(ধারাবাহিক)
প্রত্যেক নামাজের পরেই দোয়া করার জন্য আল্লাহ্ পাক শিক্ষা দিয়েছেন। আমরা পূর্বেও বার বার বলেছি। যে পিতা-মাতার জন্য দোয়া করবে,
رب ارحمهما كما ربينى صغيرا.
(সূরা বাণী ইসরাঈল-২৪)
এই দোয়া সে প্রতি নামায বাদ করতে পারে। প্রতি দোয়াতে করতে পারে এবং এরপর তার তাওফিক বা সামর্থ অনুযায়ী প্রতি জুমুয়াতে সে যেন কিছু দান খয়রাত করে। আর যদি পিতা-মাতার কবর নিকটবর্তী হয় তাহলে সে যেন জিয়ারত করে। আর যদি জিয়ারত করা সম্ভব না হয়, তাহলে কমপক্ষে প্রতি সপ্তাহে, প্রতি জুমুয়াতে সে যেন কিছু দান খয়রাত করে। আর এর চেয়ে উত্তম হলো যদি সম্ভব হয় তাহলে সে যেন প্রতিদিন কিছু কিছু দান খয়রাত করে। এখন আপনারা বলতে পারেন প্রতিদিন দান খয়রাত করবো কোথায়? সব সময় হয়তো ফক্বীর মিছকীন পাওয়া যায় না। বেশ, না পাওয়া গেলে কোন অসুবিধা নেই। আপনি প্রতিদিন আপনার যেটা দান করার কথা পিতা-মাতার জন্য, সেই টাকা হোক বা পয়সা হোক ওটা আলাদা করে রেখে দেন। প্রতিদিন সেটা আলাদা করে রেখে দিবেন। এক সাথে দান করলে অসুবিধা নেই। কিন্তু ঐ দানের পয়সাটা আলাদা করে রেখে দিতে পারেন প্রতিদিন পিতা-মাতার জন্য। যেটা আপনার পিতা-মাতার কাজে আসবে, আপনারও কাজে আসবে। তাই বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে তার সন্তানও তার জন্য দোয়া করবে। যেটা আমি পূর্বেও আলোচনা করেছি। যা আল্লাহ্ পাক-এর রসূল স্বয়ং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। কাজেই প্রত্যেকের দায়িত্ব হচ্ছে পিতা-মাতার হক্বটা যথাযথ ভাবে আদায় করা, এতে তার ইহকাল এবং পরকালে কামিয়াবী হাছিল হবে। কারণ সব অবস্থাতেই, সব অবস্থাতেই পিতার হক্ব আদায় করা, মাতার হক্ব আদায় করা সন্তানের কর্তব্য। অবশ্য সন্তানের হক্ব আদায় করাও পিতা-মাতার দায়িত্ব রয়েছে। সন্তানের হক্ব সম্পর্কে আমরা সামনে আল্লাহ্ পাক যদি তাওফিক দান করেন তবে আলোচনা করবো। সন্তানের যে হক্ব রয়েছে সেটা আদায় করা পিতা-মাতার দায়িত্ব। সন্তানের জন্য পিতা অবশ্য দোয়া করে থাকে। সে দোয়া কবুল হয়, আবার পিতা-মাতার জন্য সন্তান যে দোয়া করে থাকে সেটাও আল্লাহ্ পাক কবুল করেন।
এজন্য হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে, “সন্তানের দোয়া পিতা-মাতার জন্য নির্ঘাত কবুল যোগ্য। আর সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়া নির্ঘাত কবুল যোগ্য।” পরস্পরের দোয়া পরস্পরের জন্য অবশ্যই কবুল যোগ্য। কাজেই এটা প্রত্যেকেরই হক্ব তারা যেন যথাযথ সে হক্ব আদায় করে। তাহলে তা উভয়ের জন্যই কামিয়াবী। আল্লাহ্ পাক যেন আমাদেরকে সে হক্ব যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করেন। অবশ্যই ভুল ক্রটি আমাদের হবে। ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক। তার পরেও চেষ্টা করতে হবে। বিশেষ করে যাদের পিতা-মাতা ইন্তিকাল করে গেছেন তাদের দায়িত্ব হচ্ছে- তারা যেন তাদের জন্য ইস্তিগফার করে যা আমি বলে দিলাম। এটা প্রত্যেকেই মনে রাখবেন। এটা প্রত্যেকেই মনে রাখবেন।
কারণ হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, المتيت كالغريق.
