায়।

তাদের তৃতীয় বক্তব্য:

(৩) নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, রাবী হযরত ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমীন পাঠ করতেন, আমি শুনতাম, আরেক সনদে আছে, আমরা শুনতাম।

তাদের তৃতীয় বক্তব্যের

খণ্ডনমূলক জাওয়াব:

হানাফীগণের নিকট উক্ত ৩নং বর্ণনার প্রথম জাওয়াব হলো যে, উক্ত হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, হযরত আব্দুল জাব্বার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা হযরত ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে হাদীছ শরীফ শুনেছেন যে, হযরত ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিছনে নামায পড়েছিলেন।

হযরত ইমাম আবু ঈসা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিরমিযী শরীফ-এর ১৭৫ পৃষ্ঠায় লিখেছেন-

وعبد الجبار بن وائل لم يسمع من ابيه

অর্থ: হযরত আব্দুল জব্বার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা হযরত ওয়ায়িল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট থেকে কোন হাদীছ শরীফ শ্রবন করেননি। সুতরাং এক্ষেত্রে উক্ত হাদীছ শরীফখানা মুনকাতা অর্থাৎ জয়ীফ। এরূপ হাদীছ শরীফ অর্থাৎ জয়ীফ হাদীছ শরীফ দলীল হিসেবে কোন মাযহাবেই গ্রহনযোগ্য নয়।

দ্বিতীয় জাওয়াব হলো: নিকটস্থ একজন বা কয়েকজন লোক আমীন শব্দের আওয়াজ শুনতে পেলেও তা দ্বারা আমীন উচ্চ স্বরে পাঠ করা সাব্যস্ত হয় না।

ছহীহ নাসায়ী শরীফ-এর ১৫৩নং পৃষ্ঠায় লিখিত আছে যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যুহরের ক্বিরায়াত শুনতেন। এতে কি যুহরের নামাযের ক্বিরায়াত উচ্চস্বরে পাঠ করা সাব্যস্ত করেছেন? আদৌ নয়।

তৃতীয় জাওয়াব হলো: হাদীছ শরীফ-এর রাবী একবার বলেন, আমি একাকী শুনেছিলাম আর একবার বলেন, আমরা সকলে শুনেছিলাম। এরূপ বিপরীত বর্ণনার কোনটি গ্রহনযোগ্য আর কোনটি অগ্রহনযোগ্য হবে? না অর্থাৎ গ্রহনযোগ্য নয়।

অতএব, এরূপ বিপরীত বর্ণনায় বর্ণিত হাদীছ শরীফ দলীল হিসেবে গ্রহনযোগ্য নয়।

তাদের চতুর্থ বক্তব্য

ইবনে মাজাহ শরীফ-এ আছে, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমীন পাঠ করতে শুনেছিলেন।

তাদের চতুর্থ বক্তব্যের

খণ্ডনমূলক জাওয়াব:

হানাফীগণের নিকট উক্ত ৪নং বর্ণনার প্রথম জাওয়াব হলো, আইনী শরহে বুখারী-এর ১১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে-

حديث ابن ماجه ايضا قال البزاز فى سته هذا حديث لم يثبت من جهة النقل

অর্থ: হযরত ইমাম বাজ্জাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক-এ বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা ছহীহ হিসেবে প্রমাণিত নয়।

দ্বিতীয় জাওয়াব হলো: হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটে দাঁড়িয়ে আমীন পড়া শুনেছিলেন এতে উচ্চ স্বরে আমীন পড়া সাব্যস্ত হয় না।

তৃতীয় জাওয়াব হলো: কোন হাদীছ শরীফ-এ একবার আমীন পড়ার কথা বর্ণিত হয়েছে, কোন হাদীছ শরীফ-এ তিনবার পড়ার কথা আছে। কোন হাদীছ শরীফ-এ আমীন-এর সাথে ‘রব্বিগ ফিরলী’ পড়ার কথাও আছে। এক্ষেত্রে তিনটি ভিন্ন মতের হাদীছ শরীফ-এর কোনটি ছহীহ ও গ্রহণীয় হবে আর কোনটি অশুদ্ধ ও অগ্রহনীয় হবে।

