আর রসূলুল মুজাহিরু আলাদ্ দ্বীনি কুল্লিহ্, আফদ্বালুর রসূল, ছহিবু দ্বীনিল হক্ব, রসূলুম মুছাদ্দিক, রসূলুল খাল্ক, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফযীলত বর্ণনা হিন্দু ধর্ম গ্রন্থে

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ আব্দুল কবীর

আল্লাহ্ পাক ইরশাদ ফরমান,

وما محمد الا رسول

অর্থঃ- “মুহম্মদ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রসূল ব্যতীত কেউ নন।” (সূরা আলে ইমরান/১৪৪)

          আল্লাহ্ পাক উনার এ ঘোষণার প্রতিফলন আমরা দেখি যখন হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থ পাঠ করি তখনও। কেননা এই মাটির পুতুল পূজার ধর্মের নানা গ্রন্থেও অধ্যায়ে আখিরী নবী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সত্যতা ও প্রশংসা গাঁথা লক্ষ্য করি। অন্য দিকে এই ধর্মের গ্রন্থ গুলিতেই উক্ত ধর্মের ধারক-বাহক প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক ইত্যাদি জনের দূর্ণাম গাঁথাও লক্ষ্য করি। এই গুলো মূলতঃ আল্লাহ্ পাক-এর মহান কুদরত ও হিকমতের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

          আমাদের স্মরণ রাখতে হবে যে, হিন্দু ধর্মের উৎপত্তিজনিত বা প্রাথমিক ইতিহাস অজ্ঞাত। এদের ধর্মীয় গ্রন্থ গুলোর বিকৃতি চূড়ান্ত পর্যায়ের। এই বিকৃতির বর্ণনা ভাষায় অপ্রকাশ্য। স্বধর্মী ও বিধর্মী এ ব্যাপারে একমত। আধুনিক কালে ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর উপর ব্রাহ্মাণ গোত্রের একচেটিয়া কর্তৃত্ব সর্বাংশে লুপ্ত হওয়ায় সর্বস্তরের মানুষ এই গ্রন্থ গুলোর মধ্যকার নানান অসংগতি ও প্রকৃত সত্যের সুপ্ত জ্বালামুখ বিদগ্ধ অনেক পাঠকের নিকটই উম্মোচিত হয়ে আজ তা সর্বজনে পরিজ্ঞাত হয়েছে।

          মু’মিনদের ঈমানের আলো বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এমন কয়েকটি কথা এখানে আলোচনা করছি যা সত্য সন্ধানী অনেককেই পথ দেখাবে।

          উল্লেখ্য, হিন্দুধর্মের গ্রন্থ সমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা- বেদ, বেদান্ত (উপনিষদ) ও পুরাণ। বেদ চার প্রকার যথা ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ। বেদের শিরোভাগ হল বেদান্ত বা উপনিষদ। তৃতীয় ভাগ হলো পুরান। অধিকাংশ পন্ডিতগণের মতে পুন্তন বেদ হতেও পুরাতন ধর্ম গ্রন্থ। পুরাণে বিশ্বসৃষ্টির ইতিহাস আর্য্যজাতির কীর্তি কলাপ, দেবতাদের জীবন কাহিনী লিপিবদ্ধ আছে। সর্বমোট আঠার খানি পুরান গ্রন্থ এবং সমসংখ্যক বা ততোধিক বহু উপপুরাণ আছে। পুরানে বর্ণনা রয়েছে, “দশজন কথিত অবতারের কথা। তারা একে একে ধরাধামে আগমণ করেন ধর্ম রক্ষার্থে। সর্বশেষ কথিত অবতার হলেন কলির অবতার (কল্কি অবতার)। পুরাণের কাহিনী অনুযায়ী গবেষকগণ প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন আখিরী নবী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

          ভগবত পুরাণ ১২/২/১৮ শ্লোকে, কল্কি পুরাণ ২/১১ শ্লোকে এবং কল্কি পুরাণের ৫নং শ্লোকে কল্কির জন্ম সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার ভাবার্থ হলঃ শম্ভল গ্রামে বা নগরে ব্রাহ্মণ পরিবারে বিষ্ণূযশ পিতা ও সুমতি মাতার পরিচয়ে কল্কি জন্ম গ্রহণ করবেন।

বিষ্ণূযশ অর্থ আরবীতে আব্দুল্লাহ্ আর সুমতি অর্থ আমিনা (বিষ্ণূ শব্দ ভগবান বা আল্লাহ্ পাক-এর প্রতি ইশারা)।

