(ধারাবাহিক)
মহান আল্লাহ্ পাক তিনি অপ্রয়োজনে চলাচল নিষেধ করে দিলেন। পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করে পরবর্তীতে বলা হয়েছে যে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের থেকে একজন করে সাথে নিয়ে যেতেন। তাতে বুঝা যাচ্ছে, চলাচল করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়নি। তবে যেটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেটা হচ্ছে, অপ্রয়োজনীয় চলাচল করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এবং আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন বিদায় নিলেন, যখন আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিদায় নিলেন। তারপর দুইজন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিমাস সালাম উনারা কখনও জীবনে ঘর থেকে বের হননি। একজন হচ্ছেন হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম তিনি। আর দ্বিতীয়জন হচ্ছেন হযরত জয়নাব বিনতে জাহাশ আলাইহাস সালাম তিনি। এই দুইজন উনারা কখনও আর ঘর থেকে বের হননি। কোন কাজেই উনারা বের হননি। সব সময় উনারা ঘরে আবদ্ধ হয়ে ছিলেন। কিন্তু অন্যান্য হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, বিশেষ করে হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম ও অন্যান্য যাঁরা বিশেষ রয়েছেন, উনারা হজ্জও করেছেন, উমরাহ্ও করেছেন, জরুরতে বেরও হয়েছেন। যার কারণে পরবর্তীতে যারা মুহাক্বিক, মুদাক্কিক, ফক্বীহ, মুজতাহিদ ও ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ফতওয়া দিয়েছেন, “মেয়েরা ঘর থেকে বিনা প্রয়োজনে বের হতে পারবেনা। সেটা নাজায়িয নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নেহায়েত প্রয়োজনে যদি সেটা তার দ্বীনী কাজে অর্থাৎ ইল্ম অর্জনের জন্য হয় বা তার পিতা-মাতার সাক্ষাতের জন্য হয়, অথবা নেহায়েত জরুরতে যদি হয় তাহলে সে বের হতে পারবে। কিন্তু যেটা তার জন্য জরুরত নয়, প্রয়োজনীয় নয়, সে সমস্ত কাজে বের হতে পারবে না। সেটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বের হলেই সেটা তার পর্দার খিলাফ হবে। অর্থাৎ তা পর্দার খিলাফ বলেই গণ্য হবে। যদি অপ্রয়োজনে, বিনা প্রয়োজনে কোন মহিলা ঘর থেকে বের হয়, সেটা বে-পর্দারই অন্তর্ভুক্ত বলে সাব্যস্ত হবে।”
এরপর মহান আল্লাহ্ পাক কি বলেছেন? হযরত হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে পর্দার কথা বলেছেন। বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া যাবেনা। এরপর উনাদের কতগুলো আমলের কথা মহান আল্লাহ্ পাক তিনি বলে দিয়েছেন যে, আপনাদেরকে পর্দার আদেশ করা হলো, এই পর্দা আপনারা যথাযথ পালন করবেন। তবে আরও কিছু আমল রয়েছে, যে আমলগুলো করলে আপনাদের পর্দার জন্য সহজ হবে এবং শেষে বলা হয়েছে,
ويطهر كم تطهيرا.
মহান আল্লাহ্ পাক তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করতে চান। এমন পবিত্র করতে চান, যেই পবিত্রতার পর কোন অপবিত্রতা থাকবে না। যার পর বিন্দু থেকে বিন্দুতম কোন অপবিত্রতা থাকবেনা এমন পবিত্রতা মহান আল্লাহ পাক তিনি করতে চান, সেজন্য কতগুলো আদেশও দিয়েছেন,
اقمن الصلوة.
আপনারা নামায কায়িম করুন। যে আপনারা নামায কায়িম করুন। নামায দিয়ে কি হবে? নামায তো দ্বীন ইসলাম উনার ভিত্তি। কালিমা, নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত উনাদের পর পর্দা করা ফরয করা হয়েছে। মহান আল্লাহ্ পাক তিনি এখানে বলেছেন, “নামায কায়িম করুন আপনারা।”
لصلوة عماد الدين من اقام الصلوة فقد اقام الدين ومن ترك الصوة فقد هدم الدين.
অর্থ : “নামায হচ্ছে দ্বীন উনার খুঁটি। যে নামায কায়িম রাখলো সে দ্বীন উনাকে কায়িম রাখলো। যে নামায উনাকে তরক করে দিল, সে দ্বীন উনাকে ধ্বংস করে দিল।”
الصلوة مفتاح الجنة.
অর্থ : “নামায হচ্ছে জান্নাতের চাবি।” কাজেই আপনারা নামায কায়িম রাখুন এবং আরো মহান আল্লাহ্ পাক তিনি আমভাবে সকলের জন্য বলেছেন,
اقيموا اصلوة.