তাদের পঞ্চম বক্তব্য:

বুখারী শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, ইমাম যে সময় আমীন পাঠ করবেন মুক্তাদীগণও সেই সময় উচ্চ স্বরে আমীন পাঠ করবেন।

তাদের পঞ্চম বক্তব্যের

খণ্ডনমূলক জাওয়াব:

হানাফীগণ উক্ত ৫নং বর্ণনার জাওয়াবে বলেন যে, হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ছহীহ বুখারী শরীফ কিতাবে মুক্তাদীগণের উচ্চ শব্দে আমীন পড়ার জন্য যে হাদীছ শরীফখানা পেশ করেছেন। তাহলো-

اذا قال الامام غير المغضوب عليهم ولا الضالين فقولوا امين. فانه من وافق قوله قول الملائكة غفرله ما تقدم من ذنبه

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, ইমাম যে সময় সূরা ফাতিহা শেষ করেন, তোমরা তখন আমীন বলো। কেননা যার আমীন পাঠ করে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের আমীন পাঠের সাথে এক হবে, তার পূর্বের গুনাসমূহ ক্ষমা করা হবে। এই হলো হাদীছ শরীফ-এর সারমর্ম।

এখন কথা হলো, ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুক্তাদীগণের উচ্চ শব্দে আমীন পাঠ করার কোন ছহীহ হাদীছ শরীফ খুঁজে না পেয়ে ক্বিয়াস করে বলেছেন যে, উক্ত হাদীছ শরীফ-এ আছে, তোমরা আমীন বলো” এর দ্বারা উচ্চ স্বরে আমীন পাঠ সাব্যস্ত হয়। এটা মূলত হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একান্ত ব্যক্তিগত ক্বিয়াস। কেননা ছহীহ মুসলিম শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-

فاذا كبر فكبروا واذا قال غير المغضوب عليهم ولا الضالين فقولوا امين.

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, ইমাম যখন তাকবীর বলেন, তোমরাও তাকবীর বলো, ইমাম যে সময় সূরা ফাতিহা শেষ করেন, তোমরা তখন আমীন বলো।

এখানে মুক্তাদীগণের উচ্চ শব্দে আমীন বলার কোনই উল্লেখ নেই। তবে যদি হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্বিয়াস অনুযায়ী মুক্তাদীগণের জন্য উচ্চ শব্দে আমীন পড়া সাব্যস্ত হয়, তাহলে উক্ত হাদীছ শরীফ অনুযায়ী মুক্তাদীগণের উচ্চ স্বরে তাকবীর পড়াও আবশ্যক হবে। কিন্তু যখন মুক্তাদীগণ চুপে চুপে তাকবীর বলে থাকেন তখন মুক্তাদীগণের জন্য চুপে চুপে আমীন বলাও আবশ্যক হয়ে যাবে।

আর তাই আল্লামা হযরত সিন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছহীহ বুখারী শরীফ-এর টীকায় (ব্যাখ্যায়) লিখেছেন- উপরোক্ত হাদীছ শরীফ-এ মুক্তাদীগণের প্রতি চুপে চুপে আমীন পড়াই সাব্যস্ত হয়। এটিই যুক্তি যুক্ত মত।

এছাড়া অন্যান্য হাদীছ শরীফ-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণিত আছে, তোমরা আত্তাহিয়্যাতু, সুবহানা রব্বিয়াল আ’লা ইত্যাদি বলো। যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমীন পড়তে বলায় তা উচ্চ শব্দে পড়া সাব্যস্ত হয়, তবে আত্তাহিয়্যাতু, ছানা ইত্যাদিও উচ্চ শব্দে পড়া সাব্যস্ত হবে। অথচ সেসব উচ্চ স্বরে পড়ার বিধান নেই।

তাদের ষষ্ঠ বক্তব্য:

হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন, হযরত আতা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন,আমীন একটি দুআ। হযরত ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং উনার পিছনে নামায আদায়কারী মুক্তাদীগণ এমনভাবে আমীন পাঠ করেছিলেন যে,মসজিদে তার প্রতিধ্বনি হয়েছিল। হযরত ইবনে হাব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা হযরত আতা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, দুইশত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আমীন উচ্চ স্বরে পাঠ করতেন। এতে মসজিদে প্রতিধ্বনি হতো।