শম্ভল দ্বারা প্রাচীণ কালে আরবদেশ বুঝানো হত। ব্রাহ্মণ পরিবার কুরাঈশ গোত্র।

          মহর্ষিব্যাসের ভৌতিক পুরাণের বর্ণনাঃ

ভাবিকালে মহামত জন্ম গ্রহণ করবেন। তাঁর নিদর্শণ এই যে, মেঘখন্ড তাঁকে ছায়া দান করবে। তাঁর শরীরের কোন ছায়া থাকবে না। সাংসারিক ভোগ বিলাসের প্রতি তিনি আকৃষ্ট না হয়ে সর্বদা পরকালের চিন্তায় মগ্ন থাকবেন। আরবদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিগণ তাঁর শক্রতা করবে। তিনি প্রভূর প্রিয় হবেন। প্রভূ তাঁকে ত্রিশ অধ্যায় বিশিষ্ট পুরাণ দান করবেন।

          কল্কি পুরাণের ১ম অংশ, ৪র্থ অধ্যায় ২য় শ্লোক কল্কি বলছেন, “অহমেবাস মেবাগ্রে নান্যৎ কার্য্যৎমিদং মম ।।২।।”

অর্থাৎ- সমুদয় জীব ও সমুদয় পদার্থ আমা হতে সৃষ্টি হয়েছে।

          সামবেদে বলা হচ্ছে,

“অহমিধি পিতুঃ পরিমেধামৃতস্য জগ্রহ।

          অহং সূর্য্য ইবাজনি !!

সামবেদ। প্র ০ ২ । দ ০ ৬। মং ০৮।

ভাবার্থঃ আহমদ তাঁর প্রভুর নিকট হতে ধর্মপন্থা (শরিয়ত) পেয়েছেন। আমি সূর্য রশ্মির মত তাঁর নিকট হতে আলো পাই।

যজুর্বেদে বলা হচ্ছে,

পয়ং পৃথিব্যাং পয় ভষবীষূ পয়ো দিব্যন্তরীক্ষে পয়োধাঃ।

          পয়স্বতীঃ প্রদীশঃ সন্তু মহ্যম। ৩৬

অর্থঃ- “হে অগ্নি! আপনি পৃথিবীতে রস স্থাপন করুন। সেরূপ ঔষধিতে স্বর্গে অন্তরীক্ষে রস স্থাপন করুন। আমার জন্য দিক-বিদিক রস যুক্ত হোক। ৩৬।

          উক্ত গ্রন্থে আরো বলা হচ্ছে,

“রুচং নো ধেহী ব্রাহ্মনেষু রুচং রাজসু নস্কৃধি।

রুচং বিশ্যেষু শুদ্রেষু ময়ি ধেহি রুচা রুচম।। ৪৮

অর্থঃ- “হে অগ্নি- ব্রাহ্মন! আমাদের আলো দিন। আমাদের ক্ষত্রিয়দের আলো দিন। আমাদের বৈশ্য শ্রদ্রদের আলো দিন এবং আমাকে অবিরত আলো দিন।। ৪৮ (শুক্ল ১৮শ অধ্যায় ৪৮ মন্ত্র)

          উল্লেখ্য, এই অগ্নি ব্রাহ্মান সম্পর্কে সামবেদ আগ্নেয় কান্ড ৬৪ মন্ত্রে বলা হয়েছে, তিনি মাতৃদুগ্ধ নয়, অন্য কারো দুগ্ধ পানে বড় হবেন। সুতরাং তিনি যে নূরে মুজাস্সাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা বলাই বাহুল্য।

          উপরে হিন্দু মূল ধর্ম গ্রন্থ হতে যে উদ্ধৃতি পেশ করা হল দূর্ভাগ্য এ যুগে খারেজী, ওহাবী ইত্যাদি নামে কথিত ইসলামের ঝান্ডা ধারীরাও কুরআন সুন্নাহ সমর্থিত এসকল বিশ্বাস হতে বিচ্যূত। ফতওয়ায়ে আফ্রিকীয়া গ্রন্থে আহমদ রেযা খানও বলছে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির তৈরী। অথচ মাটি সহ সকল সৃষ্টি আখিরী রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে উদ্ভূত।

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

عن جابر رضى الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا جابر أن الله تعالى قد خلق قبل الاشياء نور نبيك من نوره.