“মৃত্য ব্যক্তি ডুবন্ত ব্যক্তির মতো।”
এটা সব সময় মনে রাখবেন, যারা অতীত হয়ে গেছেন। আমাদের সকলেরই আত্মীয়-স্বজন যারা অতীত হয়ে গেছেন তারা কিন্তু প্রত্যেকেই কবরে বসে বসে, শুয়ে শুয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। যেমন আমরাও যখন কবরে যাব তখন আমরাও কিন্তু তাকিয়ে থাকবো; যে আমাদের যারা রয়েছে, পরবর্তী পুরুষ, তারা আমাদের জন্য কি দোয়া করছে।
যেমন তিবরানী শরীফের হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে, যখন কোন সন্তান বা আত্মীয়-স্বজন, আল-আওলাদ পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে তখন সে দোয়াটা হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম বেহেস্তের মখমল রুমালের মধ্যে করে নিয়ে যার জন্য দোয়া করা হয়েছে, তার কাছে পেশ করে যে, আপনার জন্য আপনার অমুক আওলাদ দোয়া করেছে। সেই মৃত ব্যক্তি খুশি হন। মূলতঃ খুশি হওয়াটাই সে যে দোয়া করেছে তার জন্য ফায়দার কারণ। এখানে আর একটা মাসয়ালা রয়েছে, কেউ বলে থাকে, “যারা কবরে চলে গেছে মৃত্যু বরণ করেছে। তারা জীবিত ব্যক্তিদের জন্য কোন প্রকার দোয়া করতে সক্ষম নয়।”
হ্যাঁ জীবিতদের মতো মৃত ব্যক্তিরা দোয়া করতে পারে না সত্যিই। তবে জীবিত ব্যক্তিরা মৃত ব্যক্তিদের জন্য ছওয়াব রেছানী করলে মৃত ব্যক্তিরা খুশী হয়। এতে স্বয়ং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুশী হন যে, তাঁর উম্মতের প্রতি ইহ্সান করা হলো। স্বয়ং আল্লাহ্ পাক ও খুশী হন যে, তাঁর বান্দার প্রতি ইহ্সান করা হলো। কারণ ছওয়াব রেসানীর ফলে কোন কোন মাইয়েতের কবরের আযাব বা শাস্তি লাঘব হয়, কারোটা সম্পূর্ণরূপে মাফ হয়ে যায়, কারো মর্যাদা বৃদ্ধি হয়। ইহা জীবিত ব্যক্তি বা ছওয়াব রেসানীকারীর জন্য দোয়া স্বরূপ।
প্রকৃতপক্ষে পিতা-মাতার হক এবং সন্তানের হক ব্যাপক বিষয়। যে বিষয় সম্পর্কে প্রত্যেক পিতা এবং সন্তানের জন্য জানা অবশ্য কর্তব্য। কারণ হক সম্পর্কে যে জানবেনা তার পক্ষে হক আদায় করা কখনোই সম্ভব হবেনা। সেজন্য হক সম্পর্কে আমরা মোটামুটি জরুরত আন্দাজ যে আলোচনার দরকার রয়েছে সেটাই করছি। যাতে আমাদেরকে আল্লাহ্ পাক হক আদায় করার তাওফিক দান করেন।
যে আজকের সন্তান সে আগামী দিনের পিতা বা মাতা হবে। আর যে এখন পিতা-মাতা হয়েছে সে একদিন অবশ্যই সন্তান ছিল। কাজেই প্রত্যেকেরই এ বিষয় জানা দরকার রয়েছে। বিশেষ করে ছেলে সন্তানের জন্য মাতার হক। আর মেয়ে সন্তানের জন্য স্বামীর হক সেটা বলার অপেক্ষাই রাখেনা। আল্লাহ্ পাক কালামুল্লাহ্ শরীফে এবং আল্লাহ্র রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস শরীফের মধ্যে অনেক আয়াত শরীফ এবং অনেক হাদীস শরীফ উল্লেখ করেছেন। যেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। (অসমাপ্ত)
ওয়াজ শরীফ: কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য
ওয়াজ শরীফ: কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য