(ধারাবাহিক)
সে জন্য হাদীস শরীফে এসেছে, “প্রত্যেককেই জিজ্ঞাসা করা হবে তার আক্বল অনুযায়ী। আল্লাহ্ভীতি সে কতটুকু অর্জন করবে? তা তার সাধ্য এবং সামর্থ অনুযায়ী। এর চেয়ে বেশীও নয়, কমও নয়।” আল্লাহ্ পাক সেটা স্পষ্ট করে দিলেন।
অনুরূপ হযরত উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনাদেরকে আল্লাহ্ পাক বলে দিলেন, ان اتقيتن.
“আপনারা যদি পরহেযগারী ইখতিয়ার করে থাকেন।”
অর্থাৎ আপনারা যে পরহেযগার হবেন, কতটুকু পরহেযগার হবেন? আপনাদের যে রকম যোগ্যতা রয়েছে ঠিক ততটুকু আপনাদের পরহেযগার হতে হবে। যেহেতু পরহেযগারী যে ইখতিয়ার করবে তার ফযীলত, তার সম্মান, তার ইজ্জত আল্লাহ্ পাক বেশী দিয়েছেন।
যা অন্যত্র আল্লাহ্ পাক ঘোষণা করে দিয়েছেন,
يايها الناس انا خلقنكم من ذكر وانثى وجعلنكم شعوبا وقبائل لتعارفوا ان اكرمكم عند الله اتقكم ان الله عليم خبير.
আল্লাহ্ পাক এখানে ঘোষণা করে দিয়েছেন, “হে মানুষ! তোমরা জেনে রাখ, আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা থেকে সৃষ্টি করেছি।” অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম এবং হযরত হাওয়া আলাইহাস্ সালাম থেকে তোমাদেরকে সৃৃষ্টি করেছি। এরপর গোত্রে গোত্রে সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে বিভক্ত করেছি। কেন? لتعارفوا. “একজন যেন আরেকজনকে চিনতে পার, পরিচয় লাভ করতে পার।” তবে জেনে রাখ,
ان اكرمكم عند الله اتقكم.
“নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক-এর কাছে সবচাইতে সম্মানিত ঐ ব্যক্তি যিনি বেশী তাক্বওয়া অর্জন করেছেন বা হাছিল করেছেন।” ان الله عليم خبير.
“নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক জ্ঞানী এবং খবর রাখনেওয়ালা।”
এখানে আল্লাহ্ পাক ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, “যিনি সবচাইতে বেশী মুত্তাক্বী তিনি সবচাইতে বেশী আল্লাহ্ পাক-এর কাছে সম্মানিত।”
ان اكرمكم عند الله اتقكم.
“নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক-এর কাছে ঐ ব্যক্তি সবচাইতে সম্মানিত যে সবচাইতে বেশী তাক্বওয়া অর্জন করেছে।”
ঠিক সেটাই আল্লাহ্ পাক বলে দিলেন, “হে নবীর যারা (আপনারা) স্ত্রী রয়েছেন তাঁরা তো অন্য মেয়েদের মত নন।” ان اتقيتن. “আপনারা যদি তাক্বওয়া হাছিল করে থাকেন এবং আপনাদেরকে ঠিক ততটুকু তাক্বওয়া হাছিল করতে হবে আপনাদের যতটুকু মর্যাদা দেয়া হয়েছে।”
এরপর আল্লাহ্ পাক ঘোষণা করেন, فلا تخضعن بالقول.
“আপনারা যখন কথা বলবেন তখন যদি কখনও বেগানা পুরুষের সাথে কথা বলতে হয় নরম সূরে কথা বলবেন না, মিষ্টি সূরে কথা বলবেন না।” কেন?
فيطمع الذى فى قلبه مرض.
“যার অন্তরে রোগ রয়েছে, বদ ওয়াসওয়াসা রয়েছে, কু-মন্ত্রনা রয়েছে, শয়তানের তাছীর রয়েছে সে দুশ্চিন্তা, কু-চিন্তা করতে পারে। তার সেই বদ খাছলত প্রবল হয়ে যেতে পারে।” وقلن قولا معروفا.