অর্থঃ “হে জাবির (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)! আল্লাহ্ পাক সকল কিছু সৃষ্টি করার পূর্বে তাঁর (সৃষ্টিকৃত) নূর থেকে তোমার নবীর নূরকে সৃষ্টি করেন।”

অন্য হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

اول ما خلق الله نورى كل شئ نورى.

অর্থঃ- “আল্লাহ্ তা’আলা সবার আগে আমার নূর সৃষ্টি করেন। আর আমার নূর হতেই অন্যান্য সকল কিছু তিনি সৃষ্টি করেন।”

          ভগবত পুরাণ ১২/২/১১ শ্লোকে আছে,

 “অথ তেষাং ভবিষ্যন্তি মনাংসি বিশদানি বৈ।

          বাসুদেবাং গরাগাতি পুন্য গন্ধানিল স্পৃশান।।

ভাবার্থঃ “কল্কির শরীর হতে সুগন্ধি বের হবে- এই সুগন্ধিতে বায়ুও সুগন্ধিত হবে।”

          হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রিসালতের স্বীকৃতি দিতে গিয়ে অর্যর্ববেদের উপনিষদে বলা হচ্ছে,

“অল্লোহ্ রসল্ল মুহাম্মদরঃ কং বরস্য অল্ল অল্লাম।

ইল্লল্লোতি ইল্লল্লা ।। ৯ ।।

অর্থঃ- “মুহম্মদ আল্লাহ্ পাক-এর রসূল, যে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নাই।”

          আল্লাহ্ পাক আল কুরআনের সংরক্ষণের জিম্মাদারী নিজ দায়িত্বে রাখার পাশাপাশি আপন হাবীব রহমতুল্লিল আলামীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বুলন্দ যিকিরও অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থে রাখার কি চমৎকার ব্যবস্থা করেছেন তাঁর কিছু নমুনা আমরা দেখলাম। উল্লেখ্য, উত্তরায়ণ বেদ, ৫ম পরিচ্ছদে যে অন্কাহি বা অন্ কথা আছে তাহা হলো-

লা ইল্হা হরতি পাপম্

ইল্লইল্হা পরম পদম্।

জন্ম বৈকুণ্ঠ পর অপ্ ইনুতি

ত জপি নাম মোহাম্মদম্।

অর্থঃ- “লা ইলাহা বললে সমস্ত পাপ মাফ হয়। ইল্লাল্লা বললে প্রচুর সম্মানের অধিকারী হওয়া যায়। যদি চিরতরে স্বর্গে বাস করতে চাও তবে মুহম্মদের নাম জপ কর।”

          আরো উল্লেখ্য, উপরোক্ত অনকথা হিন্দুধর্মে মুমূর্ষ ব্যক্তির প্রাণ বের হতে অত্যধিক কষ্ট হলে তার কানে কাণে এটা পড়ার নিয়ম রয়েছে।

          আল্লাহ্ জাল্লাশানুহু তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মর্যাদাকে এইভাবেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

          আল্লাহ্ পাক আমাদেরকে নবীয়ে উম্মী, নবীয়ে রহমত, রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি পূর্ণাঙ্গ আদব রক্ষা করে তাঁর ইত্তেবা করার তৌফিক দান করুন। (আমীন)

সাইয়্যিদু উল্দে আদম, ছহিবু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, ছহিবুল মি’রাজ, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে

মাআ’জামা শানূহু, ছহেবে আসমাউল হুসনা, সাইয়্যিদুল মাখদূম, ছহিবুল খাতাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক বিলাদতপূর্ব রবিউল আউয়ালের ফযীলতপূর্ণ বার রাত্রি

ছহেবে রফা’না লাকা যিক্রক, ছহিবুল ওহী ওয়াল কুরআন, যিক্রুল্লাহ্, জাওয়ামিউল কালিম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ হয়ে জবাব দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন

নবীউত্ তওবা, ছিরাতুল্লাহ্, ছহিবুর রিদ্বা, খলীলুল্লাহ্, আউয়ালুল মুসলিমীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক আওলাদের খিদমত করার কারণে অগ্নিপূজকের ঈমান লাভ

হুব্বে সাইয়্যিদিল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নাবীউল উম্মী, ফখরে দো’জাহাঁ, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, আল কামিলু ফি জামিয়ি উমরিহী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আওলাদগণের ফযীলত প্রসঙ্গে