তাদের ষষ্ঠ বক্তব্যের

খণ্ডনমূলক জাওয়াব:

হানাফীগণ উক্ত ৬নং বর্ণনার জাওয়াবে প্রথমত বলেন যে, বর্ণিত উক্ত হাদীছ শরীফগুলির একটিরও সনদ নেই। যদি কারো ক্ষমতা থাকে তাহলে সে যেনো হাদীছ শরীফগুলির সনদ পেশ করে। হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ অন্যান্য আলিম ও ইমামগণ উক্ত কথাগুলি বিনা সনদে বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয় জাওয়াব হলো: মদীনা শরীফ-এর মসজিদ সেসময় আয়তনে ছোট ছিল, তা খেজুর পাতার ছাওনী বিশিষ্ট ছিল, তার ছাদও উঁচু ছিল না। কাজেই উক্ত মসজিদে প্রতিধ্বনি হওয়া অসম্ভব ছিল। অতএব উক্ত কথা গ্রহনযোগ্য নয়।

তৃতীয় জাওয়াব হলো: উক্ত বর্ণনাগুলি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ নয়।

অতএব বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণিত কোন হাদীছ শরীফ-এ মুক্তাদীগণের উচ্চ আওয়াজে আমীন পড়ার কোনই প্রমাণ নেই।

চতুর্থ জাওয়াব হলো: ছহীহ ইবনে মাজাহ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে-

ترك الناس التامين

অর্থ: হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আমীন (উচ্চস্বরে) পাঠ করা পরিত্যাগ করেছিলেন।

হযরত উমর ফারূক আলাইহিস সালাম, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, হযরত ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারাসহ কয়েক সহ¯্র ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উচ্চ শব্দে আমীন পাঠ করা ত্যাগ করেছিলেন।

এত অধিকসংখ্যক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মতের উপর ভিত্তি করেই হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফতওয়া দিয়েছেন, চুপে চুপে আমীন বলা সুন্নত। আর এটাই শরীয়তের নির্দেশ। আর উচ্চ স্বরে আমীন বলা মানসূখ বা রদ হয়ে গিয়েছে। যদি তা মানসূখ না হতো তাহলে বহু সংখ্যক ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কখনো তা ত্যাগ করতেন না।

পঞ্চম জাওয়াব হলো: হযরত আতা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, আমীন একটি দুআ।

এর জাওয়াবে হযরত ইমাম রাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাফসীরে কবীরে লিখেছেন যে-

واعلم ان الاخفاء معتبر فى الدعاء ويدل عليه وجوه الاول هذه الاية فانها تدل على انه تعالى امر بالدعاء مقورنا بالاخفاء وظاهر الامر للوجوب

অর্থাৎ  জেনে রাখ, নিশ্চয় দুআ (নামাযের ভিতরে) চুপে চুপে পাঠ করা প্রমাণ সংগত। এর কতকগুলি প্রমাণ রয়েছে; প্রথম হলো- সূরা আ’রাফ আয়াত শরীফ। উক্ত আয়াত শরীফ-এ আল্লাহ পাক তিনি চুপে চুপে দোয়া পাঠ করতে বলেছেন। এতে (নামাযের ভিতর) চুপে চুপে দোয়া পাঠ করা ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়।

অতএব, হযরত আতা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতানুযায়ী ‘আমীন’ শব্দটি দুআ সাব্যস্ত হওয়ায় সূরা আ’রাফ-এর উক্ত আয়াত কারীমা অনুযায়ী তা (নামাযের ভিতর) চুপে চুপে পাঠ করাই সাব্যস্ত হলো।

উপরে বর্ণিত কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর দলীলভিত্তিক বর্ণনার আলোকে হানাফী মাযহাবে আমীন চুপে চুপে বলার মতকেই গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ হানাফী মাযহাবে যেকোন নামাযই হোক ইমাম-মুক্তাদী সকলের জন্যে সূরা ফাতিহার পর ‘আমীন’ চুপে চুপে তথা অনুচ্চ আওয়াজে পড়তে হবে। আর এটাই শরীয়তের নির্দেশ।