“আপনারা তাদের সাথে স্পষ্টভাবে কথা বলবেন।”
এই আয়াত শরীফ যখন নাযিল হয়ে গেল, তারপর হযরত উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণের যদি কথা বলার দরকার হতো উনারা সাধারণতঃ অনেক সময় মুখে হাত দিয়ে কথা বলতেন। অর্থাৎ মুখে হাত দিয়ে কথা বললে, কথা শুনা যেত কিন্তু স্বরটা ধরা যেতনা, কে কথা বলছেন। যেহেতু পূর্বে হয়ত অনেকেই কথা শুনেছেন, আওয়াজ শুনলে উনারা চিনতে পারবেন, কে বলছেন। যখন মুখের মধ্যে হাত দিয়ে কথা বলা হবে, কথা শুনা যাবে, কিন্তু আওয়াজটা বুঝা যাবেনা, কে বলছেন। যার জন্য পরবর্তীতে হযরত উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ যদি কখনও কথা বলার প্রয়োজন মনে করতেন তাহলে উনারা কথা বলতেন, কিন্তু মুখের মধ্যে হাত দিয়ে বা হাত রেখে এরপর কথা বলতেন যাতে যে কথা শুনছে তার পক্ষে বুঝা সম্ভব হতোনা, যিনি কথা বলছেন উনি কে? যেহেতু উনার স্বরটা, আওয়াজটা পরিবর্তন হয়ে যেতো।
কারণ হাদীস শরীফে এসেছে, صوتهن عورة “মহিলাদের আওয়াজ যেটা রয়েছে সেটাও পর্দার অন্তর্ভূক্ত।” মহিলাদের যে আওয়াজ রয়েছে সেটাও পর্দার অন্তর্ভূক্ত। সেখানেও পর্দা করতে হবে। যেখানে সেখানে, যার তার সাথে কথা বলা যাবেনা। নেহায়েত জরুরত যদি থাকে তাহলে সে কথা বলতে পারবে। এছাড়া কারো পক্ষে কথা বলা যাবে না। অর্থাৎ যদি যার তার সাথে, যেখানে সেখানে কথা বলে সেটাও তার পর্দার খিলাফ হয়ে যাবে। সেটাও তার পর্দার খিলাফ হয়ে যাবে। সেখানেও তাকে সর্তক থাকতে হবে। এতটুকু আল্লাহ্ পাক শক্ত নির্দেশ করেছেন।
এরপর আল্লাহ্ পাক উল্লেখ করেন যে, “কথা বলার সময় সাবধান থাকতে হবে যেন কথার কারণে কারো অন্তরে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি না হয়।” সবচাইতে উত্তম হচ্ছে, وقرن فى بيوتكن.
“আপনারা ঘরে আবদ্ধ হয়ে থাকুন, ঘর থেকে সাধারণতঃ বের হবেননা।” আল্লাহ্ পাক ঘরে অবস্থান করতে বলেছেন। কেন? হাদীস শরীফে এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে,
عن ابن مسعود رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم المرأة عورة فاذا خرجت استثرفها الشيطان.
“হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “মেয়েরা পর্দায় থাকবে। যখনই তারা ঘর থেকে বের হয় তখনই শয়তান তাদের পিছনে উঁকি-ঝুকি দিতে থাকে। কি করে তাদের দ্বারা পাপ কাজ করানো যেতে পারে।” সেটাই বলা হয়েছে,
وقرن فى بيوتكن.
“ঘরে তোমরা আবদ্ধ হয়ে থাকবে। আপনারা ঘরে আবদ্ধ হয়ে থাকবেন, যাতে শয়তান কোনরূপ সুযোগ না পায়।
এরপর আল্লাহ্ পাক বলেছেন, যদি অগত্যা প্রয়োজন হয় বের হওয়ার তাহলে এমনভাবে বের হবেন যাতে কোন সৌন্দর্য প্রকাশ না পায়।
ولا تبرجن تبرج الجاهلية الاولى.
“আইয়্যামে জাহিলিয়াতের সময় মহিলারা যেমন সৌন্দর্য প্রকাশ করে রাস্তায় ঘুরে বেড়াত সেভাবে আপনারা বের হবেন না। যদি দরকার হয় তাহলে বের হবেন। কিন্তু পর্দা করে বের হতে হবে।”
এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে,
عن عبد الله ابن عمرو رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الدنيا كلها متاع وخير متاع الدنيا المرأة الصالحة.
“হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন যে দেখ, “দুনিয়ায় যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছুই সম্পদ। তবে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে দুনিয়ার মধ্যে নেককার স্ত্রী। দুনিয়ার মধ্যে সবচাইতে উত্তম এবং শ্রেষ্ঠ নিয়ামত হচ্ছে উত্তম স্ত্রী, নেক্কার মহিলা, যারা পর্দার সহিত থাকবে। তারাই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারবে।” হাদীস শরীফে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ইরশাদ করেন,
لعن الله الناظر والمنظور اليه.
“যে দেখে এবং দেখায় উভয়ের প্রতি আল্লাহ্ পাক-এর তরফ থেকে লা’নত। যে দেখবে এবং যে দেখাবে উভয়েই লা’নতগ্রস্থ হয়ে যাবে।”
সেটাই আল্লাহ্ পাক বলেন,
ولا تبرجن تبرج الجاهلية الاولى.
“আপনারা সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়াবেন না। যেমন আইয়ামে জাহিলিয়াতের সময় মহিলারা বেড়াত।” (অসমাপ্ত)
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহ্কাম
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহ্কাম