হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী

সংখ্যা: ২০০তম সংখ্যা | বিভাগ:

 

খালিক্ব, মালিক, রব আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিকির বা আলোচনাকে বুলন্দ করেছেন। এতো বুলন্দ করেছেন যে উনার নাম মুবারকের সাথে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারককে সংযুক্ত করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

যেমন এ প্রসঙ্গে মুসতাদরাকে হাকিম, বায়হাক্বী, আছ ছগীর ইত্যাদি কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, হযরত আবূ নায়ীম রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইবনু আসাকির রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি যমীনে আগমনের পর আল্লাহ পাক উনার দরবারে আরজ করলেন, আয় বারে ইলাহী! আপনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযা সাল্লাম উনার ওসীলায় আমার দুআ কবুল করুন। এতে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেলেন, হে হযরত আদম আলাইহিস সালাম! আপনি আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কিভাবে চিনলেন? হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, যখন আপনি আমাকে আপনার কুদরতি হাত মুবারকে সৃষ্টি করে আমার মধ্যে রূহ মুবারক ফুঁকে দিয়েছিলেন তখন আমি মাথা মুবারক উত্তোলন করে আরশের খুঁটির মধ্যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ লিখিত দেখতে পেলাম। এ থেকে বুঝতে পারলাম যে, তিনিই আপনার সর্বাধিক প্রিয় অর্থাৎ হাবীব হবেন। আল্লাহ পাক তিনি বললেন, হে হযরত আদম আলাইহিস সালাম! আপনি সত্যই বলেছেন। তিনি না হলে আমি আপনাকেও সৃষ্টি করতাম না।

হযরত ইবনু আসাকির রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত কা’ব আহবার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার প্রতি হযরত পয়গয়ম্বর আলাইহিমুস সালাম উনাদের সমসংখ্যক লাঠি মুবারক নাযিল করেন। অতঃপর হযরত আদম আলাইহিস সালাম আপন পুত্র হযরত শীশ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্বোধন করে বললেন, প্রিয় বৎস! আমার পরে আপনি আমার খলীফা হবেন, আপনি তাক্বওয়া অবলম্বন করুন। আর আপনি যখনই আল্লাহ পাক উনার যিকির করবেন তার সাথে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক অবশ্যই উচ্চারণ করবেন। কেননা আমি উনার নাম মুবারক আরশের স্তম্ভে ওই সময় লিখিত দেখেছি যখন আমি রূহ ও মাটির মধ্যে অবস্থান করছিলাম। এরপর আমি সমগ্র আকাশম-ল পরিভ্রমণ করেছি, নভোম-ল পরিভ্রমণ করেছি আমি কোন জায়গা দেখিনি, যেখানে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক লিখিত নেই। আমার পরওয়ারদেগার তিনি আমাকে জান্নাতে রেখেছেন। আমি জান্নাতে কোন প্রাসাদ ও তার জানালা এমন দেখিনি, যাতে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক লিখিত নেই। আমি উনার নাম মুবারক হুরদের বক্ষে, ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের চোখের পুত্তলিতে, তূবা বৃক্ষের পত্ররাজিতে এবং ছিদরাতুল মুনতাহার পল্লবসমূহে লিখিত দেখিছি। কাজেই আপনি অধিক পরিমাণে উনার নাম মুবারক স্মরণ করবেন। কারণ ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাও উনার পূত-পবিত্র নাম মুবারক স্মরণ করে থাকেন।

হযরত ইমাম হাকিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ পাক হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি ওহী পাঠালেন যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনুন এবং আপনার উম্মতের যে ব্যক্তিই উনার সময়কাল পাবে, তাকে উনার প্রতি ঈমান আনতে আদেশ করুন। কেননা হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম না হলে আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করতাম না এবং জান্নাত ও জাহান্নামও সৃষ্টি করতাম না। আমি আরশকে পানির উপর সৃষ্টি করলাম। আরশ হেলতে দুলতে লাগলো। এরপর যখন তাতে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ লিখে দিলাম তখন তা স্থির হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!

প্রতিভাত হলো, কায়িনাতের এমন বিশেষ কোন সৃষ্টি নেই যেখানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূত-পবিত্র নাম মুবারক লিখিত নেই। সুবহানাল্লাহ! সর্বোপরি যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব- আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি উনার নাম মুবারকের সাথে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারককে সংযুক্ত করে দিয়েছেন। ফলে আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক স্মরণ করতে হলে একই সাথে উনার যিনি হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকও স্মরণ করতে হয় অন্যথায় ঈমানদার হওয়া যায় না, মুসলমান হওয়া যায় না, প্রকৃত বান্দা হওয়া যায় না, প্রকৃত উম্মত হওয়া যায় না।

কাজেই, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা তাদের মতো বলছে তাদের সে কথা সম্পূর্ণরূপে কুফরী এবং কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

তাফসীরুল কুরআন: কুরআন ও সুন্নাহ’র বিধান অনুসারে চলা প্রত্যেকের জন্য ফরয অন্যথায় পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ-৮

তাফসীরুল কুরআন : কুরআন ও সুন্নাহ’র বিধান অনুসারে চলা প্রত্যেকের জন্য ফরয অন্যথায় পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ-৯

তাফসীরুল কুরআন: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

তাফসীরুল কুরআন: কুরআন ও সুন্নাহ’র বিধান অনুসারে চলা প্রত্যেকের জন্য ফরয অন্যথায় পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ-১০

তাফসীরুল কুরআন:  কুরআন ও সুন্নাহ’র বিধান অনুসারে চলা প্রত্যেকের জন্য ফরয অন্যথায় পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ-১১