হানাফী মাযহাবের অনুসারীদের জন্য অন্য কোন মাযহাব অথবা লা-মাযহাবীদের মত অনুসরণ করা হারাম

উল্লেখ্য, কোন মাযহাবপন্থী লোকদের জন্য মাযহাববিরোধী লোকের অনুসরণ করা জায়িয নেই। আবার এক মাযহাবের অনুসারীদের জন্য অপর মাযহাবের অনুসরণ করা জায়িয নেই। যে যে মাযহাবের মুকাল্লিদ (অনুসারী) তাকে সে মাযহাব অনুযায়ীই প্রতিটি আমল করে যেতে হবে। এর বিপরীত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং গোমরাহী।

যেমন এ প্রসঙ্গে æতাফসীরে আহমদিয়া”-এর ৩৪৩/৩৪৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

فيكون كل من المذاهب الاربعة حقا بهذا المعنى فالمقلد اذا قلد اى مجتهد يخرج عن الوجوب ولكن ينبغى ان يقلد احدا التزامه ولا يؤل الى اخر.

অর্থ: যখন চার মাযহাবের প্রত্যেকটিই হক্ব হিসেবে সাব্যস্ত হলো, তাই এ অর্থে মুকাল্লিদের জন্য যে কোন একটি মাযহাবের ইমামকে অনুসরণ করাও ওয়াজিব। অতএব, যে ব্যক্তি কোন এক মাযহাবের ইমামকে অনুসরণ করবে সে শুধু সেটাই আকড়িয়ে ধরে থাকবে। অন্য কোন মাযহাবের অনুসরণ করবে না।

এ প্রসঙ্গে æতাফসীরে আহমদিয়া” কিতাবের ৩৪৪ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে যে-

واما الثانى وهو انه اذا التزم الطبعية يجب عليه ان يدوم على مذهب التزامه ولا ينتقل الى مذهب اخر.

অর্থ: দ্বিতীয়ত: কোনও মাযহাবকে প্রকৃতভাবে গ্রহণ করলে দায়িমীভাবে সে মাযহাবেরই অনুসরণ করা ওয়াজিব। তাই এক মাযহাব পরিবর্তন করে অন্য মাযহাব গ্রহণ করা যাবেনা তথা হারাম। æকিমিয়ায়ে সায়াদাত”-এর ২৩৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

گو مخالف صاحب مذھب خود کردن ھیچ کس روا نبود

অর্থ: নিজ মাযহাবের ইমামের খিলাফ করা কারো জন্যেই জায়িয নেই।

কিমিয়ায়ে সায়াদাত-এর ২৩৫ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে-

بخلاف اجتھاد صاحب مذھب خود کاری کند او عاص است فس بحقیقت حرام است

অর্থ: নিজ ইমামের ইজতিহাদের খিলাফ কোন কাজ করলে সে ব্যক্তি গুনাহগার হবে এবং প্রকৃতপক্ষে তা করা হারাম হবে।

ইকদুলজিদ-এর ১ম খণ্ডের ৮৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

المرجع عند الفقهاء ان العامى المنسب له مذهب لا يجوز مخالفته

অর্থ: ফক্বীহগণের নিকট প্রধান্যপ্রাপ্ত মত এই যে, কোন মাযহাবপন্থী সাধারণ ব্যক্তির জন্যে নিজ মাযহাবের খিলাফ কোন আমল করা জায়িয নেই।

হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন’ কিতাবে উল্লেখ করেন-

بل على المقلد اتباع مقلده فى كل تفصيل فان مخالفة للمقلد متفق على كونه منكرا بين الـمحققين.

অর্থ: প্রত্যেক মুকাল্লিদের প্রতিটি বিষয়েই একই ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব। কেননা বিজ্ঞ সকল ইমামের এটাই মত যে, নিজ মাযহাবের খিলাফ করা নিষিদ্ধ।

প্রসিদ্ধ ‘তাহরীর’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে-

وكذا للعامى الانتقال من مذهب الى مذهب لى زماننا لا يجوز لظهور الخيانة.