অর্থ : “প্রত্যেকেই তোমরা নামায কায়িম রাখ বা আদায় করো এবং করার ব্যবস্থা কর।”
যদি কেউ নামায আদায় না করে তাহলে কি হবে? তার হাক্বীক্বী যে পবিত্রতা সেটা তার জন্য হাছিল করা সম্ভব হবে না। মহান আল্লাহ্ পাক তিনি যেটা বলেছেন,
فويل للمصلين الذين هم عن صلاتهم ساهون الذين هم يرائون.
মহান আল্লাহ্ পাক তিনি বলেন, فويل للمصلين ওই মুছল্লির জন্য জাহান্নাম
الذين هم عن صلاتهم ساهون. الذين هم يرائون.
ওই মুছল্লির জন্য জাহান্নাম। কোন্ মুছল্লির জন্য? যে নামাযে সুস্থি-কাহিলী করে, গাফলতি করে নামায পড়ে। মানুষকে দেখানোর জন্য, রিয়া করে যে নামাযের মধ্যে, তার জন্য জাহান্নাম। সে হাক্বীক্বী ইছলাহ্ লাভ করতে পারবে না।
قد افلح المؤمنون. الذين هم فى صلاتهم خشعون.
ওই মু’মিন কামিয়াবী হাছিল করবে, যে খুশু-খুযুর সহিত একমাত্র মহান আল্লাহ্ পাক উনার জন্য নামায পড়বে। তার জন্য পবিত্রতা হাছিল করা সম্ভব। এটাই মহান আল্লাহ্ পাক তিনি বলেছেন,
اقمن الصلوة আপনারা খুশু-খুযুর সহিত খালিছভাবে নামায পড়ুন। আপনাদের পবিত্রতার জন্য সহায়ক হবে।
واتين الزكوة. “আপনারা যাকাত আদায় করুন।” যাকাত উনার মাধ্যমেও মানুষ পবিত্রতা লাভ করে, এবং যাকাত উনার কারণে মানুষ অনেকে মনে করে থাকে তার সম্পদ কমে যায়। না, مانقصت صدقة من الـمال দান করলে কখনো সম্পদ কমে না।
মহান আল্লাহ্ পাক তিনি বলেছেন,
واتوا الزكوة.
অর্থ : “যাকাত আদায় কর।”
যাকাত যদি আদায় করে তার পবিত্রতা হাছিল হয়। আর যাকাত যদি কেউ আদায় না করে, তার পবিত্রতা বজায় থাকে না। সেজন্য মহান আল্লাহ্ পাক তিনি এখানে সেটা উল্লেখ করেছেন।
মহান আল্লাহ্ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ মুবারক করেন,
والذين يكنزون الذهب والفضة ولا ينفقونها فى سبيل الله فبشرهم بعذاب اليم.
মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
والذين يكنزون الذهب والفضة.
যারা স্বর্ণ-চান্দি জমা করে, সঞ্চয় করে,
ولاينفقونها فى سبيل الله.
মহান আল্লাহ্ পাক উনার রাস্তায় খরচ করেনা। অর্থাৎ যাকাত দেয় না,
فبشرهم بعذاب اليم.
তাদেরকে মহান আল্লাহ্ পাক তিনি কঠিন শাস্তির সংবাদ জানিয়েছেন। যারা মাল সম্পদ খরচ করলো না। যাকাত আদায় করলো না তারা পবিত্রতা হাছিল করতে পারবে না। যারা করবে তাদের জন্য মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দোয়া রয়েছে। যেটা মহান আল্লাহ্ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বলেছেন,
خذ من اموالهم صدقة تطهرهم وتزكيهم بها وصل عليهم ان صلوتك سكن لهم.
মহান আল্লাহ্ পাক তিনি বলে দিয়েছেন, হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার উম্মতের কাছ থেকে আপনি যাকাত, ফিৎরা গ্রহণ করুন, ছদকা গ্রহণ করুন,
تطهرهم وتزكيهم بها.
সেটা গ্রহণ করে তাদেরকে পবিত্র করুন وصل عليهم ان صلوتك سكن لهم.
তাদের জন্য আপনি দোয়া করুন। আপনার দোয়া তাদের জন্য শান্তির কারণ এবং পবিত্রতার কারণ হবে। (সুবহানাল্লাহ) সেটাই মহান আল্লাহ্ পাক তিনি বলেছেন,
اتين الزكوة.
আপনারা যাকাত আদায় করুন। আপনাদেরকে আমি পবিত্র করতে চাচ্ছি। এই পবিত্রতার জন্য এটা সহায়ক হবে।
যেমন নামায আদায় করবেন ঠিক তদ্রুপ যাকাতও আদায় করবেন, واطعن الله ورسوله
মহান আল্লাহ্ পাক এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইতায়াত করুন। তাহলে কি হবে?
মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزا عظيما.
যে মহান আল্লাহ্ পাক এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইতায়াত করলো, সে বিরাট সফলতা লাভ করলো তার জন্য বিরাট কামিয়াবী। (অসমাপ্ত)
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহ্কাম
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়েল-ফযীলত ও হুকুম-আহ্কাম