অর্থ: সর্বসাধারণের জন্য বর্তমান যুগে এক মাযহাব ছেড়ে অন্য মাযহাবের অনুসরণ করা জায়িয নেই বরং হারাম। কারণ এতে দ্বীনের খিয়ানত প্রকাশ পায়।

আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘জাযীলুল মাযহাব’ কিতাবে উল্লেখ করেন-

اليوم من تحول من مذهبه فبئس ما صنع

অর্থ: বর্তমান যুগে যে ব্যক্তি নিজ মাযহাব হতে ফিরে অন্য মাযহাবের আমল করে সে অতি জঘন্য কাজ করলো।”

আল্লামা মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব ‘আল মালূমা” কিতাবে উল্লেখ করেন-

قالوا الواجب على المقلد المطلق اتباع مجتهد فى جميع المسائل

অর্থ: æবিজ্ঞ আলিমগণ বলেন, কোন ইমামের অনুসরণকারীর প্রতি যাবতীয় বিষয়ে শুধু উনারই অনুসরণ করা ওয়াজিব। নর্ভরযোগ্য তাফসীরগ্রন্থ æতাফসীরে আহমদিয়া”-এর ৩৪৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

قد وقع الاجماع على ان الاتباع انما يجوز للاربع فلا يجوز الاتباع لابى يوسف ومحمد وزفر وشمس الائمة اذا كان قولهم مخالفا لاربع وكذا لا يجوز الاتباع.

অর্থ: æইজমা সাব্যস্ত হয়েছে যে, শুধুমাত্র মাযহাবের চার ইমামের অনুসরণ করা জায়িয। তছাড়া অন্যান্য ইমামদের অনুসরণ করা হারাম। যেমন- হযরত ইমাম আবু ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম যুফার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের ইত্তিবা বা অনুসরণ করাও জায়িয নেই- যখন উনাদের কথা চার ইমামের উছূলের খিলাফ বা বিপরীত হবে।

‘তাফসীরে আহমদী’ কিতাবের ৩৪৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

لا يجوز الانتقال من مذهب الى مذهب اخر كذلك لا يجوز ان يعمل فى مسئلة على مذهب وفى اخرى على اخر.

অর্থ: এক মাযহাবের পক্ষে যেমন অন্য মাযহাবে প্রত্যাবর্তন করা নাজায়িয তথা হারাম। ঠিক তেমনিভাবে যে কোন একটি মাসয়ালায় এক মাযহাবের অনুসরণ আবার অন্য একটি মাসয়ালায় অন্য এক মাযাহাবের অনুসরণ করা জায়িয নেই বরং হারাম।

‘দুররুল মুখতার’ কিতাবের ১ম খণ্ডের ৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

ان حكم الـملفق باطل بالاجماع

অর্থ: সর্বসম্মতিক্রমে শরীয়তে মুলফিক বাতিল তথা ভ্রষ্ট ও পরিত্যাজ্য।” (আর মুলফিক ঐ ব্যক্তিকে বলে, যে দুই মাযহাবের মাসয়ালাকে একত্র করে আমল করে)

‘দুররুল মুখতার’ কিতাবে তাযিরের অধ্যায়ে আরো উল্লেখ আছে-

من ارتحل الى مذهب الشافعى يعزر

অর্থ: যে ব্যক্তি নিজ মাযহাবের আমল পরিত্যাগ করে শাফিয়ী (কিংবা অন্যান্য) মাযহাবের অনুসরণ করে সে শাস্তির উপযুক্ত।

তাফসীরে আহমদী-এর ৩৪৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

لا يجوز للحنفى العمل على مذهب الشافعى رحمة الله عليه.

অর্থ: হানাফীদের জন্য শাফিয়ী মাযহাবের (মাসয়ালার উপর) আমল করা নাজায়িয তথা হারাম।

অতএব, উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, হানাফীদের জন্য শাফিয়ী বা অন্যান্য মাযহাব ও লা-মাযহাবীদের মাসয়ালা ও বক্তব্যের উপর আমল করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয।

(সমাপ্ত)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩০